খুঁজুন
                               
, ,
           

২ কেজি বীজে শুরু, কালো ধান চাষে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন শিক্ষক

পাবনা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৬ অপরাহ্ণ
২ কেজি বীজে শুরু, কালো ধান চাষে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন শিক্ষক

শিক্ষকতার পাশাপাশি কৃষিকাজের প্রতি ভালোবাসা থেকে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছেন পাবনার বেড়া উপজেলার সহকারী শিক্ষক সামির হোসেন সাদ্দাম। ইউটিউব ও অনলাইনে ব্ল্যাক রাইস বা কালো ধান চাষের ভিডিও দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে ২৩ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে এই ধানের চাষ করেছেন তিনি। তাঁর খেতে বেড়ে ওঠা কালো ধান দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শৌখিন কৃষকেরা। প্রচলিত ফসলের বাইরে নতুন জাতের এই ধান চাষ করে এলাকায় কৌতূহল সৃষ্টি করেছেন তিনি। সাদ্দাম হোসেন উপজেলার নাকালিয়া সাঁড়াশিয়া বণিক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। শিক্ষকতার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কৃষিকাজকে শখ হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি। এর আগে বাড়ির আঙিনায় বিভিন্ন জাতের মরিচ, লাল ঢেঁড়শ, আদা ও নানা ধরনের শাকসবজি চাষ করে স্থানীয়ভাবে পরিচিতি পেয়েছেন। এবার তাঁর কৃষি উদ্যোগের নতুন সংযোজন ব্ল্যাক রাইস।

ইউটিউবের ভিডিও দেখে চাষের পরিকল্পনা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেড়া উপজেলার হাটুড়িয়া মৌজায় ২৩ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে কালো ধানের চাষ করেছেন সাদ্দাম। অনলাইনে এই ধানের চাষাবাদ সম্পর্কে বিভিন্ন ভিডিও দেখার পর তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। এরপর বগুড়া থেকে ১ হাজার টাকা দিয়ে ২ কেজি বীজ সংগ্রহ করেন। সেই বীজ দিয়ে প্রথমে বীজতলা তৈরি করেন তিনি। পরে আষাঢ় মাসের শেষ দিকে জমিতে চারা রোপণ করেন। বীজ রোপণ থেকে ধান পরিপক্ব হতে প্রায় ১৪০ দিন সময় লাগে বলে জানান তিনি। চাষের শুরু থেকে ধানের বেড়ে ওঠা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি তাঁর কাছে ছিল নতুন অভিজ্ঞতা। প্রচলিত ধানের বাইরে ভিন্ন জাতের এই ফসল ফলাতে পেরে সন্তুষ্ট সাদ্দাম। তিনি জানান, আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে ধান কাটা শুরু করা যাবে বলে আশা করছেন। বেড়া উপজেলায় এর আগে কেউ এই ধানের চাষ করেছেন বলে তাঁর জানা নেই। তবে তাঁর এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য আর্থিক লাভ নয়, বরং শখ থেকে নতুন কিছু চাষ করে দেখা।

কালো ধানের চাষই সাদ্দাম হোসেনের কৃষিকাজের প্রথম ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নয়। গত পাঁচ বছর ধরে শিক্ষকতার পাশাপাশি বাড়ির আঙিনায় প্রায় এক বিঘা জমিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের কাঁচা মরিচ, লাল ঢেঁড়শ, আদা ও নানা ধরনের শাকসবজি চাষ করে আসছেন তিনি। নতুন নতুন ফসল চাষের প্রতি তাঁর আগ্রহ স্থানীয়দেরও আকৃষ্ট করেছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর এই কৃষি কার্যক্রম এলাকায় প্রশংসা পেয়ে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, তাঁর খেতে বিভিন্ন ধরনের ফসল দেখতে দূরদূরান্ত থেকে নারী-পুরুষ ও শৌখিন কৃষকেরা আসছেন। অনেকে নতুন জাতের ফসল সম্পর্কে জানতে চান এবং চাষের পদ্ধতি দেখেন। শিক্ষকতার বাইরে অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে কৃষিকাজে যুক্ত থাকার এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে বিকল্প কৃষিচর্চা নিয়েও আগ্রহ তৈরি করেছে।

ব্ল্যাক রাইসের বাজারমূল্য ও সম্ভাব্য ফলন

সাদ্দাম হোসেনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ ব্ল্যাক রাইস ধানের দাম প্রায় ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা। তাঁর হিসাবে, প্রতি বিঘায় প্রায় ১৫ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। তবে তাঁর নিজের জমিতে প্রকৃত ফলন কত হবে, তা ধান কাটার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। পরীক্ষামূলক এই চাষ সফল হলে ভবিষ্যতে অন্য কৃষকেরাও কালো ধান চাষে আগ্রহী হতে পারেন। তবে নতুন কোনো ফসল বাণিজ্যিকভাবে চাষের আগে বীজের প্রাপ্যতা, উৎপাদন খরচ, ফলন, বাজারের চাহিদা ও বিক্রির নিশ্চয়তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। শুধু বাজারদর বেশি হলেই যে কৃষকের লাভ নিশ্চিত হবে, তা নয়।

কৃষি বিভাগের সহযোগিতা

বেড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুসরাত কবীর জানান, সহকারী শিক্ষক সাদ্দাম হোসেন ২৩ শতাংশ জমিতে ব্ল্যাক রাইস চাষ করেছেন বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা শুরু থেকেই তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন। অন্য কৃষকেরাও যাতে এই ধান চাষে আগ্রহী হন, সে জন্য কৃষি অফিস থেকে তাঁকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, ব্ল্যাক রাইসের চাল স্বাদ ও পুষ্টিগুণের কারণে পরিচিত। তবে এই চালের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যগত উপকারিতা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও চিকিৎসাবিষয়ক প্রমাণ বিবেচনা করা জরুরি।

নতুন ফসল নিয়ে কৃষকদের আগ্রহ

প্রচলিত ধানের পাশাপাশি বিকল্প জাতের ফসল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তব আয়ে রূপ দিতে হলে উৎপাদন ব্যয়, ফলন, বাজারব্যবস্থা এবং কৃষকের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ।

সাদ্দাম হোসেনের ২৩ শতাংশ জমির পরীক্ষামূলক চাষের ফলাফল তাই তাঁর নিজের আগ্রহের গণ্ডি ছাড়িয়ে স্থানীয় কৃষকদের জন্যও পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে উঠেছে। ধান কাটার পর ফলন ও উৎপাদন খরচের হিসাব পাওয়া গেলে এই চাষের বাস্তব সম্ভাবনা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

বিএসএফের হাতে আটক ২ পুলিশ সদস্যকে ফিরিয়ে আনল বিজিবি

কুমিল্লা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
বিএসএফের হাতে আটক ২ পুলিশ সদস্যকে ফিরিয়ে আনল বিজিবি

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সীমান্তে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে আটক বাংলাদেশ পুলিশের দুই সদস্যকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠকের পর তাঁদের হস্তান্তর করা হয়। ফেরত আসা দুই পুলিশ সদস্য হলেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. ইমরান হোসেন। বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

পতাকা বৈঠকে হস্তান্তর, পরে পুলিশের কাছে বুঝিয়ে দেয় বিজিবি

বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল সীমান্তের মেইন পিলার ২০৫৯-এর কাছে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিজিবির সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন (৬০ বিজিবি) এবং বিএসএফের ৪৯ ব্যাটালিয়নের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ের ওই বৈঠকে বিএসএফ আটক দুই পুলিশ সদস্যকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। পরে দুপুর ১টা ৪২ মিনিটে বিজিবি তাঁদের বাংলাদেশ পুলিশের কাছে বুঝিয়ে দেয়। বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এতে সীমান্তে আটক দুই পুলিশ সদস্যকে অল্প সময়ের মধ্যেই দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

মাদক উদ্ধারের অভিযানে গিয়ে সীমান্ত অতিক্রম

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ী সীমান্ত এলাকায় মাদক উদ্ধারের অভিযান চালাচ্ছিলেন পুলিশের সদস্যরা। এ সময় সীমান্তের ২০৫৯ নম্বর পিলারসংলগ্ন এলাকায় এক ব্যক্তিকে ধাওয়া করতে গিয়ে কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। পরে ভারতীয় নাগরিকেরা তাঁকে আটক করেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

সহকর্মীকে ছাড়াতে গিয়ে আটক হন এএসআই ইমরান

কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান আটক হওয়ার পর তাঁকে ছাড়িয়ে আনার চেষ্টা করতে গিয়ে এএসআই মো. ইমরান হোসেনও আটক হন। এরপর দুই পুলিশ সদস্যকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়। আটক দুই সদস্যকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দুই বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও হস্তান্তর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দুপুরে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং বৈঠক শেষে তাঁদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে দুই পুলিশ সদস্যকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি জানিয়েছেন। সীমান্তে দায়িত্ব পালনকালে কোনো সদস্য সীমান্ত অতিক্রম করে অন্য দেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করলে এ ধরনের ঘটনা দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

মহাকাশের ‘খালি’ অঞ্চলে রহস্যময় সংকেত

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
মহাকাশের ‘খালি’ অঞ্চলে রহস্যময় সংকেত
মহাকাশের এমন একটি ক্ষুদ্র অঞ্চলে রহস্যময় সংকেত শনাক্ত করেছে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ, যেখানে দীর্ঘদিন পর্যবেক্ষণ চালিয়েও ওই সংকেতের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো দৃশ্যমান উৎস খুঁজে পাননি বিজ্ঞানীরা। প্রায় তিন মাসের ব্যবধানে দুই দফা পর্যবেক্ষণে সংকেতটি ধরা পড়ে। কিন্তু কোথা থেকে এটি এসেছে, কী কারণে তৈরি হয়েছে কিংবা এর পেছনে কোন মহাজাগতিক ঘটনা কাজ করছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, সংকেতটি মহাকাশের এমন একটি অঞ্চলে পাওয়া গেছে, যা আগে হাবল স্পেস টেলিস্কোপ দিয়ে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে আরও শক্তিশালী অবলোহিত প্রযুক্তি ব্যবহার করেও সেখানে এর কোনো সুস্পষ্ট উৎস শনাক্ত করা যায়নি। ফলে নতুন এই সংকেত নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মধ্যে।

যে অঞ্চলে প্রায় ১০ হাজার ছায়াপথের সন্ধান মিলেছিল

রহস্যময় সংকেতটির অবস্থান দক্ষিণ আকাশের ফর্নাক্স নক্ষত্রমণ্ডলে, ‘হাবল আল্ট্রা ডিপ ফিল্ড’ নামে পরিচিত মহাকাশের একটি ক্ষুদ্র অঞ্চলে। মহাবিশ্বের গভীরতম পর্যবেক্ষণগুলোর মধ্যে অন্যতম এই অঞ্চলটি। দূরবর্তী ও ক্ষীণ ছায়াপথের সন্ধানে হাবল স্পেস টেলিস্কোপ এখানে ২৭০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পর্যবেক্ষণ চালিয়েছিল।

সেই পর্যবেক্ষণে প্রায় ১০ হাজার ছায়াপথের সন্ধান পাওয়া যায়। অর্থাৎ, খালি চোখে প্রায় শূন্য বলে মনে হওয়া মহাকাশের ওই ক্ষুদ্র অংশেও অসংখ্য ছায়াপথের অস্তিত্ব রয়েছে।

পরে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ আরও সংবেদনশীল অবলোহিত যন্ত্র দিয়ে একই অঞ্চল পর্যবেক্ষণ শুরু করে। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা আগের পর্যবেক্ষণে শনাক্ত করা কঠিন ছিল—এমন দূরবর্তী ও ক্ষীণ মহাজাগতিক বস্তুর আলো বিশ্লেষণ করার সুযোগ পান।

কিন্তু সেই পর্যবেক্ষণেই সামনে আসে অপ্রত্যাশিত এক সংকেত, যার পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

পরিচিত বস্তুর বদলে অজানা সংকেতের খোঁজ

মিনেসোটা ইউনিভার্সিটির জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী মেসন হুবার্টির নেতৃত্বে গবেষকেরা জেমস ওয়েবের নিয়ার-ইনফ্রারেড স্পেকট্রোগ্রাফ বা এনআইআরস্পেক যন্ত্র ব্যবহার করে সংকেতটি শনাক্ত করেন।

সাধারণত জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আগে থেকে পরিচিত কোনো ছায়াপথ, নক্ষত্র কিংবা অন্য মহাজাগতিক বস্তুকে লক্ষ্য করে টেলিস্কোপের সাহায্যে পর্যবেক্ষণ চালান। কিন্তু এই গবেষণায় পদ্ধতিটি ছিল কিছুটা ভিন্ন। গবেষকেরা যন্ত্রটির প্রায় সব ক্ষুদ্র শাটার খুলে রেখে সংগৃহীত আলোর বর্ণালি বিশ্লেষণ করেন।

এই পদ্ধতিতে আগে থেকে নির্দিষ্ট করে লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন না করেও বিভিন্ন উৎস থেকে আসা আলো শনাক্ত করা সম্ভব। ফলে পরিচিত মহাজাগতিক বস্তুর পাশাপাশি অজানা বা আগে শনাক্ত না হওয়া কোনো উৎসের সংকেতও সামনে আসতে পারে।

গবেষকেরা প্রথমে ছয়টি সংকেতকে আগে থেকে পরিচিত দূরবর্তী ছায়াপথের সঙ্গে মেলাতে সক্ষম হন। কিন্তু সপ্তম সংকেতটির ক্ষেত্রে একই ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এর বৈশিষ্ট্য অন্য সংকেতগুলোর তুলনায় আলাদা হওয়ায় সেটিই বিজ্ঞানীদের বিশেষভাবে ভাবিয়ে তোলে।

৮৮ দিনের ব্যবধানে দুবার ধরা পড়ল সংকেত

গবেষণায় ২০২৩ সালের আগস্ট ও নভেম্বরে দুই দফা পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। এই দুই পর্যবেক্ষণের মধ্যে ব্যবধান ছিল ৮৮ দিন।

দুই দফায় পর্যবেক্ষণের দিকও আলাদা রাখা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল, কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা যন্ত্রের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের কারণে তৈরি সংকেতকে প্রকৃত মহাজাগতিক ঘটনা বলে ভুল করার ঝুঁকি কমানো।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রহস্যময় সংকেতটি দুই দফার পর্যবেক্ষণেই শনাক্ত হয়। এমনকি চারটি সম্মিলিত এক্সপোজারেও এর উপস্থিতি ছিল সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এ কারণে সংকেতটিকে নিছক যন্ত্রের ত্রুটি বলে উড়িয়ে দেওয়া কঠিন বলে মনে করছেন গবেষকেরা। তবে একই সংকেত একাধিকবার পাওয়া গেলেই তার প্রকৃত উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না। সেটি শনাক্ত করতে আরও পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

১.৬ মাইক্রোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যে উজ্জ্বল রেখা

রহস্যময় সংকেতটির অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো, এটি প্রায় ১ দশমিক ৬ মাইক্রোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যে শনাক্ত হয়েছে। আলোর বর্ণালিতে এটি একটি উজ্জ্বল নির্গমন রেখা হিসেবে দেখা গেছে।

মহাজাগতিক বস্তু থেকে আসা আলোকে বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যে বিশ্লেষণ করলে তার রাসায়নিক উপাদান, ভৌত অবস্থা এবং দূরত্ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। নির্দিষ্ট কিছু পরমাণু ও আয়ন নির্দিষ্ট তরঙ্গদৈর্ঘ্যে আলো নির্গত করে। তাই একটি নির্গমন রেখার পরিচয় নিশ্চিত করতে বিজ্ঞানীরা সাধারণত বর্ণালিতে অন্য রেখাগুলোর উপস্থিতিও খতিয়ে দেখেন।

কিন্তু এই সংকেতের ক্ষেত্রে সমস্যাটি হলো, এর সঙ্গে সম্পর্কিত অন্য কোনো নির্গমন রেখা পাওয়া যায়নি। ফলে সংকেতটির পরিচয় নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সূত্র সীমিত হয়ে পড়েছে।

আরও বিস্ময়কর বিষয়, হাবল ও জেমস ওয়েবের আগের পর্যবেক্ষণেও ওই অবস্থানে কোনো দৃশ্যমান উৎস শনাক্ত হয়নি। অর্থাৎ, সংকেতটি যে বস্তু থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তার অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো পরিচিত তথ্য নেই।

আগে ছিল না, পরে হঠাৎ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল?

সংকেতটির প্রকৃতি সম্পর্কে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া গেছে আগের পর্যবেক্ষণের তথ্য থেকে।

গবেষকদের মতে, সংকেতটি এতটাই উজ্জ্বল ছিল যে ২০২২ সালের অক্টোবরে পরিচালিত জেডেস জরিপের সময় একই অবস্থায় উপস্থিত থাকলে সেটি শনাক্ত হওয়ার কথা। কিন্তু ওই পর্যবেক্ষণে সংকেতটির কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, সংকেতটির উৎস হয়তো স্থায়ীভাবে উজ্জ্বল ছিল না। বরং কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সেটি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল, পরে আবার ক্ষীণ হয়ে যেতে পারে। তবে এই ব্যাখ্যাও এখনো নিশ্চিত নয়।

মহাকাশে কিছু ঘটনা অল্প সময়ের জন্য উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। কোনো নক্ষত্রের বিস্ফোরণ, ঘন মহাজাগতিক বস্তুর আশপাশে পদার্থের আচরণ কিংবা অন্য কোনো ক্ষণস্থায়ী ঘটনা থেকে এমন সংকেত তৈরি হতে পারে। কিন্তু বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে এই সম্ভাবনাগুলোর কোনো একটিকে রহস্যময় সংকেতটির নিশ্চিত উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা যাচ্ছে না।

তাই সংকেতটি কোনো পরিচিত মহাজাগতিক ঘটনার ফল, নাকি এর পেছনে রয়েছে এখনো অজানা কোনো প্রক্রিয়া—তা জানতে আরও গবেষণার প্রয়োজন।

রহস্যের সমাধানে প্রয়োজন আরও পর্যবেক্ষণ

জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ মহাবিশ্বের দূরবর্তী ও ক্ষীণ বস্তু শনাক্ত করার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এর উন্নত অবলোহিত যন্ত্রের সাহায্যে বিজ্ঞানীরা এমন সব সংকেতও খুঁজে পাচ্ছেন, যেগুলো আগের পর্যবেক্ষণে শনাক্ত করা কঠিন ছিল।

তবে কোনো সংকেত শনাক্ত করা এবং তার উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া এক বিষয় নয়। নতুন এই সংকেতের ক্ষেত্রেও বিজ্ঞানীদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এর বর্ণালিগত বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা এবং সম্ভাব্য উৎসের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা।

এ বিষয়ে গবেষণাপত্রটি দ্য অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল জার্নাল-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার ফল মহাকাশের অজানা ও ক্ষণস্থায়ী সংকেত অনুসন্ধানে নতুন প্রশ্ন সামনে এনেছে।

এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যায়, সংকেতটি দুই দফা পর্যবেক্ষণে ধরা পড়েছে এবং এর উৎস শনাক্ত করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য বিজ্ঞানীদের হাতে নেই। রহস্যের সমাধান পেতে ভবিষ্যতে আরও পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

কালের আলো/জেএন/এসএ

 

সৌদি রুটে ফ্লাইট বিপর্যয়, ভ্রমণ অনিশ্চয়তায় ১৬ হাজারের বেশি যাত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ণ
সৌদি রুটে ফ্লাইট বিপর্যয়, ভ্রমণ অনিশ্চয়তায় ১৬ হাজারের বেশি যাত্রী

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে পরিচালনাগত বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবগামী ও সংশ্লিষ্ট রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ১০৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত ১৬ হাজার ৬২০ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। বাতিল ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৪৪টি সরাসরি এবং ৬৩টি ট্রানজিট ফ্লাইট। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ বিবৃতিতে ফ্লাইট বাতিল ও যাত্রী ভোগান্তির বিষয়টি তুলে ধরেন।

সরাসরি ফ্লাইট বাতিল ৪৪টি

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে সরাসরি চলাচলকারী চারটি এয়ারলাইন্সের মোট ৪৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের সাতটি ফ্লাইট রয়েছে। সরাসরি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় এসব ফ্লাইটের যাত্রীদের নির্ধারিত ভ্রমণসূচি ব্যাহত হয়েছে। যাত্রার সময় পরিবর্তন কিংবা বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজন দেখা দেওয়ায় তাঁদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল ৬৩টি

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে বিধিনিষেধের প্রভাব পড়েছে বিভিন্ন দেশের বিমান সংস্থার ট্রানজিট ফ্লাইটেও। বেবিচকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব রুটে মোট ৬৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ট্রানজিট ফ্লাইট বাতিল হওয়া এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে রয়েছে ইন্ডিগো, এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ, সালামএয়ার, ফ্লাইদুবাই, এয়ার ইন্ডিয়া ও ইজিপ্টএয়ার। এর মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের ২২টি, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের নয়টি, সালামএয়ারের সাতটি, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি, এয়ার ইন্ডিয়ার চারটি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

ভ্রমণসূচি বদল, ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী

ফ্লাইট বাতিলের কারণে এখন পর্যন্ত ১৬ হাজার ৬২০ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে জানিয়েছে বেবিচক। সরাসরি ও ট্রানজিট—দুই ধরনের ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় পরিবর্তন এসেছে। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা, বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা এবং যাত্রার সময়সূচি পুনর্নির্ধারণের মতো বিষয়গুলো যাত্রীদের জন্য বাড়তি দুর্ভোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ট্রানজিট ফ্লাইটের ক্ষেত্রে একটি সংযোগকারী ফ্লাইট বাতিল হলে পরবর্তী যাত্রার পরিকল্পনাও প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বিমানবন্দরের বিধিনিষেধে ব্যাহত ফ্লাইট চলাচল

সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে পরিচালনাগত বিধিনিষেধের কারণেই এসব ফ্লাইটের যাত্রা ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি সৌদি আরবগামী এবং বিভিন্ন দেশের বিমান সংস্থার মাধ্যমে ট্রানজিটে যাতায়াতকারী যাত্রীরা সমস্যায় পড়েছেন। বেবিচকের বিবৃতিতে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা, সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স এবং ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীর পরিসংখ্যান জানানো হলেও বাতিল ফ্লাইটগুলোর পুনর্নির্ধারিত সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি