খুঁজুন
                               
, ,
           

শের-ই-বাংলা মেডিকেল

৫০০ শয্যার জনবল দিয়ে চিকিৎসা ৩ হাজার রোগীর, শেবাচিমে চরম সংকট

বরিশাল সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ
৫০০ শয্যার জনবল দিয়ে চিকিৎসা ৩ হাজার রোগীর, শেবাচিমে চরম সংকট

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে রোগীর অতিরিক্ত চাপে দেখা দিয়েছে তীব্র শয্যা ও জনবল সংকট। শয্যা না পেয়ে হাসপাতালের মেঝে, চলাচলের পথ এমনকি প্রবেশপথেও শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের। এর মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তদের অন্য রোগীদের সঙ্গে একই জায়গায় রাখতে হওয়ায় বাড়ছে সংক্রমণের আশঙ্কা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন এখানে প্রায় তিন হাজার রোগী ভর্তি থাকছেন। অথচ হাসপাতালের অবকাঠামো ও জনবল কাঠামো মূলত ৫০০ শয্যার উপযোগী। কয়েক বছর আগে হাসপাতালটিকে এক হাজার শয্যায় উন্নীত করা হলেও সে অনুযায়ী জনবল বাড়ানো হয়নি। ফলে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

গত শনিবার হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, প্রধান ভবনের হাঁটার পথ, লিফট ও শৌচাগারে যাওয়ার রাস্তাসহ বিভিন্ন জায়গায় রোগীদের শুয়ে থাকতে হচ্ছে। শয্যা সংকটের কারণে ডেঙ্গু আক্রান্তদেরও আলাদা রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত মশারির ব্যবস্থাও নেই।

হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তদের পাশাপাশি অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। তাঁদের একই স্থানে রাখায় সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রোগী ও স্বজনরা। অনেকে অভিযোগ করেছেন, চিকিৎসক নিয়মিত পাওয়া যায় না এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের বড় অংশ বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে।

হাসপাতালের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৮১০। অক্টোবরের প্রথম নয় দিনের মধ্যে প্রতিদিনই ভর্তি রোগীর সংখ্যা আড়াই হাজারের বেশি ছিল। ৫ অক্টোবর সর্বোচ্চ ২ হাজার ৯০৪ জন রোগী ভর্তি ছিলেন।

একই দিন হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ১৩৯। তাঁদের চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত ওয়ার্ডে শয্যা রয়েছে মাত্র ৩০টি। ফলে বাড়তি রোগীদের সবাইকে আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

চিকিৎসক ও কর্মচারীর সংকট

হাসপাতাল সূত্র জানায়, চিকিৎসকের ৩২৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ২৩৬ জন। শূন্য রয়েছে ৮৭টি পদ। নার্সের ১ হাজার ৬২টি পদের বিপরীতে কর্মরত ১ হাজার ৪ জন।

এ ছাড়া তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর ১৬১টি পদের মধ্যে কর্মরত ৮৭ জন এবং চতুর্থ শ্রেণির ৪৩৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ২০৯ জন। দুই শ্রেণি মিলিয়ে ৫৯৪টি পদের মধ্যে শূন্য রয়েছে ২৯৮টি। ঘাটতি সামাল দিতে ২২২ জন আউটসোর্সিং কর্মী কাজ করছেন।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, বিদ্যমান জনবল কাঠামো অনুযায়ী ৫০০টির কিছু বেশি শয্যার রোগীকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে হাসপাতালের। অথচ এই জনবল দিয়েই প্রায় তিন হাজার ভর্তি রোগী এবং বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিন হাজার রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহ করা হয় এক হাজার শয্যার হিসাব অনুযায়ী। ফলে একটি ওয়ার্ডে সাত দিনের জন্য সরবরাহ করা ওষুধ তিন দিনেই শেষ হয়ে যায়। নিয়মিত ওষুধ না পাওয়ার পেছনে এটিও একটি কারণ।

শয্যা বাড়ানোর উদ্যোগ

হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. মাজহারুল রেজওয়ান জানান, রোগীর চাপ সামাল দিতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সাম্প্রতিক সভায় শয্যাসংখ্যা দুই হাজারে উন্নীত করার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে।

তবে শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী ও ওষুধ সরবরাহের সক্ষমতা বাড়ানো না গেলে রোগীদের দুর্ভোগ কমানো কঠিন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

বিমানকর্মীকে কামড়, পুলিশ-নার্সকে লাথি, নতুন মামলায় হলিউড অভিনেত্রী

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১২ অপরাহ্ণ
বিমানকর্মীকে কামড়, পুলিশ-নার্সকে লাথি, নতুন মামলায় হলিউড অভিনেত্রী

হলিউড অভিনেত্রী সেলমা ব্লেয়ারকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে নিউইয়র্কগামী ডেলটা এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজে দুই বিমানকর্মীর ওপর হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর এবার পুলিশ কর্মকর্তা ও এক নার্সকে লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে অভিনেত্রীর আইনজীবীর দাবি, ঘটনাগুলো ইচ্ছাকৃত ছিল না; গুরুতর শারীরিক সমস্যার কারণে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), সিবিএস নিউজ ও দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর রাতে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি অবতরণের পর সেলমা ব্লেয়ারকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরদিন ১২ অক্টোবর আদালতে হাজির হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের একাংশ অস্বীকার করেন ৫৪ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী।

হাসপাতালে নেওয়ার সময় পুলিশ কর্মকর্তাকে লাথি মারার অভিযোগ

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, উড়োজাহাজে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর সেলমাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় তাঁকে স্ট্রেচারে নিরাপদে রাখার চেষ্টা করেন দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা। অভিযোগ অনুযায়ী, সেলমা বাঁধন থেকে একটি পা বের করে ওই কর্মকর্তার মুখ, ঘাড় ও বুকে একাধিকবার লাথি মারেন।

হাসপাতালে পৌঁছানোর পরও একই ধরনের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানে দায়িত্ব পালন করা এক নার্সের বুকে লাথি মারার অভিযোগ রয়েছে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে।

এসব ঘটনায় নিউইয়র্কের কুইন্স আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার হামলার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। ১২ অক্টোবর রাতে আদালতে হাজির হলে তাঁর আইনজীবী শন বার্নস অভিযোগ অস্বীকার করেন।

আদালত নগদ ২০ হাজার ডলার জামিন অথবা ৬০ হাজার ডলারের বন্ডের অঙ্ক নির্ধারণ করেন। পরবর্তী শুনানির তারিখ রাখা হয়েছে আগামী জানুয়ারিতে।

উড়োজাহাজে দুই বিমানকর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ

সেলমা ব্লেয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ডেলটা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৯৩৮-এ ভ্রমণের সময় তিনি একজন বিমানকর্মীকে ঘুষি মারেন এবং আরেকজনকে কামড় দেন। এ ছাড়া উড়োজাহাজটি আকাশে থাকা অবস্থায় দরজা খোলার চেষ্টা করার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে দরজা খোলার চেষ্টার অভিযোগের বিস্তারিত স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।

ফ্লাইটটি লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে নিউইয়র্ক যাচ্ছিল। জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর রাত প্রায় ১১টার দিকে উড়োজাহাজের এক যাত্রীর আক্রমণাত্মক আচরণের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে খবর পৌঁছায়। পরে বন্দর কর্তৃপক্ষের পুলিশ সদস্যরা উড়োজাহাজটির কাছে যান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই বিমানকর্মী আহত হওয়ার কথা জানান। তাঁদের মধ্যে একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। উড়োজাহাজের পাইলটের সঙ্গে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ডিংয়েও আহত ব্যক্তিদের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। সেখানে নাক দিয়ে রক্ত পড়া ও কামড়ের দাগের কথা উল্লেখ করেন পাইলট। আহত ব্যক্তিদের পরীক্ষা করার জন্য বিমানবন্দরে চিকিৎসাকর্মী প্রস্তুত রাখার অনুরোধও জানান তিনি।

সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, উড়োজাহাজের কর্মীদের সেলমাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়েছিল। তবে ঠিক কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ফেডারেল আদালতেও চলবে আইনি প্রক্রিয়া

উড়োজাহাজের ভেতরে ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের মামলার পাশাপাশি ফেডারেল পর্যায়েও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এপির বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উড়োজাহাজে হামলার অভিযোগসংক্রান্ত নোটিশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই।

মামলাটি ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে নিষ্পত্তির কথা রয়েছে। তবে এ ঘটনায় সেলমার আদালতে হাজিরার তারিখ তখনো নির্ধারিত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে উড়োজাহাজে কথিত হামলা এবং পরে পুলিশ কর্মকর্তা ও নার্সকে লাথি মারার অভিযোগ—দুই পর্যায়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে পৃথক আইনি কার্যক্রম চলছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।

আইনজীবীর দাবি, ওষুধ বাদ পড়া ও মাথায় আঘাতে বিভ্রান্ত হয়েছিলেন

সেলমা ব্লেয়ারের আইনজীবী আদালতে দাবি করেছেন, তাঁর মক্কেলের আচরণ ইচ্ছাকৃত ছিল না। নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ ও নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনের বরাতে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, সেলমা এমন একটি ওষুধের একাধিক নির্ধারিত মাত্রা নিতে পারেননি, যা তাঁর গুরুতর স্নায়বিক উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেসে কাজের অতিরিক্ত চাপের পর উড়োজাহাজে উঠেছিলেন অভিনেত্রী। যাত্রাপথে তাঁর মাথায় আঘাতও লাগে বলে দাবি করা হয়েছে। ওষুধের মাত্রা বাদ পড়া, মাথায় আঘাত এবং উড়োজাহাজের উচ্চতার প্রভাব মিলিয়ে তিনি তীব্র বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছিলেন বলে আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়।

এর আগে সেলমার প্রতিনিধিও ভ্যারাইটিকে বলেছিলেন, তাঁর শারীরিক জরুরি অবস্থার কারণেই কথিত ঘটনাগুলো ঘটেছিল। উড়োজাহাজ অবতরণের পরপরই তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং তখন তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল ছিল বলে জানানো হয়েছিল।

তবে এসব বক্তব্য অভিনেত্রীর আইনজীবী ও প্রতিনিধির দাবি। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং অভিযোগগুলোর আইনি নিষ্পত্তি আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হবে।

২০১৮ সালে মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানান

সেলমা ব্লেয়ারের শারীরিক অবস্থার প্রসঙ্গ সামনে আসায় তাঁর দীর্ঘদিনের অসুস্থতার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ২০১৮ সালে তিনি প্রকাশ্যে জানান, তিনি মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসে (এমএস) আক্রান্ত। এটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যা মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডের স্নায়ুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

রোগ শনাক্ত হওয়ার কথা জানানোর পর থেকে নিজের শারীরিক অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিয়েও কাজ করেছেন তিনি।

২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকারবিষয়ক আইন প্রণয়নের বার্ষিকী উপলক্ষে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে তাঁকে দেখা যায়।

তবে সেলমার বর্তমান ঘটনায় তাঁর অসুস্থতার ভূমিকা সম্পর্কে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা আইনজীবী ও প্রতিনিধির বক্তব্য হিসেবেই বিবেচ্য। কেবল তাঁর রোগের ইতিহাসের ভিত্তিতে ঘটনার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

২০১৬ সালেও উড়োজাহাজে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন

উড়োজাহাজে ভ্রমণের সময় সেলমা ব্লেয়ারের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা এর আগেও ঘটেছিল। ২০১৬ সালে মেক্সিকোর কানকুন থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসগামী একটি ফ্লাইটে ভ্রমণের সময় অস্বাভাবিক আচরণের পর তাঁকে স্ট্রেচারে করে উড়োজাহাজ থেকে নামানো হয়। সে সময় তাঁর সঙ্গে চার বছর বয়সী ছেলে ছিল।

পরে সেলমা জানিয়েছিলেন, এক গ্লাস ওয়াইন পান করার পর ওষুধ গ্রহণ করায় তিনি নিজের আচরণের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন। ওই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি অভিজ্ঞতাটিকে ভয়াবহ ও আতঙ্কজনক বলে বর্ণনা করেছিলেন।

একজন মা হিসেবে এমন পরিস্থিতিতে পড়া তাঁর নিজের কাছেও অস্বাভাবিক ছিল বলে মন্তব্য করেছিলেন অভিনেত্রী।

‘ক্রুয়েল ইনটেনশনস’ থেকে হলিউডে পরিচিতি

১৯৯৯ সালের চলচ্চিত্র ‘ক্রুয়েল ইনটেনশনস’ এবং ২০০১ সালের ‘লিগ্যালি ব্লন্ড’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পরিচিতি পান সেলমা ব্লেয়ার। পরে ২০০৪ সালের ‘হেলবয়’ চলচ্চিত্রেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বিভিন্ন চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রযোজনায় কাজ করেছেন এই অভিনেত্রী। এবার উড়োজাহাজে কথিত হামলা এবং পরবর্তী ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আন্তর্জাতিক বিনোদনমাধ্যমের আলোচনায় এসেছে।

বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে। আইনজীবী এসব ঘটনাকে অনিচ্ছাকৃত বলে দাবি করলেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে।

কালের আলো/এসএ

বর্তমান সরকারের মেয়াদেই আগারগাঁওয়ে স্থানান্তর হবে সচিবালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৬ অপরাহ্ণ
বর্তমান সরকারের মেয়াদেই আগারগাঁওয়ে স্থানান্তর হবে সচিবালয়

বর্তমান সরকারের মেয়াদেই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরের পরিকল্পনা

গণপূর্তমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই সচিবালয় আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। রাজধানীর প্রশাসনিক অবকাঠামো স্থানান্তরের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি দপ্তরগুলোর অবস্থান ও কার্যক্রম পরিচালনায় পরিবর্তন আসবে।

তবে সচিবালয় স্থানান্তরের নির্দিষ্ট সময়সূচি, নির্মাণকাজের অগ্রগতি, প্রকল্পের ব্যয় কিংবা স্থানান্তর প্রক্রিয়ার বিস্তারিত বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে আর কোনো তথ্য জানানো হয়েছে কি না, তা প্রাপ্ত তথ্যে উল্লেখ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যারা

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, সচিব মো. ওবায়দুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সংবাদ সম্মেলনের মূল বিষয় ছিল নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন। এ সময় সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

শুটিংয়ে ক্যামেরাসহ মুখের ওপর ডিওপি, নাকে গুরুতর আঘাত প্রিয়ন্তী উর্বীর

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫০ অপরাহ্ণ
শুটিংয়ে ক্যামেরাসহ মুখের ওপর ডিওপি, নাকে গুরুতর আঘাত প্রিয়ন্তী উর্বীর
নাটকের শুটিং করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী প্রিয়ন্তী উর্বী। হাসপাতালের বেডে শুয়ে একটি দৃশ্যের শুটিং করার সময় ভারসাম্য হারিয়ে ক্যামেরাসহ তাঁর মুখের ওপর পড়ে যান নাটকের চিত্রগ্রাহক (ডিওপি)। এতে নাকে আঘাত পান অভিনেত্রী। দুর্ঘটনার পর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে এক্স-রে করানো হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে ব্যথার ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক খাচ্ছেন তিনি।

তবে আঘাত পেয়েও শুটিং বন্ধ রাখেননি প্রিয়ন্তী। নিজের শারীরিক কষ্টের মধ্যেও কাজ শেষ করতে শরাত সোমবার ( ১২ অক্টোবর) রাত ২টা পর্যন্ত শুটিং করেছেন তিনি। এমনকি আজও শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে একটি পোস্ট দিয়েছেন প্রিয়ন্তী উর্বী। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, শুটিংয়ের সময় ঘটে যাওয়া ঘটনাটি ছিল তাঁর জন্য অত্যন্ত ভীতিকর ও কষ্টকর।

অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, একটি দৃশ্যে তাঁকে হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকতে হচ্ছিল। কয়েকজন মিলে বেডটি টেনে তাঁকে একটি কক্ষে নিয়ে যাচ্ছিলেন। দৃশ্যটির ক্লোজ শট নেওয়ার জন্য চিত্রগ্রাহক বেডের ওপর উঠে তাঁর মুখের সামনে ক্যামেরা সেট করছিলেন।

এ সময় তাঁরা মহাখালী ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে শুটিং করছিলেন। শট চলাকালে বেডটি ঝাঁকি খাওয়ায় ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন চিত্রগ্রাহক। এরপর ক্যামেরাসহ সরাসরি প্রিয়ন্তী উর্বীর মুখের ওপর পড়ে যান তিনি। আকস্মিক এই ঘটনায় মুহূর্তের জন্য কিছু দেখতে ও কথা বলতে পারছিলেন না অভিনেত্রী। অসহনীয় ব্যথায় কাতর হয়ে পড়েন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে প্রিয়ন্তী লিখেছেন, শুটিংয়ের দুর্ঘটনাটি তাঁর কাছে ছিল ভয়ংকর। ঘটনার পর হাসপাতালে গিয়ে এক্স-রে করানো হয়। বর্তমানে ওষুধ খাচ্ছেন তিনি।

‘কারও কোনো দোষ নেই, এটা দুর্ঘটনা’

দুর্ঘটনায় আহত হলেও কাউকে দায়ী করতে চান না প্রিয়ন্তী উর্বী। তাঁর মতে, শুটিংয়ের সময় সবাই নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবেই পালন করছিলেন। এটি ছিল সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা।

এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘এখানে একটা কথা পরিষ্কার করে বলতে চাই, এখানে কারও কোনো দোষ নেই। এটা একটা দুর্ঘটনা ছিল। সবাই নিজের কাজটা ঠিকভাবেই করছিলেন। কিন্তু দুর্ঘটনাটা আমার সঙ্গে ঘটেছে, আর আমি যে ব্যথার মধ্য দিয়ে গিয়েছি, সেটা একদম বাস্তব।’

অর্থাৎ, দুর্ঘটনার জন্য কাউকে দোষারোপ না করলেও সেই মুহূর্তে তাঁকে যে তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে, তা তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্যে দুর্ঘটনার আকস্মিকতা এবং ব্যথার তীব্রতা—দুটিই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আহত হয়েও থামেনি শুটিং

দুর্ঘটনার পর শারীরিকভাবে কষ্টে থাকলেও কাজ শেষ করার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন প্রিয়ন্তী উর্বী। তিনি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার দিন রাত ২টা পর্যন্ত শুটিং করেছেন। পরদিনও শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন।

অভিনেত্রীর ভাষ্য, আর মাত্র একদিন শুটিং করলেই নাটকটির কাজ শেষ হয়ে যাবে। এ অবস্থায় নিজের কারণে পরিচালক কিংবা শুটিং টিমের অন্য সদস্যরা সমস্যায় পড়ুন, তা চাননি তিনি। সে কারণেই কষ্ট থাকা সত্ত্বেও কাজটি শেষ করে দিতে চাইছেন।

তবে আহত অবস্থায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার পেছনে তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা জানালেও শারীরিক সুস্থতা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দুর্ঘটনার পর নাকে ফোলা ও তীব্র ব্যথা থাকায় চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি নিজের শারীরিক অবস্থার প্রতিও নজর রাখতে হচ্ছে তাঁকে।

‘মনের মতো’ নাটকে অভিনয় করছেন উর্বী

জানা গেছে, প্রিয়ন্তী উর্বী বর্তমানে ‘মনের মতো’ নামের একটি নাটকের শুটিং করছেন। রাসেল আজম পরিচালিত নাটকটিতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করছেন আরশ খান।

নাটকটির শুটিং চলাকালেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি সামনে আসে। তবে ঘটনার জন্য কাউকে দায়ী না করে এটিকে দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখছেন প্রিয়ন্তী।

আঘাত ও ব্যথার মধ্যেও শুটিং চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এখন নাকের ফোলা ও ব্যথা কাটিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার অপেক্ষায় এই অভিনেত্রী।

কালের আলো/এসএ