খুঁজুন
                               
, ,
           

নেত্রকোনা-দুর্গাপুর সড়ক

কংস নদীতে সেতুর অপেক্ষা ৫০ বছর, নৌকাই এখন একমাত্র ভরসা

নেএকোনা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ
কংস নদীতে সেতুর অপেক্ষা ৫০ বছর, নৌকাই এখন একমাত্র ভরসা

নেত্রকোনা ও দুর্গাপুরের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ ডেউটুকোন এলাকায় কংস নদীর ওপর সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘ ৫০ বছরের। কিন্তু নানা উদ্যোগ ও আশ্বাসের পরও এখনো বাস্তবায়ন হয়নি কাঙ্ক্ষিত সেতু। ফলে ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে জরুরি রোগী পরিবহন—সব ক্ষেত্রেই নদী পারাপারে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দুই উপজেলার হাজারো মানুষ।

নেত্রকোনা-ডেউটুকোন-বিরিশিরি-দুর্গাপুর সড়কের মাঝখানে কংস নদী অবস্থিত। নদীর দুই পাশে সড়ক যোগাযোগ সচল থাকলেও সেতু না থাকায় নৌকায় নদী পার হতে হয়। নেত্রকোনা সদর থেকে শ্যামগঞ্জ হয়ে দুর্গাপুরের দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার। অথচ রাজুর বাজার হয়ে ডেউটুকোন সেতু নির্মাণ করা গেলে দুর্গাপুরের সঙ্গে দূরত্ব কমে প্রায় ২৫ কিলোমিটারে নেমে আসবে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, স্বাধীনতার পর থেকেই কংস নদী পারাপারে দুর্ভোগ চলছে। বিশেষ করে রাতে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে নদী পারাপার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। ২০১৯ সালে নদী পারাপারের জন্য একটি ফেরি চালু করা হলেও সেটিও অল্পদিনের মধ্যে অচল হয়ে পড়ে। বর্তমানে নৌকাই পারাপারের প্রধান মাধ্যম।

স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রায় ১৭ বছর ধরে ডেউটুকোন ঘাটে স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। বিভিন্ন সময়ে মাপজোখ ও টেন্ডারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেতু নির্মাণ হয়নি। এতে দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী শুধু আশ্বাসই পেয়ে আসছেন।

নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. খারুল ইসলাম বলেন, ডেউটুকোন-বিরিশিরি-দুর্গাপুর সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা মহাসড়ক। কংস নদীর ওপর সেতুটি স্থানীয় মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এর ফিজিবিলিটি সমীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বর্তমানে ডিজাইন প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ড্রয়িং ও ডিজাইন শেষ হলে ডিপিপি তৈরি করে প্রকল্প জমা দেওয়া হবে।

সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ডেউটুকোন সেতুর প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কিছু সার্ভেও সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী ডেউটুকোন, সোমেশ্বরী ও বরুয়াকোনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডেউটুকোন সেতুটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে সেতুটি নির্মাণের প্রত্যাশা রয়েছে বলে জানান তিনি।

সেতুটি নির্মিত হলে দুর্গাপুর ও কলমাকান্দাসহ আশপাশের এলাকার মানুষের নেত্রকোনা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে। একই সঙ্গে কমবে যাতায়াতের দূরত্ব, সময় ও খরচ।

কালের আলো/এমএসআইপি 

সীমান্তে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮০০ ইয়াবা জব্দ

কক্সবাজার সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৯ অপরাহ্ণ
সীমান্তে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮০০ ইয়াবা জব্দ

কক্সবাজারের উখিয়ায় সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে উপজেলার সীমান্তবর্তী আনোয়ার প্রজেক্ট এলাকায় এ অভিযান চালায় উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) এর হ্নীলা বিওপির একটি বিশেষ টহল দল।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম।

বিজিবি জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাত ১১টার দিকে হ্নীলা বিওপির বিশেষ টহল দল সীমান্তবর্তী আনোয়ার প্রজেক্ট এলাকায় অবস্থান নেয়। রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে চারজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে বস্তা হাতে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করেন। এ সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা পালিয়ে যাওয়ার সময় বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা গুলি ছুড়লে তারা বস্তাগুলো ফেলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে তিনটি বস্তা জব্দ করেন। বস্তাগুলোর ভেতরে খাকি রঙের প্যাকেট এবং প্যাকেটের মধ্যে নীল রঙের বায়ুরোধী প্যাকেটে থাকা ইয়াবাগুলো পাওয়া যায়। গণনা করে এসব প্যাকেটে মোট ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।

উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

এল নিনোর প্রভাবে পাঁচ মাসে সাড়ে ৪ লাখ মৃত্যুর আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪১ অপরাহ্ণ
এল নিনোর প্রভাবে পাঁচ মাসে সাড়ে ৪ লাখ মৃত্যুর আশঙ্কা

চলতি বছরের শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে রেকর্ড দাবদাহ, তীব্র খরা, দাবানল ও পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

এর প্রভাবে আগামী পাঁচ মাসে বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে। খবর এপির।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।

ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের এই ভয়াবহ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অন্যান্য স্বাভাবিক বছরের তুলনায় এ বছরের জুন থেকে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত এল নিনোর প্রভাবে অতিরিক্ত ৪ লাখ ৫১ হাজার মানুষের তাপমাত্রাজনিত মৃত্যু হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে দরিদ্র দেশগুলোতে, যেসব দেশ ইতোমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে খাদ্যসংকট এবং জ্বালানির অতিরিক্ত মূল্যের সঙ্গে লড়াই করছে।

গবেষণার সহ-লেখক ও ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল গ্রিনস্টোন বলেন, ফেব্রুয়ারি নাগাদ এই এল নিনোর প্রভাব শেষ হওয়ার কথা থাকলেও গরমের ঝুঁকি ফেব্রুয়ারির পরও থাকতে পারে।

আবহাওয়ার এই চরম পরিবর্তনের প্রভাব আগামী বছরের গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত অনুভূত হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, এই গবেষণা স্পষ্ট করে, অতিরিক্ত তাপমাত্রা বিশেষ করে সেসব স্থানে বেশি বিপজ্জনক, যেগুলো আগে থেকেই তুলনামূলক উষ্ণ ও দরিদ্র।

গ্রিনস্টোন বলেন, “আপনি যদি আগে থেকেই কোনো তপ্ত অঞ্চলে থাকেন, তাহলে তাপমাত্রা আর কয়েক ডিগ্রি বাড়া মানেই তা জীবনের জন্য বহু গুণ বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠা।”

তিনি বলেন, ধনী দেশগুলোতে সাধারণত শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি), নির্ভরযোগ্য পানি সরবরাহ ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বেশি থাকে।

গবেষণায় বিশ্বজুড়ে ২৪ হাজারের বেশি অঞ্চলের স্থানীয় তাপমাত্রার প্রাক্কলন এবং তা মানুষের মৃত্যুতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেই তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষকরা গত তিন দশকের গড় তাপমাত্রার মৃত্যুর হারের সঙ্গে চলতি ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত পুরো এল নিনো সময়ের সম্ভাব্য মৃত্যুর হারের তুলনা করে এই অতিরিক্ত প্রাণহানির হিসাব বের করেছেন।

গ্রিনস্টোন ও তার সহকর্মীদের গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, জলবায়ুর এই অতিরিক্ত গরমের সবচেয়ে বড় ধকল যাবে গ্লোবাল সাউথের উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির দক্ষিণ প্রান্তের শুষ্ক ‘সাহেল অঞ্চল’ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেখানে এল নিনোর কারণে সৃষ্ট গরমে অতিরিক্ত প্রায় ৬৬ হাজার ৮০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে।

এ ছাড়া দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষকরা বলেছেন, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া মিলিয়ে প্রায় ১৯ হাজার ৪০০ জন; ইন্দোনেশিয়ায় ১৯ হাজার ৩০০, ভারতে ১৫ হাজার ৮০০ এবং ব্রাজিলে ১৩ হাজার ৩০০ জন মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যু হতে পারে।

এত বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কার বিপরীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারের জন্য কিছু পদক্ষেপের কথা সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এর মধ্যে রয়েছে, দাবদাহের আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, শীতলীকরণ কেন্দ্র, বিনামূল্যে খাবার পানির বুথ স্থাপন, উন্মুক্ত স্থানে কর্মরত শ্রমিকদের সুরক্ষা, হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বয়স্ক ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা মানুষদের বাড়তি নজরদারির আওতায় আনা।

পাশাপাশি, তাপমাত্রা চরম আকার ধারণ করার আগেই যেন সরকারগুলো জরুরি অর্থ ছাড় ও সম্পদ তৈরি রাখতে পারে, সে জন্য ‘পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়নের’ আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা।

এই গবেষণার বাইরে থাকা ভারতভিত্তিক জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অভিযন্ত তিওয়ারি বলেছেন, প্রতিবেদনটি আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য নয়, বরং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ হিসেবে দেখা উচিত।

তিনি বলেন, ভারতের মতো দেশগুলোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা এক জিনিস, আর তা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা সম্পূর্ণ অন্য চ্যালেঞ্জ।

এল নিনো মূলত একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র। তবে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইতোমধ্যে উত্তপ্ত হয়ে থাকা এই পৃথিবীতে চলতি বছরের অস্বাভাবিক শক্তিশালী এল নিনো যুক্ত হয়ে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব বলেছে, এল নিনোর সময়ে বিশ্বের স্থলভাগের তাপমাত্রা সাধারণ বছরের চেয়ে প্রায় ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে, যা স্বাভাবিক বছরের তুলনায় ৪৪ শতাংশ বেশি চরম তাপদাহের দিন তৈরি করবে।

সংস্থাটি বলেছে, এ বছরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির চিত্রে বোঝা যাচ্ছে, আজ থেকে প্রায় ২০ বছর পর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পৃথিবীর স্বাভাবিক আবহাওয়া কেমন হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সে কারণেই পৃথিবী আরও উত্তপ্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে কী ঘটতে যাচ্ছে, এই এল নিনো তারই একটি আগাম বার্তা দিচ্ছে।

একই সঙ্গে নীতি-নির্ধারকদের জন্য এটি একটি সুযোগ, “ঠিক কোন কোন জায়গায় এখনই জরুরি পদক্ষেপ নিয়ে হাজার হাজার মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব, তা চিহ্নিত করা।”

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

টহল-অভিযানেও বেপরোয়া ছিনতাই,  রাজধানীতে সক্রিয় সহস্রাধিক

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৬ অপরাহ্ণ
টহল-অভিযানেও বেপরোয়া ছিনতাই,  রাজধানীতে সক্রিয় সহস্রাধিক

সন্ধ্যা নামার পর রাজধানীর ব্যস্ত সড়কগুলোতেই যেন বদলে যায় অপরাধের মানচিত্র। আলো-আঁধারির সুযোগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড়, নির্জন সড়ক কিংবা ব্যস্ত এলাকার আশপাশে ওত পেতে থাকে ছিনতাইকারীরা। সুযোগ পেলেই মোটরসাইকেল কিংবা প্রাইভেট কারে এসে পথচারীকে টার্গেট করে মুহূর্তেই কেড়ে নেয় মোবাইল ফোন, টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী। বাধা এলেই ব্যবহার করছে চাপাতি, ছুরি, ক্ষুর, ব্লেড কিংবা আগ্নেয়াস্ত্র। সামান্য একটি ছিনতাই তাই পরিণত হচ্ছে প্রাণঘাতী হামলায়।

  • সন্ধ্যা নামলেই আতঙ্কের ছায়ায় ছিনতাইকারীদের দাপট 
  • মোবাইল-টাকার সঙ্গে যাচ্ছে প্রাণও
  • সাত মাসে সারা দেশে ছিনতাই-দস্যুতা ও ডাকাতির ১ হাজার ২৮৬ মামলা

সংখ্যায়ও স্পষ্ট উদ্বেগ

পুলিশ সদর দপ্তরের মাসিক অপরাধ পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে সারা দেশে ছিনতাই বা দস্যুতা ও ডাকাতির ঘটনায় ১ হাজার ২৮৬টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ছিনতাই বা দস্যুতার মামলা ১ হাজার ৬৮টি এবং ডাকাতির মামলা ৩১৮টি।রাজধানীর চিত্রও স্বস্তিদায়ক নয়। ডিএমপি সদর দপ্তরের হিসাবে, একই সময়ে ঢাকার বিভিন্ন থানায় ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনায় মামলা হয়েছে ২০০টি। এর মধ্যে ডাকাতির মামলা ২২টি এবং ছিনতাই বা দস্যুতার মামলা ১৭৮টি। দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যানেও ছিনতাইয়ের ধারাবাহিক উপস্থিতি দেখা যায়। ২০২৩ সাল থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত তিন বছর সাত মাসে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ছিনতাই ও দস্যুতার অভিযোগে ১ হাজার ৭৪৩টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালে ৫২৩টি মামলা হয়ে সংখ্যাটি সর্বোচ্চ ছিল। ২০২৪ সালে মামলা হয় ৩৯৫টি।

রাজধানীতে সহস্রাধিক সক্রিয়

পুলিশের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর আটটি ক্রাইম জোনেই সক্রিয় ছিনতাইকারীর উপস্থিতি রয়েছে। মিরপুর ও তেজগাঁও বিভাগে পাঁচ শতাধিক, মতিঝিল ও ওয়ারী বিভাগে ৩১৩ জন, রমনা ও লালবাগ বিভাগে ২৮৭ জন এবং উত্তরা ও গুলশান বিভাগে ৪৭৩ জন ছিনতাইকারী সক্রিয় রয়েছে বলে পুলিশের কাছে তথ্য আছে। সব মিলিয়ে রাজধানীতে এক হাজারের বেশি ছিনতাইকারী সক্রিয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এদের বড় একটি অংশ মাদকাসক্ত। মাদকের অর্থ জোগাড়, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা—সব মিলিয়ে ছিনতাইয়ের ধরনও হয়ে উঠছে আগের চেয়ে বেশি সহিংস।

ছিনতাই থেকে হত্যাকাণ্ড

সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করেছে। গত ২৯ আগস্ট ভোরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা-সংলগ্ন এলাকায় রিকশায় থাকা শিক্ষিকা রনজিলা পারভিনকে মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারীরা হ্যাঁচকা টান দিলে তিনি রিকশা থেকে পড়ে নিহত হন। একই দিন পুরান ঢাকার কদমতলীতে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন জনি (৩৫)। ৯ সেপ্টেম্বর পল্লবীর এ ব্লক এলাকায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন সজীব নামে এক ব্যক্তি। এর আগে ২৬ জুলাই মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজারে ছিনতাইকারীদের হামলায় প্রাণ হারান ফজলে রাব্বি নামের এক যুবক। অর্থাৎ ছিনতাই এখন আর কেবল অর্থ বা মালামাল হারানোর ঘটনা নয়; প্রতিরোধ কিংবা সামান্য বাধাও অনেক ক্ষেত্রে ডেকে আনছে প্রাণঘাতী পরিণতি।

বড় অঙ্কের টাকাও নিরাপদ নয়

ছিনতাইকারীদের লক্ষ্য শুধু পথচারী নয়, বড় অঙ্কের অর্থ বহনকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানও। সম্প্রতি উত্তরা বিমানবন্দর সড়কের ক্রাউন প্লাজার সামনে ডিএল পেট্রল পাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা লুট করে দুর্বৃত্তরা। পালানোর সময় পাম্পের সহকারী ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আল আমিনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়।মতিঝিলেও এক ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে গুলি করে বৈদেশিক মুদ্রাসহ ১৭ হাজার ডলার ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত ১ মে রাতে মালিবাগ রেলগেটের ইবনে সিনা হাসপাতালের সামনে তিন পোশাকশ্রমিক—করিমন, নবী ও রিফাত—ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন।

বাড়ছে টহল, কাটছে না আতঙ্ক

ছিনতাই নিয়ন্ত্রণে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ডিএমপি। আটটি ক্রাইম জোনের ওসিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন ডিএমপি কমিশনার। অপরাধপ্রবণ এলাকায় টহল বাড়ানোর পাশাপাশি সিটিটিসি, ডিবি ও ক্রাইম বিভাগের সমন্বয়ে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি ও অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।

ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলামও বলেছেন, ডাকাতি-ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা পুলিশ তৎপর রয়েছে।তবে মাঠের বাস্তবতা বলছে, অভিযান ও টহলের পাশাপাশি ছিনতাইকারীদের পুনরায় অপরাধে ফিরে আসা ঠেকানোও বড় চ্যালেঞ্জ। মাদক, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এবং দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ—এসব কারণ চিহ্নিত করে সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা না নিলে শুধু অভিযান দিয়ে পরিস্থিতি কতটা বদলানো যাবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

রাজধানীবাসীর কাছে তাই সন্ধ্যার পরের শহর ক্রমেই হয়ে উঠছে অনিশ্চয়তার জায়গা। রাস্তা ব্যস্ত থাকলেও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা মিলছে না—আর সেই ফাঁকেই ছিনতাইকারীরা খুঁজে নিচ্ছে তাদের পরবর্তী ‘শিকার’।

কালের আলো/এসআর/এএএন