খুঁজুন
                               
, ,
           

ওলিসের জাদুতে মাঠে ফিরলেন জিদান

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৩ অপরাহ্ণ
ওলিসের জাদুতে মাঠে ফিরলেন জিদান

অসাধারণ খেলোয়াড়দের একটি বিশেষ ক্ষমতা থাকে—তাঁদের নৈপুণ্য শুধু মাঠে সীমাবদ্ধ থাকে না, তা ছড়িয়ে পড়ে গ্যালারি ও ডাগআউটেও। দর্শকদের আবেগে ভাসিয়ে দেয় তাঁদের খেলা। ব্রাসেলসে গতকাল রাতেও তেমনই এক দৃশ্যের জন্ম হলো। ফরাসি মিডফিল্ডার মাইকেল ওলিসের দুর্দান্ত গোলে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন ফ্রান্সের কোচ জিনেদিন জিদান যে, ডাগআউট ছেড়ে টাচলাইনের পাশে দৌড়াতে শুরু করেন তিনি।

মাঠে ছিলেন ওলিসে, ডাগআউটে জিদান। কিন্তু ৮৮ মিনিটে ওলিসের করা অসাধারণ গোলের মুহূর্তে সেই দূরত্ব যেন আর থাকল না। গোলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে জিদানও হয়ে উঠেছিলেন সাধারণ এক ফুটবল দর্শক।

ওলিসের দৌড়ে দৌড়ালেন জিদান

বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচটি যখন গোলশূন্য ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই বদলি হিসেবে নামা ওলিসে বদলে দেন পুরো ম্যাচের চিত্র। নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে মাঝমাঠ পেরিয়ে বেলজিয়ামের রক্ষণে ঢুকে পড়েন তিনি। পথে এক ডিফেন্ডারকে অসাধারণ ড্রিবলিংয়ে পরাস্ত করে বিপৎসীমায় পৌঁছে যান।

ওলিসের সেই মুভ দেখেই যেন আর নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি জিদান। টাচলাইন ধরে তাঁর সঙ্গে সঙ্গে দৌড়াতে শুরু করেন ফ্রান্সের কোচ। ওলিসে গোল করার পরও থামেননি জিদান। উত্তেজনার মুহূর্তে সামনে থাকা একটি বলে কিকও মেরে বসেন তিনি।

ফুটবল যে কতটা আবেগের খেলা, সেই দৃশ্যই যেন তার প্রমাণ হয়ে ওঠে।

‘ওর পেছন পেছন গেলাম’

ম্যাচ শেষে নিজের এমন উদযাপনের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন জিদান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফরাসি কিংবদন্তি জানান, ওলিসের ড্রিবলিং দেখে তিনি মুহূর্তটির অংশ হয়ে যেতে চেয়েছিলেন।

জিদানের ব্যাখ্যায়, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন ওলিসে ড্রিবলিং শুরু করেছেন এবং দুর্দান্ত একটি মুভ তৈরি করেছেন। তাই নিজের অজান্তেই তাঁর পেছন পেছন দৌড়াতে শুরু করেন। এরপর সামনে একটি বল দেখতে পেয়ে আনন্দের বশে সেটিতে কিক মেরে দেন।

জিদানের কাছে ঘটনাটি হয়তো কিছুটা হাস্যকর মনে হতে পারে, কিন্তু সেই মুহূর্তে আবেগের কাছে যুক্তির কোনো জায়গা ছিল না।

ওলিসেকে ‘নিখাদ প্রতিভা’ বললেন জিদান

শুধু গোল বা উদযাপন নয়, পুরো ম্যাচজুড়েই ওলিসের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ জিদান। ফরাসি মিডফিল্ডারকে প্রশংসায় ভাসিয়ে তিনি বলেন, ওলিসে নিখাদ প্রতিভা। সে ফুটবল খেলতে ভালোবাসে এবং তার খেলায় সেই আবেগ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।

জিদানের মতে, ওলিসে ফুটবলকে নিজের অনুভূতির সঙ্গে ধারণ করে খেলেন। এমন একজন খেলোয়াড়ের পাশে থাকতে পারাকে নিজের জন্যও আনন্দের বলে মনে করেন ফ্রান্সের কোচ।

এমবাপ্পে না থাকলেও জয় পেল ফ্রান্স

চোটের কারণে কিলিয়ান এমবাপ্পে এই ম্যাচে ছিলেন না। তাঁর অনুপস্থিতিতে ফ্রান্সের একাদশেও বড় পরিবর্তন আনতে হয় জিদানকে। আগের ম্যাচের তুলনায় নয়টি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে ফরাসিরা।

তবু শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিতে কোনো গোলই যথেষ্ট ছিল—আর সেই গোল এসেছে ওলিসের পা থেকে। ৮৮ মিনিটে তাঁর অসাধারণ ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে বেলজিয়ামকে ১–০ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স।

এই জয়ের ফলে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে নিজের প্রথম দুই ম্যাচেই জয় পেলেন জিদান। ১৯৯৪ সালে আইমে জ্যাকের পর ফ্রান্সের চতুর্থ কোচ হিসেবে দায়িত্বের প্রথম দুই ম্যাচে জয়ের কীর্তি গড়লেন তিনি।

জিদানের প্রথম দুই ম্যাচেই ওলিসের সরাসরি অবদান

জিদানের অধীনে ফ্রান্সের প্রথম দুই ম্যাচেই ওলিসের রয়েছে সরাসরি অবদান। আগের ম্যাচে তুরস্কের বিপক্ষে ১–০ গোলে জয়ের ম্যাচে গোলটির উৎস ছিলেন বায়ার্ন মিউনিখের এই মিডফিল্ডার। আর বেলজিয়ামের বিপক্ষে এবার নিজেই করলেন জয়সূচক গোল।

অর্থাৎ জিদানের অধীনে প্রথম দুই ম্যাচে ফ্রান্সের দুটি গোলেই সরাসরি অবদান রয়েছে ওলিসের।

ফ্রান্সের কোনো কোচের অধীনে দায়িত্বের প্রথম দুই গোলেই এমন সরাসরি অবদান সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল এরিক ক্যান্টোনার ক্ষেত্রে। ১৯৯২ সালে জেরার্ড হুলিয়ের কোচ হওয়ার পর তাঁর অধীনে ফ্রান্সের প্রথম দুই গোলেই একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করেছিলেন ক্যান্টোনা।

জাতীয় দলের জার্সিতে দুর্দান্ত ওলিসে

ফ্রান্সের জার্সিতে ওলিসের দুর্দান্ত ফর্ম অবশ্য নতুন নয়। ২০২৪ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত ২৭ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এর মধ্যে গোল করেছেন ৮টি এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ১০টি।

অর্থাৎ জাতীয় দলের হয়ে ২৭ ম্যাচে ১৮টি গোলে সরাসরি অবদান রয়েছে তাঁর।

ফ্রান্সের হয়ে প্রথম ২৭ ম্যাচে এমন পরিসংখ্যান খুব কম খেলোয়াড়েরই ছিল। সর্বশেষ কাছাকাছি উদাহরণ খুঁজতে ফিরে যেতে হয় ১৯৯৭ সালে। ১৯৯৩ সালে অভিষেকের পর প্রথম ২৭ ম্যাচে ইউরি দিয়োরকায়েফের গোল ছিল ১৪টি, সঙ্গে ছিল ৮টি অ্যাসিস্ট।

জিদানের সঙ্গে যেন পুরোনো এক মিল

দিয়োরকায়েফের সঙ্গে ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জিতেছিলেন জিদান। তবে ওলিসের খেলার ধরন ও পরিসংখ্যান তাঁকে আলাদা করে তুলছে। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণে উঠে যাওয়া, ড্রিবলিং, গতি এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে দেওয়ার ক্ষমতায় ওলিসে ইতিমধ্যেই নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন।

জিদানের চোখেও সেটিই ধরা পড়েছে। তাঁর মতে, ওলিসে এমন একজন খেলোয়াড়, যিনি শুধু ফলের জন্য খেলেন না; নিজের খেলার মাধ্যমে দর্শকদের আনন্দ দিতে চান।

এই কথার মধ্যে যেন জিদানের নিজের ফুটবল-দর্শনেরও প্রতিফলন রয়েছে। একসময় তিনিও মাঝমাঠ থেকে ড্রিবলিং, নিয়ন্ত্রিত গতি আর অসাধারণ ফুটবলশৈলী দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। মাঠে জিদানের খেলা দেখে যেমন দর্শকেরা আবেগে ভেসেছেন, এবার সেই জিদানই ডাগআউটে দাঁড়িয়ে ওলিসের খেলায় সেই আবেগের স্বাদ পেলেন।

ওলিসের একটি অসাধারণ গোল তাই শুধু ফ্রান্সকে জয় এনে দেয়নি, কয়েক মুহূর্তের জন্য কিংবদন্তি জিদানকেও ফিরিয়ে নিয়েছিল তাঁর নিজের ফুটবল-দিনগুলোতে। ফুটবল যে সত্যিই সংক্রামক এক আবেগ—ব্রাসেলসের সেই রাত যেন তারই আরেকটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল।

কালের আলো/এসএ

স্ত্রীর মৃত্যুর পরই হাসপাতালে মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
স্ত্রীর মৃত্যুর পরই হাসপাতালে মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী

স্ত্রীর মৃত্যুর এক দিন পরই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউট (আইজেএন) হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তার কার্যালয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

১০১ বছর বয়সী মাহাথিরকে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

‘গত দুই দিন তার জন্য বেশ কঠিন ছিল’

মাহাথিরের দীর্ঘদিনের সহকারী সুফি ইউসুফ এএফপিকে জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের কাছ থেকে তার শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।

মাহাথিরের ছেলে মোখজানি বুধবার মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামাকে বলেন, পর্যবেক্ষণের জন্য তার বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গত দুই দিন মাহাথিরের জন্য বেশ কঠিন ছিল। তবে বর্তমানে তিনি ভালো আছেন এবং উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।

এক দিন আগেই মারা যান স্ত্রী

মাহাথির হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঠিক এক দিন আগে মারা যান তার স্ত্রী সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী। ১০০ বছর বয়সী সিতি হাসমাহও কুয়ালালামপুরের ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তারা মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণভাবে পরিচিত ছিলেন। স্ত্রীর মৃত্যুর পর মাহাথিরকে নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ছোট ভিডিওতে পাহাংয়ের সুলতান আবদুল্লাহ আহমদ শাহের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় মাহাথিরকে। সেখানে স্ত্রীর মৃত্যুতে নিজের কষ্ট ও অবিশ্বাসের কথা জানান তিনি।

মাহাথির বলেন, ‘আজ তাকে হারাব, তা আমি ভাবিনি।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিকবার হাসপাতালে

বয়সজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকবার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে মাহাথিরকে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাড়িতে পড়ে গিয়ে তার ডান নিতম্বের হাড় ভেঙে যায়। এরপর প্রায় তিন সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। বয়সের কারণে চিকিৎসকেরা তার অস্ত্রোপচার না করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর থেকে হুইলচেয়ার ব্যবহার করছেন মাহাথির।

জুলাইয়ে নিজের ১০০তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এর আগে ২০২৪ সালের অক্টোবরে ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে প্রায় দুই সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগের সমস্যাতেও ভুগছেন মাহাথির। ১৯৮৯ ও ২০০৭ সালে তার দুটি বাইপাস অস্ত্রোপচার হয়েছিল।

মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে দীর্ঘ প্রভাব

মাহাথির মোহাম্মদ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা। তিনি ১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত প্রথম দফায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। দীর্ঘ এই সময়ে দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে।

তার সরকারের সময়ে কৃষিনির্ভর অর্থনীতি থেকে মালয়েশিয়া শিল্প ও উৎপাদন খাতে আরও এগিয়ে যায়। দেশজুড়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প, সড়ক নির্মাণ ও শিল্পায়নের বিস্তার ঘটে।

১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে এশিয়ার আর্থিক সংকটের সময় মাহাথিরের অর্থনৈতিক নীতিও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ গ্রহণের পরিবর্তে তিনি রিঙ্গিতের বিনিময় হার মার্কিন ডলারের সঙ্গে নির্দিষ্ট করে দেন।

তার সমর্থকদের মতে, এই নীতি মালয়েশিয়াকে আর্থিক সংকট কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করেছিল। তবে তার শাসনামল নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে।

বিতর্কও ছিল দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে

মাহাথিরের বিরুদ্ধে বিরোধী রাজনীতিক, কর্মী ও সমালোচকদের দমনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ১৯৮৭ সালের ‘অপারেশন লালাং’-এর সময় শতাধিক বিরোধী রাজনীতিক, কর্মী ও সাংবাদিককে আটক করা হয়েছিল। সমালোচকেরা ওই অভিযানকে সরকারের বিরোধীদের দমনের পদক্ষেপ হিসেবে দেখেন।

তবে এসব বিতর্কের পাশাপাশি মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক রূপান্তর ও দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দেশটির আধুনিক ইতিহাসে মাহাথির একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম।

স্ত্রী সিতি হাসমাহর মৃত্যুর পর শোকের মধ্যেই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় ১০১ বছর বয়সী এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কালের আলো/এসএ

দুর্গাপূজায় মণ্ডপে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি, থাকবে মনিটরিং টিম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
দুর্গাপূজায় মণ্ডপে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি, থাকবে মনিটরিং টিম

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে দেশজুড়ে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং ব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে মণ্ডপের স্বেচ্ছাসেবকদের তথ্য সংগ্রহ, যাচাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচয়পত্র দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে আয়োজিত সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দুর্গাপূজা সামনে রেখে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়েছে। সভায় উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বও বণ্টন করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এবার পূজামণ্ডপের সরকারি বরাদ্দ বাড়িয়ে পাঁচ কোটি টাকা করা হয়েছে। গত বছর দেশে প্রায় ৩২ হাজার মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হলেও এবার মণ্ডপের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩৩ হাজার ৮০০ হয়েছে।

নিরাপত্তার অংশ হিসেবে জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (এনটিএমসি) একটি অ্যাপ পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা পর্যায়ে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কোনো অঘটন ঘটলে দ্রুত তথ্য পেয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যেই অ্যাপটি ব্যবহার করা হবে।

পুলিশ সদর দপ্তরে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং টিমের পাশাপাশি জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়েও মনিটরিং ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিটি মণ্ডপের স্বেচ্ছাসেবকদের নাম ও ফোন নম্বর সংশ্লিষ্ট থানায় দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনে তাদের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে।

বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়েও প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মণ্ডপগুলোতে ২৪ ঘণ্টা জেনারেটর প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। জেনারেটরেও সমস্যা হলে চার্জার লাইটের ব্যবস্থা রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি এবার তিন দিন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর সঙ্গে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় কার্যত পাঁচ দিনের ছুটি হবে।

এখন পর্যন্ত কোনো পূজামণ্ডপকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কোথাও ঝুঁকির তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পূজার প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো খবর সত্য হলে পুলিশ প্রধান বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নেবেন।

চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, অপরাধীদের তালিকা পুলিশের কাছে নিয়মিত থাকে এবং তা হালনাগাদ করা হয়। রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

রাজধানীর মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তদন্ত করতে বলা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট, রাজউক বা সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে পুলিশের সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল বলে মনে হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের উদ্বেগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এক-দুইটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

বাবার কষ্ট কমাতে শিক্ষিত দুই ভাইয়ের কৃষিযুদ্ধ

হবিগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪১ অপরাহ্ণ
বাবার কষ্ট কমাতে শিক্ষিত দুই ভাইয়ের কৃষিযুদ্ধ

গ্রামের মাটির সঙ্গে শৈশব থেকেই তাদের নিবিড় সম্পর্ক। অভাব-অনটনের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন দুই ভাই রুবেল ও রাহুল। উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পরও কৃষিকাজকে কখনো দূরে ঠেলে দেননি তারা। বরং বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে কৃষিকাজের পাশাপাশি গ্রামের মানুষের সহযোগিতায়ও এগিয়ে আসছেন।

রুবেল জানান, একসময় তাদের কোনো জমি ছিল না। বাবা ও চার ভাই মিলে দীর্ঘদিন কৃষিকাজ করে ধীরে ধীরে হাওরে কিছু জমি কিনেছেন। ভবিষ্যতে আরও জমি কিনে বাবার কষ্ট কিছুটা কমাতে চান তারা।

রুবেল-রাহুলের পরিচিত সূর্য কুমার বৈষ্ণব বলেন, পড়াশোনায় ভালো হলেও দুই ভাই কখনো কৃষিকাজ ছাড়েননি। এখনো তারা মা-বাবার কাজে সহযোগিতা করেন। গ্রামের কেউ বিপদে পড়লে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়ান।

বাবা রবীন্দ্র দাস বলেন, ‘নিজে পড়াশোনার সুযোগ পাইনি। চাইনি ছেলেরা আমার মতো থাকুক। তাই কষ্ট করে হলেও তাদের পড়াশোনা করিয়েছি। এখন তারা শিক্ষিত হয়েও কৃষিকাজ করছে, এটা দেখলে খুব আনন্দ লাগে।’

মা সফলা রানী দাস জানান, অসুস্থ হলে দুই ছেলে রাত জেগে তার পাশে থাকেন। কাজ থেকে ফিরে মাথায় তেল মেখে দেন, রান্নাও করেন। আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলেরা মাটির মানুষ।’

সিলেট মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেন, কৃষক রবীন্দ্র দাসের সংগ্রাম এবং সন্তানদের মানুষ করে তোলার চেষ্টা অনুকরণীয়। তার মতে, এই পরিবারের গল্প তরুণদের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দিতে পারে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি