খুঁজুন
                               
, ,
           

স্বপ্নডানা মেলেছে শাহ সিমেন্ট-একেএস কাপ গলফ টুর্নামেন্ট, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখছেন নৌবাহিনী প্রধান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৫, ৯:১২ অপরাহ্ণ
স্বপ্নডানা মেলেছে শাহ সিমেন্ট-একেএস কাপ গলফ টুর্নামেন্ট, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখছেন নৌবাহিনী প্রধান

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

১০ম শাহ্ সিমেন্ট-একেএস কাপ গলফ টুর্নামেন্ট। টুর্নামেন্টটির সঙ্গে সম্পৃক্ত নানা পর্যায়ের লোকজনের ছোটাছুটি, ব্যস্ততা মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ কুর্মিটোলা গলফ কোর্সে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর কোর্সে মাথায় ক্যাপ আর টি-শার্ট পড়ে লম্বা একটি দন্ড নিয়ে সবুজ ঘাসের ওপর পড়ে থাকা সাদা ডিমের মতো একটি বলকে সজোরে ড্রাইভ করলেন টুর্নামেন্টটির প্রধান অতিথি বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। বলটি উড়ে গিয়ে পড়লো অনেক দূরের সবুজে। সঙ্গে সঙ্গে তুমুল করতালি।

দুর্দান্ত শটে মুগ্ধ সবাই। এরই মধ্যে দিয়ে শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) তিনব্যাপী এই টুর্নামেন্টটির আলো ছড়ানো এক সূচনা হলো।  যেন গলফ অঙ্গনে ডানা মিলতে শুরু করলো স্বপ্ন। এভাবেই হাঁটি হাঁটি পা পা করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে জায়গা করে নিবে বাংলাদেশের গলফ। কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবের দেশি ও বিদেশি সদস্যরাসহ দেশের সকল গলফ ক্লাবের প্রায় ৬৫০ জন গলফার অংশগ্রহণ করছেন ১০ম শাহ্ সিমেন্ট-একেএস কাপ গলফ টুর্নামেন্টে।

টুর্নামেন্টটির ১০ম আসরকে ঘিরে এদিন বর্ণাঢ্য সাজে সাজানো হয় কুর্মিটোলা গলফ কোর্সকে। আলোকময় ঝর্ণাধারায় বাংলাদেশ বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এদিন সকালে টুর্নামেন্টটির উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের (এনডিসি) কমান্ড্যান্ট ও কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক।

এর আগে গত বুধবার (২২ জানুয়ারি) থেকে শুরু হয় টুর্নামেন্টটি। এদিন শীতের সকালে ভিন্নরকম আর বৈচিত্র্যময়তায় একেকজন গলফার উপস্থাপন করেন নিজেদের। ঠিক যেন সুস্থতার জন্য সবুজের মধ্যে হাঁটা, গলফ স্টিকের সুইং, স্টিক আর বলের চমৎকার কন্টাক্ট ও সঙ্গে আনন্দ-আড্ডায় মেতে ওঠার অন্যরকম একদিন।

এমনিতেই খেলাধূলা ভালোবাসেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। একজন দক্ষ ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও স্বনামে খ্যাত তিনি। গলফ কোর্সের নির্মল পরিবেশও তাঁর খুব প্রিয়। আভিজাত্যের এই খেলায় বিশেষ উৎসাহী ও পারদর্শী তিনি। পার, বগি, ডাবল বগি, ট্রিপল বগি, বার্ডি, অ্যালবাট্টস সবকিছুই মুখস্ত তাঁর।

একজন সফল গলফার হিসেবেও সুনাম রয়েছে তাঁর। আভিজাত্যের মোড়ক পেরিয়ে গলফ এখন সবার খেলা হয়ে উঠেছে। ফলে দেশে গলফের উজ্জ্বল ভবিষ্যত দেখছেন নৌবাহিনী প্রধান। দেশি-বিদেশি গলফারদের এই মিলনমেলায় এডমিরাল এম নাজমুল হাসান মনে করেন, নিয়মিত এমন টুর্নামেন্টের আয়োজন দেশের গলফের উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। গলফ মানচিত্রে ঠাঁই করে নিবে লাল-সবুজের বাংলাদেশ। ক্রীড়াঙ্গনে গলফের মাধ্যমে বৃদ্ধি পাবে দেশের সুনামও।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আবুল খায়ের গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) শহিদুল্লাহ চৌধুরী, ক্লাব ক্যাপ্টেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ তৌহিদ হোসেন, টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আবিদুর রেজা খান, ক্লাবের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কর্নেল (অব:) মো. শহিদুল হক, ক্লাব সেক্রেটারি কর্নেল এস এম সাজ্জাদ হোসেন, কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবের লেডি ক্যাপ্টেন অধ্যাপক শাহীন মাহবুবা হক, ক্লাবের জেনারেল ম্যানেজার ক্লাব এ্যাফেয়ার্স লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব:) আবু মো. সাইদুর রহমানসহ বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও আবুল খায়ের গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

সিজিপিএ নয়, নিজের প্রজেক্টের জোরে সার্নে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মাহিম

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
সিজিপিএ নয়, নিজের প্রজেক্টের জোরে সার্নে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মাহিম

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মাহিম ইসলাম সুযোগ পেয়েছিলেন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউরোপিয়ান অর্গানাইজেশন ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চ—সার্নের Summer Student Programme-এ। ৯০টির বেশি দেশ থেকে ২১ হাজারের বেশি আবেদনকারীর মধ্য থেকে নির্বাচিত ৩২২ শিক্ষার্থীর একজন ছিলেন তিনি। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে মাহিমই ছিলেন একমাত্র নির্বাচিত শিক্ষার্থী।

মাহিমের জন্য এই অর্জনটি ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ তাঁর নিজের ভাষায়, তাঁর সিজিপিএ খুব ভালো ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অধ্যাপকের সুপারিশপত্রও তিনি জোগাড় করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত একজন ল্যাব ইনস্ট্রাক্টরের সুপারিশপত্র নিয়ে আবেদন করেন। তবে আবেদনে তিনি গুরুত্ব দেন নিজের আগ্রহ থেকে করা কয়েকটি প্রজেক্টকে।

মাহিমের সার্নযাত্রার পেছনে ছিল ছোটবেলা থেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ। সত্যেন্দ্রনাথ বসুর নাম থেকে ‘বোসন’ সম্পর্কে জানার পর হিগস বোসন ও সার্নের প্রতি তাঁর কৌতূহল তৈরি হয়। পরে লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার ও কণাপদার্থবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে সার্নে কাজ করার আগ্রহ আরও বাড়ে।

সার্নে মাহিম কাজ করেন ALICE experiment-এর computing grid নিয়ে। তাঁর কাজ ছিল ALICE-এর সফটওয়্যারকে তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী নতুন ধরনের প্রসেসরে চালানোর উপযোগী করে তোলা। সার্নের গবেষণায় বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের হাজার হাজার কম্পিউটার একসঙ্গে কাজ করে। সেই বড় অবকাঠামোর একটি অংশ নিয়ে কাজ করার সুযোগ পান তিনি।

তবে সার্নে মাহিমের অভিজ্ঞতা শুধু গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি সরাসরি ALICE detector দেখেছেন, সার্নের লাইব্রেরিতে রাখা নোবেল পদক দেখেছেন এবং C++ ভাষার নির্মাতা Bjarne Stroustrup-এর বক্তৃতাও শুনেছেন।

সার্নে গিয়ে মাহিমের অন্যতম বড় শিক্ষা ছিল প্রশ্ন করতে ভয় না পাওয়া। তাঁর মতে, কোনো বিষয় না বুঝলে গবেষকদের সামনে ‘আমি বুঝিনি’ বলতে পারাটাও একধরনের আত্মবিশ্বাস। সার্নের পরিবেশে সবাই সবকিছু জানে না; কেউ প্রশ্ন করলে অন্যরা উত্তর দেন এবং কাজ এগিয়ে যায়।

ফ্রান্সে অবস্থান করে সুইজারল্যান্ডের সার্ন ক্যাম্পাসে যাতায়াতের পাশাপাশি ছুটিতে ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড ও ইতালির বিভিন্ন জায়গাও ঘুরেছেন মাহিম। আন্তর্জাতিক পরিবেশে বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি তাঁদের কাছে বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির কথাও তুলে ধরেছেন।

দেশে ফিরে মাহিম জুনিয়রদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, একজন শিক্ষার্থীর যোগ্যতা শুধু ট্রান্সক্রিপ্ট বা সিজিপিএ দিয়ে নির্ধারিত হয় না। নিজের আগ্রহের বিষয়ে কাজ করা, প্রজেক্ট তৈরি করা, নতুন কিছু শেখা এবং সুযোগ এলে আবেদন করাও গুরুত্বপূর্ণ।

মাহিমের গল্প তাই দেখায়, একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি নিজের তৈরি কাজ, কৌতূহল ও উদ্যোগও আন্তর্জাতিক সুযোগের দরজা খুলে দিতে পারে।

কালের আলো/এসএ

শীতলপাটি থেকে স্যান্ডেল, চার শিক্ষার্থীর নতুন উদ্যোগ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
শীতলপাটি থেকে স্যান্ডেল, চার শিক্ষার্থীর নতুন উদ্যোগ

শীতলপাটি মানেই যেন গ্রামবাংলার চেনা ঐতিহ্য। একসময় গরমের দিনে ঘরে ঘরে ছিল এর ব্যবহার। সময়ের সঙ্গে আধুনিক পণ্যের ভিড়ে শীতলপাটির কদর কমেছে, কমেছে এর সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের আয়ও। তবে পুরোনো এই ঐতিহ্যকেই নতুন রূপ দিয়ে কাজে লাগানোর ভাবনা থেকে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী।

তাঁদের উদ্যোগের নাম ‘বুনন বাজার’। শীতলপাটিকে শুধু মাদুর হিসেবে না দেখে তা দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে নিত্যব্যবহার্য পণ্য। এরই অংশ হিসেবে এবার শীতলপাটি দিয়ে তৈরি হচ্ছে স্যান্ডেল।

দলের সদস্য অপূর্ব কৃষ্ণ দে ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষার্থী। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের আবির দে, মো. আশিক মিয়া ও চৌধুরী খুবাইব বিন করিম।

ছোটবেলার পরিচয় থেকেই নতুন ভাবনা

টাঙ্গাইলের গ্রামের বাড়িতে ছোটবেলা থেকেই মূর্তা বা বেতিগাছের সঙ্গে পরিচিত অপূর্ব কৃষ্ণ দের। এই গাছের কাঁচামাল দিয়ে শীতলপাটি তৈরির প্রক্রিয়া এবং এর সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের কাজও তিনি কাছ থেকে দেখেছেন।

সময়ের সঙ্গে শীতলপাটির ব্যবহার কমে যাওয়ায় কারিগরদের আয়েও প্রভাব পড়েছে। তখনই অপূর্বের মনে প্রশ্ন জাগে—শীতলপাটিকে যদি শুধু মাদুর হিসেবে ব্যবহার না করে আধুনিক ও নিত্যব্যবহার্য কোনো পণ্য তৈরিতে কাজে লাগানো যায়, তাহলে কেমন হয়?

সেই ভাবনা থেকেই শুরু ‘বুনন বাজার’-এর যাত্রা।

ক্লাসের আইডিয়া থেকে বাস্তব উদ্যোগ

শুরুতে এটি ছিল নিছক একটি ব্যবসায়িক ধারণা। পরে বিভিন্ন পিচিং ও প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গিয়ে ধারণাটিকে ধীরে ধীরে বাস্তব ব্যবসার রূপ দিতে থাকেন চার শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্টারপ্রেনিউরশিপ ডেভেলপমেন্ট কোর্সও তাঁদের উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করেছে। কোর্সের ব্যবহারিক অংশে তাঁরা ‘বুনন বাজার’ নিয়ে কাজ করেন। সেখানে ক্রেতার চাহিদা, বাজারের সম্ভাবনা, প্রতিযোগিতা, ব্যবসায়িক মডেল, বিপণন, পরিচালনা, আর্থিক সম্ভাব্যতা ও ঝুঁকিসহ বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করেন।

চৌধুরী খুবাইব বিন করিম বলেন, তাঁদের একাডেমিক যাত্রা শুধু একটি ধারণা তৈরিতে সাহায্য করেনি; বরং সেই ধারণাকে কীভাবে বাস্তবায়ন করে একটি ব্যবসায় রূপ দেওয়া যায়, সেই পথও তৈরি করেছে।

পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা থেকে পাওয়া পরামর্শ ও মতামত কাজে লাগিয়ে উদ্যোগটিকে আরও পরিণত করেন তাঁরা। দ্য আর্থ সোসাইটি ও নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের সহায়তায় গ্রিন ভয়েস মাস্টার বুটক্যাম্প থেকে এক লাখ টাকা তহবিল পাওয়ার পর শুরু হয় পণ্য তৈরির কাজ।

শীতলপাটি দিয়ে স্যান্ডেল, সহজ ছিল না পথ

শীতলপাটি থেকে স্যান্ডেল তৈরি করার কাজটি মোটেও সহজ ছিল না। শুরুতে বুনন, আকার, কাটিং, স্ট্র্যাপের অবস্থান এবং সোলের সঙ্গে পাটি যুক্ত করার পদ্ধতি নিয়ে একাধিক পরীক্ষা চালাতে হয়েছে।

শুধু সাধারণ শীতলপাটি কেটে স্যান্ডেল তৈরি করেননি তাঁরা। বরং স্যান্ডেল তৈরির উপযোগী বিশেষ ধরনের পাটি তৈরি করে সেটি ব্যবহার করেছেন।

খুবাইব বিন করিম জানান, শীতলপাটির সঠিক পরিমাপ, শেপ, ডিজাইন ও সাইজিং ঠিক করতেই সবচেয়ে বেশি সময় ও দক্ষতা প্রয়োজন হয়েছে। পাটির নিজস্ব বুনন ও টেক্সচার অক্ষুণ্ন রেখে সেটিকে পায়ের আকৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রথম তৈরি স্যান্ডেলটিই চূড়ান্ত হয়নি। ব্যবহারিক পরীক্ষা ও ক্রেতাদের মতামতের ভিত্তিতে কয়েক ধাপে পরিবর্তন এনে বর্তমান নকশায় পৌঁছেছেন তাঁরা।

বর্তমানে ৬৫০ টাকা দামে শীতলপাটির স্যান্ডেল বিক্রি করছে ‘বুনন বাজার’।

প্রতিযোগিতায়ও সাফল্য

পণ্য তৈরির পাশাপাশি বাজার যাচাইয়ের কাজও করছেন উদ্যোক্তারা। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হাল্ট প্রাইজ প্রতিযোগিতায় ‘বুনন বাজার’ প্রথম রানারআপ হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্টারপ্রেনিউরশিপ ডেভেলপমেন্ট ক্লাব আয়োজিত একটি প্রতিযোগিতায় সেরা আটে জায়গা করে নিয়েছেন তাঁরা। সেখানে আকিজ রিসোর্সেসের পৃষ্ঠপোষকতায় চার উদ্যোক্তাই ইন্টার্নশিপের সুযোগ পেয়েছেন।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারেও প্রদর্শিত হয়েছে তাঁদের উদ্যোগ, যেখানে প্রশংসা পেয়েছে ‘বুনন বাজার’।

এই যাত্রায় অর্থায়নের পাশাপাশি আর্থ সোসাইটির মেন্টরশিপ ও ব্যবসায়িক দিকনির্দেশনাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে জানান উদ্যোক্তারা।

স্যান্ডেলের পর আরও পণ্য

এখন তাঁদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পণ্যের মান বজায় রেখে উৎপাদন খরচ কমানো এবং আরও বেশি ক্রেতার কাছে পৌঁছানো।

তবে পরিকল্পনা শুধু স্যান্ডেলেই সীমাবদ্ধ রাখতে চান না তাঁরা। শীতলপাটি দিয়ে ভবিষ্যতে ব্যাগ, ঘর সাজানোর উপকরণসহ আরও নানা ধরনের পণ্য তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

এর পাশাপাশি আরও মানুষকে যুক্ত করে প্রশিক্ষিত কারিগরদের একটি দল এবং ক্লাস্টারভিত্তিক উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তুলতে চান চার তরুণ উদ্যোক্তা।

খুবাইব বিন করিমের কথায়, তাঁদের স্বপ্ন শুধু ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করা নয়; বরং নতুনভাবে সেই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখা।

শীতলপাটির মতো গ্রামীণ ঐতিহ্যকে আধুনিক জীবনযাপনের সঙ্গে যুক্ত করার এই উদ্যোগ তাই একদিকে যেমন নতুন পণ্যের সম্ভাবনা তৈরি করছে, অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী কারিগরি জ্ঞানকেও নতুন বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করছে।

কালের আলো/এসএ

পৈতৃক জমি একার নামে নয়, খতিয়ানে উঠবে সব ওয়ারিশ

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৯ অপরাহ্ণ
পৈতৃক জমি একার নামে নয়, খতিয়ানে উঠবে সব ওয়ারিশ

বাবা বা কোনো জমির মালিকের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি একজন ওয়ারিশের নামে এককভাবে নামজারি করার সুযোগ থাকছে না। একাধিক উত্তরাধিকারী থাকলে সবাইকে একই খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করে যৌথ নামজারি করতে হবে। কেউ নিজের অংশ আলাদা করে পৃথক খতিয়ান করতে চাইলে নিবন্ধিত বণ্টননামা করতে হবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর প্রজ্ঞাপনে আনা এই পরিবর্তন এখন কার্যকর হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় উত্তরাধিকার সম্পত্তির সরকারি রেকর্ডে প্রত্যেক ওয়ারিশের নাম ও প্রাপ্য হিস্যা উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা থাকছে। ফলে অন্য উত্তরাধিকারীকে বাদ দিয়ে গোপনে জমি নিজের নামে নেওয়ার সুযোগ আগের তুলনায় কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বণ্টননামা ছাড়াই যৌথ নামজারি
নতুন নিয়মের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, বণ্টননামা না থাকার কারণে যৌথ নামজারির আবেদন বাতিল করা যাবে না। ওয়ারিশ সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকলে সব উত্তরাধিকারীর নামে একই খতিয়ানে নামজারি করতে হবে। তবে উত্তরাধিকারীরা নিজেদের মধ্যে জমি ভাগ করে পৃথক মালিকানা প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে নিবন্ধিত বণ্টননামা বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ এখন ওয়ারিশি জমির ক্ষেত্রে দুটি ব্যবস্থা স্পষ্ট—যৌথ মালিকানা হলে যৌথ নামজারি, আর ভাগ করা মালিকানা হলে নিবন্ধিত বণ্টননামার ভিত্তিতে পৃথক নামজারি।আগে অনেক ক্ষেত্রে বণ্টননামা না থাকার কারণ দেখিয়ে যৌথ নামজারির আবেদনও প্রত্যাখ্যান করা হতো। নতুন নির্দেশনায় সেই জটিলতা দূর করার চেষ্টা করা হয়েছে।

নারী ও দুর্বল ওয়ারিশদের অধিকার সুরক্ষার সুযোগ
ওয়ারিশি জমি নিয়ে বিরোধ ভূমি-সংক্রান্ত মামলার অন্যতম কারণ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একজন ওয়ারিশ অন্যদের অজ্ঞাতে জমি নিজের নামে নামজারি করে নেন। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে শুরু হয় পারিবারিক বিরোধ, যা শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়াতে পারে।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ইশরাত হাসানের মতে, সব ওয়ারিশকে একই খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করার নিয়মে অন্যদের বাদ দেওয়ার সুযোগ কমবে। একই সঙ্গে বণ্টননামা না থাকার কারণে যৌথ নামজারি আটকে দেওয়ার প্রবণতাও বন্ধ হওয়ার কথা।বিশেষ করে নারী ও অপেক্ষাকৃত দুর্বল অবস্থানে থাকা ওয়ারিশদের জন্য এর গুরুত্ব রয়েছে। সরকারি রেকর্ডেই তাদের নাম ও হিস্যা থাকলে সম্পত্তির অধিকার গোপন বা অস্বীকার করা তুলনামূলক কঠিন হবে।

বাস্তবায়নেই বড় পরীক্ষা
অনলাইনে নামজারির আবেদন করা যায় এবং সাধারণত ২৮ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তির লক্ষ্য রয়েছে। তবে জমি নিয়ে বিরোধ, অসম্পূর্ণ কাগজপত্র বা তথ্য যাচাইয়ের জটিলতায় সময় বাড়তে পারে। উত্তরাধিকারসূত্রে নামজারির ক্ষেত্রে সাধারণত ওয়ারিশ সনদ, মৃত্যুসনদ, আগের খতিয়ান, দাগের তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং সংশ্লিষ্ট দলিল প্রয়োজন হয়। পরিবারের কোনো সদস্য বিদেশে থাকলে বা প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহে সমস্যা হলে যৌথ নামজারি জটিল হতে পারে।

পৃথক খতিয়ানের জন্য নিবন্ধিত বণ্টননামা বাধ্যতামূলক হওয়ায় সময় ও খরচও বাড়বে। ফলে নতুন বিধানের পাশাপাশি ভূমি অফিসের জনবল, যাচাই সক্ষমতা ও ডিজিটাল সেবা জোরদার করাও জরুরি। শেষ পর্যন্ত নতুন ব্যবস্থার সাফল্য নির্ভর করবে একটি বিষয়েই—প্রত্যেক প্রকৃত ওয়ারিশের নাম ও হিস্যা সরকারি রেকর্ডে কতটা নির্ভুলভাবে উঠে আসে। কারণ খতিয়ানে একটি নাম বাদ পড়া কখনো কখনো একটি পরিবারের দীর্ঘস্থায়ী বিরোধের সূত্রপাত ঘটাতে পারে।

কালের আলো/এম/এএইচ