খুঁজুন
                               
, ,
           

‘জনবান্ধব’ ডিসি-এসপি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০১৮, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
‘জনবান্ধব’ ডিসি-এসপি

অ্যাক্টিং এডিটর | কালের আলো :

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রশ্নে তাঁরা উচ্চকন্ঠ। জঙ্গিবাদ দমনেও সোচ্চার। তাদের সময়ে ময়মনসিংহ শান্তিপূর্ণ এক জেলা। জেলা প্রশাসনে নীতি নির্ধারণী পদে থেকে পরিচ্ছন্ন মনে জনসাধারণের জন্য সেবার দূয়ার খুলে দিয়েছেন। নিজ নিজ প্রশাসনে গতিশীলতা এনেছেন।
কাজের মাধ্যমেই উজ্জ্বল করেছেন সরকারের ভাবমূর্তি। সাধারণের সঙ্গে মিশে যাওয়ার অসাধারণ ক্ষমতার কারণেও তারা জনপ্রিয়। জেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ দু’পদের ‘জনবান্ধব’ এ দু’ কর্মকর্তা হচ্ছেন মো: খলিলুর রহমান ও সৈয়দ নুরুল ইসলাম। একজন জেলা প্রশাসক (ডিসি)। অন্যজন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি)।

সফলতা ও সুনামের সঙ্গে প্রশাসন চালাতে গিয়ে নিজেদের কাজের মাঝেও অপূর্ব সমন্বয় রেখেছেন। এসব কারণেই ময়মনসিংহের ইতিহাসে তাদের ধরা হচ্ছে অন্যতম শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে। জেলার রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে সুশীল সমাজ এমনকি নতুন প্রজন্মও তাদের ভূমিকায় মুগ্ধ।

ময়মনসিংহে যোগদানের প্রথম দিনেই তদ্বিরবাজদের সতর্ক করেছিলেন ডিসি খলিলুর রহমান। চাটুকারিতাকে ‘না’ জানিয়েছিলেন। তার মতো এমন জেলা প্রশাসক ময়মনসিংহে খুব কমই এসেছেন। তিনি সংস্কৃতি নগরী ময়মনসিংহে সাংস্কৃতিক জাগরণ সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছেন। সচেতনতা বিকাশে বিস্তৃত করেছেন সামাজিক আন্দোলন।

তাঁর আলোচিত ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপের একটি প্যানাফ্ল্যাক্স, ব্যানারের জঞ্জালমুক্ত নগরী উপহার দেয়ার প্রচেষ্টা। এক সময় ঠাহর করাই কষ্টকর ছিল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। ডিসি অফিসের সামনের পুকুরটি এক সময় ছিল ময়লা আবর্জনায় পরিপূর্ণ। চারপাশে ছিল ঘন জঙ্গল।

কিন্তু এখন সৌন্দর্যবর্ধনের অফিসের সামনের দিকটায় মনোরম পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিউটিফিকেশনের ছোঁয়ায় এসেছে ঝকঝকে তকতকে চেহারা। সৌন্দর্যবর্ধন হয়েছে পুকুরেরও। অফিসে প্রবেশ পথেই স্বাগত জানাচ্ছে সুদৃশ্য ‘ডিসি গার্ডেন।’

জেলা প্রশাসক (ডিসি) খলিলুর রহমান নিজ অফিসেই প্রতিষ্ঠা করেছেন আইসিটি ল্যাব। সেখানে নারী উদ্যোক্তাদের দেয়া হচ্ছে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড.মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক খান এসব উদ্যোগের সফল বাস্তবায়ন দেখে গেছেন। উদ্বোধন করেছেন আইসিটি ল্যাব ও ডিসি গার্ডেনের। মোহনীয় এক পরিবেশ ফিরিয়ে আনায় জেলা প্রশাসকের (ডিসি) এমন কর্মযজ্ঞেরও উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকাশে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বক্তব্য স্থানীয় জনসাধারণকে উদ্দীপ্ত করেছে। দুর্নীতিমুক্ত গতিশীল প্রশাসন পরিচালনা করে রীতিমতো মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন। জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে জেলাবাসীর সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের নজির স্থাপন করেছেন ডিসি খলিলুর রহমান। এর মাধ্যমে সরাসরি যে কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন। নিজেদের সমস্যার কথাও অকপটে তুলে ধরতে পারছেন।

মূলত কল্যাণকর কাজেই সামাজিক এ নেটওয়ার্ককে ব্যবহার করে নিজের কর্মকৌশল নাগরিকদের সম্মুখে তুলে ধরছেন তিনি। তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে সব রকমের সেবা প্রদানে সরকারি অঙ্গীকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।

এতো গেলো জেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা ডিসি’র কথা। জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দৃষ্টান্ত পুলিশ প্রশাসনের নাম্বার ওয়ান কর্মকর্তা এসপি সৈয়দ নুরুল ইসলামও। শুরু থেকেই তিনি জনসম্পৃক্ত কর্মপরিকল্পনা নিয়েই এগিয়েছেন। জঙ্গিবাদ নির্মুল, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স এবং জনহয়রানির বিষয়ে নিজের আপোষহীন অবস্থার কথাও বলেছিলেন একাধিকবার। তিনি কথা রেখেছেন।

ময়মনসিংহে এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চ্যালেঞ্জে উত্তীর্ণ হয়েছেন। কাজের মাধ্যমেই প্রমাণ করেছেন তিনি সেরা। অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণে দেশের পুলিশ কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তও তিনি।

ছাত্রজীবনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাপন্থী রাজনৈতিক সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় চাকরি জীবনের শুরুতেই বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের রোষানলের শিকার হয়েছিলেন সৈয়দ নুরুল ইসলাম।

মাঠ পর্যায়ে প্রভেশনাল পিরিয়ডের ২ মাস ২১ দিন পরই তিনি সাসপেন্ড হয়েছিলেন। একটানা প্রায় সাড়ে ৫ বছর ছিলেন চাকরিহারা। তবে নিজের অনুকূলে ছিল আদালতের রায়। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত সরকার সেই রায় বাস্তবায়ন করেনি।

পরবর্তীতে ২০০৭ সালে কেয়ার টেকার সরকার ক্ষমতায় এলে আদালতের রায়ে আবারো চাকরিতে বহাল হন সৈয়দ নুরুল ইসলাম।
ময়মনসিংহে যোগদানের আগে এ পুলিশ কর্মকর্তা চাকরি জীবনে দীর্ঘদিন রমনা ডিভিশনের এডিসি এবং ডিসি, নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার, সিটিএসবি’র এসএস (পলিটিকক্যাল), ওয়ারি ডিভিশনের ডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে অনার্স, মাস্টার্স এবং পপুলেশন সায়েন্স থেকে মাষ্টার্স সম্পন্ন করা সৈয়দ নুরুল ইসলাম ২০০১ সালে বিসিএসে উত্তীর্ণ হন।

ওই সময়েই সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে যোগদান করেন চাপাইনবাবগঞ্জের এ বাসিন্দা। পুলিশের ২০ তম ব্যাচের এ কর্মকর্তা ময়মনসিংহের এসপি’র দায়িত্ব পালনকালে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে সাফল্যের পাশাপাশি জেলা পুলিশের তথ্য প্রযুক্তিকে বিকশিত করে গোটা দেশে চমক সৃষ্টি করেছেন।

অপরাধ দমন ও সনাক্তে ময়মনসিংহ-ঢাকা মহাসড়কের ৬৫ কিলোমিটার এলাকা প্রথমবারের মতো সিসি ক্যামেরা নেটওয়ার্কের আওতায় এনেছেন। এমন সৃজনশীলতার স্বাক্ষর রেখে দেশপ্রেমিক পুলিশ বাহিনীতে প্রশংসিত হয়েছেন। তাঁর হাত ধরেই ময়মনসিংহ মিডিয়া সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে রচিত হয়েছে নতুন এক ইতিহাস।


পুলিশ ও জনগণের সম্পর্কেও নতুন মাত্রা যুক্ত করেছেন এসপি সৈয়দ নুরুল ইসলাম। নিজের চিন্তা-চেতনাতেও মুক্তিযুদ্ধকে সবার উপরে স্থান দিয়েছেন। তাঁর কৃতিত্বপূর্ণ ও দক্ষ নেতৃত্বে ময়মনসিংহে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছে পুলিশ। সামাজি শান্তি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনেও হয়েছে সফল।

দেখা গেছে, জেলা পুলিশের এ সর্বোচ্চ কর্মকর্তার অফিস কক্ষে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতে কোন বাঁধা নেই। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সম্পর্কে বিশেষ করে জেলার রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও প্রতিভাবান নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সম্পর্কের মেলবন্ধন স্থাপনেও তিনি দৃষ্টান্ত।

বিনয় আর হাসিমুখ নিয়েই কথা বলেন আগন্তুকদের সঙ্গে। সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানও মেলে তাঁর কাছ থেকে। এসব কারণেই জেলার অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক ভাবমূর্তি অর্জন করেছে জেলা পুলিশ। আর ‘জনবান্ধব’ পুলিশ কর্মকর্তার অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছেন এসপি সৈয়দ নুরুল ইসলাম।

 

কালের আলো/এমএ

বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন, প্লাবনের শঙ্কায় ১০-১২ গ্রাম

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০২ পূর্বাহ্ণ
বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন, প্লাবনের শঙ্কায় ১০-১২ গ্রাম

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের শ্রীপুর-কুড়িকাহুনিয়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। সোমবার ভোর থেকে শুরু হওয়া ভাঙনে প্রায় ৫০ মিটার বাঁধ নদী-খালের দিকে ধসে পড়েছে। একই সঙ্গে ওয়াপদা সড়কের একটি অংশও ভেঙে যাওয়ায় ওই পথে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন রোধ করা না গেলে প্রতাপনগর ও পার্শ্ববর্তী আনুলিয়া ইউনিয়নের ১০ থেকে ১২টি গ্রাম প্লাবিত হতে পারে। এতে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও হাজার হাজার মৎস্যঘের পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ভোর ৩টার দিকে কুড়িকাহুনিয়া লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে বেড়িবাঁধে ভাঙনের সূত্রপাত হয়। সকাল ৭টার দিকে ভাঙন বড় আকার ধারণ করে। একপর্যায়ে বাঁধের প্রায় ৫০ মিটার অংশ ধসে নদী-খালের দিকে চলে যায়। বাঁধের আরও কিছু অংশও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

ভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে বালি ও মাটি ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা শুরু করেন। বাঁধের দুর্বল অংশে বস্তা ফেলা ও মাটি দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার কাজ চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, সারা বছরই তাদের নদীর সঙ্গে লড়াই করে বসবাস করতে হয়। বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকলে ঘরবাড়ির পাশাপাশি ফসল ও মৎস্যঘেরের ব্যাপক ক্ষতি হবে।

আরেক বাসিন্দা নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, সকাল থেকে স্থানীয়রা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভাঙন মোকাবিলায় কাজ করছেন। দ্রুত বালি ভরাট করে ভাঙনস্থল মেরামত না করা হলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হতে পারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে আগে থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতো না। তাদের দাবি, সাময়িকভাবে মাটি ও বালি ফেলার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ পুরো অংশ পরীক্ষা করে স্থায়ী প্রতিরোধকাজ করতে হবে।

এদিকে ভাঙনস্থলের পাশ দিয়ে যাওয়া ওয়াপদা সড়কের একটি অংশও ধসে পড়েছে। ফলে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ভাঙন বাড়লে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুণ্ডু বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে প্রাথমিকভাবে কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, প্রায় ৫০ মিটার বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য কর্মকর্তারা রওনা হয়েছেন এবং দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, সাময়িকভাবে বালি ও মাটি ফেলে ভাঙন ঠেকানো হলেও স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে জোয়ারের পানির চাপে বাঁধের দুর্বল অংশ আবারও ধসে পড়তে পারে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে বড় ধরনের জনপদ ও সম্পদহানির আশঙ্কা করছেন তারা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

ঠাকুরগাঁওয়ে অর্গানিক চা চাষ

ঠাকুরগাঁওয়ে অর্গানিক চায়ে বদলাচ্ছে জীবন

ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ
ঠাকুরগাঁওয়ে অর্গানিক চায়ে বদলাচ্ছে জীবন

একসময় যে জমিগুলো পতিত পড়ে থাকত, সেসব জমিতেই এখন দুলছে চায়ের সবুজ পাতা। ভারতের সীমান্তঘেঁষা উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে চা চাষ ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। বিশেষ করে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ছাড়াই অর্গানিক পদ্ধতিতে চা উৎপাদন স্থানীয় কৃষি ও অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাজেদুল ইসলাম বলেন, সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত চা জেলার চা-শিল্পে নতুন মান তৈরি করেছে। বালিয়াডাঙ্গীর ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের ২৫ একরের চা বাগানে শতভাগ অর্গানিক পদ্ধতিতে চা উৎপাদন হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব এ বাগানে চা পাতার মানও ভালো।

সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার ফিল্ড অফিসার জুয়েল রানা জানান, বাগানটিতে নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ৩০০ শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন। কাজের সুযোগ পেয়ে স্থানীয় অনেক নারী শ্রমিকের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে।

বাগানের শ্রমিক নাজেরা বেগম, দিনোবালা ও ফাতেমা বেগম জানান, আগে কাজের সংকট থাকলেও বর্তমানে চা বাগানে কাজ করে তারা দৈনিক ১৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। এতে তারা নিজেদের সংসারে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

চা বোর্ডের নিবন্ধিত তথ্য অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁওয়ে বর্তমানে ৬৫৮ জন চাষি বাণিজ্যিকভাবে চা চাষের সঙ্গে যুক্ত। জেলার বালিয়াডাঙ্গী, রানীশংকৈল, পীরগঞ্জ ও হরিপুর উপজেলায় প্রায় ৫৯০ একর জমিতে চা চাষ হচ্ছে।

বালিয়াডাঙ্গীর ভান্ডারদহ গ্রামের শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ১৬ শতক জমিতে চা চাষ করে প্রতি ৪০ দিন পরপর ২০০ কেজির বেশি চা পাতা সংগ্রহ করছেন। বছরের সাত মাসে এ জমি থেকে তার আয় হচ্ছে প্রায় ২৮ হাজার টাকা। একইভাবে মরিচপাড়া গ্রামের জগদীশ রায় ও পাটিয়াডাঙ্গী গ্রামের আহসান উল্লাহ মেহেদির মতো ক্ষুদ্র চাষিরাও চা চাষে লাভের মুখ দেখছেন।

চাষিদের ভাষ্য, আগে চা কারখানার মালিকরা ইচ্ছামতো দামে পাতা কিনলেও বর্তমানে তুলনামূলক ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় চা চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে চা চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। অর্গানিক চাষ পদ্ধতি জেলার কৃষিকে আরও এগিয়ে নিতে পারে।

চা বোর্ড পঞ্চগড় আঞ্চলিক কার্যালয়ের ইনচার্জ কৃষিবিদ আমির হোসেন জানান, চা চাষের জন্য ঠাকুরগাঁওয়ের মাটি সিলেটের চেয়েও বেশি উপযোগী। এখানে দ্রুত বর্ধনশীল ভারতের বিটি-২, টিভি-২৩ ও টিভি-২৪ জাতের চা চাষ করা হয়। তবে সিলেটের মতো হাতে পাতা না তুলে কাস্তে দিয়ে পাতা সংগ্রহ করায় নতুন কুঁড়ি আসতে সময় লাগে। এতে কিছুটা উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

পতিত জমিতে চা চাষের বিস্তার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্গানিক উৎপাদনের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী জনপদে কৃষির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। চা পাতার সবুজে বদলে যাচ্ছে মানুষের জীবন-জীবিকা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রস্তুত কক্সবাজার বিমানবন্দর

কক্সবাজার সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রস্তুত কক্সবাজার বিমানবন্দর

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে কক্সবাজার বিমানবন্দর। নতুন আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনাল নির্মাণ ও রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ শেষ হওয়ায় আগামী অক্টোবর থেকে এ বিমানবন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে টার্মিনালের পরিচালনাগত সক্ষমতা যাচাই করা হবে।

প্রায় ৩৬২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন টার্মিনালটির আয়তন প্রায় ১৭ হাজার ৯৫৫ বর্গমিটার। এতে আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য ৪৫০ আসনের প্রস্থান লাউঞ্জ, শুল্কমুক্ত দোকান, আগমন লাউঞ্জ, ইমিগ্রেশন কাউন্টার, কনভেয়ার বেল্টসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সুবিধা রাখা হয়েছে। পর্যাপ্ত চেক-ইন কাউন্টার ও বসার ব্যবস্থাও রয়েছে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে টার্মিনাল পরিচালনায় কোনো সমস্যা থাকলে তা চিহ্নিত ও সমাধানের সুযোগ থাকবে।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমানবন্দরের রানওয়েও প্রস্তুত করা হয়েছে। সমুদ্রের দিকে রানওয়ে ১ হাজার ৭০০ ফুট সম্প্রসারণের ফলে এর দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৭০০ ফুট। রানওয়ের অ্যাসফল্ট ওভারলে, লাইটিংসহ সংশ্লিষ্ট কাজ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের সমন্বয়ক এম মোশাররফ হোসেন বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী অক্টোবর থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হতে পারে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য বিমানবন্দর এখন প্রস্তুত।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষও (বেবিচক) অক্টোবর থেকে আন্তর্জাতিক কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। এর আগে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানিয়েছিলেন, অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম নতুন টার্মিনালে স্থানান্তরের পর পরবর্তী ধাপে আন্তর্জাতিক কার্যক্রম চালু করা হবে।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনাকে কক্সবাজারের পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য নতুন সুযোগ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলে বিদেশি পর্যটকদের কক্সবাজারে আসার সুযোগ বাড়বে। এর ইতিবাচক প্রভাব স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও পড়তে পাবেবিচক সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে কয়েক বছর ধরে অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০২১ সালের ২৯ আগস্ট শুরু হওয়া প্রকল্পের আওতায় টার্মিনাল নির্মাণ, রানওয়ে সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজ করা হয়েছে।

নতুন টার্মিনাল চালুর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করেছে কক্সবাজার বিমানবন্দর। এখন অক্টোবরের সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর অপেক্ষায় পর্যটননগরী কক্সবাজার।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি