খুঁজুন
                               
, ,
           

বিএনপিকে ছাত্রনেতাদের তোপ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৫, ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ
বিএনপিকে ছাত্রনেতাদের তোপ

কালের আলো রিপোর্ট:

‘আগে সংস্কার পরে নির্বাচন’ এই ইস্যুতে প্রথম থেকেই অনড় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি। বিপরীতে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন দাবিতে সোচ্চার দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি। মূলত এ থেকেই নিজেদের মধ্যে বাড়তে থাকে দূরত্ব। বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন ধারা যুক্ত করতে শিগগির নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন হতে যাচ্ছে ছাত্র নেতারা। রাষ্ট্র সংস্কার ও পুনর্গঠনের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটি ও গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তির সমন্বয়ে এই দল গঠিত হতে যাচ্ছে। বিষয়টিকে বিএনপি ভালো চোখে দেখেনি বলে বিভিন্ন সময়ে মন্তব্য করেছেন ছাত্রনেতাদের কেউ কেউ। এরপর রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ, সংবিধান, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধসহ নানান বিষয়ে তৈরি হয় মতবিরোধ। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে একই লক্ষ্যে একসঙ্গে পথ চললেও এখন তাঁরা যেন কার্যত মুখোমুখি এক অবস্থানে দাঁড়িয়েছেন।

বিশেষ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ‘নিরপেক্ষ সরকারের’ দাবিকে সন্দেহের চোখে দেখছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। তিনি দলটির মহাসচিবের এহেন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে আরেকটা ওয়ান-ইলেভেন সরকার গঠনের ইঙ্গিত বহন করে বলে দাবি করেছেন। তথ্য উপদেষ্টা বলেছেন, ‘ওয়ান-ইলেভেনের বন্দোবস্ত থেকেই আওয়ামী ফ্যাসিজমের উত্থান ঘটেছিল। বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যে সামনে আরেকটা ওয়ান-ইলেভেনের সরকার, সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও নতজানু পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতা এবং গুম-খুন ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ার আলামত রয়েছে।’

  • বিএনপি মহাসচিবের দাবি আরেকটা ওয়ান-ইলেভেন সরকার গঠনের ইঙ্গিত
    নাহিদ ইসলাম
    উপদেষ্টা
    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়

বিএনপি’র সঙ্গে তরুণদের মতভিন্নতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ’র ফেসবুক পোস্টে। তিনি সেখানে বলেছেন, ‘জনগণের আকাক্সক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে গণঅভ্যুত্থানের পরে একটি নতুন রাজনৈতিক দলের প্রয়োজনীয়তা জনসমক্ষে উপস্থিত হলো। ঠিক এ কারণেই ফ্যাসিবাদবিরোধী ও জুলাই স্পিরিটকে ধারণকারী ছাত্র-জনতার সম্মিলনে নতুন রাজনৈতিক দলের উত্থান হওয়ার আভাস পেয়ে বিএনপি সেটিকে হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করলো।’ একটি জাতীয় দৈনিকের বরাত দিয়ে তিনি লেখেন, ‘ছাত্র-জনতার সম্মিলনে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন বানচাল করতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মাঝে উদ্বেগ ও শঙ্কা আদান-প্রদান হয়েছে। অর্থাৎ বিএনপি বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনরায় আওয়ামী লীগকে অবাধ অনুপ্রবেশ করতে দিলেও নতুন রাজনৈতিক দলের উত্থান দেখতে চায় না।’

বিএনপির দিকে তীর ছুড়ে বিভিন্ন বিষয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ছন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা ও ছাত্রনেতা আসিফ মাহমুদ। তিনি সরকারের কাজে রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপ করা অনুচিত বলে মন্তব্য করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে নিজের ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে এই মন্তব্য করেন তিনি।

আসিফ মাহমুদ তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন, সরকারে থেকে রাজনৈতিক দলের সাথে কোনও প্রকার সংশ্লিষ্টতার বিরুদ্ধে আমরাও। উপদেষ্টাদের কেউ রাজনীতি করলে সরকার থেকে বের হয়েই করবে। একই সাথে রাজনৈতিক দলেরও সরকারের কাজে হস্তক্ষেপ করা অনুচিত। বিভিন্ন সরকারি/সাংবিধানিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগে তদবির/চাপ প্রয়োগ করা অনুচিত।

  • সরকারের কাজে রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপ করা অনুচিত
    আসিফ মাহমুদ
    উপদেষ্টা
    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, ‘ছাত্র এবং অভ্যুত্থানের নেতৃত্বকে মাইনাস করার পরিকল্পনা ৫ আগস্ট থেকেই শুরু হয়েছে। ৫ আগস্ট যখন ছাত্র-জনতা রাজপথে লড়াই করছে, পুলিশের গুলি অব্যাহত রয়েছে, তখন আমাদের আপসকামী অনেক জাতীয় নেতা ক্যান্টনমেন্টে জনগণকে বাদ দিয়ে নতুন সরকার করার পরিকল্পনায় ব্যস্ত ছিলেন (অনেকে ছাত্রদের কথাও বলেছেন সেখানে)। আমরা ৩ আগস্ট থেকেই বলে আসছি, আমরা কোনও সেনা শাসন বা জরুরি অবস্থা মেনে নেবো না। আমাদের বারবার ক্যান্টনমেন্টে যেতে বলা হলেও সেখানে যেতে অস্বীকার করি। শেষ পর্যন্ত বঙ্গভবনে আলোচনা ও বার্গেনিংয়ের মাধ্যমে ড. ইউনূসকে প্রধান করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।’

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীরা ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ও নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে একটা জাতীয় সরকার গঠন করতে চেয়েছিলেন উল্লেখ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এই সমন্বয়ক বলেন, ‘জাতীয় সরকার হলে ছাত্রদের হয়তো সরকারে আসার প্রয়োজন হতো না। জাতীয় সরকার অনেক দিন স্থায়ী হবে, এই বিবেচনায় বিএনপি জাতীয় সরকারে রাজি হয়নি। কিন্তু অভ্যুত্থানের পরেই দেশে জাতীয় সরকারের প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি ছিল। অথচ বিএনপি জাতীয় সরকারের কথা বলছে সামনের নির্বাচনের পরে। ছাত্ররাই এই সরকারের এবং বিদ্যমান বাস্তবতার একমাত্র ফ্যাক্টর, যেটা ওয়ান-ইলেভেন সরকার থেকে বর্তমান সরকারকে সম্পূর্ণভাবে আলাদা করে।’ বিএনপি কয়েক দিন আগে ‘মাইনাস টু’র আলোচনা করলেও এখন ক্ষমতায় যাওয়ার পথ সুগম করার জন্য ‘নিরপেক্ষ সরকারের’ নামে আরেকটি ওয়ান-ইলেভেন সরকারের প্রস্তাবনা করছে বলেও অভিযোগ করেন উপদেষ্টা নাহিদ। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের পরিকল্পনা গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে যাবে এবং ছাত্র-জনতা কোনোভাবেই এটা মেনে নেবে না এবং আমি মনে করি, এটা বিএনপির বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র।’

প্রসঙ্গত, একদিন আগে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের কাছে বিবিসি বাংলা জানতে চায়, আপনার কি ধারণা যে, এই সরকারের মধ্যে কোনো পরিবর্তন আসতে পারে? জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘নিরপেক্ষতার প্রশ্ন আসতে পারে। কেননা, এখানে আমরা জিনিসটা লক্ষ্য করছি যে, আপনার ছাত্ররা তারা একটা রাজনৈতিক দল তৈরি করার কথা চিন্তা করছেন। সেখানে যদি ছাত্রদের প্রতিনিধি এই সরকারে থাকে, তাহলে তো নিরপেক্ষ থাকতে পারবে না। ওইটা হচ্ছে, সম্ভাব্য কথা। কিন্তু যদি তারা মনে করে যে, (সরকারে) থেকেই তারা নির্বাচন করবেন, তাহলে তো রাজনৈতিক দলগুলো মেনে নেবে না।’ মির্জা ফখরুলের মন্তব্যের জেরে এবার পাল্টা তীর ছুড়লেন উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ। একই দৌড়ে দেখা গেলো হাসনাত আব্দুল্লাহকেও।

  • আওয়ামী লীগকে চাইলেও নতুন দলের উত্থান চায় না বিএনপি
    হাসনাত আবদুল্লাহ
    আহ্বায়ক
    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একধরনের বৈপরীত্য নিয়ে এগুচ্ছে বিএনপি’র রাজনীতি। একদিকে ক্ষমতার একেবারে কাছাকাছি অবস্থান। অন্যদিকে অনিশ্চয়তা। রাজনীতিতে যদিও এটা কোনো অভিনব দৃশ্যপট নয়। ক্ষমতার মসনদে বসা কোনো সহজ বিষয় নয়। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রনেতাদের সঙ্গে একধরনের দ্বান্দ্বিক অবস্থান তৈরি হয়েছে দলটির। তারা স্মরণ করেন, বন্ধুত্ব ক্ষণকালের কিন্তু দ্বন্দ্ব চিরদিনের। তবে শত্রুতা না এলেই হলো।’ যদিও ‘গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষাকে অক্ষুণ্ন রেখে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে একাধিকবার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস।

কালের আলো/আরআই/এমকে

আর্মি মেডিকেল ও ডেন্টাল কোরের সম্মেলনে প্রযুক্তি, গবেষণা ও দক্ষতায় গুরুত্ব সেনাপ্রধানের

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ
আর্মি মেডিকেল ও ডেন্টাল কোরের সম্মেলনে প্রযুক্তি, গবেষণা ও দক্ষতায় গুরুত্ব সেনাপ্রধানের

সামরিক চিকিৎসাসেবা এখন আর কেবল প্রচলিত চিকিৎসাপদ্ধতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় মোটেও। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিবর্তন, প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই খাতকে এগিয়ে নেওয়ার প্রশ্নটিও তাই ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এমন প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, গবেষণা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়েছে আর্মি মেডিকেল কোর ও আর্মি ডেন্টাল কোরের চলতি বছরের বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি, প্রযুক্তির পরিবর্তন এবং ভবিষ্যতের প্রয়োজনকে সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুত করার তাগিদই যেন সামনে এসেছে এবারের বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলনে।

  • সামরিক চিকিৎসায় পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলানোর তাগিদ
  • পেশাগত মান ও মূল্যবোধ ধরে রাখার প্রত্যাশা
  • সমন্বিত বার্তা আগামী দিনের সামরিক চিকিৎসাসেবার প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে অবস্থিত শহীদ সালাহউদ্দিন সেনানিবাসের আর্মি মেডিকেল কোর সেন্টার অ্যান্ড স্কুলে (এএমসিসিঅ্যান্ডএস) অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান কোর দুটির প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, গবেষণা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেছেন। পাশাপাশি সততা ও কর্তব্যবোধের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতের দায়িত্ব পালনের জন্য পেশাগত মান ও মূল্যবোধ ধরে রাখার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন। চিকিৎসা পেশার সঙ্গে মানবিক দায়িত্বেও সম্পর্ক যে নিবিড় এই বিষয়টিও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, সেনাবাহিনী প্রধান বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলনে আর্মি মেডিকেল কোর এবং আর্মি ডেন্টাল কোরের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য তুলে ধরেন। তিনি চিকিৎসা সেবায় তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এছাড়াও, সততা, সত্যনিষ্ঠা ও কর্তব্যবোধে ব্রতী হয়ে সেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে এই কোরের প্রশংসনীয় ভূমিকা অব্যাহত থাকবে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রযুক্তি, গবেষণা, দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সেনাপ্রধানের আলোচনায় প্রযুক্তি, গবেষণা, দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। যা সামরিক চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এর মধ্যে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও গবেষণার বিষয়টি চিকিৎসাসেবায় পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার প্রয়োজনীয়তাকে নির্দেশ করেছে। আর পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়টি সেই পরিবর্তনকে সামনে নিয়ে এসেছে। সেনাপ্রধানের সমন্বিত এই বার্তা আগামী দিনের সামরিক চিকিৎসাসেবার প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

চিকিৎসাসেবার পেশাগত মান ধরে রাখার একটি মৌলিক বার্তা
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রযুক্তি ও দক্ষতার বিকাশ চিকিৎসাসেবাকে এগিয়ে নিতে পারে। কিন্তু দায়িত্ব পালনের নৈতিক ভিত্তি অটুট না থাকলে সেই অগ্রগতি পূর্ণতা পায় না। ফলে সম্মেলনে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি সততা, সত্যনিষ্ঠা ও কর্তব্যবোধের ওপর সেনাপ্রধানের গুরুত্ব দেওয়াকে সামরিক চিকিৎসাসেবার পেশাগত মান ধরে রাখার একটি মৌলিক বার্তা হিসেবে দেখছেন তাঁরা।

অনুষ্ঠানে সামরিক চিকিৎসা সার্ভিস মহাপরিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল কাজী মোহাম্মদ রাশিদুন্নবী, আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের ভারপ্রাপ্ত জিওসি মেজর জেনারেল খন্দকার মোহাম্মদ শাহিদুল এমরান, সেনাবাহিনীর অ্যাডজুটেন্ট জেনারেল (এজি) মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হোসাইন আল মোরশেদ, ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও ঘাটাইল এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল সাঈদ আনোয়ার মাহমুদসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট কোর দুটির অধিনায়ক, কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরাও এতে অংশ নেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

বিএনপি ক্ষমতায় এসে প্রতিবারই দেশকে সংকটমুক্ত করেছে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ণ
বিএনপি ক্ষমতায় এসে প্রতিবারই দেশকে সংকটমুক্ত করেছে: প্রধানমন্ত্রী

যখনই দেশের মানুষ অবাধে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, তখনই তারা বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে এবং বিএনপি ক্ষমতায় এসে প্রতিবারই দেশকে সংকট থেকে বের করে এনেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেওয়া সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধ থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিটি সংকটে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি হাল ধরেছে এবং সফল হয়েছে। জিয়াউর রহমান তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ ঘুচিয়ে দেশকে খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করেছিলেন।

১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া নারী শিক্ষায় বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন এবং দুই কোটি মানুষকে দারিদ্র্যসীমা থেকে বের করে এনেছিলেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালেও বিএনপি দেশকে দুর্নীতির কলঙ্ক থেকে মুক্ত করেছিল।
ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, তারা (ফ্যাসিবাদ) শুধু লুটপাট ও অর্থ পাচার করেই ক্ষান্ত হয়নি, খেলাপি ঋণের হিসাবেও জালিয়াতি করেছিল। ২০২৪ সালে তারা খেলাপি ঋণ দেখিয়েছিল মাত্র ১১ শতাংশ।

অথচ আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর ফরেনসিক অডিটে দেখা যায়, প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩৫.৫ শতাংশ। তবে আমাদের সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে গত ৫ মাসে তা কমে ৩২.৬ শতাংশে নেমে এসেছে।
রেকর্ড পরিমাণ বিদেশি ঋণ পরিশোধের কথা জানিয়ে সংসদ নেতা বলেন, যাঁরা দেশকে ঋণের ভারে জর্জরিত করেছেন, তাঁদের অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। কিন্তু এই দেশের কাঁধে যে ঋণের বোঝা, তা আমাদেরই শোধ করতে হচ্ছে। বর্তমান সরকার গত ৫ মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ রেকর্ড ২ হাজার ৪৭৬ মিলিয়ন (২৪৭৬ লক্ষ) মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে।

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশীয় সোর্স বা বঙ্গোপসাগর থেকে গ্যাস উত্তোলনের বিন্দুমাত্র চেষ্টা করা হয়নি। দেশকে সম্পূর্ণভাবে আমদানিনির্ভর করে ফেলা হয়েছিল। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় গ্যাস আমদানি বাধাগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে আমাদের দুটি এফএসআরইউইয়ের (এলএনজি টার্মিনাল) একটি দুর্ঘটনার কারণে সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যায়। এটি বাড়তি বিপদের সৃষ্টি করেছে।

বিরোধী দলের লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমরা এই সংকট সমাধানে বিরোধী দলের বন্ধুদের কাছে সহযোগিতা আশা করেছিলাম। কিন্তু দেখলাম লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে। লংমার্চ করে যদি গ্যাস বা বিদ্যুতের সমাধান করা যেত, তাহলে আমরাই সবার আগে লংমার্চ করতাম। জনগণকে অযথা উত্তেজিত করে অন্য কিছু করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল কি না, সে প্রশ্নও উঠছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা উত্তরাধিকার সূত্রেই এই সংকট পেয়েছি। তবে আমরা বসে নেই। ইতোমধ্যেই অনেকগুলো ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আমরা শুধু বিদ্যুৎ গ্রাহক নয়, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদক হওয়ার পরিকল্পনায় এগোচ্ছি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অবশ্যই আমরা এই গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হবো ইনশাল্লাহ।

বাকস্বাধীনতা যেন শালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে: প্রধানমন্ত্রী

দেশে এখন বাকস্বাধীনতা অবারিত হলেও তা যেন কোনোভাবেই শালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে, সেদিকে খেয়াল রাখার জন্য সব রাজনৈতিক দল ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি রাজনীতি থেকে গালাগালির সংস্কৃতি পরিহারেরও তাগিদ দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে সংসদ নেতা এ আহ্বান জানান।

রাজনৈতিক সংস্কৃতির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে জনগণের সব গণতান্ত্রিক ও বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

বর্তমানে দেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজ করছে, বাকস্বাধীনতা অবারিত। কিন্তু আমাদের মনে রাখা দরকার, বাকস্বাধীনতা যেন কোনোভাবেই শালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে।
সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পারিবারিক পরিবেশে আমরা যেসব শব্দ ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না, জনপ্রতিনিধি হয়েও কেন আমরা সেই শব্দগুলো জনপরিসরে ব্যবহার করব? কেন আমরা সেগুলো পরিহার করব না? আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি যেন গালাগালিতে পরিণত না হয়। আসুন, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে এই গালাগালির সংস্কৃতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই এবং একটি রুচিশীল সমাজ গঠন করি।

গণতান্ত্রিক শক্তির বিভেদ ফ্যাসিস্টদের পুনরুজ্জীবিত করতে পারে: প্রধানমন্ত্রী

গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যে বিভেদ ও বিরোধ সৃষ্টি হলে বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট অপশক্তি পুনরায় উজ্জীবিত হওয়ার সুযোগ পেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে এবং শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় আমাদের মধ্যে ভিন্নমত থাকবে, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাও থাকবে, এটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু এই ভিন্নমত যেন শত্রুতার রূপ না নেয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তির মধ্যে বিভেদ বা বিরোধ শেষ পর্যন্ত বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট অপশক্তিকেই পুনরুজ্জীবিত করতে পারে।
তাদের পথকেই সুগম করতে পারে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে সংসদ নেতা বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে গুলি করে পাখির মতো মানুষ হত্যা করা হয়েছে।

প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষ জীবন দিয়েছেন, ৩০ হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বা অন্ধত্ব বরণ করেছেন। সুশাসন ও ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই এই শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করা আমাদের পবিত্র কর্তব্য। তাই আসুন, সরকারি বা বিরোধী দল, সবাই মিলে একটি কল্যাণকর রাষ্ট্র গড়ে তুলি। সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি 

অপরাধ তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতা পেল এপিবিএন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪০ অপরাহ্ণ
অপরাধ তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতা পেল এপিবিএন

জাতীয় সংসদে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে ১৯৭৯ সালের পুরোনো অধ্যাদেশ বাতিল করে এপিবিএনের জন্য নতুন আইন প্রণয়ন করা হলো। নতুন আইনে বাহিনীটির দায়িত্ব ও ক্ষমতার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

নতুন আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—প্রথমবারের মতো এপিবিএনকে ফৌজদারি অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের স্পষ্ট ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ন্যূনতম সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) পদমর্যাদার কর্মকর্তারা ফৌজদারি কার্যবিধি ও পুলিশ রেগুলেশনস অনুসরণ করে তদন্ত পরিচালনা করতে পারবেন।

আইন অনুযায়ী, সন্ত্রাসবাদ, মাদক ও মানব পাচার, ধর্ষণ, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাইবার অপরাধ, গুম এবং জমি দখলের মতো গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধে এপিবিএন সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারবে।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রের নির্ধারিত ভিআইপিদের নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বও বাহিনীটির ওপর থাকছে।

নতুন আইনে স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যাটালিয়ন, মাউন্টেন ব্যাটালিয়ন ও এয়ারপোর্ট ব্যাটালিয়নের মতো বিশেষায়িত ইউনিটগুলোকে এপিবিএনের একক কাঠামোর অধীনে পরিচালনার বিধান রাখা হয়েছে।

তদন্তের প্রয়োজনে এপিবিএন নিজস্ব ডিটেনশন সেল, ব্যারাক ও জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারবে। পাশাপাশি বাহিনীর সদর দপ্তরে সাইবার সেল ও গবেষণা ইউনিট গড়ে তোলার বিধান রাখা হয়েছে।

এপিবিএন পুলিশের একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের (অ্যাডিশনাল আইজিপি) নেতৃত্বে পরিচালিত হবে এবং আইজিপির সার্বিক তদারকিতে থাকবে। প্রয়োজনে পুলিশ বাহিনীর বাইরে থেকেও আইনজীবী, মনোবিজ্ঞানী, চিকিৎসক ও বিচারকদের মতো বিশেষজ্ঞদের চুক্তিভিত্তিক বা প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া যাবে। তবে বাহিনীতে যুক্ত হওয়ার পর সব সদস্যের জন্য প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এদিকে নতুন আইনে এপিবিএনের বিচারিক কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। পুরোনো অধ্যাদেশের ‘পুলিশ-প্রধান আদালত’ ব্যবস্থার পরিবর্তে এপিবিএন বিশেষ ও আপিল আদালতে অসামরিক বিচার বিভাগের সদস্যদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, সংক্ষিপ্ত এপিবিএন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এবং বিশেষ এপিবিএন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আপিল আদালতে আবেদন করা যাবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি