খুঁজুন
                               
, ,
           

পাহাড়-টিলা কেটে গড়ে উঠছে রিসোর্ট-কটেজ, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৩২ অপরাহ্ণ
পাহাড়-টিলা কেটে গড়ে উঠছে রিসোর্ট-কটেজ, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

মৌলভীবাজারের পাহাড়-টিলা ও বনাঞ্চল ঘিরে দ্রুত বাড়ছে রিসোর্ট ও কটেজের সংখ্যা। পর্যটনশিল্পের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠছে নতুন নতুন পর্যটনকেন্দ্র। কিন্তু এসব স্থাপনার অনেকগুলোর অনুমোদন ও বৈধতা নিয়ে রয়েছে অস্পষ্টতা। কোথাও পাহাড়-টিলা কেটে সমতল করা হচ্ছে, কোথাও বনাঞ্চলের গাছপালা সরিয়ে তৈরি করা হচ্ছে সড়ক ও আবাসন। এতে বিপন্ন হয়ে পড়ছে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল, স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্র ও খাদ্যের উৎস।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় রিসোর্ট ও কটেজের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ২০০টিতে পৌঁছেছে। এর মধ্যে শ্রীমঙ্গলেই রয়েছে শতাধিক রিসোর্ট। শুধু শহরের রাধানগর এলাকায় ৪০ থেকে ৪৫টি রিসোর্ট রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সংখ্যা, জমির মালিকানা, নির্মাণের অনুমোদন এবং পরিবেশগত ছাড়পত্রের বিষয়ে সরকারি দপ্তরগুলোর কাছে পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

পরিবেশকর্মীদের আশঙ্কা, পর্যটন ব্যবসার নামে পাহাড় ও বনাঞ্চলে অনিয়ন্ত্রিত স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত থাকলে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ আশপাশের বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ইতিমধ্যে বন থেকে সাপ, বানর, গন্ধগোকুল ও মেছো বিড়ালের মতো প্রাণী লোকালয়ে চলে আসার ঘটনাও ঘটছে।

পর্যটনের প্রসারের সঙ্গে বাড়ছে স্থাপনা

মৌলভীবাজারের পর্যটনশিল্পে বড় বিনিয়োগের সূচনা হয় কয়েক বছর আগে। ২০০৮ সালে মৌলভীবাজারকে পর্যটন জেলা ঘোষণার পর ২০১৩ সালে শ্রীমঙ্গলে ১৩ একর জায়গাজুড়ে যাত্রা শুরু করে পাঁচ তারকা মানের গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ। এরপর পর্যায়ক্রমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় রিসোর্ট ও কটেজ নির্মাণ বাড়তে থাকে।

শুরুতে পরিকল্পিতভাবে কিছু রিসোর্ট গড়ে উঠলেও গত পাঁচ বছরে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। এখন কোথাও বাসাবাড়ির কয়েকটি কক্ষকে রিসোর্ট হিসেবে পরিচালনা করা হচ্ছে, আবার কোথাও পাহাড়-টিলা কেটে নতুন স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে।

পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা, বিনোদন এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হলেও এসব স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণ ও আইন মানার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি ও বনাঞ্চল শুধু পর্যটনের আকর্ষণ নয়; বহু বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থলও।

লাউয়াছড়া ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া এলাকায় ১ হাজার ২৫০ হেক্টর ভূমি নিয়ে ১৯৯৬ সালে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হয়। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংরক্ষিত চিরহরিৎ বনাঞ্চল হিসেবে পরিচিত এই উদ্যান ও আশপাশের বনভূমি নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল।

কিন্তু বনাঞ্চলের কাছাকাছি রিসোর্ট-কটেজ নির্মাণ, মানুষের চলাচল বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম আলোর ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। পরিবেশকর্মীদের মতে, পাহাড় ও জঙ্গলের প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হলে প্রাণীরা নিরাপদ আশ্রয় হারায়। একই সঙ্গে তাদের খাদ্য সংগ্রহ ও এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলাচলের পথও বাধাগ্রস্ত হয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে অংশীদারত্বে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন কোম্পানি, ধনাঢ্য ব্যক্তি, আইনজীবী, ব্যাংক কর্মকর্তা, সরকারি কর্মকর্তা এবং জনপ্রিয় তারকাদের কেউ কেউ এসব রিসোর্টে বিনিয়োগ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে বিনিয়োগকারীদের পরিচয় বা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে পাহাড় কাটার অভিযোগের বিষয়ে পৃথকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

মূলধারার রিসোর্ট ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কিছু উদ্যোক্তা স্থানীয়দের কাছ থেকে মাত্র দুই থেকে তিন শতক জমি কিনে রিসোর্টের নামে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এতে প্রকৃত রিসোর্ট ব্যবসার সঙ্গে ছোট পরিসরের আবাসন উদ্যোগের পার্থক্য এবং অনুমোদনের বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

বন ছেড়ে লোকালয়ে বন্যপ্রাণী

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব জানান, চলতি বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে লাউয়াছড়া থেকে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সাপসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে এসেছে।

তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রাণীর মধ্যে অজগর, পদ্ম গোখরা, আইড ক্যাট স্নেক, সবুজ ফণিমনসা, গন্ধগোকুল, বানর ও মেছো বিড়াল রয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করার পর প্রাণীগুলো স্থানীয় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তাঁদের মতে, নির্বিচারে পাহাড় ও জঙ্গল কেটে ফেলা এবং প্রাণীদের আবাসস্থলে মানুষের বিচরণ বেড়ে যাওয়ায় বন্যপ্রাণী বনকে আর নিরাপদ মনে করছে না। ফলে তারা আশ্রয় ও খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসছে।

বন্যপ্রাণীর এ ধরনের বিচরণ মানুষের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে প্রাণীগুলো মানুষের হাতে আহত হওয়া, ধরা পড়া কিংবা আবাসস্থল হারানোর আশঙ্কায় পড়ে। তাই লোকালয়ে বন্যপ্রাণী চলে আসার ঘটনাকে শুধু বিচ্ছিন্ন উদ্ধার কার্যক্রম হিসেবে না দেখে বন ও আবাসস্থল সংরক্ষণের বৃহত্তর সমস্যার অংশ হিসেবে বিবেচনা করার তাগিদ দিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা।

কৃত্রিম আলো ও মানুষের বিচরণেও ব্যাহত হচ্ছে প্রাণীর জীবন

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) জাতীয় পরিষদের সাবেক সদস্য আ.স.ম. ছালেহ সোহেল বলেন, প্রতিটি প্রাণীরই নিরাপদ আবাসস্থল প্রয়োজন। কিন্তু নির্বিচারে পাহাড় ও জঙ্গল কেটে ফেলার কারণে বন্যপ্রাণী তাদের আবাসস্থলে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

তিনি বলেন, বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থলের আশপাশে অসংখ্য রিসোর্ট ও কটেজ গড়ে উঠেছে। এসব স্থাপনায় ব্যবহৃত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কৃত্রিম আলোর বিকিরণ দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এতে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এবং তাদের নিরাপদ আশ্রয় হুমকির মুখে পড়ে।

ছালেহ সোহেলের মতে, রিসোর্টের সংখ্যা ১০ থেকে ২০টির মধ্যে থাকলে পরিস্থিতি হয়তো ভিন্ন হতে পারত। কিন্তু বর্তমানে এ সংখ্যা প্রায় ২০০-তে পৌঁছেছে। এর পাশাপাশি লাউয়াছড়া ও আশপাশের বনাঞ্চলে খাদ্যসংকটও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বন্যপ্রাণী সাধারণত নির্জন পরিবেশে থাকতে পছন্দ করে। কিন্তু বনাঞ্চলের নির্জনতা নষ্ট হওয়া, মানুষের আনাগোনা বেড়ে যাওয়া এবং বিকল্প নিরাপদ আবাসস্থলের অভাবে প্রাণীগুলো লোকালয়ে চলে আসতে বাধ্য হচ্ছে বলে তাঁর অভিমত।

প্রকৃত রিসোর্টের সংখ্যা নিয়ে মতভেদ

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এস কে দাশ সুমন জানান, শ্রীমঙ্গলে প্রায় ১০৩টি রিসোর্ট রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় বা অন্য কোথাও রিসোর্ট নির্মাণ করতে হলে জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি নিতে হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে তাঁর মতে, শ্রীমঙ্গলে পূর্ণাঙ্গ রিসোর্টের সংখ্যা ১০ থেকে ১২টির বেশি হবে না। অর্থাৎ, রিসোর্ট হিসেবে পরিচিত সব স্থাপনা প্রকৃত অর্থে পূর্ণাঙ্গ রিসোর্ট কি না, তা নিয়েও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রীমঙ্গলের এক রিসোর্ট মালিক বলেন, মৌলভীবাজারের পর্যটনশিল্পের উন্নয়নের কথা বিবেচনা করেই গ্র্যান্ড সুলতানের মতো পাঁচ তারকা মানের রিসোর্ট প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। পরে বিভিন্ন শ্রেণির রিসোর্ট ও কটেজ গড়ে ওঠে। তাঁর দাবি, তাঁরা সরকারি আইন মেনেই ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

তবে বর্তমানে বেপরোয়াভাবে রিসোর্ট নির্মাণের প্রবণতা বাড়ায় এসব স্থাপনা কীভাবে এবং কার অনুমতিতে তৈরি হচ্ছে, তা তদারক করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

শ্রীমঙ্গলের গ্র্যান্ড সেলিম রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী সেলিম আহমদও এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, শ্রীমঙ্গলে প্রকৃত অর্থে রিসোর্টের সংখ্যা মাত্র ১০ থেকে ১৫টি। সরকারি নিয়ম মেনে কর দিয়ে যাঁরা ব্যবসা করছেন, তাঁরা নামসর্বস্ব ও অবৈধ রিসোর্টের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

ছাড়পত্র নিয়েছে প্রায় ৫০টি রিসোর্ট

মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাঈদুল ইসলাম জানান, জেলার প্রায় ৫০টি রিসোর্ট পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠান ছাড়পত্র নেয়নি, তাদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও মামলা করা হয়েছে।

তিনি স্বীকার করেন, পাহাড় কেটে অনেকেই রিসোর্ট নির্মাণ করছেন। তবে আইনের ফাঁকফোকরের কারণে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হচ্ছে।

মাঈদুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০টি বা তার বেশি কক্ষ রয়েছে—এমন রিসোর্টের পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিতে হয়। ২০টির কম কক্ষ থাকলে ছাড়পত্র নেওয়ার প্রয়োজন হয় না বলে তিনি জানান।

তবে ছাড়পত্রের সংখ্যা দিয়ে সব স্থাপনার বৈধতা নিশ্চিত করা যায় না। জমির শ্রেণি, পাহাড় বা টিলা কাটার অনুমতি, নির্মাণসংক্রান্ত বিধিবিধান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অনুমোদনও পৃথকভাবে যাচাই করা জরুরি।

পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির উদ্যোগ প্রশাসনের

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, টিলা বা পাহাড় কাটার অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রশাসন তা খতিয়ে দেখছে। শ্রীমঙ্গলে বর্তমানে কতটি হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে, সেগুলোর জমির মালিকানা কী এবং অনুমোদন ও লাইসেন্সের অবস্থা কেমন—এসব তথ্য সংগ্রহ করে পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও তথ্যভান্ডার তৈরির কাজ চলছে।

তিনি আরও জানান, জমি বা টিলার শ্রেণি পরিবর্তনের অনুমোদন না থাকলে তা করতে দেওয়া হচ্ছে না। সম্প্রতি নিয়ম অমান্য করায় দুটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের এ উদ্যোগের মাধ্যমে রিসোর্টগুলোর প্রকৃত সংখ্যা, অনুমোদনের অবস্থা এবং পরিবেশগত বিধিনিষেধ মানার বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে তালিকা তৈরির পাশাপাশি অনিয়ম শনাক্ত হলে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং নিয়মিত তদারকি অব্যাহত রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।

পর্যটন উন্নয়ন বনাম প্রকৃতি সংরক্ষণ

মৌলভীবাজারের পর্যটনশিল্প স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি করছে। কিন্তু সেই উন্নয়ন যদি পাহাড়-টিলা কাটা, বনাঞ্চল সংকুচিত করা এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংসের মাধ্যমে এগিয়ে যায়, তাহলে দীর্ঘ মেয়াদে পর্যটনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ—প্রাকৃতিক পরিবেশ—নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীরা পাহাড়-টিলা কাটা এবং পরিবেশবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধে জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, রিসোর্ট নির্মাণের অনুমোদন যাচাই, জমির প্রকৃত শ্রেণি নির্ধারণ, বনাঞ্চলের সুরক্ষা এবং নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

পর্যটনশিল্পের বিকাশ ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা না গেলে মৌলভীবাজারের পাহাড়, বন ও বন্যপ্রাণীর ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে। তাই প্রকৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে পরিকল্পিত পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং বিদ্যমান অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সংশ্লিষ্টদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

সরকারের মেয়াদেই আগারগাঁওয়ে যাচ্ছে সচিবালয়: গণপূর্তমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১০ অপরাহ্ণ
সরকারের মেয়াদেই আগারগাঁওয়ে যাচ্ছে সচিবালয়: গণপূর্তমন্ত্রী

বর্তমান সরকারের মেয়াদেই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

আগারগাঁওয়ে স্থানান্তরের পরিকল্পনা

গণপূর্তমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই সচিবালয় আগারগাঁওয়ের পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। রাজধানীর প্রশাসনিক অবকাঠামো স্থানান্তরের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকারি দপ্তরগুলোর অবস্থান ও কার্যক্রম পরিচালনায় পরিবর্তন আসবে।

তবে সচিবালয় স্থানান্তরের নির্দিষ্ট সময়সূচি, নির্মাণকাজের অগ্রগতি, প্রকল্পের ব্যয় কিংবা স্থানান্তর প্রক্রিয়ার বিস্তারিত বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে আর কোনো তথ্য জানানো হয়েছে কি না, তা প্রাপ্ত তথ্যে উল্লেখ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যারা

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রীর সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, সচিব মো. ওবায়দুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সংবাদ সম্মেলনের মূল বিষয় ছিল নির্বাহী প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলি ও পদায়ন। এ সময় সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

টেস্ট ইতিহাসে প্রথম লিটন, ব্যাটিংয়ের সঙ্গে উইকেটকিপিংয়েও বিশ্বরেকর্ড

ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৮ অপরাহ্ণ
টেস্ট ইতিহাসে প্রথম লিটন, ব্যাটিংয়ের সঙ্গে উইকেটকিপিংয়েও বিশ্বরেকর্ড

টেস্ট ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক ব্যাটার লিটন কুমার দাস। ব্যাট হাতে দুই ইনিংসেই পঞ্চাশোর্ধ রান করার পাশাপাশি উইকেটের পেছনে ৯টি ডিসমিসাল করে বিরল এক কীর্তি গড়েছেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এক ম্যাচে দুই ইনিংসে অন্তত একটি করে অর্ধশতক এবং ৯টি ডিসমিসালের নজির আগে ছিল না।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টে লিটনের এই অসাধারণ পারফরম্যান্স বাংলাদেশের জন্য যেমন বড় প্রাপ্তি, তেমনি ব্যক্তিগত অর্জনের দিক থেকেও তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ব্যাট হাতে ৫৩ ও ১০২ রানের ইনিংস খেলার পর উইকেটকিপিংয়েও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। দুই ইনিংসে তাঁর এই পারফরম্যান্স টেস্ট ক্রিকেটের রেকর্ডবুকে নতুন অধ্যায় যোগ করেছে।

এবাদতের বলে দুর্দান্ত ক্যাচ, ভাঙল আফগানিস্তানের জুটি

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ইকরাম আলিখিলকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দেন লিটন। এবাদত হোসেনের প্রায় ওয়াইড হয়ে যাওয়া বলে ব্যাট চালাতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ তুলে দেন আফগান ব্যাটার। নিজের শরীর বাঁকিয়ে ও ঝুঁকি নিয়ে দূরে সরে যাওয়া বলটি তালুবন্দি করেন লিটন।

ক্যাচটি ছিল কঠিন, আর ম্যাচের পরিস্থিতিতে সেটির গুরুত্বও ছিল অনেক। ইকরামকে ফিরিয়ে আফগানিস্তানের ৬৬ রানের জুটি ভেঙে দেয় বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে ম্যাচে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হয় টাইগারদের সামনে।

এবাদতের বলে লিটনের এমন অসাধারণ ক্যাচ অবশ্য এই ম্যাচে প্রথম নয়। প্রথম ইনিংসেও তাঁর নেওয়া একটি দৃষ্টিনন্দন ক্যাচ আলোচনায় এসেছিল। এবার দ্বিতীয় ইনিংসেও একই বোলারের বলে দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে নিজের উইকেটকিপিং দক্ষতার প্রমাণ দিলেন বাংলাদেশের এই তারকা।

ডেনিস লিন্ডসের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেলেন লিটন

লিটনের এই কীর্তির আগে টেস্ট ক্রিকেটে একই ম্যাচের দুই ইনিংসে অন্তত অর্ধশতক করার পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৮টি ডিসমিসালের রেকর্ড ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক উইকেটকিপার ডেনিস লিন্ডসের দখলে।

১৯৬৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জোহানেসবার্গ টেস্টে দুই ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ রান করার পাশাপাশি ৮টি ডিসমিসাল করেছিলেন লিন্ডস। দীর্ঘদিন ধরে টিকে থাকা সেই রেকর্ড এবার ছাড়িয়ে গেলেন লিটন।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে চলমান টেস্টে দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৫৩ ও ১০২ রান করেছেন তিনি। একই সঙ্গে উইকেটের পেছনে ৯টি ডিসমিসাল পূর্ণ করে নতুন রেকর্ড গড়েছেন বাংলাদেশের এই ক্রিকেটার। ব্যাটিং ও উইকেটকিপিং—দুই ক্ষেত্রেই এমন ধারাবাহিকতা টেস্ট ক্রিকেটে বিরল।

৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় চাপে আফগানিস্তান

ম্যাচে বাংলাদেশ আগে ব্যাট করে বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় এবং আফগানিস্তানের সামনে জয়ের জন্য ৪৭৯ রানের লক্ষ্য দেয়। আগের দিন খেলা শেষ হওয়ার সময় দ্বিতীয় ইনিংসে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১৩২ রান।

পঞ্চম ও শেষ দিনে মাঠে নামার আগে জয়ের জন্য আফগানিস্তানের প্রয়োজন ছিল আরও ৩৪৭ রান। অন্যদিকে বাংলাদেশের দরকার ছিল ৭ উইকেট। ফলে ম্যাচের শেষ দিনে দুই দলের সামনে ছিল ভিন্ন লক্ষ্য—বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করা, আর আফগানিস্তানের হার এড়িয়ে ম্যাচ বাঁচানো।

আফগান ব্যাটাররা শুরুতে বেশ দৃঢ়তার সঙ্গে বাংলাদেশের বোলারদের মোকাবিলা করছিলেন। মাঝপথে অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদি পায়ে আঘাত পেয়ে রিটায়ার্ড হার্ট হলেও তাঁদের লড়াই থেমে থাকেনি। তবে ইকরাম আলিখিলের উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশের সামনে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার নতুন সুযোগ তৈরি হয়।

জয়ের আশায় বাংলাদেশ, ড্র বাঁচানোর লড়াই আফগানদের

ইকরাম আলিখিল আউট হওয়ার মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ২০২ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় আফগানিস্তান। একদিকে বাংলাদেশের বোলাররা দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে জয় নিশ্চিত করতে চাইছিলেন, অন্যদিকে আফগান ব্যাটারদের লক্ষ্য ছিল যতটা সম্ভব সময় কাটিয়ে ম্যাচ ড্রয়ের দিকে নিয়ে যাওয়া।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইনিংসে এবাদত হোসেন তিনটি এবং হাসান মাহমুদ একটি উইকেট নিয়েছেন। বাকি উইকেটগুলো তুলে নিতে পারলে বাংলাদেশের সামনে জয় পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। তবে আফগানিস্তানের হাতে উইকেট থাকায় ম্যাচের ফল নির্ধারণে শেষ দিনের বাকি সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

লিটনের রেকর্ডে বাড়তি প্রাপ্তি বাংলাদেশের

টেস্ট ক্রিকেটে উইকেটকিপারের ভূমিকা শুধু ক্যাচ নেওয়া বা স্টাম্পিংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; দলের প্রয়োজনে ব্যাট হাতেও অবদান রাখতে হয়। লিটন দাসের এই ম্যাচের পারফরম্যান্সে দুই দায়িত্বেরই অসাধারণ সমন্বয় দেখা গেছে।

প্রথম ইনিংসে অর্ধশতক, দ্বিতীয় ইনিংসে শতক এবং দুই ইনিংস মিলিয়ে ৯টি ডিসমিসাল—সব মিলিয়ে আবুধাবি টেস্টে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও এটি গর্বের অর্জন।

তবে ব্যক্তিগত রেকর্ডের পাশাপাশি ম্যাচের ফলও এখন বাংলাদেশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। লিটনের ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সের দিনে দল শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

কালের আলো/এসএ

স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় কারাবাসের পর অভিনয়ে ফিরছেন জাহের আলভী

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৯ অপরাহ্ণ
স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় কারাবাসের পর অভিনয়ে ফিরছেন জাহের আলভী
স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর দীর্ঘ বিরতি শেষে আবারও অভিনয়ে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভী। প্রায় সাত মাস পর নতুন কাজ শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একাধিক পোস্টের মাধ্যমে কাজে ফেরার খবর জানিয়ে ভক্ত ও অনুসারীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছেন এই অভিনেতা।

দীর্ঘদিন অভিনয়ের বাইরে থাকার পর আলভীর এই প্রত্যাবর্তন তাঁর পেশাগত জীবনের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে নতুন কাজটির নাম, গল্প, সহশিল্পী কিংবা প্রচারের সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

ফেসবুক পোস্টে প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জাহের আলভী লিখেছেন, ‘ছোট্ট একটা উদযাপন, কিন্তু অনেক বড় অনুপ্রেরণা… ফিরে আসার হাওয়া…।’

অভিনয়ে ফেরার প্রস্তুতি ও নতুন কাজ শুরুর আনন্দই তাঁর এই বার্তায় উঠে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও পোস্টে নির্দিষ্ট কোনো কাজের বিবরণ দেননি তিনি, তবে ‘ফিরে আসার হাওয়া’ কথাটির মাধ্যমে দীর্ঘ বিরতির পর কাজে ফেরার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।

এর আগে আরেকটি পোস্টে আলভী লেখেন, ‘স্বাগত জানাবেন না আপনারা আমাকে…।’ তাঁর এই কথাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিরতির পর অভিনয়ে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে তাঁর পরবর্তী কাজ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

সাত মাস পর নতুন কাজ শুরু

ফেসবুকে দেওয়া পরবর্তী বার্তায় জাহের আলভী জানান, সাত মাস পর আবারও কাজ শুরু করেছেন তিনি। তাঁর নতুন কাজটি পরিচালনা করছেন সামির রহমান রাব্বি। এর প্রযোজক মাহমুদ হাসান রানা।

তবে এটি নাটক, টেলিছবি নাকি অন্য কোনো ধরনের প্রযোজনা—সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি অভিনেতা। নতুন কাজের বিষয়বস্তু ও মুক্তির সময়সূচি সম্পর্কেও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

অভিনয়ে ফেরার এই সিদ্ধান্ত আলভীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলাকে কেন্দ্র করে গত কয়েক মাস ধরে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও অভিনয়জীবন নানা আলোচনার মধ্যে ছিল। দীর্ঘ বিরতির পর নতুন কাজ শুরু করার মধ্য দিয়ে তিনি আবারও পেশাগত কর্মকাণ্ডে যুক্ত হলেন।

স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা, যেতে হয়েছিল কারাগারে

জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলাটিকে কেন্দ্র করে আইনি জটিলতায় পড়েন এই অভিনেতা।

গত ১৮ জুন (২০২৬) ঢাকার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন আলভী। তবে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এরপর ২৪ জুন (২০২৬) দুই দিনের রিমান্ড শেষে তাঁকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালতে জামিন পান তিনি। গত ৩ আগস্ট (২০২৬) হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দেন।

মামলার অভিযোগ ও আইনি প্রক্রিয়ার কারণে আলভীর অভিনয়জীবনে দীর্ঘ বিরতি তৈরি হয়। তবে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর এবার কাজে ফেরার ঘোষণা দিলেন তিনি। উল্লেখ্য, আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগটি মামলার অভিযোগ; এ বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে এখানে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

নতুন অধ্যায় নিয়ে দর্শকদের কৌতূহল

ছোট পর্দায় অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া জাহের আলভীর কাজে ফেরার ঘোষণায় তাঁর ভক্তদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর তিনি কী ধরনের চরিত্রে অভিনয় করবেন, নতুন কাজের গল্প কেমন হবে এবং কবে নাগাদ দর্শকের সামনে সেটি আসবে—এসব প্রশ্নই এখন সামনে আসছে।

তবে এসব বিষয়ে অভিনেতার পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। আপাতত ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে কাজে ফেরার খবর নিশ্চিত করেছেন তিনি।

ব্যক্তিগত জীবনের আলোচিত ঘটনা ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া আলভীর জন্য নতুন কাজটি পেশাগতভাবে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, তা সময়ই বলে দেবে। এখন দর্শকদের অপেক্ষা তাঁর নতুন অভিনয় দেখার।

কালের আলো/এসএ