খুঁজুন
                               
, ,
           

নতুন আইজিপিকে স্বত:স্ফূর্ত ভালবাসার স্বাক্ষী পুলিশ সদর দপ্তর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
নতুন আইজিপিকে স্বত:স্ফূর্ত ভালবাসার স্বাক্ষী পুলিশ সদর দপ্তর

অ্যাক্টিং এডিটর, কালের আলো:

সবে সন্ধ্যা হয়েছে। গণভবনে রাষ্ট্রীয় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড.মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। ফুলে ফুলে ভরে গেছে অপেক্ষমান কক্ষ। সেখানো তখনো ভিড়। ফুল নিয়ে নতুন এ পুলিশ প্রধানকে শুভেচ্ছা জানাতে বসে আছেন অনেকেই। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান হওয়ায় আইজিপি’র হাতে আবার সময়ও কম।

কিন্তু নিছক ভালবাসার বহি:প্রকাশ ঘটাতেই যারা এতোদূর থেকে এসেছেন কেবলমাত্র শুভেচ্ছা বিনিময় করতে তাদেরই বা হতাশ করেন কী করে? ফলে হাসিমুখে ফুলের তোড়া গ্রহণ করে, ছবি তোলার সুযোগ দিয়ে তবেই বেরিয়ে পড়লেন পুলিশ সদর দপ্তর থেকে। ঝলমলে এমন ঘটনা প্রবাহ সোমবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার।

অবশ্য এ দৃশ্যটি একদিনের নয়। পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই শুরু হয়েছে ফুলেল ভালবাসায় সিক্ত হবার পালা। দিনমান পুলিশের নানা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা, প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা, যে কোন সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান দেয়ার পাশাপাশি প্রতিদিনই ফুল হাতে আসা শুভান্যুধায়ীদের শুভেচ্ছাও গ্রহণ করছেন মুগ্ধতা ছড়ানো আচরণে।

নিয়ম-সময় মেনেই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানেও ছুটে চলছেন সমানতালে। পাহাড়সম ব্যস্ততায় দম ফেলারও ফুরসত নেই। আবার কোন বিরক্তি নেই চেহারায়। কর্মগুণে বরাবরই সাফল্যকে সঙ্গী করে পথ চলেছেন। শৈশব থেকে ৩২ বছরের বর্ণাঢ্য চাকরি জীবন, সর্বত্রই কঠিন সব চ্যালেঞ্জেই জিতেছেন বার বার।

হয়তো এসব কারণেই পেশাদার ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির মানুষ ড.মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীকে ঘিরে এক অভূতপূর্ব প্রাণচাঞ্চল্য আর উচ্ছ্বাসে ভরপুর পুলিশ সদর দপ্তরে। সিভিল সোসাইটি থেকে শুরু করে রাজনীতিক, কর্মকর্তা বা সাধারণ মানুষের স্বত:স্ফূর্ত এমন ভালবাসায় হয়তো পুলিশের এ সর্বোচ্চ কর্মকর্তার হৃদয়েও বয়ে যাচ্ছে অবারিত আনন্দের ফল্গুধারা।

সব পেশার মানুষের এতো আবেগ, এতো ভালবাসা ক’জনেরই বা ভাগ্যে জুটে। আর তাই তো পুলিশ প্রধান হিসেবে তাঁর যোগদানের এক সপ্তাহ পরেও পুলিশ প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত এ সদর দপ্তর এখনো যেন উৎসবেরই আবহ। নিজের অনুভূতি আর মানুষের আবেগের বিবেচনায় এসব দিনগুলো স্মরণীয় আর স্বর্ণালী স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়েই থাকার কথা বর্তমান পুলিশ এ পুলিশ প্রধানের।

পুলিশ সদর দপ্তরে কর্মরত সদস্যরাও বলছেন, ড.মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীকে বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইজিপি হিসেবে বেছে নেয়ায় পুলিশ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে প্রায় সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে আনন্দটাই আলাদা। আর এ আনন্দের বহি:প্রকাশ ঘটছে কাজের ফাঁকে ফাঁকে সকাল থেকে রাত ফুলেল ভালোবাসায় সিক্ত হবার মধ্যে দিয়ে।

দেখা গেছে, স্মৃতির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে প্রায় সবাই মহান মুক্তিযুদ্ধের সুমহান চেতনায় বিশ্বাসী পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) শুভেচ্ছা জানানোর মুহুর্তটি ক্যামেরাবন্দী করছেন। ফেসবুকে ফুলেল শুভেচ্ছার ছবিও পোস্ট করছেন।

প্রতিদিনই তাঁর এলাকা চাঁদপুর থেকে আওয়ামী লীগ দলীয় নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঢাকায় আসছেন। তারা ফুল আর মিষ্টি নিয়ে পুলিশ প্রধানকে ভালোবাসায় সিক্ত করছেন। আইজিপি’র দায়িত্ব গ্রহণের আগেও ড.মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী রাজধানীর উত্তরার অফিসার্স কোয়াটার্সের যে বাসাটিতে থাকতেন সেখানেও ফুলেল তোড়া ও মিষ্টি নিয়ে হাজির হতেন অনেকেই।

জানা গেছে, পুলিশের এ সর্বোচ্চ পদটিতে আসার আগে ড.মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর পথের বাঁকে বাঁকে বিছানো ছিল বাধার কাঁটা। এ কাঁটা উপেক্ষা করতে পেরেছেন মূলত নিজের সততা, দেশপ্রেম, কর্মদক্ষতা, প্রজ্ঞা আর বঙ্গবন্ধু কন্যার অফুরান আস্থা-বিশ্বাসের মধ্যে দিয়েই।

পুলিশের প্রতিটি ধাপে ধাপে দৃঢ়, বলিষ্ঠ ও যোগ্য নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। একইভাবে টানা ৯ বছর সামলেছেন পুলিশের বিশেষ শাখা এসবি। দৃঢ়তা ও সাহসের সঙ্গে এ শাখাকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জেলজীবনের ওপর লেখা গ্রন্থ ‘কারাগারের রোজনামচা’র প্রকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন একই সঙ্গে।

শুধু তাই নয়, ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত এসবির রেকর্ড রুমে বঙ্গবন্ধুর বিষয়ে ৬৬ হাজার ক্লাসিফাইড গোয়েন্দা তথ্য বিশেষভাবে সংরক্ষণে তাঁর উদ্যোগী ভূমিকায় সন্তুষ্ট বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মুজিব পরিবারের সদস্যরা।

একই সময়ে ওই শাখার অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর সংস্থার দেয়া গোয়েন্দা তথ্যে জঙ্গিবিরোধী বড় রকমের অভিযান চালিয়ে সাফল্যের মুখ দেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
‘রাউন্ড দ্যা ক্লক’ কাজের মানুষ ড.মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীকে দক্ষ, বলিষ্ঠ ও গতিশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে এসবিকে নিয়ে গেছেন অন্য রকম এক উচ্চতায়।

নতুন আইজিপি ড.মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী অত্যন্ত ধার্মিক। শত কাজের ব্যস্ততার মাঝেও ওয়াক্তমতো তিনি নামাজ আদায় করেন। তাঁর গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, আপসহীন, দৃঢ়চেতা, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বগুণ পুলিশ বাহিনীকে অন্যরকম এক উচ্চতায় নিয়ে যাবে এমন আশাবাদ শান্তিপ্রিয় দেশের মানুষের।

আরও পড়ুন: সরকার পতনের ‘হাস্যকর’ তত্ত্ব : আইজিপি আগেই বলেছেন ‘গুজবে কান দেবেন না’

আরও পড়ুন: নগরবাসীকে ভীত না হয়ে স্বাভাবিক থাকার পরামর্শ আইজিপির

 

কালের আলো/এএ

রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গুতে কলেজছাত্রের মৃত্যু

রাজশাহী সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
রামেক হাসপাতালে ডেঙ্গুতে কলেজছাত্রের মৃত্যু

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মো. রাসেল (২৩) নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। রাসেলের বাড়ি নাটোর সদর উপজেলায়।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে রাসেলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পরদিন শুক্রবার সকালেই তাঁর মৃত্যু হয়।

এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় রামেক হাসপাতালে নতুন করে ৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫১ জন। বর্তমানে হাসপাতালটিতে ১৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

টোকিও সফরে তারেক রহমান, কৌশলগত সম্পর্কে নতুন সমীকরণ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৩ অপরাহ্ণ
টোকিও সফরে তারেক রহমান, কৌশলগত সম্পর্কে নতুন সমীকরণ

ঢাকা–টোকিও সম্পর্ককে আরও গভীর করার গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরকে। বাংলাদেশের সঙ্গে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ জোরদারের প্রত্যাশা জানিয়েছে জাপান। দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে সমন্বয় বাড়ানোর ক্ষেত্রেও সফরটি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান আগামী ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপান সফর করবেন। সফরটি আনুষ্ঠানিক মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং তাঁর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন।

  • জাপানের সঙ্গে আলোচনায় ৮ সমঝোতা স্মারক
  • সই হতে পারে ৪–৫টি; বাণিজ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও বিনিয়োগে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা

জাপানের এই বিবৃতিতে দুই দেশের সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্বের পাশাপাশি অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে সফরটি কেবল সৌজন্য সাক্ষাৎ কিংবা প্রটোকলভিত্তিক কূটনৈতিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

কৌশলগত অংশীদারিত্বের গুরুত্ব বাড়ছে
বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে জাপান। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা রয়েছে টোকিওর। একই সঙ্গে হালনাগাদ ‘মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক’ ধারণা বাস্তবায়নে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এই অবস্থান থেকে তারেক রহমানের সফরকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি তাৎপর্যপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অর্থনৈতিক সংযোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়গুলো ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের সহযোগিতা জোরদার হলে তা উন্নয়ন অংশীদারত্বের পাশাপাশি আঞ্চলিক স্বার্থের সমন্বয়েও ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে কৌশলগত অংশীদারিত্বের বাস্তব সাফল্য নির্ভর করবে ঘোষিত প্রত্যাশাকে কতটা কার্যকর উদ্যোগে রূপ দেওয়া যায়, তার ওপর। রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জনই হবে এই সম্পর্কের কার্যকারিতা মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড।

আলোচনায় আট সমঝোতা স্মারক
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রেও অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রের বরাত অনুযায়ী, সফর সামনে রেখে দুই দেশের মধ্যে আটটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে সবগুলো চূড়ান্ত না-ও হতে পারে; এর মধ্যে চার থেকে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আলোচনাধীন ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন।

এই খাতগুলোর বৈচিত্র্য ইঙ্গিত দেয়, বাংলাদেশ-জাপান সহযোগিতা শুধু অবকাঠামো বা উন্নয়ন অর্থায়নের প্রচলিত পরিসরে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না; বরং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নেও সম্পর্কের বিস্তার ঘটানোর সুযোগ রয়েছে।

কৃষি ও মৎস্য খাতে প্রযুক্তি, গবেষণা ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে। অন্যদিকে, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে বাংলাদেশের কর্মীদের যোগ্যতার সমন্বয় ঘটানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের মান, ভাষাগত দক্ষতা এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষার মতো বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হবে।

বেসামরিক বিমান চলাচল ও বাণিজ্য খাতে সহযোগিতা বাড়লে যোগাযোগ, পণ্য পরিবহন এবং ব্যবসায়িক সংযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নে যৌথ উদ্যোগ বাংলাদেশের নগর ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সেবা প্রদানের সক্ষমতা উন্নয়নেও সহায়ক হতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্য সমঝোতার পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন কাঠামো প্রয়োজন হবে।

অর্থনৈতিক সম্পর্কের সম্ভাবনা কতটা?
জাপান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। দীর্ঘদিন ধরে দেশটি বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগে সহযোগিতা করে আসছে। ফলে দুই দেশের সম্পর্কের পরবর্তী পর্যায়ে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নের বিষয়গুলো আরও গুরুত্ব পেতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের একটি বড় সুযোগ হলো উন্নত প্রযুক্তি ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো। পাশাপাশি জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্প খাতে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, জাপানের জন্যও বাংলাদেশের গুরুত্ব রয়েছে। বাংলাদেশের বৃহৎ শ্রমশক্তি, উৎপাদন সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগের সম্ভাবনা দেশটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারে পরিণত করেছে। দুই দেশের স্বার্থের এই মিল কাজে লাগাতে পারলে সহযোগিতা দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সুবিধায় রূপ নিতে পারে।

তবে সমঝোতা স্মারক সইয়ের সংখ্যাই সম্পর্কের সাফল্যের একমাত্র সূচক নয়। এসব সমঝোতার আওতায় কী ধরনের প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে, কত দ্রুত সেগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং বাংলাদেশের অর্থনীতি ও জনগণ কতটা সরাসরি উপকৃত হচ্ছে—এসব বিষয়ই শেষ পর্যন্ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

কালের আলো/এমএইচ/এমকে

ফেসবুকে স্নাইপার মন্তব্য, সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় কারাগারে আবু বকর

আদালত প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
ফেসবুকে স্নাইপার মন্তব্য, সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় কারাগারে আবু বকর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফরের সময় রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) বাসে চড়ার ছবি ঘিরে ফেসবুকে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগে মো. আবু বকর সিদ্দিককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান এ আদেশ দেন।

আবু বকর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে রাজধানীর রমনা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ইয়াছিন পাইক তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করলে আদালত এ নির্দেশ দেন।

ফেসবুক পোস্টের মন্তব্য ঘিরে মামলা
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট আবেদনে বলা হয়েছে, গত ২১ অক্টোবর ফেসবুকের ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি গ্রুপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী একটি বাসের তিনটি ছবি প্রকাশ করা হয়। পোস্টটিতে রাজশাহী সফরের সময় প্রধানমন্ত্রীর জন্য ব্যবহৃত যানবাহন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।

পোস্টের ক্যাপশনে লাল-সবুজ রঙের বুলেটপ্রুফ বাসের পরিবর্তে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ‘মো. আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে লেখা হয়, ‘ইস একটা বড় সুযোগ ছিল, শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল।’ মামলার এজাহারে মন্তব্যটিকে ঘিরে অভিযোগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এ মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রযুক্তির সহায়তায় শনাক্তের দাবি পুলিশের
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মন্তব্য করা ফেসবুক আইডির ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করা হয়। পরে রাজশাহী মহানগরীর পবা থানার ঘোলহাড়িয়া দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার বাবা মো. আয়নাল হককেও আটক করা হয়েছিল। তবে প্রাথমিক তদন্তে এ ঘটনায় তার বাবার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে জানায় পুলিশ। এ কারণে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

মোবাইল ফোন জব্দ, আরও তদন্তের আবেদন
আদালতে দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেপ্তারের পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। ফোনটি পর্যালোচনা করে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে আপত্তিকর মন্তব্যের তথ্য পাওয়া গেছে বলে তদন্ত আবেদনে দাবি করা হয়।

মামলার প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং এজাহারে উল্লেখ করা অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে শনাক্ত করার জন্য আবু বকর সিদ্দিককে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে মামলার তদন্ত ও অভিযোগের বিষয়ে আদালতে চূড়ান্তভাবে কী সিদ্ধান্ত আসে, তা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। এ ঘটনায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের উপপরিদর্শক মো. মানিক হোসেন বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি