খুঁজুন
                               
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৫ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

বিএনপিকে ছাত্রনেতাদের তোপ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৫, ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ
বিএনপিকে ছাত্রনেতাদের তোপ

কালের আলো রিপোর্ট:

‘আগে সংস্কার পরে নির্বাচন’ এই ইস্যুতে প্রথম থেকেই অনড় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি। বিপরীতে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন দাবিতে সোচ্চার দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি। মূলত এ থেকেই নিজেদের মধ্যে বাড়তে থাকে দূরত্ব। বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন ধারা যুক্ত করতে শিগগির নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন হতে যাচ্ছে ছাত্র নেতারা। রাষ্ট্র সংস্কার ও পুনর্গঠনের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটি ও গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তির সমন্বয়ে এই দল গঠিত হতে যাচ্ছে। বিষয়টিকে বিএনপি ভালো চোখে দেখেনি বলে বিভিন্ন সময়ে মন্তব্য করেছেন ছাত্রনেতাদের কেউ কেউ। এরপর রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ, সংবিধান, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধসহ নানান বিষয়ে তৈরি হয় মতবিরোধ। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে একই লক্ষ্যে একসঙ্গে পথ চললেও এখন তাঁরা যেন কার্যত মুখোমুখি এক অবস্থানে দাঁড়িয়েছেন।

বিশেষ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ‘নিরপেক্ষ সরকারের’ দাবিকে সন্দেহের চোখে দেখছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। তিনি দলটির মহাসচিবের এহেন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে আরেকটা ওয়ান-ইলেভেন সরকার গঠনের ইঙ্গিত বহন করে বলে দাবি করেছেন। তথ্য উপদেষ্টা বলেছেন, ‘ওয়ান-ইলেভেনের বন্দোবস্ত থেকেই আওয়ামী ফ্যাসিজমের উত্থান ঘটেছিল। বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যে সামনে আরেকটা ওয়ান-ইলেভেনের সরকার, সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও নতজানু পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতা এবং গুম-খুন ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ার আলামত রয়েছে।’

  • বিএনপি মহাসচিবের দাবি আরেকটা ওয়ান-ইলেভেন সরকার গঠনের ইঙ্গিত
    নাহিদ ইসলাম
    উপদেষ্টা
    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়

বিএনপি’র সঙ্গে তরুণদের মতভিন্নতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ’র ফেসবুক পোস্টে। তিনি সেখানে বলেছেন, ‘জনগণের আকাক্সক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে গণঅভ্যুত্থানের পরে একটি নতুন রাজনৈতিক দলের প্রয়োজনীয়তা জনসমক্ষে উপস্থিত হলো। ঠিক এ কারণেই ফ্যাসিবাদবিরোধী ও জুলাই স্পিরিটকে ধারণকারী ছাত্র-জনতার সম্মিলনে নতুন রাজনৈতিক দলের উত্থান হওয়ার আভাস পেয়ে বিএনপি সেটিকে হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করলো।’ একটি জাতীয় দৈনিকের বরাত দিয়ে তিনি লেখেন, ‘ছাত্র-জনতার সম্মিলনে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন বানচাল করতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মাঝে উদ্বেগ ও শঙ্কা আদান-প্রদান হয়েছে। অর্থাৎ বিএনপি বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনরায় আওয়ামী লীগকে অবাধ অনুপ্রবেশ করতে দিলেও নতুন রাজনৈতিক দলের উত্থান দেখতে চায় না।’

বিএনপির দিকে তীর ছুড়ে বিভিন্ন বিষয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ছন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা ও ছাত্রনেতা আসিফ মাহমুদ। তিনি সরকারের কাজে রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপ করা অনুচিত বলে মন্তব্য করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে নিজের ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে এই মন্তব্য করেন তিনি।

আসিফ মাহমুদ তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন, সরকারে থেকে রাজনৈতিক দলের সাথে কোনও প্রকার সংশ্লিষ্টতার বিরুদ্ধে আমরাও। উপদেষ্টাদের কেউ রাজনীতি করলে সরকার থেকে বের হয়েই করবে। একই সাথে রাজনৈতিক দলেরও সরকারের কাজে হস্তক্ষেপ করা অনুচিত। বিভিন্ন সরকারি/সাংবিধানিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগে তদবির/চাপ প্রয়োগ করা অনুচিত।

  • সরকারের কাজে রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপ করা অনুচিত
    আসিফ মাহমুদ
    উপদেষ্টা
    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, ‘ছাত্র এবং অভ্যুত্থানের নেতৃত্বকে মাইনাস করার পরিকল্পনা ৫ আগস্ট থেকেই শুরু হয়েছে। ৫ আগস্ট যখন ছাত্র-জনতা রাজপথে লড়াই করছে, পুলিশের গুলি অব্যাহত রয়েছে, তখন আমাদের আপসকামী অনেক জাতীয় নেতা ক্যান্টনমেন্টে জনগণকে বাদ দিয়ে নতুন সরকার করার পরিকল্পনায় ব্যস্ত ছিলেন (অনেকে ছাত্রদের কথাও বলেছেন সেখানে)। আমরা ৩ আগস্ট থেকেই বলে আসছি, আমরা কোনও সেনা শাসন বা জরুরি অবস্থা মেনে নেবো না। আমাদের বারবার ক্যান্টনমেন্টে যেতে বলা হলেও সেখানে যেতে অস্বীকার করি। শেষ পর্যন্ত বঙ্গভবনে আলোচনা ও বার্গেনিংয়ের মাধ্যমে ড. ইউনূসকে প্রধান করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।’

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীরা ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ও নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে একটা জাতীয় সরকার গঠন করতে চেয়েছিলেন উল্লেখ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এই সমন্বয়ক বলেন, ‘জাতীয় সরকার হলে ছাত্রদের হয়তো সরকারে আসার প্রয়োজন হতো না। জাতীয় সরকার অনেক দিন স্থায়ী হবে, এই বিবেচনায় বিএনপি জাতীয় সরকারে রাজি হয়নি। কিন্তু অভ্যুত্থানের পরেই দেশে জাতীয় সরকারের প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি ছিল। অথচ বিএনপি জাতীয় সরকারের কথা বলছে সামনের নির্বাচনের পরে। ছাত্ররাই এই সরকারের এবং বিদ্যমান বাস্তবতার একমাত্র ফ্যাক্টর, যেটা ওয়ান-ইলেভেন সরকার থেকে বর্তমান সরকারকে সম্পূর্ণভাবে আলাদা করে।’ বিএনপি কয়েক দিন আগে ‘মাইনাস টু’র আলোচনা করলেও এখন ক্ষমতায় যাওয়ার পথ সুগম করার জন্য ‘নিরপেক্ষ সরকারের’ নামে আরেকটি ওয়ান-ইলেভেন সরকারের প্রস্তাবনা করছে বলেও অভিযোগ করেন উপদেষ্টা নাহিদ। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের পরিকল্পনা গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে যাবে এবং ছাত্র-জনতা কোনোভাবেই এটা মেনে নেবে না এবং আমি মনে করি, এটা বিএনপির বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র।’

প্রসঙ্গত, একদিন আগে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের কাছে বিবিসি বাংলা জানতে চায়, আপনার কি ধারণা যে, এই সরকারের মধ্যে কোনো পরিবর্তন আসতে পারে? জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘নিরপেক্ষতার প্রশ্ন আসতে পারে। কেননা, এখানে আমরা জিনিসটা লক্ষ্য করছি যে, আপনার ছাত্ররা তারা একটা রাজনৈতিক দল তৈরি করার কথা চিন্তা করছেন। সেখানে যদি ছাত্রদের প্রতিনিধি এই সরকারে থাকে, তাহলে তো নিরপেক্ষ থাকতে পারবে না। ওইটা হচ্ছে, সম্ভাব্য কথা। কিন্তু যদি তারা মনে করে যে, (সরকারে) থেকেই তারা নির্বাচন করবেন, তাহলে তো রাজনৈতিক দলগুলো মেনে নেবে না।’ মির্জা ফখরুলের মন্তব্যের জেরে এবার পাল্টা তীর ছুড়লেন উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ। একই দৌড়ে দেখা গেলো হাসনাত আব্দুল্লাহকেও।

  • আওয়ামী লীগকে চাইলেও নতুন দলের উত্থান চায় না বিএনপি
    হাসনাত আবদুল্লাহ
    আহ্বায়ক
    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একধরনের বৈপরীত্য নিয়ে এগুচ্ছে বিএনপি’র রাজনীতি। একদিকে ক্ষমতার একেবারে কাছাকাছি অবস্থান। অন্যদিকে অনিশ্চয়তা। রাজনীতিতে যদিও এটা কোনো অভিনব দৃশ্যপট নয়। ক্ষমতার মসনদে বসা কোনো সহজ বিষয় নয়। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রনেতাদের সঙ্গে একধরনের দ্বান্দ্বিক অবস্থান তৈরি হয়েছে দলটির। তারা স্মরণ করেন, বন্ধুত্ব ক্ষণকালের কিন্তু দ্বন্দ্ব চিরদিনের। তবে শত্রুতা না এলেই হলো।’ যদিও ‘গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষাকে অক্ষুণ্ন রেখে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে একাধিকবার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস।

কালের আলো/আরআই/এমকে

চার জেলার নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত জারি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ২:১৭ অপরাহ্ণ
চার জেলার নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত জারি

সন্ধ্যার মধ্যে দেশের চার জেলার উপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যেতে পারে। এজন্য এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদফতর।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানায় অধিদফতর।

আবহাওয়াবিদ মো. শহীনুল ইসলাম জানান, রংপুর, টাংগাইল, ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলের উপর দিয়ে পশ্চিম/উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

এসময় এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

কালের আলো/এসআর/ এএএন

স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে প্রশংসা একটু কম করতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ণ
স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে প্রশংসা একটু কম করতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বারবার প্রধানমন্ত্রীর নানা কাজের প্রশংসা করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে ‘প্রশংসা একটু কম’ করতে বলেছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) সম্মেলনে এ ঘটনা ঘটে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার বক্তৃতাকালে বারবার প্রধানমন্ত্রীর নানা কর্মের প্রশংসা করতে থাকেন। একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলে ওঠেন, ‘মন্ত্রী সাহেব, প্রশংসা একটু কম।’ এ সময় মিলনায়তন করতালিতে ভরে ওঠে।

প্রধানমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দ্রুত বলেন, ‘প্রশংসা করি নাই যতটুকু আপনি বলতেছেন, সামান্য বলেছি।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার বক্তৃতায় বলেন, ‘দেশের মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সবাইকে পরিবর্তনের অংশ হতে হবে এবং মানবসেবাকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে কাজ করতে হবে। সরকার প্রধান ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এই নীতির মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতসহ সব ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিরলসভাবে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। সংসদে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণ নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করেন।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তার এই নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার ফলেই প্রধানমন্ত্রী এযাবৎকালের শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক সংগঠক। তিনি বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ১০০ জন মানুষের ভেতরে তার কর্মের মাধ্যমে জায়গা করে নিয়েছেন।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে গ্রাম পর্যায়ের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে আগ্রহী। তাদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

‘তাদের কথা আমি শুনবো, তাদের মতামত গুরুত্ব দেবো এবং তাদের জন্য কাজ করবো। বিনিময়ে তারা দেশের মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখবেন-প্রধানমন্ত্রীর এই প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে।’

উপজেলা হাসপাতাল প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ খাতে উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের চিকিৎসকদের বিকল্প নেই জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘তাদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো এবং কাজের পরিবেশ উন্নত করা সরকারের অগ্রাধিকার।’

কালের আলো/এসআর/ এএএন

বিগত দুই সরকার হামের টিকা না দিয়ে ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ২:০৮ অপরাহ্ণ
বিগত দুই সরকার হামের টিকা না দিয়ে ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে: প্রধানমন্ত্রী

সরকার স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য দূর করতে কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিগত দুটি সরকার যথাসময়ে হামের টিকা না দিয়ে ক্ষমাহীন অপরাধ করেছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের চেষ্টায় হামের ভয়াবহ পরিস্থিতি অনেকটা রোধ করা গেছে। সামনের দিকে আরো উন্নতি হবে।

সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, দেশের মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হলে সবাইকে পরিবর্তনের অংশ হতে হবে এবং মানবসেবাকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে কাজ করতে হবে। সরকার প্রধান ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন, যার মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতসহ সব ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিরলসভাবে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। সংসদে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণ নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করেন। তার এই নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার ফলেই প্রধানমন্ত্রী এযাবতকালের শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক সংগঠক। তিনি বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ১০০ জন মানুষের ভেতরে উনার কর্ম উনাকে জায়গা করে দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে গ্রাম পর্যায়ের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে আগ্রহী। তাদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাদের কথা আমি শুনবো, তাদের মতামত গুরুত্ব দেবো এবং তাদের জন্য কাজ করবো। বিনিময়ে তারা দেশের মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখবেন, প্রধানমন্ত্রীর এই প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হলে মাঠপর্যায়ের চিকিৎসকদের বিকল্প নেই। তাই তাদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো এবং কাজের পরিবেশ উন্নত করা সরকারের অগ্রাধিকার।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত লোকজনদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনগণের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে হবে।

উপজেলা হাসপাতাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ খাতে উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবাকে জনগণের কাছে পৌঁছানোর জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের কার্যক্রমকে যুগোপযোগী করা, সার্বিক কার্যক্রম অবহিত হওয়াসহ সরকারের নির্দেশনা তাদের কাছে দেওয়ার জন্য এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন— প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ কামরুজ্জামান চৌধুরী ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাতচন্দ্র বিশ্বাসসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

এ সময় শ্রেষ্ঠ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের মধ্যে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

কালের আলো/এসআর/ এএএন