খুঁজুন
                               
, ,
           

চিকিৎসায় আস্থার সংকটে বিদেশমুখী রোগীর ঢল

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৩ অপরাহ্ণ
চিকিৎসায় আস্থার সংকটে বিদেশমুখী রোগীর ঢল

চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া একসময় ছিল সামর্থ্যবানদের বিষয়। এখন সেই প্রবণতা ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যবিত্তের মধ্যেও, এমনকি নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের কেউ কেউ জটিল রোগের চিকিৎসায় দেশের বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। গুরুতর অসুস্থতার খবর পেলে অনেকে দ্বিতীয় মতামত, উন্নত রোগ নির্ণয় কিংবা অস্ত্রোপচারের নিশ্চয়তার জন্য পাড়ি দিচ্ছেন বিদেশে। সঙ্গে যাচ্ছে পরিবারের সঞ্চয়, কখনো ধার করা অর্থ; আর দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি ঢাকা মেডিকেল কলেজের এক অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন, চিকিৎসার জন্য প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিক, মানবিক আচরণ এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবার ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের তাৎপর্য শুধু অর্থের অঙ্কে নয়। বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া মানুষের সিদ্ধান্তের সঙ্গে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা এবং মানুষের আস্থার বিষয়টিও জড়িয়ে আছে।

বিদেশযাত্রার একাধিক কারণ
ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, চীন, মালয়েশিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে যাচ্ছেন বাংলাদেশি রোগীরা। বিদেশে যাওয়ার পেছনে অবশ্য একাধিক কারণ রয়েছে। বিশেষায়িত চিকিৎসা, উন্নত প্রযুক্তি কিংবা নির্দিষ্ট রোগে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শের জন্যও মানুষ বিদেশে যান। কিন্তু দেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় আস্থার সংকট যদি সেই সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে, তখন বিষয়টি স্বাস্থ্য খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

জটিল রোগেই বিদেশমুখিতা বেশি
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের গবেষণায় বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের রোগভিত্তিক একটি চিত্র পাওয়া যায়। এর মধ্যে হৃদরোগের চিকিৎসায় যাচ্ছেন ১৭ শতাংশ রোগী। কিডনি রোগে ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ, অর্থোপেডিক সার্জারিতে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং লিভার ও ক্যানসারের চিকিৎসায় ১১ শতাংশ করে রোগী বিদেশে যাচ্ছেন।

এ ছাড়া নিউরোলজি, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, ইউরোলজি, নাক-কান-গলা, জেনারেল সার্জারি, গাইনোকলজি, চোখ ও দাঁতের চিকিৎসাতেও রোগীরা দেশের বাইরে যাচ্ছেন। তালিকাটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসবের বড় একটি অংশ এমন রোগ, যেখানে দ্রুত ও নির্ভুল রোগ নির্ণয় এবং বিশেষায়িত চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে রোগীর মনে সামান্য অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও তাঁরা তুলনামূলক বেশি খরচের বিনিময়ে বিদেশে চিকিৎসার নিশ্চয়তা খোঁজেন।

চিকিৎসার ব্যয়ের চাপও বড় বাস্তবতা
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের ৫ মে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, দেশের ২২ শতাংশ মানুষের প্রতি মাসে স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন হয়। অথচ স্বাস্থ্যসেবার মোট ব্যয়ের ৭৯ শতাংশই মানুষকে নিজ পকেট থেকে বহন করতে হচ্ছে। গবেষকেরা বর্তমান স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ‘পশ্চাদ্গামী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ফলে দেশে চিকিৎসা করাতেও পরিবারের ওপর বড় আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। বিদেশে গেলে এর সঙ্গে যুক্ত হয় বিমানভাড়া, ভিসা, থাকা-খাওয়া, যাতায়াত ও সঙ্গীর ব্যয়। তবু অনেকে এই অতিরিক্ত ব্যয় মেনে নিচ্ছেন। এর পেছনে চিকিৎসার পাশাপাশি নিশ্চিততার প্রত্যাশাও কাজ করছে।

বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. মোয়াজ্জেম হোসাইন জানিয়েছেন, দেশে চিকিৎসাসেবায় কিছু উন্নতি হলেও অব্যবস্থাপনা ও মানসম্পন্ন চিকিৎসার ঘাটতি রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পর্যটক ভিসায় বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা ব্যয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। প্রকৃত ব্যয় আরও বেশি হতে পারে।

স্বাস্থ্য খাতে আরও দৃশ্যমান অগ্রগতির প্রত্যাশা
বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা আগের তুলনায় বেড়েছে—এমন নির্ভরযোগ্য তথ্য সরকারের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এমএ মুহিত। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা কমে গিয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করছে এবং ধীরে ধীরে মানুষের আস্থা ফিরছে। আগামী কয়েক মাসে স্বাস্থ্য খাতে আরও দৃশ্যমান অগ্রগতির প্রত্যাশাও জানিয়েছেন তিনি। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নকে ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা। বিদেশে চিকিৎসার প্রবণতা নিয়ে সুনির্দিষ্ট চিত্র পেতে হলে রোগীর গন্তব্য, রোগের ধরন ও ব্যয়ের বিষয়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহও জরুরি। এতে কোথায় দেশের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন, কোন চিকিৎসায় বিশেষ বিনিয়োগ দরকার এবং কোন সেবাকে আরও সহজলভ্য করা উচিত—তা নির্ধারণ করা সহজ হবে।

জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি
স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ কম বরাদ্দ। জিডিপির তুলনায় স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ১ শতাংশেরও কম। তবে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি সেই অর্থের কার্যকর ব্যবহার, দক্ষ জনবল, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, রোগ নির্ণয়ের সক্ষমতা এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি। বিপিএমসিএর সাবেক সভাপতি এম এ মুবিন খান জটিল রোগ নির্ণয়ের সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের জোগানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এর সঙ্গে সমান গুরুত্ব পাচ্ছে চিকিৎসক-রোগীর সম্পর্ক।

প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসকদের সময়নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ এবং রোগীর প্রতি আন্তরিক ও মানবিক আচরণের ওপর জোর দিয়েছেন। কারণ একজন রোগীর কাছে চিকিৎসার মান শুধু ওষুধ, পরীক্ষা বা অস্ত্রোপচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। চিকিৎসক তাঁর কথা শুনছেন কি না, রোগের অবস্থা বুঝিয়ে বলছেন কি না এবং চিকিৎসার পুরো প্রক্রিয়ায় তিনি নিরাপদ বোধ করছেন কি না—এসবও আস্থার অংশ।

পাঁচ জায়গায় উন্নতি হলে শক্ত হবে আস্থার ভিত
বিদেশে চিকিৎসা নেওয়া পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়, প্রয়োজনও নেই। বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে রোগী বিদেশে যাবেন। কিন্তু দেশের ভেতরে যে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব, সেটির জন্যও যদি মানুষ বিদেশকে বেশি নির্ভরযোগ্য মনে করেন, তাহলে সেই আস্থার জায়গাটি শক্তিশালী করাই হবে স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম বড় অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকার হিসাব সেই অগ্রাধিকারের গুরুত্ব স্পষ্ট করেছে। এই অর্থের প্রবাহ কমাতে হলে বিদেশমুখী মানুষকে নিরুৎসাহিত করার চেয়ে দেশের চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়ানো বেশি কার্যকর। সঠিক রোগ নির্ণয়, দক্ষ চিকিৎসা, আধুনিক প্রযুক্তি, স্বচ্ছ ব্যয় এবং রোগীর প্রতি মানবিক আচরণ—এই পাঁচ জায়গায় উন্নতি হলে আস্থার ভিতও শক্ত হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফর স্থগিত, নতুন তারিখ ১ অক্টোবর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩৩ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফর স্থগিত, নতুন তারিখ ১ অক্টোবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পূর্বনির্ধারিত ১৭ সেপ্টেম্বরের ফেনী সফর স্থগিত করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১ অক্টোবর তিনি ফেনী সফর করবেন।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সফরের তারিখ পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফেনীর জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবউল করিম। তিনি জানান, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততার কারণে ১৭ সেপ্টেম্বরের সফরটি স্থগিত করা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত তারিখে প্রধানমন্ত্রী ফেনীতে আসবেন।

সফর স্থগিত হলেও প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসন এবং বিএনপির পক্ষ থেকে নেওয়া প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে পরশুরাম-সুবার বাজার সড়কের মুহুরী নদীর তীরে উদ্বোধনী ফলক ও জনসভাস্থল প্রস্তুতের কাজ এগিয়ে চলছে। সম্প্রতি একনেকে অনুমোদিত ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও পানি নিষ্কাশন’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) প্রস্তাবিত অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেছে। পরশুরাম মডেল সরকারি পাইলট স্কুল মাঠে হেলিপ্যাড নির্মাণের প্রস্তুতিও চলছে। পাশাপাশি ফেনী-পরশুরাম প্রধান সড়কের বিভিন্ন অংশে মেরামত ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু বলেন, মুহুরী ও কহুয়া নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যা ও নদীভাঙন থেকে রক্ষায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সফর পিছিয়ে গেলেও স্থানীয় মানুষের মধ্যে এ নিয়ে উৎসাহের কমতি নেই।

পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতনু বড়ুয়া জানান, সভাস্থলে বিশুদ্ধ পানির ট্যাংক ও পোর্টেবল টয়লেট স্থাপনসহ সার্বিক প্রস্তুতি সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করা হচ্ছে।

এদিকে একই সফরে ফুলগাজী উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং খালেদা জিয়ার মহিলা কলেজ সরকারিকরণের কর্মসূচি রয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৭ অপরাহ্ণ
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: প্রতিমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি বলেছেন, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হতে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো শর্ত নেই।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কক্ষে ঢাকায় নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনের কোথাও নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। তাই যারা আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে চান, তাদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, একজন সমাজসেবক প্রাতিষ্ঠানিকভাবে লেখাপড়া না করেও স্বশিক্ষিত হতে পারেন। তার মধ্যে মেধা ও জ্ঞান থাকতে পারে এবং তিনি জনপ্রতিনিধি হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত আরোপ করলে তা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রেও শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই। একই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও এ ধরনের শর্ত রাখা হয়নি।

তবে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে বয়সের শর্ত থাকবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, একজন ভোটার হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বৈধতা নিয়ে রিট খারিজ

আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩১ অপরাহ্ণ
আ.লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বৈধতা নিয়ে রিট খারিজ

আওয়ামী লীগসহ দলটির সব অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে উপস্থিত আইনজীবীরা জানান, রিটটি যথাযথভাবে আবেদন করা হয়নি (নট ইনফর্ম) বলে উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করা হয়েছে।

এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী রিটের বিষয়টি জানিয়েছিলেন।

রিট আবেদনে ২০২৫ সালের ১২ মে জারি করা প্রজ্ঞাপনকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়। একই সঙ্গে রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ওই প্রজ্ঞাপনের কার্যক্রম স্থগিত চাওয়া হয়েছিল।

গত বছরের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে আওয়ামী লীগসহ দলটির সব অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশনা, গণমাধ্যম, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ, সম্মেলন আয়োজনসহ সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরের বাসিন্দা মো. আল আমিন হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি