খুঁজুন
                               
, ,
           

স্কুল বন্ধে থমকে ১০৮ শিশুর শিক্ষা ও সামাজিক বিকাশ

সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ
স্কুল বন্ধে থমকে ১০৮ শিশুর শিক্ষা ও সামাজিক বিকাশ

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে ‘বেলকুচি অটিজম স্কুল’। এতে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ১০৮ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু। একই সঙ্গে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বিদ্যালয়ের ২০ জন শিক্ষক ও কর্মচারী।

২০১৪ সালে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে সদর ইউনিয়ন পরিষদের দ্বিতীয় তলায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে অজ্ঞাত কারণে এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিশুরা অনেকটা ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে। স্কুল চালু থাকলে সহপাঠীদের সঙ্গে মেলামেশার মাধ্যমে তাদের সামাজিক যোগাযোগ, মানসিক বিকাশ ও আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতো। কিন্তু দুই বছরের বেশি সময় ধরে সেই সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিত।

বেলকুচি সদর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ফয়সাল আহমেদ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে স্কুলটি চললেও বর্তমানে এর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ভবনটি ইউনিয়ন পরিষদের হওয়ায় সেখানে পুনরায় স্কুল চালু হবে কি না, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম জানান, প্রশাসনিক ও আর্থিক নানা সংকটের মধ্যেও তারা পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ঘর খালি করার নির্দেশ দেওয়া হলে শিক্ষা উপকরণ সরিয়ে নিতে হয়। এরপর থেকেই স্কুলের সব কার্যক্রম বন্ধ।

বেলকুচি পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন জাহান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে স্কুলটি বন্ধ রয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বিদ্যালয়টি পুনরায় চালুর বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। এ ছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য অনুমোদনের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দিয়েছেন।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার সুযোগ ও সামাজিক পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে দ্রুত বিদ্যালয়টি পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

পাকা ধানের স্বপ্ন ভেঙে নিচ্ছে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫১ অপরাহ্ণ
পাকা ধানের স্বপ্ন ভেঙে নিচ্ছে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের অব্যাহত ভাঙনে ফসলি জমি হারানোর শঙ্কায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। কারও জমিতে ধানের থোড় এসেছে, কোথাও আবার ধান পাকতে শুরু করেছে। এমন সময়ে একের পর এক আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় ফসল রক্ষার শেষ চেষ্টা হিসেবে আধাপাকা ধান কেটে নিচ্ছেন অনেকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, গত দুই দিনে ভাঙনের কবলে পড়ে অন্তত ১০ একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আরও ২০০ থেকে ২৫০ বিঘা ফসলি জমি রয়েছে ভাঙনের ঝুঁকিতে। দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে চলতি মৌসুমের ফসলের পাশাপাশি বসতভিটা ও আবাদি জমিও হারানোর আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

ফসলের মৌসুমে নদীভাঙনে দিশেহারা কৃষক
ভাঙনকবলিত এলাকার কৃষকদের জন্য চলতি মৌসুমের ধান ছিল পরিবারের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম ভরসা। জমিতে ধানগাছে থোড় আসার পর ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষায় ছিলেন তাঁরা। কিন্তু হঠাৎ ভাঙন বেড়ে যাওয়ায় সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে। স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল বলেন, গত দুই দিনে হঠাৎ নদীভাঙন বেড়েছে। ধানগাছে থোড় আসার মধ্যেই জমি ভাঙতে শুরু করেছে। তাঁর প্রায় দেড় একর জমি ভাঙনের কবলে পড়েছে। জমি নদীতে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় উপায় না পেয়ে ধানগাছ কেটে নিচ্ছেন তিনি। কৃষকদের আশঙ্কা, এভাবে জমি বিলীন হতে থাকলে শুধু চলতি মৌসুমের ফসলই নয়, ভবিষ্যতে চাষাবাদের জমিও হারাতে হবে। এতে তাঁদের দীর্ঘদিনের জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

ঋণ করে চাষ, ফসল হারানোর শঙ্কায় পরিবারগুলো
একই এলাকার কৃষক মোসলেম আলী ও শফি নাইয়ার কণ্ঠেও হতাশা। তাঁরা জানান, ঋণ করে ধানের চারা কিনে জমিতে রোপণ করেছিলেন। সার, জ্বালানি ও অন্যান্য কৃষি উপকরণে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এই জমির ফসল বিক্রি করেই তাঁদের সংসারের ব্যয় মেটানোর কথা ছিল।

কিন্তু ধানে থোড় আসার সময় নদীভাঙন শুরু হওয়ায় তাঁদের সব হিসাব এলোমেলো হয়ে গেছে। জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেলে বিনিয়োগ করা অর্থ ফিরে পাওয়ার সুযোগ থাকবে না। এমনকি আগামী বছরের জন্য পরিবারের খাবারের ধান জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। কৃষকদের কাছে এই ক্ষতি শুধু জমি হারানোর নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ঋণ পরিশোধ, পরিবারের খাবার এবং পরবর্তী মৌসুমে চাষাবাদ চালিয়ে যাওয়ার প্রশ্ন।

এক বছরে কয়েক শ একর জমি বিলীন হওয়ার দাবি
এলাকাবাসীর দাবি, গত এক বছরে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে কয়েক শ একর আবাদি জমি ও শতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নদীভাঙনের কারণে শৌলমারী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের বসবাস ও কৃষিকাজ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। চারিপাড়া, বয়াতিপাড়া, শেখের বাজার এবং চর খেদাইমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের বিস্তীর্ণ বসতি এলাকা ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও জমি ও স্থাপনা হারানোর আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দা তন্ময় হাসান তোতা বলেন, গত এক বছরে তাঁদের প্রায় ৪০ একর আবাদি জমি নদীতে চলে গেছে। সুখেরবাতি ও মধ্যপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর। তাঁর ভাষ্য, পাশের চর খেদাইমারী এলাকায় বস্তা ফেলা হলেও সুখেরবাতি এলাকায় ভাঙন ঠেকাতে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। ফলে একের পর এক জমি হারিয়ে স্থানীয় কৃষকেরা বিপাকে পড়ছেন।

বস্তা ফেলেও ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না
চর শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএইচএম সাইদুর রহমান জানান, গত দুই দিন ধরে ব্রহ্মপুত্রের ব্যাপক ভাঙন চলছে। ইউনিয়নের ৬, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড অল্প কিছু বস্তা ফেললেও সেগুলো নদে চলে যাচ্ছে। ফলে এসব উদ্যোগে ভাঙন কতটা ঠেকানো যাচ্ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। এলাকাবাসীর মতে, নদীভাঙন প্রতিরোধে বিচ্ছিন্নভাবে বস্তা ফেলার পরিবর্তে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর ও সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে ফসল ঘরে তোলার এই সময়ে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া গেলে কৃষকদের ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে।

অর্থসংকটে প্রতিরক্ষা কাজ আটকে আছে
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, অর্থসংকটের কারণে আপাতত চর প্রতিরক্ষায় কাজ করার সুযোগ নেই। মূল নদের তীর রক্ষার কাজকে বেশি গুরুত্ব দিতে হচ্ছে তাঁদের। পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই বক্তব্যের পর স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কারণ, একদিকে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে প্রতিরোধমূলক কাজের সীমাবদ্ধতার কথা জানাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জমি ও ফসল রক্ষায় দ্রুত উদ্যোগের দাবি
ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে কুড়িগ্রামের কৃষকদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ফসল ও আবাদি জমি রক্ষা করা। জমি হারালে শুধু একটি মৌসুমের আয় নয়, দীর্ঘমেয়াদে কৃষিকাজ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ঋণ করে চাষ করা কৃষকদের জন্য এই ক্ষতি আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভাঙনের মুখে থাকা আরও ২০০ থেকে ২৫০ বিঘা জমি নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

ব্যাকআপ উইকেটকিপারে জাকের এগিয়ে অমিত ভবিষ্যতের ভাবনায়

ক্রীড়া প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ণ
ব্যাকআপ উইকেটকিপারে জাকের এগিয়ে অমিত ভবিষ্যতের ভাবনায়

জাতীয় ক্রিকেট দলে ব্যাকআপ উইকেটকিপার হিসেবে আপাতত জাকের আলী অনিকের ওপরই আস্থা রাখছেন নির্বাচকেরা। ঘরোয়া ক্রিকেটের সব ফরম্যাটে রান করে অফ-ফর্ম কাটিয়ে তাঁর ফিরে আসাকে ইতিবাচকভাবে দেখছে টিম ম্যানেজমেন্ট। অন্যদিকে, প্রতিভাবান ব্যাটার অমিত হাসানকে তাড়াহুড়ো করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কঠিন চ্যালেঞ্জে নামাতে চায় না নির্বাচক প্যানেল। তাঁকে ধীরে ধীরে প্রস্তুত করে ভবিষ্যতের জন্য গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এর ফলে আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে জাকেরের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়লেও অপেক্ষা দীর্ঘ হচ্ছে অমিতের। সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার কথা বিবেচনায় রেখে অভিজ্ঞতাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন নির্বাচকেরা।

ব্যাকআপ উইকেটকিপারে অভিজ্ঞতায় এগিয়ে জাকের
জাতীয় দলের নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন জানিয়েছেন, উইকেটকিপার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হিসেবে কাজ করছে। জাতীয় দলের মূল উইকেটকিপার হিসেবে লিটন দাসই তাঁদের প্রথম পছন্দ। তবে তাঁর বিকল্প হিসেবে কাকে রাখা হবে, সেই বিবেচনায় জাকের আলী এগিয়ে রয়েছেন। মাঝে অফ-ফর্মে থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে রান করে জাকের নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। নির্বাচকদের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চাপের মুহূর্ত সামলানোর অভিজ্ঞতা তাঁকে অন্যদের তুলনায় বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। হাবিবুল বাশার বলেন, ‘মূল উইকেটকিপার হিসেবে আমাদের প্রথম পছন্দ লিটন দাস। বিষয় হলো ব্যাকআপ উইকেটকিপার কে হবেন। জাকের আলী মাঝে অফ-ফর্মে থাকার পর ঘরোয়া ক্রিকেটের সব ফরম্যাটে রান করে দুর্দান্তভাবে ফিরে এসেছে।’

অমিতকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
অমিত হাসানের প্রতিভা নিয়ে আশাবাদী নির্বাচকেরা। তবে মাত্র একটি টেস্ট খেলা এই তরুণ ব্যাটারকে এখনই কঠিন আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি করতে চান না তাঁরা। সামনে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সিরিজ থাকায় অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ওপর নির্ভর করার পাশাপাশি অমিতকে ধাপে ধাপে প্রস্তুত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

হাবিবুল বাশারের মতে, অমিতের সামনে জাতীয় দলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেই পথ তৈরি করতে তাঁকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সামনে দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবা ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলা রয়েছে, যেখানে চাপের মুহূর্তে অভিজ্ঞতার প্রয়োজন রয়েছে। অন্যদিকে অমিত সবেমাত্র উঠে আসছে, তাকে হুট করে কঠিন চাপের মুখে না ফেলে ধীরে ধীরে সুযোগ দিতে চাই। সে অবশ্যই আমাদের দীর্ঘমেয়াদি ভাবনায় আছে।’

অমিতের ব্যাটিং পজিশন নিয়ে আলোচনা
জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) অমিত হাসানকে ওপেনিংয়ে খেলানোর পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। তবে প্রথম দুই রাউন্ডের পর তৃতীয় রাউন্ডে তাঁকে তিন নম্বরে ব্যাটিং করতে দেখা যায়। রংপুরের বিপক্ষে ওই ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন তিনি।

জাতীয় দলের টপ অর্ডারে একজন ডানহাতি ব্যাটারের প্রয়োজন থেকেই অমিতকে ওপরে খেলানোর ভাবনা আসে। তবে এটি তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত ছিল না বলে জানিয়েছেন হাবিবুল বাশার। বরং ব্যাটিং পজিশন নিয়ে অমিতের সঙ্গে আলোচনা করেই সম্ভাব্য পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল। নির্বাচক বলেন, ‘এটি জোরপূর্বক কোনো ইনস্ট্রাকশন ছিল না, অমিতের সঙ্গে একটি আলোচনা ছিল। সে মূলত চার বা পাঁচ নম্বরে ব্যাটিং করে অভ্যস্ত। কিন্তু জাতীয় দলে মিডল অর্ডারে সুযোগ পাওয়াটা কঠিন। আমাদের একজন ডানহাতি টপ অর্ডার ব্যাটারের অভাব রয়েছে। তাই নতুন বল সামলানোর মতো টেকনিক থাকায় তাকে টপ অর্ডারে খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।’

ব্যাটিং পজিশনে স্বাচ্ছন্দ্যকে গুরুত্ব
একজন ব্যাটারের ব্যাটিং পজিশন পরিবর্তন করতে হলে তাঁর স্বাচ্ছন্দ্য ও প্রস্তুতিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন নির্বাচকেরা। অমিত সাধারণত চার বা পাঁচ নম্বরে ব্যাটিং করলেও টপ অর্ডারে খেলার সম্ভাবনা তাঁর সামনে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তবে নতুন পজিশনে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি ক্রিকেটারের স্বাচ্ছন্দ্যের ওপর নির্ভর করবে। এ বিষয়ে হাবিবুল বাশারের বক্তব্য, ‘পজিশন পরিবর্তন সবসময় খেলোয়াড়ের কমফোর্টের ওপর নির্ভর করে, চাপিয়ে দেওয়া যায় না।’ অর্থাৎ, জাতীয় দলের প্রয়োজন বিবেচনায় অমিতকে টপ অর্ডারে খেলানোর সম্ভাবনা থাকলেও তাঁর ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চান না নির্বাচকেরা। বরং নিজের সামর্থ্য ও স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী সেরা অবস্থান খুঁজে নেওয়ার সুযোগ দিতে চান তাঁরা।

জাকেরের বর্তমান, অমিতের ভবিষ্যৎ
জাতীয় দলে ব্যাকআপ উইকেটকিপার হিসেবে জাকের আলীকে এগিয়ে রাখার পেছনে রয়েছে তাঁর অভিজ্ঞতা ও ঘরোয়া ক্রিকেটে সাম্প্রতিক প্রত্যাবর্তন। অন্যদিকে, অমিত হাসানকে নিয়ে নির্বাচকদের পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপের সঙ্গে ধীরে ধীরে পরিচিত করে তাঁকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে চান তাঁরা। সামনে কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সিরিজ থাকায় অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে। তবে অমিতের মতো তরুণদের জন্যও জাতীয় দলের দরজা বন্ধ নয়। বরং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, ব্যাটিং পজিশনে মানিয়ে নেওয়া এবং চাপ সামলানোর সক্ষমতা দেখাতে পারলে ভবিষ্যতে তাঁর সুযোগের পথ আরও উন্মুক্ত হতে পারে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

তারেক রহমানকে নিয়ে ‘স্নাইপার’ মন্তব্য, বিরোধীদের দায়ী করলেন রাশেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানকে নিয়ে ‘স্নাইপার’ মন্তব্য, বিরোধীদের দায়ী করলেন রাশেদ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফর ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক যুবকের ‘স্নাইপার’ মন্তব্যের পেছনে বিরোধী দলের নেতাদের বক্তব্য ও আচরণকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলের নেতাদের আগ্রাসী বক্তব্য পতিত অপশক্তিকে এমন মন্তব্য করার সাহস জুগিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন রাশেদ খাঁন।

স্নাইপার’ মন্তব্য নিয়ে বিরোধীদের দায়ী করলেন রাশেদ
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে এক যুবক লিখেছেন, ‘একটি মাত্র স্নাইপার দরকার ছিল।’ তাঁর দাবি, বিরোধী দলের নেতাদের উচ্ছৃঙ্খল বক্তব্য, আগ্রাসী আচরণ এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার সুযোগ নিচ্ছে পতিত অপশক্তি। তবে ওই যুবকের পরিচয়, মন্তব্যের প্রেক্ষাপট কিংবা এ বিষয়ে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়নি।

আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে বিরোধীদের ভূমিকার সমালোচনা
রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের নেতাদের বক্তব্য, জনসভা ও টকশোতে আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম-খুন এবং দলটির বিচার নিয়ে আলোচনা যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না।

তিনি আরও দাবি করেন, গণঅভ্যুত্থানের এক মাসের মাথায় জামায়াতে ইসলামীর আমির আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন। এ ছাড়া জামায়াত ও এনসিপি এমন বয়ান তৈরি করছে, যেন বিএনপির আট মাসের সরকার আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামলকেও ছাড়িয়ে গেছে। রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, এসব বক্তব্য ও সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারকে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গুমের শিকার, মামলায় জর্জরিত কিংবা নির্বাসিত জীবনে থাকা নেতারাও এ পরিস্থিতির বাইরে নন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জুলাই অভ্যুত্থানে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
পোস্টে রাশেদ খাঁন আরও লেখেন, ৫ আগস্টের পরও দায়িত্বে থাকা কিংবা তার আগে রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় না থাকা কিছু ব্যক্তির বক্তব্যে এমন ধারণা তৈরি হচ্ছে, যেন গত ১৬ বছর শুধু তাঁরাই আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনে বিএনপির নেতাকর্মীদের অবদানের তুলনায় বিরোধী দলের অনেক নেতার ভূমিকা ছিল নগণ্য। অথচ এখন বিএনপিকে তাঁদের কাছ থেকেই আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস শুনতে হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অধ্যাপক জাফর ইকবালের কাছ থেকে জানার সঙ্গে তুলনা টেনে রাশেদ খাঁন বলেন, একইভাবে বিরোধী দলের অনেক নতুন সংসদ সদস্যের কাছ থেকে বিএনপিকে জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাস জানতে হচ্ছে। রাশেদ খাঁনের এসব বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে করা রাজনৈতিক অভিযোগ। পোস্টে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিরোধী দলের নেতাদের বক্তব্য দেওয়া তথ্যের মধ্যে পাওয়া যায়নি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি