খুঁজুন
                               
, ,
           

যুদ্ধ থামাতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ
যুদ্ধ থামাতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আলোচনা

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং পাল্টা হামলাকে কেন্দ্র করে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরুর সাত মাস পেরিয়ে গেছে। দীর্ঘ এই সংঘাতের মধ্যে একাধিকবার যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা স্থায়ী সমাধানে পৌঁছায়নি। এবার আবারও যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করেছেন।

বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে ইরান যে সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল, তার একটি সংশোধিত রূপ নিয়ে আরও আলোচনা হতে পারে। ওই প্রস্তাব অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে এর আগে জানিয়েছিলেন।

মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে পৃথক আলোচনা

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্পও নিশ্চিত করেছেন যে মার্কিন কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে আলোচনার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

অন্যদিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে থাকা ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের বিষয়ে তেহরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে দেওয়া বক্তব্যে আরাগচি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পথ পুনরায় চালুর শর্ত নিয়েও ওয়াশিংটনের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।

আরাগচির ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরা যদি সত্যিই কোনো চুক্তি বা শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজে থাকেন, তাহলে ইরান সেই সুযোগ ইতিমধ্যে তৈরি করেছে।

ইরানের প্রস্তাবে যেসব শর্ত

ইরানের প্রস্তাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরান ও লেবাননে সব ধরনের সংঘাতের অবসান, জব্দ করা ইরানের শত শত কোটি ডলারের সম্পদ অবমুক্ত করা এবং ইরানের জ্বালানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

এ ছাড়া ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবিও রয়েছে।

তেহরানের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব শর্ত পূরণ করা হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয়। ফলে প্রণালিটি বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা

হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমঝোতার পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ বা ধ্বংস করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যে অবস্থান রয়েছে, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আবার আলোচনা শুরু হতে পারে।

তবে এসব বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

এর আগে দুবার যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে বর্তমান যুদ্ধের সূত্রপাত। এরপর কয়েক মাস ধরে পাল্টাপাল্টি হামলা চলেছে। এতে হাজারো মানুষের প্রাণহানি হয়েছে।

সংঘাতের প্রভাব ইরান ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বাইরে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে এবং বিশ্ববাণিজ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুবার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল—একবার এপ্রিলে এবং আরেকবার জুনে। তবে উভয় উদ্যোগই শেষ পর্যন্ত টেকসই হয়নি।

ট্রাম্পের ভিন্ন অবস্থান

ইরানের সর্বশেষ সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কথা গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, তেহরান বর্তমানে গুরুতর অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে রয়েছে এবং সে কারণেই দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চাইছে।

তবে এর এক দিন পর রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে ট্রাম্প বলেন, চলতি সপ্তাহে মার্কিন আলোচকেরা ইরানের সঙ্গে আরও আলোচনায় বসতে পারেন বলে তিনি আশা করছেন।

ফলে একদিকে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কথা জানালেও অন্যদিকে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় তেহরান

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অবশ্য বলেছেন, ট্রাম্প প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন—এমন কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা মধ্যস্থতাকারীরা এখনো তেহরানকে দেয়নি। তাই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার আগে ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে ইরান।

আরাগচি বলেন, ইরানের শর্তগুলো স্পষ্ট এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার যেকোনো পদক্ষেপ ওই শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করবে। তাঁর মতে, আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমাধানে পৌঁছানোই বর্তমান অচলাবস্থা কাটানোর একমাত্র পথ।

তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান ‘ভয়ংকর যুদ্ধের’ জন্যও প্রস্তুত রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য পরিবহন করা হয়।

ইরান বলছে, তাদের শর্ত পূরণ না হলে প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের মতো বিষয়গুলোতে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।

এ অবস্থায় মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নতুন করে শুরু হওয়া আলোচনা যুদ্ধবিরতির দিকে কতটা এগোয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে এখনও বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।

কালের আলো/এসএ

নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের জন্য নতুন সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও এর অন্তর্নিহিত ঝুঁকি এখনো উল্লেখযোগ্য থাকায় নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। এতে নীতি সুদহার ৯ দশমিক ৫০ শতাংশে বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

ডেপুটি গভর্নর জানান, গত ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত মুদ্রানীতি কমিটির ১৪তম সভায় সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল্যায়নে, সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি কমলেও দীর্ঘমেয়াদে তা নিয়ন্ত্রণে আসার যথেষ্ট প্রমাণ এখনো নেই। বৈশ্বিক জ্বালানির দাম, হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি, দেশে জ্বালানির নিয়ন্ত্রিত মূল্যের সমন্বয় এবং নতুন বেতন কাঠামোর সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।

মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে, আগেভাগে নীতি শিথিল করা হলে মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশা বাড়তে পারে। এতে মূল্যস্ফীতিকে লক্ষ্যমাত্রায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে চাপের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়েছে। একই অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে। ওই সময়ে শিল্প উৎপাদন ০ দশমিক ২৮ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে।

অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে বিভিন্ন খাতে সহায়তার উদ্যোগের কথাও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকাসহ মোট ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ এবং কৃষি, সিএমএসএমই ও রপ্তানি বহুমুখীকরণে পুনঃঅর্থায়ন প্রকল্পের কথা মুদ্রানীতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা ও বিতরণ এখনো দুর্বল। ২০২৬ সালের আগস্টে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। বিনিয়োগে ধীরগতি, ঋণগ্রহীতাদের উচ্চ ঝুঁকি ও ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জুনে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের অনুপাত ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশে পৌঁছানোর তথ্যও দেওয়া হয়েছে।

বৈদেশিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যালেন্স অব পেমেন্টসের উদ্বৃত্ত ছিল ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ১৮ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়েছে।

আগামী দিনের অর্থনীতির ঝুঁকি হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, হরমুজ প্রণালীর সম্ভাব্য বিঘ্ন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও সারের উচ্চমূল্য, কঠোর বৈশ্বিক মুদ্রানীতি, অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, রাজস্ব খাতের চাপ এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতার কথা উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া ব্যাহত না করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করাই মুদ্রানীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ। এ জন্য বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

বাংলাদেশে রোবট ফোন আনল অনার

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১২ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে রোবট ফোন আনল অনার

বাংলাদেশের বাজারে স্মার্টফোনের পাশাপাশি ল্যাপটপ, টেলিভিশন, ট্যাবলেট, পরিধানযোগ্য ডিভাইসসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য নিয়ে বড় পরিসরে স্মার্ট ডিভাইস ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে অনার বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো নিজেদের তৈরি রোবট ফোন প্রদর্শন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর ইউনাইটেড কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ‘অনার কানেক্ট’ অনুষ্ঠানে এসব পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে নতুন লোগোও উন্মোচন করা হয়।

স্মার্টফোনের পাশাপাশি আসছে টিভি-ল্যাপটপ

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এতদিন বাংলাদেশে মূলত স্মার্টফোনের জন্য পরিচিত থাকলেও এখন পণ্যের পরিধি বাড়াতে যাচ্ছে অনার। এর অংশ হিসেবে দেশের বাজারে ল্যাপটপ ও টেলিভিশন নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছে।

অনারের টেলিভিশন সিরিজে ৩২ থেকে ১০০ ইঞ্চি পর্যন্ত বিভিন্ন আকারের পর্দার মডেল থাকবে। এর মাধ্যমে স্মার্টফোনের পাশাপাশি ঘর ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের অন্যান্য প্রযুক্তিপণ্যের বাজারেও নিজেদের উপস্থিতি বাড়াতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

অনারের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জিটিএম পরিচালক লিও পেই বলেন, বাংলাদেশে অনারের যাত্রা স্মার্টফোন ব্র্যান্ড হিসেবে শুরু হলেও এখন ফোন তাদের বৃহত্তর স্মার্ট ডিভাইস ইকোসিস্টেমের একটি অংশ। ফোন, ট্যাবলেট, পরিধানযোগ্য ডিভাইস, ল্যাপটপ ও টেলিভিশনকে পারস্পরিকভাবে সংযুক্ত করে ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করার উপযোগী করে তৈরি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে প্রযুক্তিপণ্য

বাংলাদেশে অনারের অংশীদার স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, অনার বর্তমানে বাংলাদেশে প্রযুক্তিপণ্য তৈরি করছে। এসব পণ্যের মান বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কারখানায় তৈরি পণ্যের সমমানের বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি জানান, ধাপে ধাপে অনারের আরও বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য বাংলাদেশের বাজারে নিয়ে আসা হবে।

প্রথমবার প্রদর্শিত রোবট ফোন

‘অনার কানেক্ট’ অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অনারের তৈরি রোবট ফোন। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো প্রদর্শিত এই ডিভাইসটি নিয়ে প্রযুক্তিপ্রেমীদের পাশাপাশি আগ্রহ দেখান নির্মাতা ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও।

চলচ্চিত্র পরিচালক রায়হান রাফী রোবট ফোনটি হাতে নিয়ে বলেন, ডিভাইসটি দিয়ে পরীক্ষামূলক স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাঁর মতে, প্রচলিত ফিল্ম ক্যামেরা আকারে বড় হওয়ায় অনেক জায়গায় শুটিং করা কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু রোবট ফোনটি বিভিন্ন জায়গায় স্থাপন করে তুলনামূলক কঠিন পরিস্থিতিতেও শুটিং করা সম্ভব হতে পারে।

আসছে নতুন ফ্ল্যাগশিপ ফোন

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিশ্ববাজারে ২৮ সেপ্টেম্বর উন্মোচিত অনারের ম্যাজিক৯ প্রো ম্যাক্স মডেলটি শিগগিরই বাংলাদেশের বাজারে আনা হবে।

এর পাশাপাশি অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয় অনারের ম্যাজিক ভি৬ ভাঁজযোগ্য ফোন, বিভিন্ন ট্যাবলেট, ইয়ারবাড, হেডফোন, স্মার্টঘড়ি, স্মার্ট গ্লাস, ল্যাপটপ ও টেলিভিশন।

অনার বাংলাদেশের ব্যবসাপ্রধান আবদুল্লাহ আল মামুন এবং পণ্য ও বিপণনপ্রধান সৈয়দ মো. বদরুল আরেফিনও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে শুধু স্মার্টফোন বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য নিয়ে একটি সমন্বিত স্মার্ট ডিভাইস ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে অনার বাংলাদেশ।

কালের আলো/এসএ

হাসপাতালে দালাল ও ওষুধ প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর স্বাস্থ্য বিভাগ

রাজশাহী সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১১ অপরাহ্ণ
হাসপাতালে দালাল ও ওষুধ প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর স্বাস্থ্য বিভাগ

রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলা সদর হাসপাতাল ও ৬৭টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে দালালমুক্ত এবং ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্যমুক্ত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. মো. নুরুল ইসলামের নির্দেশনায় মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমটি তদারকি করছেন রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. হাবিবুর রহমান।

বিভাগীয় পরিচালক প্রতি মাসে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সরেজমিনে পরিদর্শন করছেন। পরিদর্শনকালে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং চিকিৎসকদের হাসপাতাল চত্বরে দালালদের প্রবেশ এবং কর্মঘণ্টায় ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অবস্থান ঠেকাতে কঠোর নির্দেশনা দিচ্ছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়মিত তদারকি ও অভিযানের ফলে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে রাজশাহী জেলার পবা, দুর্গাপুর, মোহনপুর, চারঘাট, পুঠিয়া, বাঘা, গোদাগাড়ী, তানোর ও বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গোদাগাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসানুল জাহিদ বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ও বিভাগীয় পরিচালকের কঠোর নির্দেশনার পর হাসপাতাল চত্বরকে দালালমুক্ত করা হয়েছে।

নাটোর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, নির্দেশনা অনুযায়ী জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালবিরোধী অভিযান চালানো হচ্ছে। নাটোর সদর হাসপাতালে অভিযানের সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এক দালালকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কাজ চলছে। রাজশাহী বিভাগে বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. হাবিবুর রহমান এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে কাজ করছেন।

রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সরকারি হাসপাতাল গরিব মানুষের ভরসার জায়গা। সেখানে দালাল বা ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের কোনো স্থান নেই। রাজশাহী ও নাটোর জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অভিযান চালিয়ে দালালদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। চিকিৎসাসেবার মান বাড়াতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি