খুঁজুন
                               
, ,
           

নিষিদ্ধ পলিথিনের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধে হার্ডলাইনে সরকার, বিকল্প সরবরাহে নজর পরিবেশ উপদেষ্টার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ৮:৫২ অপরাহ্ণ
নিষিদ্ধ পলিথিনের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধে হার্ডলাইনে সরকার, বিকল্প সরবরাহে নজর পরিবেশ উপদেষ্টার

রাইসুল ইসলাম খান, কালের আলো:

ঢাকাসহ সারা দেশের দোকান ও বাজারে হাত বাড়ালেই মিলছে পলিথিন। চাল, ডাল, লবণ, মাছ বা যেকোনো কিছু কিনলেই পলিথিনে ভরে ধরিয়ে দেওয়া হয় হাতে। অথচ এটি যে নিষিদ্ধ সেটিই যেন এক রকম ভুলতে বসেছেন সবাই। প্রশাসনের নাকের ডগায় বাজারগুলোতে দেদার বিক্রি হচ্ছে পলিথিন ব্যাগ। পলিথিন ব্যবহারে পরিবেশদূষণের মাত্রা যেমনি বেড়েছে তেমনি উর্বরতা শক্তিও নষ্ট হচ্ছে মাটির। মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে জীববৈচিত্র্য। অপচনশীল পলিথিন নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি জোর তৎপরতা শুরু করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। সুপারশপের পর এবার কাঁচাবাজারেও পলিথিন ও পলিপ্রপাইলিনের তৈরি ব্যাগের যথেচ্ছ ব্যবহার বন্ধে হার্ডলাইনে রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন-পলিথিনের বিরুদ্ধে আগামী পহেলা অক্টোবর থেকে সুপারশপগুলোতে এবং কাঁচাবাজার ও পলিথিন উৎপাদন কারখানায় পহেলা নভেম্বর থেকে অভিযান শুরু হবে।

পাশাপাশি পলিথিনের বিকল্প হিসেবে সব সুপারশপে বা এর সম্মুখে পাট ও কাপড়ের ব্যাগ ক্রেতাদের কেনাকাটার জন্য রাখা হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে চান উপদেষ্টা। ইতোমধ্যেই পলিথিন শপিং ব্যাগের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে তাঁর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রণালয়। সব স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে তিনি সভাও করেছেন। জনসচেতনতা বিকাশে জাতীয় দৈনিকে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পাশাপাশি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধের বিষয়টিও ব্যাপকভাবে প্রচারণার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পলিথিন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচাবাজারে ক্লিন-আপ কার্যক্রম উদ্বোধন ও বাজারে পলিথিনের বিকল্প সামগ্রী বিতরণ, বাজারে বিদ্যমান পলিথিন ব্যাগসহ অন্যান্য পলিথিনজাত প্যাকেজিং সংগ্রহের জন্য বিন ও স্থায়ী নোটিশ বোর্ড স্থাপন কাজের উদ্বোধনকালে এসব বিষয়ে কার্যকর দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন পরিবেশ উপদেষ্টা। বিশেষ নজর দিয়েছেন বিকল্প সরবরাহেও।

পরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউন হল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কাঁচাবাজার বণিক সমিতির অফিসে পলিথিন শপিং ব্যাগ ব্যবহার বন্ধে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় নিজেদের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত জানানোর পাশাপাশি আগামী পহেলা নভেম্বর থেকে পলিথিন উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানোর হুঁশিয়ারি দেন এই পরিবেশবিদ।

পলিথিন মাটিতে মিশে যেতে সময় লাগে ২০০ বছর
জানা যায়, ম্যানহোল, নালা, খাল, নদীতে পড়ে থাকা পলিথিন ব্যাগগুলো বৃষ্টি হলেই বিপত্তি ঘটায়। পানি নামার পথ রুদ্ধ থাকায় দেখা দেয় জলাবদ্ধতার সমস্যা। পলিথিন মাটিতে মিশে যেতে সময় লাগে কমপক্ষে ২০০ বছর। মাটিতে বা জলাশয়ে থাকা ব্যাগগুলো পরিবেশের জন্য কতটা ক্ষতির কারণ হয়েছে, তা নিয়ে পরিবেশবিদরা বহু বছর ধরেই কথা বলে আসছেন। যদিও পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে ২০০২ সালে পলিথিন শপিং ব্যাগের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে সরকার। এছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী পলিথিনে তৈরি সব ধরনের শপিং ব্যাগ উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাতকরণ, বিক্রি ও বিক্রির জন্য প্রদর্শন, মজুত-বিতরণ নিষিদ্ধ। এর ব্যত্যয় হলে জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে। অথচ এই আইন লঙ্ঘন করেই ঢাকাসহ সারা দেশের দোকান ও বাজারে সয়লাব পলিথিনের শপিং ব্যাগ। পলিথিন ব্যাগ মানুষের স্বাভাবিক জীবনের সঙ্গে পুরোপুরি মিশে যাওয়ায় কোনভাবেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাত থেকে এই ক্ষতিকর পণ্য সরানো যায়নি।

পলিথিনে পরিবেশদূষণ বন্ধে বিগত সরকার থেকেছে উদাসীন। কিন্তু শুরু থেকেই এ বিষয়ে জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি মনে করেন, সতর্ক করার এবং কঠোর হওয়ার সময় পার হয়ে গেছে। অভিযানের মাধ্যমেই তাই এই উপদেষ্টা শুরু করতে চান পলিথিনবিরোধী কার্যক্রম।

আলাপ-আলোচনা নয় প্রয়োগ হবে আইন
এদিন, রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউন হল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কাঁচাবাজার বণিক সমিতির অফিসে পলিথিন শপিং ব্যাগ ব্যবহার বন্ধে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, ‘কাঁচাবাজারগুলো যাতে আর পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার না করে, সেজন্য আমরা বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। এটা নতুন করে নিষেধ করার কিছু নেই। এটা ২০০২ সাল থেকে আইন করে নিষিদ্ধ করা আছে। ২০০৪-২০০৬ সাল পর্যন্ত সফলভাবেই প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল। পলিথিন উৎপাদনকারী বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তু মার্কেটে কখনো অভিযান চালানো হয়নি। ফলে মার্কেটগুলো দেদারসে পলিথিন এনেছে এবং পলিথিনে পণ্য দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পলিথিন ব্যাগগুলো রিসাইকেল করা যায়, কিন্তু সেটা সন্তোষজনক নয়। কারণ পলিথিন ব্যাগ বা অন্যান্য সামগ্রী থেকে মানুষের রক্তে, মস্তিষ্কে, লিভারে পলিথিনের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশে পলিথিন দিয়ে মোড়ক করার কারণে লবণের মধ্যে পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের অনেক নদীর মাছের মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যাচ্ছে। কাজেই প্লাস্টিক ব্যবহার করাই একটা ক্ষতিকারক বিষয়। সুতরাং এটাকে কালেক্ট করে রিসাইকেল হচ্ছে সর্বশেষ সমাধান, যেখানে আর কোনো বিকল্প থাকবে না।’

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা বলেন, আগামী ১ অক্টোবর থেকে ঢাকার সুপারশপগুলোতে প্লাস্টিক ও পলিপ্রপাইলিনের ব্যাগ আর ব্যবহার করা যাবে না। এটা সরকারের একক কোনো সিদ্ধান্ত নয়। এটি সুপারশপগুলোর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর বিকল্প হিসেবে পাট, কাপড় ও কাগজের ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে। এজন্য বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনসহ ২০-২৫টি প্রতিষ্ঠান পাট, কাপড় ও কাগজের ব্যাগ তাদের সরবরাহ করবে। এরই মধ্যে সুপারশপগুলো তাদের চাহিদা দিয়েছে এবং তাদের চাহিদা অনুযায়ী ব্যাগের যোগানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান আরও বলেন, সুপারশপের পাশাপাশি আমরা আগামী ১ নভেম্বর কাঁচাবাজারগুলোতে পলিথিন ও পলিপ্রপাইলিনের ব্যাগ ব্যবহার বন্ধে কার্যক্রম শুরু করব। সেটি আজকের মতো আলাপ-আলোচনা নয়, আইন প্রয়োগ করা হবে। দোকান-মালিক সমিতির নেতারাও আমাদের কথা দিয়েছেন, এক মাসের মধ্যে তারা পলিথিনের পরিবর্তে পাট, কাপড় বা কাগজের ব্যাগ ব্যবহার শুরু করবেন।

তিনি আরও বলেন, পলিথিন বা পলিপ্রপাইলিনের ব্যাগ ব্যবহারে যে নিষেধাজ্ঞা আছে, সেটি কার্যকর করতে আগামী ১ অক্টোবর সুপারশপে এবং ১ নভেম্বর কাঁচাবাজারগুলোতে কাজ শুরু করতে যাচ্ছি। একই সঙ্গে পলিথিন যেখানে উৎপাদন করা হয়, ১ নভেম্বর থেকে সেখানে আমরা আমাদের অভিযান চালাব। সবাই পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছেন। আমরাও বিকল্প সরবরাহের জন্য কাজ করছি।

আমরা অভিযান দিয়ে একটি তিক্ত পরিস্থিতি নিয়ে কাজ শুরু করতে চাই না। সবাইকে বুঝতে হবে, পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার ক্ষতিকর। এটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এ নিয়ে আমাদের সতর্ক, সচেতন ও উদ্যোগী হওয়ার সময় পার হয়ে গেছে। আমরা বরং দেরিতে শুরু করলাম। আমরা আইন করে আইনটা প্রয়োগ করলাম না- যোগ করেন উপদেষ্টা।

কালের আলো/আরআই/এমএএএমকে

কাবার নগরী মক্কায় অবরোধ, হামলা ও সংঘাতের ইতিহাস

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:১৭ পূর্বাহ্ণ
কাবার নগরী মক্কায় অবরোধ, হামলা ও সংঘাতের ইতিহাস

১৯৫৪ সালে পবিত্র কাবা তাওয়াফের একটি দৃশ্য, ছবি : সংগৃহীত

মুসলমানদের পবিত্রতম নগরী মক্কা। কাবাঘর ও মসজিদুল হারামকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই শহর শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের কেন্দ্র নয়, ইতিহাসের নানা বাঁকে রাজনৈতিক সংঘাত ও সামরিক সহিংসতারও সাক্ষী। সর্বশেষ সেই দীর্ঘ ইতিহাসে যুক্ত হয়েছে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতিদের সংঘাত। সৌদি আরবের দাবি, হুতিদের পাঠানো একটি ড্রোন মক্কার দিকে এগোচ্ছিল। মঙ্গলবার মক্কার দক্ষিণে সেটি শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয় এবং পবিত্র নগরীর আকাশসীমায় ঢোকার আগেই ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুতিরা। ফলে নতুন এই ঘটনাটি একদিকে সৌদি নিরাপত্তাব্যবস্থার সামনে চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে মক্কাকে ঘিরে অতীতের সংঘাতের স্মৃতিও সামনে এনেছে।

  • ৬৮৩-এর অবরোধ থেকে ১৯৭৯-এর মসজিদুল হারাম দখল
  • ২০১৭-এর ক্ষেপণাস্ত্র দাবি পেরিয়ে এবার ড্রোনের অভিযোগ
  • হুতিদের ড্রোন ধ্বংসের দাবি সৌদির, অস্বীকার হুতিদের 

অবরোধে ক্ষতিগ্রস্ত কাবা
মক্কায় রাজনৈতিক সংঘাতের ইতিহাস বহু পুরোনো। দ্বিতীয় ফিতনার সময় ৬৮৩ সালে উমাইয়া বাহিনী মক্কা অবরোধ করে। সংঘাতের মধ্যে কাবাঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ৬৯২ সালেও আল-হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফের বাহিনী মক্কা অবরোধ করে এবং কাবাকে ঘিরে লড়াই হয়। সৌদিপিডিয়ার তথ্যেও ওই সময় কাবার ক্ষয়ক্ষতির উল্লেখ রয়েছে। এর প্রায় আড়াই শতাব্দী পর ৯২৯/৯৩০ সালে কারমাতিদের হামলা মক্কার ইতিহাসে আরও ভয়াবহ অধ্যায় তৈরি করে। আবু তাহিরের নেতৃত্বে হামলাকারীরা হাজিদের ওপর আক্রমণ চালায় এবং কাবা থেকে হাজরে আসওয়াদ নিয়ে যায়। পাথরটি দীর্ঘ সময় তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকার পর মক্কায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

মসজিদুল হারামে বন্দুকধারীদের দখল
আধুনিক ইতিহাসে সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনা ১৯৭৯ সালের মসজিদুল হারাম অবরোধ। ২০ নভেম্বর জুহাইমান আল-ওতাইবির নেতৃত্বে সশস্ত্র একটি দল মসজিদে ঢুকে মুসল্লিদের জিম্মি করে। তারা মোহাম্মদ আল-কাহতানিকে প্রতীক্ষিত মাহদি হিসেবে ঘোষণা করে সৌদি রাজপরিবারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ডাক দেয়। প্রায় দুই সপ্তাহের লড়াইয়ের পর সৌদি বাহিনী মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

হাজিদের মিছিল থেকে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
১৯৮৭ সালে ইরানি হাজিদের রাজনৈতিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মক্কায় ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। সৌদি সরকারি হিসাবে নিহত হন ৪০২ জন—২৭৫ ইরানি, ৮৫ সৌদি এবং ৪২ জন অন্যান্য দেশের নাগরিক। আহত হন ৬৪৯ জন। তবে সংঘর্ষের কারণ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সৌদি আর ইরানি বর্ণনায় তীব্র পার্থক্য ছিল।

বোমা হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্রের ছায়া
১৯৮৯ সালে মসজিদুল হারামের কাছে বোমা বিস্ফোরণে একজন হাজি নিহত ও ১৬ জন আহত হন। পরে সৌদি কর্তৃপক্ষ ১৬ কুয়েতি নাগরিককে এ ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। অভিযোগে ইরানের সংশ্লিষ্টতার কথাও ওঠে, যা তেহরান অস্বীকার করে।

২০১৭ সালে আবার মক্কার দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ তোলে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। সৌদির দাবি ছিল, ক্ষেপণাস্ত্রটি মক্কার কাছে পৌঁছানোর আগেই ভূপাতিত করা হয়। হুতিরা অবশ্য মক্কাকে লক্ষ্য করার অভিযোগ অস্বীকার করে এবং অন্য লক্ষ্যবস্তুর কথা জানিয়েছিল।

পুরোনো ইতিহাসে নতুন অধ্যায়
মক্কার ইতিহাসে সংঘাতের ধরন বদলেছে—কখনো সেনাবাহিনীর অবরোধ, কখনো সশস্ত্র দখল, কখনো বিক্ষোভ ও বোমা হামলা, আবার কখনো দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি। সর্বশেষ ড্রোনের অভিযোগ সেই ধারাবাহিকতায় প্রযুক্তিনির্ভর নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে এবারের ঘটনাতেও মূল প্রশ্ন একই—পবিত্র নগরীর নিরাপত্তা কতটা সংঘাতের বাইরে রাখা সম্ভব।

সৌদি আরব যেখানে মক্কার আকাশসীমাকে কঠোর নিরাপত্তা-সীমা হিসেবে দেখছে, হুতিরা সেখানে সৌদি অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করছে। ফলে ঘটনাটির সামরিক তাৎপর্যের পাশাপাশি এর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও নজরে রাখার বিষয় হয়ে উঠেছে।

তথ্যসূত্র: সৌদি পিডিয়া, ওয়াশিংটন পোস্ট, ইউপিআই, আরব নিউজ, উইকিজিরো

কালের আলো/এম/এএইচ

কভার্ড ভ্যানের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, আশুলিয়ায় নিহত ৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
কভার্ড ভ্যানের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, আশুলিয়ায় নিহত ৭

সাভারের আশুলিয়ায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে সাতজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার প্রীতি গ্রুপের এফএনএস কারখানায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কারখানার ভেতরে তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে একটি কাবার ভেতর থেকে পাঁচজনের ঝলসানো মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে বিস্ফোরণের তীব্রতায় একটি সিলিন্ডার ছিটকে পাশের একটি কাপড়ের দোকানে গিয়ে পড়ে। এতে জয়নাব বেগম নামে এক নারী ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুলাল নামে আরও এক আহত ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় সাতজনে।

ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কারখানার ভেতরে আরও কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, একটি কভার্ড ভ্যানের ভেতরে থাকা সিএনজি সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে জানা যাবে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ডিজেল-কেরোসিন-অকটেন-পেট্রোলের দাম বাড়ল ২০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ণ
ডিজেল-কেরোসিন-অকটেন-পেট্রোলের দাম বাড়ল ২০ টাকা

দেশে চার ধরনের প্রধান জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিজেল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. এনামুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে নতুন দাম নির্ধারণের তথ্য জানানো হয়।

নতুন দামে ডিজেলের মূল্য ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা হয়েছে।

এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত ছিল। সর্বশেষ বড় ধরনের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছিল এপ্রিলে। তখন ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা এবং অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম যথাক্রমে ২০, ১৯ ও ১৮ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।

২০২৪ সাল থেকে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির আওতায় দেশে খুচরা জ্বালানি তেলের দাম পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, আমদানি ব্যয়, কর ও শুল্ক, বিনিময় হারসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিত এ দাম সমন্বয় করা হয়।

কালের আলো/এমএসআইপি