খুঁজুন
                               
, ,
           

জীবনযাপনের ব্যয় বৃদ্ধিতে স্বস্তি নেই

সঞ্চয় ফুরোচ্ছে, মধ্যবিত্ত নামছে নিম্নবিত্তের কাতারে

গাইবান্ধা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ
সঞ্চয় ফুরোচ্ছে, মধ্যবিত্ত নামছে নিম্নবিত্তের কাতারে

গাইবান্ধা শহরের পুরাতন বাজারে সকালে ক্রেতার ভিড় থাকে। তবে সেই ভিড়ের অনেকেই পণ্য কিনতে নয়, দাম জানতে আসেন। কেউ সবজির ঝুড়ি থেকে আধা কেজি তুলে আবার নামিয়ে রাখেন, কেউ ডিমের দাম শুনে চলে যান ডালের দোকানে। মাসের পর মাস ধরে চলা এই চিত্র যেন জানিয়ে দিচ্ছে, সংসারের আয়-ব্যয়ের হিসাব আর মিলছে না। নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতের ব্যয় সামলাতে গিয়ে ফুরিয়ে আসছে সঞ্চয়। অনেকে বাধ্য হচ্ছেন ঋণ করতে, কমাতে হচ্ছে প্রয়োজনীয় খরচও। এই চাপে ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে মধ্যবিত্তের আর্থিক নিরাপত্তা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে দেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশে, আগস্টে যা ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ২২ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ খাবারের পাশাপাশি বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতের মতো খাতেও ব্যয়ের চাপ বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ২১ শতাংশ। একই সময়ে মানুষের আয় বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ। ফলে আয় বাড়লেও ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছেন না অনেকেই। জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ের চাপও পণ্য ও সেবার দামে প্রভাব ফেলছে।

আয় বাড়লেও কমছে সংসারের স্বস্তি

গাইবান্ধা পৌর এলাকায় রিকশা চালান সাহারুল ইসলাম (৪৫)। প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় করেন তিনি। পাঁচ বছর আগেও এই আয়ে স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে সংসার মোটামুটি ভালোই চলত। এখন ঘরভাড়া, চাল-সবজি এবং সন্তানদের পড়াশোনার খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁকে।

সংসারের ব্যয় সামলাতে তাঁর স্ত্রী এখন আশপাশের বাড়িতে কাজ করেন। ছোট ছেলে স্কুলের ফাঁকে দোকানে ফরমাশ খাটে। পরিবারের মোট আয় আগের তুলনায় বাড়লেও স্বস্তি ফেরেনি। সাহারুল বলেন, ‘আয় বাড়ছে, কিন্তু শান্তি বাড়ছে না। সবজির দোকানে যেতেই এখন ভয় লাগে।’

শুধু দিনমজুর কিংবা রিকশাচালক নন, নির্দিষ্ট বেতনের চাকরিজীবীরাও একই সংকটে পড়েছেন। শহরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাজ্জাদ মাহমুদের (৩৮) বেতন কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু মাসের ২০ তারিখ পার হলেই শুরু হয় ধারদেনার চিন্তা।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শারমিন শাম্মী (৪২) বলেন, ‘বাসাভাড়া আর গাড়িভাড়া হুট করে বাড়ানো যায়, বেতন তো ইচ্ছেমতো বাড়ে না। শখ-আহ্লাদ দূরে থাক, টিকে থাকাই এখন কঠিন।’

একসময় মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক বাজেটে বাড়িভাড়া, বাজার, সন্তানের পড়াশোনার খরচ মিটিয়ে কিছু টাকা সঞ্চয়ের সুযোগ থাকত। এখন অনেক পরিবারের হিসাব প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। মাস শেষে সঞ্চয় তো দূরের কথা, ধারদেনা না করে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।

সঞ্চয় ভেঙে চলছে সংসার

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অবলম্বনের নির্বাহী পরিচালক প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের প্রকৃত আয় ধারাবাহিকভাবে কমেছে। যাঁদের আয় কাগজে-কলমে বেড়েছে, তাঁরাও বাস্তবে আর্থিকভাবে চাপে পড়েছেন।

তাঁর মতে, অনেক পরিবার জমানো টাকা তুলে সংসারের খরচ চালাচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর পাশাপাশি সস্তা পণ্য কিনছে। এমনকি চিকিৎসা ও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতেও খরচ কমাতে বাধ্য হচ্ছে অনেকে।

গাইবান্ধার পাড়া-মহল্লায় এই পরিবর্তনের চিত্র স্পষ্ট। মাছ-মাংস কেনা কমেছে অনেক পরিবারে। ডিম, ডাল ও সবজি হয়ে উঠেছে ভরসা। ছোটখাটো অসুস্থতায় চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার বদলে অনেকে ওষুধের দোকান থেকে ওষুধ কিনছেন। বাইরে খাওয়া কিংবা পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার মতো ব্যয় বাদ পড়ছে মাসিক বাজেট থেকে। কেউ সন্তানকে তুলনামূলক ব্যয়বহুল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে কম খরচের স্কুলে ভর্তি করছেন। কেউ আত্মীয়স্বজনের কাছে সাহায্য চাইছেন, আবার কেউ ঋণ করে সংসার চালাচ্ছেন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতির চাপে সবচেয়ে জটিল অবস্থায় পড়েছে মধ্যবিত্ত শ্রেণি। উচ্চ আয়ের মানুষের ব্যয় সংকোচনের সুযোগ থাকলেও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য রয়েছে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি। কিন্তু মধ্যবিত্তের বড়ো একটি অংশ এসব সহায়তার বাইরে থেকে যায়। ফলে সঞ্চয় শেষ হয়ে গেলে আর্থিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার বিকল্পও সীমিত হয়ে পড়ে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সামাজিক মর্যাদা রক্ষার চাপ। লোকলজ্জার ভয়ে অনেকেই নিজেদের সংকটের কথা প্রকাশ করতে চান না। সহায়তার প্রয়োজন হলেও কেউ কেউ টিসিবির পণ্য কেনার লাইনে দাঁড়াতে দ্বিধা করেন। ফলে তাঁদের আর্থিক সংকট অনেক সময় পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

লেখক ও গবেষক জহুরুল কাইয়ুমের মতে, দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক চাপ মানুষের সামাজিক অবস্থানকে নিচের দিকে ঠেলে দিতে পারে। আজ যিনি মধ্যবিত্ত, সঞ্চয় শেষ হয়ে ঋণের বোঝা বাড়তে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যে তাঁর জীবনযাত্রা নিম্নবিত্তের পর্যায়ে নেমে যেতে পারে।

কৃষিপ্রধান জেলাতেও বাড়ছে চাপ

গাইবান্ধা কৃষিপ্রধান জেলা। ধান, পাট, ভুট্টা, সবজি ও চরাঞ্চলের ফসলের ওপর নির্ভর করে এখানকার অর্থনীতির বড়ো একটি অংশ। তারপরও বাজারের বাড়তি দামের চাপ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না জেলার মানুষ। কারণ, মূল্যস্ফীতির প্রভাব শুধু শহরের ভোক্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; উৎপাদন থেকে পরিবহন, পাইকারি বাজার ও খুচরা বিক্রি—পুরো সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে।

কৃষকদের সেচের ডিজেল, বিদ্যুৎ, সার ও পরিবহন বাবদ বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। অথচ উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে তাঁদের সব সময় নিশ্চয়তা থাকে না। আবার সেই কৃষকই বাজারে গিয়ে চাল, তেল, ডাল, মাছ ও ওষুধ কিনতে উচ্চ দামের মুখোমুখি হচ্ছেন। অর্থাৎ উৎপাদক ও ভোক্তা—দুই ভূমিকাতেই তাঁদের বাড়তি চাপ সামলাতে হচ্ছে।

স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, দোকানি, শিক্ষক ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের আয়ও নির্ভর করে বাজারে মানুষের কেনাকাটার সক্ষমতার ওপর। সংসারের খরচ মেটাতে গিয়ে মানুষ যখন কেনাকাটা কমিয়ে দেন, তখন বেচাকেনাও কমে যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হন ছোট ব্যবসায়ীরা, সংকুচিত হয় স্থানীয় অর্থনীতির গতি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও বাধাগ্রস্ত হয়।

নদীভাঙন ও বন্যার ঝুঁকিতে থাকা চরাঞ্চলের মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন। একটি দুর্যোগেই তাঁদের বছরের সঞ্চয় শেষ হয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লে নতুন করে আর্থিক নিরাপত্তা গড়ে তোলার সুযোগও কমে যায়।

সংকটের প্রভাব পড়ছে অর্থনীতিতেও

ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার প্রভাব পড়ছে ব্যবসা ও বিনিয়োগেও। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বলছে, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ক্রেতাদের চাহিদা কমে যাওয়ায় বেসরকারি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে। উৎপাদন ও ব্যবসা সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরির পথও সংকুচিত হয়।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণায়ও দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন আয়ের পরিবারের ওপর বাড়তি চাপের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এসব পরিবারের বাজেটের বড়ো অংশ খাবারের পেছনে ব্যয় হয়। প্রকৃত আয় কমে গেলে খাবারের ব্যয় কমানোর সুযোগ সীমিত থাকায় অন্য প্রয়োজনীয় খাত থেকে খরচ কাটতে হয়।

অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু মুদ্রানীতির মাধ্যমে এ সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা, বাজারের অব্যবস্থাপনা এবং পণ্য বিতরণে ত্রুটিও মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াতে পারে। তাই বাজার তদারকি জোরদার, পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক সহায়তা

গাইবান্ধার মতো জেলায় মূল্যস্ফীতির প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। কৃষি উপকরণের দাম ও সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ এবং সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর জন্য কার্যকর সহায়তা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্যও এমন সহায়তা প্রয়োজন, যাতে সঞ্চয় শেষ হওয়ার আগেই তারা আর্থিক ধাক্কা সামাল দেওয়ার সুযোগ পায়। পাশাপাশি শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ।

গাইবান্ধার বাজারে সন্ধ্যা নামলে দোকানিরা বাতি জ্বালান, ক্রেতারা হাতে থলে নিয়ে বাড়ি ফেরেন। কিন্তু অনেকের থলে এখন আগের তুলনায় হালকা। সেই হালকা থলে শুধু কম কেনাকাটার চিত্র নয়; এটি ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসা ক্রয়ক্ষমতা, ফুরিয়ে যাওয়া সঞ্চয় এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতেরও প্রতীক।

মাস শেষে ঘরে চাল থাকবে কি না, সন্তানের স্কুলের ফি দেওয়া যাবে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন অসংখ্য পরিবার। বাজার তদারকি, সরবরাহব্যবস্থার উন্নতি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও সীমিত আয়ের মানুষের জন্য কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করা না গেলে এই চাপ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ফসলের মাঠে উৎপাদন থাকলেও তাতে ঘরে ঘরে স্বস্তি ফিরবে না, যদি মানুষের হাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার মতো অর্থ না থাকে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

বিমানকর্মীকে কামড়, পুলিশ-নার্সকে লাথি, নতুন মামলায় হলিউড অভিনেত্রী

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১২ অপরাহ্ণ
বিমানকর্মীকে কামড়, পুলিশ-নার্সকে লাথি, নতুন মামলায় হলিউড অভিনেত্রী

হলিউড অভিনেত্রী সেলমা ব্লেয়ারকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে নিউইয়র্কগামী ডেলটা এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজে দুই বিমানকর্মীর ওপর হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর এবার পুলিশ কর্মকর্তা ও এক নার্সকে লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে অভিনেত্রীর আইনজীবীর দাবি, ঘটনাগুলো ইচ্ছাকৃত ছিল না; গুরুতর শারীরিক সমস্যার কারণে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), সিবিএস নিউজ ও দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর রাতে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি অবতরণের পর সেলমা ব্লেয়ারকে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরদিন ১২ অক্টোবর আদালতে হাজির হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের একাংশ অস্বীকার করেন ৫৪ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী।

হাসপাতালে নেওয়ার সময় পুলিশ কর্মকর্তাকে লাথি মারার অভিযোগ

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, উড়োজাহাজে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর সেলমাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় তাঁকে স্ট্রেচারে নিরাপদে রাখার চেষ্টা করেন দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা। অভিযোগ অনুযায়ী, সেলমা বাঁধন থেকে একটি পা বের করে ওই কর্মকর্তার মুখ, ঘাড় ও বুকে একাধিকবার লাথি মারেন।

হাসপাতালে পৌঁছানোর পরও একই ধরনের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানে দায়িত্ব পালন করা এক নার্সের বুকে লাথি মারার অভিযোগ রয়েছে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে।

এসব ঘটনায় নিউইয়র্কের কুইন্স আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মাত্রার হামলার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। ১২ অক্টোবর রাতে আদালতে হাজির হলে তাঁর আইনজীবী শন বার্নস অভিযোগ অস্বীকার করেন।

আদালত নগদ ২০ হাজার ডলার জামিন অথবা ৬০ হাজার ডলারের বন্ডের অঙ্ক নির্ধারণ করেন। পরবর্তী শুনানির তারিখ রাখা হয়েছে আগামী জানুয়ারিতে।

উড়োজাহাজে দুই বিমানকর্মীর ওপর হামলার অভিযোগ

সেলমা ব্লেয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ডেলটা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৯৩৮-এ ভ্রমণের সময় তিনি একজন বিমানকর্মীকে ঘুষি মারেন এবং আরেকজনকে কামড় দেন। এ ছাড়া উড়োজাহাজটি আকাশে থাকা অবস্থায় দরজা খোলার চেষ্টা করার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে দরজা খোলার চেষ্টার অভিযোগের বিস্তারিত স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।

ফ্লাইটটি লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে নিউইয়র্ক যাচ্ছিল। জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর রাত প্রায় ১১টার দিকে উড়োজাহাজের এক যাত্রীর আক্রমণাত্মক আচরণের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে খবর পৌঁছায়। পরে বন্দর কর্তৃপক্ষের পুলিশ সদস্যরা উড়োজাহাজটির কাছে যান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই বিমানকর্মী আহত হওয়ার কথা জানান। তাঁদের মধ্যে একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। উড়োজাহাজের পাইলটের সঙ্গে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ডিংয়েও আহত ব্যক্তিদের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। সেখানে নাক দিয়ে রক্ত পড়া ও কামড়ের দাগের কথা উল্লেখ করেন পাইলট। আহত ব্যক্তিদের পরীক্ষা করার জন্য বিমানবন্দরে চিকিৎসাকর্মী প্রস্তুত রাখার অনুরোধও জানান তিনি।

সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, উড়োজাহাজের কর্মীদের সেলমাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়েছিল। তবে ঠিক কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ফেডারেল আদালতেও চলবে আইনি প্রক্রিয়া

উড়োজাহাজের ভেতরে ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের মামলার পাশাপাশি ফেডারেল পর্যায়েও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এপির বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উড়োজাহাজে হামলার অভিযোগসংক্রান্ত নোটিশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই।

মামলাটি ব্রুকলিনের ফেডারেল আদালতে নিষ্পত্তির কথা রয়েছে। তবে এ ঘটনায় সেলমার আদালতে হাজিরার তারিখ তখনো নির্ধারিত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে উড়োজাহাজে কথিত হামলা এবং পরে পুলিশ কর্মকর্তা ও নার্সকে লাথি মারার অভিযোগ—দুই পর্যায়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে পৃথক আইনি কার্যক্রম চলছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।

আইনজীবীর দাবি, ওষুধ বাদ পড়া ও মাথায় আঘাতে বিভ্রান্ত হয়েছিলেন

সেলমা ব্লেয়ারের আইনজীবী আদালতে দাবি করেছেন, তাঁর মক্কেলের আচরণ ইচ্ছাকৃত ছিল না। নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ ও নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনের বরাতে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, সেলমা এমন একটি ওষুধের একাধিক নির্ধারিত মাত্রা নিতে পারেননি, যা তাঁর গুরুতর স্নায়বিক উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেসে কাজের অতিরিক্ত চাপের পর উড়োজাহাজে উঠেছিলেন অভিনেত্রী। যাত্রাপথে তাঁর মাথায় আঘাতও লাগে বলে দাবি করা হয়েছে। ওষুধের মাত্রা বাদ পড়া, মাথায় আঘাত এবং উড়োজাহাজের উচ্চতার প্রভাব মিলিয়ে তিনি তীব্র বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছিলেন বলে আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়।

এর আগে সেলমার প্রতিনিধিও ভ্যারাইটিকে বলেছিলেন, তাঁর শারীরিক জরুরি অবস্থার কারণেই কথিত ঘটনাগুলো ঘটেছিল। উড়োজাহাজ অবতরণের পরপরই তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং তখন তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল ছিল বলে জানানো হয়েছিল।

তবে এসব বক্তব্য অভিনেত্রীর আইনজীবী ও প্রতিনিধির দাবি। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং অভিযোগগুলোর আইনি নিষ্পত্তি আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হবে।

২০১৮ সালে মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানান

সেলমা ব্লেয়ারের শারীরিক অবস্থার প্রসঙ্গ সামনে আসায় তাঁর দীর্ঘদিনের অসুস্থতার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। ২০১৮ সালে তিনি প্রকাশ্যে জানান, তিনি মাল্টিপল স্ক্লেরোসিসে (এমএস) আক্রান্ত। এটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যা মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডের স্নায়ুর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

রোগ শনাক্ত হওয়ার কথা জানানোর পর থেকে নিজের শারীরিক অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিয়েও কাজ করেছেন তিনি।

২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকারবিষয়ক আইন প্রণয়নের বার্ষিকী উপলক্ষে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে তাঁকে দেখা যায়।

তবে সেলমার বর্তমান ঘটনায় তাঁর অসুস্থতার ভূমিকা সম্পর্কে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা আইনজীবী ও প্রতিনিধির বক্তব্য হিসেবেই বিবেচ্য। কেবল তাঁর রোগের ইতিহাসের ভিত্তিতে ঘটনার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

২০১৬ সালেও উড়োজাহাজে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন

উড়োজাহাজে ভ্রমণের সময় সেলমা ব্লেয়ারের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা এর আগেও ঘটেছিল। ২০১৬ সালে মেক্সিকোর কানকুন থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসগামী একটি ফ্লাইটে ভ্রমণের সময় অস্বাভাবিক আচরণের পর তাঁকে স্ট্রেচারে করে উড়োজাহাজ থেকে নামানো হয়। সে সময় তাঁর সঙ্গে চার বছর বয়সী ছেলে ছিল।

পরে সেলমা জানিয়েছিলেন, এক গ্লাস ওয়াইন পান করার পর ওষুধ গ্রহণ করায় তিনি নিজের আচরণের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন। ওই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি অভিজ্ঞতাটিকে ভয়াবহ ও আতঙ্কজনক বলে বর্ণনা করেছিলেন।

একজন মা হিসেবে এমন পরিস্থিতিতে পড়া তাঁর নিজের কাছেও অস্বাভাবিক ছিল বলে মন্তব্য করেছিলেন অভিনেত্রী।

‘ক্রুয়েল ইনটেনশনস’ থেকে হলিউডে পরিচিতি

১৯৯৯ সালের চলচ্চিত্র ‘ক্রুয়েল ইনটেনশনস’ এবং ২০০১ সালের ‘লিগ্যালি ব্লন্ড’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পরিচিতি পান সেলমা ব্লেয়ার। পরে ২০০৪ সালের ‘হেলবয়’ চলচ্চিত্রেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বিভিন্ন চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রযোজনায় কাজ করেছেন এই অভিনেত্রী। এবার উড়োজাহাজে কথিত হামলা এবং পরবর্তী ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আন্তর্জাতিক বিনোদনমাধ্যমের আলোচনায় এসেছে।

বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে। আইনজীবী এসব ঘটনাকে অনিচ্ছাকৃত বলে দাবি করলেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে।

কালের আলো/এসএ

বর্তমান সরকারের মেয়াদেই আগারগাঁওয়ে স্থানান্তর হবে সচিবালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৬ অপরাহ্ণ
বর্তমান সরকারের মেয়াদেই আগারগাঁওয়ে স্থানান্তর হবে সচিবালয়

বর্তমান সরকারের মেয়াদেই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরের পরিকল্পনা

গণপূর্তমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই সচিবালয় আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। রাজধানীর প্রশাসনিক অবকাঠামো স্থানান্তরের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি দপ্তরগুলোর অবস্থান ও কার্যক্রম পরিচালনায় পরিবর্তন আসবে।

তবে সচিবালয় স্থানান্তরের নির্দিষ্ট সময়সূচি, নির্মাণকাজের অগ্রগতি, প্রকল্পের ব্যয় কিংবা স্থানান্তর প্রক্রিয়ার বিস্তারিত বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে আর কোনো তথ্য জানানো হয়েছে কি না, তা প্রাপ্ত তথ্যে উল্লেখ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যারা

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, সচিব মো. ওবায়দুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সংবাদ সম্মেলনের মূল বিষয় ছিল নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন। এ সময় সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

শুটিংয়ে ক্যামেরাসহ মুখের ওপর ডিওপি, নাকে গুরুতর আঘাত প্রিয়ন্তী উর্বীর

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫০ অপরাহ্ণ
শুটিংয়ে ক্যামেরাসহ মুখের ওপর ডিওপি, নাকে গুরুতর আঘাত প্রিয়ন্তী উর্বীর
নাটকের শুটিং করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী প্রিয়ন্তী উর্বী। হাসপাতালের বেডে শুয়ে একটি দৃশ্যের শুটিং করার সময় ভারসাম্য হারিয়ে ক্যামেরাসহ তাঁর মুখের ওপর পড়ে যান নাটকের চিত্রগ্রাহক (ডিওপি)। এতে নাকে আঘাত পান অভিনেত্রী। দুর্ঘটনার পর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে এক্স-রে করানো হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে ব্যথার ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক খাচ্ছেন তিনি।

তবে আঘাত পেয়েও শুটিং বন্ধ রাখেননি প্রিয়ন্তী। নিজের শারীরিক কষ্টের মধ্যেও কাজ শেষ করতে শরাত সোমবার ( ১২ অক্টোবর) রাত ২টা পর্যন্ত শুটিং করেছেন তিনি। এমনকি আজও শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে একটি পোস্ট দিয়েছেন প্রিয়ন্তী উর্বী। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, শুটিংয়ের সময় ঘটে যাওয়া ঘটনাটি ছিল তাঁর জন্য অত্যন্ত ভীতিকর ও কষ্টকর।

অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, একটি দৃশ্যে তাঁকে হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকতে হচ্ছিল। কয়েকজন মিলে বেডটি টেনে তাঁকে একটি কক্ষে নিয়ে যাচ্ছিলেন। দৃশ্যটির ক্লোজ শট নেওয়ার জন্য চিত্রগ্রাহক বেডের ওপর উঠে তাঁর মুখের সামনে ক্যামেরা সেট করছিলেন।

এ সময় তাঁরা মহাখালী ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে শুটিং করছিলেন। শট চলাকালে বেডটি ঝাঁকি খাওয়ায় ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন চিত্রগ্রাহক। এরপর ক্যামেরাসহ সরাসরি প্রিয়ন্তী উর্বীর মুখের ওপর পড়ে যান তিনি। আকস্মিক এই ঘটনায় মুহূর্তের জন্য কিছু দেখতে ও কথা বলতে পারছিলেন না অভিনেত্রী। অসহনীয় ব্যথায় কাতর হয়ে পড়েন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে প্রিয়ন্তী লিখেছেন, শুটিংয়ের দুর্ঘটনাটি তাঁর কাছে ছিল ভয়ংকর। ঘটনার পর হাসপাতালে গিয়ে এক্স-রে করানো হয়। বর্তমানে ওষুধ খাচ্ছেন তিনি।

‘কারও কোনো দোষ নেই, এটা দুর্ঘটনা’

দুর্ঘটনায় আহত হলেও কাউকে দায়ী করতে চান না প্রিয়ন্তী উর্বী। তাঁর মতে, শুটিংয়ের সময় সবাই নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবেই পালন করছিলেন। এটি ছিল সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত একটি ঘটনা।

এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘এখানে একটা কথা পরিষ্কার করে বলতে চাই, এখানে কারও কোনো দোষ নেই। এটা একটা দুর্ঘটনা ছিল। সবাই নিজের কাজটা ঠিকভাবেই করছিলেন। কিন্তু দুর্ঘটনাটা আমার সঙ্গে ঘটেছে, আর আমি যে ব্যথার মধ্য দিয়ে গিয়েছি, সেটা একদম বাস্তব।’

অর্থাৎ, দুর্ঘটনার জন্য কাউকে দোষারোপ না করলেও সেই মুহূর্তে তাঁকে যে তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে, তা তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্যে দুর্ঘটনার আকস্মিকতা এবং ব্যথার তীব্রতা—দুটিই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আহত হয়েও থামেনি শুটিং

দুর্ঘটনার পর শারীরিকভাবে কষ্টে থাকলেও কাজ শেষ করার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন প্রিয়ন্তী উর্বী। তিনি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার দিন রাত ২টা পর্যন্ত শুটিং করেছেন। পরদিনও শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন।

অভিনেত্রীর ভাষ্য, আর মাত্র একদিন শুটিং করলেই নাটকটির কাজ শেষ হয়ে যাবে। এ অবস্থায় নিজের কারণে পরিচালক কিংবা শুটিং টিমের অন্য সদস্যরা সমস্যায় পড়ুন, তা চাননি তিনি। সে কারণেই কষ্ট থাকা সত্ত্বেও কাজটি শেষ করে দিতে চাইছেন।

তবে আহত অবস্থায় কাজ চালিয়ে যাওয়ার পেছনে তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা জানালেও শারীরিক সুস্থতা এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দুর্ঘটনার পর নাকে ফোলা ও তীব্র ব্যথা থাকায় চিকিৎসা নেওয়ার পাশাপাশি নিজের শারীরিক অবস্থার প্রতিও নজর রাখতে হচ্ছে তাঁকে।

‘মনের মতো’ নাটকে অভিনয় করছেন উর্বী

জানা গেছে, প্রিয়ন্তী উর্বী বর্তমানে ‘মনের মতো’ নামের একটি নাটকের শুটিং করছেন। রাসেল আজম পরিচালিত নাটকটিতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করছেন আরশ খান।

নাটকটির শুটিং চলাকালেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি সামনে আসে। তবে ঘটনার জন্য কাউকে দায়ী না করে এটিকে দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখছেন প্রিয়ন্তী।

আঘাত ও ব্যথার মধ্যেও শুটিং চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এখন নাকের ফোলা ও ব্যথা কাটিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার অপেক্ষায় এই অভিনেত্রী।

কালের আলো/এসএ