খুঁজুন
                               
, ,
           

অস্ট্রেলিয়াকে নাস্তানাবুদ করে ক্রিকেট ইতিহাসে অবিস্মরণীয় অধ্যায়

ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৩:১২ পূর্বাহ্ণ
অস্ট্রেলিয়াকে নাস্তানাবুদ করে ক্রিকেট ইতিহাসে অবিস্মরণীয় অধ্যায়

স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে হারাল বাংলাদেশ। এ যেন অবিশ্বাস্য! তাও আবার ৯ উইকেটের দাপুটে ব্যবধানে জয়! ম্যাচজুড়ে ছিল বাংলাদেশের আধিপত্য। টানা ১১টি সেশন অস্ট্রেলিয়াকে নাস্তানাবুদ করে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে লিখে ফেলল এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এমন জয়—বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য নিঃসন্দেহে বিশেষ এক মুহূর্ত। উল্লাসে মেতেছে দেশ। উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় নিয়ে উচ্ছ্বাসের মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছেন তিনি। রোববার (১৬ আগস্ট) সরকারি সফরে কিশোরগঞ্জ যাওয়ার পথে বাংলাদেশ দলের জয়ের খবর পেয়ে খেলোয়াড়দের সঙ্গে ভিডিও কলে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

  • ক্রিকেট ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়

  • দুই ইনিংসে মোট ৯ উইকেট নেয়া হাসান মাহমুদ ম্যাচসেরা
  • মিরাজ জানালেন ঐতিহাসিক এই জয়ের পেছনের গল্প
  • ঐতিহাসিক জয়ের আনন্দকে আরও রাঙিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে শ্রীলঙ্কা কখনোই টেস্টে জয়ের মুখ দেখেনি, পাকিস্তান সবশেষ জেতে ১৯৯৫তে। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসের ইতি টানেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ২০১৯ সালে ভারতীয় স্পিনার কুলদীপ যাদবের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম সফরকারী স্পিনার হিসেবে ৫ উইকেট তুলে নেন এ টাইগার ক্রিকেটার। ২৮৪ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা। ৩ উইকেট নেন আগের ইনিংসে ৬ উইকেট নেয়া হাসান মাহমুদ। ডারউইনে ইতিহাস গড়তে বাংলাদেশ লক্ষ্য পায় ৫৭ রানের। এর আগে দারুণ এক সেঞ্চুরি তুলে নেন ক্যামেরন গ্রিন (১০৪)।

প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশ থামে ৪২৬ রানে, লিড পায় ২২৮ রানের। দারুণ এক সেঞ্চুরি তুলে নেন তানজিদ হাসান তামিম (১০১)। ৮৪ রান আসে অধিনায়ক নাজমুল হাসান শান্তর ব্যাট থেকে। ৬৫ ও ৪৯ রান করেন যথাক্রমে মিরাজ ও মুমিনুল। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৬ উইকেট নেন জশ হ্যাজেলউড। নিজেদের প্রথম ইনিংসে হাসান মাহমুদের তোপে একে একে সাজঘরে ফিরে যান স্বাগতিক দলের ব্যাটাররা। ৬ উইকেট তুলে নেন এ টাইগার পেসার। ২টি করে নেন তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রান করেন স্টিভেন স্মিথ। আর কেউ ২৫ রানও করতে পারেননি। দুই ইনিংসে মোট ৯ উইকেট নেয়া হাসান মাহমুদ ম্যাচসেরা।

মিরাজ জানালেন ঐতিহাসিক এই জয়ের পেছনের গল্প
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে ডারউইনে ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। স্বাগতিকদের বিপক্ষে এই অবিশ্বাস্য টেস্ট জয়ের পর অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ জানালেন ঐতিহাসিক এই জয়ের পেছনের গল্প। অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ও অ্যালিসা হিলির মুখোমুখি হয়ে মিরাজ তুলে ধরেন দলের অদম্য আত্মবিশ্বাস ও লড়াইয়ের মানসিকতা। প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ব্যবধানে হারের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ানো সহজ ছিল না। তবে সেই ব্যর্থতাই হয়ে ওঠে ঘুরে দাঁড়ানোর জ্বালানি। মিরাজের বলেন, ‘প্রস্তুতি ম্যাচ হারের পর ভাবতে হয়েছে কীভাবে কী করা যায়। আমাদের সবার জন্য দারুণ একটা সুযোগ ছিল। বার্তা একটাই ছিল- আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে, না হলে বেশি দূর যেতে পারব না।’

এই শতাব্দীর এশিয়ার দ্বিতীয় দল হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের পথে ব্যাট ও বল হাতে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দেন মিরাজ। প্রথম ইনিংসে বিপর্যয়ের মুখে টেলএন্ডারদের নিয়ে দারুণ এক জুটিতে মূল্যবান ৬৫ রান করেন তিনি। আর দ্বিতীয় ইনিংসে তুলে নেন ৫ উইকেট। ২০১৯ সালে ভারতীয় স্পিনার কুলদীপ যাদবের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম সফরকারী স্পিনার হিসেবে ফাইফার নেন এ টাইগার ক্রিকেটার। নিজের কৃতিত্ব সতীর্থদের উৎসর্গ করে মিরাজ আরও বলেন, ‘শেষের ব্যাটসম্যানরা আমাকে সুযোগ করে দিয়েছে। আমি শুধু তাদের বলেছিলাম টিকে থাকতে এবং বোলার কে তা না ভেবে শুধু বলের মেধা অনুযায়ী খেলতে।’

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চমৎকার ক্রিকেট খেলেছি। সঠিক সময়ে ভালো ব্যাটিং ও বোলিং করেছি। তানজিদ তামিম, শান্ত ও মুমিনুল খুব ভালো ব্যাট করেছে।’ এই অবিস্মরণীয় জয়ে দেশের মানুষের উচ্ছ্বাসে ভাসছেন মিরাজ ও তার সতীর্থরা। ম্যাচ শেষে বাংলাদেশি সমর্থকদের কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের সবাই খুব খুশি। এটা খুব গর্বের একটা মুহূর্ত। অনেক বাংলাদেশি এখানেও এসেছে, যারা আমাদের বিশ্বাস করেছিল। এই শতাব্দীতে এমন কীর্তি আমাদের ক্রিকেটের জন্য অনেক বড় এক প্রাপ্তি।’

ক্রিকেটারদের সেই ঐতিহাসিক জয়ের আনন্দকে আরও রাঙিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী
ক্রিকেটারদের সেই ঐতিহাসিক জয়ের আনন্দকে আরও রাঙিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী। ঐতিহাসিক জয়ের পরই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে ভিডিও গ্রুপ কলে যুক্ত হন তিনি। ভিডিও কলে যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল খানও। ভিডিও কলে ক্রিকেটারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি তাদের শারীরিক অবস্থারও খোঁজ নেন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘ ও কঠিন টেস্ট শেষে ক্রিকেটারদের ক্লান্তির কথাও মাথায় ছিল তাঁর। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে অপেক্ষা করছি আপনাদের ওয়েলকাম করার জন্য। বাংলাদেশের মানুষ অপেক্ষা করছে।’

ক্রিকেটারদের সুস্থভাবে দেশে ফেরার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী দলের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সময় তানজিদ হাসানের প্রসঙ্গও আসে। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল তাকে ‘বগুড়ার ছেলে’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বগুড়ার না, ও বাংলাদেশের ছেলে। সে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছে, বগুড়াকে না।’ তানজিদকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ও বালাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছে, বগুড়াকে না।’

এরপর ক্রিকেটারদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে অপেক্ষা করছি আপনাদের স্বাগত জানানোর জন্য।’ এরপর প্রধানমন্ত্রী অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে খুঁজেন। তিনি শান্তকে জিজ্ঞেস করেন, ‘সবার শরীর ভালো আছে তো? টাইগার কাপ্তান উত্তর দেন, ‘ক্লান্ত সবাই।’ তখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটু (ক্লান্তি) হবে স্বাভাবিক। গরম কেমন ওখানে?’ তখন ক্রিকেটাররা বলেন, ‘অনেক গরম।’ প্রধানমন্ত্রী তখন উত্তর দেন, ‘ভালো গরম! দেশের মতো! আচ্ছা, আসেন আপনারা সুস্থভাবে। বাংলাদেশের মানুষ আপনাদের ওয়েলকাম করতে অপেক্ষা করছে।’

কালের আলো/এএএন/এমডিএইচ

 

৫ শতাংশ বিদ্যুৎ গ্রাস করছে ‘টেসলা’

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
৫ শতাংশ বিদ্যুৎ গ্রাস করছে ‘টেসলা’

দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় নীরব চাপ তৈরি করেছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা—স্থানীয় ভাষায় যা পরিচিত ‘টেসলা’ নামে। যাত্রী পরিবহনে স্বল্প খরচ ও সহজলভ্যতার কারণে নগর থেকে মফস্বল—সবখানেই দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এসব যান। কিন্তু এই জনপ্রিয়তার আড়ালে বিদ্যুৎ চুরির মাধ্যমে ব্যাপক রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। জটিল এক সমীকরণ তৈরি হয়েছে সড়ক নিরাপত্তাতেও।

  • বিদ্যুৎ চুরির বিশাল সিন্ডিকেট
  • বছরে ২১ হাজার কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন
  • জীবিকার সঙ্গে জড়িয়ে থাকলেও বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা অনুযায়ী, দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশই প্রতিদিন ব্যয় হচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা চার্জে। জাতীয় গ্রিড থেকে প্রতিদিন প্রায় ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে শুধু এসব যান চার্জ দিতে। অথচ এর বড় একটি অংশই ব্যবহার হচ্ছে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে। ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে সরকারি কোষাগারে জমা পড়ছে না প্রত্যাশিত রাজস্ব।

একেকটি রিকশায় দিনে ৯ ইউনিট বিদ্যুৎ

একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় সাধারণত ৪ থেকে ৬টি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি থাকে। এসব ব্যাটারি চার্জ দিতে ঘণ্টায় প্রায় ১ হাজার ১০০ ওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। আট ঘণ্টা চার্জে রাখলে একটি রিকশার পেছনে খরচ হয় প্রায় ৯ ইউনিট বিদ্যুৎ।

কত অটোরিকশা চলছে, তার হিসাবেও নেই একমত

ব্যাটারিচালিত যানবাহনের প্রকৃত সংখ্যা নিয়েও রয়েছে বড় ধরনের তথ্যঘাটতি।সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) হিসাবে দেশে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ। তবে সিপিডি ও বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে এই সংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ। এই বিশাল বহরের মধ্যে শুধু রাজধানী ঢাকাতেই প্রায় ২০ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

বিদ্যুৎ চুরি থেকে বছরে হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

অবৈধ সংযোগের কারণে সরকার শুধু বিদ্যুৎ হারাচ্ছে না, হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্বও। সংশ্লিষ্ট গবেষণার তথ্যমতে, এই খাতের অবৈধ সংযোগের কারণে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও বড় একটি অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি।

সিপিডির তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে থাকা প্রায় ২০ লাখ অটোরিকশার প্রতিটি থেকে গ্যারেজ ভাড়া ও চার্জ বাবদ দিনে গড়ে ১০০ টাকা আদায় করা হয়। অর্থাৎ শুধু ঢাকাতেই প্রতিদিন এ খাতে লেনদেন হয় প্রায় ২০ কোটি টাকা। বছরে যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা। দেশজুড়ে একই ধরনের লেনদেন বিবেচনায় নিলে গ্যারেজ ও চার্জকেন্দ্রিক এই অবৈধ অর্থনীতির আকার বছরে প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ ‘টেসলা’ এখন শুধু একটি যানবাহন নয়; এর চারপাশে গড়ে উঠেছে গ্যারেজ, চার্জিং, বডি তৈরি, যন্ত্রাংশ আমদানি এবং বিভিন্ন পর্যায়ের লেনদেনকে ঘিরে বিশাল এক অর্থনৈতিক বলয়।

জনপ্রিয়তার কারণও স্পষ্ট

দ্রুত যাতায়াত, সহজলভ্যতা এবং তুলনামূলক কম ভাড়ার কারণে প্রায় ৮২ শতাংশ যাত্রী ব্যাটারিচালিত রিকশাকে প্রধান বাহন হিসেবে ব্যবহার করেন বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৬০ লাখ চালকের পরিবার জড়িয়ে আছে। তাদের অনেকের জীবিকা নির্ভর করছে এই যানটির ওপর। ফলে হঠাৎ করে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ করে দেওয়া হলে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখানেই তৈরি হয়েছে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় নীতিগত চ্যালেঞ্জ—একদিকে বিদ্যুৎ চুরি ও অবৈধ অর্থনীতি বন্ধ করা, অন্যদিকে লাখ লাখ মানুষের জীবিকা ও সাধারণ মানুষের সাশ্রয়ী যাতায়াত নিশ্চিত করা।

বিদ্যুতের পাশাপাশি সড়কেও বড় ঝুঁকি

‘টেসলা’র সংকট শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহারে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সড়ক নিরাপত্তার প্রশ্নও। গবেষণার তথ্য বলছে, এসব অটোরিকশার প্রায় ৭৫ শতাংশ চালকেরই যান চালানোর পূর্ব অভিজ্ঞতা বা ট্রাফিক আইন সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা নেই। প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার ঘাটতি থাকায় সড়কে তৈরি হচ্ছে বাড়তি ঝুঁকি। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার অভাবে শুধু এক বছরেই অটোরিকশাসংক্রান্ত দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৩৭৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

‘টেসলা’ বন্ধ নয়, প্রয়োজন নিয়ন্ত্রণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তবতা হলো—ব্যাটারিচালিত রিকশা একদিনে দেশের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবিকা এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত। তাই প্রয়োজন নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে একটি সমন্বিত নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা। একই সঙ্গে অবৈধ যন্ত্রাংশ আমদানিকারক, রিকশার বডি প্রস্তুতকারক এবং বিদ্যুৎ চুরির সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

বুয়েটের অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘অবৈধ হলেও চালকেরা চাঁদা দিয়েই সড়কে গাড়ি চালাচ্ছেন। ঘাটে ঘাটে বিশাল এক অর্থনীতি জড়িয়ে আছে। তাই এই খাত নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সরকারকে অত্যন্ত কৌশলী হতে হবে।’‌

কালের আলো/এসআর/এএএন

৬ মাস পূর্তি, গণমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩৮ অপরাহ্ণ
৬ মাস পূর্তি, গণমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা

সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করার পর প্রথম ১৮০ দিন অর্থাৎ ছয় মাস পার করছে বিএনপি। এ উপলক্ষে সোমবার (১৭ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে মন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা উপস্থিত থাকবেন। গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তারা বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দেবেন বলে জানা গেছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের শাপলা হলে বেলা ১১টায় এ মতবিনিময় শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই মতবিনিময় সভায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা, মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অংশ নেবেন। সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী উপস্থিত থাকবেন।

এ ছাড়া উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ডা. জাহিদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রেস সচিব ও কার্যালয়ের মুখপাত্র সালেহ শিবলী, মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি বিষয়ক) অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের সদস্যরা।

কালের আলো এসআর/এএএন

সময়মতো অফিসে না এলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ডিএসসিসি প্রশাসকের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৭ অপরাহ্ণ
সময়মতো অফিসে না এলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ডিএসসিসি প্রশাসকের

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়মতো অফিসে উপস্থিতি ও নাগরিক সেবা কার্যক্রমের গতি ত্বরান্বিত করতে নগর ভবনে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন সংস্থাটির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে নগর ভবনের বিভিন্ন বিভাগ ও শাখা সরেজমিনে ঘুরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতির খোঁজ নেন তিনি।

এ সময় নির্ধারিত কর্মঘণ্টা মেনে যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত হয়ে নাগরিক সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন প্রশাসক।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। নগরবাসীকে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা, সময়ানুবর্তিতা ও কর্মনিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত হয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও কার্যকারিতা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। নাগরিক সেবা দিতে কোনো ধরনের শৈথিল্য, বিলম্ব বা গাফিলতি বরদাশত করা হবে না।

পরিদর্শনকালে প্রশাসক সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে দাফতরিক কার্যক্রম আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার আহ্বান জানান তিনি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ