খুঁজুন
                               
, ,
           

৪৪০ নবীন নাবিক পেলো নৌবাহিনী; সততা, কর্মদক্ষতা ও নিয়মানুবর্তিতায় গুরুত্ব নৌবাহিনী প্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৪, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
৪৪০ নবীন নাবিক পেলো নৌবাহিনী; সততা, কর্মদক্ষতা ও নিয়মানুবর্তিতায় গুরুত্ব নৌবাহিনী প্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

দীর্ঘ ২২ সপ্তাহের কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে তাঁরা এখন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর গর্বিত নাবিক। প্রাণবন্ত কুচকাওয়াজে দৃঢ় কণ্ঠে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করার শপথ। বাদ্যের তালে তালে শনিবার (০১ ডিসেম্বর) পটুয়াখালীর বানৌজা শের-ই-বাংলা প্যারেড গ্রাউন্ডে বর্ণাঢ্য শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজে দৃপ্ত পায়ে এগিয়ে চলে ৪৪০ জন নবীন নাবিক। মনোজ্ঞ এই কুচকাওয়াজে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। এ সময় তিনি নবীন নাবিকদের চরিত্রে দেশপ্রেম, আনুগত্য, শৃঙ্খলা, মূল্যবোধ, সাহসিকতা ও শিষ্টাচার দৃঢ়ভাবে ধারন করতে গুরুত্বারোপ করেন। স্মরণ করিয়ে দেন যেকোন পেশায় উন্নতি করতে হলে সততা, কর্মদক্ষতা ও নিয়মানুবর্তিতার কোন বিকল্প নেই। মহান সৃষ্টিকর্তার ওপর অবিচল বিশ্বাস স্থাপন করে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। নির্দেশনা দেন দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সদা সর্বদা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকার।

নবীন নাবিকদের এমন অর্জনে উচ্ছ্বসিত তাদের অভিভাবকরাও। নিজ নিজ সন্তানরা শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে এই প্রত্যাশা তাদের। নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী নবীন নাবিকদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। তিনি দেশের সমুদ্রসম্পদ সংরক্ষণ ও বহি:শত্রুর আক্রমণ থেকে সমুদ্রসীমা সুরক্ষার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়নে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের আদ্যোপান্ত তুলে ধরেন। দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, নবীন নাবিকরা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান দায়িত্বে আত্মনিয়োগ করে বাংলাদেশ এবং প্রিয় নৌবাহিনীকে বিশ্ব দরবারে আরও গৌরবোজ্জ্বল আসনে অধিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বি/২০২৪ ব্যাচের ৪৪০ জন নবীন নাবিকের বুটক্যাম্প প্রশিক্ষণ বর্ণাঢ্য শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে এদিন শেষ হয়। নৌবাহিনীর বি/২০২৪ ব্যাচের নবীন নাবিকদের মধ্যে মো. এ কে এম শাহাদত হোসেন সাদী পেশাগত ও সকল বিষয়ে সর্বোচ্চ ফল অর্জন করে সেরা চৌকস নাবিক হিসেবে ‘নৌপ্রধান পদক’ লাভ করেন। মো. শাহীনুর আলম শিমুল দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ‘কমখুল পদক’ এবং সাব্বির রহমান তৃতীয় স্থান অধিকার করে ‘শের-ই-বাংলা পদক’ অর্জন করেন।

  • নবীন নাবিকদের নৌবাহিনী প্রধানের অভিনন্দন
  • অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নৌ-কমান্ডোদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ
  • একটি আধুনিক, সক্ষম ও সমৃদ্ধশালী ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী হিসেবে দেশে-বিদেশে সুখ্যাতি

নবীন নাবিকদের নৌবাহিনী প্রধানের অভিনন্দন, অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নৌ-কমান্ডোদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বি/২০২৪ ব্যাচের নবীন নাবিকদের এই মনোরম ও বর্ণাঢ্য প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হতে পেরে নিজে অত্যন্ত আনন্দিত বলে জানান নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ২২ সপ্তাহ সাফল্যের সঙ্গে প্রশিক্ষণ শেষ করে আজকের এই প্রাণবন্ত কুচকাওয়াজের মধ্যে দিয়ে নবীন নাবিকরা দেশমাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান ও পবিত্র পেশাগত জীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। এজন্য আমি তাদের সকলকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।’

তিনি বলেন, ‘আজ এই বিশেষক্ষণে আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নৌ-কমান্ডোদের। যাদের সবোর্চ্চ ত্যাগ শিকারের মাধ্যমে আজ আমরা একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হতে পেরেছি। একই সাথে স্মরণ করছি জাতির ক্রান্তিলগ্নে গত জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী সকল শহীদদেরকে। আমি তাদের সকলের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। একই সঙ্গে আন্দোলনে আহত সকল ছাত্র-জনতার আশু রোগ মুক্তি প্রার্থনা করছি।’

একটি আধুনিক, সক্ষম ও সমৃদ্ধশালী ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী হিসেবে দেশে-বিদেশে পরিচিতি
বাংলাদেশ নৌবাহিনী বর্তমানে একটি আধুনিক, সক্ষম ও সমৃদ্ধশালী ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী হিসেবে দেশে-বিদেশে পরিচিতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে বলে মন্তব্য করেন নৌবাহিনী প্রধান। তিনি ফিরে যান ৫৩ বছর আগের ইতিহাসের গোড়ার দিকে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের এক সঙ্কটময় মুহুর্তে কতিপয় বাঙালি নাবিক ও তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে গঠিত হয় নৌ কমান্ডো দল। যারা অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনা করে স্বাধীনতা যুদ্ধে বয়ে আনে অসামান্য সাফল্য। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বিস্তৃত সমুদ্র অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব ও সমুদ্র সম্পদ রক্ষায় দু’টি টহল জাহাজ ও সীমিত সংখ্যক নাবিক নিয়ে যাত্রা শুরু করে আমাদের প্রিয় নৌ বাহিনী। পরবর্তীতে বিভিন্ন পর্যায়ে সক্ষমতার বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী বর্তমানে একটি আধুনিক, সক্ষম ও সমৃদ্ধশালী ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী হিসেবে দেশে-বিদেশে পরিচিতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।’

ইতিহাস পর্যালোচনা করে এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘পৃথিবীর যেসব দেশ সমুদ্র সম্পদ ব্যবহার করে উন্নতির চেষ্টা করেছে দ্রুত গতিতে তাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। এ কারণেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রাধিকারের তালিকায় ব্লু ইকোনমি তথা সুনীল অর্থনীতি বিশেষভাবে স্থান করে নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সমুদ্রসম্পদ সংরক্ষণ ও বহি:শত্রুর আক্রমণ থেকে সমুদ্রসীমা সুরক্ষার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়নে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। নৌবহরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ, হেলিকপ্টার, মেরিটাইম পেট্রোল এয়ার ক্রাফটসহ আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে। ২০১৭ সালে দু’টি সাবমেরিন সংযোজনের মাধ্যমে আমাদের প্রাণপ্রিয় নৌবাহিনী একটি আধুনিক ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীতে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনীর সক্ষমতা অর্জনের অংশ হিসেবে নতুন ঘাঁটি, জাহাজ, আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংযোজনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সাবমেরিনের অপারেশনাল কর্মকাণ্ড ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কক্সবাজারের পেকুয়ায় সাবমেরিন ঘাঁটি নির্মাণ করা হয়েছে। অপরদিকে, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে উপকূলবর্তী এলাকায় নৌবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আপনারা যে ঘাঁটিতে অবস্থান করছেন বানৌজা শের-ই-বাংলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। নবনির্মিত এই ঘাঁটিসমূহ পায়রা ও মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দরসহ উপকূলীয় এলাকায় নিয়োজিত বাণিজ্যিক জাহাজ, মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার ও ব্লু ইকোনমি সংশ্লিষ্ট সকল মেরিটাইম প্রতিষ্ঠানসমূহের নিরাপত্তা ও সমুদ্রসম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে জাতীয় অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে।’

  • নৌবাহিনীর দক্ষ পরিচালনায় খুলনা শিপইয়ার্ড’র মিডিয়াম ও লার্জ পেট্রোল ক্রাফট নির্মাণের সক্ষমতা অর্জন
  • অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ নৌবাহিনী সার্বিক সহযোগিতা
  • বাংলাদেশ নৌবাহিনীর গর্বিত নাবিক হিসেবে দেশসেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখার আহ্বান

নৌবাহিনীর দক্ষ পরিচালনায় খুলনা শিপইয়ার্ড’র মিডিয়াম ও লার্জ পেট্রোল ক্রাফট নির্মাণের সক্ষমতা অর্জন
নৌবাহিনীর দক্ষ পরিচালনায় খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড বর্তমানে মিডিয়াম ও লার্জ পেট্রোলক্রাফট নির্মাণের সক্ষমতা অর্জন করেছে বলে জানান নৌবাহিনী প্রধান। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত ৫টি পেট্রোল ক্রাফট ইতোমধ্যেই নৌবহরে সংযোজিত হয়েছে। সর্বশেষ গতকাল (শনিবার) খুলনা নৌ ঘাঁটিতে এই পেট্রোল ক্রাফট স্কোয়াড্রনের পঞ্চম জাহাজ ‘বানৌজা বিশখালী’ কমিশন করা হয়েছে। এছাড়া নেভেল এভিয়েশনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সম্প্রতি আরও দু’টি মেরিটাইম পেট্রোল এয়ার ক্রাফট বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে সংযুক্ত হয়েছে। নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিক নৌবাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে দু’টি আনম্যান্ড এরিয়াল ভেহিকেল বা ইউএভি এবং দু’টি ইউটিলিটি হেলিকপ্টার বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যুক্ত হবে বলে আশা করা যায়।’

এডমিরাল এম নাজমুল হাসান আরও বলেন, ‘নৌবহরের জাহাজসমূহের অপারেশনাল রাখার জন্য বিশেষায়িত মেরামত সুবিধা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে মংলায় একটি পূর্ণাঙ্গ ডকইয়ার্ড স্থাপন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়াও অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম সংযোজনের দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রতিনিয়ত অবদান রেখে চলেছে। সমুদ্রসম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সিসমিক সার্ভে পরিচালনা, ফ্রডওয়েল স্থানান্তরে পাইপলাইন স্থাপন, কক্সবাজার জেলার মাতারবাড়িতে কয়লা ভিত্তিক পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন, মহেশখালীতে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রকল্পের নিরাপত্তা ও জরুরি সহায়তা প্রদানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী অপারেশন ব্লু গার্ড পরিচালনা করছে। এছাড়া মৎস্য সম্পদের সুরক্ষায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড উপকূলবর্তী এলাকা ও গভীর সমুদ্রে নিয়মিত টহল পরিচালনা করে চলেছে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের পদক্ষেপ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ নৌবাহিনী সার্বিক সহযোগিতা
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সশস্ত্র বাহিনীর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে জানিয়ে নৌবাহিনী প্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যরা ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে সহায়তা করে চলেছে। এছাড়া নদীপথে ও সমুদ্রে বিভিন্ন দুর্ঘটনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। ফেনী, কুমিল্লা ও নোয়াখালী জেলায় সাম্প্রতিককালের ভয়াবহ বন্যা মোকাবিলায় ও বন্যা পরবর্তী চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে দু:স্থ পরিবারের মাঝে ঘর তৈরি করে হস্তান্তরসহ বিভিন্ন সেবা প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। দেশের প্রয়োজনে সর্বদা নিবেদিত থেকে সর্বোচ্চ ত্যাগ শিকার করার জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতিটি সদস্য সদা প্রস্তুত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও প্রস্তুত থাকবে ইনশাআল্লাহ।’

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর গর্বিত নাবিক হিসেবে দেশসেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখার আহ্বান
নবীন নাবিকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্যের শেষপ্রান্তে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘আজকের এই প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজের মাধ্যমে তোমরা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর গর্বিত নাবিক হতে চলেছো। তোমাদের সকলের প্রতি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি তোমরা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান দায়িত্বে আত্মনিয়োগ করে বাংলাদেশ এবং আমাদের প্রিয় নৌবাহিনীকে বিশ্ব দরবারে আরও গৌরবোজ্জ্বল আসনে অধিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে। তোমাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও নবীন নাবিক প্রশিক্ষণ স্কুলে অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সার্বিক উন্নয়নে অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে আমি আশাবাদী।’

তিনি বলেন, ‘তোমাদের মনে রাখতে হবে, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের রয়েছে এক সুদীর্ঘ গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তোমাদেরকে কাজ করে যেতে হবে। মনে রাখবে যেকোন পেশায় উন্নতি করতে হলে সততা, কর্মদক্ষতা ও নিয়মানুবর্তিতার কোন বিকল্প নেই। আমি আশি করি প্রশিক্ষণ স্কুল থেকে তোমাদের অর্জিত শিক্ষাকে যথাযথভাবে ব্যবহার করে তোমরা বাংলাদেশ নৌবাহিনীর গর্বিত নাবিক হিসেবে দেশসেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখবে। নাবিক হিসেবে তোমাদের চরিত্রে দেশপ্রেম, আনুগত্য, শৃঙ্খলা, মূল্যবোধ, সাহসিকতা ও শিষ্টাচার দৃঢ়ভাবে ধারন করবে। মহান সৃষ্টিকর্তার ওপর অবিচল বিশ্বাস স্থাপন করে তোমরা উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে যাবে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সদা সর্বদা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকবে- এ আমার দৃঢ় প্রত্যাশা।

কালের আলো/এমএএএমকে

এরদোয়ান-অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠক, রোহিঙ্গা ইস্যুতেও জোর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ণ
এরদোয়ান-অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠক, রোহিঙ্গা ইস্যুতেও জোর

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনকে ঘিরে নিউইয়র্কে ব্যস্ত কূটনৈতিক কর্মসূচি পার করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অধিবেশনের ফাঁকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহামেদ লতিফ এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিস-আইমের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন তিনি। পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের তুর্কি হাউসে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন তারেক রহমান। বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে আলোচনা হয়। অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই নেতা। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এর আগে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের অংশীদারত্বের নতুন ক্ষেত্র সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে ও মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহামেদ লতিফের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন তারেক রহমান। এসব আলোচনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয় উঠে আসে। হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিস-আইমের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা

জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ও সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ ও সম্মানজনকভাবে ফেরার উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

ট্রাম্পের নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত বিশ্বনেতাদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজিত নৈশভোজেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

এর আগে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজিত বিশ্বনেতাদের সম্মানে স্বাগত প্রাতরাশে সস্ত্রীক অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। পরে ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কের উদ্বোধনী পর্বেও যোগ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনের কর্মসূচিতে দ্বিপক্ষীয়, বহুপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও উন্নয়ন সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের।

কালের আলো/এমএসআইপি 

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে উত্তেজনা কমাতে ট্রাম্প-ডেনমার্কের নতুন চুক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪২ অপরাহ্ণ
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে উত্তেজনা কমাতে ট্রাম্প-ডেনমার্কের নতুন চুক্তি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের নেতাদের সঙ্গে একটি নতুন নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের বিষয়ে ট্রাম্পের একাধিক বিতর্কিত বক্তব্যের পর দুই পক্ষের সম্পর্কে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, নতুন এ চুক্তির মাধ্যমে তা কিছুটা প্রশমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। ১০ পৃষ্ঠার চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। দক্ষিণের নারসারসুয়াক ও পূর্বাঞ্চলের মেস্টারসভিগে এসব ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের উত্তরে যুক্তরাষ্ট্রের পিটুফিক ঘাঁটিও থাকবে।

চুক্তিতে আবারও ‘ডেনমার্ক রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার’ প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারও স্বীকার করা হয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর ট্রাম্প বলেন, এটি দীর্ঘমেয়াদি ও চমৎকার একটি সম্পর্কের সূচনা করবে। তাঁর ভাষায়, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র এবং সবার জন্যই এটি গুরুত্বপূর্ণ।

নিরাপত্তায় কৌশলগত গ্রিনল্যান্ড

গ্রিনল্যান্ড ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্ভাব্য সংক্ষিপ্ত পথের ওপর অবস্থিত হওয়ায় ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ক্ষেত্রেও দ্বীপটির কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।

এ ছাড়া গ্রিনল্যান্ডে বিপুল পরিমাণ অনুত্তোলিত বিরল খনিজ রয়েছে। মেরু অঞ্চলের বরফ গলে নতুন নৌপথ উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও অঞ্চলটির অর্থনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

নতুন চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত খাতগুলোতে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশগুলোর প্রবেশাধিকার সীমিত করার কথা বলা হয়েছে। এর ফলে চীন ও রাশিয়ার আর্কটিক অঞ্চলে কৌশলগত অবস্থান তৈরির সুযোগ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‘আরও শান্তি ফিরবে’

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেছেন, চুক্তির পর তাঁর দেশ আগের দিনের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ডে আরও শান্তি ফিরিয়ে আনবে।

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেদেরিক নিলসেনও চুক্তিটিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি বলেন, পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের জন্য দেশে ফিরে আরও কাজ করতে হবে এবং সেটি একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হবে।

চুক্তির বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান আন্তোনিও কোস্তা এটিকে আটলান্টিক পারের সহযোগিতা ও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসও চুক্তিটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

চুক্তিতে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্ক থেকে স্বাধীন হলেও এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। প্রয়োজনে গ্রিনল্যান্ডকে ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে বা ন্যাটোতে যোগ দিতে হবে।

১৯৫১ সালের একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ২০০৪ সালে ওই চুক্তি হালনাগাদ করা হয়।

কালের আলো/এসএ

৬ জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করতে চায় ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৭ অপরাহ্ণ
৬ জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করতে চায় ইসি

ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের নির্বাচন আগামী বছরের শুরুতে শুরু হয়ে ৬ জুনের মধ্যে শেষ হতে পারে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) এ সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন এবং অফিসগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর ইসি জানিয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো আগামী ৬ জুনের মধ্যে শেষ করতে চায়। তবে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

রমজান, এসএসসি পরীক্ষা এবং ডিসেম্বরের বার্ষিক পরীক্ষার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ইসি নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করতে পারে। ভোটকেন্দ্র হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচন কখন শুরু হবে, তা নির্বাচন কমিশনই ঠিক করবে। সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে না।

প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব

পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রায় ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং উপজেলা নির্বাচনে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তুলনামূলক কম অর্থের প্রয়োজন হবে। সম্ভাব্য এই ব্যয়ের কাছাকাছি অর্থ দেওয়ার প্রস্তুতি সরকারের রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে চূড়ান্ত হিসাবের সঙ্গে ব্যয়ের পরিমাণ কিছুটা কমবেশি হতে পারে।

চলতি বছর নির্বাচন নিয়ে সংশয়

চলতি বছর স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইসির নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী তাঁর কাছে মনে হচ্ছে, নির্বাচন আগামী বছর শুরু হতে পারে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন।

তিনি জানান, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অথবা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যায়ে আবার বৈঠক হতে পারে। সেখানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা থাকবেন এবং ইসি নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করতে পারে।

সরকার চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো শেষ করতে চায় বলেও জানান তিনি।

জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে মন্তব্য

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পড়বে কি না—জানতে চাইলে মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচনের দিনক্ষণই এখনো নির্ধারিত হয়নি। তাই এ বিষয়ে এখনই মন্তব্য করা কঠিন।

নির্বাচনে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে প্রার্থীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই প্রশ্ন করা ভালো।

তিনি আরও বলেন, এখনো নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়নি এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রার্থীও হননি। তাই প্রার্থীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে কি না, তা বলার সময় এখনো আসেনি। নির্বাচন হলে তখন মানুষের প্রতিক্রিয়া বোঝা যাবে।

কালের আলো/এমএসআইপি