শরতের শুভ্রতায় সেজেছে মেঘনার পাড়, কাশবনে বাড়ছে ভিড়
যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা ও কোলাহল থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে মেঘনার পাড়ের কাশবনে ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। শরতের শুভ্র কাশফুলে সেজেছে সোনারগাঁয়ের চর ভবনাথপুর। বিশেষ করে বিকালের শেষ সময়ে সূর্যের সোনালি আলো কাশফুলের ওপর পড়লে এখানকার সৌন্দর্য যেন আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
তাই বিকাল হলেই মেঘনার পাড়ে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়। কেউ কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, কেউ আবার প্রিয়জনদের সঙ্গে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখছেন। অনেকে নদীর পাড়ে বসে উপভোগ করছেন শীতল বাতাস ও প্রকৃতির নির্মল পরিবেশ।
স্থানীয় দর্শনার্থী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘একসঙ্গে এত কাশফুল দেখতে খুবই ভালো লাগে। নদীর পাড়ের বাতাস আর কাশফুলের দৃশ্য মনকে প্রশান্ত করে।’
আরেক দর্শনার্থী হাসান মাহমুদ রিপন বলেন, ‘মূলত ছবি তুলতে এসেছিলাম। কিন্তু এখানে এসে প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখে সময়টা আরও উপভোগ্য হয়ে উঠেছে।’
স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর শরৎ মৌসুমে কাশফুল দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসেন। বিকালের দিকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষের সংখ্যাই বেশি। কেউ ছবি তোলেন, কেউ নদীর পাড়ে বসে সময় কাটান, আবার কেউ কাশবনের সৌন্দর্যে হারিয়ে যান।
দিনের আলো ফুরিয়ে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় এখানকার দৃশ্যপট। দূর আকাশে চাঁদের আভা ফুটে ওঠে। কখনো আবার মেঘের আড়ালে লুকিয়ে যায় চাঁদ। সন্ধ্যার মৃদু আঁধারে মেঘনার জলে চাঁদের আলো ঝিলমিল করে। নদীর ঢেউ, শীতল বাতাস আর শুভ্র কাশফুল মিলিয়ে চর ভবনাথপুর তখন হয়ে ওঠে এক অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রাজ্য।
শরতের কাশফুলের এই মায়াবী সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। মেঘনার পাড়ে সাদা কাশফুলের এই বিস্তৃত সমারোহ যেন সোনারগাঁয়ের প্রকৃতির এক অনন্য আয়োজন।
কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

আপনার মতামত লিখুন
Array