খুঁজুন
                               
, ,
           

স্থানীয় ভোটে উত্তাপ, সংঘাতের শঙ্কা

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
স্থানীয় ভোটে উত্তাপ, সংঘাতের শঙ্কা

স্থানীয় সরকার নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। দলীয় প্রতীক না থাকলেও ভোটের মাঠে দলীয় প্রভাব, মনোনয়ন ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং স্থানীয় নেতৃত্বের আধিপত্য বিস্তারের লড়াই নির্বাচনী পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল। একই এলাকায় দলের একাধিক নেতা প্রার্থী হলে কিংবা কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ নির্বাচনে নামলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা রূপ নিতে পারে সংঘাতে। এমন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিরোধী দলের নেতারা। অন্যদিকে বিএনপি বলছে, একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নজরদারি চলছে; সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হলে নেওয়া হবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা।

  • প্রতীকহীন নির্বাচনেও দলীয় প্রভাব
  • প্রার্থী বাছাইয়ে ব্যস্ত রাজনৈতিক দলগুলো
  • বিএনপির কোন্দল নিয়ন্ত্রণ ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ

সরকারের পক্ষ থেকে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশ্বাস দেওয়া হলেও বিরোধীদের প্রশ্ন, প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কতটা হবে? নির্বাচনী প্রচারে বাধা, পোস্টার ছেঁড়ার অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। ফলে এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি বেছে নেওয়ার লড়াই নয়, বরং রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা, সরকারের নিরপেক্ষতা এবং নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতারও পরীক্ষা হয়ে উঠছে।

একক প্রার্থী নিয়ে বিএনপির কঠোর অবস্থান
বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান, মেম্বার ও অন্যান্য পদে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় গঠন করা হয়েছে চার সদস্যের বিশেষ কমিটি। কমিটিতে রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা। নির্বাচন ঘনিয়ে এলে কমিটির পরিধি বাড়ানো হতে পারে।

প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা যাচাইয়ে জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ, গোপন জরিপ এবং তৃণমূলের মতামত নেওয়ার উদ্যোগও চলছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জানিয়েছেন, তাঁর এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, যাতে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রার্থী নির্ধারণ করা যায়। তাঁর দাবি, একই এলাকায় একাধিক প্রার্থী রাখবে না দল।

সিরাজগঞ্জে ৮৩টি ইউনিয়নে তিন সদস্যের মনিটরিং কমিটি গঠন করেছে জেলা বিএনপি। জেলা সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু জানিয়েছেন, এসব কমিটি সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান যাচাই করে কেন্দ্রকে তথ্য দেবে। কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ প্রার্থী হলে তাঁকে সমর্থন না দেওয়ার পাশাপাশি সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় নেতাদের সবাইকে সন্তুষ্ট রেখে একক প্রার্থী নিশ্চিত করা কতটা সম্ভব হবে। কেন্দ্রের মনোনয়ন বা সমর্থন না পেয়ে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে দলীয় সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বিরোধীদের শঙ্কা, ভোটের মাঠে উত্তাপ বাড়তে পারে
বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধকে সম্ভাব্য সংঘাতের কারণ হিসেবে দেখছে বিরোধী দলগুলো। তাদের আশঙ্কা, স্থানীয় পর্যায়ে আধিপত্য ও প্রার্থী হওয়ার প্রতিযোগিতা থেকেই সহিংসতার সূত্রপাত হতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিপক্ষের প্রচার বাধাগ্রস্ত হলে কিংবা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে নির্বাচনী পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রার্থী শেখ ফজলুল করীম মারুফ জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশনগুলোর পাশাপাশি ওয়ার্ড পর্যায়েও প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তাঁর অভিযোগ, কিছু এলাকায় তাঁদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে এবং এ ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াতের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলোর স্বাধীন যাচাই অবশ্য প্রয়োজন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা সামনে এনেছেন। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমীনের আশঙ্কা, ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধই নির্বাচনী সংঘাতের কারণ হতে পারে। এসব বক্তব্যে বিরোধীদের মূল উদ্বেগ স্পষ্ট—নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকলেই সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা নিশ্চিত হয় না; প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিরাপত্তা, প্রচারের স্বাধীনতা এবং ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার পরিবেশও থাকতে হয়।

প্রতীক নেই, কিন্তু দলীয় প্রভাব থাকছেই
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের ব্যবস্থা বাতিল করা হয়। এর ফলে আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থীরা দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী বাছাই ও সমর্থনের প্রস্তুতি বলছে, প্রতীক বাদ পড়লেও দলীয় প্রভাব নির্বাচনের বাইরে থাকছে না।

বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণসংহতি আন্দোলন, নাগরিক ঐক্য ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন দল নিজেদের প্রার্থী প্রস্তুত করছে। জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে প্রার্থীও ঘোষণা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিএনপির রাজনৈতিক মিত্রদের মধ্যেও স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে পুরোপুরি অভিন্ন অবস্থান তৈরি হয়নি। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ জানিয়েছেন, নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে যৌথভাবে নাকি আলাদাভাবে অংশ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে আলোচনা বাকি রয়েছে। গণঅধিকার পরিষদ অবশ্য নিজস্ব অবস্থান থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। এতে জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক সমঝোতা স্থানীয় নির্বাচনে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একই জোটে থাকা দলগুলোর মধ্যে স্থানীয় আসন ও প্রার্থী নিয়ে প্রতিযোগিতা দেখা দিলে নির্বাচনী সমীকরণ আরও জটিল হতে পারে।

সরকারের আশ্বাস, নজরদারিতে বাস্তব পদক্ষেপ
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, নির্বাচনে সরকার কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। ভোটাররা স্বাধীনভাবে পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে পারবেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের দলীয় পরিচয়ের কারণে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন সরকারের এই প্রতিনিধি। তবে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তব পদক্ষেপই নির্বাচনী আস্থা তৈরিতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রচারে সমান সুযোগ, সংঘাতপ্রবণ এলাকায় আগাম নিরাপত্তা এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করা না গেলে সরকারের আশ্বাস প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগামী ২১ জানুয়ারি শুরু করে পাঁচ ধাপে সম্পন্ন করার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। এই সময়সূচি সামনে রেখে কমিশনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে প্রতিটি এলাকায় সমান মানের নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা অর্জন।

নির্ধারক হবে শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্পষ্ট দুটি প্রবণতা হলো—প্রার্থী বাছাইয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগ। বিএনপি একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে পারবে কি না, কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত তৃণমূলে কতটা কার্যকর হবে এবং বিরোধীরা কতটা বাধাহীনভাবে প্রচার চালাতে পারবে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।

নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হলে বিএনপিসহ সব দলকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। একই সঙ্গে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে প্রমাণ করতে হবে, প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো পক্ষই প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে না। কারণ, দলীয় প্রতীক না থাকলেই নির্বাচন সংঘাতমুক্ত হয় না। বরং স্থানীয় নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা, ব্যক্তিগত প্রভাব ও দলীয় সমর্থনের লড়াই নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে প্রতীকহীন নির্বাচনেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে। শেষ পর্যন্ত এই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারিত হবে রাজনৈতিক দলগুলোর শৃঙ্খলা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার বাস্তব সুযোগ দিয়ে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমকে

সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নিশ্চিতে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জুবাইদার

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ
সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নিশ্চিতে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জুবাইদার

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্য গবেষণা, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য এবং আধুনিক চিকিৎসা অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনকে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের টোকিওতে ফাউন্ডেশন আয়োজিত স্বাস্থ্যবিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ নীতিগত অগ্রাধিকার দিয়েছে। সবার জন্য সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা, সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ডসহ পরিবারভিত্তিক সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।

নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় দুই দেশের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্য ও সামাজিক খাতের উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।

শিশুদের সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশে টেকসই সামাজিক কাঠামো, মানসম্মত শিক্ষা এবং দারিদ্র্য ও ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বিশ্বব্যাপী আন্তঃসংযোগের এ সময়ে স্বাস্থ্য কূটনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে উল্লেখ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ অর্জনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যের উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও জনকল্যাণমূলক ফাউন্ডেশনগুলোর অবদানও গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়ন ও আধুনিক চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিচালিত কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বাংলাদেশে ফাউন্ডেশনটির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের অনুরোধ জানান। স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও টেকসই সেবা নিশ্চিত করতে ফাউন্ডেশনকে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ সরকার প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

সেমিনারে নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের অনারারি চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়াসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

হামে আরও সাতজনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১,২৯৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৫ অপরাহ্ণ
হামে আরও সাতজনের মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১,২৯৫

দেশে হাম ও হাম উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৯৫ জন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন। একই সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৩ জন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে হাম ও হাম উপসর্গে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৮৪ জনে। এ সময়ে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ৫৪১ জন। হাম উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৯৯ হাজার ১২৭ জন।

এদিকে, একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৯১ হাজার ৯০ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে ছয়জন এবং নিশ্চিত হামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট ১ হাজার ১৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া নিশ্চিত হামে মারা গেছেন ১০৫ জন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধার প্রতিবাদে জাবিতে সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২১ অপরাহ্ণ
মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধার প্রতিবাদে জাবিতে সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ

বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান নিয়ে বাধা সৃষ্টির অভিযোগের প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন একদল শিক্ষার্থী। এ সময় তারা মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শনাক্ত করার দাবি জানান।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। কুশপুত্তলিকায় ‘পাকিস্তানের দালাল’ ও ‘যুদ্ধাপরাধী দেইল্যা রাজাকার’ লেখা ছিল। পরে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন এবং তাকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করার দাবি জানান।

কর্মসূচির পরিচালক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু রায়হান কবির রাসেল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের রাজনৈতিক অবস্থান বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

একজন মুক্তিযোদ্ধাকে গোপনে গার্ড অব অনার দেওয়ার অভিযোগ তুলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। রাসেল আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বে রাজাকারদের ছবি প্রদর্শনের ঘটনা এবং পরবর্তী সময়ে মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের জাবি শাখার সংগঠক সোহাগী সামিয়া অভিযোগ করেন, সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে মানিক পশারীর স্বাভাবিক দাফন ও গার্ড অব অনার প্রদানের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। যারা এ ঘটনায় বাধা দিয়েছেন, তাদের অবিলম্বে শনাক্ত করার দাবি জানান তিনি।

সোহাগী সামিয়া আরও বলেন, ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের মাধ্যমে একজন মুসলমানের দাফনপ্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের ঘটনাবলির দোহাই দিয়ে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অস্বীকার করার প্রবণতা সম্পর্কেও সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বক্তারা বলেন, ভবিষ্যতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও আদর্শের ওপর আঘাত এলে আরও বেশি মানুষ প্রতিবাদে অংশ নেবেন।

তবে দাফন ও গার্ড অব অনার প্রদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এবং এর পেছনের কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি