খুঁজুন
                               
, ,
           

চৈত্র সংক্রান্তি ও মৎস্য উপদেষ্টাকে ব্যক্তিগত আক্রমণের নেপথ্যে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৫, ৩:৩৮ পূর্বাহ্ণ
চৈত্র সংক্রান্তি ও মৎস্য উপদেষ্টাকে ব্যক্তিগত আক্রমণের নেপথ্যে

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

বাংলা বছরের শেষ দিন, অর্থাৎ চৈত্র মাসের শেষ দিনকে বলা হয় চৈত্র সংক্রান্তি। বছরের শেষ দিন হিসেবে পুরাতনকে বিদায় ও নতুন বর্ষকে বরণ করার জন্য প্রতিবছর চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে থাকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান-উৎসবের আয়োজন। আবহমান বাংলার চিরায়িত বিভিন্ন ঐতিহ্যকে ধারণ করে আসছে এই চৈত্র সংক্রান্তি। চলতি বছর প্রথমবারের মতো চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখ একত্রে উদযাপন করেছে সরকার। অন্তর্বর্তী সরকার এক্ষেত্রে রীতিমতো এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এই প্রসঙ্গেই গত রোববার (১৩ এপ্রিল) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে দুইদিনব্যাপী চৈত্র সংক্রান্তি ও বৈশাখ উদযাপন অনুষ্ঠানে নারী ও চৈত্র সংক্রান্তি আলোচনায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বাঙালির অন্যতম বড় অসাম্প্রদায়িক এই উৎসব যে প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষার শিক্ষা দেয় এমনটি উচ্চারণ করেছিলেন বেশ গুরুত্বের সঙ্গে।

সেদিন তিনি বলেছিলেন, ‘এই প্রথম বাংলাদেশে সরকারিভাবে চৈত্র সংক্রান্তি এবং পহেলা বৈশাখ একত্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যার ফলে দেশের সংস্কৃতিতে আমরা শুধু এতদিন পহেলা বৈশাখ উদযাপন করে আসছিলাম তার একটি পরিবর্তন আসলো; কারণ এটাই আমাদের আসল সংস্কৃতি।’ কিন্তু মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতারের এই বক্তব্যকে ভিন্নখাতে প্রবাহের জোর অপতৎপরতা শুরু হয়েছে। উপদেষ্টাকে বিতর্কিত করতে ব্যক্তিগত আক্রমণ পর্যন্ত করা হচ্ছে। দুরভিসন্ধি থেকেই বিষয়টিকে ধর্মীয় মোড়ক দেওয়ার কসরত দৃশ্যমান হয়েছে।

অথচ উপদেষ্টা চৈত্রসংক্রান্তির এই কথাটি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের দৃষ্টিকোণ থেকে বলেছেন। তিনি কোনও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের দৃষ্টিকোণ থেকে এমনটি বলেননি। পাশাপাশি দেশের গ্রামাঞ্চলের মুসলমানরাও এটি অনুসরণ করে আসছেন আবহমানকাল থেকেই। কিন্তু কথার কৌশলে পুরো বিষয়টিকে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপনের মাধ্যমে সুযোগ সন্ধানীরা পরিকল্পিতভাবে তাকে ঘিরে বিদ্বেষ ছড়ানোর পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, চৈত্র থেকে বর্ষার প্রারম্ভ পর্যন্ত সূর্যের যখন প্রচণ্ড উত্তাপ থাকে তখন সূর্যের তেজ প্রশমন ও বৃষ্টি লাভের আশায় কৃষিজীবী সমাজ বহু অতীতে চৈত্র সংক্রান্তির উদ্ভাবন করেছিল। কথিত আছে চৈত্র সংক্রান্তিকে অনুসরণ করেই পহেলা বৈশাখ উদযাপনের এত আয়োজন। তাই চৈত্র সংক্রান্তি হচ্ছে বাঙালির আরেক বড় উৎসব। নারী ও চৈত্র সংক্রান্তি আলোচনায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বিষমুক্ত শাক সবজি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যা দরিদ্র মানুষের পুষ্টির অন্যতম উৎস। চৈত্র সংক্রান্তি পালন করতে গিয়ে শাকসবজি খুঁজতে যেন আমাদের বেগ পেতে না হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই উৎসবের দিন সাধারণত বিভিন্ন পদের শাকসবজি দিয়ে তরকারি তৈরি করার প্রচলন আছে। এদিন কোনো প্রকার আমিষ খাওয়া হয় না। গ্রাম বাংলার যতো ধরনের আয়োজন ও বৈচিত্র্য সংস্কৃতি তা এই চৈত্র সংক্রান্তিতে দেখা যায়।’ চৈত্র সংক্রান্তির ঐতিহ্যবাহী ১৪ রকমের শাকের কথা উল্লেখ করে ফরিদা আখতার বলেন, ‘এই শাক বর্তমানে আর বিশুদ্ধভাবে পাওয়া যায় না। আজকাল পরিবেশ দূষণের কারণে এবং নানা আধুনিক কৃষিতে কীটনাশক ও আগাছানাশক ব্যবহারের কারণে আমরা শাক পেলেও তা ব্যবহার উপযোগী নয়। কারণ সেটা বিষাক্ত হয়ে যায়। আমরা যদি পরিবেশটাকে বিষমুক্ত করতে পারি তাহলে শাকগুলোকে আমরা সবাই খেতে পারবো।’

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যের পুরোটাজুড়েই চৈত্র সংক্রান্তিতে প্রকৃতি রক্ষার জ্ঞান ও কৃষির ভুল সংশোধনের চর্চাকেই প্রকারান্তরে মুখ্য করে তুলেছেন। প্রকৃতিকে সদা সর্বদা নতুন রাখাই সবার কর্তব্য এটিও তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন কোন ধরনের গাছ-গাছালি বা কোন জাত বা প্রজাতির অভাব ঘটছে, কৃষক নারী সেটা বুঝতে পারেন চৈত্র সংক্রান্তিতে। প্রকৃতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ চৌদ্দ রকমের শাক কুড়িয়ে এনে খাওয়া গ্রামীণ নারীর জ্ঞান ও স্বরূপকেও তিনি মোটা দাগে উদ্ভাসিত করেছেন। কিন্তু অনেকেই বুঝে না বুঝে কারণে-অকারণে অহেতুক বিতর্ক তৈরির মাধ্যমে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। যদিও ওই চক্রটির জ্ঞান পাপী হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় হালে পানি পাচ্ছেন না মোটেও।

দেখা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে মৎস্য উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবং তাঁর স্বামী কবি ও রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মজহারকে নিয়ে অপতথ্যের তাণ্ডব চালানো হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে তথ্য ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পূর্ণ মূল্য দিচ্ছেন। অতীতের যা কিছু স্বৈরতন্ত্রের ত্রাসে চাপা পড়েছিল এবং ফ্যাসিবাদের তাণ্ডবে রক্তাক্ত হয়েছিল, সেসব তথ্য ও সত্য ক্রমেই উন্মোচিত হচ্ছে। কিন্তু এই সুযোগে ক্ষেত্র বিশেষে আবার প্রতিহিংসাও চরিতার্থ হচ্ছে। অবাধে ছড়ানো হচ্ছে ভুল বা অপতথ্য। গুজবকে সত্য বা তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করছে মতলববাজ গোষ্ঠী। উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার ও তার স্বামী ফরহাদ মজহারকে নিয়ে চরম বিভ্রান্তিকর, বিপদজনক ও ক্ষতিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। যা প্রতিনিয়ত তাদের সম্মানহানি করছে। এটিকে তথ্য ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও চরম বাড়াবাড়ি বলছেন বিশ্লেষকরা। তবে তারা এসব মিথ্যাচারকে পাত্তা না দিয়ে ঘৃণাভরেই প্রত্যাখ্যান করেছেন।

কালের আলো/আরআই/এমকে

মহাসড়কে এআইয়ের অটো-ফাইন, ২৪ ঘণ্টায় ৪৪৬ জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৩:১০ অপরাহ্ণ
মহাসড়কে এআইয়ের অটো-ফাইন, ২৪ ঘণ্টায় ৪৪৬ জরিমানা

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সড়ক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে চালু হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো-ফাইন সিস্টেম’। চালুর পর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় ৪৪৬টি প্রসিকিউশন দেওয়া হয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশনস) মুনতাসিরুল ইসলাম বুধবার (১৯ আগস্ট) এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অটো-ফাইন সিস্টেমের উদ্বোধন করেন। এরপর থেকেই সিস্টেমটির কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ৪৪৬টি প্রসিকিউশন দেওয়া হয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাসড়কে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো ও উল্টো পথে চলাচলের মতো ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করা হচ্ছে। এরপর ক্যামেরার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট গাড়ির নম্বর শনাক্ত করে মালিকের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে জরিমানার তথ্য পাঠানো হচ্ছে।

নতুন এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা মহাসড়কে ট্রাফিক আইন মানতে চালকদের আরও সতর্ক করবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

যুদ্ধের মধ্যেই ইউক্রেনে নির্বাচন চান সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফেদোরভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪২ অপরাহ্ণ
যুদ্ধের মধ্যেই ইউক্রেনে নির্বাচন চান সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফেদোরভ

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চলমান থাকলেও ইউক্রেনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ। তাঁর এই দাবিকে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নেতৃত্বের জন্য রুশ আগ্রাসন শুরুর পর অন্যতম বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার ইউটিউবে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ৩৫ বছর বয়সী ফেদোরভ বলেন, ‘রাশিয়ার হাতে আমাদের গণতন্ত্রকে জিম্মি করে রাখা যায় না।’ তাঁর মতে, ইউক্রেন যে স্বাধীন ইউরোপীয় রাষ্ট্র হিসেবে থাকতে চায়, যুদ্ধের অন্যতম কারণ সেটিই।

২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেনে সামরিক আইন জারি রয়েছে। দেশটির আইনে সামরিক আইন চলাকালে নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ নেই। জেলেনস্কির পাঁচ বছরের প্রেসিডেন্ট মেয়াদও ২০২৪ সালের মে মাসে শেষ হয়েছে। তবে সামরিক আইন বহাল থাকায় নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।

ফেদোরভ তাঁর ভিডিওতে সরাসরি জেলেনস্কির নাম উল্লেখ করেননি। তবে তিনি ইউক্রেনকে ‘শাসনব্যবস্থার একটি পদ্ধতিগত সংকটের’ মুখোমুখি বলে মন্তব্য করেন এবং বলেন, দেশটি পরিবর্তনকে ভয় পাচ্ছে।

তিনি যুদ্ধের মধ্যেও নির্বাচন আয়োজনের জন্য একটি ‘আইনসম্মত, নিরাপদ ও বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা’ তৈরির আহ্বান জানান, যাতে ইউক্রেন পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ফিরতে পারে।

তবে ফেদোরভ নিজের কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনার কথা জানাননি।

গত মাসে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় অপ্রত্যাশিতভাবে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় ফেদোরভকে। তাঁর অপসারণের পেছনে সেনাবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ ওলেক্সান্দর সিরস্কির সঙ্গে মতবিরোধকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়।

ফেদোরভকে সরকারের অন্য পদে যাওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে সামরিক উদ্ভাবনবিষয়ক উপপ্রধানমন্ত্রীর পদও ছিল। তবে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবেই ফিরতে চান বলে জানিয়েছিলেন।

ফেদোরভকে সরানোর পর তাঁর সমর্থনে ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভও হয়। এর কয়েক দিনের মধ্যে সিরস্কিকেও তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হওয়ার আগে ইউক্রেনের ডিজিটাল রূপান্তরবিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন ফেদোরভ। রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের শুরুর দিকে তিনি ‘আইটি আর্মি অব ইউক্রেন’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ গড়ে তোলেন।

পরবর্তীতে ‘আর্মি অব ড্রোনস’ কর্মসূচির মাধ্যমে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর জন্য তহবিল সংগ্রহেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী থাকাকালে ড্রোন, প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধব্যবস্থা এবং সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহে বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি।

এমনকি রাশিয়ার ড্রোন হামলায় স্টারলিংক স্যাটেলাইট ব্যবহারের অভিযোগের পর স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্কের কাছেও ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন ফেদোরভ।

ফেদোরভের নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান ইউক্রেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি সংসদ নির্বাচনও সামরিক আইন চলাকালে আয়োজন করা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।

রুশ হামলার ঝুঁকি, বাস্তুচ্যুত লাখো ভোটার এবং বিদেশে থাকা ইউক্রেনীয় নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাসহ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নানা বিষয় নির্বাচন আয়োজনকে জটিল করে তুলতে পারে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে যুদ্ধকে নির্বাচনের পথে বাধা হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছিলেন। জেলেনস্কি তখন জানিয়েছিলেন, মিত্ররা নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলে ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের জন্য ইউক্রেন প্রস্তুত।

এদিকে ফেদোরভের নির্বাচনের দাবির মধ্যেই ইউক্রেনে রুশ হামলা ও পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে মঙ্গলবারের রুশ হামলায় ইউক্রেনে ১৭ জন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

ফলে যুদ্ধের মধ্যেই ফেদোরভের নির্বাচন দাবির বিষয়টি এখন ইউক্রেনের গণতন্ত্র, নিরাপত্তা ও জেলেনস্কির নেতৃত্ব নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

কালের আলো/এসএ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে এবার আপিল বিভাগে আবেদন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩০ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন স্থগিত চেয়ে এবার আপিল বিভাগে আবেদন

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে করা রিট আবেদন হাইকোর্টে খারিজ হওয়ার পর এবার আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) আবেদনকারী আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদন করার কথা জানান।

এর আগে গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটটি খারিজ করে আদেশ দেন।

গত ১৩ আগস্ট জনস্বার্থে এই রিটটি দায়ের করেছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। আদালতে রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী ও আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব।

রিটকারী আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দের দাবি, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন না, যা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে ব্যাহত করে। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হয়ে যায়।

এদিকে পূর্বনির্ধারিত তফসিল অনুযায়ী, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

১৯৯১ সালের পর এবারই প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এবারের নির্বাচনে রাষ্ট্রপতি পদে লড়ছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, এই নির্বাচনে ভোটার হিসেবে ভোট দেবেন জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য। চট্টগ্রাম-৪ আসনটি বর্তমানে শূন্য থাকায় ভোটার সংখ্যা একজন কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪৯-এ।

ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, ব্যালট পেপারে প্রার্থীদের নাম থাকবে। সংসদ সদস্যরা পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে স্বাক্ষর করে ব্যালট নির্ধারিত বাক্সে জমা দেবেন।

ভোটগ্রহণ শেষে সংসদ কক্ষেই ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা করা হবে। ভোটগ্রহণের শুরুর অংশ সরাসরি সম্প্রচার করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর পদটি শূন্য হয়।

পরবর্তীতে ২০ আগস্ট ভোটের তারিখ নির্ধারণ করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ