স্কুল বন্ধে থমকে ১০৮ শিশুর শিক্ষা ও সামাজিক বিকাশ
সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে ‘বেলকুচি অটিজম স্কুল’। এতে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ১০৮ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু। একই সঙ্গে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বিদ্যালয়ের ২০ জন শিক্ষক ও কর্মচারী।
২০১৪ সালে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে সদর ইউনিয়ন পরিষদের দ্বিতীয় তলায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে অজ্ঞাত কারণে এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিশুরা অনেকটা ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে। স্কুল চালু থাকলে সহপাঠীদের সঙ্গে মেলামেশার মাধ্যমে তাদের সামাজিক যোগাযোগ, মানসিক বিকাশ ও আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতো। কিন্তু দুই বছরের বেশি সময় ধরে সেই সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিত।
বেলকুচি সদর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফয়সাল আহমেদ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে স্কুলটি চললেও বর্তমানে এর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ভবনটি ইউনিয়ন পরিষদের হওয়ায় সেখানে পুনরায় স্কুল চালু হবে কি না, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম জানান, প্রশাসনিক ও আর্থিক নানা সংকটের মধ্যেও তারা পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ঘর খালি করার নির্দেশ দেওয়া হলে শিক্ষা উপকরণ সরিয়ে নিতে হয়। এরপর থেকেই স্কুলের সব কার্যক্রম বন্ধ।
বেলকুচি পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন জাহান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে স্কুলটি বন্ধ রয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিদ্যালয়টি পুনরায় চালুর বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। এ ছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য অনুমোদনের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দিয়েছেন।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার সুযোগ ও সামাজিক পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে দ্রুত বিদ্যালয়টি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array