খুঁজুন
                               
, ,
           

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নিয়ে ভারতীয় মিডিয়ার অপতথ্যের তাণ্ডবের অপরাজনীতি

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ মার্চ, ২০২৫, ১০:৪২ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নিয়ে ভারতীয় মিডিয়ার অপতথ্যের তাণ্ডবের অপরাজনীতি

প্রয়াত নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ’র ‘দীঘির জলে কার ছায়া গো’ উপন্যাসের নায়ক মুহিবের একটা বিশেষ দিবস আছে-মিথ্যা দিবস। সপ্তাহে এক দিন সে দিনটি পালন করে। ‘বুধবার হলো মুহিবের মিথ্যা দিবস। মিথ্যা দিবসে রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত সে মিথ্যা কথা বলে।’ ঠিক তেমনি দেশের প্রতিটি দুর্যোগে, সঙ্কটে ও দু:সময়ে অগ্রসর ও নিয়ামকের ভূমিকা পালন করা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নিয়ে অবলীলায় স্বরচিত মিথ্যা ছড়িয়ে দিচ্ছে ভারতীয় গণমাধ্যম। সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে তাদের অপতথ্যের তাণ্ডব। বাতাসের বেগে ছড়িয়ে পড়ছে তাদের ফেক নিউজ ও গুজব। দেশটির মূলধারার গণমাধ্যম থেকে শুরু করে অখ্যাত-কুখ্যাত ও নামসর্বস্ব গণমাধ্যমে চালানো হচ্ছে একের পর এক অসত্য প্রচারণা।

কতিপয় উপস্থাপকের বিকৃত লম্ফঝম্ফ, আক্রমণাত্মক ভঙ্গি ব্যবহার করে সংবাদ ও টকশোতে দেদারছে করা হচ্ছে বিষোদ্গার। তাদের মূলত টার্গেট বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর স্থিতিশীলতা ও উজ্জ্বল ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করা। কিন্তু রণাঙ্গনে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সময়ের পরিক্রমায় এখন অনেক বেশি দক্ষ, সুসংগঠিত ও দেশে-বিদেশে প্রশংসিত। আরও শক্তিশালী ও সৃদুঢ় হয়েছে বাহিনীটির চেইন অব কমান্ড। অথচ পড়শি দেশটির গণমাধ্যমসমূহের ভাবাদর্শ বা আইডিওলজিই বলছে তাঁরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নিয়ে মিথ্যা বলার এক অপ্রতিরোধ্য তাড়না অনুভব করছে প্রতিনিয়ত। এর মাধ্যমে তাঁরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে হেয় করার অপকৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের বিকৃত রুচি ও মনস্তাত্ত্বিক দীনতার বহি:প্রকাশ ঘটিয়ে চলেছে প্রতিনিয়ত।

ভারতীয় গণমাধ্যমের গোয়েবলসীয় এমন মিথ্যার সর্বশেষ উদাহরণ হচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেতর অভ্যুত্থান ও চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়া শীর্ষক বানোয়াট, ভিত্তিহীন, কল্পিত ও ভুয়া সংবাদ। তিন বাহিনীর মুখপাত্র আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) মঙ্গলবার (১১ মার্চ) রাতে এই নির্লজ্জ মিথ্যাচারের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। প্রতিবাদ লিপিতে আইএসপিআর বলেছে, ‘দ্য ইকোনোমিক টাইমস এবং দ্য ইন্ডিয়া টুডেসহ কিছু ভারতীয় মিডিয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়ে যে সংবাদ প্রকাশ করেছে সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর স্থিতিশীলতা এবং সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশে ইচ্ছাকৃত এসব বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে।’ তাঁরা বলছে, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জাতির সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা এবং নিরাপত্তা রক্ষার প্রতিশ্রুতিতে অটল রয়েছে। আমরা সকল সংবাদমাধ্যমকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার এবং অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে এমন মিথ্যা তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’

ভারতীয় গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক এই প্রবণতাকে অনেকেই সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কাকাবাবু সিরিজের বইয়ে জোজো চরিত্রটির সঙ্গে তুলনা করেছেন। ডাহা মিথ্যা আর বানিয়ে কথা বলার প্রবণতার মাধ্যমে ভারতীয় গণমাধ্যম সত্যের প্রতি সাংবাদিকতার প্রথম বাধ্যবাধকতা বা দায়িত্বের বিষয়টিও যেন ইচ্ছাকৃতভাবেই ভুলতে বসেছে। চোখে চোখ রেখে নির্দ্বিধায় মিথ্যা বলছে। নির্জলা মিথ্যাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে দেশের মানুষ। দিল্লির গণমাধ্যমগুলোর অবন্ধুসুলভ, অকূটনৈতিক এবং অভব্য অশোভন আচরণ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। মিথ্যা তথ্য এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্র বাহিনীর বিশ্বপরিমণ্ডলে আলোকোজ্জ্বল ভাবমূর্তি নষ্ট করতে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে। ফ্যাক্ট চেক প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানারের অনুসন্ধানে বারবার এমন ভুয়া ও গুজবের বিষয়টি ওঠে এলেও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ থেকে সরে আসেনি ভারতীয় মিডিয়া। রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধান বলছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সেনা অভ্যুত্থান সংক্রান্ত দাবিটি সঠিক নয় বরং প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং পরে ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রচার হওয়া আলোচিত দাবিটি সম্পূর্ণ ভুয়া।

‘মিথ্যারাজ’ ভারতীয় গণমাধ্যম; শক্তিশালী চেইন অব কমান্ডে চাঙ্গা প্রতিটি সেনা সদস্যের মনোবল
মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা প্রোপাগান্ডার ইতিহাস মানুষের সভ্যতার সমান বয়সী। এই প্রোপাগান্ডা চলত সত্যকে সরিয়ে রেখে মিথ্যাকে সামনে নিয়ে আসে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ভারতীয় মূলধারার গণমাধ্যমও আগ্রাসী মনোভাবের পরিচয় দিয়েছে। স্বভাবতই এক্ষেত্রে তাঁরা ‘মিথ্যারাজ’ এর স্বীকৃতি পেতেই পারেন। তাদের গণমাধ্যমসমূহের কাণ্ডকীর্তি দেখে স্পষ্টতই বুঝা যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিষয়ে তাদের ন্যূনতম অভিজ্ঞতা বা বিস্তারিত কোন অনুসন্ধান নেই। চিল আদৌ কান নিয়েছে কি না, কান যথাস্থানে বহাল তবিয়তে আছে কি না, তার খোঁজ না নিয়ে ঊর্ধ্বশ্বাসে চিলের পিছু পিছু দৌড় শুরু করেছে। তাদের মন-মানসিকতা অমার্জিত রুচিহীন। অপতথ্যের একটি সংস্কৃতি গড়ে তুলতে অকাতরে মিথ্যা ও কপটাচার চালাচ্ছে। সন্দেহ-সংশয় উসকে দিতে, বিভাজন বাড়াতে, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত করতে এবং সমাজে অবিশ্বাসের বীজ বপন করতে যারপরেনাই তাঁরা অপতথ্য ছড়াচ্ছে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জাতির গর্ব ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। মুক্তিযুদ্ধের সময় সেনাবাহিনীর সদস্যরা যেমন দেশমাতৃকাকে স্বাধীন করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তেমনি ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আগে-পরে জাতির চরম সংকটের সময়েও জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। দেশের ক্রান্তিকালে দেশের প্রয়োজনেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে সেনা-জনতার শক্ত সেতুবন্ধ রচিত হয়েছে। একটি আধুনিক, পেশাদার, শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান গণতন্ত্রের সহায়ক শক্তি হিসেবে ত্রাণকর্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তিনি রক্ত বন্যার হাত থেকে দেশকে রক্ষা করেছেন। তিনি কথা দিয়েছিলেন ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা জনগণের স্বার্থে এবং রাষ্ট্রের প্রয়োজনের পাশে দাঁড়াবে’। আক্ষরিক অর্থেই নিজের কথা রেখেছেন সেনাপ্রধান।

দেশের কঠিন পরিস্থিতিতে ম্যাজিস্ট্রেসি সক্ষমতা নিয়ে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী জননিরাপত্তা, অরাজকতা প্রতিরোধ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের কারসাজি রুখে দেয়া, পোশাক শিল্প সচল রাখা, রাষ্ট্রের কেপিআই এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনাগুলোকে রক্ষা, সড়ক-মহাসড়ক বাধামুক্ত রাখা, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার, বিদেশি কুটনীতিক ব্যক্তি ও দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ নানাবিধ কাজ সমানতালেই করে চলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়েও এর আগে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, বাংলাদেশে জনগণের ওপর দমন-পীড়নকে রোধ করতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা একটি ইতিবাচক ঘটনা। জাতির পরম আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী চলমান দেশ গঠনেও নিরবচ্ছিন্ন ভূমিকার একটি বাস্তবিক দৃশ্যায়ন ঘটিয়েছে নীরবে-নিভৃতে’ কোন হাঁকডাক না মেরে। দেশের মতো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিষ্ঠা এবং সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে লাল-সবুজের পতাকাকে বিশ্বের বুকে সমুন্নত রেখেছেন। বিশ্বমানবতার সেবায় নীল হেলমেট মাথায় নিয়ে পেশাগত দক্ষতা, অঙ্গীকার, নিরপেক্ষতা, সততা ও মানবিকতায় স্থাপন করেছেন অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

‘শান্তির প্রশ্নে উন্নত মমশীর’ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এর দক্ষ, বিচক্ষণ ও কুশলী নেতৃত্বে আরও শক্তিশালী হওয়ায় রীতিমতো অপরাজনীতির আশ্রয় নিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম। তাঁরা প্রচার করছে-‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয়েছে। আর এই চেষ্টায় না কী জড়িত লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফয়জুর রহমানসহ ১১ জন সেনা কর্মকর্তা!’ বিবেকবান ও সচেতন মানুষ মাত্রই উপলব্ধি করবেন গুজবের মহামারিতে সয়লাবের নেহায়েত এক অপচেষ্টার কসরত। দেশের গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা ভারতীয় গণমাধ্যমের এমন ভূমিকাকে ভন্ডামি ও কূপমণ্ডুক হিসেবেই দেখছেন। তাঁরা বলছেন, ‘প্রকৃত অর্থেই সাংবাদিকতা কেবল তথ্য-উপাত্ত ও ঘটনার বিবরণ সংগ্রহের পেশা নয়; এটির ভিত্তি হচ্ছে তথ্য যাচাই করাও। ইংরেজিতে যাকে বলে ভেরিফিকেশন, একে আমরা সত্য প্রতিপাদন বলে বর্ণনা করতে পারি। এটাই সাংবাদিকতাকে প্রোপাগাণ্ডা থেকে আলাদা করে বলে আমেরিকান প্রেস ইনস্টিটিউট মত দিলেও ভারতীয় গণমাধ্যম পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নিয়ে কুৎসা রটিয়ে কর্তৃত্ববাদীদের একটা বড় হাতিয়ার হিসেবে নিজেদের তুলে ধরেছে। তাদের এমন অপতথ্যের বিস্ফোরণ কোনমতেই দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যের মধ্যকার দৃঢ় বন্ধন আলগা করতে পারবে না। উল্টো দেশের সংকটময় সময়ে সীসা ঢালা প্রাচীরের ন্যায় তাঁরা ঐক্যবদ্ধ। সব অপপ্রচারকে প্রত্যাখ্যান করে আরও চাঙ্গা হয়ে ওঠেছে তাদের মনোবল। নিজ বাহিনীর ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে নিরলস পরিশ্রম এবং ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত প্রতিটি সেনা সদস্য।

মঙ্গলবার (১১ মার্চ) বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর জনসংযোগ শাখা আইএসপিআর এই বিষয়ে বলেছে, ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলছি যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, সেনাবাহিনী প্রধানের দক্ষ নেতৃত্বে শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ এবং সাংবিধানিক কর্তব্য পালনে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কমান্ড শক্তিশালী। সিনিয়র জেনারেলসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সকল সদস্য সংবিধান, চেইন অব কমান্ড এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি তাদের আনুগত্যের প্রতি অটল। অনৈক্য বা আনুগত্যহীনতার যে কোনো অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে বানোয়াট এবং বিদ্বেষপূর্ণ।’

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রোপাগাণ্ডার বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ‘বিশেষ করে উদ্বেগের বিষয় হলো, দ্য ইকোনমিক টাইমস বারবার এই ধরণের বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় লিপ্ত হয়েছে। এই সাম্প্রতিক প্রতিবেদন প্রকাশের মাত্র এক মাস আগে, গত ২৬ জানুয়ারি একই ধরণের মিথ্যা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। এই ধরনের আচরণ এই সংবাদমাধ্যমগুলোর উদ্দেশ্য এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করে। তদুপরি, বেশ কয়েকটি অনলাইন পোর্টাল এবং কয়েকটি অখ্যাত টেলিভিশন চ্যানেলও এই মিথ্যা প্রচারণা চালিয়েছে, যা বিভ্রান্তিকর প্রচারণাকে আরও তীব্র করে তুলেছে। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতি মেনে চলার পরিবর্তে, তারা ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরির হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে বলে মনে হচ্ছে।’

আইএসপিআর এর পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, ‘আমরা এই সংবাদমাধ্যমগুলোকে, বিশেষ করে ভারত বেইজড সংবাদমাধ্যমগুলোকে, ভালো সাংবাদিকতা অনুশীলন মেনে চলার এবং যাচাই না করা এবং চাঞ্চল্যকর গল্প প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। আশা করা হচ্ছে যে এই ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশের আগে তাদের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ (আইএসপিআর) থেকে মন্তব্য চাওয়া এবং যাচাই করা উচিত। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পর্কে সঠিক এবং অফিশিয়াল তথ্য দেওয়ার জন্য আইএসপিআর সব সময় অ্যাভেইলেবল রয়েছে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫২ পূর্বাহ্ণ
খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অধিবেশনের প্রথম প্লেনারি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন। আগামী এক বছর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সংস্থাটির প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও উপযোগী করে তুলতে গভীর সংস্কার প্রয়োজন।

মঙ্গলবার প্রথম প্লেনারি সভা শুরু হলেও আগামী ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে। এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

ইরান যুদ্ধের ছয় মাসেই জ্বালানি কিনতে গিয়ে মার্কিন ভোক্তাদের পকেট থেকে বেরিয়ে গেছে অতিরিক্ত প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়ে সাধারণ পরিবারের বাজেটে তৈরি হয়েছে বড় চাপ। দেশটির প্রায় ১৩ কোটি ১০ লাখ পরিবারের হিসাবে গড়ে প্রতিটি পরিবারের বাড়তি জ্বালানি ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৬৩ ডলার।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের তথ্যের বরাতে এই হিসাব সামনে এসেছে। এতে স্পষ্ট, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য বা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে সীমাবদ্ধ নেই; সরাসরি মার্কিন পরিবারের দৈনন্দিন খরচেও এর প্রভাব পড়ছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা পেট্রোলের দামে
মার্কিনিদের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে পেট্রোলের দামে। ছয় মাসের ব্যবধানে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম ২ দশমিক ৯৮ ডলার থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ১৫ ডলারে উঠেছে। অর্থাৎ দাম বেড়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। ডিজেলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন। প্রতি গ্যালনের দাম ৩ দশমিক ৬৭ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৯০ ডলার—বৃদ্ধি ৬০ শতাংশেরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা বেশি হওয়ায় পেট্রোলের এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি পরিবারের ব্যয়ে প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের খরচে। ফলে একদিকে গাড়ি চালানোর খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে দোকানে পৌঁছানোর আগেই পণ্যের দাম বাড়ছে।

যুদ্ধ চলছে ছয় মাস
ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাত শুরুর সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধটি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছিলেন। বাস্তবে সেই সময়সীমা অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। সংঘাত এখন ষষ্ঠ মাসে প্রবেশ করেছে এবং দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও স্পষ্ট নয়। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে মার্কিনিদের দ্বিমত
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কেরও অংশ। যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন না থাকায় অনেক মার্কিনি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করছেন।তবে ট্রাম্প এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তেলের দাম বাড়ার বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব না দিয়ে বরং তেল কোম্পানিগুলোর ওপর দায় চাপিয়েছেন। ফলে যুদ্ধের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের খরচ শেষ পর্যন্ত কে বহন করছে—সরকার, তেল কোম্পানি নাকি সাধারণ মানুষ—এই প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।

খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এর প্রভাব শুধু গাড়ির জ্বালানিতে আটকে থাকে না। কৃষিতে ট্রাক্টর চালানো, খাদ্য পরিবহন, পণ্য সংরক্ষণ, শীতলীকরণ থেকে শুরু করে প্লাস্টিকের প্যাকেজিং—প্রায় প্রতিটি ধাপেই তেল ও গ্যাসের ব্যবহার রয়েছে।ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়ে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ে ভোক্তার বাজারে। মার্কিন পরিবার একদিকে গাড়ির ট্যাংক ভরতে বেশি টাকা দিচ্ছে, অন্যদিকে একই জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে খাবার ও অন্যান্য পণ্য কিনতেও বাড়তি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। বিশ্বের নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য ঝুঁকি আরও বড়। তেল ও সার আমদানির ব্যয় বেড়ে গেলে কৃষি উৎপাদনের খরচ বাড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্য সরবরাহ ও খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সামনে আরও চাপের শঙ্কা
জ্বালানি বাজারের এই চাপের মধ্যেই ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত জোন’ তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, এ এলাকার জন্য নতুন মানচিত্র দেওয়া হবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে সেটি অনুসরণ করতে হবে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, মার্কিন অবরোধ ও হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেবে না ইরান। নতুন নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে দেশটি। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিনিদের জন্য জ্বালানি বিলের চাপ আরও বাড়তে পারে। আর হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়লে তার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববাজারেও পড়বে। ফলে ইরান যুদ্ধ এখন শুধু ভূরাজনৈতিক সংঘাত নয়—সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া এক বড় অর্থনৈতিক সংকটেও রূপ নিচ্ছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

জাতিসংঘ সংস্কারে গভীর পরিবর্তনের প্রয়োজন: খলিলুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৬ পূর্বাহ্ণ
জাতিসংঘ সংস্কারে গভীর পরিবর্তনের প্রয়োজন: খলিলুর রহমান

জাতিসংঘের সংস্কারকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় জাতিসংঘকে কার্যকর ও আস্থাশীল রাখতে গভীর ও অর্থবহ সংস্কার প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমানে জাতিসংঘের প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে। শুধু বর্তমান সময়ের জন্য নয়, ভবিষ্যতের উপযোগী করে তুলতে হলে সংস্থাটিতে গভীর সংস্কার করতে হবে। সংস্কার যেন কেবল নামমাত্র না হয়, বরং সাধারণ মানুষের কাছে জাতিসংঘের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখে—সেদিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘এটি ১৯৪৫ সাল নয়। আমরা এখন একবিংশ শতাব্দীতে আছি। বিশ্ব এগিয়ে গেছে, তাই জাতিসংঘকেও এগিয়ে যেতে হবে।’

জাতিসংঘ মহাসচিবের সংস্কার প্রক্রিয়াকে সমর্থন করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, একজন প্রতিনিধি ও কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই সংস্থাকে কাছ থেকে দেখেছেন। তাই সংস্কারগুলো অবশ্যই অর্থবহ হওয়া প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে খলিলুর রহমান বলেন, নিজ বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত বিশাল জনগোষ্ঠীর আকুতি তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। ভবিষ্যতেও জাতিসংঘের সামনে রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার কাজ অব্যাহত রাখবেন তিনি।

সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে কোনো দেশ তাকে ভোট দিয়েছে কি না, সেটি তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি সব দেশের জন্য একজন সভাপতি হিসেবে কাজ করতে চান।

এ সময় বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতি ও প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে খলিলুর রহমান জানান, তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই তাকে এই পদমর্যাদা ও দায়িত্বের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রশ্ন করার আহ্বান জানান তিনি।

শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তার দরজা সবসময় খোলা থাকবে এবং সবার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে চান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি