খুঁজুন
                               
, ,
           

৫ উপাদানে গুরুত্ব মতিউর রহমান আকন্দের, ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ফারুকীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৫, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ
৫ উপাদানে গুরুত্ব মতিউর রহমান আকন্দের, ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ফারুকীর

আব্দুল্লাহ আল নোমান, কালের আলো:

ময়মনসিংহ মহানগর ও জেলা জামায়াতের বিশাল কর্মী সম্মেলনে বাংলাদেশে পরিবর্তনের জন্য কমপক্ষে পাঁচটি উপাদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. সামীউল হক ফারুকী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা.শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে এদেশে একটি ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছেন। ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমীর কামরুল আহসান এমরুল ময়মনসিংহের ১১টি সংসদীয় আসন জামায়াত আমীরকে উপহার দেওয়ার দৃঢ় প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছেন।

দেশে পরিবর্তনের জন্য কমপক্ষে পাঁচটি উপাদান দরকার
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, ‘বাংলাদেশ ৫৫তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। এই ৫৫ বছরে বাংলাদেশ দুর্নীতিমুক্ত হতে পারেনি। বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে সম্মান এবং মর্যাদার সঙ্গে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। বরং বিগত ৫৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে বিশেষ করে শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট আমলের ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। অর্থনীতিকে স্তব্ধ করে দেয়া হয়েছে। মানুষের সবচাইতে বড় আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগকে ধ্বংস করা হয়েছে। এখান থেকে সাজানো রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক নেতৃবৃন্দকে ফাঁসির আদেশ দিয়ে হত্যা করে বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিগত সাড়ে ১৫ বছরে বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার, বেঁচে থাকার অধিকার, কাজের অধিকার, ফান্ডামেন্টাল রাইটস, বেসিক রাইটসহ সবকিছুকে কেড়ে নেয়া হয়েছে। সাড়ে ১৫ বছর পর আজকে একটি মুক্ত বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি। সেজন্য আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া, আলহামদুলিল্লাহ।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি পরিবর্তন চায়। এ পরিবর্তনের জন্য কমপক্ষে পাঁচটি উপাদান দরকার। তার মধ্যে একটি হচ্ছে নেতৃত্ব। রাজনৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে মানুষ স্বপ্ন দেখে সংগঠিত হয়ে পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অনেক শুকরিয়া যে আজকে ৫৫ বছর পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এমন একজন নেতা পেয়েছে যে নেতার নেতৃত্বে শুধু জামায়াতে ইসলামী নয়, সারা বাংলাদেশের মানুষ একটি ভবিষ্যৎ স্বপ্ন দেখার সুযোগ পেয়েছে। এই নেতৃত্বের মাধ্যমে আমরা আগামী দিনে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছি এবং জামায়াতে ইসলামী সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে ইনশাআল্লাহ।

দ্বিতীয়টি হচ্ছে পরিবর্তনের জন্য একটি মজবুত সংগঠনের দরকার। এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এ দেশের সর্ববৃহৎ একটি রাজনৈতিক শক্তি। জামায়াত আগামী দিনে একটি পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিবে এটাই স্বাভাবিক। তৃতীয়টি হচ্ছে একটি রাজনৈতিক দলের উত্থান ঘটে নেতাদের ত্যাগ এবং কুরবানীর মাধ্যমে। বিগত সাড়ে ১৫ বছরে বাংলাদেশের মাটিতে সবচাইতে বেশী রক্ত, সবচাইতে বেশী কুরবানী দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতে ইসলামীর তদানীন্তন আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে ফাঁসির মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। উপমহাদেশের বিখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক গোলাম আযমকে কারাগারে আটক রেখে হত্যা করা হয়েছে। বিশ্বনন্দিত মুফাসসীরে কুরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এত বড় ত্যাগ, এত বড় কুরবানী বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দল অতীতে কোন দিন দেয়নি। সুতরাং জামায়াতের এই ত্যাগ এবং কুরবানীর কারণেই বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনতা আজকে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে আগামী দিনে জামায়াতকে রাষ্ট্রক্ষমতায় নেয়ার লক্ষ্যে।

তিনি বলেন, এরপর আরেকটি জিনিস দরকার- ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ‘কন্ট্রিবিউশন টু দ্যা ন্যাশন’ একটি রাজনৈতিক দলের অবদান। জাতির প্রতি তার অবদান। জামায়াতে ইসলামীর এককভাবে জাতির প্রতি অবদান সবচাইতে বেশী। ১৯৮০ সালের ৭ ডিসেম্বর তদানীন্তন আমীরে জামায়াত অধ্যাপক গোলাম আযমের পক্ষ থেকে আব্বাস আলী খান সাহেব কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচনের গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী এমন একটি পদ্ধতির উদ্ভাবন করেছিলো যে পদ্ধতি ছাড়া দেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় সমস্ত রাজনৈতিক দল একমত হয়েছিল। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত একমত হয়েছিল কেয়ারটেকার সরকার ছাড়া নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। সুতরাং জাতির প্রতি জামায়াতের এই অবদান। এই অবদানের কারণে আগামী দিনের জনগণ জামায়াতকেই তাদের পছন্দের রাজনৈতিক দল হিসেবে গ্রহণ করে নিবে ইনশাআল্লাহ।

এবার জামায়াত আরেকটি প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। আপনারা জানেন, আমীরে জামায়াত ৯ অক্টোবর জাতির সামনে এই প্রস্তাব দিয়েছেন। এই প্রস্তাব হচ্ছে, সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির নির্বাচন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের একশত ভাগ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে। আমরা বিশ্বাস করি, একদিন বাংলাদেশের জনগণ এই পদ্ধতিও গ্রহণ করে নিবে ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী যে জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আমীরে জামায়াত দীর্ঘ কারাবরণ করার পর মুক্ত পরিবেশে ফিরে এসে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলেই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য যে ডাক দিয়েছিলেন আজকে বাংলাদেশ মুক্ত পরিবেশে আসার পর তিনি তার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার জন্য এগিয়ে যাচ্ছেন। আপনারা লক্ষ্য করছেন, টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া বাংলাদেশের এমন কোন জনপদ নেই যেই জনপদে আমীরে জামায়াতের পদধূলি পরে নাই। আমরা ময়মনসিংহ বিভাগের জনশক্তিগণ উনাকে আরও আগেই আনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ আজকে অনেক শহীদের রক্তে রঞ্জিত শহীদ মঞ্জুরুল কবির, শহীদ কামরুল আহসান, শহীদ শওকত হোসেন তালুকদার, শহীদ আলাউদ্দিন, শহীদ কামারুজ্জামানের রক্তে রঞ্জিত বাংলাদেশে আমীরে জামায়াত আজকে আগমন করেছেন। উনার এই জনসভায় এই কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে আগামী দিনে আমরা দ্রুত এগিয়ে যেতে চাই। বাংলাদেশের এই অংশের ময়মনসিংহের পাঁচটি জেলায় আমরা আমাদের দাওয়াতী তৎপরতা ও সাংগঠনিক তৎপরতার মাধ্যমে আগামী দিনের পরিবর্তনের নেতৃত্বের অংশীদার হতে চাই। মহান রাব্বুল আলামীন আমাদের সকল প্রচেষ্টা কবুল করুন।’

ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ফারুকীর
কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. সামীউল হক ফারুকী বলেন, ‘১৭ বছরের বৈষম্য, নির্যাতন-জুলুমের অবসান ঘটিয়ে ৫ আগস্টের একটি সফল বিপ্লবের মাধ্যমে স্বৈরাচারকে হটিয়ে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশের সূচনা করা সম্ভব হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। আমরা এতোদিন কথা বলতে পারিনি। আমাদেও কথা বলার সুযোগ ছিল না। আমরা স্বৈরাচারকে হটাতে সক্ষম হয়েছি। এদেশে ইসলামের কথা অবাধে বলার সুযোগ আল্লাহ তৈরি করে দিয়েছেন। এখন অন্তর্বর্তী সময় চলছে, এরপর দেশে নির্বাচন হবে। নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ রায় দেবে কারা এদেশ শাসন করবে। আগামী দিনে যে নির্বাচন হবে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীরের নেতৃত্বে এদেশে একটি ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে ইনশাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, ‘ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হলে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের কল্যাণ হবে। ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম হলে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হবে, জুলুমের অবসান ঘটবে। ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম হলে মানবিক সমাজ কায়েম হবে, যেখানে মানুষ তাঁর মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না। জামায়াত ইসলাম ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, লুটপাট ও সন্ত্রাস থাকবে না। একটি জননিরাপত্তামূলক রাষ্ট্র কায়েম জামায়াতের লক্ষ্য। সকল দল মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। শুধু সম্মেলন বা বক্তব্য দিলে হবে না ঘরে ঘরে গিয়ে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে। এই সম্মেলন থেকে আমরা চারদিকে ছড়িয়ে পড়বো। ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জনমত তৈরির জন্য আমরা প্রতিটি ঘরে ঘরে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিবো।’

ময়মনসিংহের ১১টি আসন উপহার দিতে চান এমরুল
কর্মী সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমীর কামরুল আহসান এমরুল বলেন, ‘আগামীর বাংলাদেশ হবে ইসলামের বাংলাদেশ। আমরা এই সম্মেলন থেকে আমীরে জামায়াতকে ময়মনসিংহের ১১টি আসন উপহার দিতে চাই। এজন্য আমাদের কর্মী ভাইদের অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হবে। নেতা হিসেবে নয়, জনগণের সেবক হিসেবে ভূমিকা রাখতে হবে। মানুষ চাচ্ছে, আগামী দিনে আমীরে জামায়াতকে আমরা ময়মনসিংহের ১১টি আসন উপহার দিতে পারবো বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

কালের আলো/এমএএন/এমএএএমকে

বাড়ি তৈরির জমিতে তরমুজের বাগান, আব্দুস শহীদের চোখে লাখ টাকার স্বপ্ন

হবিগঞ্জ সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১:২২ পূর্বাহ্ণ
বাড়ি তৈরির জমিতে তরমুজের বাগান, আব্দুস শহীদের চোখে লাখ টাকার স্বপ্ন

বাড়ি নির্মাণের জন্য চারদিকে পাকা প্রাচীর দিয়ে ঘেরা ১৫ শতক জমি। সেখানে বাড়ির কাজ শুরুর আগপর্যন্ত জমিটি পতিত পড়ে থাকার কথা ছিল। কিন্তু সেই জমিতেই তরমুজ চাষ করে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছেন হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার কামারগাঁও গ্রামের কৃষক আব্দুস শহীদ। মাত্র ১০ হাজার টাকা খরচ করে মাচা ও মালচিং পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করেছেন তিনি। এখন তাঁর ক্ষেতের চার শতাধিক গাছে ঝুলছে ছোট-বড় এক হাজারের বেশি তরমুজ। সবকিছু অনুকূলে থাকলে ফল বিক্রি করে লাখ টাকার বেশি আয় করার আশা করছেন এই কৃষক।

পাকা প্রাচীরের ভেতর তরমুজের বাগান
কামারগাঁও গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ি নির্মাণের জন্য প্রস্তুত করা প্রায় ১৫ শতক জমির চারপাশে পাকা প্রাচীর। সেই প্রাচীরের ভেতরেই মাচা তৈরি করে সারি সারি তরমুজগাছ লাগানো হয়েছে। গাছের পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে হলুদ ও কালো রঙের অসংখ্য তরমুজ। কোথাও ছোট ফল, কোথাও আবার বড় আকারের তরমুজে নুয়ে পড়েছে লতাগুলো।

ইউনাইটেড কোম্পানির ‘মধুমালা’ ও ‘ব্ল্যাকবেবি’ জাতের তরমুজ চাষ করা হয়েছে সেখানে। ফ্রিপ প্রকল্পের আওতায় মালচিং পেপার প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে এ চাষ করা হয়। সীমিত জায়গায় পরিকল্পিতভাবে মাচা তৈরি করে তরমুজ চাষের এই উদ্যোগ এখন স্থানীয়দের কাছে আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে।

কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শেই শুরু
কৃষক আব্দুস শহীদ জানান, বাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যে জমিটির চারপাশে পাকা প্রাচীর তৈরি করেছিলেন তিনি। তবে বাড়ির কাজ শুরু করার আগে জমিটি বেশ কিছুদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকার কথা ছিল। এ সময় মাঠ পরিদর্শনে এসে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শামিমুল হক শামীম তাঁকে জমিটি ফেলে না রেখে তরমুজ চাষের পরামর্শ দেন।

কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে আগ্রহী হয়ে ওঠেন আব্দুস শহীদ। এরপর উন্নত জাতের তরমুজের চারা রোপণ করে মাচা তৈরি এবং মালচিং পেপার পদ্ধতিতে চাষ শুরু করেন। তাঁর এই উদ্যোগ এখন ভালো ফলনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

আব্দুস শহীদ বলেন, ‘বাড়ি নির্মাণের আগে জমিটা যেন পতিত পড়ে না থাকে, সেই চিন্তা থেকেই তরমুজ চাষ শুরু করি। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে অল্প জায়গায় মাচা তৈরি করে তরমুজ লাগিয়েছি। চাষাবাদে আমার প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন গাছে গাছে প্রচুর তরমুজ। ছোট-বড় মিলিয়ে হাজারেরও বেশি তরমুজ রয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই বিক্রি শুরু করতে পারব বলে আশা করছি। ফলন ভালো থাকলে লাখ টাকার বেশি বিক্রি হতে পারে।’

অসময়ে চাষ করেও ভালো ফলনের আশা
আব্দুস শহীদ জানান, অসময়ে তরমুজ চাষ করেও গাছে ভালো ফলন এসেছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন আরও ভালো হতে পারত বলে মনে করেন তিনি। নিজের উদ্যোগে অল্প জায়গায় এত বেশি তরমুজ উৎপাদন করতে পেরে আশাবাদী এই কৃষক।

তাঁর প্রত্যাশা, বাজারে তরমুজের ভালো দাম পেলে এই চাষ থেকে উল্লেখযোগ্য আয় হবে। সেই অর্থ ভবিষ্যতে কৃষিকাজে আরও বিনিয়োগ এবং নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজে লাগাতে পারবেন তিনি। তবে সম্ভাব্য বিক্রির আয় এখনো প্রত্যাশার পর্যায়ে রয়েছে। ফলের চূড়ান্ত উৎপাদন, বাজারদর এবং বিক্রির খরচের ওপর নির্ভর করবে প্রকৃত লাভের পরিমাণ।

আব্দুস শহীদের সাফল্যে উৎসাহিত অন্য কৃষকেরা
স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও আব্দুস শহীদের এই উদ্যোগ সাড়া ফেলেছে। তাঁদের মতে, কৃষিকাজে আগ্রহ, পরিশ্রম ও সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে অল্প জমিতেও ভালো ফলন সম্ভব। প্রচলিত ফসলের বাইরে নতুন জাতের তরমুজ চাষ করে আব্দুস শহীদ সেই সম্ভাবনা দেখিয়েছেন।

স্থানীয় কয়েকজন কৃষক বলেন, ‘চেষ্টা থাকলে কঠিন কাজও সহজ করা যায়, আব্দুস শহীদের ক্ষেত তার প্রমাণ। অল্প জায়গায় তিনি যেভাবে তরমুজ চাষ করেছেন এবং ফলন পেয়েছেন, তা আমাদের উৎসাহিত করেছে। তাঁর কাছ থেকে এ জাতের তরমুজ চাষ সম্পর্কে পরামর্শ নিয়েছি। ভবিষ্যতে আমরাও এভাবে তরমুজ চাষ করার পরিকল্পনা করছি।’ তাঁরা মনে করেন, কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও আধুনিক চাষপদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ পেলে এলাকার আরও কৃষক নতুন ফসল চাষে আগ্রহী হবেন। বাড়ির আশপাশের অব্যবহৃত জমি, পতিত জায়গা কিংবা সীমিত কৃষিজমি পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগানো গেলে কৃষকের আয়ের নতুন পথ তৈরি হতে পারে।

কৃষি বিভাগের পরামর্শে বাড়ছে আগ্রহ
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শামিমুল হক শামীম বলেন, ‘কৃষকদের পাশে থেকে কাজ করতে আমার ভালো লাগে। মাঠে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিতে পারলে মনে আনন্দ আসে। মাঠ পরিদর্শনে গিয়ে আব্দুস শহীদকে জমি পতিত না রেখে তরমুজ চাষের পরামর্শ দিয়েছিলাম। তিনি সেই পরামর্শ অনুযায়ী চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন আরও ভালো হতে পারত। তারপরও অসময়ে তরমুজের ভালো ফলন হয়েছে। তাঁর ক্ষেত দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকও উৎসাহিত হচ্ছেন। অনেকে এ জাতের তরমুজ চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কৃষকদের আগ্রহ বাড়লে ভবিষ্যতে এ ধরনের চাষ আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।’ বাহুবল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চিন্ময় কর অপু বলেন, কৃষকদের কল্যাণে কাজ করাই কৃষি বিভাগের দায়িত্ব। কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষে উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে অনেক কৃষক নতুন নতুন ফসল চাষ করে সফলতা পাচ্ছেন।

আব্দুস শহীদ তাঁদেরই একজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষকটি উপজেলার পশ্চিম জয়পুর ব্লকের কামারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। অসময়ে তরমুজ চাষ করে তিনি ভালো ফলন পেয়েছেন। সম্প্রতি তাঁর ক্ষেত পরিদর্শন করে ভালো লেগেছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা। তিনি আরও বলেন, আধুনিক কৃষিপদ্ধতি অনুসরণ করে কৃষকেরা যেন জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারেন, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। নতুন ফসল চাষে উৎসাহিত করা এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

অল্প জমিতে নতুন সম্ভাবনার দৃষ্টান্ত
আব্দুস শহীদের তরমুজক্ষেত দেখিয়ে দিয়েছে, কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরির জন্য সব সময় বড় জমি কিংবা বিপুল বিনিয়োগের প্রয়োজন হয় না। সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক চাষপদ্ধতি, কৃষি বিভাগের পরামর্শ এবং পরিশ্রমের সমন্বয়ে অব্যবহৃত জমিও আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারে। এখন ফল বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছেন আব্দুস শহীদ। গাছে গাছে বেড়ে ওঠা তরমুজগুলো বাজারে ভালো দামে বিক্রি করতে পারলে পূরণ হতে পারে তাঁর আর্থিক প্রত্যাশা। পাশাপাশি তাঁর উদ্যোগ দেখে এলাকার অন্য কৃষকেরাও যদি নতুন ফসল চাষে এগিয়ে আসেন, তাহলে ব্যক্তিগত সাফল্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে এটি হয়ে উঠতে পারে স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার অনুপ্রেরণা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

রিপিট ক্যাডার ঠেকাতে পিএসসির উদ্যোগ ৫০তম বিসিএসের ফলে আসছে পরিবর্তন

চাকরি ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
রিপিট ক্যাডার ঠেকাতে পিএসসির উদ্যোগ ৫০তম বিসিএসের ফলে আসছে পরিবর্তন

বিসিএস পরীক্ষায় একই ক্যাডারে বারবার একই প্রার্থীর সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে সরকারি পদের অপচয় ও নিয়োগ জটিলতা দূর করতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। বিশেষ করে আসন্ন ৫০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল তৈরির সময় ‘রিপিট ক্যাডার’ সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে। পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

কী এই ‘রিপিট ক্যাডার’ সমস্যা
বিসিএস নিয়োগপ্রক্রিয়ায় ‘রিপিট ক্যাডার’ বলতে সাধারণত এমন প্রার্থীদের বোঝানো হয়, যাঁরা আগের কোনো বিসিএসে একটি ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত বা নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার পর পরবর্তী বিসিএসেও একই ক্যাডারে আবার সুপারিশ পান। ফলে নতুন করে সুপারিশ পাওয়া পদে তাঁদের যোগদানের প্রয়োজন হয় না বা তাঁরা সেখানে যোগ দেন না। এতে সংশ্লিষ্ট পদটি খালি থেকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

এর প্রভাব পড়ে অন্য চাকরিপ্রার্থীদের ওপর। মেধাক্রমে পরবর্তী অবস্থানে থাকা যোগ্য প্রার্থীরা ওই পদে নিয়োগের সুযোগ হারাতে পারেন। আবার সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে কেউ নতুন পদে যোগ না দিলে প্রকৃত শূন্য পদের হিসাব নির্ধারণ করাও জটিল হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এ সমস্যা বিসিএস নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

৪৪তম বিসিএসে প্রায় ৪০০ রিপিট ক্যাডার নিয়ে আলোচনা
৪৩তম বিসিএসের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই রিপিট ক্যাডার নিয়ে আলোচনা থাকলেও ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। পিএসসির তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৪৪তম বিসিএসে ১ হাজার ৭১০টি শূন্য পদের বিপরীতে ১ হাজার ৭১০ জনকে সুপারিশ করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৪০০ জন আগে থেকেই সরকারি কোনো ক্যাডারে নিয়োজিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই ক্যাডারে পুনরায় সুপারিশ পাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে পদে যোগদান না করার কারণে শূন্য পদ পূরণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এ ঘটনার পর রিপিট ক্যাডারের কারণে খালি থাকা পদগুলোতে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে মেধাক্রম অনুযায়ী নতুন প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়ার দাবি জোরালো হয়।

৪৫তম বিসিএসে যোগদানের হিসাব দেখে সিদ্ধান্ত
রিপিট ক্যাডার সমস্যা সমাধানে পিএসসি এবার শুধু সুপারিশের সংখ্যা নয়, বাস্তবে কতজন প্রার্থী চাকরিতে যোগ দিচ্ছেন, সেটিও বিবেচনায় নিতে চায়। ইতিমধ্যে ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। সুপারিশপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আগামী ১ নভেম্বর যোগদানের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রার্থীদের যোগদান শেষ হলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে—কতজন নতুন পদে যোগ দিয়েছেন এবং কতটি পদ খালি রয়েছে। পিএসসি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১ নভেম্বরের পর যোগদানের সুনির্দিষ্ট তথ্য পর্যালোচনা করা হবে। এরপর প্রকৃত শূন্য পদের হিসাব বিবেচনায় নিয়ে ৫০তম বিসিএসের চূড়ান্ত সুপারিশ প্রস্তুত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো, কোনো প্রার্থী একই ক্যাডারে পুনরায় সুপারিশ পাওয়ার কারণে পদ খালি থাকলে সেখানে পরবর্তী মেধাক্রমের যোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগের সুযোগ তৈরি করা।

সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের প্রত্যাশা
রিপিট ক্যাডার সমস্যার কারণে সাধারণ চাকরিপ্রার্থীরা নিয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিসিএস পরীক্ষার্থী মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, রিপিট ক্যাডারের কারণে সাধারণ প্রার্থীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। ৪৫তম বিসিএসে যোগদানের সঠিক হিসাব পর্যালোচনা করে ৫০তম বিসিএসে সুপারিশ চূড়ান্ত করা হলে শূন্য পদের সমস্যা কমতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

চাকরিপ্রার্থীদের প্রত্যাশা, প্রকৃত শূন্য পদের হিসাবের ভিত্তিতে নিয়োগপ্রক্রিয়া পরিচালিত হলে মেধাক্রমে পরবর্তী অবস্থানে থাকা প্রার্থীরাও ন্যায্য সুযোগ পাবেন। এতে একই পদে বারবার সুপারিশের কারণে নিয়োগের সুযোগ আটকে থাকার সমস্যা কমতে পারে।

বিধিমালা সংশোধনের প্রস্তাবও রয়েছে
৪৪তম বিসিএসে রিপিট ক্যাডার নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ার পর পিএসসি নিয়োগবিধি সংশোধনের উদ্যোগ নেয়। এ বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। প্রস্তাবিত শর্ত অনুযায়ী, চূড়ান্ত ফলাফল প্রস্তুত বা সরকারের কাছে সুপারিশ পাঠানোর সময় কমিশনের কাছে যদি তথ্য থাকে যে কোনো প্রার্থী একই ক্যাডার পদ বা সমপদে পুনরায় মনোনীত হচ্ছেন এবং তিনি সেখানে যোগ দিতে অনিচ্ছুক, তাহলে তাঁকে আবার সুপারিশ না করার সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ওই পদগুলোতে পরবর্তী মেধাক্রমের প্রার্থীদের নির্বাচন করে সম্পূরক ফলাফল প্রকাশের ব্যবস্থাও প্রস্তাব করা হয়েছে। পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর রিপিট ক্যাডার সমস্যাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ১ নভেম্বর ৪৫তম বিসিএসে যোগদানের সুনির্দিষ্ট তথ্য পর্যালোচনা করে ৫০তম বিসিএসের ফলাফলে তা বিবেচনায় নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে বলে তিনি জানান।

৫০তম বিসিএসের ফলে কী প্রভাব পড়তে পারে
পিএসসির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে একই ক্যাডারে পুনরায় সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীদের কারণে খালি থাকা পদগুলো শনাক্ত করা সহজ হতে পারে। পাশাপাশি প্রকৃত শূন্য পদের বিপরীতে পরবর্তী মেধাক্রমের প্রার্থীদের সুপারিশ করার সুযোগও তৈরি হতে পারে।

তবে এ উদ্যোগের চূড়ান্ত প্রভাব নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা, প্রার্থীদের যোগদানের প্রকৃত তথ্য এবং কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। ৫০তম বিসিএসের ফলাফল ঘোষণার সময় বিষয়টি কীভাবে কার্যকর করা হয়, সেটিই এখন চাকরিপ্রার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে।

কালের আলো/এসএআর/এসএ

কী হিসেবে যাব, দর্শক সারিতে বসতে? বিরোধীদলীয় নেতার অনুপস্থিতির ব্যাখ্যা জামায়াতের

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
কী হিসেবে যাব, দর্শক সারিতে বসতে? বিরোধীদলীয় নেতার অনুপস্থিতির ব্যাখ্যা জামায়াতের

জুলাই শহীদদের স্মরণে রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের ফলক উন্মোচন ও আধুনিকায়ন করা উদ্যানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতাদের অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতারা উপস্থিত না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এবার তাঁদের অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে বিরোধীদলীয় নেতার নাম উল্লেখ ছিল না।

মঙ্গলবার দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার।

গোলাম পরওয়ার বলেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে সরকারের বিভিন্ন অতিথির নাম থাকলেও মন্ত্রীর পদমর্যাদার বিরোধীদলীয় নেতার নাম উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি অনুষ্ঠানে তিনি কোন পরিচয়ে উপস্থিত থাকবেন, সেটিও স্পষ্ট করা হয়নি। এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিরোধীদলীয় নেতার নাম যদি আমন্ত্রণপত্রে না থাকে, তাহলে তিনি সেখানে কী হিসেবে যাবেন? তাঁকে কি দর্শক সারিতে বসতে হবে? তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আমন্ত্রণপত্রে যথাযথভাবে নাম ও পরিচয় উল্লেখ না থাকাই অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতার অনুপস্থিতির কারণ।

এর আগে সোমবার রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের ফলক উন্মোচন এবং আধুনিকায়ন করা ওসমানী উদ্যানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতারা উপস্থিত না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাঁদের আত্মত্যাগের কারণে বিরোধী দলের নেতারা আজ বিরোধীদলীয় নেতা ও সংসদ সদস্য হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন, সেই শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের পাশে তাঁদের থাকা উচিত ছিল।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। তাঁর মতে, যাঁদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, তাঁদের স্মরণ এবং তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো সব রাজনৈতিক পক্ষের দায়িত্ব।

একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কেবল বিরোধিতা করার জন্য বিরোধিতা করলে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। সংসদে বিরোধী দল সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করবে, তবে তা হতে হবে গঠনমূলক। তিনি আরও বলেন, পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে আটকে থাকলে দেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে। দেশকে এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দায়িত্বশীল আচরণ এবং ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি