খুঁজুন
                               
, ,
           

অবিশ্বাস্যভাবে হার এড়াল পিএসজি

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ণ
অবিশ্বাস্যভাবে হার এড়াল পিএসজি

ফুটবলের অন্তিম মুহূর্তের রোমাঞ্চ বোধহয় এমনই! ৯০ মিনিট পর্যন্ত দুই গোলে পিছিয়ে থেকে হারের দ্বারপ্রান্তে ছিল প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। কিন্তু যোগ করা সময়ে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল করে ম্যাচের পুরো চিত্রই বদলে দিল বর্তমান ফরাসি ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা।

শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে অধিনায়ক মার্কিনিয়োসের দুর্দান্ত হেডে লিলের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে পিএসজি।

লিলের মাঠ স্তাদ পিয়ের-মোরায়তে শুরু থেকেই জমজমাট ছিল ম্যাচ। প্রথম দিকেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল পিএসজি। আশরাফ হাকিমির একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এরপর ২৪ মিনিটে অলিভিয়ের জিরুর চোখধাঁধানো রিভার্স পাস থেকে শক্তিশালী শটে লিলেকে এগিয়ে দেন আইসল্যান্ডের মিডফিল্ডার হাকোন হারাল্ডসন।

দ্বিতীয়ার্ধে খভিচা কাভারেস্খেইয়া ও নতুন যোগ দেওয়া মিকা গটসকে মাঠে নামিয়েও গোলের দেখা পাচ্ছিল না পিএসজি। উল্টো ৮৪ মিনিটে নটিংহ্যাম ফরেস্ট থেকে ধারে আসা দিলাইনে বাকওয়ার দুর্দান্ত কার্লিং শটে লিড ২-০ করে স্বাগতিকরা।

তখন মনে হচ্ছিল, জয়টা লিলের হাতেই। কিন্তু পিএসজি তখনো হাল ছাড়েনি।

৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটেই দূরপাল্লার দারুণ এক শটে পিএসজিকে ম্যাচে ফেরান ভিতিনিয়া। এরপর একেবারে শেষ মুহূর্তে ভিতিনিয়ার ক্রস থেকে অসাধারণ হেডে বল জালে পাঠান অধিনায়ক মার্কিনিয়োস।

মুহূর্তেই বদলে যায় পুরো পরিবেশ। স্তব্ধ হয়ে যায় লিলের গ্যালারি, আর উল্লাসে মেতে ওঠে পিএসজি শিবির।

নতুন কোচ দাভিদ আনচেলত্তির অধীনে শেষ মুহূর্তের এই প্রত্যাবর্তন লিলের জন্য নিঃসন্দেহে হতাশার। ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে মার্কিনিয়োসের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তির বাবা এই ম্যাচে ছেলের দলকে সমর্থন দিতে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন।

ম্যাচ শেষে স্বস্তি প্রকাশ করে পিএসজি অধিনায়ক মার্কিনিয়োস বলেন, ‘পিএসজির বিপক্ষে ম্যাচ কখনোই শেষ বাঁশি বাজার আগে শেষ হয় না।’ তার মতে, পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতা পুরো মৌসুমের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

চলতি লিগ ওয়ানে এখনো জয়ের দেখা পায়নি পিএসজি। তবে এটি টানা দ্বিতীয় ম্যাচ, যেখানে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও হার এড়াল তারা। এর আগের ম্যাচে রেনের বিপক্ষেও ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকে স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেসের জোড়া গোলে ড্র করেছিল পিএসজি।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা ধরে রাখার মিশনের আগে দলের এই লড়াকু মানসিকতা কোচ লুইস এনরিকেকে স্বস্তি দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘মৌসুমের এই শুরুতেই আমরা ১০০ শতাংশ ফর্মে পৌঁছে গেলে সেটিই বরং ঝুঁকিপূর্ণ হতো।’

দুই ম্যাচে দুই গোলের ঘাটতি পুষিয়ে শেষ মুহূর্তে হার এড়ানোর পর পিএসজির সামনে এখন সেই লড়াকু মানসিকতাকে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে রূপ দেওয়ার চ্যালেঞ্জ।

কালের আলো/এসএ

বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি, সতর্ক করা হলো তীরবর্তী বাসিন্দাদের

রাংগামাটি প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৬ অপরাহ্ণ
বাড়ছে কাপ্তাই হ্রদের পানি, সতর্ক করা হলো তীরবর্তী বাসিন্দাদের

কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়তে থাকায় অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনে কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাটের খোলার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে গেটগুলোর ওপেনিং ২ ফুট থেকে বাড়িয়ে ৩ ফুট করা হয়।

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে স্পিলওয়ের ১৬টি গেট দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু থাকায় সেখান থেকেও প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে হ্রদ থেকে কর্ণফুলী নদীতে মোট প্রায় ৯০ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে।

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান জানান, হ্রদের পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়তে থাকায় রোববার ভোর ৬টার দিকে ১৬টি জলকপাট ২ ফুট করে খোলা হয়। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় সকালে গেটগুলোর ওপেনিং আরও ১ ফুট বাড়িয়ে ৩ ফুট করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে পানি নিষ্কাশন শুরু হয়। তখন প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে ছাড়া হচ্ছিল। পরে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে গেটগুলোর খোলার পরিমাণ বাড়িয়ে ১ ফুট করা হয়। রোববার ভোরে তা ২ ফুট এবং সকাল ১০টার দিকে ৩ ফুট করা হয়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হ্রদের পানি দ্রুত বাড়ায় বাঁধের ওপর চাপ কমানো এবং অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গেটগুলোর ওপেনিং বাড়ানো হচ্ছে। কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।

মাহমুদ হাসান বলেন, হ্রদের পানির উচ্চতা, বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে আসা পানির পরিমাণ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ আরও বাড়ানো বা কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে স্পিলওয়ের গেট দিয়ে বিপুল পরিমাণ পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হওয়ায় নদীর পানির উচ্চতা বাড়তে পারে। এ কারণে কাপ্তাই, রাঙামাটি ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ভূমি ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ইউএনডিপির সহযোগিতা চান ভূমিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪২ অপরাহ্ণ
ভূমি ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ইউএনডিপির সহযোগিতা চান ভূমিমন্ত্রী

ভূমি ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু এবং ভূমিসেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহযোগিতা চেয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু।

রোববার (৩০ আগস্ট) ভূমি মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দফতরে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিভেন রড্রিগেজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ সহযোগিতা চান। এ সময় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, ভূমি ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং জনগণের জন্য সহজ ও স্বচ্ছ ভূমিসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। এক্ষেত্রে ইউএনডিপিসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে যৌথ অংশীদারত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

ভূমি ব্যবস্থাপনায় সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ এবং সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য ইউএনডিপির প্রতি আহ্বান জানান ভূমিমন্ত্রী।

এ সময় ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বাংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনা ও এর ডিজিটালাইজেশনের বিভিন্ন পরিকল্পনা সম্পর্কে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধিকে অবহিত করেন।

ভূমিসেবা ডিজিটালাইজেশন বাংলাদেশের একটি অসাধারণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেবা ডিজিটালাইজেশনের ফলে জনগণ আরও বেশি ক্ষমতায়িত হচ্ছে এবং সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়ছে। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে ভূমিসেবায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও অনেকাংশে কমে এসেছে।

সাক্ষাৎকালে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিভেন রড্রিগেজ বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, দুর্যোগ সহনশীলতা জোরদার করা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের গতি বাড়াতে বাংলাদেশ সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, সুশীল সমাজ, বেসরকারি খাত ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কাজ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় অবদান রাখার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের। বাংলাদেশ সরকার, জনগণ ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে একযোগে কাজ করে আগের অর্জনগুলো ধরে রাখার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে নতুন, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাধান তৈরি করতে হবে।

সাক্ষাৎকালে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ এবং ইউএনডিপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, দাফন দিল্লিতে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ণ
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, দাফন দিল্লিতে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিগত দিনে আমরা যারা গুম ছিলাম, প্রতি মুহূর্তে আমাদের মৃত্যুর প্রহর গুনতে হয়েছে। অপেক্ষা করতে হয়েছে। এ সময়ে তাদের স্বজনরা কীভাবে সময় কাটিয়েছে, সেটি তারা ছাড়া কেউ বুঝবেন না।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার দুই হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে। বহু মরদেহ গায়েব করেছে। আমরা মনে করি, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, আর দাফন হয়েছে দিল্লিতে।

রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গুমের শিকার হওয়া মানুষের পরিবারের সদস্যরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

গুমের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গুমের শিকার ইলিয়াস আলীর স্ত্রী ও সুমনের মায়ের মানসিক অবস্থা কেউ বুঝবেন না। তার নিজের স্ত্রী-সন্তানদের কী অবস্থা হয়েছিল, সেটিও অন্য কেউ বোঝার কথা নয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগের সময়ে বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ৭০৯ জন গুমের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫৫ জন ফিরে এসেছেন। আর বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গুমের বিষয়ে ১ হাজার ৮৫০টি আবেদন পড়েছিল।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এ ধরনের গুম-খুনের কথা ছিল না।’ ব্রিগেডিয়ার আযমীর মতো অনেকে ফিরে এলেও পরিবারের কাউকে পাননি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতের সংখ্যা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির প্রতিবেদন অনুসারে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ মারা গেছেন। তবে তাদের হিসাব অনুযায়ী, এ সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কারণ বহু মরদেহ গায়েব করা হয়েছে এবং পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ