খুঁজুন
                               
, ,
           

ভারতের সেভেন সিস্টার্সকে বঙ্গোপসাগরে যুক্ত করতে বাংলাদেশকে ঘিরে জাপানের কৌশল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০২ অপরাহ্ণ
ভারতের সেভেন সিস্টার্সকে বঙ্গোপসাগরে যুক্ত করতে বাংলাদেশকে ঘিরে জাপানের কৌশল

বাংলাদেশের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক শিল্প ও বাণিজ্যিক সংযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় জাপান। এ পরিকল্পনার আওতায় বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্য, যা ‘সেভেন সিস্টার্স’ নামে পরিচিত, সেগুলোকে বঙ্গোপসাগর ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে দেশটি। জাপানের কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে রোববার (১৮ অক্টোবর) ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাতারবাড়ী বন্দরকে ঘিরে একটি ‘শিল্পমূল্য শৃঙ্খল’ বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভ্যালু চেইন গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে জাপান। এর মাধ্যমে শুধু বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামোর উন্নয়ন নয়, বরং বাংলাদেশ, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং আশপাশের দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন ও যোগাযোগব্যবস্থা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

চলতি মাসের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য জাপান সফরের আগে এ পরিকল্পনার কথা সামনে এসেছে। সফরে মাতারবাড়ী শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র প্রকল্প এবং ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের আর্থিক সহায়তার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।

মাতারবাড়ীকে আঞ্চলিক শিল্পকেন্দ্র হিসেবে দেখতে চায় টোকিও
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক সূত্র মাতারবাড়ী বন্দরের সম্ভাবনাকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, মাতারবাড়ী বন্দর বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক শিল্পকেন্দ্রে পরিণত করার সম্ভাবনা রাখে।

জাপানের পরিকল্পনার মূল ভাবনা হলো, গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে শিল্পকারখানা, পণ্য পরিবহন, সরবরাহব্যবস্থা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সমন্বিত অবকাঠামো গড়ে তোলা। এর ফলে বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানোর সুযোগ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও এ বন্দর ব্যবহার করে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের সুবিধা পেতে পারে।

বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর জন্য বঙ্গোপসাগরে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হলে পণ্য পরিবহনে নতুন বিকল্প পথ উন্মুক্ত হতে পারে। ভৌগোলিকভাবে ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এই অঞ্চলটির সঙ্গে বাংলাদেশের সড়ক, রেল ও বন্দর যোগাযোগ উন্নত করা গেলে আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

তবে সেভেন সিস্টার্সকে মাতারবাড়ী বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা এখনো সম্ভাবনাভিত্তিক। এ জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, পরিবহনব্যবস্থা, সীমান্তপারের বাণিজ্যনীতি এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হবে।

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে গুরুত্ব পেতে পারে মাতারবাড়ী প্রকল্প
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য জাপান সফরে মাতারবাড়ী শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র প্রকল্পটি বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে জাপানের আর্থিক সহায়তা চাইতে পারে বাংলাদেশ।

সফরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত আগস্টে মাতারবাড়ী পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তাঁকে প্রকল্পের পরবর্তী ধাপ, অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অবহিত করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মাতারবাড়ী প্রকল্প বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গভীর সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে শিল্পাঞ্চল ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম গড়ে উঠলে কেবল আমদানি-রপ্তানি নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

জাপানের সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থায় আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো।

গভীর সমুদ্রবন্দর হলে কমতে পারে বিদেশি বন্দরের ওপর নির্ভরতা
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে মাতারবাড়ী হবে বাংলাদেশের একমাত্র গভীর সমুদ্রবন্দর। বর্তমানে বড় জাহাজে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কার কলম্বো এবং মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বন্দরের ওপর নির্ভর করতে হয়।

গভীর সমুদ্রবন্দরে বড় আকারের জাহাজ সরাসরি ভিড়তে পারলে পণ্য পরিবহনের প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এতে মধ্যবর্তী বন্দরের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সময় ও ব্যয় সাশ্রয়ের সম্ভাবনা থাকে।

মাতারবাড়ীকে ঘিরে শিল্প ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে উঠলে বন্দরটি শুধু বাংলাদেশের পণ্য আমদানি-রপ্তানির কাজে সীমাবদ্ধ থাকবে না; প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যও আঞ্চলিক বাণিজ্য ও পরিবহনের কেন্দ্র হয়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে এ সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য বন্দরের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সড়ক ও রেল যোগাযোগ, পণ্য সংরক্ষণ ও পরিবহন সুবিধা, কাস্টমস কার্যক্রম এবং সীমান্তপারের লজিস্টিকস ব্যবস্থা সমন্বিতভাবে উন্নত করতে হবে।

ব্যাংকককে অনুসরণযোগ্য মডেল মনে করছে জাপান
আঞ্চলিক শিল্পমূল্য শৃঙ্খল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের অভিজ্ঞতাকে অনুসরণযোগ্য বলে মনে করছে জাপান। দ্য হিন্দুকে লিখিত জবাবে জাপানের ওই কূটনৈতিক কর্মকর্তা বলেন, বন্দর ও দক্ষিণাঞ্চলীয় অর্থনৈতিক করিডরকে কাজে লাগিয়ে ব্যাংকক আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নেতৃত্ব দিয়েছে।

থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনামের মধ্যে যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়াতে জাপান অর্থায়ন এবং অবকাঠামো পরিকল্পনায় সহায়তা দিয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে উৎপাদন, পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্যের বিভিন্ন ধাপকে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

জাপানি কর্মকর্তাদের ধারণা, মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করেও এ ধরনের মডেল বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, নেপাল ও মিয়ানমারের মধ্যে যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানো যেতে পারে।

এ পরিকল্পনার তাৎপর্য হলো, একটি বন্দরকে কেন্দ্র করে একাধিক দেশের উৎপাদন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে একই সরবরাহব্যবস্থার আওতায় আনা। এতে কোনো একটি দেশের শিল্পাঞ্চল অন্য দেশের বাজার কিংবা সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়। তবে এ ধরনের আঞ্চলিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, বিনিয়োগ এবং দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমন্বয় প্রয়োজন।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনা
ভারতের সেভেন সিস্টার্স—অরুণাচল প্রদেশ, আসাম, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড ও ত্রিপুরা—অঞ্চলটির সঙ্গে বাংলাদেশের ভৌগোলিক নৈকট্য রয়েছে। বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা গেলে এসব রাজ্যের পণ্য পরিবহন ও সমুদ্রবাণিজ্যে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

মাতারবাড়ী বন্দরের সঙ্গে সড়ক, রেল ও অন্যান্য পরিবহন অবকাঠামোর কার্যকর সংযোগ স্থাপন করা গেলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ব্যবসায়ীরা বঙ্গোপসাগরমুখী একটি বিকল্প বাণিজ্যপথ পেতে পারেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পরিবহন, গুদামজাতকরণ, সরবরাহ ও বন্দরসংশ্লিষ্ট সেবার চাহিদাও বাড়তে পারে।

এই সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের গুরুত্ব বাড়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক পারস্পরিক নির্ভরশীলতাও বাড়তে পারে। তবে বাস্তবে এ ধরনের যোগাযোগ চালু করতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অনুমোদন, পরিবহন চুক্তি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলোর সমাধান প্রয়োজন হবে।

মৈত্রী সেতু চালু না হওয়ায় রয়ে গেছে সীমাবদ্ধতা
মাতারবাড়ী বন্দরকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের আলোচনায় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বিদ্যমান যোগাযোগ অবকাঠামোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক তুলনামূলক ভালো থাকায় সীমান্তপারের বিভিন্ন যোগাযোগ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

এর মধ্যে ফেনী নদীর ওপর নির্মিত মৈত্রী সেতু উল্লেখযোগ্য। সেতুটি ভারতের ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছিল। এটি কার্যকরভাবে চালু হলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম অঞ্চল এবং মাতারবাড়ী বন্দরের দিকে যোগাযোগের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

তবে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে সেতুটি এখনো চালু হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে আঞ্চলিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা থাকলেও বিদ্যমান অবকাঠামোর পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা এখনো একটি চ্যালেঞ্জ।

জাপানের কর্মকর্তারা অবশ্য দীর্ঘমেয়াদে এ অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে আশাবাদী। তাঁদের ধারণা, বাংলাদেশ থেকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো গেলে মাতারবাড়ী বন্দরের কার্যকারিতা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে।

বাংলাদেশের জন্য সুযোগ, তবে প্রয়োজন আঞ্চলিক সমঝোতা
মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে জাপানের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের সামনে বন্দরনির্ভর শিল্পায়ন, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়লে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে পরিকল্পনাটির সাফল্য শুধু বন্দর নির্মাণের ওপর নির্ভর করবে না। বন্দরকে শিল্পাঞ্চল, সড়ক ও রেল যোগাযোগ, সীমান্তপারের পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যব্যবস্থার সঙ্গে কার্যকরভাবে যুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতা ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতাও জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য জাপান সফরে মাতারবাড়ী প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হলে এ পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা স্পষ্ট হতে পারে। তবে সেভেন সিস্টার্সকে মাতারবাড়ী বন্দরের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ এখনো পরিকল্পনা ও সম্ভাবনার পর্যায়ে রয়েছে; এটি বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নির্ভর করবে পরবর্তী আলোচনা, বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর। সূত্র: দ্য হিন্দু

কালের আলো/জেএন/এসএ

সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্বকে পাশে চাইল সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিশ্বকে পাশে চাইল সরকার

বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের সম্মানজনক ও নিরাপদে নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন বলেছেন, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার দীর্ঘদিন বাংলাদেশে অবস্থানের কারণে দেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে সফররত জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি ইসাবেল বিশপের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ সহযোগিতা চান। বৈঠকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাস দেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এ পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও সম্মানজনকভাবে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানান তিনি। রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয় ও আতিথেয়তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি ইসাবেল বিশপ। প্রত্যাবাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের প্রতি বাংলাদেশের মানবিক মনোভাব অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় বাংলাদেশের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানান বিশেষ দূত। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং শরণার্থী সেলের প্রধান মোহাম্মদ নাজমুল আবেদীন উপস্থিত ছিলেন। জাতিসংঘের প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন সিনিয়র পলিটিক্যাল অফিসার ডানকান কেইথ উইলসন, পাবলিক ইনফরমেশন অফিসার প্নু পেই দেট চায়েলসহ অন্য সদস্যরা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

মুখে হঠাৎ ব্রণ হরমোনের সমস্যার লক্ষণ নয় তো?

লাইফস্টাইল ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
মুখে হঠাৎ ব্রণ হরমোনের সমস্যার লক্ষণ নয় তো?

বয়স ৩০ কিংবা ৪০ পেরিয়ে গেছে। কৈশোরের ব্রণ নিয়ে দুশ্চিন্তার দিনও অনেক আগেই শেষ হয়েছে বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ একদিন আয়নায় তাকিয়ে দেখলেন, চিবুক কিংবা চোয়ালের পাশে উঠেছে যন্ত্রণাদায়ক ব্রণ। কয়েক দিন পর আবারও দেখা দিল নতুন ফুসকুড়ি। অথচ রূপচর্চার রুটিনে বড় কোনো পরিবর্তন আনেননি। তাহলে বয়স বাড়ার পরও কেন ফিরে আসছে ব্রণের সমস্যা?

কৈশোরের সঙ্গে ব্রণের সম্পর্ক বেশি হলেও প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে এই সমস্যা দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। অনেকের ক্ষেত্রে কৈশোরের ব্রণ দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়। আবার কারও ত্বক বছরের পর বছর পরিষ্কার থাকার পর ৩০ বা ৪০ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো ব্রণ দেখা দিতে পারে। হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যবহৃত প্রসাধনীসহ নানা কারণে এমনটা হতে পারে। তবে বারবার মুখ ধুলেই যে ব্রণ থেকে মুক্তি মিলবে, বিষয়টি তেমন নয়।

হরমোনের পরিবর্তন কি ব্রণের কারণ?
প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে ব্রণ হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে হরমোনের পরিবর্তন। বিশেষ করে চিবুক ও চোয়ালের চারপাশে বারবার ব্রণ দেখা দিলে হরমোনের ভূমিকা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। নারীদের ক্ষেত্রে ঋতুচক্র, গর্ভাবস্থা ও পেরিমেনোপজের সময় হরমোনের ওঠানামা ত্বকের তেল উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমের (পিসিওএস) কারণেও ব্রণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। শরীর ইনসুলিনের প্রতি যথাযথভাবে সাড়া না দিলেও হরমোনের কার্যক্রম ও ত্বকের তেল উৎপাদনে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সব ব্রণের পেছনে হরমোন দায়ী নয়। ব্রণ যদি নিয়মিত ফিরে আসে এবং এর পাশাপাশি অন্য কোনো শারীরিক উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে শুধু প্রসাধনী পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

মানসিক চাপ বাড়লেও ত্বকে দেখা দিতে পারে ব্রণ
কাজের অতিরিক্ত চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের দুশ্চিন্তা শুধু মনেই প্রভাব ফেলে না, ত্বকেও তার ছাপ পড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের সময় শরীরে কর্টিসলসহ বিভিন্ন হরমোনের কার্যক্রমে পরিবর্তন ঘটে। এর প্রভাবে ত্বকের প্রদাহ ও ব্রণের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। রাতের পর রাত কম ঘুমানো এবং বিশ্রামের অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে। বিশেষ করে কাজের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি ত্বকে ব্রণ ওঠার প্রবণতা লক্ষ্য করেন, তাহলে নিজের ঘুম ও দৈনন্দিন অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।ত্বকের যত্নে বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহারের পাশাপাশি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং নিয়মিত ঘুমের অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ।

খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে কি ব্রণের সম্পর্ক রয়েছে?
খাদ্যাভ্যাসও কিছু মানুষের ব্রণের সমস্যায় ভূমিকা রাখতে পারে। অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার, যেমন সাদা রুটি, মিষ্টি পানীয় ও পেস্ট্রি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এ ধরনের খাবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ব্রণের প্রবণতা বাড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। এ ছাড়া দুধ ও অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবার কিংবা শরীরচর্চার পর ব্যবহৃত হুই প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ব্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে সবার শরীরে খাবারের প্রভাব এক রকম নয়।তাই মুখে ব্রণ দেখা দিলেই দুধ, পনির বা শরীরচর্চার সাপ্লিমেন্ট খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়। বরং কোন খাবার খাওয়ার পর ব্রণ বাড়ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

ব্রণ ঢাকতে ব্যবহৃত প্রসাধনীই কি সমস্যার কারণ?
অনেক সময় ব্রণ ঢাকার জন্য যে মেকআপ বা প্রসাধনী ব্যবহার করা হয়, সেটিই সমস্যাকে বাড়িয়ে দিতে পারে। ত্বকের উপযোগী নয় এমন ভারী মেকআপ, ময়েশ্চারাইজার কিংবা অন্যান্য স্কিনকেয়ার পণ্য লোমকূপ বন্ধ করে দিতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রসাধনীর কারণে সৃষ্ট এ ধরনের ব্রণকে ‘অ্যাকনে কসমেটিকা’ বলা হয়। সম্প্রতি নতুন কোনো ফাউন্ডেশন, ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার শুরু করার পর ব্রণ দেখা দিলে পণ্যটির সঙ্গে সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা বিবেচনা করা প্রয়োজন। একসঙ্গে অনেক নতুন প্রসাধনী ব্যবহার না করাই ভালো। প্রসাধনী কেনার সময় ‘নন-কমেডোজেনিক’ লেখা রয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়া যেতে পারে। সাধারণত এ ধরনের পণ্য লোমকূপ বন্ধ করার প্রবণতা কমাতে তৈরি করা হয়। পাশাপাশি রাতে ঘুমানোর আগে মেকআপ ভালোভাবে তুলে ফেলতে হবে। বাইরের ধুলাবালি ও দূষণ ত্বকে জ্বালাপোড়া বাড়াতে পারে। তবে ত্বক পরিষ্কারের নামে অতিরিক্ত ঘষাঘষি বা বারবার এক্সফোলিয়েশন করলে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে ব্রণের সমস্যা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

মুখ অপরিষ্কার থাকলেই কি ব্রণ হয়?
ব্রণ নিয়ে প্রচলিত একটি ধারণা হলো, মুখ ঠিকমতো পরিষ্কার না রাখার কারণেই এই সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু বাস্তবে প্রাপ্তবয়স্কদের ব্রণ অপরিচ্ছন্নতার লক্ষণ নয়। লোমকূপে তেল ও মৃত ত্বককোষ জমে যাওয়া, প্রদাহ এবং হরমোনসহ বিভিন্ন কারণ এতে ভূমিকা রাখে। তাই ব্রণ কমানোর আশায় শক্তিশালী ফেসওয়াশ দিয়ে বারবার মুখ ধোয়া কিংবা জোরে ঘষে পরিষ্কার করা উচিত নয়। এতে ত্বকে জ্বালাপোড়া ও শুষ্কতা বাড়তে পারে।প্রতিদিনের ত্বক পরিচর্যার রুটিন সহজ রাখাই ভালো। মৃদু ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা, ত্বকের উপযোগী নন-কমেডোজেনিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং নিয়মিত সানস্ক্রিন লাগানো যেতে পারে। পাশাপাশি ব্রণ খোঁটা বা চেপে ফাটানোর অভ্যাস এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ এতে প্রদাহ বাড়ার পাশাপাশি স্থায়ী দাগ কিংবা গর্ত তৈরি হতে পারে।

কোন লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
মাঝেমধ্যে এক-দুটি ব্রণ উঠলে তা নিজে থেকেই সেরে যেতে পারে। তবে ব্রণ যদি বারবার ফিরে আসে, গভীর ও যন্ত্রণাদায়ক হয় কিংবা ত্বকে স্থায়ী দাগ তৈরি করে, তাহলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে ব্রণের পাশাপাশি মাসিক অনিয়মিত হওয়া বা মুখে অতিরিক্ত লোম গজানোর মতো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি। এসব লক্ষণ পিসিওএসের মতো হরমোনজনিত সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তবে শুধু ব্রণ বা এসব উপসর্গের উপস্থিতি দিয়েই কোনো রোগ নিশ্চিত করা যায় না; প্রয়োজন হলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে কারণ নির্ধারণ করবেন।

বয়স বাড়লেও ব্রণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব
৩০ কিংবা ৪০ বছর বয়সে ব্রণ দেখা দেওয়ার পেছনে একটি নির্দিষ্ট কারণ সব সময় কাজ করে না। হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস এবং অনুপযুক্ত প্রসাধনী—এককভাবে কিংবা একাধিক কারণ একসঙ্গে এই সমস্যার জন্য দায়ী হতে পারে। তাই হঠাৎ ব্রণ দেখা দিলে নিজে থেকে একের পর এক ক্রিম বা ওষুধ ব্যবহার না করে ত্বকের পরিবর্তনগুলো পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা তীব্র আকার ধারণ করলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে উপযুক্ত চিকিৎসা শুরু করাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। সূত্র: টাইমস ইন্টারটেইনমেন্ট

কালের আলো/ডিএইচ/এসএ

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, প্রক্রিয়াগত ঘাটতি খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ

কুটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৮ অপরাহ্ণ
সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, প্রক্রিয়াগত ঘাটতি খতিয়ে দেখছে বাংলাদেশ

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের প্রক্রিয়ায় ঘাটতি ছিল বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুরো প্রক্রিয়ার কোথাও ঘাটতি রয়েছে, যা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তথ্য বিনিময়ের প্রক্রিয়ায় ঘাটতির বিষয়টি সামনে এসেছে। এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে তথ্য বিনিময়ের ঠিক কোন পর্যায়ে ঘাটতি ছিল, কী ধরনের তথ্য পাওয়া বা জানানো যায়নি এবং এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি প্রতিমন্ত্রী।

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে হুমায়ুন কবির বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের ভালো ও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়েও দুই দেশের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরব জেনেভা কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ। তবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তথ্য বিনিময়ের ঘাটতির সঙ্গে জেনেভা কনভেনশনের কোনো নির্দিষ্ট বিধানের সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তথ্য বিনিময়ের প্রক্রিয়ায় ঘাটতির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তবে সংশ্লিষ্ট দুই বাংলাদেশির পরিচয়, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ এবং বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ কখন কী তথ্য পেয়েছিল—এসব বিষয়ে সরবরাহ করা বক্তব্যে বিস্তারিত তথ্য নেই।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি