সৌদিগামী ফ্লাইটে বিপর্যয়, অনিশ্চয়তায় প্রায় ১৯ হাজার যাত্রীর ভ্রমণ
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে কার্যক্রম সীমিত থাকায় ঢাকা থেকে সৌদিগামী সরাসরি ও ট্রানজিট রুটের ১২৬টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে। এতে ভ্রমণ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৯ হাজার ৩৭৭ জন যাত্রী। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি নতুন সময়সূচির অপেক্ষায় রয়েছেন অনেকে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, স্থগিত ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি রুটের ৫৯টি এবং ট্রানজিট রুটের ৬৭টি ফ্লাইট রয়েছে। সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী চারটি এয়ারলাইনসের পাশাপাশি সাতটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসের ট্রানজিট ফ্লাইটও এ পরিস্থিতির আওতায় পড়েছে। সৌদি আরবগামী সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্থগিত হয়েছে সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ফ্লাইট। এ সংস্থার ১৯টি ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে। এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২০টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ১০টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে।
সরাসরি রুটের ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করা যাত্রীদের ভ্রমণসূচিতে পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যাঁদের নির্দিষ্ট তারিখে কর্মস্থলে যোগ দেওয়া, পারিবারিক প্রয়োজনে যাতায়াত কিংবা অন্য কোনো জরুরি কাজ রয়েছে, তাঁদের জন্য পরিস্থিতি বাড়তি অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সরাসরি ফ্লাইটের পাশাপাশি ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইটও স্থগিত হয়েছে। বেবিচকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইন্ডিগোর ২৪টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে। এ ছাড়া এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালাম এয়ারের ৭টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৬টি এবং ইজিপ্ট এয়ারের ১টি ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে।
ট্রানজিট রুটে ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় যেসব যাত্রী অন্য দেশের বিমানবন্দর হয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাঁরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন। একটি ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তিত হলে পরবর্তী সংযোগকারী ফ্লাইটে পৌঁছানো নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফলে অনেক যাত্রীকে নতুন করে ভ্রমণসূচি নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হতে পারে। সরাসরি ও ট্রানজিট—দুই ধরনের রুটেই ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় বিপুলসংখ্যক যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে। বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১৯ হাজার ৩৭৭ জন যাত্রী এ পরিস্থিতির কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ফ্লাইট স্থগিত থাকায় যাত্রীরা কখন গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ফ্লাইটের সময়সূচি, টিকিটের কার্যকারিতা এবং সংযোগকারী ফ্লাইটের ব্যবস্থা নিয়েও তাঁদের সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের কাছ থেকে তথ্য জানতে হচ্ছে। ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের বিমানবন্দরে রওনা হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ সময়সূচি ও টিকিটের অবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ট্রানজিটে ভ্রমণকারীদের সংযোগকারী ফ্লাইটের সময়সূচি ও পরিবর্তিত বুকিংয়ের বিষয়টি ভালোভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]