খুঁজুন
                               
, ,
           

সার আমদানিতে বিলম্বের নেপথ্যে কারা?

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ
সার আমদানিতে বিলম্বের নেপথ্যে কারা?

সার নিয়ে মাঠপর্যায়ে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তার পেছনে রয়েছে মজুদের ঘাটতি। সরবরাহ ব্যবস্থার একাধিক ধাপের সময়ক্ষেপণও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কৃষক কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার কিনছেন, কোথাও আবার চাহিদামতো সার মিলছে না। বিপরীতে সরকারের তথ্য বলছে, দেশে সার মজুদের ব্যবস্থা রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ধারাবাহিকভাবে নতুন আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটেও চলতি বছরের নন-ইউরিয়া সারের মাসভিত্তিক বরাদ্দের তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। এরপরও মাঠে সংকট তৈরি হচ্ছে কেন? অনুসন্ধানে এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে সামনে আসছে নন-ইউরিয়া সার আমদানির সময়সূচি ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অসঙ্গতি। একই সঙ্গে উঠে আসছে একটি প্রভাবশালী আমলা সিন্ডিকেটের অভিযোগও।

সময়মতো আমদানি শুরু
নন-ইউরিয়া সার আমদানির ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দরপত্র, মূল্যায়ন, কার্যাদেশ, এলসি, জাহাজীকরণ, খালাস ও দেশের অভ্যন্তরে পরিবহন-প্রতিটি ধাপ শেষ হতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস সময় লাগে। ফলে পিক মৌসুমের আগে আমদানি নিশ্চিত না হলে কাগজে পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও স্থানীয় বাজারে সরবরাহের চাপ তৈরি হতে পারে। এবার কৃষি মন্ত্রণালয় ৩ আগস্ট টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি আমদানির জন্য দরপ্রস্তাব আহ্বান করে।

মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্যেও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এই তিন ধরনের সার আমদানির দরপ্রস্তাব আহ্বানের বিষয়টি রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২ লাখ টন টিএসপি, ৫ লাখ টন ডিএপি ও ২ লাখ ৫০ হাজার টন এমওপি সংগ্রহের কথা। অর্থাৎ মোট ৯ লাখ ৫০ হাজার টন সার। কিন্তু দরপত্রের পরবর্তী ধাপগুলোতে সময় গড়াতে থাকায় নানা প্রশ্ন উঠেছে।

দর চূড়ান্তের পরও অপেক্ষা
গত ১৮ আগস্টের পর দর মূল্যায়ন শুরু হয়। পরে এমওপি, টিএসপি ও ডিএপির জন্য নির্দিষ্ট দর প্রস্তাব করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকদের সম্মতিও নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অনুমোদন পদ্ধতির পরিবর্তন। আগে বেসরকারিভাবে নন-ইউরিয়া সার আমদানির চূড়ান্ত অনুমোদন কৃষি মন্ত্রণালয় পর্যায়ে সম্পন্ন হতো বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এবার বিষয়টি সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হচ্ছে। প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছতা ও সরকারি ক্রয়ের কাঠামোর দিক থেকে প্রয়োজনীয় হতে পারে। কিন্তু পিক মৌসুমের ঠিক আগে এই অতিরিক্ত ধাপের সময়ব্যয় সরবরাহ ব্যবস্থায় কী প্রভাব ফেলছে, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।

সরকারও আমদানি বাড়াচ্ছে
এখানে সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগটিও গুরুত্বপূর্ণ। সারের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এরই মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিক আমদানি অনুমোদন দিয়েছে। ৯ সেপ্টেম্বর কমিটি ১ লাখ ১০ হাজার টন এমওপি, ডিএপি ও ইউরিয়া আমদানির তিনটি প্রস্তাব অনুমোদন করে। এর আগে আগস্টেও মোট ৩ লাখ ৬৫ হাজার টন সার আমদানির সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছিল, যার মধ্যে ৭০ হাজার টন ইউরিয়া, ৬০ হাজার টন টিএসপি, ১ লাখ ২০ হাজার টন ডিএপি এবং ১ লাখ ১৫ হাজার টন এমওপি ছিল। অর্থাৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার আমদানি বন্ধ রেখেছে-এমন চিত্র পাওয়া যায় না।

ডিএপিতেই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি
৫ লাখ টন ডিএপি আমদানির পরিকল্পনাটি এই সংকটের কেন্দ্রবিন্দু। সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ২০টি প্রতিষ্ঠানকে আমদানির জন্য চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে। মরক্কো, রাশিয়া, জর্ডান, সৌদি আরব, মিসর ও তিউনিশিয়াসহ কয়েকটি দেশ থেকে সার আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু অনুমোদনের পর জাহাজীকরণ, খালাস, পরিবহন ও বিতরণ মিলিয়ে কৃষকের হাতে সার পৌঁছাতে ৮০-৯০ দিন সময় লাগতে পারে। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের শুরুতে প্রক্রিয়া এগোলেও মাঠে সরবরাহ পেতে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

মজুদ বনাম মাঠের বাস্তবতা
সরকারি হিসাবে ডিএপির মজুদ তিন লাখ টনের বেশি। কিন্তু বাজারে কৃষকের অভিজ্ঞতা বলছে, সরবরাহ সব জায়গায় সমান নয়। সরকার নির্ধারিত ৫০ কেজির ডিএপি বস্তার দাম ১ হাজার ৫০ টাকা হলেও বিভিন্ন এলাকায় ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে শুধু মোট মজুদের পরিমাণ দিয়ে বাজারের বাস্তবতা বিচার করা কঠিন। কোথায় কত মজুদ, কোন ডিলারের কাছে কত বরাদ্দ, কত দ্রুত তা কৃষকের কাছে পৌঁছাচ্ছে-এই সরবরাহ-শৃঙ্খলের প্রতিটি ধাপ গুরুত্বপূর্ণ। কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে মাসভিত্তিক নন-ইউরিয়া সারের বরাদ্দের তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে।

‘সিন্ডিকেট’এর দিকে অভিযোগের আঙুল
এই আমদানি বিলম্বকে কেন্দ্র করে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের একটি অংশ সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তাকে ঘিরে গড়ে ওঠা ‘সিন্ডিকেট’-এর দিকে অভিযোগের আঙুল তুলছেন। তাদের দাবি, সাবেক কৃষি সচিব মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান, সাবেক অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ইমাম ফয়সাল এবং সাবেক যুগ্মসচিব মো. খোরশেদ আলমের প্রভাব বলয় সার আমদানির সময়সূচি ও ব্যবস্থাপনায় প্রভাব ফেলেছিল। অভিযোগ আরও গুরুতর-পরিকল্পিতভাবে সময় পিছিয়ে দিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, যাতে পিক মৌসুমে সার নিয়ে চাপ তৈরি হয়।

সামনে সমাধানের পথ
আন্তর্জাতিক বাজার ও পরিবহনপথের অনিশ্চয়তার মধ্যেও সরকার ধারাবাহিকভাবে সার আমদানির অনুমোদন দিচ্ছে। ফলে এখন মূল প্রয়োজন আমদানির সিদ্ধান্তকে দ্রুত মাঠপর্যায়ের সরবরাহে রূপ দেওয়া। পাশাপাশি বেসরকারি আমদানির আটকে থাকা প্রক্রিয়াগুলোও দ্রুত নিষ্পত্তি করা জরুরি।

বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের অভিযোগ অনুযায়ী, টেন্ডারের পর কার্যাদেশ ও এলসি নিয়ে বিলম্ব আমদানিকারকদের অনিশ্চয়তায় ফেলছে। এই অবস্থায় সময়ের প্রতিটি দিন গুরুত্বপূর্ণ। সারের সংকট তাই একক কোনো সিদ্ধান্তের ফল কি না, তা এখনই বলা কঠিন। তবে টেন্ডার আহ্বানের সময়, অনুমোদনের কাঠামো, আমদানির সম্ভাব্য সময়, সরকারি মজুদের অবস্থান এবং কৃষকের হাতে সরবরাহ-সবকিছু একসঙ্গে পর্যালোচনা করলে সমস্যার প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে।

সার নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত কৃষি মন্ত্রণালয়ের
সার কার্যক্রম তদারকিতে ‘সার ব্যবস্থাপনা কন্ট্রোল রুম’ চালু করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সার নিয়ে কোনো ধরনের সমস্যা বা অনিয়মের ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখার উপসচিব মো. মাকছুদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। আদেশ অনুযায়ী, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৫২৮ নম্বর কক্ষে কন্ট্রোল রুমের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ জন্য ২৭টি দল গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি দলে একজন কর্মকর্তা, একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও একজন অফিস সহায়ক রয়েছেন।

কন্ট্রোল রুমের কার্যক্রম ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই শিফটে চলবে। প্রথম শিফট সকাল ৮টা থেকে বেলা ৩টা এবং দ্বিতীয় শিফট বেলা ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। কন্ট্রোল রুমের সার্বিক তদারকির দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত সচিব (সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ)। কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে সার সরবরাহ, মজুদ, পরিবহন ও বিতরণসংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা। কোথাও সার পরিবহণে অনিয়ম, কৃত্রিম সংকট, অবৈধ মজুদ, কালোবাজারি বা অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

শীতের আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত চান্দিনার কৃষকরা

কুমিল্লা সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ
শীতের আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত চান্দিনার কৃষকরা

শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে কুমিল্লার চান্দিনায় আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। মৌসুমের শুরুতে বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় টমেটোসহ বিভিন্ন শীতকালীন সবজি চাষে ঝুঁকছেন তারা। কেউ জমি প্রস্তুত করছেন, কেউ চারা রোপণ করছেন, আবার কেউ ব্যস্ত রয়েছেন পরিচর্যায়। তবে সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে তাদের।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি বছর চান্দিনায় ১ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে ৪৩ হাজার ৭৫৫ মেট্রিক টন শীতকালীন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৫৮ হেক্টর জমিতে সবজির আবাদ হয়েছে।

উপজেলার এতবারপুর, বাড়েরা, মাইজখার, চিলোড়া, এওয়াজবন্দ ও পূর্ব অম্বরপুরসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠজুড়ে এখন কৃষকদের কর্মব্যস্ততা। টমেটো, শিম, ফুলকপি ও বাঁধাকপির আবাদে বেশি তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই অনেকে জমিতে নেমে পড়ছেন পরিচর্যার কাজে।

কৃষকরা জানান, মৌসুমের শুরুতে আগাম সবজি বাজারে তুলতে পারলে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া যায়। এ সময় সরবরাহ কম থাকায় চাহিদাও বেশি থাকে। ফলে উৎপাদন ভালো হলে লাভের সম্ভাবনা তৈরি হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাজারে আসতে শুরু করবে এসব সবজি। তবে বাড়তি উৎপাদন খরচের কারণে কাঙ্ক্ষিত লাভ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে তাদের।

বাড়েরা ইউনিয়নের চিলোড়া গ্রামের কৃষক আবুল কালাম বলেন, এ বছর তিনি ২৫২ শতক জমিতে টমেটো চাষ করেছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে লাভবান হওয়ার আশা করছেন তিনি। তবে সার ও কীটনাশকের দাম নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

টমেটোচাষি আবুল খায়ের বলেন, প্রতি শতকে টমেটো উৎপাদনে আনুমানিক ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। ফলন ভালো হলে প্রতি শতকের উৎপাদিত ফসল ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হতে পারে। তবে পরিবহন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বাদ দিলে লাভের পরিমাণ খুব সামান্য থাকতে পারে।

কেরণখাল ইউনিয়নের পূর্ব অম্বরপুর গ্রামের কৃষক তাজুল গাজী বলেন, ১২০ শতক জমিতে টমেটো চাষ করেছেন তিনি। এখন পর্যন্ত ফসলের অবস্থা ভালো। গত বছরের তুলনায় এবার আগেই জমি প্রস্তুত করতে পেরেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো লাভের আশা করছেন তিনি।

পূর্ব মাইজখার গ্রামের কৃষক শরীফ মোল্লা বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আগাম শীতকালীন সবজি দ্রুত বাজারে আসবে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় উৎপাদন খরচ কিছুটা বেশি হচ্ছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে কৃষকরা লাভবান হতে পারবেন।

চান্দিনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোরশেদ আলম বলেন, আগাম শীতকালীন সবজি চাষ লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এ আবাদ বাড়ছে। এর মাধ্যমে কৃষকরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন। উৎপাদন বাড়াতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

গত বছরের লোকসান পুষিয়ে নিতে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত হিলির কৃষকরা

দিনাজপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
গত বছরের লোকসান পুষিয়ে নিতে আগাম আলু চাষে ব্যস্ত হিলির কৃষকরা

গত বছরের লোকসান পুষিয়ে নেওয়ার আশায় দিনাজপুরের হিলিতে আগাম জাতের আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। আমন ধান কাটার পর জমি ফেলে না রেখে বাড়তি আয়ের আশায় আলু রোপণ করছেন তারা। অনুকূল আবহাওয়ায় ভালো ফলন ও ন্যায্য দাম পাওয়ার প্রত্যাশা থাকলেও বীজ, সার, জ্বালানি ও শ্রমিকের মজুরিসহ উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছর অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে হিলির খট্টামাধবপাড়া এলাকায় আগাম আলুর আবাদ শুরু হয়। আমন ধান কাটার পর জমি প্রস্তুত করে আলু রোপণ করেন কৃষকরা। এ সময়ে বাজারে অন্যান্য আলুর সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় আগাম জাতের আলু ভালো দামে বিক্রির সুযোগ থাকে। তবে গত বছর প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় অনেক কৃষককে লোকসান গুনতে হয়েছে। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশায় এবার আগেভাগেই জমি প্রস্তুত করে চাষাবাদ শুরু করেছেন তারা।

কৃষকরা জানান, গত বছর ৮০০ টাকায় কেনা আলুবীজের দাম এবার বেড়ে ১ হাজার ২০০ টাকা হয়েছে। এর পাশাপাশি সার, জ্বালানি তেল ও কৃষিশ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে। ফলে উৎপাদন খরচ আগের তুলনায় বাড়ছে। ভালো ফলন হলেও বাজারে ন্যায্য দাম না পেলে এবারও লোকসানের মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

এদিকে আগাম আলু রোপণকে ঘিরে এলাকায় কৃষিশ্রমিকদের কর্মব্যস্ততা বেড়েছে। আমন ধান কাটার পর জমি প্রস্তুত, আলু রোপণ ও পরিচর্যার কাজে যুক্ত হয়ে কর্মসংস্থান ও আয়-রোজগারের সুযোগ পাচ্ছেন শ্রমিকরা।

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম জানান, গত সপ্তাহ থেকে উপজেলায় আগাম জাতের আলু চাষ শুরু হয়েছে। খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়নে এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ হেক্টর জমিতে আলু রোপণ করা হয়েছে। এ জাতের আলু ৫০ থেকে ৫৫ দিনের মধ্যে উত্তোলন করা যায়। কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চাষাবাদ করলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কৃষকদের প্রত্যাশা, অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে ন্যায্য দাম নিশ্চিত হলে গত বছরের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন তারা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

পর্যটনের শহর কক্সবাজারে নিরাপত্তার ঘাটতি, ঝুঁকিতে পর্যটকের জীবন

কক্সবাজার সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ
পর্যটনের শহর কক্সবাজারে নিরাপত্তার ঘাটতি, ঝুঁকিতে পর্যটকের জীবন

আগুনে প্রাণহানি, পাহাড়ি সড়কে ডাকাতি, সৈকতে ছিনতাই ও ডুবে মৃত্যু; অনুমোদনহীন স্থাপনা ও ঝুঁকিপূর্ণ বিনোদন কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে প্রতিবছর ৮০ থেকে ৯০ লাখ পর্যটক ছুটে আসেন কক্সবাজারে। দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, পাহাড় আর নীল জলরাশির আকর্ষণে মুখর থাকে দেশের প্রধান এই পর্যটন গন্তব্য। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি, পাহাড়ি সড়কে ডাকাতি, সৈকতে ডুবে মৃত্যু এবং ঝুঁকিপূর্ণ বিনোদন কার্যক্রমে দুর্ঘটনার ঘটনায় পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অনুমোদনহীন স্থাপনা, পর্যাপ্ত উদ্ধারসেবার অভাব এবং নজরদারির দুর্বলতা দূর করা না গেলে পর্যটনশিল্পের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

গত ১৭ অক্টোবর উখিয়ার ইনানীর পাটোয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে আগুনে ১০ জনের মৃত্যু নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে এনেছে। তিনতলা কাঠের স্থাপনাটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়লে প্রাণ হারান ভেতরে থাকা ১০ জন। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তা অনুমোদন ছিল না। এর আগে সতর্কতা বা নোটিস দেওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। অগ্নিকাণ্ডে অবহেলার অভিযোগে ২৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। রিসোর্টের ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা চিহ্নিত হওয়ার পরও সেখানে পর্যটকদের অবস্থানের সুযোগ ছিল কীভাবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, শুধু পরিদর্শন ও নোটিস নয়, নিয়ম ভঙ্গকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকার মতে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় হোটেল-রিসোর্টের অনুমোদন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দুই শতাধিক স্থাপনা পরিদর্শন ও নোটিস দেওয়ার বিষয়টি সামনে এলেও কতটি প্রতিষ্ঠান নিয়ম মেনেছে, কতটির কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে এবং কতটিতে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে, তার স্বচ্ছ হিসাব প্রয়োজন।

পাহাড়ি সড়কে ডাকাতি, শহরে ছিনতাইয়ের অভিযোগ

রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের শোক কাটতে না কাটতেই ১৯ অক্টোবর ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়কের হিমছড়ি ঢালায় একই দিনে দুই দফা ডাকাতির ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ায়। সকালে সিএনজিচালিত অটোরিকশার এক যাত্রীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে দুপুরে অস্ত্রধারীদের তৎপরতায় কয়েকটি যানবাহনের যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটের অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগীদের কেউ ১ লাখ ২০ হাজার, কেউ দেড় লাখ টাকা হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

পরে অভিযান চালিয়ে লুট হওয়া মালামাল ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি দুজনকে আটকের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। তবে দিনের আলোয় এমন ঘটনার কারণে সড়কটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জেলা পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত কক্সবাজারে ডাকাতির ১৪টি, দস্যুতার ২৩টি এবং চুরির ১৬০টি মামলা হয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে ডাকাতির মামলা ছিল ১৬টি, দস্যুতার ২৫টি এবং চুরির ১৫৭টি। অর্থাৎ ডাকাতি ও দস্যুতার মামলা কমলেও চুরির মামলা বেড়েছে।

এ ছাড়া কক্সবাজার শহরে পর্যটকদের ছিনতাই, হয়রানি ও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। অপরিচিত এলাকায় যাতায়াত ও হোটেল খোঁজার জন্য অনেক পর্যটক অটোরিকশা ও টমটমচালকদের ওপর নির্ভর করেন। এই সুযোগে কাউকে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া বা হয়রানির অভিযোগও পাওয়া যায়। তবে সব ঘটনা থানায় নথিভুক্ত না হওয়ায় প্রকৃত পরিস্থিতি নিরূপণ কঠিন।

সৈকতে ডুবে তিন বছরে ৪০ জনের মৃত্যু

কক্সবাজারের প্রধান আকর্ষণ সমুদ্রসৈকত হলেও গোসল করতে নেমে প্রাণ হারাচ্ছেন পর্যটকেরা। প্রবল স্রোত, সমুদ্রের তলদেশের গর্ত, গুপ্তখাল এবং ঢেউয়ের আচরণ সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে অনেকে বিপদে পড়েন। বিস্তীর্ণ সৈকতের সব এলাকায় সমানভাবে উদ্ধারসেবা না থাকায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

সি-সেফ লাইফগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কক্সবাজার শহরের সৈকতের নির্দিষ্ট এলাকায় ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালে ১২ জন, ২০২৫ সালে ২০ জন এবং ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আটজন মারা যান। একই সময়ে সমুদ্রে বিপদে পড়া ৪৭৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

সংস্থাটির হিসাবে, ২০১৫ সাল থেকে ২০২৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে ডুবে ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে অন্তত ১ হাজার ৭৭ জনকে।

প্রায় ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকতের মধ্যে লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর মধ্যে নিরাপদে গোসলের জন্য লাইফগার্ডের আওতাভুক্ত এলাকা প্রায় দেড় কিলোমিটার। সি-সেফের ২৭ জন লাইফগার্ডকর্মী পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করেন।

সি-সেফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার সাইফুল্লাহ সিফাত বলেন, বিপদের মুহূর্তে দ্রুত উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং হাসপাতালে নেওয়ার সমন্বিত ব্যবস্থা জরুরি। কয়েক মিনিটের বিলম্বও প্রাণহানির কারণ হতে পারে। পর্যটকের চাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উদ্ধারসেবার পরিধি ও জনবল বাড়ানো প্রয়োজন।

অনুমোদনহীন প্যারাসেইলিংয়েও প্রাণহানি

সমুদ্রসৈকতে গোসলের পাশাপাশি প্যারাসেইলিংয়ের মতো বিনোদন কার্যক্রমেও নিরাপত্তার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। গত ১ আগস্ট দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেইলিং করতে গিয়ে সাগরে পড়ে মারা যান খুলনার পর্যটক শৌভিক রায়। ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই সময়ে প্যারাসেইলিং পরিচালনার অনুমোদন ছিল না। প্রতিকূল আবহাওয়ায় কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা অমান্য করে তা চালানোর অভিযোগও ওঠে।

একই প্রতিষ্ঠানের প্যারাসেইলিং কার্যক্রমে গত ১০ বছরে অন্তত ১৯ জন পর্যটক আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের কেউ রশি ছিঁড়ে সাগরে পড়েছেন, কেউ ঝাউবাগানে আটকে পড়েছেন, আবার কেউ বালুচরে পড়ে আহত হয়েছেন।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টুয়াক) উপদেষ্টা মফিজুর রহমানের অভিযোগ, প্রশাসনিক তদারকি ছাড়াই অনভিজ্ঞ লোকজন দিয়ে প্যারাসেইলিং পরিচালনা করা হচ্ছে। সংগঠনটির সভাপতি আনোয়ার কামালের মতে, এ ধরনের বিনোদন কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তাব্যবস্থা মেনে পরিচালনা করা জরুরি।

সড়ক ও রেলপথেও উদ্বেগ

পর্যটকের নিরাপত্তা শুধু হোটেল, সৈকত কিংবা বিনোদনকেন্দ্রে সীমাবদ্ধ নয়; যাতায়াতের পথও নিরাপদ হওয়া প্রয়োজন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কক্সবাজার জেলার মহাসড়কে ১০৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৪ জন নিহত হন। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬১টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৭৪ জনের। এ ছাড়া রেলপথে পাথর নিক্ষেপের ৫০টি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে, যাতে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, নিরাপত্তাহীনতার প্রভাব পর্যটন ব্যবসায়ও পড়ে। ইনানীর অগ্নিকাণ্ডের পর মেরিন ড্রাইভের পাশের কিছু রিসোর্টে বুকিং কমে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যদিও শহরের হোটেলগুলোতে পর্যটকের উপস্থিতি বাড়ার তথ্যও রয়েছে, তবু নিরাপত্তা নিয়ে নেতিবাচক ধারণা ছড়িয়ে পড়লে পুরো পর্যটন গন্তব্যের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সমন্বিত নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্যসচিব এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, পর্যটনকে নিরাপদ করতে বিচ্ছিন্ন অভিযান কিংবা দুর্ঘটনার পর তদন্ত যথেষ্ট নয়। অনুমোদনহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ হোটেল-রিসোর্টের তালিকা প্রকাশ, অগ্নিনিরাপত্তা যাচাই, নিয়ম ভাঙলে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে টহল বাড়ানো এবং সৈকতে লাইফগার্ডের পরিধি সম্প্রসারণ জরুরি।

তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। নিয়মিত পরিদর্শন ও মাঠপর্যায়ে কার্যকর নজরদারি ছাড়া শুধু নির্দেশনা দিয়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব নয়।

সামাজিক সংগঠন আমরা কক্সবাজারবাসীর সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিনের মতে, পর্যটন এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল, হোটেল-মোটেল জোন ও নির্জন সড়কে সিসিটিভি নজরদারি, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি পথে নিরাপত্তাচৌকি এবং সৈকতে পর্যাপ্ত উদ্ধারকর্মী নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি হোটেল-রিসোর্টের অনুমোদন ও অগ্নিনিরাপত্তা নিয়মিত যাচাই এবং ঝুঁকিপূর্ণ বিনোদন কার্যক্রমে প্রশিক্ষিত কর্মী ও মানসম্মত সরঞ্জাম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

পর্যটকেরা যাতে সহজে জানতে পারেন কোন হোটেল বা রিসোর্ট অনুমোদিত, কোন বিনোদন কার্যক্রম বৈধ এবং কোথায় লাইফগার্ডের সহায়তা পাওয়া যায়, সে ব্যবস্থাও গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, সমুদ্রের সৌন্দর্য দেখতে এসে কোনো পর্যটক যেন প্রাণ হারিয়ে কিংবা আতঙ্কের স্মৃতি নিয়ে বাড়ি ফিরতে বাধ্য না হন, সে লক্ষ্যে কক্সবাজারের পর্যটন ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের সঙ্গে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবিকা জড়িত। তাই পর্যটকের জীবন রক্ষা, নিরাপদ যাতায়াত, অনুমোদিত স্থাপনা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত উদ্ধারসেবা চালুর মাধ্যমে পর্যটকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারলেই কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের দীর্ঘমেয়াদি বিকাশ টেকসই হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি