খুঁজুন
                               
, ,
           

শরতের শুভ্রতায় সেজেছে মেঘনার পাড়, কাশবনে বাড়ছে ভিড়

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ
শরতের শুভ্রতায় সেজেছে মেঘনার পাড়, কাশবনে বাড়ছে ভিড়

যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা ও কোলাহল থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে মেঘনার পাড়ের কাশবনে ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। শরতের শুভ্র কাশফুলে সেজেছে সোনারগাঁয়ের চর ভবনাথপুর। বিশেষ করে বিকালের শেষ সময়ে সূর্যের সোনালি আলো কাশফুলের ওপর পড়লে এখানকার সৌন্দর্য যেন আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

তাই বিকাল হলেই মেঘনার পাড়ে বাড়তে থাকে দর্শনার্থীদের ভিড়। কেউ কাশফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, কেউ আবার প্রিয়জনদের সঙ্গে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখছেন। অনেকে নদীর পাড়ে বসে উপভোগ করছেন শীতল বাতাস ও প্রকৃতির নির্মল পরিবেশ।

স্থানীয় দর্শনার্থী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘একসঙ্গে এত কাশফুল দেখতে খুবই ভালো লাগে। নদীর পাড়ের বাতাস আর কাশফুলের দৃশ্য মনকে প্রশান্ত করে।’

আরেক দর্শনার্থী হাসান মাহমুদ রিপন বলেন, ‘মূলত ছবি তুলতে এসেছিলাম। কিন্তু এখানে এসে প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখে সময়টা আরও উপভোগ্য হয়ে উঠেছে।’

স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর শরৎ মৌসুমে কাশফুল দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসেন। বিকালের দিকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষের সংখ্যাই বেশি। কেউ ছবি তোলেন, কেউ নদীর পাড়ে বসে সময় কাটান, আবার কেউ কাশবনের সৌন্দর্যে হারিয়ে যান।

দিনের আলো ফুরিয়ে সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় এখানকার দৃশ্যপট। দূর আকাশে চাঁদের আভা ফুটে ওঠে। কখনো আবার মেঘের আড়ালে লুকিয়ে যায় চাঁদ। সন্ধ্যার মৃদু আঁধারে মেঘনার জলে চাঁদের আলো ঝিলমিল করে। নদীর ঢেউ, শীতল বাতাস আর শুভ্র কাশফুল মিলিয়ে চর ভবনাথপুর তখন হয়ে ওঠে এক অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রাজ্য।

শরতের কাশফুলের এই মায়াবী সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। মেঘনার পাড়ে সাদা কাশফুলের এই বিস্তৃত সমারোহ যেন সোনারগাঁয়ের প্রকৃতির এক অনন্য আয়োজন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

দখল-ভরাটে অস্তিত্ব সংকটে রংপুরের নদী

রংপুর সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ
দখল-ভরাটে অস্তিত্ব সংকটে রংপুরের নদী

একসময় রংপুর বিভাগের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, মৎস্য ও নৌপথের অন্যতম প্রধান অবলম্বন ছিল নদ-নদী। সময়ের সঙ্গে দখল, ভরাট, অবৈধ স্থাপনা, পানিপ্রবাহে বাধা ও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় সেই নদীগুলোর অনেকগুলো এখন অস্তিত্ব সংকটে। কোথাও নদী পরিণত হয়েছে সরু খালে, কোথাও ড্রেনে; আবার কোথাও হারিয়ে গেছে নদীর চিহ্নই।

রংপুর বিভাগের আট জেলায় সরকারি ও স্থানীয় বিভিন্ন তালিকায় তিন শতাধিক নদ-নদীর তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে রংপুরে ৪৩টি, লালমনিরহাটে ২৫টি এবং কুড়িগ্রামে অর্ধশতাধিক নদ-নদীর উল্লেখ রয়েছে। তিস্তা, ঘাঘট, যমুনেশ্বরী, করতোয়া, আত্রাই ও ইছামতীর পাশাপাশি রয়েছে অসংখ্য ছোট নদী ও শাখানদী। তবে তালিকায় নাম থাকলেও বাস্তবে অনেক নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা কমে গেছে।

শুষ্ক মৌসুমে নদীর বুক জেগে ওঠার পর কোথাও কোথাও সেই জমি দখল করে চাষাবাদ কিংবা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। এতে বর্ষাকালে পানিনিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মাছের প্রজননক্ষেত্র, জীববৈচিত্র্য ও নদীনির্ভর কৃষি।

লালমনিরহাটের সতী নদীর বিভিন্ন অংশও সংকুচিত হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। নদীর জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ, পুকুর খনন ও কচুরিপানার আধিক্যে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী ও ফুলবাড়ী উপজেলার গিরাই নদী নিয়েও রয়েছে দখলের অভিযোগ।

রংপুর অঞ্চলের প্রধান নদী তিস্তা। এ নদীর সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি ও জনজীবনের দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। ঘাঘট, যমুনেশ্বরী ও করতোয়াসহ বিভিন্ন নদীরও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কিন্তু নাব্যতা কমে যাওয়ায় অনেক স্থানে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।

লেখক ও গবেষক মো. আলামীন বলেন, নদী রক্ষায় সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলমুক্তকরণ ও পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। নদী বাঁচলে কৃষি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যও রক্ষা পাবে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড দেশের নদ-নদীর সংখ্যা নির্ধারণ ও তালিকা হালনাগাদের অংশ হিসেবে বিভাগীয় পর্যায় থেকে পাওয়া তথ্য পুনঃযাচাই করে খসড়া তালিকা প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে কোন নদীর অবস্থান কোথায়, সীমানা কতটুকু এবং মাঠপর্যায়ে তার বাস্তব অবস্থা কী—এসব বিষয় নতুন করে যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, নদী রক্ষার উদ্যোগ শুধু বাঁধ নির্মাণ বা ভাঙন ঠেকানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। নদীর সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, প্রয়োজনীয় স্থানে খনন এবং পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও নিয়মিত তদারকি জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও নদীর প্রবাহের পরিবর্তন ভবিষ্যতে ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে।

তাই রংপুর বিভাগের নদ-নদীগুলোকে টিকিয়ে রাখতে এখনই কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। কারণ নদী শুধু পানির প্রবাহ নয়—এটি কৃষি, জীববৈচিত্র্য, পানি নিষ্কাশন ও মানুষের জীবন-জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ডিএমপির অভিযানে আওয়ামী লীগের ৪০ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ
ডিএমপির অভিযানে আওয়ামী লীগের ৪০ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

রাজধানীতে পৃথক অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৪০ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মুখপাত্র ও উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ডিএমপির পৃথক অভিযানে আওয়ামী লীগের ৪০ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় ও কোন কোন মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

ডিএমপি জানিয়েছে, এ বিষয়ে পরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

১৪ বছরেও শেষ হয়নি রামু সহিংসতার বিচার

কক্সবাজার সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ
১৪ বছরেও শেষ হয়নি রামু সহিংসতার বিচার

কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধবিহার ও বৌদ্ধ পল্লীতে ভয়াবহ সহিংসতার ১৪ বছর পূর্ণ হলেও এখনও শেষ হয়নি বিচারপ্রক্রিয়া। ২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বরের সেই তাণ্ডবের ক্ষত অনেকটাই মুছে গেছে। পুড়ে যাওয়া বিহারগুলোর জায়গায় গড়ে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা, ফিরেছে ধর্মীয় সম্প্রীতিও। তবে বিচার না হওয়ায় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে হতাশা ও ক্ষোভ।

২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রামুর ১২টি বৌদ্ধবিহার ও ৩০টি বসতঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরদিন উখিয়া, টেকনাফ ও কক্সবাজার সদরে আরও সাতটি বিহার ও বাড়িঘরে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকশ বছরের পুরোনো বৌদ্ধ পুরাকীর্তি ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হয়।

ঘটনার পর রামু, কক্সবাজার, উখিয়া ও টেকনাফে মোট ১৯টি মামলা হয়। এর মধ্যে একটি মামলা বাদী প্রত্যাহার করে নেন। বাকি ১৮টি মামলার বাদী ছিল পুলিশ। এসব মামলায় ৩৮৫ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ১৫ হাজার ১৮২ জনকে আসামি করা হয়। পুলিশ ১৮টি মামলায় ৯৯৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।

তবে দীর্ঘ ১৪ বছরেও মামলাগুলোর বিচার শেষ হয়নি। বর্তমানে ১৪টি মামলা চলমান রয়েছে। কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি মোহাম্মদ ইউনূস জানান, কোনো কোনো মামলায় পাঁচজন এবং কোনো কোনো মামলায় সাত থেকে ১০ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। মূলত সাক্ষীদের অনাগ্রহের কারণে বিচারকাজ বিলম্বিত হচ্ছে।

বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদ, কক্সবাজারের সভাপতি প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু বলেন, বৌদ্ধরা নতুন করে দৃষ্টিনন্দন বিহার পেয়েছেন এবং হারানো সম্পদের অনেক কিছু পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয়, এলাকায় সম্প্রীতি ফিরেছে। তবে মামলাগুলোর বিচার এগিয়ে না যাওয়ায় বৌদ্ধদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও সংশয় তৈরি হচ্ছে।

রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারের পরিচালক শীলপ্রিয় থের বলেন, সেই রাতে বৌদ্ধবিহারগুলো ধ্বংস করা হয়েছিল। হারানো সম্পদ আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। এখনও সেই ঘটনার কথা মনে পড়লে চোখে পানি আসে। বর্তমানে রামুর মানুষ সম্প্রীতির মধ্যে বসবাস করছে উল্লেখ করে তিনি এই সম্প্রীতি ধরে রাখার পাশাপাশি দ্রুত বিচারকাজ এগিয়ে নেওয়ার দাবি জানান।

এদিকে মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ পুলিশের করা মামলায় নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অ্যাডভোকেট সুমথ বড়ুয়া বলেন, প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে স্বাধীন তদন্ত বা কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। এতে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করার পাশাপাশি নিরীহ মানুষ হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

ঘটনার সঙ্গে ফেসবুক পোস্টের অভিযোগে আলোচিত উত্তম বড়ুয়া বর্তমানে ফ্রান্সে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর দীর্ঘ সময় তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে ফেসবুকে ছবি প্রকাশ করে নিজের অবস্থানের জানান দেন তিনি।

১৪ বছর পর রামুর বৌদ্ধবিহারগুলো এখন পর্যটক ও দর্শনার্থীদের আকর্ষণের অন্যতম স্থান। তবে নতুন স্থাপনা ও ফিরে আসা সম্প্রীতির আড়ালে এখনও রয়ে গেছে সেই রাতের স্মৃতি এবং বিচার না পাওয়ার দীর্ঘ অপেক্ষা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি