খুঁজুন
                               
, ,
           

৫ উপাদানে গুরুত্ব মতিউর রহমান আকন্দের, ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ফারুকীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৫, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ
৫ উপাদানে গুরুত্ব মতিউর রহমান আকন্দের, ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ফারুকীর

আব্দুল্লাহ আল নোমান, কালের আলো:

ময়মনসিংহ মহানগর ও জেলা জামায়াতের বিশাল কর্মী সম্মেলনে বাংলাদেশে পরিবর্তনের জন্য কমপক্ষে পাঁচটি উপাদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. সামীউল হক ফারুকী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা.শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে এদেশে একটি ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছেন। ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমীর কামরুল আহসান এমরুল ময়মনসিংহের ১১টি সংসদীয় আসন জামায়াত আমীরকে উপহার দেওয়ার দৃঢ় প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছেন।

দেশে পরিবর্তনের জন্য কমপক্ষে পাঁচটি উপাদান দরকার
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, ‘বাংলাদেশ ৫৫তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। এই ৫৫ বছরে বাংলাদেশ দুর্নীতিমুক্ত হতে পারেনি। বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে সম্মান এবং মর্যাদার সঙ্গে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। বরং বিগত ৫৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে বিশেষ করে শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট আমলের ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। অর্থনীতিকে স্তব্ধ করে দেয়া হয়েছে। মানুষের সবচাইতে বড় আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগকে ধ্বংস করা হয়েছে। এখান থেকে সাজানো রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক নেতৃবৃন্দকে ফাঁসির আদেশ দিয়ে হত্যা করে বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিগত সাড়ে ১৫ বছরে বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার, বেঁচে থাকার অধিকার, কাজের অধিকার, ফান্ডামেন্টাল রাইটস, বেসিক রাইটসহ সবকিছুকে কেড়ে নেয়া হয়েছে। সাড়ে ১৫ বছর পর আজকে একটি মুক্ত বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি। সেজন্য আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া, আলহামদুলিল্লাহ।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি পরিবর্তন চায়। এ পরিবর্তনের জন্য কমপক্ষে পাঁচটি উপাদান দরকার। তার মধ্যে একটি হচ্ছে নেতৃত্ব। রাজনৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে মানুষ স্বপ্ন দেখে সংগঠিত হয়ে পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অনেক শুকরিয়া যে আজকে ৫৫ বছর পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এমন একজন নেতা পেয়েছে যে নেতার নেতৃত্বে শুধু জামায়াতে ইসলামী নয়, সারা বাংলাদেশের মানুষ একটি ভবিষ্যৎ স্বপ্ন দেখার সুযোগ পেয়েছে। এই নেতৃত্বের মাধ্যমে আমরা আগামী দিনে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছি এবং জামায়াতে ইসলামী সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে ইনশাআল্লাহ।

দ্বিতীয়টি হচ্ছে পরিবর্তনের জন্য একটি মজবুত সংগঠনের দরকার। এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এ দেশের সর্ববৃহৎ একটি রাজনৈতিক শক্তি। জামায়াত আগামী দিনে একটি পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিবে এটাই স্বাভাবিক। তৃতীয়টি হচ্ছে একটি রাজনৈতিক দলের উত্থান ঘটে নেতাদের ত্যাগ এবং কুরবানীর মাধ্যমে। বিগত সাড়ে ১৫ বছরে বাংলাদেশের মাটিতে সবচাইতে বেশী রক্ত, সবচাইতে বেশী কুরবানী দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতে ইসলামীর তদানীন্তন আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে ফাঁসির মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। উপমহাদেশের বিখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক গোলাম আযমকে কারাগারে আটক রেখে হত্যা করা হয়েছে। বিশ্বনন্দিত মুফাসসীরে কুরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এত বড় ত্যাগ, এত বড় কুরবানী বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দল অতীতে কোন দিন দেয়নি। সুতরাং জামায়াতের এই ত্যাগ এবং কুরবানীর কারণেই বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনতা আজকে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে আগামী দিনে জামায়াতকে রাষ্ট্রক্ষমতায় নেয়ার লক্ষ্যে।

তিনি বলেন, এরপর আরেকটি জিনিস দরকার- ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ‘কন্ট্রিবিউশন টু দ্যা ন্যাশন’ একটি রাজনৈতিক দলের অবদান। জাতির প্রতি তার অবদান। জামায়াতে ইসলামীর এককভাবে জাতির প্রতি অবদান সবচাইতে বেশী। ১৯৮০ সালের ৭ ডিসেম্বর তদানীন্তন আমীরে জামায়াত অধ্যাপক গোলাম আযমের পক্ষ থেকে আব্বাস আলী খান সাহেব কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচনের গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী এমন একটি পদ্ধতির উদ্ভাবন করেছিলো যে পদ্ধতি ছাড়া দেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় সমস্ত রাজনৈতিক দল একমত হয়েছিল। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত একমত হয়েছিল কেয়ারটেকার সরকার ছাড়া নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। সুতরাং জাতির প্রতি জামায়াতের এই অবদান। এই অবদানের কারণে আগামী দিনের জনগণ জামায়াতকেই তাদের পছন্দের রাজনৈতিক দল হিসেবে গ্রহণ করে নিবে ইনশাআল্লাহ।

এবার জামায়াত আরেকটি প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। আপনারা জানেন, আমীরে জামায়াত ৯ অক্টোবর জাতির সামনে এই প্রস্তাব দিয়েছেন। এই প্রস্তাব হচ্ছে, সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির নির্বাচন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের একশত ভাগ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে। আমরা বিশ্বাস করি, একদিন বাংলাদেশের জনগণ এই পদ্ধতিও গ্রহণ করে নিবে ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী যে জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আমীরে জামায়াত দীর্ঘ কারাবরণ করার পর মুক্ত পরিবেশে ফিরে এসে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলেই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য যে ডাক দিয়েছিলেন আজকে বাংলাদেশ মুক্ত পরিবেশে আসার পর তিনি তার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার জন্য এগিয়ে যাচ্ছেন। আপনারা লক্ষ্য করছেন, টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া বাংলাদেশের এমন কোন জনপদ নেই যেই জনপদে আমীরে জামায়াতের পদধূলি পরে নাই। আমরা ময়মনসিংহ বিভাগের জনশক্তিগণ উনাকে আরও আগেই আনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ আজকে অনেক শহীদের রক্তে রঞ্জিত শহীদ মঞ্জুরুল কবির, শহীদ কামরুল আহসান, শহীদ শওকত হোসেন তালুকদার, শহীদ আলাউদ্দিন, শহীদ কামারুজ্জামানের রক্তে রঞ্জিত বাংলাদেশে আমীরে জামায়াত আজকে আগমন করেছেন। উনার এই জনসভায় এই কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে আগামী দিনে আমরা দ্রুত এগিয়ে যেতে চাই। বাংলাদেশের এই অংশের ময়মনসিংহের পাঁচটি জেলায় আমরা আমাদের দাওয়াতী তৎপরতা ও সাংগঠনিক তৎপরতার মাধ্যমে আগামী দিনের পরিবর্তনের নেতৃত্বের অংশীদার হতে চাই। মহান রাব্বুল আলামীন আমাদের সকল প্রচেষ্টা কবুল করুন।’

ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ফারুকীর
কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. সামীউল হক ফারুকী বলেন, ‘১৭ বছরের বৈষম্য, নির্যাতন-জুলুমের অবসান ঘটিয়ে ৫ আগস্টের একটি সফল বিপ্লবের মাধ্যমে স্বৈরাচারকে হটিয়ে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশের সূচনা করা সম্ভব হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। আমরা এতোদিন কথা বলতে পারিনি। আমাদেও কথা বলার সুযোগ ছিল না। আমরা স্বৈরাচারকে হটাতে সক্ষম হয়েছি। এদেশে ইসলামের কথা অবাধে বলার সুযোগ আল্লাহ তৈরি করে দিয়েছেন। এখন অন্তর্বর্তী সময় চলছে, এরপর দেশে নির্বাচন হবে। নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ রায় দেবে কারা এদেশ শাসন করবে। আগামী দিনে যে নির্বাচন হবে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীরের নেতৃত্বে এদেশে একটি ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে ইনশাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, ‘ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হলে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের কল্যাণ হবে। ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম হলে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হবে, জুলুমের অবসান ঘটবে। ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম হলে মানবিক সমাজ কায়েম হবে, যেখানে মানুষ তাঁর মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না। জামায়াত ইসলাম ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, লুটপাট ও সন্ত্রাস থাকবে না। একটি জননিরাপত্তামূলক রাষ্ট্র কায়েম জামায়াতের লক্ষ্য। সকল দল মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। শুধু সম্মেলন বা বক্তব্য দিলে হবে না ঘরে ঘরে গিয়ে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে। এই সম্মেলন থেকে আমরা চারদিকে ছড়িয়ে পড়বো। ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জনমত তৈরির জন্য আমরা প্রতিটি ঘরে ঘরে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিবো।’

ময়মনসিংহের ১১টি আসন উপহার দিতে চান এমরুল
কর্মী সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমীর কামরুল আহসান এমরুল বলেন, ‘আগামীর বাংলাদেশ হবে ইসলামের বাংলাদেশ। আমরা এই সম্মেলন থেকে আমীরে জামায়াতকে ময়মনসিংহের ১১টি আসন উপহার দিতে চাই। এজন্য আমাদের কর্মী ভাইদের অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হবে। নেতা হিসেবে নয়, জনগণের সেবক হিসেবে ভূমিকা রাখতে হবে। মানুষ চাচ্ছে, আগামী দিনে আমীরে জামায়াতকে আমরা ময়মনসিংহের ১১টি আসন উপহার দিতে পারবো বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

কালের আলো/এমএএন/এমএএএমকে

শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে নতুন চার স্থায়ী কমিটি সদস্যের শ্রদ্ধা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:২৯ অপরাহ্ণ
শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে নতুন চার স্থায়ী কমিটি সদস্যের শ্রদ্ধা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির নতুন চার সদস্য শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় সংসদ ভবনসংলগ্ন সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তারা। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

এ সময় জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. আমান উল্লাহ আমান, ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বিএনপির বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

উদ্বোধনেই শেষ নয়, বাড়বে পিংক বাসের রুট ও সংখ্যা: সড়কমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৫ অপরাহ্ণ
উদ্বোধনেই শেষ নয়, বাড়বে পিংক বাসের রুট ও সংখ্যা: সড়কমন্ত্রী

নারীদের জন্য চালু হওয়া বিআরটিসির ‘পিংক বাস’ সেবা শুধু উদ্বোধনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। পর্যায়ক্রমে এ সেবার রুট ও বাসের সংখ্যা বাড়িয়ে দেশের আরও বিভাগে সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিআরটিসি ঢাকা ট্রাক ডিপো প্রাঙ্গণে ‘মহিলা বাস সার্ভিস পরিচালনা’ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, নারীদের জন্য নারী পরিচালিত ও নারীবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই ঢাকাসহ তিন শহরে ১৩টি রুটে ১৪টি বিশেষ বাস চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় ১০টি রুটে ১০টি, চট্টগ্রামে দুটি রুটে দুটি এবং বগুড়ায় দুটি রুটে দুটি বাস চলাচল করবে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, নারী যাত্রীর নিরাপত্তা শুধু বাসের ভেতরেই নয়; বাসে ওঠার আগে অপেক্ষার সময় এবং গন্তব্যে নামার পরও নিশ্চিত করতে হবে। নতুন এই সেবায় নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াতের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। পরিবার, অর্থনীতি ও রাষ্ট্র গঠনে তাদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তাই কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা ও দৈনন্দিন যাতায়াতে নারীদের জন্য নিরাপদ গণপরিবহন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

বিআরটিসির বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে লোকসানে নেই, বরং ব্রেক-ইভেন অবস্থায় রয়েছে। তবে মানসম্মত ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করতে আরও উন্নতির প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে রুট পুনর্বিন্যাস ও রুট পারমিট যৌক্তিকীকরণের কাজ চলছে।

তিনি আরও জানান, সরকার সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় ২০০টি বৈদ্যুতিক বাস সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে ১০০টি বাস নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। দ্রুত এসব বাস সড়কে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

নারী চালকদের প্রশংসা করে শেখ রবিউল আলম বলেন, নারীরা কোনো ক্ষেত্রেই পুরুষের চেয়ে পিছিয়ে নেই। যুদ্ধবিমান থেকে গণপরিবহন—সব ক্ষেত্রেই তারা দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছেন। নারী চালকদের মাধ্যমে পরিচালিত পিংক বাস সেবা নারীর ক্ষমতায়নেরও একটি প্রতীক।

মন্ত্রী বলেন, আজ যে মানের সেবা চালু হলো, দুই মাস পর সেটির মান আরও উন্নত করতে হবে। যাত্রীবান্ধব, নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করাই হবে এ উদ্যোগের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ ও সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। সভাপতিত্ব করেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

‘প্রেমের সূচক’ নিয়ে আলোচনায় এনজেল নূর

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
‘প্রেমের সূচক’ নিয়ে আলোচনায় এনজেল নূর

‘এটি শুধু কোনো গান নয়, যেন একলা কোনো বৃষ্টির বিকেলে গাড়ির কাচে জমে থাকা জলবিন্দুর মতো নীরব অনুভূতির প্রকাশ।’ এনজেল নূরের নতুন গান ‘প্রেমের সূচক’ শুনে ইউটিউবে এমনই মন্তব্য করেছেন শ্রোতা শেখ সাদমান। আরেক শ্রোতা আথিনা চাকমার কাছে নূরের কণ্ঠ মনে হয়েছে ভোরের শিশিরে ভেজা ফুলের পাপড়ির মতো কোমল ও স্নিগ্ধ।

গত ২৭ জুলাই নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ‘প্রেমের সূচক’ প্রকাশ করেন এনজেল নূর। দুই সপ্তাহের মধ্যে গানটি ৩০ হাজারের বেশি ভিউ পেয়েছে। গানটির কথা ও সুরও করেছেন তিনি নিজেই।

‘প্রেমের সূচক’ লেখার সময় নিজেকে একটি অতিথি পাখির সঙ্গে তুলনা করেছেন এনজেল। এক দেশ থেকে অন্য দেশে গিয়ে যেমন একটি অতিথি পাখি সাময়িকভাবে ঘর বাঁধে, কারও প্রেমে পড়ে, আবার আবহাওয়া বদলালে তাকে চলে যেতে হয়—গানটিতেও তেমনই অনিশ্চয়তা, বিচ্ছেদ ও ভালোবাসার আবহ তৈরি করেছেন তিনি।

পাখিটি জানে, একদিন তাকে চলে যেতে হবে। তাই প্রিয় পাখিকে বারবার তার প্রশ্ন, ‘এখনই যাবে কি চলে?’

গানটির ‘সূচক’ শব্দটির মধ্যেও একাধিক অর্থ খুঁজে নেওয়ার সুযোগ রেখেছেন এনজেল। এটি যেমন শুরু বোঝায়, তেমনি কোনো কিছুর পরিমাপক বা ইন্ডিকেটরও। তাঁর কাছে প্রিয় মানুষটির প্রতি থাকা ভালোবাসাই সেই প্রেমের অস্তিত্বের সূচক।

এর আগে ‘যদি আবার’ ও ‘তীল’ গান দিয়ে পরিচিতি পেয়েছেন এনজেল নূর। তবে কোনো একটি গান জনপ্রিয় হলেই তার আদলে পরের গান তৈরি করতে চান না তিনি। তাঁর কাছে প্রতিটি গান আলাদা গল্প।

এনজেল বলেন, তাঁর লেখা ৫৮টি গান রয়েছে এবং প্রতিটি গানে রয়েছে আলাদা গল্প। তাই নিজেকে তিনি সব সময় একজন ‘স্টোরি টেলার’ হিসেবেই পরিচয় দিতে চান।

তাঁর ভাষায়, তাঁর গানকে প্রচলিত কোনো একটি ঘরানায় সহজে ফেলা যায় না। এগুলো পুরোপুরি ক্ল্যাসিক্যাল নয়, আবার পুরোপুরি আধুনিকও নয়। রবীন্দ্রসংগীতের সঙ্গেও এগুলোর সরাসরি মিল নেই। তবে প্রতিটি গানের নিজস্ব একটি স্বর ও গল্প রয়েছে।

সুর তৈরির ক্ষেত্রেও তাঁর নিজস্ব পদ্ধতি রয়েছে। তাঁর ফোনে জমা আছে ৪১২টি সুর। নির্দিষ্ট কোনো স্টুডিও বা নির্ধারিত সময়ে বসে এসব সুর তৈরি করেননি তিনি। দৈনন্দিন জীবনের নানা মুহূর্তে হঠাৎ কোনো সুর মাথায় এলে তা ফোনে রেকর্ড করে রেখেছেন।

কখনো বাইক চালানোর সময়, কখনো রান্না করতে গিয়ে, এমনকি কারও সঙ্গে কথা বলার মধ্যেও মাথায় আসা সুর ধরে রেখেছেন তিনি।

বাণিজ্যিকভাবে জনপ্রিয় হওয়ার সুযোগ থাকলেও প্রচলিত ‘হিট’ গানের ফর্মুলায় নিজেকে বাঁধতে চান না এনজেল। তাঁর কাছে অনেক সময় বাণিজ্যিক গানের চাহিদা এমন হয়, যেখানে দ্রুত বিনোদন দেওয়ার মতো বিট ও উপাদানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তাঁর মতে, শ্রোতার তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে গিয়ে যদি সব গান একই ধরনের ফর্মুলায় তৈরি হয়, তাহলে শিল্প বা গল্প বলার জায়গাটি ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে।

ইউটিউবে মার্কেটিং, পিআর বা বুস্টিংয়ের মাধ্যমে অল্প সময়ের জন্য ট্রেন্ডিংয়ে আসাও তাঁর লক্ষ্য নয়। তাঁর মতে, এমন অনেক গান রয়েছে, যেগুলো প্রকাশের কয়েক দিন পরই শ্রোতাদের মনোযোগ থেকে হারিয়ে যায়।

এনজেল বরং চান, তাঁর গান ধীরে ধীরে মানুষের কাছে পৌঁছাক এবং ১০ বছর পরও মানুষ সেগুলো শুনুক। তাঁর কাছে দ্রুত জনপ্রিয়তার চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী শ্রোতা-সম্পর্ক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সংগীতের পাশাপাশি অভিনয় নিয়েও ব্যস্ততা রয়েছে এনজেল নূরের। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের তিনটি করে গান নিয়ে একটি অ্যালবাম করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি ১২টি মৌলিক গান নিয়ে আরেকটি অ্যালবাম তৈরির কাজও চলছে।

অভিনয়েও নতুন কাজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। সেপ্টেম্বরের শেষ অথবা অক্টোবরে একটি সিনেমার শুটিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ডালিম কুমার চরিত্রে অভিনয় করবেন এনজেল।

দ্রুত জনপ্রিয়তার স্রোতে না ভেসে নিজের মতো করে গল্প বলে যাওয়াই যেন তাঁর মূল লক্ষ্য। আর সেই গল্প বলার মাধ্যম হিসেবে এনজেলের কাছে গানই সবচেয়ে শক্তিশালী ভাষা।

কালের আলো/এসএ