খুঁজুন
                               
, ,
           

ব্রিটিশ বিমানঘাঁটির কাছে নিরাপত্তা জোরদার, গ্রেপ্তার ৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৩ অপরাহ্ণ
ব্রিটিশ বিমানঘাঁটির কাছে নিরাপত্তা জোরদার, গ্রেপ্তার ৫

যুক্তরাজ্যের গ্লস্টারশায়ারে আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন ড্রোন প্রতিরোধী সরঞ্জাম, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটির কাছে ‘বড় ধরনের ঘটনা’ ঘোষণার পর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্লস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির কাছে তিনটি সন্দেহজনক যানবাহন ঘিরে তল্লাশি চালাচ্ছে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল। পরিস্থিতির কারণে আশপাশের ৮৫টি পরিবারের সদস্যকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

কাউন্টার টেররিজম পুলিশ তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রথমে বিস্ফোরক-সংক্রান্ত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও পরে তাঁদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পাঁচজনই এখন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

মধ্যরাতে সন্দেহজনক তিন গাড়ি

যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সময় রোববার রাত ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে পুলিশ খবর পায়, তিনটি সন্দেহজনক যানবাহন আরএএফ ফেয়ারফোর্ডের দিকে যাচ্ছে। খবর পাওয়ার পর সশস্ত্র পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং বিমানঘাঁটির কাছের উইলফোর্ড এলাকায় পাঁচজনকে আটক করেন।

পরে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল পাঠানো হয়। তিনটি সন্দেহজনক ভ্যান পরীক্ষা করতে বিশেষায়িত রোবটও ব্যবহার করা হয়েছে। যানবাহনগুলোর চারপাশে প্রায় ৪০০ মিটার নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করা হয়।

কাউন্টার টেররিজম পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কী ঘটেছিল এবং আটক ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির কাছে সড়কে নিরাপত্তা তল্লাশি চালাচ্ছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা, গ্লস্টারশায়ার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: রয়টার্স

৮৫ পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া

নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানঘাঁটির কাছের উইলফোর্ড এলাকার ৮৫টি পরিবারকে তাদের বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তাঁদের স্থানীয় একটি অবকাশযাপনকেন্দ্রে নেওয়া হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে তদন্ত ও যানবাহন পরীক্ষা চলার কারণে বাসিন্দাদের রাতের মধ্যে বাড়িতে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়নি। যাঁরা আত্মীয় বা বন্ধুদের বাড়িতে থাকতে পারেননি, তাঁদের জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বিকল্প থাকার ব্যবস্থা করে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন জানিয়েছেন, গভীর রাতে পুলিশ তাঁদের ঘুম থেকে তুলে দ্রুত বাড়ি ছাড়তে বলে। একজন বাসিন্দা তিনটি অস্বাভাবিক ভ্যান দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়ার পরই অভিযান শুরু হয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসেছে।

বিস্ফোরক নিয়ে চলছে পরীক্ষা

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া উপকরণ ও সন্দেহজনক যানবাহনগুলো পরীক্ষা করছে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল। এগুলো আসলে বিস্ফোরক কি না এবং থাকলে সেগুলো কতটা কার্যকর হতে পারে—তা নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।

ব্রিটিশ পুলিশ এখনো প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেনি যে যানবাহনগুলোতে কার্যকর বিস্ফোরক পাওয়া গেছে কি না। তদন্তকারীরা ঘটনার সঙ্গে আটক ব্যক্তিদের সম্ভাব্য পরিকল্পনার কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, সেটিও যাচাই করছেন।

ইরানের সঙ্গে যোগসূত্র আছে কি?

ঘটনার পর সম্ভাব্য উদ্দেশ্য নিয়ে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। বিমানঘাঁটিটি সম্প্রতি ইরান-সংক্রান্ত মার্কিন সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হওয়ায় তদন্তে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো যোগসূত্রের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। তবে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এখনো এমন কোনো সম্পর্ক নিশ্চিত করেনি।

তদন্তকারীরা অন্য সম্ভাবনাও খোলা রেখেছেন। ফলে ঘটনার পেছনে কারা এবং কী উদ্দেশ্যে ছিল, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।

কেন গুরুত্বপূর্ণ আরএএফ ফেয়ারফোর্ড?

গ্লস্টারশায়ারের কটসওল্ডস এলাকায় অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন বিমানবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমান মোতায়েন ও বিভিন্ন অভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও ঘাঁটিটির ব্যবহার হয়েছে। এ কারণে নিরাপত্তার দিক থেকে বিমানঘাঁটিটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তদন্ত অব্যাহত

ব্রিটিশ কাউন্টার টেররিজম পুলিশ জানিয়েছে, পাঁচজন এখনো হেফাজতে রয়েছেন এবং তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে কর্মকর্তারা বিভিন্ন আলামত পরীক্ষা করছেন। ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকেও জনগণকে অনুমাননির্ভর মন্তব্য না করে তদন্ত শেষ হওয়ার অপেক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য, সন্দেহভাজনদের পরিচয় এবং বিমানঘাঁটির সঙ্গে সম্ভাব্য কোনো যোগসূত্র সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

কালের আলো/জেএন

ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডে নিষিদ্ধ হচ্ছে মদ-জুয়া ও বেটিংয়ের বিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ণ
ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডে নিষিদ্ধ হচ্ছে মদ-জুয়া ও বেটিংয়ের বিল

শরিয়াহসম্মত কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট সেবা চালুর লক্ষ্যে ‘ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড অপারেশনস অব ব্যাংকস’ শীর্ষক নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নীতিমালায় ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে মদ, জুয়া, নাইটক্লাবসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ খাতে লেনদেন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামি ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি বিভাগ (আইবিআরপিডি) থেকে জারি করা সার্কুলারে নীতিমালাটি অবিলম্বে কার্যকর করতে বলা হয়। দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে সার্কুলারটি পাঠানো হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, ইসলামি ব্যাংকিং সেবা দেওয়া যেকোনো তফসিলি ব্যাংক টাকায় ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করতে পারবে। তবে বৈদেশিক মুদ্রা বা ডুয়াল কারেন্সি কার্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে অনুমোদিত ডিলার হতে হবে।

ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডে নগদ উত্তোলন বা বিলম্বে পরিশোধযোগ্য দায় ‘কার্দে হাসান’ বা সুদমুক্ত ঋণ হিসেবে বিবেচিত হবে। গ্রাহককে কেবল মূল অর্থ পরিশোধ করতে হবে। ব্যাংক কার্ড ইস্যু, নেটওয়ার্ক সুবিধা, হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ও লেনদেন প্রক্রিয়াকরণের মতো নির্দিষ্ট সেবার বিপরীতে ‘উজরাহ’ বা সেবা ফি নিতে পারবে।

তবে এসব ফি বকেয়া স্থিতি, ক্রেডিট সীমা কিংবা বিলম্বের সময়ের সঙ্গে বাড়ানো যাবে না। প্রচলিত সুদের হারের সঙ্গেও কোনো ফি যুক্ত করা যাবে না।

নীতিমালায় ব্যাংকগুলোকে ফি ও চার্জ তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঋণের সঙ্গে সম্পর্কহীন কিছু ফিতে মুনাফার উপাদান থাকতে পারবে। অন্যদিকে ঋণের সঙ্গে সম্পর্কিত ফি কেবল প্রকৃত প্রত্যক্ষ ব্যয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। বকেয়া স্থিতি, বিলম্বের সময় বা ক্রেডিট সীমার ভিত্তিতে বাড়ে—এমন ফি নেওয়া যাবে না।

গ্রাহক নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে চুক্তির সময় নির্ধারিত একটি অর্থ দান হিসেবে দেওয়ার অঙ্গীকার করতে পারবেন। এ অর্থ ব্যাংকের আয় হিসেবে দেখানো যাবে না; পুরো অর্থই দাতব্য খাতে দিতে হবে।

এ ছাড়া মার্চেন্ট ক্যাটাগরি কোড (এমসিসি) ব্যবহারের মাধ্যমে অনুমোদন পর্যায়েই নিষিদ্ধ খাতের লেনদেন বন্ধ করতে হবে। নীতিমালায় মদ ও মদজাতীয় পণ্য, জুয়া ও ক্যাসিনো, বেটিং, নাইটক্লাব ও বার, তামাকজাত পণ্য, শুকরের মাংস ও অ-হালাল মাংস, অশ্লীল কনটেন্ট, ক্রিপ্টো ট্রেডিং, জ্যোতিষ ও ভাগ্য গণনার মতো খাতকে নিষিদ্ধ তালিকায় রাখা হয়েছে।

এই তালিকা অন্তত বছরে একবার পর্যালোচনা করতে হবে। কোনো ব্যতিক্রমের ক্ষেত্রে শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির (এসএসসি) আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন

তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে নতুন আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৮ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে নতুন আলোচনা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, আগামী নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে সফরের উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার পর ভারত ও বাংলাদেশ নতুন করে সফরের সময়সূচি নির্ধারণে আলোচনা করছে। আগামী অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ অথবা নভেম্বরের শুরুতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়াম নয়াদিল্লিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বিষয়ে আলোচনা আরও গতি পেতে পারে।

তবে সফরটি শেষ পর্যন্ত হবে কি না, তা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। সেটি হলো ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের জন্মদিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শুভেচ্ছা জানানো এবং মোদির দ্রুত জবাব দেওয়ার ঘটনাকে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক যোগাযোগের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে সম্ভাব্য সফরের তারিখ দ্রুত চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

এদিকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের ঢাকায় সাম্প্রতিক সফর নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর তার ঢাকায় আসার খবর প্রকাশ পেলেও ভারত বা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত বা অস্বীকার করা হয়নি।

নতুন বাংলাদেশি হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়ামের নয়াদিল্লিতে দায়িত্ব গ্রহণকেও দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

তবে তারেক রহমানের ভারত সফরের তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে নভেম্বরের সম্ভাব্য সফরটি শেষ পর্যন্ত কোন তারিখে এবং কী কর্মসূচিতে হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

তথ্যসূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর প্রাণহানি, পাশাপাশি চিতায় দাহ

পঞ্চগড় সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ
স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর প্রাণহানি, পাশাপাশি চিতায় দাহ

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে স্বামীর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্ত্রীরও মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, স্বামীর মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে তিনি রেললাইনে গিয়ে প্রাণ হারান। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ পাশাপাশি চিতায় দাহ করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের মালিগাঁও গ্রামে। মৃত দম্পতি হলেন—মালিগাঁও গ্রামের হরেন্দ্রনাথ বর্মণ (৮০) ও তার স্ত্রী নিত্যবালা বর্মণ। হরেন্দ্রনাথ স্থানীয় একটি মন্দিরের পূজারি ছিলেন। তার স্ত্রী নিত্যবালাও স্বামীর সঙ্গে নিয়মিত ধর্মীয় কাজে যুক্ত থাকতেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ৯টার দিকে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় নিজ বাড়িতে মারা যান হরেন্দ্রনাথ। স্বামীর মৃত্যুর পর নিত্যবালা গভীরভাবে শোকাহত হয়ে পড়েন। তিনি দীর্ঘ সময় স্বামীর মরদেহের পাশে বসে ছিলেন।

ভোরের দিকে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান নিত্যবালা। সকালে তাকে খুঁজে না পেয়ে স্বজনরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা মালিগাঁও এলাকায় রেললাইনের পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরিবারের ধারণা, রাজশাহী থেকে পঞ্চগড়গামী আন্তঃনগর বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে পারিবারিক শ্মশানে হরেন্দ্রনাথ ও নিত্যবালার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পাশাপাশি দুটি চিতায় সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

হরেন্দ্রনাথের ছেলে রবীন চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘বাবা দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। তার মৃত্যুর পর মা সারা রাত বাবার শিয়রে বসে কেঁদেছেন। সকালে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে রেললাইনে তার মরদেহ পাওয়া যায়।’

প্রতিবেশী যতীন চন্দ্র বর্মণ বলেন, দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে ওই দম্পতির মধ্যে গভীর ভালোবাসা ছিল। স্বামীর মৃত্যুর শোক নিত্যবালা সহ্য করতে পারেননি বলে ধারণা করছেন তারা।

আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান জানান, পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানানোর আগেই মরদেহের সৎকার সম্পন্ন করেছেন। রেললাইনে মৃত্যুর ঘটনা হওয়ায় রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি