খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

ভবেশ চন্দ্রের মৃত্যু নিয়ে ভারতীয় ‘গদি মিডিয়ার’ অপতথ্যের প্রচারে ঘৃণা-ক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৫, ১১:১৬ অপরাহ্ণ
ভবেশ চন্দ্রের মৃত্যু নিয়ে ভারতীয় ‘গদি মিডিয়ার’ অপতথ্যের প্রচারে ঘৃণা-ক্ষোভ

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

দিনাজপুরের বিরলে পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি ভবেশ চন্দ্র রায়ের (৫৫) মৃত্যু নিয়ে ফের অপতথ্য ছড়াচ্ছে ভারতীয় গণমাধ্যম। অসুস্থতাজনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হলেও ভারতীয় ‘গদি মিডিয়া’ বিষয়টিকে প্রচার করেছে ‘সংখ্যালঘু বা হিন্দু হত্যা’। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, এপিবিএন, এনডিটিভি, দ্য হিন্দু, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ফাইনেন্সিয়াল এক্সপ্রেস অপহরণ করে নির্মমভাবে নির্যাতন করে খুনের যে অপপ্রচার চালাচ্ছে সেটিকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। অন্তর্বর্তী সরকার সকল ধর্মের নাগরিকদের সমান অধিকার নিশ্চিত করে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ভবেশ চন্দ্র রায়ের মৃত্যুর ঘটনায় ভারত সরকারের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেন।

ময়নাতদন্ত রিপোর্টে শরীরে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তবুও মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে ভিসেরা বিশ্লেষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়ার পর উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ এদিকে, বাংলাদেশে সকল পক্ষের সম্মিলিত শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে অস্থিতিশীল করে তুলতে ভারতীয় মিডিয়ার যথেচ্চারের বিরুদ্ধে সরব দেশের মানুষ। মিথ্যা ভাষ্য ও বিকৃত তথ্য প্রচার করে তাঁরা পুনরায় অযৌক্তিক ও অপেশাদার আচরণের পরিচয় দিয়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পর্যবেক্ষক মহল বলছেন, সত্যের সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থানে বারবার নিজেদের জাহির করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম।’

অপরদিকে, বাংলাদেশের প্রথম সারির ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার ভবেশকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে নিজেদের প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে সরে এসেছে। তাঁরা নিউজটি প্রত্যাহার করে দু:খ প্রকাশ করেছে। এই বিষয়টিকে হত্যা বলতে নারাজ নিহতের পরিবারের সদস্যরাও। তবে অব্যাহতভাবে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রোপাগাণ্ডা ছড়িয়ে ভারতীয় মিডিয়ার সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানোর পাঁয়তারা করছে বলেও দেশের বিভিন্ন পরিমণ্ডল থেকে অভিযোগ উঠেছে।

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ভারতীয় গণমাধ্যমের সাম্প্রদায়িক অপতথ্য প্রচারের বিষয়টি বাড়বাড়ন্ত হয়ে ওঠে। মার্চে এমন ২৬টি সাম্প্রদায়িক অপতথ্য শনাক্ত করে রিউমর স্ক্যানার। এর মধ্যে অর্ধেক ঘটনাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয় অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে অপতথ্য প্রচারের প্রমাণ পাওয়া যায়। এই মাসের শুরুতে রিউমর স্ক্যানার তাদের ওয়েব সাইটে এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানায়।

অপপ্রচারের বিপরীতে ভবেশের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ
নিহত ভবেশ চন্দ্র রায় বিরল উপজেলার শহরগ্রাম ইউপির বাসুদেবপুর গ্রামের মৃত তারকানন্দ রায়ের ছেলে। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন। তাঁর পারিবারিক সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার দিকে ভবেশ চন্দ্র রায়ের মোবাইলে একটি ফোন আসে। এরপর তিনি বাড়িতে আছেন জানালে কিছুক্ষণ পর দুটি মোটরসাইকেলে তাঁর চারজন বন্ধু এসে তাকে নিয়ে যায়। তবে এ সময় তাকে কোনও জোরজবরদস্তি করা হয়নি। স্বেচ্ছায় মোটরসাইকেলে করে তাদের সঙ্গে গেছেন তিনি। রাত ১০টার দিকে মোবাইল ফোনে পরিবারকে জানানো হয় পান-বিড়ি খাওয়ার পর ভবেশ চন্দ্র রায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে একটি ভ্যানযোগে বাড়ির পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়ী হাটে পাঠানো হয়েছে। পরে পরিবারের সদস্যরা ফুলবাড়ি হাটে গিয়ে ভবেশ চন্দ্র রায়কে অচেতন অবস্থায় পান।

ভবেশ চন্দ্র রায়কে যখন অসুস্থ অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয় তখন স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসক কৃষ্ণ কান্ত তার বিপি মাপেন। কৃষ্ণ কান্ত রায় জানান, অসুস্থতার সময় তার চোখ-মুখ বন্ধ ছিল, মুখে বমি ছিল। মাপা হলে তার রক্তচাপ ছিল উপরে ৭০ এবং নিচে নীল। পরে তিনি ভবেশ চন্দ্র রায়কে মেডিক্যাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভবেশ চন্দ্র রায়কে মৃত ঘোষণা করেন। রাতেই পুলিশ নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে।

শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে ভবেশ চন্দ্র রায়ের মরদেহ দাহ্য করা হয়। রবিবার (২০ এপ্রিল) ছিল তাঁর শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান। তবে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা কিংবা অপমৃত্যু মামলা দায়ের করার বিষয়ে এখনও কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি তাঁর পরিবার।

নিহতের ছেলে স্বপন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, তার বাবাকে চার বন্ধু এসে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে গেছে। পরে রাতে মোবাইলে জানানো হয় যে তার বাবা অসুস্থ। পরে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। পারিবারিকভাবে আলোচনা করে কী করা যায় সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। তবে তাঁর বাবাকে হত্যার যে খবর ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে সেই সংক্রান্ত কোন তথ্য-প্রমাণ তাদের হাতে নেই। কোন তথ্য-প্রমাণ ছাড়া তিনি এটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে চালিয়ে দিতে আপত্তি প্রকাশ করেন। একই রকম তথ্য জানান ভবেশের স্ত্রী সান্ত্বনা রাণীও।

স্থানীয় নাড়াবাড়ি বাজারের দুধ হাটিতে চায়ের দোকান করেন অহিদুল। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে তাঁর দোকানে রতন, আতিক, রুবেল, মান্না ও ভবেশ চন্দ্র একসঙ্গে চা পান করেন। এ সময় তাঁরা বেশ স্বাভাবিক ছিল। এ সময় তাদের কাউকে শারীরিকভাবে অসুস্থ মনে হয়নি। চা খেয়ে পাশের দোকানে তাঁরা পান ও সিগারেট খায়। কিছুক্ষণ পর হাটখোলার একটি ঘরের খুঁটিতে হেলান দেন ভবেশ। পরে হয়তো মাথা ঘুরে যায় এবং সেখানে বসে পড়ে।

অহিদুলের পাশের পান-বিড়ির দোকানি মতিবর রহমান জানান, ভবেশ আমার দোকান থেকে পান খাওয়ার পর এক পর্যায়ে হাটখোলার একটি ঘরের খুঁটিতে হেলান দিয়ে বসে পড়েন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজন তাকে ধরাধরি করে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের দোকানে নিয়ে যায়। পল্লী চিকিৎসক তাঁর প্রেসার মাপেন। তিনি দেখেন তাঁর প্রেসার নীল হয়ে গেছে। পরে তাকে ভ্যান করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। পরে তাঁর পরিবার বিষয়টি থানা পুলিশকে জানায়।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, বন্ধুদের সঙ্গে অতিরিক্ত মদ্যপানেই ভবেশের মৃত্যু হতে পারে। গ্রামে এই ধরনের খবর ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সত্যাসত্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশের তদন্তে পুরো রহস্য উদঘাটিত হতে পারে।

এ বিষয়ে বিরল উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুবল চন্দ্র রায় জানান, ভবেশ চন্দ্র রায় বিরল উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার মৃত্যুর বিষয় নিয়ে পরিবার থেকে কোনও অভিযোগ দেওয়া হয়নি।

একই বিষয়ে রোববার (২০ এপ্রিল) দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফাত হুসাইনের সঙ্গে কথা বলে কালের আলো। তিনি ঘটনার সারসংক্ষেপ জানিয়ে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার দিকে প্রতিবেশী যুবক রতন, আখতারুল ইসলাম, রুবেল ইসলাম ও মুন্নার সঙ্গে দুটি মোটরসাইকেলে করে ভবেশ নাড়াবাড়ি হাটে যায়। তাদের মধ্যে বয়সের পার্থক্য থাকলেও তারা নিয়মিত একসঙ্গে আড্ডা দিতো। সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাজারে চা খেয়ে পান ও সিগারেট খায়। এরপর মাথা ঘুরে ভবেশ বসে পড়েন। খয়ের, চুন ও কাঁচা সুপারি দিয়ে পান খেয়েছিল। এ সময় দোকানের একটি খুঁটিতে হেলান দিয়ে বসে পড়েন। পরে সেখান থেকে ধরাধরি করে পল্লিচিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁর পরামর্শে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি
বিরল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সবুর জানান, এই ঘটনায় নিহতের পরিবারকে অভিযোগ দায়ের করতে বলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। আমরা ঘটনার রাতেই নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন করেছি। তবে তার শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন জন্য পাওয়া যায়নি। এরপর আমরা নিজ উদ্যোগেই নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্তের পদক্ষেপ গ্রহণ করি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসলে বিষয়টি স্পষ্ট করে জানা যাবে।’ সুরতহাল প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. গোলাম রব্বানী।

দিনাজপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মারুফাত হুসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এই নিহতের ঘটনায় কেউ কোন মামলা করতে আসেনি, অভিযোগও দেয়নি। ময়নাতদন্ত হয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আসলে বোঝা যাবে। আমাদের ওপরে কোনও চাপ নেই। সঠিক তথ্য যেটি আপনাদের জানালাম। যাদের সঙ্গে গিয়েছে তাদের সঙ্গে থাকা অবস্থাতেই সে অসুস্থ হয়েছে। এরপর তারাই চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেছে, পরিবারকে জানিয়েছে। এরপর গুরুতর অবস্থা হলে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। পরিবার অভিযোগ তুলেছে, এজন্য আমরা সুরতহাল প্রতিবেদন করেছি, ময়নাতদন্ত করেছি। আমরা তদন্ত অব্যাহত রেখেছি। যেহেতু তার মৃত্যু নিয়ে একটি বিষয় এসেছে। আমাদের কর্মকর্তারা এবং থানা পুলিশ তদন্ত করছে যে কোনও ঘটনা আছে না। কোনও ঘটনা থাকলে আমাদের কাছে আসবে এবং আমরা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে অন্য কোনও ঘটনার তথ্য নাই, তদন্তেও আসেনি। আমি থানাকে বলে রেখেছি, পরিবার যদি মামলা করতে চায় তাহলে মামলা করবে। যদি তদন্তে হত্যার ঘটনা থাকে তাহলে সেভাবেই তদন্ত করে হত্যাকারীদের বের করবো।’

ভারতীয় মিডিয়ার সংবাদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা বিব্রতকর। ভারত আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র। যদি কোনও ঘটনা ঘটে থাকে, ঘটনা যদি প্রকৃত না ঘটে থাকে সে বিষয়ে নিশ্চিত না হয়ে কোনও কিছু মিডিয়াতে বলা ঠিক না।’

ডেইলি স্টারের সংবাদ প্রত্যাহার
গত ১৮ এপ্রিল দিনাজপুরে অপহরণের পর হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাকে পিটিয়ে হত্যা’ শীর্ষক একটি খবর প্রকাশ করে দেশের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার। কিন্তু গত রোববার (২০ এপ্রিল) রাত ৮ টা ২৬ মিনিটে ‘দিনাজপুরে মৃত্যু নিয়ে সংবাদ প্রত্যাহার করলো ডেইলি স্টার’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়। বিবৃতিতে দ্য ডেইলি স্টার কর্তৃপক্ষ দু:খ প্রকাশ করে। যারা আগের ভুল সংবাদটির রেফারেন্সে এই সংক্রান্ত খবর প্রকাশ করছেন তাদেরকেও এটিকে রেফারেন্স হিসেবে গ্রহণ না করতেও অনুরোধ জানায় এই ইংরেজি দৈনিকটি।

কালের আলো/আরআই/এমকে

চারদিকে বস্তিবাসীর হাহাকার, আগুনের তাণ্ডবে পুড়ল কালশী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
চারদিকে বস্তিবাসীর হাহাকার, আগুনের তাণ্ডবে পুড়ল কালশী

চারদিকে শুধু ধোঁয়া আর আগুনের লেলিহান শিখা। কেউ ঘর থেকে মালামাল বের করতে ব্যস্ত, কেউ স্বজনকে খুঁজছেন কান্নাজড়িত চোখে। রাজধানীর কালশী বস্তিতে ভয়াবহ আগুনে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক ও হাহাকার।

সরু রাস্তা, পানির সংকট আর দাহ্য সামগ্রীর কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় ফায়ার সার্ভিসকে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় ১৫টি ইউনিটের ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

রাজধানীর কালশী বস্তির সেই ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে যখন প্রাণপণ লড়ছিলেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা, তখন তাদের পাশেই দাঁড়িয়েছিল সাধারণ মানুষ কাঁধে তুলে নিয়েছেন ভারী পানির পাইপ।

সোমবার (২৬ মে) পল্লবীর কালশী অগ্নি সম্বলিত বস্তিত এলাকায় আগুন নেভানোর সময় এমন চিত্র দেখা যায়।

ভয়াবহ এই আগুন নির্বাপণে ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিটের ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার, স্থানীয় জনগণ, ভলেন্টিয়ার, পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় নেভানো হয় এই আগুন।

এদিকে রাস্তাগুলো সরু হওয়া ও আসে পাশে পানির কোনো উৎস না থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসে সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার।

সোমবার (২৫ মে) রাতে রাজধানীর পল্লবী এলাকার কালশী বস্তিতে অগ্নি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন তিনি।

লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার বলেন, আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে আমাদের কন্ট্রোল রুম থেকে আমরা সংবাদ পাই কালশী বস্তিতে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। যেখানে প্রায় হাজার ১২০০ ঘর এবং ভাঙারি দোকান রয়েছে, তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার লোকের বসতি।

এরপর ৭টা ৩২ মিনিটে আমাদের প্রথম ইউনিট এখানে উপস্থিত হয়। পরে আগুনের ভয়াবহতা দেখে আরো ১৪টি ইউনিট মোট ১৫টি ইউনিট ও ১২৩ জন ফায়ার ফাইটার, স্থানীয় জনগণ, ভলেন্টিয়ার, পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় আমরা ৯টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা আগুন সম্পূর্ণ নিরাপন করতে পারব। আগুনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং সূত্রপাত এখনো কিছু জানা যায়নি। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে জানানো সম্ভব হবে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে এত বেগ পাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারণ এখানে রাস্তাগুলো সরু রাস্তা। যেখানে আগুনের ঘটনা ঘটেছে সেখানে পৌঁছানো যাচ্ছিল না। আর একটা বড় সমস্যা আসে পাশে পানির কোনো উৎস নেই। যার কারণে আমাদের ১৫টা বিশেষ পানিবাহী গাড়ি নিয়ে আসতে হয়েছে। এবং সেই গাড়ি দিয়ে আগুনটা নিয়ে নিভাতে হয়েছে।

আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারণ এখানে ভাঙারি ও কাগজপত্রের দোকান, প্লাস্টিকের জিনিসপত্রের দোকানের কারণে ধোঁয়া বেশি হচ্ছে। ভেতরের সব দাহ্য ধরনের যেমন কাগজ কাপড় টাইপের জিনিসপত্র ছিল। এবং আজ বৃষ্টির কারণে বাতাস ছিল প্রচুর। যার কারণে আগুনটা দ্রুত ছড়িয়ে গেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি, এখন পর্যন্ত কোনো নিখোঁজ ও হতাহতের সংবাদ আমরা পায়নি বলেও জানান তিনি।

এখানে কয়েকদিন আগে উচ্ছেদ অভিযান হয়েছিল। এর সঙ্গে আগুনের কোনো যোগসূত্র আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে এটা বলতে পারব। আমরা ফায়ার সার্ভিস এর পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করব।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

যমুনা সেতু দিয়ে পার হলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ হাজারের বেশি যানবাহন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১:৪৪ পূর্বাহ্ণ
যমুনা সেতু দিয়ে পার হলো স্বাভাবিকের চেয়ে ৩১ হাজারের বেশি যানবাহন

পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। এতে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। এর প্রভাব পড়েছে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার যমুনা সেতুতেও, যেখানে দিন দিন বাড়ছে যানবাহন পারাপারের সংখ্যা।

স্বাভাবিক সময়ে যেখানে প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ হাজার যানবাহন পারাপার হয়, সেখানে ঈদযাত্রার ব্যস্ততম সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে চলাচল করেছে ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন। অর্থাৎ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩১ হাজার বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, সোমবার (২৫ মে) ২৪ ঘণ্টায় সেতুর পূর্ব প্রান্ত দিয়ে ৩২ হাজার ১৮৬টি যানবাহন চলাচল করেছে। এসব যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৪০ হাজার ৭০০ টাকা।

অন্যদিকে পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে পারাপার হয়েছে ২১ হাজার ৬০টি যানবাহন। এ খাত থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা।

দুই প্রান্ত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় মোট ৫৩ হাজার ২৪৬টি যানবাহন যমুনা সেতু ব্যবহার করেছে। একই সময়ে মোট টোল আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫৮ হাজার ২০০ টাকা।

এর আগের দিন রবিবার (২৪ মে) ২৪ ঘণ্টায় সেতুটি দিয়ে ৩৯ হাজার ৯১৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল এবং টোল আদায় হয়েছিল ৩ কোটি ২৫ লাখ ১৫ হাজার ৬৫০ টাকা। সেই হিসাবে একদিনের ব্যবধানে যানবাহন পারাপার বেড়েছে ১৩ হাজার ৩২৭টি এবং টোল আদায় বেড়েছে ৫২ লাখ ৪২ হাজার ৫৫০ টাকা।

সোমবার রাত পর্যন্ত যমুনা সেতুর পশ্চিম পাড়, কোনাবাড়ি মোড়, সায়দাবাদ, কড্ডার মোড় ও নলকা এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, যানবাহনের চাপ ক্রমাগত বাড়লেও কোথাও যানজট নেই। বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে করে মানুষ বাড়ির পথে

মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। নির্ধারিত স্থান ছাড়া কোথাও যানবাহন থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করতে দেওয়া হচ্ছে না।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি 

ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ
ময়মনসিংহে চাঁদা না পেয়ে বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ

ময়মনসিংহে “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামের একটি বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৫ মে) নগরের কোতোয়ালী থানাধীন মধ্যবাড়েরা ২৬ নম্বর ওয়ার্ড হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে দুই সহোদর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) কে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে মধ্যবাড়েরা এলাকার বাসিন্দা মোঃ আপন মিয়া কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফ্যাক্টরির ম্যানেজার এনামুল হক সুমন (৩২) এর বড় ভাই মোঃ হুরমুজ আলী দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় “চাঁদনী ফুড প্রোডাক্টস” নামে বিস্কুট ফ্যাক্টরি পরিচালনা করে আসছেন। স্থানীয় ফয়সাল আহমেদ বাবু (৩০), শাহ আলী (৪০), জুনাইদ, আলমাছ, আকাশ মিয়া, রিয়েন, হৃদয় মিয়া, নাহিদ মিয়া, শামীম মিয়া ও আসিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে ফ্যাক্টরিতে এসে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করত।

অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (২৫ মে) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করে। এ সময় আপন মিয়ার ছোট ভাই এনামুল হক সুমন প্রতিবাদ করলে তাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তরা লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে আহত করে এবং শ্বাসরোধের চেষ্টাও চালায়।

এ সময় ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী হুরমুজ আলী এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ফ্যাক্টরির ক্যাশ থেকে নগদ দুই লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার এবং ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত এনামুল হক সুমনকে (৩২) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগকারী আপন মিয়া বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা এলাকায় মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। তারা অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমার দুই ভাইকে আহত করেছে এবং ফ্যাক্টরিতে ভাঙচুর ও নগদ টাকা লুট করেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

তবে এসব ঘটনা অস্বীকার করেছেন ফয়সাল আহমেদ বাবু। তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা আমরা করিনি, আপনারা এলাকায় এসে তদন্ত করে দেখেন।

মারামারির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ফ্যাক্টরির কারিগর উজ্জ্বল মিয়া বলেন, আজ সকালে এ ঘটনা ঘটে। আহত একজন ময়মনসিংহ মেডিকেলে ভর্তি আছেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি