খুঁজুন
                               
, ,
           

স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় কারাবাসের পর অভিনয়ে ফিরছেন জাহের আলভী

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৯ অপরাহ্ণ
স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় কারাবাসের পর অভিনয়ে ফিরছেন জাহের আলভী
স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কারাগারে যাওয়ার পর দীর্ঘ বিরতি শেষে আবারও অভিনয়ে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভী। প্রায় সাত মাস পর নতুন কাজ শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একাধিক পোস্টের মাধ্যমে কাজে ফেরার খবর জানিয়ে ভক্ত ও অনুসারীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছেন এই অভিনেতা।

দীর্ঘদিন অভিনয়ের বাইরে থাকার পর আলভীর এই প্রত্যাবর্তন তাঁর পেশাগত জীবনের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে নতুন কাজটির নাম, গল্প, সহশিল্পী কিংবা প্রচারের সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

ফেসবুক পোস্টে প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জাহের আলভী লিখেছেন, ‘ছোট্ট একটা উদযাপন, কিন্তু অনেক বড় অনুপ্রেরণা… ফিরে আসার হাওয়া…।’

অভিনয়ে ফেরার প্রস্তুতি ও নতুন কাজ শুরুর আনন্দই তাঁর এই বার্তায় উঠে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও পোস্টে নির্দিষ্ট কোনো কাজের বিবরণ দেননি তিনি, তবে ‘ফিরে আসার হাওয়া’ কথাটির মাধ্যমে দীর্ঘ বিরতির পর কাজে ফেরার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।

এর আগে আরেকটি পোস্টে আলভী লেখেন, ‘স্বাগত জানাবেন না আপনারা আমাকে…।’ তাঁর এই কথাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিরতির পর অভিনয়ে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে তাঁর পরবর্তী কাজ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

সাত মাস পর নতুন কাজ শুরু

ফেসবুকে দেওয়া পরবর্তী বার্তায় জাহের আলভী জানান, সাত মাস পর আবারও কাজ শুরু করেছেন তিনি। তাঁর নতুন কাজটি পরিচালনা করছেন সামির রহমান রাব্বি। এর প্রযোজক মাহমুদ হাসান রানা।

তবে এটি নাটক, টেলিছবি নাকি অন্য কোনো ধরনের প্রযোজনা—সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি অভিনেতা। নতুন কাজের বিষয়বস্তু ও মুক্তির সময়সূচি সম্পর্কেও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

অভিনয়ে ফেরার এই সিদ্ধান্ত আলভীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলাকে কেন্দ্র করে গত কয়েক মাস ধরে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও অভিনয়জীবন নানা আলোচনার মধ্যে ছিল। দীর্ঘ বিরতির পর নতুন কাজ শুরু করার মধ্য দিয়ে তিনি আবারও পেশাগত কর্মকাণ্ডে যুক্ত হলেন।

স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা, যেতে হয়েছিল কারাগারে

জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরার মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলাটিকে কেন্দ্র করে আইনি জটিলতায় পড়েন এই অভিনেতা।

গত ১৮ জুন (২০২৬) ঢাকার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন আলভী। তবে আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এরপর ২৪ জুন (২০২৬) দুই দিনের রিমান্ড শেষে তাঁকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে উচ্চ আদালতে জামিন পান তিনি। গত ৩ আগস্ট (২০২৬) হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দেন।

মামলার অভিযোগ ও আইনি প্রক্রিয়ার কারণে আলভীর অভিনয়জীবনে দীর্ঘ বিরতি তৈরি হয়। তবে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর এবার কাজে ফেরার ঘোষণা দিলেন তিনি। উল্লেখ্য, আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগটি মামলার অভিযোগ; এ বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে এখানে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

নতুন অধ্যায় নিয়ে দর্শকদের কৌতূহল

ছোট পর্দায় অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া জাহের আলভীর কাজে ফেরার ঘোষণায় তাঁর ভক্তদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর তিনি কী ধরনের চরিত্রে অভিনয় করবেন, নতুন কাজের গল্প কেমন হবে এবং কবে নাগাদ দর্শকের সামনে সেটি আসবে—এসব প্রশ্নই এখন সামনে আসছে।

তবে এসব বিষয়ে অভিনেতার পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। আপাতত ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে কাজে ফেরার খবর নিশ্চিত করেছেন তিনি।

ব্যক্তিগত জীবনের আলোচিত ঘটনা ও আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া আলভীর জন্য নতুন কাজটি পেশাগতভাবে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, তা সময়ই বলে দেবে। এখন দর্শকদের অপেক্ষা তাঁর নতুন অভিনয় দেখার।

কালের আলো/এসএ

নারী আসনের উপনির্বাচন: প্রার্থীদের ঋণখেলাপির তথ্য চাইল ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৭ অপরাহ্ণ
নারী আসনের উপনির্বাচন: প্রার্থীদের ঋণখেলাপির তথ্য চাইল ইসি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শূন্য ঘোষিত সংরক্ষিত নারী আসন-২৩-এর উপনির্বাচন সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঋণখেলাপি-সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১২ নভেম্বর এ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক প্রার্থীদের ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. আব্দুল মমিন সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ঋণখেলাপি প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ঠেকাতে উদ্যোগ

নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদের সাধারণ আসনের নির্বাচনের মতো সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনেও ঋণখেলাপিদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আইনগত বিধিনিষেধ নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর সংশ্লিষ্ট বিধান এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর জারি করা নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীদের ঋণখেলাপি-সংক্রান্ত তথ্য যথাসময়ে সংগ্রহ ও যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ইসি। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

২৬ অক্টোবর পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৬ অক্টোবর বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। মনোনয়নপত্র দাখিলকারী প্রার্থীদের নাম, পিতা-মাতা বা স্বামীর নামসহ প্রয়োজনীয় তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে সংগ্রহ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো।

এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রার্থীদের ঋণখেলাপি-সংক্রান্ত অবস্থা যাচাই করা হবে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের নির্ধারিত সময়ের আগেই যাচাইয়ের ফলাফল রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছানোর নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

২৭ অক্টোবরের আগেই তথ্য সরবরাহের নির্দেশ

চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৭ অক্টোবর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের নির্ধারিত সময়সীমার আগেই ঋণখেলাপি-সংক্রান্ত তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে সরবরাহ করতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ইসি।

নির্বাচন কমিশনের এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো, প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের সময় ঋণখেলাপি-সংক্রান্ত আইনগত বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া এবং নির্বাচনী বিধান অনুসরণ নিশ্চিত করা।

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ছেড়ে দেওয়া আসনে উপনির্বাচন

সংরক্ষিত নারী আসন-২৩-এর সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ছেড়ে দেওয়া আসনেই এ উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তাঁর আসন শূন্য হওয়ার পর নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন।

আগামী ২৬ অক্টোবর মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন এবং ২৭ অক্টোবর যাচাই-বাছাইয়ের নির্ধারিত সময়। এসব ধাপ শেষে তফসিল অনুযায়ী ১২ নভেম্বর ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

বাংলাদেশকে আরও ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশকে আরও ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা

বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণসহায়তা পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছে বাংলাদেশ সরকার। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনা ও পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চলমান আলোচনা এখনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। পুরো বিষয়টি একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোবে, যা আগামী কয়েক মাস ধরে চলতে পারে।

১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা নিয়ে চলছে আলোচনা

বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের ঋণসহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হলেও অর্থের পরিমাণ, শর্ত কিংবা অর্থ ছাড়ের সময়সীমা সম্পর্কে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অর্থমন্ত্রী জানান, চলমান আলোচনার মাধ্যমে দুই পক্ষের ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের ভিত্তি তৈরি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে শুধু আন্তর্জাতিক পর্যায়েই নয়, ঢাকায়ও আলোচনা অব্যাহত থাকবে। আলোচনার পরবর্তী ধাপগুলো শেষ হওয়ার পরই এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে একমত বিশ্বব্যাংক

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতি, চলমান কর্মসূচি এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সমঝোতা রয়েছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং বর্তমান সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য সরকারের নেওয়া নীতির সঙ্গেও সংস্থাটি একমত।

আমির খসরু বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি সংকটের মধ্যে ছিল। আগের সময়ের বিভিন্ন দায়দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বিপর্যয়ও মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জগুলো বিশ্বব্যাংক অনুধাবন করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের পাশে থাকতে খুবই আগ্রহী। আমরা যে নীতি গ্রহণ করেছি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পর আগামী দিনের জন্য যে অর্থনৈতিক কর্মসূচি ও গতিপথ নির্ধারণ করেছি, তার সঙ্গে বিশ্বব্যাংক পুরোপুরি একমত।’

অংশীদারত্বের কাঠামো নিয়েও আলোচনা

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অংশীদারত্বের কাঠামো নিয়েও আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক প্রস্তাবটির বিষয়ে বিভিন্ন সুপারিশ ও পরামর্শ দিয়েছে। বাংলাদেশও নিজেদের অবস্থান ও প্রস্তাব তুলে ধরেছে।

এই আলোচনার মাধ্যমে দুই পক্ষের সহযোগিতার ক্ষেত্র, ভবিষ্যৎ কর্মসূচি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সম্ভাব্য সহায়তার বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের ঋণসহায়তা চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হয়েছে—এমন কোনো ঘোষণা এখনো দেওয়া হয়নি।

মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস নিয়ে সরকারের অবস্থান

মূল্যস্ফীতি ও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংক এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাস সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার অন্য কোনো সংস্থার প্রক্ষেপণকে বিতর্কিত করতে চায় না। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো নিজস্ব হিসাব ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক পূর্বাভাস দিয়ে থাকে।

তিনি আরও বলেন, সরকার বাজেটে নির্ধারিত অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে। বাজেটে দেওয়া প্রক্ষেপণগুলো পূরণ করা সম্ভব হবে বলে সরকারের আশা।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চলমান আলোচনা শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্তে পৌঁছায়, তা জানতে আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হতে পারে। আপাতত অতিরিক্ত ঋণসহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে; চূড়ান্ত অর্থায়ন ও এর শর্ত নির্ধারণের বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

২৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ চুয়েট ভিসি, শারীরিক অবস্থা নিয়ে দুই চিকিৎসকের ভিন্নমত

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৩ অপরাহ্ণ
২৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ চুয়েট ভিসি, শারীরিক অবস্থা নিয়ে দুই চিকিৎসকের ভিন্নমত

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) টানা ২৭ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ রয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। এ সময়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পাঠানো নাশতাসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার গ্রহণ করেননি তিনি। তবে ডিবি পুলিশের মাধ্যমে বাইরে থেকে নিজের জন্য খাবার আনিয়েছেন উপাচার্য। শিক্ষার্থীরা সেই খাবার তাঁর কাছে পৌঁছে দিতেও সহযোগিতা করেছেন।

এদিকে উপাচার্যের শারীরিক অবস্থা নিয়ে ক্যাম্পাসে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি অসুস্থ বলে দাবি করার পর দুজন চিকিৎসক তাঁর রক্তচাপ পরীক্ষা করেন। তবে পরীক্ষার পর উপাচার্যের শারীরিক অবস্থা নিয়ে দুই চিকিৎসকের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দেয়।

উপাচার্যের শারীরিক অবস্থা নিয়ে দুই চিকিৎসকের ভিন্নমত

মঙ্গলবার আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও চুয়েটের ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইটিই) বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হিশাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, চুয়েট মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. শাহাবুদ্দিন উপাচার্যের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে জানিয়েছেন, তাঁর শরীর সুস্থ রয়েছে এবং এ মুহূর্তে চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। তাঁর রক্তচাপও স্বাভাবিক রয়েছে বলে ওই চিকিৎসক জানিয়েছেন। তবে উপাচার্য কিছুটা শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি বা সাফোকেশনে ভুগছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে আসা চিকিৎসক ডা. টিবলু দে উপাচার্যের রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রায় নেই বলে জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, উপাচার্যের রক্তচাপ ছিল ১০০/১৫০, যার কারণে চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে।

দুই চিকিৎসকের বক্তব্যে পার্থক্য দেখা দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়। উপাচার্য অসুস্থ বলে দাবি করা চিকিৎসককে ঘিরে ধরেন আন্দোলনকারীরা। পরে দুজন চিকিৎসককে একসঙ্গে উপাচার্যের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করার জন্য ভেতরে পাঠান তাঁরা।

শিক্ষার্থীদের খাবার নেননি, ডিবি পুলিশের মাধ্যমে আনালেন

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, সকাল থেকে উপাচার্যের জন্য নাশতাসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার পাঠানো হলেও তিনি সেগুলো গ্রহণ করেননি। পরে ডিবি পুলিশের মাধ্যমে বাইরে থেকে নিজের খাবার আনান তিনি।

তবে উপাচার্যের খাবার গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীরা আপত্তি জানাননি। বরং খাবার তাঁর কাছে পৌঁছে দিতে সহযোগিতা করেছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

চুয়েটের ইটিই বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হিশাম বলেন, ‘ভিসি বাইরের খাবার খাচ্ছেন, তাতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। আমরাও সেই খাবার পৌঁছাতে সহযোগিতা করেছি। তিনি শারীরিকভাবে সুস্থই রয়েছেন।’

অবরুদ্ধ ভবনে পানির সংযোগ চালু

আন্দোলন চললেও মানবিক দিক বিবেচনায় উপাচার্যকে অবরুদ্ধ রাখা ভবনের পানির সংযোগ চালু রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। খাবার গ্রহণ না করা এবং শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও উপাচার্যের কাছে বাইরের খাবার পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছেন তাঁরা।

তবে উপাচার্যের শারীরিক অবস্থা নিয়ে দুই চিকিৎসকের ভিন্ন বক্তব্যের বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এক চিকিৎসক তাঁকে সুস্থ ও চিকিৎসার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন, অন্য চিকিৎসক রক্তচাপের মাত্রা বিবেচনায় চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দিয়েছেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি