খুঁজুন
                               
, ,
           

একসময় অফিস-আদালতের প্রাণ, আজ বিলুপ্তির পথে টাইপরাইটার

মৌলভীবাজার সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
একসময় অফিস-আদালতের প্রাণ, আজ বিলুপ্তির পথে টাইপরাইটার

একসময় আদালত প্রাঙ্গণ, সরকারি-বেসরকারি অফিস, স্কুল-কলেজ কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান—প্রায় সর্বত্রই ছিল টাইপরাইটারের কদর। ছোট ছোট আঙুলের চাপে একের পর এক অক্ষর ফুটে উঠত কাগজে। চারপাশে শোনা যেত যন্ত্রটির চিরচেনা ‘খটখট’ শব্দ। মামলার আর্জি, হলফনামা, চুক্তিনামা, ক্রয়-বিক্রয়ের রসিদসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ নথি তৈরিতে টাইপরাইটার ছিল অপরিহার্য। কিন্তু সময়ের পরিবর্তন, কম্পিউটারের বিস্তার ও ডিজিটাল প্রযুক্তির অগ্রগতিতে একসময়ের জনপ্রিয় এই যন্ত্র এখন হারিয়ে যেতে বসেছে।

জেলা ও উপজেলা শহরের আদালতপাড়া কিংবা অফিস-আদালতের আশপাশে ঘুরলেও আগের মতো টাইপরাইটার নিয়ে বসে থাকা টাইপিস্টদের দেখা মেলে না। যন্ত্রটির সেই পরিচিত শব্দও এখন অনেকটাই অতীত। একসময় যে টাইপরাইটার ছিল বহু মানুষের জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বন, আজ তা ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অধ্যায় হয়ে ঠাঁই নিচ্ছে স্মৃতিতে।

তবে এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের কিছু স্মারক এখনো টিকে আছে। মৌলভীবাজারের বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত ‘আগর ফ্রেগরেন্স’ নামের একটি আগর-আতর কোম্পানিতে যত্ন করে সংরক্ষণ করা হয়েছে একটি প্রাচীন টাইপরাইটার। বর্তমানে এটি দিয়ে কোনো কাজ করা হয় না। প্রতিষ্ঠানের শোভা বাড়ানোর পাশাপাশি অতীতের প্রযুক্তি ও কর্মজীবনের স্মৃতি ধরে রাখতেই যন্ত্রটি সংরক্ষণ করা হয়েছে।

টাইপরাইটারের উত্থান, বদলে গেল লেখার জগৎ

ইতিহাস অনুযায়ী, ১৮৬৮ সালে মার্কিন উদ্ভাবক ক্রিস্টোফার ল্যাথাম শোলস টাইপরাইটারের নকশা ও উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এর পাঁচ বছর পর, ১৮৭৩ সালে রেমিংটন অ্যান্ড সন্সের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে টাইপরাইটার বাজারজাত শুরু হয়। পরে ব্রিটিশদের হাত ধরে ১৮৯০ সালে ভারতীয় উপমহাদেশে টাইপরাইটারের প্রচলন ঘটে বলে জানা যায়।

ক্রমে এই যন্ত্র ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। দাপ্তরিক চিঠিপত্র, আবেদন, মামলা-সংক্রান্ত নথি এবং নানা ধরনের দলিল তৈরি করতে টাইপরাইটার হয়ে ওঠে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। হাতে লেখার তুলনায় দ্রুত ও গোছানোভাবে নথি প্রস্তুত করার সুবিধার কারণে এর ব্যবহার বাড়তে থাকে।

বিশেষ করে বিংশ শতাব্দীর বড় একটি সময়জুড়ে টাইপরাইটার ছিল দাপ্তরিক কাজের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে টাইপিস্ট ও সাঁটমুদ্রাক্ষরিক পদে কর্মরত ব্যক্তিরা এই যন্ত্রের সাহায্যে নথিপত্র প্রস্তুত করতেন। দক্ষ টাইপিস্টদের চাহিদাও ছিল উল্লেখযোগ্য।

কিন্তু আশির দশকের পর থেকে কম্পিউটার ও আধুনিক লেখালেখির প্রযুক্তির প্রসারে টাইপরাইটারের ব্যবহার ক্রমে কমতে থাকে। কম্পিউটারে লেখা সংশোধন, সংরক্ষণ, পুনর্মুদ্রণ এবং দ্রুত নথি তৈরি করার সুবিধা থাকায় দাপ্তরিক কাজের ধরন বদলে যায়। একসময় যে যন্ত্র ছাড়া অফিসের কাজ কল্পনা করা কঠিন ছিল, সেটিই ধীরে ধীরে কর্মক্ষেত্র থেকে হারিয়ে যেতে শুরু করে।

আদালতপাড়ায় টাইপরাইটারেই চলত সংসার

মৌলভীবাজার আদালতের পাশে দীর্ঘদিন টাইপরাইটার দিয়ে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন কনকপুর ইউনিয়নের অজিত দাশ। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই প্রবীণ টাইপিস্টের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে টাইপরাইটারকেন্দ্রিক কর্মজগতের দীর্ঘ স্মৃতি।

অজিত দাশ জানান, স্বাধীনতার আগ থেকেই আদালতের পাশে একটি ছোট টেবিল ও টুল নিয়ে বসতেন তিনি। নিজের টাইপরাইটারে লিখতেন মামলার আর্জি, হলফনামা, ক্রয়-বিক্রয়ের রসিদ, চুক্তিনামাসহ বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় আদালতে মামলা-মোকদ্দমার সংখ্যা এখনকার তুলনায় কম থাকলেও সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করতে হতো। প্রতিদিন অন্তত ১৫ থেকে ২০টি মামলার আর্জি ও অন্যান্য নথি টাইপ করতেন তিনি। তাঁদের পরিবারের একটি টাইপরাইটারই ছিল জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন।

দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় টাইপের কাজের পাশাপাশি মামলার আর্জি গুছিয়ে লেখার ক্ষেত্রেও দক্ষ হয়ে উঠেছিলেন অজিত দাশ। তিনি জানান, অনেক সময় জুনিয়র আইনজীবীরা বাদীপক্ষের লোকজনকে তাঁর কাছে পাঠাতেন, যাতে তিনি প্রয়োজনীয় তথ্যের ভিত্তিতে মামলার আর্জি গুছিয়ে লিখে দিতে পারেন।

এই অভিজ্ঞতা কেবল একটি পেশার দক্ষতার গল্প নয়; এটি এমন এক সময়ের চিত্র, যখন আদালতের দৈনন্দিন কার্যক্রমে টাইপিস্টদের ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তাঁদের হাত ধরেই তৈরি হতো অসংখ্য নথি, যা আদালত ও মানুষের আইনি কার্যক্রমের অংশ হয়ে থাকত।

দুজন থেকে বেড়েছিল টাইপিস্টের সংখ্যা

অজিত দাশের স্মৃতিতে, তিনি যখন টাইপরাইটার নিয়ে কাজ শুরু করেন, তখন আদালতের পাশে এ পেশায় ছিলেন আর একজন। তাঁরা দুজন দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। পরে জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন এবং দাপ্তরিক কাজের পরিমাণও বাড়তে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় আদালতপাড়ায় টাইপরাইটার ও টাইপিস্টের সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়।

সরকারি বিভিন্ন অফিসে টাইপরাইটার ছিল নিয়মিত কাজের অংশ। এসব প্রতিষ্ঠানে সাঁটমুদ্রাক্ষরিকেরা টাইপরাইটারে চিঠিপত্র, প্রতিবেদন, আদেশ ও অন্যান্য দাপ্তরিক নথি তৈরি করতেন। দ্রুত ও নির্ভুলভাবে টাইপ করতে পারা ছিল তাঁদের কাজের গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা।

কিন্তু কম্পিউটার চালু হওয়ার পর সেই কর্মপরিবেশ বদলে যায়। এখনো বিভিন্ন দপ্তরে সাঁটমুদ্রাক্ষরিক পদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা থাকলেও তাঁদের কাজের ধরন অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। টাইপরাইটারের জায়গা নিয়েছে কম্পিউটার, প্রিন্টার ও ডিজিটাল নথি ব্যবস্থাপনা।

অজিত দাশের মতো প্রবীণ টাইপিস্টদের কাছে তাই টাইপরাইটার কেবল একটি যন্ত্র নয়; এটি তাঁদের কর্মজীবন, পারিবারিক জীবিকা এবং সময়ের পরিবর্তনের সাক্ষী।

মৌলভীবাজারে স্মৃতি হয়ে টিকে আছে প্রাচীন টাইপরাইটার

প্রযুক্তির বিবর্তনে টাইপরাইটারের ব্যবহার কমে গেলেও মৌলভীবাজারের বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত ‘আগর ফ্রেগরেন্স’ কোম্পানিতে একটি প্রাচীন টাইপরাইটার এখনো যত্নে সংরক্ষিত রয়েছে। এটি আর দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত হয় না। বরং অতীতের ঐতিহ্যকে ধরে রাখার স্মারক হিসেবে রাখা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে।

‘আগর ফ্রেগরেন্স’-এর সঙ্গে যুক্ত শামীম আক্তার হোসেন জানান, তাঁদের চেয়ারম্যান জিয়া হায়দার মিঠু সব সময় প্রাচীন ঐতিহ্য সংরক্ষণে আগ্রহী। সেই ধারাবাহিকতায় টাইপরাইটারটি অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, মৌলভীবাজারের কার্যালয়ে সংরক্ষিত টাইপরাইটারটি এখনো চকচকে এবং দেখতে অনেকটা নতুনের মতো। নতুন প্রজন্মের অনেকে যন্ত্রটি দেখে বিস্মিত ও আনন্দিত হন। অন্যদিকে, প্রবীণেরা এটি দেখে অতীতের কর্মজীবন ও স্মৃতিচারণ করেন।

শামীম আক্তার হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, আগর ফ্রেগরেন্সের কার্যালয়ে আসা অনেক দর্শনার্থী তাঁদের মুঠোফোনে টাইপরাইটারটির ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। এভাবেই একসময়ের বহুল ব্যবহৃত প্রযুক্তির একটি নিদর্শন নতুন প্রজন্মের সামনে অতীতের গল্প তুলে ধরছে।

প্রযুক্তির অগ্রগতি, হারিয়ে যাওয়া কর্মসংস্কৃতি

টাইপরাইটারের বিলুপ্তির পথে যাত্রা মূলত প্রযুক্তির পরিবর্তনেরই প্রতিফলন। কম্পিউটার লেখালেখিকে করেছে দ্রুততর, সম্পাদনাযোগ্য ও সহজে সংরক্ষণযোগ্য। ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যোগাযোগের বিস্তার নথি তৈরি এবং আদান-প্রদানের পদ্ধতিকেও বদলে দিয়েছে।

তবে প্রযুক্তিগত উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে একটি পরিচিত কর্মসংস্কৃতি। টাইপিস্টের টেবিল, কাগজ সাজিয়ে রাখা, কার্বন কপি তৈরি, টাইপের ভুল সংশোধনের জন্য বিশেষ কৌশল—এসবই এখন অনেকের কাছে অতীতের স্মৃতি। নতুন প্রজন্মের অনেকেই হয়তো বাস্তবে টাইপরাইটারে লেখা দেখেনি; তাদের কাছে যন্ত্রটি এখন কৌতূহলের বিষয়।

একসময় আদালতপাড়া ও অফিসের পরিচিত দৃশ্য ছিল টাইপরাইটার নিয়ে বসে থাকা কর্মীদের ব্যস্ততা। আজ সেই দৃশ্য বিরল। কোথাও পুরোনো যন্ত্র পড়ে আছে, কোথাও তা সংগ্রহে রাখা হয়েছে স্মারক হিসেবে। আর অজিত দাশের মতো প্রবীণদের স্মৃতিতে বেঁচে আছে সেই সময়, যখন একটি টাইপরাইটারই ছিল সংসার চালানোর ভরসা।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

বই পড়ার অভ্যাস কমছে, নাকি বদলে যাচ্ছে পাঠের মাধ্যম?

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
বই পড়ার অভ্যাস কমছে, নাকি বদলে যাচ্ছে পাঠের মাধ্যম?

একসময় অবসর কাটানোর অন্যতম সঙ্গী ছিল বই। গল্প-উপন্যাস, কবিতা কিংবা প্রবন্ধের পাতায় ডুবে থাকতেন পাঠকেরা। বাসা, লাইব্রেরি কিংবা যাত্রাপথে হাতে বই নিয়ে সময় কাটানোর দৃশ্যও ছিল পরিচিত। তবে সময়ের পরিবর্তনে পাঠের ধরনেও এসেছে নতুন মাত্রা। স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-বুক ও অডিওবুকের বিস্তারে এখন বই পড়ার অভিজ্ঞতা অনেকটাই বদলে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—মানুষের বই পড়ার অভ্যাস কি সত্যিই কমছে, নাকি কেবল বদলে যাচ্ছে পড়ার মাধ্যম?

প্রযুক্তির প্রসারে বই পড়ার জন্য এখন আর মুদ্রিত বইয়ের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে হয় না। স্মার্টফোনেই পড়া যাচ্ছে গল্প, উপন্যাস, কবিতা ও নানা ধরনের প্রবন্ধ। অডিওবুকের মাধ্যমে বই শোনার সুযোগও তৈরি হয়েছে। ফলে ব্যস্ত জীবনে অনেকে যাতায়াতের সময় কিংবা কাজের ফাঁকে ডিজিটাল মাধ্যমে পাঠের সুযোগ নিচ্ছেন।

তবে ডিজিটাল কনটেন্টের সহজলভ্যতা যেমন পাঠের নতুন দরজা খুলেছে, তেমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ছোট ভিডিও ও অনলাইন বিনোদনের সঙ্গে সময়ের প্রতিযোগিতাও বাড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে একটি বই পড়ার পরিবর্তে দ্রুত পরিবর্তনশীল কনটেন্টে অভ্যস্ত হয়ে পড়ার প্রবণতা পাঠাভ্যাসের ওপর কী প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা প্রয়োজন।

মুদ্রিত বইয়ের আবেদন কি কমছে?
প্রযুক্তির বিস্তার সত্ত্বেও মুদ্রিত বইয়ের প্রতি পাঠকের আগ্রহ পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। বইয়ের পাতা উল্টে পড়া, নিজের পছন্দের অংশে দাগ দেওয়া কিংবা বই সংগ্রহে রাখার অভিজ্ঞতা অনেক পাঠকের কাছে এখনও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

বিশেষ করে উপহার হিসেবে বই দেওয়া, ব্যক্তিগত সংগ্রহ গড়ে তোলা এবং বইমেলা থেকে পছন্দের বই কেনার অভ্যাস মুদ্রিত বইকে আলাদা পরিচয় দেয়। তবে পাঠকের আগ্রহের প্রকৃত পরিবর্তন বুঝতে বই বিক্রির পরিসংখ্যান, প্রকাশনা খাতের তথ্য এবং পাঠকের অভিজ্ঞতা একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা জরুরি।

স্মার্টফোন কি বইয়ের বিকল্প হয়ে উঠছে?
স্মার্টফোন এখন তথ্য ও বিনোদনের অন্যতম সহজলভ্য মাধ্যম। একই যন্ত্রে সংবাদ পড়া, ভিডিও দেখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার এবং ই-বুক পড়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে অনেকের পাঠের সময় বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল কনটেন্টের মধ্যে ভাগ হয়ে যাচ্ছে।

একদিকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বই পাওয়া সহজ হওয়ায় নতুন পাঠক তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে নোটিফিকেশন, বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য কনটেন্টের কারণে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ উপন্যাস বা বিশ্লেষণধর্মী লেখা পড়তে যে একাগ্রতা প্রয়োজন, তা ধরে রাখতে পাঠককে সচেতনভাবে সময় বের করতে হতে পারে।

তবে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করলেই কেউ কম বই পড়ছেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। একজন পাঠক মুদ্রিত বই কম কিনলেও ই-বুক বা অডিওবুকের মাধ্যমে নিয়মিত পড়াশোনা করতে পারেন। তাই পাঠাভ্যাস মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু বই কেনার হিসাব নয়, মানুষ কতটা পড়ছেন এবং কী ধরনের লেখা পড়ছেন, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

তরুণ প্রজন্মের পাঠাভ্যাসে কী পরিবর্তন আসছে?
তরুণদের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাহিত্য, বইয়ের পর্যালোচনা ও লেখকদের পরিচিতি সম্পর্কে জানতে পারছেন। অনলাইনে বই নিয়ে আলোচনা, পাঠকের মতামত এবং বিভিন্ন সাহিত্যভিত্তিক পেজ নতুন বইয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

আবার ডিজিটাল বিনোদনের বিপুল বিকল্প থাকায় নিয়মিত বই পড়ার জন্য সময় বের করা অনেকের কাছে কঠিন হতে পারে। পড়াশোনার বাইরে অবসর সময়ে বই পড়ার অভ্যাস কতটা বজায় থাকছে, তা জানতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও গ্রন্থাগারিকদের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ।

এ ক্ষেত্রে প্রজন্মভিত্তিক তুলনার পাশাপাশি শহর ও গ্রামের পাঠক, বিভিন্ন বয়সের মানুষ এবং ভিন্ন আর্থসামাজিক অবস্থার পাঠকদের অভিজ্ঞতাও বিবেচনা করা প্রয়োজন। কারণ সবার জন্য বইয়ের প্রাপ্যতা, অবসর সময় ও ডিজিটাল সুবিধা এক রকম নয়।

পাঠক তৈরি করতে লাইব্রেরি ও প্রকাশকদের ভূমিকা
পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাঠাগার, প্রকাশক ও সাহিত্য সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শিশুদের ছোটবেলা থেকে বইয়ের সঙ্গে পরিচিত করা, স্কুলে নিয়মিত পাঠচর্চার সুযোগ তৈরি এবং স্থানীয় পাঠাগারগুলোকে সক্রিয় রাখা এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

একই সঙ্গে পাঠকের আগ্রহ অনুযায়ী মানসম্মত বই প্রকাশ, বই সম্পর্কে সহজবোধ্য আলোচনা এবং লেখক-পাঠকের যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগও প্রয়োজন। মুদ্রিত বইয়ের পাশাপাশি ই-বুক ও অডিওবুকের মতো মাধ্যমকে কাজে লাগানো গেলে ভিন্ন ধরনের পাঠকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

কমছে পাঠ, নাকি বদলাচ্ছে অভ্যাস?
বই পড়ার অভ্যাস কমছে কি না, তার উত্তর কেবল ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা দিয়ে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পাঠাভ্যাসবিষয়ক জরিপ, বই বিক্রির তথ্য, গ্রন্থাগারের ব্যবহার এবং ডিজিটাল মাধ্যমে পাঠের পরিসংখ্যান প্রয়োজন।

একটি বিষয় স্পষ্ট—প্রযুক্তি মানুষের পড়ার সুযোগ ও পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছে। কিন্তু সেই পরিবর্তন সব পাঠকের ক্ষেত্রে একই রকম নয়। কেউ মুদ্রিত বইয়ের প্রতি আগ্রহ ধরে রেখেছেন, কেউ ডিজিটাল মাধ্যমে ঝুঁকেছেন, আবার কেউ নানা ধরনের বিনোদনের চাপে নিয়মিত পড়ার সময় হারাচ্ছেন।

বই পড়ার সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখার জন্য তাই শুধু মুদ্রিত বইয়ের ব্যবহার বাড়ানোর কথা বললেই হবে না; বরং মানুষের মধ্যে নিয়মিত পড়ার আগ্রহ, মনোযোগ ও সুযোগ তৈরি করাও জরুরি। মাধ্যম বদলাতে পারে, কিন্তু জ্ঞান অর্জন, কল্পনাশক্তির বিকাশ এবং গভীরভাবে চিন্তা করার জন্য পাঠের গুরুত্ব রয়ে যায়।

প্রশ্নটি তাই শুধু মানুষ বই পড়ছে কি না, তা নয়; বরং তারা কী পড়ছে, কতটা পড়ছে এবং পড়ার জন্য কতটা সময় দিচ্ছে—সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/জেএন/এসএ

দুই প্রিয়জনকে হারিয়ে নিঃস্ব আরিফ, তবু কারও কাছে হাত পাতেন না

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
দুই প্রিয়জনকে হারিয়ে নিঃস্ব আরিফ, তবু কারও কাছে হাত পাতেন না

জীবনের প্রতিকূলতা যেন পিছু ছাড়ছে না ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা পৌরসভার নোয়াপাড়া গ্রামের আরিফের। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, বাবাকে হারানোর শোক, ক্যানসারে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু, আর্থিক সংকটে বন্ধ হয়ে যাওয়া পড়াশোনা—সব মিলিয়ে কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে তাঁর জীবন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে অসুস্থ মায়ের দেখাশোনা, নিজের সংসারের খরচ এবং সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রতিনিয়ত দুশ্চিন্তায় দিন কাটে তাঁর।

তবু মানুষের কাছে হাত পেতে বেঁচে থাকার পথ বেছে নেননি আরিফ। বরং কসবা বাজারের একটি ছোট্ট দোকানে মোবাইল ফোনের বিভিন্ন সরঞ্জাম বিক্রি এবং মানুষের ওজন মেপে সামান্য আয় করে সংসার চালাচ্ছেন তিনি। প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার মতো পর্যাপ্ত পুঁজি নেই, ব্যবসা বড় করার সামর্থ্যও সীমিত। তারপরও নিজের শ্রমে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন এই যুবক। তাঁর চাওয়া খুব বেশি নয়—সামান্য আর্থিক সহায়তা কিংবা কর্মসংস্থানের একটি সুযোগ। এতটুকু সহযোগিতা পেলে ব্যবসাটি সম্প্রসারণ করে পরিবারের দায়িত্ব আরও ভালোভাবে পালন করতে পারবেন বলে আশা আরিফের।

ক্যানসারে বাবা-ভাইকে হারিয়ে থমকে যায় পড়াশোনা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা পৌরসভার নোয়াপাড়া গ্রামের হানিফ মিয়ার ছেলে আরিফ। কসবা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই ব্যবসার প্রতি আগ্রহ ছিল তাঁর। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্নও ছিল। কিন্তু পারিবারিক আর্থিক সংকট ও একের পর এক শোক সেই স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। প্রথমে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তাঁর ছোট ভাই। এই মৃত্যু তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। এরপর ২০২৪ সালে একই রোগে বাবাকেও হারান তিনি। পরিবারের দুই প্রিয়জনকে হারানোর শোকের পাশাপাশি বেড়ে যায় আর্থিক চাপ। সংসারের দায়িত্ব ও মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি আরিফ। একসময় যে শিক্ষাজীবন এগিয়ে নেওয়ার কথা ছিল, সেই জায়গায় তাঁকে নামতে হয় জীবিকার কঠিন লড়াইয়ে। নিজের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে উপার্জনের পথ খুঁজতে থাকেন তিনি।

ওজন মাপার যন্ত্র থেকে ছোট্ট দোকান

২০২০ সালে একটি ছোট ওজন মাপার যন্ত্র দিয়ে উপার্জন শুরু করেন আরিফ। সেই সামান্য আয় দিয়েই জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা চলতে থাকে। পরে পরিবারের খরচ মেটানোর প্রয়োজন বাড়লে কসবা বাজারে ছোট্ট একটি স্টলে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। দোকানে মোবাইল ফোনের কাভার, হেডফোন, মানিব্যাগসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করেন। পাশাপাশি বাজারে আসা মানুষের ওজন মেপেও কিছু টাকা আয় করেন। প্রতিদিনের এই সীমিত উপার্জন দিয়েই চলে তাঁর সংসার। আরিফের দোকানে পণ্যের চাহিদা রয়েছে বলে জানান তিনি। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী মালামাল কিনতে না পারায় ব্যবসার পরিসর বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। হাতে পর্যাপ্ত পুঁজি থাকলে আরও বেশি পণ্য সংগ্রহ করতে পারতেন, বাড়াতে পারতেন বিক্রিও। কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতায় সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছেন না।

একদিকে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়, অন্যদিকে ব্যবসায় নতুন পণ্য তোলার খরচ—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে গিয়ে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁকে।

অসুস্থ মা, সন্তানসম্ভবা স্ত্রী—দুশ্চিন্তা বাড়ছে

আরিফের জীবনের লড়াই শুধু নিজের জীবিকা নির্বাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর মা অসুস্থ। অন্যদিকে স্ত্রীও সন্তানসম্ভবা। ফলে সামনে নতুন অতিথির আগমনকে ঘিরে আনন্দের পাশাপাশি রয়েছে বাড়তি দুশ্চিন্তা। একজন উপার্জনক্ষম মানুষ হিসেবে পরিবারের সব দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে তাঁকে। প্রতিদিনের ব্যবসা থেকে যে আয় হয়, তা দিয়ে সংসারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করাই কঠিন। এর মধ্যে মায়ের চিকিৎসা, স্ত্রীর যত্ন এবং অনাগত সন্তানের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে ভাবতে হচ্ছে তাঁকে। আরিফের কাছে ছোট্ট দোকানটি তাই শুধু উপার্জনের জায়গা নয়; এটি পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার অবলম্বন, নিজের আত্মমর্যাদা ধরে রাখার আশ্রয়ও।

‘ভিক্ষা ছাড়া কী করতে পারবা’—কটাক্ষেও দমেননি

অভাবের কারণে অনেকেই তাঁকে ভিক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন। কেউ কেউ কটাক্ষ করে বলেছেন, ভিক্ষা ছাড়া আর কী করতে পারবেন তিনি। কিন্তু এসব কথায় ভেঙে পড়েননি আরিফ। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে যাওয়ার সিদ্ধান্তেই অটল থেকেছেন। আরিফ বলেন, “আমি আমার পরিবারের উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম। অনেকেই ভিক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন। কেউ কেউ বলেছেন, ভিক্ষা ছাড়া তুমি আর কী করতে পারবা? তবে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি হালালভাবে ব্যবসা করে, পরিশ্রম করে আয় করার।” তাঁর এই মনোভাবই স্থানীয় অনেকের কাছে প্রশংসা কুড়িয়েছে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও আর্থিক সংকটের মধ্যেও নিজের শ্রমে উপার্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াকে তাঁরা ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।

ক্রেতাদের চোখে পরিশ্রমী আরিফ

কসবা বাজারে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছেন আরিফ। তাঁর কাছ থেকে পণ্য কেনা ক্রেতাদের কেউ কেউ জানান, সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও তিনি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁরা চান, আরিফ যেন প্রয়োজনীয় সহায়তা পেয়ে ব্যবসাটি আরও ভালোভাবে পরিচালনা করতে পারেন। ক্রেতা ফয়েজুর রহমান বলেন, “আমি আরিফের কাছ থেকে একটি মানিব্যাগ কিনেছি। ফুটপাতে এরকম ভালো জিনিস সচরাচর পাওয়া যায় না। জিনিস খুব ভালো। আরিফ এখানে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছে। আমরা চাই, সরকারিভাবে যেন তাকে সহায়তা দেওয়া হয়।” আরেক ক্রেতা সালাহউদ্দিন আইয়ুবী বলেন, “তার বাবা নেই, মা আছেন। সঙ্গে তার পরিবারও আছে। সে ইচ্ছা করলেই মানুষের কাছে হাত পাততে পারতেন, কিন্তু সেটা না করে দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।” স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও মনে করেন, উপযুক্ত সহায়তা পেলে আরিফের পক্ষে নিজের ব্যবসা আরও ভালোভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হতে পারে।

আরিফের দীর্ঘদিনের এক সহকর্মী ব্যবসায়ী বলেন, তিনি প্রায় ছয় বছর ধরে আরিফের সঙ্গে ব্যবসা করছেন। আরিফ মোটামুটি শিক্ষিত। সরকার যদি তাঁর যোগ্যতা অনুযায়ী কোনো চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে তিনি কাজটি করতে পারবেন এবং পরিবার নিয়ে ভালোভাবে চলতে পারবেন বলে আশা করেন ওই ব্যবসায়ী। পার্শ্ববর্তী ব্যবসায়ী মো. হানিফ মিয়া বলেন, “আরিফ একজন প্রতিবন্ধী। প্রতিবন্ধী হয়েও সে নিজের শ্রমের বিনিময়ে হালালভাবে উপার্জন করে যাচ্ছে। সরকার তাকে সহায়তা করলে ব্যবসাটাকে আরেকটু উন্নত করতে পারত।”

সামান্য পুঁজিই আরিফের বড় স্বপ্নের ভিত্তি

নিজের ব্যবসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে আরিফ বলেন, “আমি কসবা বাজারে ২০২০ সাল থেকে ব্যবসা করে আসছি। প্রথমে ছোট্ট একটি ওজন মাপার মেশিন দিয়ে শুরু করি। পরে পরিবারের চাহিদা মেটানোর জন্য ছোট্ট একটি স্টলে ব্যবসা শুরু করি। আমার পরিবার দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত। তাই সামান্য পুঁজি দিয়ে ব্যবসাটি শুরু করেছি।” তিনি আরও বলেন, পণ্যের চাহিদা থাকলেও আর্থিক সংকটের কারণে ব্যবসাটি ঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। বিভিন্ন সময়ে অনেকে সহযোগিতা করলেও এখনো সরকারিভাবে কোনো সহায়তা পাননি বলে জানান তিনি। আরিফের আবেদন, সরকার ও সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা যেন তাঁর ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনার জন্য সামান্য আর্থিক সহায়তা দেন। সেই সহায়তা দিয়ে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনে ব্যবসার পরিসর বাড়াতে চান তিনি। এতে আয় বাড়লে পরিবারের খরচ মেটানো এবং অসুস্থ মায়ের দেখাশোনা করাও কিছুটা সহজ হবে বলে তাঁর প্রত্যাশা।

সহায়তা পেলে বদলাতে পারে পরিবারের পরিস্থিতি

আরিফের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য আর্থিক সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ কিংবা যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ জীবিকা নির্বাহের নতুন পথ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ বাড়ানো গেলে তাঁরা নিজেদের সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে পরিবার ও সমাজে অবদান রাখতে পারেন। কসবা বাজারের স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আরিফের পরিশ্রম ও আত্মমর্যাদাবোধের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁর পাশে দাঁড়ানো হবে। সরকারি সহায়তা কিংবা সামান্য পুঁজি পেলে তাঁর ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি তাঁর যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির সুযোগ তৈরি হলেও পরিবার নিয়ে একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকার পথ খুলবে। কসবা উপজেলা মার্কেটের পশ্চিম কোণে ছোট্ট দোকানটিতে প্রতিদিন নিজের জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন আরিফ। বাবা ও ভাইকে হারানোর বেদনা, বন্ধ হয়ে যাওয়া পড়াশোনা, অসুস্থ মা, সন্তানসম্ভবা স্ত্রী আর অভাবের চাপ—সবকিছুর মধ্যেও তিনি হাল ছাড়েননি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

 

বারবার পাপ করলেও তওবার সুযোগ, কবুল হওয়ার ৫ শর্ত জানুন

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৪ অপরাহ্ণ
বারবার পাপ করলেও তওবার সুযোগ, কবুল হওয়ার ৫ শর্ত জানুন

মানুষ ভুল করে, পাপে জড়িয়ে পড়ে। কখনো অনুশোচনায় আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে তওবা করে, আবার কখনো শয়তানের প্ররোচনা কিংবা নিজের প্রবৃত্তির তাড়নায় একই পাপে ফিরে যায়। এভাবে বারবার ভুল করার কারণে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—একই পাপের জন্য বারবার তওবা করলে কি আল্লাহ ক্ষমা করবেন? তওবা করার পর জীবনে বিপদ এলে কি তা আল্লাহর অসন্তুষ্টির লক্ষণ? ইসলামের শিক্ষা হলো, পাপের পর অনুশোচনা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার চেষ্টা কখনো ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। তবে তওবা হতে হবে আন্তরিক এবং তা কবুল হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে।

তওবা ভেঙে গেলে কি আবার তওবা করা যাবে?

‘তওবা’ আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ ফিরে আসা বা প্রত্যাবর্তন করা। ইসলামের পরিভাষায় তওবা হলো পাপ ও আল্লাহর অবাধ্যতা ছেড়ে তাঁর নির্দেশিত পথে ফিরে আসা এবং নিজের কৃতকর্মের জন্য আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হওয়া।

অনেক সময় মানুষ তওবা করার পরও দুর্বলতার কারণে আবার পাপে জড়িয়ে পড়ে। তখন কেউ কেউ লজ্জা, হতাশা কিংবা অপরাধবোধে আর তওবা করতে চান না। অথচ পাপের কারণে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে পড়া উচিত নয়। বরং ভুল বুঝতে পারলে নতুন করে অনুশোচনা করা, পাপ থেকে ফিরে আসা এবং নিজেকে সংশোধনের চেষ্টা করাই একজন মুমিনের কর্তব্য।

তাবেয়ি হাসান বসরি (রহ.)-কে একবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কোনো বান্দা পাপ করে তওবা করার পর আবার পাপ করলে এবং পুনরায় তওবা করলে তার কি লজ্জিত হওয়া উচিত? উত্তরে তিনি বলেন, শয়তান তো এটাই চায় যে মানুষ তওবা করা ছেড়ে দিক। তাই কখনো তওবা করা বন্ধ করা উচিত নয়।

ইসলামি চিন্তাবিদ ইবনু রজব আল-হাম্বলি (রহ.)-এর জামিউল উলুমি ওয়াল হিকাম গ্রন্থে এ বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে। এর মূল শিক্ষা হলো, অতীতের ভুল যেন মানুষকে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার পথ থেকে দূরে সরিয়ে না দেয়।

তবে এর অর্থ এই নয় যে, ইচ্ছাকৃতভাবে পাপ করতে থাকা এবং পরে ক্ষমা চাওয়াকে অভ্যাসে পরিণত করা যাবে। আন্তরিক তওবার জন্য পাপ ছাড়ার চেষ্টা এবং ভবিষ্যতে তা থেকে বেঁচে থাকার দৃঢ় সংকল্প থাকা জরুরি।

পাপকে ছোট করে দেখা কেন বিপজ্জনক?

একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি নিজের পাপকে হালকাভাবে নেন না। ছোট মনে হওয়া ভুলও যে আল্লাহর অবাধ্যতা হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি সতর্ক থাকেন। অন্যদিকে, যে ব্যক্তি নিজের পাপকে তুচ্ছ মনে করে এবং তার পরিণতি নিয়ে চিন্তা করে না, তার আত্মশুদ্ধির প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করা কঠিন হয়ে পড়ে।

সহিহ বুখারির ৬৩০৮ নম্বর হাদিসে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মুমিনের পাপ সম্পর্কে ভীতির অনুভূতিকে এমনভাবে তুলে ধরেছেন, যেন সে একটি পাহাড়ের নিচে বসে আছে এবং ভয় করছে, পাহাড়টি যেকোনো মুহূর্তে তার ওপর ভেঙে পড়তে পারে। বিপরীতে, পাপকে তুচ্ছ মনে করা ব্যক্তির কাছে তা নাকের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া মাছির মতো।

এই হাদিসের শিক্ষা হলো, পাপের ব্যাপারে আত্মতুষ্টিতে ভোগা উচিত নয়। একই সঙ্গে নিজের ভুলের কারণে হতাশ হয়ে আল্লাহর ক্ষমা চাওয়াও বন্ধ করা যাবে না। ভয় ও আশার মধ্যে ভারসাম্য রেখে নিজেকে সংশোধন করাই গুরুত্বপূর্ণ।

তওবা করার পর বিপদ এলে কী করবেন?

কখনো আন্তরিকভাবে তওবা করার পরও মানুষের জীবনে দুঃখ-কষ্ট, আর্থিক সংকট কিংবা নানা ধরনের পরীক্ষা আসতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কেউ কেউ মনে করেন, হয়তো তাঁদের তওবা কবুল হয়নি। কিন্তু শুধু বিপদ-আপদ দেখা দেওয়ার ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

জীবনের প্রতিকূলতা নানা কারণে আসতে পারে। একজন মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো, সংকটের সময়ও আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা, নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং সৎ পথে অবিচল থাকার চেষ্টা করা।

তওবা কোনো দুনিয়াবি সুবিধা পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়; বরং এটি আল্লাহর কাছে ফিরে আসা, আত্মশুদ্ধি অর্জন এবং জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই তওবার পর কষ্ট এলে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধারণ করা এবং নিজের দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকা উচিত।

শুধু মুখে ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বললেই কি তওবা হয়?

তওবা শুধু মুখে কয়েকটি শব্দ উচ্চারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বলা কিংবা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু এর সঙ্গে অন্তরের অনুশোচনা ও কাজের পরিবর্তন থাকা প্রয়োজন।

পবিত্র কোরআনের সুরা তাহরিমের ৮ নম্বর আয়াতে মুমিনদের আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, তওবার মধ্যে আন্তরিকতা থাকতে হবে। যে পাপ থেকে ফিরে আসার জন্য ক্ষমা চাওয়া হচ্ছে, তা ছেড়ে দেওয়ার বাস্তব প্রচেষ্টাও থাকতে হবে।

কেউ যদি মুখে ক্ষমা চাইলেও মনে মনে একই পাপ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রাখেন, তাহলে তাঁর তওবার আন্তরিকতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। তবে আন্তরিকভাবে পাপ ছাড়ার সংকল্প করার পর মানবিক দুর্বলতায় কেউ আবার ভুল করে ফেললে, তাঁর উচিত নতুন করে তওবা করা এবং নিজেকে সংশোধনের চেষ্টা অব্যাহত রাখা।

তওবা কবুল হওয়ার ৫টি শর্ত

ইসলামি শিক্ষায় তওবা গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য কয়েকটি মৌলিক শর্তের কথা বলা হয়েছে। এগুলো পূরণের মাধ্যমে একজন মানুষ নিজের ভুল সংশোধন করে আল্লাহর ক্ষমা লাভের আশা করতে পারেন।

১. একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তওবা করা

তওবা হতে হবে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে। মানুষের প্রশংসা পাওয়া, সামাজিক লোকলজ্জা এড়ানো কিংবা দুনিয়াবি সুবিধা লাভের জন্য নয়; বরং আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে ফিরে আসার আন্তরিক ইচ্ছা থেকেই তওবা করতে হবে।

পবিত্র কোরআনের সুরা বাইয়িনার ৫ নম্বর আয়াতে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তওবার ক্ষেত্রেও এই আন্তরিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২. অতীতের পাপের জন্য অনুতপ্ত হওয়া

তওবার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা করা। আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করার কারণে অন্তরে যে অনুতাপ তৈরি হয়, তা মানুষকে ভুল থেকে ফিরে আসতে সাহায্য করে।

অনুশোচনা শুধু সাময়িক আবেগ নয়; এর মাধ্যমে নিজের আচরণ পরিবর্তনের ইচ্ছাও তৈরি হওয়া উচিত। অতীতের ভুল উপলব্ধি করে ভবিষ্যতে একই পথে না ফেরার চেষ্টা তওবার গুরুত্বকে বাস্তব রূপ দেয়।

৩. পাপ কাজ ছেড়ে দেওয়া

যে পাপের জন্য তওবা করা হচ্ছে, তা ছেড়ে দেওয়া জরুরি। কেউ যদি অন্যায়ভাবে সম্পদ আত্মসাৎ করেন, প্রতারণা করেন কিংবা অন্যের অধিকার নষ্ট করেন, তাহলে শুধু মুখে ক্ষমা চাওয়াই যথেষ্ট নয়। তাঁকে অন্যায় কাজ বন্ধ করতে হবে এবং সম্ভব হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।

কারও সম্পদ অন্যায়ভাবে নেওয়া হলে তা ফেরত দিতে হবে। কারও প্রতি অপবাদ, অন্যায় বা ক্ষতি করে থাকলে পরিস্থিতি অনুযায়ী তাঁর অধিকার পুনরুদ্ধার ও ক্ষতি সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে। মানুষের হক নষ্ট করার বিষয়টি তাই তওবার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

একইভাবে ফরজ ইবাদতে অবহেলা হয়ে থাকলে তা সংশোধনের জন্য ইসলামের বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

৪. ভবিষ্যতে পাপ না করার দৃঢ় সংকল্প করা

তওবার সময় অন্তরে দৃঢ় সংকল্প থাকতে হবে যে ভবিষ্যতে ওই পাপে আর ফিরে যাওয়া হবে না। ইচ্ছাকৃতভাবে পাপ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রেখে তওবা করা আন্তরিক তওবার পরিপন্থী।

তবে মানুষ ভুলের ঊর্ধ্বে নয়। আন্তরিক সংকল্প থাকা সত্ত্বেও পরে দুর্বলতার কারণে কেউ একই পাপে জড়িয়ে পড়লে, তার আগের তওবা যে অবশ্যই বাতিল হয়ে গেছে—এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক নয়। বরং নতুন পাপের জন্য নতুন করে তওবা করতে হবে এবং পাপ থেকে দূরে থাকার বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।

যে পরিবেশ, অভ্যাস কিংবা সঙ্গ মানুষকে বারবার পাপের দিকে নিয়ে যায়, সেগুলো থেকে দূরে থাকার চেষ্টা এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

৫. তওবার সুযোগ শেষ হওয়ার আগেই ফিরে আসা

ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, মৃত্যুর চূড়ান্ত মুহূর্ত এসে যাওয়ার আগে পর্যন্ত তওবার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়ে পরিণতি নিশ্চিতভাবে সামনে চলে এলে তখনকার তওবা গ্রহণযোগ্য হবে না বলে কোরআনে সতর্ক করা হয়েছে।

সুরা নিসার ১৮ নম্বর আয়াতে এমন ব্যক্তিদের কথা বলা হয়েছে, যারা পাপ করতে থাকে এবং মৃত্যুর উপস্থিতিতে বলে, ‘এখন আমি তওবা করছি।’

কোরআনের সুরা ইউনুসের ৯০-৯১ নম্বর আয়াতে ফেরাউনের মৃত্যুমুখী অবস্থায় ইমান আনার ঘোষণার ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে।

এ ছাড়া সহিহ হাদিসে কেয়ামতের বড় আলামত হিসেবে পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদয়ের কথা এসেছে। এ আলামত প্রকাশের পর নতুন করে ইমান গ্রহণ বা তওবা করার সুযোগ আর আগের মতো থাকবে না বলে ইসলামি বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে।

এসব শিক্ষা মানুষকে তওবা পিছিয়ে না দিয়ে জীবিত থাকতেই নিজের ভুল সংশোধনের তাগিদ দেয়।

মহানবী (সা.) নিজেও নিয়মিত ইস্তিগফার করতেন

তওবা শুধু পাপী মানুষের জন্য প্রয়োজন—বিষয়টি এমন নয়। আল্লাহর প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেও নিয়মিত ইস্তিগফার ও তওবা করতেন। সহিহ মুসলিমের ২৭০২ নম্বর হাদিসে তিনি দিনে ১০০ বার আল্লাহর কাছে তওবা করার কথা বলেছেন। সহিহ বুখারির ৬৩০৭ নম্বর হাদিসে দিনে ৭০ বারেরও বেশি ক্ষমা প্রার্থনার কথাও বর্ণিত হয়েছে।

এ থেকে বোঝা যায়, ইস্তিগফার একজন মুমিনের নিয়মিত ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির অংশ। মানুষ নিজের ভুল বুঝতে পারলে, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে এবং জীবনকে সংশোধনের চেষ্টা করলে তার আত্মিক উন্নতির পথ তৈরি হয়।

হতাশা নয়, তওবা হোক জীবনের নিয়মিত অভ্যাস

পাপ যত বড়ই হোক, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে পড়া উচিত নয়। একই ভুল বারবার হয়ে গেলে তা থেকে ফিরে আসার চেষ্টা বন্ধ না করে বরং পাপের কারণ খুঁজে বের করা, অনুশোচনা করা এবং নিজেকে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

তবে তওবাকে পাপ করার অনুমতি হিসেবে দেখা যাবে না। প্রকৃত তওবার লক্ষ্য হলো অন্যায় ছেড়ে দেওয়া, আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলার চেষ্টা করা এবং মানুষের অধিকার রক্ষা করা। আন্তরিক তওবার পরও কেউ দুর্বলতায় ভুল করলে আবার আল্লাহর কাছে ফিরে আসবেন—কিন্তু প্রতিবারই পাপ থেকে বাঁচার সংকল্পকে আরও দৃঢ় করতে হবে।

তওবা তাই কোনো এক দিনের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং সারাজীবন নিজেকে পরিশুদ্ধ করার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া, সৎকাজে ফিরে আসা এবং ভুল সংশোধনের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়েই একজন মুমিন তাঁর রহমত ও ক্ষমার আশা করতে পারেন।

কালের আলো/জে এন/এসএ