খুঁজুন
                               
, ,
           

অনিশ্চয়তা-শঙ্কা কাটিয়ে নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রধান উপদেষ্টার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৪, ১০:৩৭ অপরাহ্ণ
অনিশ্চয়তা-শঙ্কা কাটিয়ে নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রধান উপদেষ্টার

মো.শামসুল আলম খান, কালের আলো:

অন্তর্বর্তী সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন কবে নাগাদ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে এ বিষয়েও একটি রূপরেখা দিয়েছেন তাঁর ভাষণে। সব অনিশ্চয়তা-শঙ্কা কাটিয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘নির্বাচনের ট্রেন যাত্রা শুরু করেছে। এটা আর থামবে না। কিন্তু যেতে যেতে আমাদের অনেকগুলো কাজ সেরে ফেলতে হবে। এই ট্রেন শেষ স্টেশনে কখন পৌঁছাবে সেটা নির্ভর করবে কত তাড়াতাড়ি আমরা তার জন্য রেললাইনগুলো বসিয়ে দিতে পারি, আর তা হবে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের মাধ্যমে।’

রবিবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় প্রধান উপদেষ্টার এই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বিটিভি ওয়ার্ল্ডে সম্প্রচারিত হয়। স্বৈরাচারী ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সংস্কারকাজগুলো সম্পন্ন করতেই প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভাষণে জোর দিয়েছেন। সুষ্ঠু নির্বাচনব্যবস্থা নিশ্চিতের লক্ষ্যে যেই আইনি সংস্কার প্রয়োজন, সেটুকু করে নির্বাচনের ব্যবস্থা হবে এটি অন্তত নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ প্রসঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘নির্বাচন কবে হবে এই প্রশ্ন আপনাদের সবার মনেই আছে। আমাদের মনেও সারাক্ষণ আছে। আপনারা লক্ষ করেছেন নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছি। কয়েক দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠন হয়ে যাবে। তারপর থেকে নির্বাচন আয়োজন করার সমস্ত দায়িত্ব তাদের ওপর বর্তাবে।’

মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদ ও ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে নিহত সকল শহীদকে স্মরণ
প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূস নিজের বক্তব্যের শুরুতেই স্মরণ করেন মুক্তিযুদ্ধের লাখো লাখো শহীদ এবং গত জুলাই-আগস্ট মাসে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ছাত্র শ্রমিক জনতার অভ্যুত্থানে নিহত সকল শহীদকে। তিনি বলেন, ‘সবাইকে জানাচ্ছি আমার সশ্রদ্ধ সালাম ও গভীর শ্রদ্ধা। আরও স্মরণ করছি তাদের, ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে যারা আহত হয়েছে, পঙ্গুত্ববরণ করেছে, চোখের দৃষ্টি হারিয়েছে। যারা নয় দফা নিয়ে দাঁড়িয়েছে, যারা এক দফা নিয়ে দাঁড়িয়েছে। যারা দেশকে এক হিংস্র স্বৈরাচারের হাত থেকে বাঁচিয়েছে। কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছি আপনাদের, আপনাদের ভাই-বোনদের, আপনাদের সন্তানদের, যারা এই বিপ্লবে অংশগ্রহণ করেছে।’

  • সরকারকে ব্যর্থ করতে মহাপরিকল্পনার অভিযোগ
  • স্বৈরশাসনে বিপর্যস্ত দেশকে সবাই মিলে পুনর্গঠন
  • পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকেও ভারত থেকে ফেরত চাইবো
  • শহীদ পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা দেওয়া হচ্ছে

স্বৈরশাসনে বিপর্যস্ত দেশকে সবাই মিলে পুনর্গঠন
ড.ইউনূস বলেন, আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথম ১০০ দিন অতিক্রম করলাম। আপনারা জানেন কী কঠিন এক পরিস্থিতিতে আমাদের দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়েছে। ছাত্র-শ্রমিক-জনতার অভূতপূর্ব গণ-অভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিস্ট সরকার প্রধান পালিয়ে গেলে দেশ সরকারশূন্য হয় সাময়িকভাবে। পুলিশ প্রশাসন ও এ সময় সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়লে উদ্বেগজনক এক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। স্বৈরশাসনে বিপর্যস্ত এই দেশকে আমাদের সবাইকে মিলে পুনর্গঠন করতে হচ্ছে। জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের পর আমরা এমন একটি দেশ হাতে পেয়েছি, যার সর্বত্র ছিল বিশৃঙ্খলা। স্বৈরশাসন টিকিয়ে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বিপ্লব চলাকালে প্রায় দেড় হাজার ছাত্র-শ্রমিক জনতার শহীদি মৃত্যু হয়। আমাদের সরকার প্রতিটি মৃত্যুর তথ্য অত্যন্ত যত্নের সাথে জোগাড় করছে। এই বিপ্লবে আহত হয়েছে ১৯,৯৩১ জন। আহতদের জন্য ঢাকার ১৩টি হাসপাতালসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।  প্রতিদিনই তালিকায় আরও নতুন নতুন শহীদের তথ্য যোগ হচ্ছে, যারা স্বৈরাচারের আক্রোশের শিকার হয়ে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। প্রতিটি হত্যার বিচার আমরা করবোই।’

পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকেও ভারত থেকে ফেরত চাইবো
জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচারের যে উদ্যোগ আমরা নিয়েছি, তার কাজও বেশ ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকেও আমরা ভারত থেকে ফেরত চাইবো। কেবল জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডই নয়, আমরা গত ১৫ বছরের সব অপকর্মের বিচার করবো। অসংখ্য মানুষ গুম হয়েছে, খুন হয়েছে এই সময়ে। আমরা গুমের তদন্তে একটি কমিশন গঠন করেছি।  কমিশন প্রধান আমাকে জানিয়েছেন, অক্টোবর পর্যন্ত তারা ১৬০০ গুমের তথ্য পেয়েছেন। তাদের ধারণা এই সংখ্যা ৩ হাজার ৫০০ ছাড়িয়ে যাবে। অনেকেই কমিশনের কাছে গুমের অভিযোগ করতে ভয় পাচ্ছেন এই ভেবে যে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্বারা তারা আবার আক্রান্ত হতে পারেন, ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, আপনারা দ্বিধাহীনচিত্তে কমিশনকে আপনাদের অভিযোগ জানান। কারও সাধ্য নেই আপনাদের গায়ে আবার হাত দেয়। গুম কমিশনের সদস্যদের কাছে ভুক্তভোগীদের যে বিবরণ আমরা পেয়েছি তা অত্যন্ত মর্মান্তিক। জুলাই-আগস্টের বিপ্লবের পর ছাত্র-ছাত্রীরা শহর বন্দরের দেয়ালে-দেয়ালে তাদের মনের কথা লিখেছে। তাদেরও আগে যারা গুমের শিকার হয়েছে, প্রতিটি গোপন আস্তানার দেয়ালে দেয়ালে তারা লিখে রেখে গেছেন তাদের কষ্টের মর্মস্পর্শী বিবরণ। তাদের এসব কষ্টের কথা শুনে আমাদের হৃদয় কেঁপে উঠেছে। এসবের সঙ্গে জড়িতদের আমরা বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবোই। অভিযুক্ত যতই শক্তিশালী হোক, যে বাহিনীরই হোক, তাকে ছাড় দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। কেবল দেশে নয়, গুম, খুন ও জুলাই-আগস্ট গণহত্যার সাথে জড়িতদের আমরা আন্তর্জাতিক আদালতেও বিচারের উদ্যোগ নিয়েছি। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টের প্রধান কৌঁসুলি করিম খানের সঙ্গে আমার এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে কথা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর কোনও সদস্য কিংবা অন্য কেউ যাতে হত্যা, গুমসহ এ ধরনের কোনও অপরাধে জড়িয়ে পড়তে না পারে এ জন্য আমরা গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে স্বাক্ষর করেছি। আপনারা দেখেছেন, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছেন। জাতিসংঘ জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আমাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই তারা আমাদেরকে তাদের রিপোর্ট হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অতীতের গুমের ঘটনাগুলো তদন্ত কাজেও আমরা নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছি। মানবাধিকার রক্ষায় সহযোগিতা করতে ঢাকায় তারা তাদের জনবল বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছি।’

শহীদ পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা দেওয়া হচ্ছে
শান্তিতে নোবেলজয়ী ড.ইউনূস বলেন, ‘আমি আগেও জানিয়েছি, আবারও জানাচ্ছি, গণ-অভ্যুত্থানে সকল শহীদদের পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে। একজনও বাদ যাবে না। সকল আহত শিক্ষার্থী-শ্রমিক-জনতার চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় সরকার বহন করবে। আহতদের দীর্ঘমেয়াদি এবং ব্যয়বহুল চিকিৎসা এবং শহীদদের পরিবারের দেখাশোনার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি শহীদ পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা দেওয়া হচ্ছে। যারা বুলেটের আঘাতে তাদের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন তাদের চিকিৎসার জন্য নেপাল থেকে কর্নিয়া আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এবং যাদের প্রয়োজন তাদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হচ্ছে। জুলাই অভ্যুত্থানের কোন শহীদ এবং আহত ছাত্র শ্রমিক চিকিৎসাসেবা এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনা থেকে বাদ যাবে না। এটি অন্তর্বর্তী সরকারের অঙ্গীকার। এই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে গঠিত  ‘জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’ বেশ পাকাপোক্তভাবে তাদের কাজ শুরু করেছে। এই ফাউন্ডেশনে সরকার ১০০ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে। এছাড়াও জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন ও আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বরাদ্দ প্রস্তাব অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।’

সাত দিন পুলিশ নিষ্ক্রিয় থাকার পরও ব্যাপক সহিংসতা এড়ানো গেছে
পতিত স্বৈরাচার পুলিশকে দলীয় কর্মীর মতো ব্যবহার করেছে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘বাধ্য হয়ে তাদের অনেকেই গণহত্যায় অংশ নিয়েছেন। খুবই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারা জনরোষের শিকার হয়েছেন। এতে তাদের মনোবল অনেক কমে যায়। আমরা পুলিশের মনোবল ফিরিয়ে এনে তাদের আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি। এক্ষেত্রে অনেক দৃশ্যমান উন্নতিও হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকেও কিছু নির্বাহী ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতিতে সহায়তা করেছে। আমি আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই, কঠিন এই সময়ে আপনারা সবাই অপরিসীম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। ধন্যবাদ জানাই দেশের রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে। তারা তাদের কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রতিশোধ স্পৃহায় লিপ্ত হয়ে কেউ যাতে হানাহানিতে জড়িয়ে না পড়ে সেই আহ্বান জানিয়েছেন। আপনাদের সবাই এই আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন। ফ্যাসিবাদী শক্তি ভয় দেখিয়েছিল তারা ক্ষমতা ছাড়লে দেশে লাখ লাখ লোক মারা পড়বে। টানা সাত দিন পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় থাকার পরও ব্যাপক আকারে সহিংসতা এড়ানো গেছে। আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি, বাংলাদেশ তখন সম্পূর্ণ অরক্ষিত একটা দেশ। এসময় ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে অহেতুক আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে তারা সহিংসতারও শিকার হয়েছেন। কিন্তু এটা নিয়ে যেসব প্রচার-প্রচারণা হয়েছে তা ছিল সম্পূর্ণ অতিরঞ্জিত। অল্প যে সমস্ত সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে তার মূল কারণ ছিল রাজনৈতিক। কিন্তু এসব ঘটনাকে ধর্মীয় আবরণ দিয়ে বাংলাদেশকে নতুন করে অস্থিতিশীল করে তোলার চেষ্টা হয়েছে। আপনাদের সবার সহযোগিতায় আমরা দৃঢ়ভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দিয়েছি।

  • সাত দিন পুলিশ নিষ্ক্রিয় থাকার পরও ব্যাপক সহিংসতা এড়ানো গেছে
  • সকলের ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সংস্কার প্রস্তাব চূড়ান্ত
  • কয়েক দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠন
  • সমান্তরালভাবে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া

আমাদের দায়িত্ব গ্রহণের দু’মাসের মাথায় দেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে প্রায় ৩২ হাজার পূজা মণ্ডপে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে নির্বাহী আদেশে একদিন অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়, যা উৎসবের আমেজকে অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়। দুর্গাপূজাকে ঘিরে আমরা ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিই। যার ফলে, দেশের হিন্দু সম্প্রদায় নির্বিঘ্নে তাদের উৎসব পালন করেছে। আমরা দায়িত্বে আসার পর যে অল্প কিছু ক্ষেত্রে তারা সহিংসতার শিকার হয়েছেন, আমরা তার প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করছি। শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ই নয়, দেশের কোনও মানুষই যাতে কোনও রকম সহিংসতার শিকার না হয়, সেজন্য আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। এবং সব সময় সে চেষ্টা করে যেতে থাকবো।’

ড.ইউনূস বলেন, ‘আপনারা জানেন চলতি বছর বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছয়টি বন্যা হয়েছে। আপনাদের সবার সহযোগিতায় আমরা এই বন্যা মোকাবিলা করেছি। বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনী বন্যা মোকাবিলায় জনগণের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে। বন্যা মোকাবিলা ও বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান এবং স্থানীয় অনুদানের মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। বন্যার ফলে অনেক জায়গায় ফসলহানি হয়েছে, ব্যাহত হয়েছে পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খল। বন্যা পরবর্তী সময়ে বাজারে শাকসবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। ফলে আপনাদের কষ্ট হয়েছে। নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। বাজারে ডিমের সরবরাহ বাড়ানোর জন্য আমরা সাড়ে নয় কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দিয়েছি। এজন্য প্রয়োজনীয় শুল্ক ছাড়ও দেওয়া হয়েছে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে ডিমের উৎপাদনকরা যাতে সরাসরি বাজারে ডিম সরবরাহ করতে পারে সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

ফ্যামিলি কার্ডের মধ্যে ৫৭ লাখকে স্মার্ট কার্ডে রূপান্তর
মানুষ যাতে স্বল্প মূল্যে কৃষিপণ্য কিনতে পারে সেজন্য রাজধানীসহ বিভিন্ন স্পটে সরকারি কিছু পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘টিসিবির মাধ্যমে ১ কোটি নিম্ন আয়ের ফ্যামিলি কার্ডের মধ্যে ৫৭ লাখকে স্মার্ট কার্ডে রূপান্তরিত করা হয়েছে। বন্যার ফলে চালের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় চাল আমদানিতে শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে। আসন্ন রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সরবরাহ ও দাম যাতে স্বাভাবিক থাকে এজন্য সরকারের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের সাথে নিয়মিত বৈঠক করে যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ে আমাদের কোনও লুকোছাপা নেই। মূল্যস্ফীতির পূর্ণ তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতি রোধে উচ্চ সুদের হার নির্ধারণসহ একাধিক নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে শস্য আমদানিতে এলসি-সীমা অপসারণ এবং সরবরাহ চেইন সংক্ষিপ্ত করা। সামান্য হলেও জ্বালানি তেলের মূল্য কমানো হয়েছে। শিল্প-কারখানায় গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন ব্যাহত না হয় এবং রপ্তানি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। গণ-শুনানি ছাড়া নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ গ্যাসের দাম না বাড়ানোরও সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি বন্ধের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা আশা করি বাজারে পণ্যমূল্য কমিয়ে আনতে এটা ভূমিকা রাখবে। নেপাল থেকে পানিবিদ্যুৎ বাংলাদেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দৈনন্দিন রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি আমাদের ভবিষ্যতের বাংলাদেশ বিনির্মাণের কথাও ভাবতে হচ্ছে।’

সকলের ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সংস্কার প্রস্তাব চূড়ান্ত
‘আপনারা সবাই জানেন, আমাদের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর। আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের মতামত নিয়ে যাচ্ছি। সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে এসব মতামত অনেকাংশে প্রতিফলিত হচ্ছে। চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ায় তাদের প্রতিটি মতামত সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। আমরা আশা করছি নির্ধারিত সময়ে, ডিসেম্বর-জানুয়ারির মধ্যেই সংস্কার কমিশনগুলো তাদের সুপারিশমালা সরকারের কাছে পেশ করতে পারবে। তাদের সুপারিশ নিয়ে আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ক্রমাগতভাবে আলোচনায় বসবো। সকলের ঐকমত্যের ভিত্তিতেই আমরা সংস্কার প্রস্তাব চূড়ান্ত করবো’, বলেন ড.ইউনূস।

কয়েক দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠন
নির্বাচন কবে হবে এই প্রশ্নের জবাবও মিলেছে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে। তিনি বলেছেন, ‘আপনারা লক্ষ করেছেন নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছি। কয়েক দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠন হয়ে যাবে। তারপর থেকে নির্বাচন আয়োজন করার সমস্ত দায়িত্ব তাদের ওপর বর্তাবে। নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদসহ আরও কিছু কাজ শুরু করে দিতে পারবে, যা একটি অবাধ নির্বাচনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে যাতে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সে লক্ষ্যেও সরকার কাজ করছে। তবে আমরা মনে করি না যে একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করে দিলেই নির্বাচন আয়োজনে আমাদের দায়িত্ব শেষ। রাষ্ট্রব্যবস্থায় সংস্কার আমাদের এই সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। আপনারাই আমাদেরকে এই ম্যান্ডেট দিয়েছেন। যে ছয়টি সংস্কার কমিশন আমরা শুরুতে গঠন করেছিলাম, তারা ইতোমধ্যে তাদের কার্যক্রম অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে আপনারা তাদের কার্যক্রমের আপডেটও দেখছেন। কয়েকটি সংস্কার কমিশন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গঠন করেছে। আমার অনুরোধ, আপনারা এই প্ল্যাটফর্মে উৎসাহ সহকারে আপনাদের মতামত জানাতে থাকুন। প্রথম ছয়টি সংস্কার কমিশনের মধ্যে একটি হলো নির্বাচন সংস্কার কমিশন। নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য এই কমিশনের সুপারিশমালা অত্যন্ত জরুরি। তাদের প্ল্যাটফর্মে যান। আপনার মতামত খোলাখুলিভাবে তুলে ধরুন। আপনি দেশের মালিক। আপনি বলে দিন আপনি কী চান। কীভাবে চান। নির্বাচন নিয়ে আপনাদের সকল বক্তব্য বিনা দ্বিধায় বলতে থাকুন। সবার মনের কথা তুলে ধরুন। আমার অনুরোধ, সংস্কারের কথাটাও একই সঙ্গে বলুন। সংস্কারকে পাশ কাটিয়ে যাবেন না। নির্বাচনের কথা বলার সঙ্গে নির্বাচন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সংস্কারের কথাটিও বলুন। সংস্কার হলো জাতির দীর্ঘমেয়াদি জীবনীশক্তি। সংস্কার জাতিকে বিশেষ করে আমাদের তরুণ-তরুণীদের নতুন পৃথিবী সৃষ্টির সুযোগ দেবে। জাতিকে বঞ্চিত করবেন না।’

  • গার্মেন্টস শিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন, প্রাণ ফিরে পেয়েছে রপ্তানিমুখী শিল্প
  • পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলে আরও গতি পাবে অর্থনীতি

সমান্তরালভাবে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া
নির্বাচন আয়োজনে যে সংস্কার কমিশনের সুপারিশমালায় রাজনৈতিক দলসমূহ এবং দেশের সকল মানুষের মতামত অপরিহার্য সে কমিশন হলো সংবিধান সংস্কার কমিশন, এমনটিই মনে করেন সরকারের এই শীর্ষ ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘এই সুপারিশমালার কোন অংশ সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে তার ভিত্তিতে নির্বাচনি আইন সংশোধন করতে হবে। সমান্তরালভাবে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া চলতে থাকবে। আমি নিশ্চিত নই, সংস্কার প্রস্তাবসমূহ বাস্তবায়নের সুযোগ আমরা কতটুকু পাবো। তবে আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, আপনারা সুযোগ দিলে প্রয়োজনীয় কিছু অত্যাবশ্যকীয় সংস্কার কাজ শেষ করেই আমরা আপনাদের কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন আয়োজন করবো। ততদিন পর্যন্ত আমি আপনাদের ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ করবো। আমরা চাইবো, আমরা যেন এমন একটি নির্বাচন ব্যবস্থা সৃষ্টি করতে পারি যা যুগ যুগ ধরে অনুসরণ করা হবে। এর ফলে সাংবাৎসরিক রাজনৈতিক সংকট থেকে আমাদের দেশ রক্ষা পাবে। এজন্য প্রয়োজনীয় সময়টুকু আমি আপনাদের কাছে চেয়ে নিচ্ছি। নির্বাচনি সংস্কারের সিদ্ধান্ত হয়ে গেলে খুব দ্রুত আপনারা নির্বাচনের রোডম্যাপও পেয়ে যাবেন। অন্তর্বর্তী সরকার সৃষ্টি হয়েছে রাজনীতিকে নীতির কাঠামোয় আনার জন্য এবং রাজনীতির জন্য নতুন পরিবেশ সৃষ্টির নিবিড় আকাক্সক্ষা থেকে। এই আকাক্সক্ষা পূরণ করা থেকে জাতিকে বঞ্চিত করবেন না।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে অন্যান্য সংস্কার কমিশনের সুপারিশমালা নিয়ে আলাপ চলতে থাকবে। নির্বাচন ছাড়াও আরও গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করার ব্যাপারে ঐকমত্য গঠনের জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হতে পারে। দেশবাসীর কাছে, বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আমরা ক্রমাগতভাবে প্রশ্ন তুলতে থাকতে থাকবো কী কী সংস্কার নির্বাচনের আগে আপনারা করে নিতে চান। নির্বাচনের আয়োজন চলাকালীন কিছু সংস্কার হতে পারে। সংস্কারের জন্য নির্বাচনকে কয়েক মাস বিলম্বিতও করা যেতে পারে। আমরা দু’দিন পরে চলে যাবো। কিন্তু আমাদের মাধ্যমে জাতির জন্য যে ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হলো সে সুযোগটা যেন কোনও রকমেই হাতছাড়া করে না দিই এটার ব্যাপারে দৃঢ় থাকার জন্য আমি দলমত, নারী-পুরুষ, ধর্ম, তরুণ-বৃদ্ধ, ছাত্র, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, কৃষক নির্বিশেষে সবার কাছে আহ্বান জানাচ্ছি। আশা করি আপনারা আমার এই আবেদন গ্রহণ করবেন।’

সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল পুনর্বহাল
গত ১০০ দিনে বিচার বিভাগে সরকারের সাফল্যের সারসংক্ষেপ ওঠে আসে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে। তিনি বলেন, ‘দেশে সংঘটিত অন্যান্য অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় সহস্রাধিক প্রসিকিউটর নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টে ইতোমধ্যে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ২৩ জন নতুন বিচারক। বিচার বিভাগকে ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য সম্ভব সব ধরনের চেষ্টাই করা হচ্ছে। বিচারপতিদের নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল পুনর্বহাল করা হয়েছে। শুধু বিচার বিভাগই নয়, সর্বগ্রাসী দুর্নীতির হাত থেকে দেশের সব খাতকেই রক্ষা করতে আমরা সচেষ্ট রয়েছি। দুর্নীতি দমন কমিশন পুনর্গঠনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। দুর্নীতি ও অর্থপাচারে অভিযুক্ত প্রভাবশালী দেড়শ’ ব্যক্তির তালিকা তৈরি এবং ৭৯ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। ১৫ শতাংশ হারে আয়কর পরিশোধ করে অপ্রদর্শিত পরিসম্পদ, অর্থাৎ কালো টাকা সাদা করার বিধান বাতিল করা হয়েছে।’

সরকারি কার্যক্রমকে গতিশীল করতে পদোন্নতি-বদলি
সরকারি কার্যক্রমকে গতিশীল করতে বিভিন্ন পর্যায়ের ১৯ হাজার ৮৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে পদোন্নতি, ১৩ হাজার ৪২৯ জনকে বদলি এবং ১২ হাজার ৬৩৬ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পাবলিক সার্ভিস কমিশন পুনর্গঠন করা হয়েছে। কুখ্যাত সাইবার সিকিউরিটি আইন বাতিলের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই আইনের অধীনে হওয়া সেসব মামলা মানুষের মত প্রকাশের অধিকারের সাথে সম্পর্কিত সেগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়াও ১৩৩টি আইন, বিধিবিধান তৈরি ও সংশোধন করা হয়েছে এবং ৩৫৩টি গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি মেনে ইতোমধ্যে সরকারি চাকরির বয়সসীমা ৩২-এ উন্নীত করা হয়েছে। আমরা জানি আমাদের কাছে আপনাদের আরও অনেক দাবি-দাওয়া আছে। দীর্ঘদিনের অপশাসন, অত্যাচার, অনাচারের ফলে আপনাদের মনে অনেক ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়েছে। দেশে বাকস্বাধীনতা না থাকায় আমরা কেউ আমাদের মতামত, দাবি-দাওয়া প্রকাশ করতে পারিনি। আমরা আপনাদের প্রতিটি দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল। আমরা ধৈর্যসহকারে আপনাদের কথা শুনতে চাই। কিন্তু সেজন্য আপনারা সড়ক অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে আমাদের সকলেরই অসুবিধা হয়। আমাদের একান্ত অনুরোধ, আপনারা নির্দিষ্ট চ্যানেল মেইনটেইন করে আপনাদের দাবি দাওয়া পেশ করবেন।’

গার্মেন্টস শিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন, প্রাণ ফিরে পেয়েছে রপ্তানিমুখী শিল্প
প্রধান উপদেষ্টা ড.মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমাদের বৃহৎ রপ্তানি পণ্য গার্মেন্টস শিল্পে গত কিছু দিন ব্যাপক অস্থিরতা বিরাজ করেছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী বেশ কিছু গার্মেন্টস মালিক পালিয়ে যাওয়ায় শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অন্য অনেক কারখানায়ও শ্রমিকরা ন্যায্য বেতনসহ অন্যান্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। শ্রমিকরা তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার প্রতিবাদ জানাতে এবং অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পেতে রাস্তায় নেমে আসে। আমরা তাদের কথা শুনেছি, তাদের আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসতে পেরেছি। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে মালিক-শ্রমিকের মধ্যে ১৮ দফার একটি ব্যাপকভিত্তিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বড় ধরনের কোনও সহিংসতা ছাড়াই আমরা শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন করতে পেরেছি। তারা আবার উৎপাদনে ফিরেছে। এতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে বাংলাদেশের রফতানিমুখী এই শিল্পও। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও অক্টোবর মাসে আমাদের রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২১ শতাংশ। আমরা যখন কাজ শুরু করেছি, দেশের অর্থনীতি ছিল বিপর্যস্ত। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তলানিতে। আশার কথা, এই রিজার্ভ পরিস্থিতি এখন উন্নতির পথে। গত তিন মাসে রিজার্ভে কোনও রকম হাত না দিয়েই আমরা প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ শোধ করতে পেরেছি। জ্বালানি তেল আমদানিতে পুঞ্জীভূত বকেয়ার পরিমাণ ৪৭৮ মিলিয়ন ডলার হতে কমিয়ে ১৬০ মিলিয়ন ডলারে আনতে পেরেছি। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থা ইতোমধ্যে ঋণ ও অনুদান হিসেবে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা আমাদের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সচল করতে সক্ষম হবে।

পতিত সরকার আমাদের জন্য যে ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি রেখে গিয়েছে তাতে রাজস্ব আদায়ে গতি আনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে। এর মধ্যেও জুলাইয়ের নেতিবাচক অবস্থা থেকে অক্টোবর নাগাদ রাজস্ব আদায়ে পৌনে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। আগের অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি ছিল। যে কারণে এবার শুরু থেকেই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অনেক বেড়ে যায়। এর ফলে স্বৈরাচার পতনের পরবর্তী তিন মাসে পৌনে ৯ শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধির পরও লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২৩ শতাংশের বেশি ঘাটতি থেকে যায়। রাজস্ব আদায়ে গতি আনতে আমি এখন অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে উৎসাহিত করছি। আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, ইউএনডিপি ইত্যাদির প্রধানদের সঙ্গেও আমার দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে। তারাও বাংলাদেশকে নতুনভাবে এবং সর্বাত্মকভাবে সাহায্যের জন্য তাদের আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে একান্ত বৈঠকে চীনের পক্ষ থেকে যাবতীয় সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।’

১০০ দিনে সবল অবস্থানে অর্থনীতি
১০০ দিন আগে আর্থিক দিক থেকে আমরা যে লন্ডভন্ড অবস্থা থেকে যাত্রা শুরু করেছিলাম- সেটা এখন অতীত ইতিহাস হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘এই একশ’ দিনে অর্থনীতি সবল অবস্থানে চলে এসেছে। এটা সম্পূর্ণ নিজস্ব নীতিমালা দিয়ে হয়েছে। বলা বাহুল্য, এখনও আমাদের বন্ধুদের কাছ থেকে যে সাহায্যের আয়োজন হয়েছে তা আসা শুরু করেনি। বন্ধু রাষ্ট্রগুলো শুধু যে আমাদের বড় বড় অঙ্কে সাহায্য নিয়ে আসছে তাই নয়, তারা এই সাহায্য দ্রুততম সময়ে আসা শুরু করবে, এই প্রতিশ্রুতিও আমাকে দিয়েছে। এই সাহায্য আসা শুরু করলে আমাদের অর্থনীতি অত্যন্ত মজবুত এবং আকর্ষণীয় অর্থনীতিতে পরিণত হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও নানা রকম বিনিয়োগে উৎসাহিত হয়ে এগিয়ে আসবে। বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এখন থেকে আমরা আলোচনা শুরু করে দিয়েছি। বিশ্বের রাষ্ট্রপুঞ্জের মজলিসে আমরা এখন সম্মানিত এবং প্রশংসিত দেশের অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছি। এর কারণে পরাজিত শক্তি নানা কৌশল করেও তাদের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারছে না। তারা নানা চেহারা নিয়ে আপনাদের প্রিয়পাত্র হবার চেষ্টা করছে। পরাজিত শক্তির ষড়যন্ত্র থেকে নিজেকে মুক্ত রাখুন, দেশকে মুক্ত রাখুন। এ ব্যাপারে অনড় থাকুন। এমন কিছু করবেন না, যা তাদেরকে উৎসাহিত করতে সাহায্য করে। তাদেরকে সকল দিক থেকে নিরাশ করুন। সেটা নিশ্চিত করতে পারলে আমাদের আর কোনও বিষয়ে সংশয় করার প্রয়োজন নেই। সরকারের পক্ষ থেকে আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি, সকল প্রকার সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা আপনাদেরকে একটা মজবুত অর্থনীতি দিয়ে যাবো, ভবিষ্যতে চলার পথকে সহজগম্য করে যাবো, নাগরিক অধিকারসমূহ নিশ্চিত করে যাবো। বিপক্ষ শক্তি যত শক্তিশালীই হোক, নাশকতার যত রকমই উদ্ভট পরিকল্পনা করুক- সব কিছু নস্যাৎ করার জন্য প্রস্তুত থাকুন। এবার যে মুক্তি আমরা অর্জন করেছি তা আমাদের কাছ থেকে কেউ যেন ছিনিয়ে নিতে না-পারে তার জন্য সর্ব মুহূর্তে প্রস্তুত থাকুন।’

পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলে আরও গতি পাবে অর্থনীতি
পতিত সরকার ও তার দোসররা প্রতিবছর দেশ থেকে ১২-১৫ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে। দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ সম্প্রতি এই তথ্য দিয়েছে। পাচার হয়ে যাওয়া এই অর্থ ফিরিয়ে আনার জন্য সম্ভব সকল ধরনের উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করেছি। এ কাজে সফল হতে পারলে আমাদের অর্থনীতি আরও গতি পাবে। এ কাজে আমরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থার সাহায্য নিচ্ছি, বলে জানান ড.ইউনূস। তিনি বলেন, ‘আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই বিশ্বনেতৃবৃন্দকেও। বাংলাদেশের এই সংকটময় সময়ে তারা প্রায় সবাই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। আমি যখন সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেই, সে সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, কানাডা, ইতালি, হল্যান্ড, জাতিসংঘ মহাসচিবসহ বিশ্বের অনেক দেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে আমার বৈঠক করার সুযোগ হয়। তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের প্রতি সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। নেপাল, মালদ্বীপ, পাকিস্তানসহ প্রতিবেশী বেশ কয়েকটি দেশের সরকার প্রধানের সঙ্গেও আমার বৈঠক হয়েছে, যেখানে আমি সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার কথা বলেছি।’

২৭ রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সমবেতভাবে ঢাকায় আসছেন
দেশে ফিরে আসার পর এসব দেশের রাষ্ট্রদূতগণ যারা ঢাকায় স্বতপ্রবৃত্ত হয়ে আমার সঙ্গে দেখা করে তাদের সরকার প্রধানদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে গেছেন জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘তারা সম্পূর্ণ নতুনভাবে আমাদের জন্য সহায়তার নতুন ছক তৈরির কাজ শুরু করেছেন। যেসব রাষ্ট্রদূত দিল্লিতে অফিস করেন তারা দিল্লি থেকে এসে দেখা করে গেছেন। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ২০ দেশের ২০ জন রাষ্ট্রদূত দিল্লিতে থাকেন। সাত দেশের সাত রাষ্ট্রদূত ঢাকায় আছেন। দিল্লি থেকে একসঙ্গে ২০ জন রাষ্ট্রদূতসহ মোট ২৭ রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত সমবেতভাবে আমার সঙ্গে বৈঠক করার জন্য আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ঢাকায় আসছেন। আগে কখনও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ২৭ জন রাষ্ট্রদূত একত্রিত হয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসেনি। দিল্লি থেকে এ বিশাল সংখ্যক রাষ্ট্রদূত একসঙ্গে বৈঠক করার জন্য আসেনি। এবার এ কাজটি করার পেছনে আছে ইইউর  সমর্থন প্রকাশ করা এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে উচ্চ পর্যায়ের সহযোগিতা গড়ে তোলা। ইতোমধ্যে আমার সঙ্গে দেখা করেছেন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ব্রাজিল, তুরস্ক, রাশিয়া, ফিনল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, লিবিয়াসহ অনেক দেশের রাষ্ট্রদূত। দ্বিপাক্ষিক নানা সহযোগিতাসহ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির আশ্বাস তারা দিয়েছেন। আমরা প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও দেশে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানাচ্ছি। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও তরুণদের কর্মসংস্থানের মূলে রয়েছে বেসরকারি খাত। আমাদের বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান দুই শতাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীর সঙ্গে পৃথক পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন। নীতির ধারাবাহিকতার অভাব, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে মতবিনিময়ের অভাব, সরকারি অফিসের জটিল প্রক্রিয়া এবং সর্বোপরি দুর্নীতি, বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের সমস্যায় ফেলেছে। বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ নিরসনে আমরা অনেকগুলো কাজ করেছি। ইতোমধ্যে সত্যিকারের ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু হয়েছে, বিনিয়োগ সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ সমাধানে আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন হয়েছে। বেসরকারি খাতের উপদেষ্টা কাউন্সিল ও ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে সরকারি অফিসে না-এসে প্রয়োজনীয় কর্ম সম্পাদনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা আমাদের অগ্রগতির বিষয়ে সবাইকে মাসিক ভিত্তিতে আপডেট করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রবাসীদের কল্যাণে কাজ করছি। আমার অনুরোধে সংযুক্ত আরব আমিরাত সাজাপ্রাপ্ত ৫৭ জনসহ অন্যান্য বাংলাদেশিকে মুক্তি দিয়েছে। এসব বাংলাদেশি কারাবাসের ঝুঁকি নিয়ে ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে প্রতিবাদ করেছি। বাংলাদেশিরা এরকম প্রতিবাদ আরও অনেক দেশেই করেছেন। আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’

অন্যান্য ক্ষেত্রে সরকারের কর্মতৎপরতা
নতুন হজ প্যাকেজ ঘোষণা করায় হজের ব্যয় এক লাখ টাকারও বেশি কমিয়ে আনা হয়েছে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি আমরা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি, এ বছর সরকারি খরচে কাউকে হজে পাঠানো হবে না। আমরা নতুন বাংলাদেশকে একটি পরিবেশবান্ধব এবং জীববৈচিত্র্যময় দেশ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছি। এটি তরুণদের আকাক্সক্ষা। আমাদের সবারই আকাক্সক্ষা। সেই লক্ষ্যে আমি প্রথমেই একটি ক্ষুদ্র পদক্ষেপ নিয়েছি। সমগ্র সচিবালয়ে প্লাস্টিকের পানির বোতল ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছি। ইতোমধ্যে সুপার শপগুলোতে পলিথিনের শপিং ব্যাগ ব্যবহার বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত কয়েক দশকে যে পরিমাণ নদীদূষণ হয়েছে, আমরা তা বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছি। আপনারা সবাই অবগত আছেন, জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের জীবনযাত্রার জন্য কীরকম হুমকি হয়ে আসছে। গত এক বছরে বাংলাদেশ প্রায় ১৫টি প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়েছে। মানুষের সৃষ্ট নানাবিধ দুর্যোগের পাশাপাশি এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিপক্ষেও আমাদের লড়তে হচ্ছে। আজারবাইজানে জলবায়ু সম্মেলনে বিশ্বনেতৃবৃন্দকে আমি আমাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। সেখানে জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকার অনেক সরকার প্রধানের সঙ্গেই আমার দেখা হয়েছে। যতটুকু আলাপ আলোচনা সম্ভব হয়েছে, আমি সবার কাছেই জলবায়ুর প্রতিকূল প্রভাব মোকাবিলাসহ গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় সহযোগিতা চেয়েছি। তারা সহযোগিতার অঙ্গীকার সবাই করেছেন। গত ১০০ দিনে আমরা আরও অনেক কল্যাণমূলক কাজ করেছি, যা এখানে স্বল্প পরিসরে বর্ণনা করা সম্ভব নয়। আমাদের সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাসী। আমি তাই সরকারের সকল মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছি তাদের নিজ নিজ কাজের বিস্তারিত বিবরণ নিজেদের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার জন্য। আমি আমার দফতরকেও বলেছি সরকারের সব কাজের বিবরণ যাতে জনগণ জানতে পারে, এজন্য যেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়।’

সরকারকে ব্যর্থ করতে মহাপরিকল্পনার অভিযোগ
এ সরকারকে ব্যর্থ করার জন্য, অকার্যকর করার জন্য বিশাল অর্থে বিশ্বব্যাপী এবং দেশের প্রতিটি স্থানে, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে এক মহাপরিকল্পনা প্রতি মুহূর্তে কার্যকর রয়েছে বলে অভিযোগ করেন ড.মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘তাদের একটি বড় প্রচেষ্টা হচ্ছে আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা। পতিত সরকারের নেতৃবৃন্দ যারা এদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করে নিয়ে গেছে সে অর্থে বলীয়ান হয়ে তারা দেশে ফিরে আসার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছে। তাদেরকে কিছুতেই সফল হতে দেবেন না। তারা সফল হওয়া মানে জাতির মৃত্যু। জাতি হিসেবে আমাদের অবসান। সাবধান থাকুন। তাদের সকল হীন প্রচেষ্টাকে আমাদের ঐক্যের মাধ্যমে নস্যাৎ করে দিন। যেভাবে নস্যাৎ করেছিলেন তাদের বন্দুকের গুলিকে। তাদের আয়নাঘরকে। প্রতি পায়ে তাদের অনাচারের শিকলকে। এ ব্যাপারে সবাই একমত থাকুন, ঐক্যবদ্ধ থাকুন।’

কালের আলো/এমএসএমকে/এমএএএমকে

বাজেটের অঙ্ক বড়, চিকিৎসার বোঝাও বড়

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫১ অপরাহ্ণ
বাজেটের অঙ্ক বড়,  চিকিৎসার বোঝাও বড়

হাসপাতাল হয়েছে। নতুন ভবন উঠেছে। চিকিৎসা অবকাঠামো বেড়েছে। স্বাস্থ্য খাতের বাজেটও প্রতি বছর বড় হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসার বিল মেটাতে গিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কি একটু হালকা হয়েছে, নাকি আরও দ্রুত খালি হচ্ছে? পরিসংখ্যান বলছে, দ্বিতীয় ঘটনাটিই ঘটছে। বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল হেলথ এক্সপেনডিচার ডাটাবেজের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের বর্তমান স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৭৯ দশমিক ৩১ শতাংশই আসে রোগীর নিজস্ব পকেট থেকে।

  • রোগ সারাতে গিয়ে নিঃস্ব হওয়ার ঝুঁকি
  • স্বাস্থ্য বাজেট পৌঁছেছে ৪৯ হাজার কোটি টাকায়
  • রোগীর নিজের ব্যয় প্রায় ৮০ শতাংশ
  • ওষুধ, পরীক্ষা ও বেসরকারি চিকিৎসায় বাড়ছে পরিবারের চাপ

অর্থাৎ চিকিৎসায় খরচ হওয়া প্রতি ১০০ টাকার প্রায় ৮০ টাকাই পরিবারকে সরাসরি বহন করতে হচ্ছে। এক দশক আগেও পরিস্থিতি এতটা খারাপ ছিল না। ২০১২ সালে ব্যক্তিগত ব্যয়ের অংশ ছিল ৬৪ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৬৭ শতাংশ এবং ২০১৮ সালে ৬৯ শতাংশ। অর্থাৎ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়লেও মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ের দায় কমেনি উল্টো বেড়েছে।

বরাদ্দ বাড়ছে, রোগীর দায়ও বাড়ছে
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে ৪৯ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় বেড়েছে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরেও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৬ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা। বাজেটের অঙ্ক তাই বাড়ছে। কিন্তু সেই বাড়তি অর্থের কতটা সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে যাচ্ছে—এই প্রশ্নের উত্তর মিলছে না।

স্বাস্থ্য অর্থনীতির হিসাবে, একটি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার শক্তি শুধু মোট কত টাকা বরাদ্দ হলো, তা দিয়ে বোঝা যায় না। নাগরিককে চিকিৎসার সময় নিজের পকেট থেকে কতটা দিতে হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ সূচক। সেই সূচকেই বাংলাদেশের চিত্র উদ্বেগজনক।

দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বড় চাপ
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে ব্যবধান আরও স্পষ্ট। বিশ্বব্যাংক-ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ‘আউট অব পকেট’ ব্যয় প্রায় ৭৯ শতাংশ। ভারতে এটি প্রায় ৪৯ শতাংশ, নেপালে ৫১ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৪৬ শতাংশ, ভুটানে ৪২ শতাংশ এবং মালদ্বীপে ১৮ শতাংশ।

অর্থাৎ একই অঞ্চলের অন্য দেশগুলো যেখানে রোগীর সরাসরি ব্যয়ের বোঝা কমিয়ে আনতে পেরেছে, বাংলাদেশ সেখানে উল্টো পথে হাঁটছে।

স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদদের মতে, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্য অর্জন করতে ব্যক্তিগত ব্যয়ের অংশ ১৫ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনা প্রয়োজন। বাংলাদেশের বর্তমান হার সেই কাঙ্ক্ষিত সীমার প্রায় চার গুণ।

চিকিৎসার বিল মানেই পরিবারের আর্থিক ঝুঁকি
৭৯ শতাংশের এই সংখ্যা শুধু একটি অর্থনৈতিক সূচক নয়। এর পেছনে আছে অসংখ্য পরিবারের ভিন্ন ভিন্ন সংকট। কেউ চিকিৎসার খরচ মেটাতে সঞ্চয় ভাঙছেন, কেউ ঋণ করছেন, কেউ সম্পদ বিক্রি করছেন। আবার অর্থের অভাবে অনেকে চিকিৎসা পিছিয়ে দিচ্ছেন কিংবা প্রয়োজনীয় সেবা নিচ্ছেনই না। ফলে রোগ সারানোর খরচই অনেক সময় পরিবারের জন্য নতুন আর্থিক সংকট তৈরি করছে। জনস্বাস্থ্যবিদদের ভাষায়, এ ধরনের উচ্চ ব্যক্তিগত ব্যয় স্বাস্থ্যসেবাকে অধিকার থেকে সামর্থ্যের বিষয়ে পরিণত করে।

ওষুধ-পরীক্ষার খরচে চাপে পরিবার
রোগীর পকেট থেকে এত টাকা যাওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা। সরকারি হাসপাতালে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ওষুধ, পরীক্ষা ও সেবা পর্যাপ্তভাবে পাওয়া না গেলে রোগীকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হতে হয়। সেখানেই বাড়ে সরাসরি ব্যয়। চিকিৎসার বাণিজ্যিকীকরণ, ওষুধের মূল্য, ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার খরচ এবং কার্যকর স্বাস্থ্যবিমার অনুপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করছে।

ফলে একটি হাসপাতাল নির্মাণ বা শয্যা বাড়ানোর পরিসংখ্যান দিয়ে স্বাস্থ্যসেবার উন্নতি মাপা হলেও রোগীর চিকিৎসা ব্যয় কমছে কি না, সেই হিসাব আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।

বাজেটের সাফল্য কোথায়?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. রুমানা হক বলেন, স্বাস্থ্য বাজেটকে শুধু টাকার অঙ্ক হিসেবে দেখলে হবে না। জনগণের জন্য সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য চিকিৎসা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত বাজেটের মূল লক্ষ্য। সরকারি হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ, প্রয়োজনীয় ওষুধ নিশ্চিত করা এবং ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা চালুর ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

অন্যদিকে, একই ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বড় বাজেট পাওয়া গেছে, এখন সেই অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় করতে হবে। স্বাস্থ্য সমস্যার অগ্রাধিকার চিহ্নিত করে ব্যয় এবং প্রতি তিন মাসে বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রকাশের ওপর জোর দেন তিনি।

এম/এএইচ

১৩ বছর বয়সে যিনি গাড়িতে তুলে নিয়েছিলেন, তিনিই এখন এমবাপ্পের কোচ

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ
১৩ বছর বয়সে যিনি গাড়িতে তুলে নিয়েছিলেন, তিনিই এখন এমবাপ্পের কোচ

ফ্রান্স জাতীয় দলের নতুন কোচ হিসেবে জিনেদিন জিদানকে পাওয়ার বিষয়টিকে ‘সিনেমার গল্পের মতো’ মনে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের তারকা ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পে।

প্রায় ১৫ বছর আগে রিয়াল মাদ্রিদের যুব দলে ট্রায়াল দিতে গিয়ে প্রথমবার জিদানের সঙ্গে দেখা হয়েছিল এমবাপ্পের। সেই সময়ের পরিচিত জিদানই এখন ফ্রান্স জাতীয় দলের প্রধান কোচ। ক্যারিয়ারের এই দীর্ঘ পথচলায় এমন পরিবর্তনকে বিশেষ মুহূর্ত হিসেবেই দেখছেন এমবাপ্পে।

গাড়িতে তুলে নিয়েছিলেন জিদান

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুরোনো স্মৃতি মনে করেন এমবাপ্পে। তিনি জানান, রিয়াল মাদ্রিদের অনুশীলন কেন্দ্রে যাওয়ার সময় জিদানই প্রথম তাকে গাড়িতে তুলে নিয়েছিলেন।

তখন এমবাপ্পের বয়স ছিল মাত্র ১৩ বা ১৪ বছর। সেই সময়ের স্মৃতি এখনো তার মনে গেঁথে আছে। এত বছর পর সেই জিদানই জাতীয় দলের কোচ হওয়ায় বিষয়টিকে অবিশ্বাস্য এক যাত্রা হিসেবে দেখছেন তিনি।

এমবাপ্পের ভাষায়, বিষয়টি যেন সিনেমার গল্পের মতো। তবে সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার হলো, সেই গল্প বাস্তবেই ঘটছে।

জিদানের অধীনে নতুন অধ্যায়

তুরস্কের বিপক্ষে শুক্রবার উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচ দিয়ে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে প্রথমবার ডাগআউটে বসবেন জিদান। তার অধীনে নতুন একটি অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছে ফ্রান্স।

নতুন কোচের অধীনে দলের লক্ষ্যও পরিষ্কার বলে জানিয়েছেন এমবাপ্পে। সামনে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য দুই বছর সময় রয়েছে তাদের।

‘নতুন প্রক্রিয়া শুরু করছি’

এমবাপ্পে বলেন, ফ্রান্স নতুন একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নেশনস লিগের চারটি ম্যাচকে সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুত করার পাশাপাশি নতুন কোচের সঙ্গে কাজের ধরনও বুঝে নেওয়ার সুযোগ পাবেন তারা।

২০২৮ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে এখন থেকেই দলকে প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন এমবাপ্পে।

বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর নতুন শুরু

গত জুলাইয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে বিদায় নেয় ফ্রান্স। সেই হতাশা পেছনে ফেলে এবার নতুনভাবে পথচলা শুরু করতে চাইছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

জিদানের মতো কিংবদন্তি ফুটবলারের অধীনে ফ্রান্সের নতুন অধ্যায় কেমন হয়, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা। আর সেই অধ্যায়ের অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র এমবাপ্পে—যিনি কৈশোরে পাওয়া জিদানকে এবার জাতীয় দলের কোচ হিসেবেই পাশে পাচ্ছেন।

কালের আলো/এসএ

রাজনীতির পিচে নামছেন মোহাম্মদ শামি?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
রাজনীতির পিচে নামছেন মোহাম্মদ শামি?

ক্রিকেটের মাঠে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ মোহাম্মদ শামি। এবার তাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনীতিতে পা রাখার জল্পনা। ভারতের জাতীয় লোক দল (আরএলডি) সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জয়ন্ত চৌধুরীর সঙ্গে শামির সাক্ষাতের একটি ছবি প্রকাশ্যে আসার পরই নতুন করে এই আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে শামি বা আরএলডির পক্ষ থেকে এখনো রাজনীতিতে যোগ দেওয়া কিংবা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

জয়ন্তের সঙ্গে বৈঠক ঘিরেই যত আলোচনা

সম্প্রতি দিল্লিতে জয়ন্ত চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করেন মোহাম্মদ শামি। পরে জয়ন্ত চৌধুরী নিজেই সামাজিক মাধ্যমে তাদের সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক মহলে শামির সম্ভাব্য রাজনৈতিক অভিষেক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে আমরোহা সদর আসন থেকে শামিকে প্রার্থী করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে বিষয়টি এখনো জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে।

শামি নাকি ভাই হসিব?

শুধু মোহাম্মদ শামি নন, তার ভাই মোহাম্মদ হসিবের নামও আলোচনায় এসেছে। এর আগে হসিবের আমরোহা আসন থেকে আরএলডির সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। ফলে শামি নিজে নির্বাচনে না দাঁড়িয়ে ভাইকে রাজনীতির মাঠে নামাতে পারেন—এমন আলোচনাও চলছে।

তবে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে শামি ও তার ভাই—দুজনের পক্ষ থেকেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ঘোষণা না থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আমরোহার সঙ্গে শামির পুরোনো সম্পর্ক

মোহাম্মদ শামির শিকড় উত্তরপ্রদেশের আমরোহায়। আমরোহা সদর তহসিলের সাহসপুর আলিনগর তার পারিবারিক এলাকা। ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে তাকে ঘিরে ‘নিজের এলাকার মানুষ’ হিসেবে সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার আলোচনা তৈরি হয়েছে।

শামির পরিবারেও স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার ইতিহাস রয়েছে। তার ভাই হসিব এর আগে জেলা পঞ্চায়েত নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন বলেও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ক্রিকেট থেকে রাজনীতিতে—নতুন অধ্যায়?

মোহাম্মদ শামি সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ২০২৫ সালের ৯ মার্চ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর থেকে জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলছেন তিনি।

এর মধ্যেই জয়ন্ত চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং সম্ভাব্য নির্বাচনী প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে শামির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্যের চেয়ে জল্পনাই বেশি।

অতএব, ক্রিকেটের মাঠে পরিচিত এই পেসার সত্যিই রাজনীতির মাঠে নামবেন কি না, নাকি জয়ন্ত চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎটি ছিল নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ—সেটির উত্তর মিলবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলেই।

কালের আলো/এসএ