খুঁজুন
                               
, ,
           

এভারেস্টের উচ্চতম পাস সাইকেলে জয় করেছে বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৪ অপরাহ্ণ
এভারেস্টের উচ্চতম পাস সাইকেলে জয় করেছে বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা

কক্সবাজারের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাইকেল চালিয়ে নেপালের এভারেস্ট অঞ্চলের তিনটি উচ্চতম পাস জয় করে অনন্য কীর্তি গড়েছেন বাংলাদেশের তরুণ সাইক্লিস্ট বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা। রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের এই তরুণ দাবি করেছেন, তিনি প্রথম বাংলাদেশি এবং প্রথম ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক গোষ্ঠীর সাইক্লিস্ট হিসেবে স্থলপথে সাইকেল চালিয়ে এভারেস্ট অঞ্চলের কংমা লা, চো লা ও রেঞ্জো লা পাস জয় করেছেন।

‘সি টু হিমালয়াস—এক্সপেডিশন ফর অ্যাওয়ারনেস’ শীর্ষক অভিযানে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার সঙ্গে লড়াই করে একে একে তিনটি পাসের চূড়ায় পৌঁছান তিনি।

একে একে তিন পাস জয়

অভিযানের সর্বশেষ ধাপে সোমবার (৫ অক্টোবর) নেপালের স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ২৬ মিনিটে ৫ হাজার ৩৬০ মিটার উচ্চতার রেঞ্জো লা পাসের চূড়ায় পৌঁছান বীর কুমার।

এর আগে ১ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৩৩ মিনিটে তিনি জয় করেন ৫ হাজার ৪২০ মিটার উচ্চতার চো লা পাস। তারও আগে ২১ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টা ৫৩ মিনিটে ৫ হাজার ৫৩৫ মিটার উচ্চতার কংমা লা পাসের চূড়ায় সাইকেল নিয়ে পৌঁছান এই বাংলাদেশি সাইক্লিস্ট।

এভারেস্ট অঞ্চলের দুর্গম এই তিন পাসের উচ্চতা ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে পুরো অভিযানে শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তারও প্রয়োজন ছিল।

কক্সবাজার থেকে শুরু যাত্রা

বীর কুমারের এই দীর্ঘ অভিযানের শুরু গত ১৪ আগস্ট। সেদিন কক্সবাজারের জিরো পয়েন্ট থেকে সাইকেল নিয়ে স্থলপথে যাত্রা শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছান নেপালের হিমালয় অঞ্চলে।

এরপর শুরু হয় অভিযানের সবচেয়ে কঠিন পর্ব। দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা, দীর্ঘ পথ, উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হয় তাকে।

এক পর্যায়ে সাইকেল নিয়ে একে একে কংমা লা, চো লা ও রেঞ্জো লা পাসের চূড়ায় পৌঁছান তিনি।

‘এই অর্জন শুধু আমার একার নয়’

অভিযান শেষ করার পর মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন বীর কুমার।

তিনি বলেন, এই অর্জন শুধু তার একার নয়; বরং তার পাশে থাকা প্রত্যেক মানুষের। মানুষের ভালোবাসা, সহযোগিতা, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণাই তার পথচলার শক্তি হিসেবে কাজ করেছে বলে জানান তিনি।

কক্সবাজারের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাইকেল চালিয়ে হিমালয়ের উচ্চতায় পৌঁছানো এবং এভারেস্ট অঞ্চলের তিনটি উচ্চতম পাস জয় করাকে নিজের জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের বিষয় বলে উল্লেখ করেন বীর কুমার।

তিনি বলেন, পথটি সহজ ছিল না। তবে বাংলাদেশের পতাকা এবং নিজের এলাকার মানুষের ভালোবাসা প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে তাকে সাহস জুগিয়েছে।

লক্ষ্য শুধু রেকর্ড নয়

বীর কুমারের ভাষ্য, তার এই অভিযানের উদ্দেশ্য কেবল রেকর্ড সৃষ্টি করা নয়। সাইক্লিংয়ের প্রসার, পরিবেশ সচেতনতা তৈরি এবং মানুষের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়াও তার অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি জানান, কঠিন এই অভিযানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, তাদের সবার প্রতি তিনি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

কাপ্তাইয়ের প্রত্যন্ত পাহাড়ি জনপদ থেকে উঠে আসা বীর কুমার দীর্ঘদিন ধরে সাইক্লিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার স্বপ্ন নিয়ে বিভিন্ন অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। এবারের হিমালয় অভিযান সেই ধারাবাহিকতায় তাঁর অন্যতম বড় অর্জন।

স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ

বীর কুমারের এই সাফল্যে কাপ্তাইয়ের স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও আনন্দ ও গর্বের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, তাঁর এই অর্জন দেশের তরুণদের সাইক্লিং, পর্বতারোহণ ও অ্যাডভেঞ্চারভিত্তিক কর্মকাণ্ডে আরও উৎসাহিত করবে

ফাঁদ, বিষটোপে চলছে পাখি শিকার, বিপন্ন চলনবিলের জীববৈচিত্র্য

নাটোর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৭ অপরাহ্ণ
ফাঁদ, বিষটোপে চলছে পাখি শিকার, বিপন্ন চলনবিলের জীববৈচিত্র্য

শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে নাটোরসহ চলনবিলের বিভিন্ন জলাশয়, বিল, নদী ও ফসলের মাঠে বাড়তে শুরু করেছে দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির পাখির আনাগোনা। খাবার ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে প্রতিবছর শীত মৌসুমে এসব এলাকায় পরিযায়ী পাখির সমাগম ঘটে। তবে পাখির এই আগমনকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে ওঠে একশ্রেণির অসাধু শিকারি। ফাঁদ, জাল, বিষটোপ ও এয়ারগান ব্যবহার করে নির্বিচারে পাখি শিকার ও বিক্রি চলছে। এতে দিন দিন কমছে পাখির সংখ্যা, হুমকিতে পড়ছে চলনবিলের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য।

শীতকালে অতিথি ও দেশীয় পাখি শিকার এবং কেনাবেচা সম্পূর্ণ অবৈধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী শাস্তির বিধান থাকলেও তা উপেক্ষা করে বিভিন্ন এলাকায় পাখি শিকার করছে চক্রটি। স্থানীয় প্রশাসন ও ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে শিকারিদের কারাদণ্ড, জরিমানা এবং পাখি উদ্ধার করলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি এ অবৈধ কর্মকাণ্ড।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলনবিল অধ্যুষিত নাটোরের সিংড়া, গুরুদাসপুর, নলডাঙ্গার হালতিবিল এবং লালপুর উপজেলার পদ্মাচরে শীতের শুরু থেকেই ফাঁদ, জাল ও বিষটোপ দিয়ে পাখি শিকার করা হয়। পরে এসব পাখি স্থানীয় হাট-বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান ও চায়ের দোকানে গোপনে বিক্রি করা হয়। পাখির চাহিদা থাকায় শিকারিরাও উৎসাহিত হচ্ছে।

গত শনিবার (৩ অক্টোবর) থেকে সোমবার পর্যন্ত চলনবিল ও হালতিবিল এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, বিলের ধানক্ষেত ও জলাশয়ের পাশে লতাপাতা দিয়ে বিশেষ ফাঁদ বা ‘কিল্লাঘর’ তৈরি করা হয়েছে। এসব ফাঁদে একটি জীবন্ত পাখিকে আটকে রেখে তার ডাকের মাধ্যমে অন্য পাখিকে আকৃষ্ট করা হয়। পরে জালে ধরা পড়া পাখি খাঁচায় বন্দি করে বিক্রি করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, শিকারিরা কখনো কখনো ধরা পড়া পাখির চোখ অন্ধ করে দেয়। আবার কোনো পাখির পা সুতা দিয়ে বেঁধে বাঁশের লম্বা কঞ্চির সাহায্যে গাছের মগডালে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পাখিটি ছটফট ও ডাকাডাকি করলে আশপাশের অন্য পাখি কাছে আসে এবং জালে আটকা পড়ে।

চলতি সপ্তাহে সিংড়া উপজেলার পাটশাঐল মৌজার ধানক্ষেতে কয়েকজন শিকারিকে বড় পাতার ফাঁদ ও টোপ হিসেবে ব্যবহৃত পাখি নিয়ে তৎপর থাকতে দেখা যায়। স্থানীয়ভাবে প্রতি জোড়া পাখি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল। এক শিকারি জানান, গত দুই-তিন বছর ধরে শখের বশে পাখি শিকার করছেন। প্রতিদিন ছয়-সাতটি পাখি শিকার করে প্রায় দেড় হাজার টাকা আয় হয় বলেও জানান তিনি।

চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, সংগঠনটির বিভিন্ন অভিযানে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার বক, ৭৩৯টি ঘুঘু, ১০৫টি শামুকখোল, ২২০টি টিয়া, ১৭১টি শালিক, ৮৫টি পাতি সরালি, ৫৫টি ডাহুক, ৩৫০টি চাকলা, ৩০টি মাছরাঙাসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি উদ্ধার ও অবমুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া পেঁচা, মদনটাক, হিমালয় গৃধিনী শকুন, পানকৌড়ি ও হটটিটিসহ বিভিন্ন বিরল প্রাণীও উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পাখি শিকারের ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা, ৪২ জনকে জরিমানা এবং ৭২ জনের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ১০টি এয়ারগান জব্দ, ১৬০টি কিল্লাঘর ফাঁদ ধ্বংস এবং প্রায় ৫০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি ১১০টি বাটুল ও বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে।

চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, পাখি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ায় না, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনেক পাখি ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফসল রক্ষা করে, আবার কিছু পাখি বীজ ছড়িয়ে উদ্ভিদের বংশবিস্তারে সহায়তা করে। পাখির সংখ্যা কমে গেলে পুরো বাস্তুতন্ত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

তিনি জানান, ২০১২ সালে সংগঠনটি গঠিত হয়। ২০১৪ সাল থেকে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ (রাজশাহী বিভাগ) থেকে লাইসেন্স নিয়ে সংগঠনটি পাখি ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় কাজ করছে।

সিংড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত আনজুম বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী পাখি হত্যা দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিযোগ পেলে প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। শনিবার চলনবিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন শিকারিকে একদিন করে কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ২ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় অর্ধশতাধিক বক পাখি অবমুক্ত এবং ১০টি কিল্লাঘরের ফাঁদ ধ্বংস করা হয়।

রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, ফাঁদ পেতে পাখি শিকার সম্পূর্ণ অবৈধ। বন বিভাগ সচেতনতামূলক প্রচার, নিয়মিত টহল, মোবাইল কোর্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেমিনার ও লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে।

নাটোর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, পাখি শিকার বন্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরিবেশবাদী সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াত বলেন, শুধু প্রশাসনিক অভিযান চালিয়ে পাখি শিকার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এ জন্য জনসচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনগুলোকে জলাশয় ও পাখির আবাসস্থলে নিয়মিত নজরদারি এবং পাখি কেনাবেচা বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরিবেশবিদদের মতে, নিয়মিত নজরদারি, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমেই চলনবিলকে দেশি ও পরিযায়ী পাখির নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে রক্ষা করা সম্ভব। একই সঙ্গে বাজারে শিকার করা পাখি কেনা থেকে বিরত থাকা এবং কোথাও পাখি শিকার বা বিক্রি হতে দেখলে প্রশাসন, পুলিশ কিংবা বন বিভাগকে জানানো প্রয়োজন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

নগর জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সরকারের বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৭ অপরাহ্ণ
নগর জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সরকারের বৈঠক

নগর জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ‘ইমপ্রুভমেন্ট অব আরবান পাবলিক হেলথ প্রিভেন্টিভ সার্ভিসেস প্রজেক্ট’-এর কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। একই সঙ্গে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পৃথক দুটি নতুন প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ নিতে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলকে অনুরোধ করা হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রকল্পটির অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে ক্রিস্টোফ লেমিয়েরের নেতৃত্বে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদল, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরামর্শকদের মধ্যে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, নগর জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রকল্পটির আওতায় মশা ও অন্যান্য বাহকবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ, হাসপাতাল-বহির্ভূত চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং দাবদাহ, বায়ু ও শব্দদূষণসহ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বিভিন্ন কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া আচরণগত পরিবর্তনমূলক যোগাযোগ কৌশলের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অসংক্রামক রোগ কমাতে প্রয়োজনীয় সুবিধা তৈরির উদ্যোগও রয়েছে।

প্রকল্পটির আওতায় রয়েছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং ঢাকার পার্শ্ববর্তী সাভার ও তারাব পৌরসভা।

প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।

নগরের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

সভায় মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়ুয়া, স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. রবিউল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

বাদীপক্ষের আপত্তি নেই, তবুও জামিন হয়নি গাজী নজরুলের

আদালত প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৯ অপরাহ্ণ
বাদীপক্ষের আপত্তি নেই, তবুও জামিন হয়নি গাজী নজরুলের

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে আসামিপক্ষের আপস হয়েছে এবং বাদীপক্ষের জামিনে আপত্তি নেই—এমন বক্তব্যের পরও শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে দেন।

বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে নজরুলের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী মাহাবুবুর রহমান। শুনানিতে তিনি বলেন, মামলার বাদী মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে আসামিদের সমঝোতা হয়েছে। বাদীপক্ষও জামিনে আপত্তি করছে না।

তবে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। ফলে আপাতত তাকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর একই মামলায় নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন আবেদন করা হয়। সেদিন আদালত মাকছুদাকে জামিন দিলেও নজরুলের জামিন আবেদন নাকচ করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।

মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়। মামলার পরদিন নজরুলের চার দিন এবং মাকছুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে মামলাটির তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পরবর্তী সময়ে নজরুলের আরও এক দফা রিমান্ড মঞ্জুর হয়। দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

মামলার অপর আসামি ওবায়দুর রহমানকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সোমবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তার জামিন আবেদনের শুনানিও আদালতে হওয়ার কথা রয়েছে।

মামলাটি বর্তমানে গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করছে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি