খুঁজুন
                               
, ,
           

স্কুল বন্ধে থমকে ১০৮ শিশুর শিক্ষা ও সামাজিক বিকাশ

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ
স্কুল বন্ধে থমকে ১০৮ শিশুর শিক্ষা ও সামাজিক বিকাশ

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে ‘বেলকুচি অটিজম স্কুল’। এতে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ১০৮ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু। একই সঙ্গে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বিদ্যালয়ের ২০ জন শিক্ষক ও কর্মচারী।

২০১৪ সালে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে সদর ইউনিয়ন পরিষদের দ্বিতীয় তলায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে অজ্ঞাত কারণে এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিশুরা অনেকটা ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে। স্কুল চালু থাকলে সহপাঠীদের সঙ্গে মেলামেশার মাধ্যমে তাদের সামাজিক যোগাযোগ, মানসিক বিকাশ ও আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতো। কিন্তু দুই বছরের বেশি সময় ধরে সেই সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিত।

বেলকুচি সদর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফয়সাল আহমেদ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে স্কুলটি চললেও বর্তমানে এর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ভবনটি ইউনিয়ন পরিষদের হওয়ায় সেখানে পুনরায় স্কুল চালু হবে কি না, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম জানান, প্রশাসনিক ও আর্থিক নানা সংকটের মধ্যেও তারা পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ঘর খালি করার নির্দেশ দেওয়া হলে শিক্ষা উপকরণ সরিয়ে নিতে হয়। এরপর থেকেই স্কুলের সব কার্যক্রম বন্ধ।

বেলকুচি পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন জাহান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে স্কুলটি বন্ধ রয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিদ্যালয়টি পুনরায় চালুর বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। এ ছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য অনুমোদনের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দিয়েছেন।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার সুযোগ ও সামাজিক পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে দ্রুত বিদ্যালয়টি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

৫০ মিনিটের ব্যবধানে পূজা চেরীর দুই স্ট্যাটাস

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
৫০ মিনিটের ব্যবধানে পূজা চেরীর দুই স্ট্যাটাস

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই নিজের নানা মুহূর্তের ছবি ও অনুভূতি ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী পূজা চেরী। এবার মাত্র ৫০ মিনিটের ব্যবধানে দেওয়া দুটি স্ট্যাটাস ঘিরে আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেত্রী। স্ট্যাটাস দুটির সঙ্গে বেশ কিছু ছবিও প্রকাশ করেছেন তিনি। ছবিগুলোতে কমলা রঙের পোশাকে মোহনীয় রূপে দেখা গেছে তাকে।

প্রথম স্ট্যাটাসে পূজা চেরী নিজের পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন। সেখানে তিনি লেখেন, তিনি যতটা কোমল হয়ে উঠেছেন, ততটাই নিজেকে শক্তিশালী অনুভব করেছেন। স্ট্যাটাসটির ভাষায় নিজের ভেতরের পরিবর্তন ও মানসিক দৃঢ়তার একটি বার্তা ফুটে ওঠে।

এর প্রায় ৫০ মিনিট পর আবারও একটি স্ট্যাটাস দেন এই অভিনেত্রী। সেখানে তিনি লেখেন, ‘প্রতিটি পরিবর্তন প্রকাশ্যে ঘটে না; কিছু পরিবর্তন হাসির আড়ালেই নীরবে ঘটে যায়।’ তার এই কথাতেও নিজের ভেতরের পরিবর্তন ও অনুভূতির বিষয়টি উঠে এসেছে।

দুটি স্ট্যাটাসের সঙ্গে প্রকাশ করা ছবিতেও ছিল পূজার ভিন্ন এক উপস্থিতি। কমলা রঙের পোশাকে তাকে দেখা যায় মায়াবতী ও মোহনীয় সাজে। কখনো ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে, আবার কখনো অন্যদিকে দৃষ্টি রেখে বিভিন্ন ভঙ্গিতে পোজ দিয়েছেন তিনি। ছবিগুলো প্রকাশের পর ভক্তদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ।

পূজার পরপর দেওয়া দুই স্ট্যাটাসের ভাষায় আত্মপরিবর্তন, কোমলতা ও নিজের ভেতরের শক্তির ইঙ্গিত থাকলেও এর পেছনে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা বা ব্যক্তিগত প্রসঙ্গের কথা জানাননি অভিনেত্রী। ফলে তার বক্তব্যের প্রকৃত কারণ নিয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

তবে বর্তমানে উৎসবের আমেজে সময় কাটাচ্ছেন পূজা চেরী। শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে চলছে আনন্দ-উৎসব। এর মধ্যেই অভিনেত্রীর নতুন ছবি ও রহস্যময় দুই স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের মধ্যে তৈরি করেছে বাড়তি কৌতূহল।

কালের আলো/এসএ

সেরা সাংবাদিকের সম্মাননা পেলেন বাংলানিউজের ৫ সাংবাদিকসহ ১৭ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩০ অপরাহ্ণ
সেরা সাংবাদিকের সম্মাননা পেলেন বাংলানিউজের ৫ সাংবাদিকসহ ১৭ জন

বস্তুনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার স্বীকৃতি হিসেবে ইস্টওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের ছয়টি গণমাধ্যমের ১৭ সাংবাদিককে ‘জুন ২০২৬-এর সেরা সাংবাদিক’ সম্মাননা দিয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইস্টওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নির্বাচিত সাংবাদিকদের হাতে সম্মাননা স্মারক, প্রশংসাপত্র ও পুরস্কারের অর্থ তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ও এবিজির চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। পুরস্কার তুলে দেন বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়া অ্যাডভাইজার আব্দুল বারী এবং ডিএমডি ও হেড অব এ অ্যান্ড এফ ইমরুল হাসান।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর ডটকম থেকে পুরস্কার পেয়েছেন স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ইলিয়াস সরকার, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট ইকরাম-উদ-দৌলা, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট (স্পোর্টস) আবির রহমান, সিনিয়র ফটো করেসপন্ডেন্ট জিএম মুজিবুর এবং চট্টগ্রাম ব্যুরোর স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মিজানুর রহমান।

কালের কণ্ঠের তিন সাংবাদিক, বাংলাদেশ প্রতিদিনের তিন সাংবাদিক, ডেইলি সানের তিন সাংবাদিক, নিউজ২৪-এর একজন এবং টি স্পোর্টসের একজন সাংবাদিকও এ সম্মাননা পেয়েছেন।

পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, খেলাধুলা, অর্থনীতি, প্রবাসী সেবা, প্রযুক্তি ও সামাজিক সমস্যাবিষয়ক প্রতিবেদন রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা গণমাধ্যমের মানোন্নয়ন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং পাঠকের আস্থা ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়া অ্যাডভাইজার আব্দুল বারী বলেন, দেশ ও মানুষের কল্যাণে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চর্চা আরও বাড়াতে হবে। সাংবাদিকদের মানসম্মত প্রতিবেদন প্রকাশে উৎসাহিত করতেই এ সম্মাননা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।

তিনি জানান, প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি মাসে নির্বাচিত সাংবাদিকদের অর্থ পুরস্কার ও প্রশংসাপত্র দেওয়া হবে।

বসুন্ধরা গ্রুপের ডিএমডি ইমরুল হাসান বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে মানসম্মত প্রতিবেদন বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট ও সংশ্লিষ্ট কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন খাতের প্রতিবেদন যথাযথভাবে মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলোর সম্পাদক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী ও মানসম্মত প্রতিবেদন প্রকাশে উৎসাহিত করতে এ সম্মাননা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ভুল পথে হাঁটলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিরোধিতা করা হবে: গোলাম পরওয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১১ অপরাহ্ণ
ভুল পথে হাঁটলে নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিরোধিতা করা হবে: গোলাম পরওয়ার

সরকারকে ভুল পথে না হাঁটার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, সরকারের ভালো কাজে জামায়াতে ইসলামী সহযোগিতা করবে। তবে কোনো ভুল বা দেশবিরোধী কাজ হলে নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিকভাবে তার বিরোধিতা করা হবে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে মেজর (অব.) বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ দলের কয়েকজন মন্ত্রী-এমপি জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে ‘গুপ্ত’ বলে মন্তব্য করছেন। দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া কতটা যুক্তিসংগত, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ সময়ের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপি ও জামায়াত একসঙ্গে ছিল। চারদলীয় জোট, ১৮ দলীয় জোট ও ২০ দলীয় জোটের বিভিন্ন আন্দোলনেও দুই দল একসঙ্গে রাজপথে ছিল। সে সময় জামায়াত-শিবিরকে ‘গুপ্ত’ বলা হয়নি।

জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের সময়ও জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ ছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আন্দোলনে দুই দল একসঙ্গে অংশ নিয়েছে। তাই সেই রাজনৈতিক ইতিহাস ভুলে গিয়ে জামায়াতকে নতুন করে বিভিন্ন আখ্যা দেওয়ার বিষয়টি প্রশ্ন তৈরি করছে।

তিনি বলেন, জামায়াতকে ১৯৭১ সালের বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া হলে এর প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। জাতিকে বিভক্ত করার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্যকে বিমানবন্দরের ঘটনার মামলায় গ্রেপ্তার করে আদালতে তোলা হয়েছে এবং রিমান্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি মামলা প্রত্যাহার, রিমান্ড বাতিল ও আখতারুজ্জামানের মুক্তির দাবি জানান।

বিমানবন্দরের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা নাগরিকের অধিকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি। লাগেজ, পানি ও ট্রলি না পাওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যায় যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া অপরাধ হতে পারে না।

আখতারুজ্জামানকে হেলমেট পরানো নিয়েও প্রশ্ন তোলেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, তিনি কোনো দুর্ধর্ষ অপরাধী নন; নিজ বাসা থেকেই পুলিশের সঙ্গে এসেছেন। তাই তাকে কেন হেলমেট পরানো হয়েছে, তার জবাব দিতে হবে।

সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিনসহ দলের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন। পরে বিক্ষোভ মিছিলটি বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে প্রেসক্লাব, হাইকোর্ট ও মৎস্য ভবন প্রদক্ষিণ করে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি