খুঁজুন
                               
, ,
           

উপজেলার প্রথম ধাপের ভোট আজ, প্রভাবমুক্ত নির্বাচন উপহার দিতে চান সিইসি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ মে, ২০২৪, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ
উপজেলার প্রথম ধাপের ভোট আজ, প্রভাবমুক্ত নির্বাচন উপহার দিতে চান সিইসি

রাইসুল ইসলাম খান/আব্দুল হামিদ, কালের আলো:

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আজ বুধবার (৮ মে)। এ ধাপে ১৩৮ উপজেলার ২২টিতে ইভিএম এবং বাকিগুলোতে ব্যালট পেপারে ভোট হবে। ভোটের আগের দিন মঙ্গলবার (০৭ মে) সরিষাবাড়ি ও নাঙ্গলকোট উপজেলা পরিষদের নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে অন্যান্য উপজেলায় এরই মধ্যে ভোট কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে নির্বাচনী সরঞ্জাম। সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। উপজেলা নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল প্রভাবমুক্ত নির্বাচন উপহারে কমিশনের অব্যাহত প্রচেষ্টার কথা জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেছেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে উপজেলা নির্বাচনের ভোট প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হচ্ছে।

মঙ্গলবার (০৭ মে) দুপুরে নির্বাচন কমিশন জানায়, উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপে মোট ১ হাজার ৬৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৫৭০, ভাইস চেয়ারম্যান ৬২৫ এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪৪০ জন প্রার্থী রয়েছেন। প্রথম ধাপে চেয়ারম্যান পদে ৮, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১০ করে অর্থাৎ মোট ২৮জন প্রার্থী ইতিমধ্যে বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন। বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় পাঁচ উপজেলার তিন পদে সকলে নির্বাচিত হয়েছে। তাই ওই পাঁচ উপজেলায় নির্বাচনের প্রয়োজন হবে না। উপজেলাগুলো হলো- নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলা, মুন্সীগঞ্জ জেলার সদর উপজেলা, বাগেরহাট জেলার সদর উপজেলা, ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলা ও মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলা। এ পাঁচটি উপজেলার সব পদের প্রার্থীরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন।

সাধারণ কেন্দ্রে ১৭, দুর্গম এলাকায় ২১ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য
ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ও সাধারণ কেন্দ্রে বিবেচনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ইসি। সেই হিসেবে সাধারণ কেন্দ্রে ১৭ জন ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮ বা ১৯ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া দুর্গম এলাকায় সাধারণ কেন্দ্রে ১৯ জন ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২০ বা ২১ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। উপজেলার আয়তন, ভোটার সংখ্যা ও ভোটকেন্দ্রের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রতি উপজেলায় ২ থেকে ৪ প্লাটুন বিজিবি দায়িত্ব পালন করবেন।

উপকূলীয় এলাকার দ্বীপাঞ্চলে কোস্টগার্ড, মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। ভোটারদের নিরাপত্তায় পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবির ভ্রাম্যমাণ ও স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। ভোট কেন্দ্রে আনসার ব্যাটালিয়ন মোবাইল/স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ভোট গ্রহণের আগের দুই দিন, ভোট গ্রহণের দিন ও ভোট গ্রহণের পরের দুইদিন মোট পাঁচ দিন নিয়োজিত থাকবেন। ভোটারের নিরাপত্তায় মাঠে রয়েছেন ১৪ হাজার ৬১০ জন বিজিবি সদস্য, ৪১ হাজার ৫৩০ জন পুলিশ ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় ও পুলিশের ১১ হাজার ৮৮৩ জন ভ্রাম্যমাণ টিম রয়েছে। এছাড়াও স্ট্রাইকিং ফোর্স ও অন্যান্য দায়িত্বে রয়েছে পুলিশের ২৯ হাজার ২২০ জন সদস্য। অন্যদিকে র‌্যাবের ২ হাজার ৬৪৮ জন ও আনসারের ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮৭৪ জন সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে ৪০০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত রয়েছেন। আর বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছেন ১৩৯ জন।

পৌঁছেছে ভোটের সরঞ্জাম, ব্যালট সকালে
মঙ্গলবার (৭ মে) সকাল থেকেই বিভিন্ন নির্বাচন অফিস থেকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটের সরঞ্জাম পাঠানোর তোড়জোড় শুরু হয়। দুপুরের মধ্যেই তা পৌঁছে যায়। তবে বেশির ভাগ ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার পাঠানো হবে আজ বুধবার (০৮ মে) অর্থাৎ ভোটের দিন সকালে।

গতকাল সকাল থেকেই বরিশালের বিভিন্ন কেন্দ্রে পাঠানো শুরু হয় ভোটের সরঞ্জাম। সদর উপজেলা চত্বর থেকে ৬৮টি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার বাদে বাকি সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আমীর খসরু গাজী।

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া ও ফুলপুর উপজেলার ভোট হচ্ছে প্রথম ধাপে। সেখানেও ব্যালট পেপার বাদে বাকি সব সরঞ্জাম কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে দুপুরের ভেতর পাঁচটি ইউনিয়নে ভোটের সরঞ্জাম পাঠিয়ে দেয় নির্বাচন কমিশন।

প্রভাবমুক্ত নির্বাচন উপহার দিতে চান সিইসি
প্রভাবমুক্ত উপজেলা পরিষদ নির্বাচন উপহার দিতে চান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়ে উপজেলা নির্বাচনের ভোট প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি। মঙ্গলবার (৭ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে সিইসি বলেছেন, ‘নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হচ্ছে সেটাই বড় কথা। কোনো দল এলো কি এলো না, সেটা বড় কথা নয়। জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে এ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হচ্ছে। নির্বাচন যাতে প্রভাবিত না হয় সে ব্যাপারে কমিশন চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। ভোটে কেউ যাতে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সে ব্যাপারে ইসির অবস্থান স্পষ্ট। প্রমাণ পেলেই ব্যবস্থা। ভোটকেন্দ্রে অনুপ্রবেশকারীরা যাতে ঢুকতে না পারে সে ব্যাপারে রিটার্নিং অফিসারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ইসি কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। উৎসাহ-উদ্দীপনা থেকে ভোটের মাঠে যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশনা রয়েছে কমিশনের।’

সিইসি বলেন, ‘এটা নিয়মরক্ষার ভোট নয়, নির্বাচন অনিবার্যভাবে প্রয়োজন। আমাদের কাজ নির্বাচন আয়োজন করা, কে কোন দলের প্রার্থী এটা কোনো বিষয় না।’ এমপি-মন্ত্রীদের ভোটে প্রভাব বিস্তার প্রসঙ্গে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, আমরা কোনো বেকায়দায় নেই। নির্বাচন অবাধ হবে। নির্বাচন প্রভাবিত করতে চাইলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ভোটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথভাবে মোতায়েন করা সম্ভব হবে। প্রার্থী ও প্রার্থীদের কর্মীদের নির্বাচনে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। গণমাধ্যমের মাধ্যমেও শৃঙ্খলা ভঙ্গের চিত্র দেখা গেলে কমিশন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান সিইসি।

ভোটের একদিন আগে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাচন স্থগিত
প্রথম ধাপে আজ ৮ মে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।কিন্তু মাত্র একদিন আগে গতকাল মঙ্গলবার (৭ মে) এ উপজেলায় সব পদের নির্বাচন স্থগিত করে নির্বাচন কমিশন। সোমবার রাত ১০টার দিকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন পরিচালক-২ এর উপসচিব মো. আতিয়ার রহমানের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৮ মে নাঙ্গলকোট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী ছালেহা বেগম তার মনোনয়ন পত্রটি বৈধ করার জন্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন। পরে হাইকোর্ট তার মনোনয়ন পত্রটি বৈধ ঘোষণা করে ২৫ এপ্রিল তাকে প্রতীক বরাদ্দের জন্য নির্দেশ দেন। মহামান্য হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে ইসি। আপিলে তার মনোনয়ন পত্রটির বিষয়ে সোমবার (৬ মে) নো অর্ডার প্রদান করেন আপিল বিভাগ। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এই আদেশের নিমিত্তে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নাঙ্গলকোট উপজেলা পরিষদের সব পদের নির্বাচন স্থগিত করা হলো।

এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মুনীর হোসাইন খান বলেন, ‘নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাচন স্থগিত হওয়ার চিঠি মেইলে পাওয়া গেছে। পরে রাত ১১টার দিকে নির্বাচন স্থগিত হওয়ার বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।’

সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাচন স্থগিত
গত মঙ্গলবার (৭ মে) জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা পরিষদের নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এদিন ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সচিব মো. আতিয়ার রহমান নির্দেশনাটি পাঠিয়েছেন। বিকেল ৫টার দিকে সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয়ে জামালপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ শানিয়াজ্জামান তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে জামালপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ শানিয়াজ্জামান তালুকদার জানান, ৮ মে নির্ধারিত জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মোতাবেক স্থগিত করা হলো। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় পরবর্তী করণীয় জানানো হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদের প্রথম ধাপে ৮ মে অনুষ্ঠেয় জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম উপজেলা পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০১৬ এর বিধি ১৮ এবং ৩১ এর বিধান লঙ্ঘন করায় নির্বাচন কমিশন তার প্রার্থিতা বাতিল করে। মো. রফিকুল ইসলাম তার প্রার্থিতা বহালের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন নম্বর ৫৩০৩/২০২৪ দায়ের করলে হাইকোর্ট বিভাগ ৬ মে তার প্রার্থিতা বহালের আদেশ দেন। হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন আপিল বিভাগে সিএমপি নম্বর ৩৭৮/ ২০২৪ দায়ের করলে ৭ মের আদেশে ‘No Order’ দেওয়া হয়।

এ অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশ বাস্তবায়নের জন্য পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আগামী ৮ মে অনুষ্ঠেয় সরিষাবাড়ী উপজেলা পরিষদের সব পদের নির্বাচন স্থগিত রাখার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্ণিত অবস্থায় উল্লিখিত সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

কালের আলো/আরআই/এমকে

রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৬৫, উদ্ধার মাদক-অস্ত্র

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ
রাজধানীতে ডিএমপির অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৬৫, উদ্ধার মাদক-অস্ত্র

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন ইউনিটের অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ৪৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযানে অস্ত্র, মাদকসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানান।

ডিএমপি জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৩৮ জন, লালবাগে ৩৮, ওয়ারীতে ৬৪, মতিঝিলে ৮৩, তেজগাঁওয়ে ৮০, মিরপুরে ৯০, গুলশানে ৩৩, উত্তরা বিভাগে ৩৪ এবং গোয়েন্দা বিভাগে পাঁচজন রয়েছেন।

অভিযানকালে একটি দেশীয় ওয়ান শুটারগান, একটি শটগানের কার্তুজ, দুটি ছুরি, ৫০ কেজি গাঁজা, ২৯৯টি ইয়াবা ও ২৩ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া একটি পিকআপ, ১১টি মোবাইল ফোন, একটি স্টিলের রড, পাঁচটি কাঠের স্টাম্প, দুটি বোতলের ছিপি, কিছু ফুয়েল পেপার ও নগদ ৪ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত এসব অভিযানে মাদক ও অন্যান্য আলামত উদ্ধারের পাশাপাশি একজন ভিকটিমকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির এই কর্মকর্তা।

কালের আলো/এমএসআইপি 

নওগাঁয় উদ্বোধনের আগেই সরকারি মিলনায়তন ভাড়া

নওগাঁ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ
নওগাঁয় উদ্বোধনের আগেই সরকারি মিলনায়তন ভাড়া

নওগাঁর পোরশায় জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (নিপোর্ট) আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (আরটিসি) আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই মিলনায়তন বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কোনো ট্রেজারি চালান ছাড়াই প্রতিদিন ৩ হাজার ৭৫০ টাকা করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পোরশার আরটিসি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়নি। এমনকি কেন্দ্রটির উদ্বোধনের ঘোষণাও আসেনি। এর মধ্যেই মিলনায়তনটি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে।

কেন্দ্রটির প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা জান্নাতুল মাওয়া। তিনি চারঘাটে নিজ কর্মস্থলে থেকেই পোরশার কেন্দ্রটির প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। মাঠপর্যায়ে কেন্দ্রটির দেখভালের জন্য অতিরিক্ত দায়িত্বে রাখা হয়েছে সারাইগাছি গ্রামের খলিলুর রহমানকে। এ ছাড়া সরকারি খরচে কেন্দ্রটির নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন সাতজন আনসার সদস্য।

নগদ টাকা, পরে বিকাশে পাঠানোর দাবি

মিলনায়তন দেখভালের দায়িত্বে থাকা খলিলুর রহমান জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশে তিনি বিভিন্ন পক্ষের কাছে মিলনায়তন ভাড়া দেন। ভাড়া বাবদ নগদে নেওয়া টাকা পরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কর্মকর্তা জান্নাতুল মাওয়ার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

তবে এসব টাকা কোথায় এবং কীভাবে খরচ করা হয়, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

ঊর্ধ্বতনদের সম্মতির দাবি

মিলনায়তন ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জান্নাতুল মাওয়া। তাঁর দাবি, কেন্দ্রটি আংশিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মৌখিক পরামর্শ ও সম্মতিতেই মিলনায়তন ভাড়া দেওয়া হচ্ছে।

তবে ভাড়া বাবদ আদায় করা অর্থ সরকারি রাজস্ব খাতে জমা দেওয়া হয় কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরে তথ্য দেওয়ার কথা বলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরে এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জানে না স্থানীয় প্রশাসন

পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম বলেন, একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের আগেই কীভাবে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে, তা তাঁর বোধগম্য নয়। সরকারি কোনো স্থাপনা বা মিলনায়তন বাণিজ্যিক কিংবা অন্য কোনো কাজে ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধিমালা রয়েছে।

তিনি বলেন, মিলনায়তন ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কিছু জানানো হয়নি। ভাড়া বাবদ আদায় করা অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও তিনি অবগত নন।

উদ্বোধনের আগেই সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মিলনায়তন ভাড়া দেওয়ার ঘটনা এবং আদায়কৃত অর্থের হিসাব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/এমএসআইপি 

মাছ কম, খরচ বেশি; ঋণের কিস্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় জেলেরা

ঝালকাঠি(বরিশাল) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১২ পূর্বাহ্ণ
মাছ কম, খরচ বেশি; ঋণের কিস্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় জেলেরা

ঝালকাঠির সুগন্ধা, বিষখালী, হলতা ও গাবখান নদীতে ইলিশের আশায় দিন-রাত জাল ফেলছেন জেলেরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা নদীতে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় আয়-ব্যয়ের হিসাব মিলছে না তাদের। এর মধ্যে মাথায় রয়েছে এনজিওর ঋণের কিস্তি ও মহাজনের কাছ থেকে নেওয়া দাদনের টাকা। সামনে ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আরও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া, দেউরি, বাদুরতলা ও চল্লিশকাউনিয়া এবং নলছিটি উপজেলার মাটিভাঙ্গা এলাকার জেলেদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

জেলেরা জানান, ইলিশের মৌসুমকে সামনে রেখে কয়েক মাস আগে থেকেই নৌকা ও জাল মেরামত, নতুন জাল কেনা এবং অন্যান্য প্রস্তুতিতে টাকা খরচ করেন তারা। নিজেদের সঞ্চয় না থাকায় অনেকেই এনজিও থেকে ঋণ কিংবা মহাজনের কাছ থেকে দাদন নেন। মৌসুমে ভালো ইলিশ পেলে মাছ বিক্রির টাকা দিয়ে সংসার চালানোর পাশাপাশি সেই ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা থাকে। কিন্তু এবার নদীতে আশানুরূপ ইলিশ না থাকায় সেই হিসাব ভেস্তে যাচ্ছে।

দেউরি গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী জেলে নুরু মিয়া বলেন, জীবনের প্রায় পুরোটা সময় সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে মাছ ধরে কাটিয়েছেন তিনি। নদীর কোন জায়গায় কখন ইলিশ পাওয়া যায়, কোথায় জাল ফেললে মাছ ওঠার সম্ভাবনা বেশি—এসব তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা। কিন্তু এবার সেই অভিজ্ঞতাও কাজে আসছে না। সারাদিন নদীতে থাকার পর অনেক সময় নৌকার তেলের খরচও ওঠে না।

তিনি বলেন, সামনে নিষেধাজ্ঞা শুরু হবে। তখন মাছ ধরতে পারবেন না। কিন্তু সংসারের খরচ ও ঋণের কিস্তি চলতেই থাকবে। তাই কীভাবে সংসার চালাবেন এবং ঋণের টাকা পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

একই অবস্থা আকাব্বর মৃধার। ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে নদীতে মাছ ধরেন তিনি। মৌসুমের আগে নৌকা ও জাল কেনা-মেরামতের জন্য ঋণ নিয়েছিলেন। চার-পাঁচ মাস মাছ ধরে সেই ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা থাকলেও আশানুরূপ ইলিশ না পাওয়ায় তা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মাছ বিক্রির আয় থেকে নৌকার তেল, জাল, বরফ ও অন্যান্য খরচ বাদ দিলে হাতে খুব কম টাকাই থাকছে বলে জানান তিনি।

বাদুরতলা এলাকার জেলে কাদের মাঝিও একই সমস্যার কথা জানান। তার ভাষ্য, সারাদিন নদীতে থাকার পর যে পরিমাণ মাছ পাওয়া যায়, তা দিয়ে নৌকার তেল ও অন্যান্য খরচই ঠিকমতো ওঠে না। এর সঙ্গে রয়েছে সংসারের ব্যয় ও ঋণের কিস্তি। নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

কাঁঠালিয়া-বেতাগী সীমান্তসংলগ্ন এলাকার জেলে আখের আলী বলেন, এ অঞ্চলের জেলেরা সারা বছর ইলিশের মৌসুমের অপেক্ষায় থাকেন। বছরের কয়েক মাস ইলিশ ধরে পাওয়া আয় দিয়েই অনেক পরিবার বাকি সময়ের খরচ মেটানোর চেষ্টা করে। কিন্তু এবার ইলিশ কম থাকায় প্রত্যাশিত আয় হয়নি। একদিকে এনজিওর কিস্তি, অন্যদিকে মহাজনের দাদনের টাকা—সব মিলিয়ে জেলেদের ওপর চাপ বাড়ছে।

জেলেরা জানান, নদীতে মাছ কম থাকলেও নদীতে নামার খরচ কমে না। জ্বালানি, বরফ, খাবার এবং নৌকা-জালের রক্ষণাবেক্ষণে প্রতিদিনই টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু মাছ না উঠলে এসব খরচও অনেক সময় উঠে আসে না। ফলে মাছ কমার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ধার-দেনাও বাড়ছে।

প্রতি বছর জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়কে ইলিশ আহরণের গুরুত্বপূর্ণ মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে এ সময় কয়েকশ জেলে ইলিশ ধরেন। এই কয়েক মাসের আয়ের ওপর অনেক পরিবারের সারা বছরের জীবনযাত্রা নির্ভর করে। মাছ বিক্রির আয় দিয়ে খাবার, সন্তানের পড়াশোনা, চিকিৎসা এবং নৌকা-জালের খরচ মেটান তারা।

তবে চলতি মৌসুমে প্রত্যাশা অনুযায়ী ইলিশ না পাওয়ায় সেই আয়ের পথ সংকুচিত হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে নদীতে ইলিশের ঝাঁক পাওয়াকেই এখন শেষ ভরসা হিসেবে দেখছেন জেলেরা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমের জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় যে পরিমাণ ইলিশ আহরণ হয়েছে, তা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছায়নি। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, দেশের অন্যান্য জেলার নদ-নদীতে এ বছর তুলনামূলক বেশি ইলিশ ধরা পড়লেও সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে ইলিশের উপস্থিতি কম। নদীর পানিদূষণ ও পলি জমার কারণে এমনটি হতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।

ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে জেলেদের নদীতে নামা বন্ধ হয়ে যাবে। তখন মাছ ধরার আয় না থাকলেও ঋণের কিস্তি ও দাদনের টাকা পরিশোধের চাপ থাকবে। তাই নিষেধাজ্ঞার আগে নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন ঝালকাঠির জেলেরা।

কালের আলো/এমএসআইপি