খুঁজুন
                               
, ,
           

ব্যালন ডি’অরের মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন ইয়ামালের, উদাহরণ মেসি-রোনালদো

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
ব্যালন ডি’অরের মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন ইয়ামালের, উদাহরণ মেসি-রোনালদো

ব্যালন ডি’অর পুরস্কার নির্ধারণের বর্তমান পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বার্সেলোনার তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। তার মতে, বিশ্বের সেরা ফুটবলার বাছাইয়ে এখন ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে গোল, অ্যাসিস্ট ও দলীয় সাফল্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মুভিস্টার প্লাসের ‘ইউনিভের্সো ভালদানো’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল বলেন, লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সময়ে ব্যালন ডি’অর নিয়ে আলোচনা অনেকটাই ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বকেন্দ্রিক ছিল। কিন্তু বর্তমানে মূল্যায়নের ধরন বদলে গেছে।

ইয়ামালের মতে, চ্যাম্পিয়নস লিগ জয় একটি দলীয় অর্জন। তাই কোনো খেলোয়াড় শুধু দলকে এই শিরোপা জেতাতে সাহায্য করেছেন বলেই ব্যক্তিগতভাবে ব্যালন ডি’অরের দাবিদার হয়ে যাবেন—এমনটা হওয়া উচিত নয়। একইভাবে বেশি গোল করাও একমাত্র মানদণ্ড হতে পারে না বলে মনে করেন তিনি।

বার্সেলোনা তারকার ভাষায়, গোলসংখ্যা ও শিরোপা ব্যক্তিগত পুরস্কারের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও একজন খেলোয়াড় মাঠে কতটা আলাদা প্রভাব ফেলছেন এবং তার খেলা কতটা উপভোগ্য—সেটিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

ইয়ামাল নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। অনেক ম্যাচে গোল বা অ্যাসিস্ট না করেও নিজের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট থাকার কথা জানান তিনি। তার কাছে ফুটবল শুধু গোল করার বিষয় নয়; গোলরক্ষকের পা থেকে বল বের হওয়ার পর একটি আক্রমণ গড়ে ওঠার পুরো প্রক্রিয়াটিই খেলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বর্তমান প্রজন্মের ফুটবল দেখার ধরন নিয়েও মন্তব্য করেন ইয়ামাল। তার মতে, অনেকে এখন পুরো ম্যাচ না দেখে অ্যাপের পরিসংখ্যান—গোল, অ্যাসিস্ট কিংবা অন্যান্য সংখ্যার ওপর বেশি নির্ভর করেন। এতে মেসুত ওজিলের মতো প্লেমেকারদের প্রভাবও যথাযথভাবে মূল্যায়িত না হওয়ার ঝুঁকি থাকে বলে মনে করেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে সতীর্থ ফেরমিন লোপেস, এরিক গার্সিয়া ও জুল কুন্দের সঙ্গে মাঠের কৌশলগত বোঝাপড়ার কথাও জানান ইয়ামাল। তার মতে, ফুটবলে অনেক সময় ছোট ছোট বিষয়—যেমন সঠিক সময়ে একজন খেলোয়াড়ের দৌড় বা জায়গা তৈরি করা—আক্রমণে বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্ব ফুটবলের আলোচনার কেন্দ্রে থাকা ইয়ামালের এই মন্তব্য ব্যালন ডি’অরের মতো ব্যক্তিগত পুরস্কার মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পরিসংখ্যান ও নান্দনিকতার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

কালের আলো/এসএ

অতীতের কষ্ট পেরিয়ে নতুন সংসারে শবনম ফারিয়ার এক বছর

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
অতীতের কষ্ট পেরিয়ে নতুন সংসারে শবনম ফারিয়ার এক বছর

প্রথম সংসারের তিক্ততা, নানা টানাপোড়েন ও মানসিক সংগ্রাম পেরিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করেছেন জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। ব্যাংক কর্মকর্তা তানজিম তৈয়বের সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য জীবনের এক বছর পূর্ণ হয়েছে।

দ্বিতীয় বিবাহবার্ষিকীর প্রথম প্রহরে ঘরোয়াভাবে কেক কেটে উদযাপন করেন ফারিয়া ও তানজিম। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করে স্বামীর প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানান অভিনেত্রী।

নিজের জীবনের নানা ভুলের কথা স্মরণ করে ফারিয়া জানান, সামাজিকতা রক্ষার জন্য অনেক সময় নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে অন্যায় সহ্য করেছেন। এসব অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনে গভীর মানসিক চাপ তৈরি করেছিল।

অতীতের সেই সময় কাটিয়ে উঠতে কাউন্সেলিং ও থেরাপির সহায়তাও নিয়েছেন বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, জীবনের বেশ কয়েকটি বছর সেই জমে থাকা কষ্ট ও মানসিক যন্ত্রণা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টায় কেটে গেছে।

তবে দীর্ঘ সেই সময়ের পর তানজিমকে জীবনে পাওয়া এবং নতুন একটি পরিবারের অংশ হতে পারাকে বড় উপহার হিসেবে দেখছেন ফারিয়া। স্বামীর পাশাপাশি শ্বশুর-শাশুড়ি ও ননদের কাছ থেকেও ভালোবাসা পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

বিবাহবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে স্বামীকে নিয়ে মিষ্টি খুনসুটিও করেছেন অভিনেত্রী। তানজিমের জন্য তাঁর ‘নতুন বছরের’ পরামর্শ—ঘর থেকে বের হওয়ার সময় লাইট, ফ্যান ও এসি বন্ধ করা এবং ফ্রিজ থেকে পানি নেওয়ার পর দরজা বন্ধ করা!

ফারিয়ার বার্তায় উঠে এসেছে অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা, মানসিক লড়াই পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো এবং নতুন সংসারে পাওয়া ভালোবাসা ও পারিবারিক বন্ধনের গল্প।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে প্রথম স্বামী হারুনুর রশীদ অপুর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ব্যাংক কর্মকর্তা তানজিম তৈয়বকে বিয়ে করেন ফারিয়া। তানজিম অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলস থেকে ফিন্যান্সিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত।

কালের আলো/এসএ

খান জাহান আলীর স্মৃতিবিজড়িত ষাটগম্বুজ মসজিদে পর্যটকের ভিড়

বাগেরহাট সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১০ অপরাহ্ণ
খান জাহান আলীর স্মৃতিবিজড়িত ষাটগম্বুজ মসজিদে পর্যটকের ভিড়

বাংলাদেশের মুসলিম স্থাপত্যের অন্যতম অনন্য নিদর্শন বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদ। প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী, বিশাল আয়তন ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে মসজিদটি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে।

ঐতিহাসিক সূত্র ও প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, মসজিদটি নির্মাণে প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর সময় লেগেছিল। তবে মসজিদটির নামকরণ কীভাবে ‘ষাটগম্বুজ’ হলো, তা নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে রয়েছে মতভেদ।

বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক মসজিদ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর মধ্যে ষাটগম্বুজ মসজিদ অন্যতম। ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যের কারণে ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো বাগেরহাটের ঐতিহাসিক মসজিদ নগরীকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

মসজিদটির নির্মাণের সঙ্গে সুফি সাধক ও শাসক খান জাহান আলী (রহ.)-এর নাম জড়িয়ে রয়েছে। তিনি এ অঞ্চলে ইসলামের প্রচার ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

৭৭ গম্বুজ, তবু নাম ষাটগম্বুজ

নাম ষাটগম্বুজ হলেও মসজিদটির মূল ছাদে রয়েছে ৭৭টি গম্বুজ। এর চার কোণের চারটি বুরুজ যুক্ত করলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৮১টি। মসজিদের ভেতরে রয়েছে সারিবদ্ধ স্তম্ভ ও অসংখ্য খিলান। এসব স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য মসজিদটির স্বাতন্ত্র্য ও প্রাচীন নির্মাণশৈলীর পরিচয় বহন করে।

মসজিদের নামকরণ নিয়ে বিভিন্ন মত প্রচলিত রয়েছে। কোনো কোনো ইতিহাসবিদের মতে, মসজিদের স্থাপত্য ও গম্বুজের বিন্যাসের সঙ্গে ‘ষাটগম্বুজ’ নামটির সম্পর্ক রয়েছে। আবার অন্যদের মতে, স্থানীয় উচ্চারণ, প্রচলন ও ঐতিহাসিক বিবর্তনের মাধ্যমে নামটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে নামকরণের নির্ভুল ইতিহাস নিয়ে এখনো মতভেদ রয়েছে।

পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র

ঐতিহাসিক এই মসজিদ দেখতে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাগেরহাটে আসেন পর্যটক ও দর্শনার্থীরা। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের উপস্থিতিতে মসজিদ প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

দর্শনার্থীরা মসজিদের প্রাচীন স্থাপত্য, অভ্যন্তরের কারুকার্য, স্তম্ভ ও খিলান ঘুরে দেখেন। ইতিহাস ও স্থাপত্যের অনন্য সমন্বয় হওয়ায় ষাটগম্বুজ মসজিদ বাগেরহাটের অন্যতম প্রধান দর্শনীয় স্থান হিসেবে এখনও মানুষের আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে আছে।

কালের আলো/এম/এসআইপি 

২৫ বছরেই বিদায়, স্মৃতিতে আজও অমলিন সালমান শাহ

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৭ অপরাহ্ণ
২৫ বছরেই বিদায়, স্মৃতিতে আজও অমলিন সালমান শাহ

বাংলা চলচ্চিত্রে মাত্র তিন বছরের পথচলা। অথচ এই অল্প সময়েই দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছিলেন সালমান শাহ। অভিনয়ের পাশাপাশি পোশাক, চুলের স্টাইল, চলন-বলন—সবকিছুতেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন তরুণ প্রজন্মের আইকন।

আজ ১৯ সেপ্টেম্বর, এই ক্ষণজন্মা নায়কের জন্মদিন। ১৯৭০ সালের এই দিনে সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার প্রকৃত নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরী।

১৯৯৩ সালে সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় সালমান শাহর। একই সিনেমায় অভিষেক ঘটে মৌসুমীর। প্রথম সিনেমাতেই সাফল্য পাওয়ার পর দ্রুতই ঢালিউডের অন্যতম জনপ্রিয় তারকায় পরিণত হন তিনি।

বড় পর্দায় আসার আগে ছোট পর্দাতেও অভিনয় করেছেন সালমান শাহ। ‘আকাশ ছোঁয়া’, ‘দোয়েল’, ‘সব পাখি ঘরে ফেরে’, ‘সৈকতে সারস’, ‘নয়ন’ ও ‘স্বপ্নের পৃথিবী’সহ বেশ কয়েকটি নাটকে কাজ করেছেন তিনি। বিজ্ঞাপনেও ছিল তার উপস্থিতি।

মাত্র তিন বছরের চলচ্চিত্রজীবনে সালমান শাহ অভিনয় করেন ২৭টি সিনেমায়। এর মধ্যে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘তুমি আমার’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘জীবন সংসার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘সুজন সখী’, ‘তোমাকে চাই’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’সহ বেশ কয়েকটি সিনেমা দর্শকের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।

সালমান শাহর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সিনেমায় জুটি বেঁধেছেন শাবনূর। তারা একসঙ্গে ১৪টি সিনেমায় অভিনয় করেন। তাদের পর্দার রসায়ন এখনো ঢালিউডের জনপ্রিয় জুটিগুলোর একটি হিসেবে স্মরণ করা হয়।

‘বুকের ভেতর আগুন’ ছিল সালমান শাহ অভিনীত শেষ সিনেমা। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিজ বাসায় তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার মৃত্যু নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়াও হয়েছে।

মাত্র ২৫ বছর বয়সে চলে গেলেও সালমান শাহর জনপ্রিয়তা কমেনি। স্বল্প সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি যে স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলী ও তারকা-ইমেজ তৈরি করেছিলেন, তা কয়েক দশক পরও বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকের স্মৃতিতে অমলিন।

কালের আলো/এসএ