খুঁজুন
                               
, ,
           

৫ উপাদানে গুরুত্ব মতিউর রহমান আকন্দের, ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ফারুকীর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৫, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ
৫ উপাদানে গুরুত্ব মতিউর রহমান আকন্দের, ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ফারুকীর

আব্দুল্লাহ আল নোমান, কালের আলো:

ময়মনসিংহ মহানগর ও জেলা জামায়াতের বিশাল কর্মী সম্মেলনে বাংলাদেশে পরিবর্তনের জন্য কমপক্ষে পাঁচটি উপাদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. সামীউল হক ফারুকী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা.শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে এদেশে একটি ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছেন। ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমীর কামরুল আহসান এমরুল ময়মনসিংহের ১১টি সংসদীয় আসন জামায়াত আমীরকে উপহার দেওয়ার দৃঢ় প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছেন।

দেশে পরিবর্তনের জন্য কমপক্ষে পাঁচটি উপাদান দরকার
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, ‘বাংলাদেশ ৫৫তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। এই ৫৫ বছরে বাংলাদেশ দুর্নীতিমুক্ত হতে পারেনি। বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে সম্মান এবং মর্যাদার সঙ্গে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি। বরং বিগত ৫৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে বিশেষ করে শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিস্ট আমলের ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। অর্থনীতিকে স্তব্ধ করে দেয়া হয়েছে। মানুষের সবচাইতে বড় আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগকে ধ্বংস করা হয়েছে। এখান থেকে সাজানো রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক নেতৃবৃন্দকে ফাঁসির আদেশ দিয়ে হত্যা করে বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিগত সাড়ে ১৫ বছরে বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার, বেঁচে থাকার অধিকার, কাজের অধিকার, ফান্ডামেন্টাল রাইটস, বেসিক রাইটসহ সবকিছুকে কেড়ে নেয়া হয়েছে। সাড়ে ১৫ বছর পর আজকে একটি মুক্ত বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি। সেজন্য আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া, আলহামদুলিল্লাহ।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি পরিবর্তন চায়। এ পরিবর্তনের জন্য কমপক্ষে পাঁচটি উপাদান দরকার। তার মধ্যে একটি হচ্ছে নেতৃত্ব। রাজনৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে মানুষ স্বপ্ন দেখে সংগঠিত হয়ে পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হয়। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অনেক শুকরিয়া যে আজকে ৫৫ বছর পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এমন একজন নেতা পেয়েছে যে নেতার নেতৃত্বে শুধু জামায়াতে ইসলামী নয়, সারা বাংলাদেশের মানুষ একটি ভবিষ্যৎ স্বপ্ন দেখার সুযোগ পেয়েছে। এই নেতৃত্বের মাধ্যমে আমরা আগামী দিনে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছি এবং জামায়াতে ইসলামী সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করবে ইনশাআল্লাহ।

দ্বিতীয়টি হচ্ছে পরিবর্তনের জন্য একটি মজবুত সংগঠনের দরকার। এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এ দেশের সর্ববৃহৎ একটি রাজনৈতিক শক্তি। জামায়াত আগামী দিনে একটি পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিবে এটাই স্বাভাবিক। তৃতীয়টি হচ্ছে একটি রাজনৈতিক দলের উত্থান ঘটে নেতাদের ত্যাগ এবং কুরবানীর মাধ্যমে। বিগত সাড়ে ১৫ বছরে বাংলাদেশের মাটিতে সবচাইতে বেশী রক্ত, সবচাইতে বেশী কুরবানী দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতে ইসলামীর তদানীন্তন আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে ফাঁসির মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। উপমহাদেশের বিখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক গোলাম আযমকে কারাগারে আটক রেখে হত্যা করা হয়েছে। বিশ্বনন্দিত মুফাসসীরে কুরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এত বড় ত্যাগ, এত বড় কুরবানী বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দল অতীতে কোন দিন দেয়নি। সুতরাং জামায়াতের এই ত্যাগ এবং কুরবানীর কারণেই বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনতা আজকে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে আগামী দিনে জামায়াতকে রাষ্ট্রক্ষমতায় নেয়ার লক্ষ্যে।

তিনি বলেন, এরপর আরেকটি জিনিস দরকার- ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ‘কন্ট্রিবিউশন টু দ্যা ন্যাশন’ একটি রাজনৈতিক দলের অবদান। জাতির প্রতি তার অবদান। জামায়াতে ইসলামীর এককভাবে জাতির প্রতি অবদান সবচাইতে বেশী। ১৯৮০ সালের ৭ ডিসেম্বর তদানীন্তন আমীরে জামায়াত অধ্যাপক গোলাম আযমের পক্ষ থেকে আব্বাস আলী খান সাহেব কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচনের গুরুত্ব এবং প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমে রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী এমন একটি পদ্ধতির উদ্ভাবন করেছিলো যে পদ্ধতি ছাড়া দেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় সমস্ত রাজনৈতিক দল একমত হয়েছিল। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত একমত হয়েছিল কেয়ারটেকার সরকার ছাড়া নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। সুতরাং জাতির প্রতি জামায়াতের এই অবদান। এই অবদানের কারণে আগামী দিনের জনগণ জামায়াতকেই তাদের পছন্দের রাজনৈতিক দল হিসেবে গ্রহণ করে নিবে ইনশাআল্লাহ।

এবার জামায়াত আরেকটি প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে। আপনারা জানেন, আমীরে জামায়াত ৯ অক্টোবর জাতির সামনে এই প্রস্তাব দিয়েছেন। এই প্রস্তাব হচ্ছে, সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির নির্বাচন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের একশত ভাগ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে। আমরা বিশ্বাস করি, একদিন বাংলাদেশের জনগণ এই পদ্ধতিও গ্রহণ করে নিবে ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী যে জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আমীরে জামায়াত দীর্ঘ কারাবরণ করার পর মুক্ত পরিবেশে ফিরে এসে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলেই জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য যে ডাক দিয়েছিলেন আজকে বাংলাদেশ মুক্ত পরিবেশে আসার পর তিনি তার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার জন্য এগিয়ে যাচ্ছেন। আপনারা লক্ষ্য করছেন, টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া বাংলাদেশের এমন কোন জনপদ নেই যেই জনপদে আমীরে জামায়াতের পদধূলি পরে নাই। আমরা ময়মনসিংহ বিভাগের জনশক্তিগণ উনাকে আরও আগেই আনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ আজকে অনেক শহীদের রক্তে রঞ্জিত শহীদ মঞ্জুরুল কবির, শহীদ কামরুল আহসান, শহীদ শওকত হোসেন তালুকদার, শহীদ আলাউদ্দিন, শহীদ কামারুজ্জামানের রক্তে রঞ্জিত বাংলাদেশে আমীরে জামায়াত আজকে আগমন করেছেন। উনার এই জনসভায় এই কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে আগামী দিনে আমরা দ্রুত এগিয়ে যেতে চাই। বাংলাদেশের এই অংশের ময়মনসিংহের পাঁচটি জেলায় আমরা আমাদের দাওয়াতী তৎপরতা ও সাংগঠনিক তৎপরতার মাধ্যমে আগামী দিনের পরিবর্তনের নেতৃত্বের অংশীদার হতে চাই। মহান রাব্বুল আলামীন আমাদের সকল প্রচেষ্টা কবুল করুন।’

ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ফারুকীর
কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. সামীউল হক ফারুকী বলেন, ‘১৭ বছরের বৈষম্য, নির্যাতন-জুলুমের অবসান ঘটিয়ে ৫ আগস্টের একটি সফল বিপ্লবের মাধ্যমে স্বৈরাচারকে হটিয়ে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশের সূচনা করা সম্ভব হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। আমরা এতোদিন কথা বলতে পারিনি। আমাদেও কথা বলার সুযোগ ছিল না। আমরা স্বৈরাচারকে হটাতে সক্ষম হয়েছি। এদেশে ইসলামের কথা অবাধে বলার সুযোগ আল্লাহ তৈরি করে দিয়েছেন। এখন অন্তর্বর্তী সময় চলছে, এরপর দেশে নির্বাচন হবে। নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ রায় দেবে কারা এদেশ শাসন করবে। আগামী দিনে যে নির্বাচন হবে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীরের নেতৃত্বে এদেশে একটি ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে ইনশাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, ‘ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হলে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের কল্যাণ হবে। ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম হলে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হবে, জুলুমের অবসান ঘটবে। ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম হলে মানবিক সমাজ কায়েম হবে, যেখানে মানুষ তাঁর মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না। জামায়াত ইসলাম ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, লুটপাট ও সন্ত্রাস থাকবে না। একটি জননিরাপত্তামূলক রাষ্ট্র কায়েম জামায়াতের লক্ষ্য। সকল দল মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। শুধু সম্মেলন বা বক্তব্য দিলে হবে না ঘরে ঘরে গিয়ে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে। এই সম্মেলন থেকে আমরা চারদিকে ছড়িয়ে পড়বো। ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় জনমত তৈরির জন্য আমরা প্রতিটি ঘরে ঘরে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিবো।’

ময়মনসিংহের ১১টি আসন উপহার দিতে চান এমরুল
কর্মী সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমীর কামরুল আহসান এমরুল বলেন, ‘আগামীর বাংলাদেশ হবে ইসলামের বাংলাদেশ। আমরা এই সম্মেলন থেকে আমীরে জামায়াতকে ময়মনসিংহের ১১টি আসন উপহার দিতে চাই। এজন্য আমাদের কর্মী ভাইদের অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হবে। নেতা হিসেবে নয়, জনগণের সেবক হিসেবে ভূমিকা রাখতে হবে। মানুষ চাচ্ছে, আগামী দিনে আমীরে জামায়াতকে আমরা ময়মনসিংহের ১১টি আসন উপহার দিতে পারবো বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

কালের আলো/এমএএন/এমএএএমকে

ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডে নিষিদ্ধ হচ্ছে মদ-জুয়া ও বেটিংয়ের বিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২১ অপরাহ্ণ
ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডে নিষিদ্ধ হচ্ছে মদ-জুয়া ও বেটিংয়ের বিল

শরিয়াহসম্মত কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট সেবা চালুর লক্ষ্যে ‘ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড অপারেশনস অব ব্যাংকস’ শীর্ষক নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নীতিমালায় ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে মদ, জুয়া, নাইটক্লাবসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ খাতে লেনদেন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ইসলামি ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি বিভাগ (আইবিআরপিডি) থেকে জারি করা সার্কুলারে নীতিমালাটি অবিলম্বে কার্যকর করতে বলা হয়। দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে সার্কুলারটি পাঠানো হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী, ইসলামি ব্যাংকিং সেবা দেওয়া যেকোনো তফসিলি ব্যাংক টাকায় ইসলামিক ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করতে পারবে। তবে বৈদেশিক মুদ্রা বা ডুয়াল কারেন্সি কার্ড ইস্যুর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে অনুমোদিত ডিলার হতে হবে।

ইসলামিক ক্রেডিট কার্ডে নগদ উত্তোলন বা বিলম্বে পরিশোধযোগ্য দায় ‘কার্দে হাসান’ বা সুদমুক্ত ঋণ হিসেবে বিবেচিত হবে। গ্রাহককে কেবল মূল অর্থ পরিশোধ করতে হবে। ব্যাংক কার্ড ইস্যু, নেটওয়ার্ক সুবিধা, হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ও লেনদেন প্রক্রিয়াকরণের মতো নির্দিষ্ট সেবার বিপরীতে ‘উজরাহ’ বা সেবা ফি নিতে পারবে।

তবে এসব ফি বকেয়া স্থিতি, ক্রেডিট সীমা কিংবা বিলম্বের সময়ের সঙ্গে বাড়ানো যাবে না। প্রচলিত সুদের হারের সঙ্গেও কোনো ফি যুক্ত করা যাবে না।

নীতিমালায় ব্যাংকগুলোকে ফি ও চার্জ তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঋণের সঙ্গে সম্পর্কহীন কিছু ফিতে মুনাফার উপাদান থাকতে পারবে। অন্যদিকে ঋণের সঙ্গে সম্পর্কিত ফি কেবল প্রকৃত প্রত্যক্ষ ব্যয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। বকেয়া স্থিতি, বিলম্বের সময় বা ক্রেডিট সীমার ভিত্তিতে বাড়ে—এমন ফি নেওয়া যাবে না।

গ্রাহক নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে চুক্তির সময় নির্ধারিত একটি অর্থ দান হিসেবে দেওয়ার অঙ্গীকার করতে পারবেন। এ অর্থ ব্যাংকের আয় হিসেবে দেখানো যাবে না; পুরো অর্থই দাতব্য খাতে দিতে হবে।

এ ছাড়া মার্চেন্ট ক্যাটাগরি কোড (এমসিসি) ব্যবহারের মাধ্যমে অনুমোদন পর্যায়েই নিষিদ্ধ খাতের লেনদেন বন্ধ করতে হবে। নীতিমালায় মদ ও মদজাতীয় পণ্য, জুয়া ও ক্যাসিনো, বেটিং, নাইটক্লাব ও বার, তামাকজাত পণ্য, শুকরের মাংস ও অ-হালাল মাংস, অশ্লীল কনটেন্ট, ক্রিপ্টো ট্রেডিং, জ্যোতিষ ও ভাগ্য গণনার মতো খাতকে নিষিদ্ধ তালিকায় রাখা হয়েছে।

এই তালিকা অন্তত বছরে একবার পর্যালোচনা করতে হবে। কোনো ব্যতিক্রমের ক্ষেত্রে শরিয়াহ সুপারভাইজরি কমিটির (এসএসসি) আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন

তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে নতুন আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:০৮ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে নতুন আলোচনা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, আগামী নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে সফরের উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ার পর ভারত ও বাংলাদেশ নতুন করে সফরের সময়সূচি নির্ধারণে আলোচনা করছে। আগামী অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ অথবা নভেম্বরের শুরুতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়াম নয়াদিল্লিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বিষয়ে আলোচনা আরও গতি পেতে পারে।

তবে সফরটি শেষ পর্যন্ত হবে কি না, তা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। সেটি হলো ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যু।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের জন্মদিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শুভেচ্ছা জানানো এবং মোদির দ্রুত জবাব দেওয়ার ঘটনাকে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক যোগাযোগের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে সম্ভাব্য সফরের তারিখ দ্রুত চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

এদিকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের ঢাকায় সাম্প্রতিক সফর নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ১৭ সেপ্টেম্বর তার ঢাকায় আসার খবর প্রকাশ পেলেও ভারত বা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত বা অস্বীকার করা হয়নি।

নতুন বাংলাদেশি হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়ামের নয়াদিল্লিতে দায়িত্ব গ্রহণকেও দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

তবে তারেক রহমানের ভারত সফরের তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। ফলে নভেম্বরের সম্ভাব্য সফরটি শেষ পর্যন্ত কোন তারিখে এবং কী কর্মসূচিতে হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

তথ্যসূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর প্রাণহানি, পাশাপাশি চিতায় দাহ

পঞ্চগড় সংবাদদাতা
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ
স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীর প্রাণহানি, পাশাপাশি চিতায় দাহ

পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে স্বামীর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্ত্রীরও মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, স্বামীর মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে তিনি রেললাইনে গিয়ে প্রাণ হারান। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ পাশাপাশি চিতায় দাহ করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের মালিগাঁও গ্রামে। মৃত দম্পতি হলেন—মালিগাঁও গ্রামের হরেন্দ্রনাথ বর্মণ (৮০) ও তার স্ত্রী নিত্যবালা বর্মণ। হরেন্দ্রনাথ স্থানীয় একটি মন্দিরের পূজারি ছিলেন। তার স্ত্রী নিত্যবালাও স্বামীর সঙ্গে নিয়মিত ধর্মীয় কাজে যুক্ত থাকতেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ৯টার দিকে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় নিজ বাড়িতে মারা যান হরেন্দ্রনাথ। স্বামীর মৃত্যুর পর নিত্যবালা গভীরভাবে শোকাহত হয়ে পড়েন। তিনি দীর্ঘ সময় স্বামীর মরদেহের পাশে বসে ছিলেন।

ভোরের দিকে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান নিত্যবালা। সকালে তাকে খুঁজে না পেয়ে স্বজনরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা মালিগাঁও এলাকায় রেললাইনের পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরিবারের ধারণা, রাজশাহী থেকে পঞ্চগড়গামী আন্তঃনগর বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে পারিবারিক শ্মশানে হরেন্দ্রনাথ ও নিত্যবালার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পাশাপাশি দুটি চিতায় সম্পন্ন হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

হরেন্দ্রনাথের ছেলে রবীন চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘বাবা দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। তার মৃত্যুর পর মা সারা রাত বাবার শিয়রে বসে কেঁদেছেন। সকালে কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে রেললাইনে তার মরদেহ পাওয়া যায়।’

প্রতিবেশী যতীন চন্দ্র বর্মণ বলেন, দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে ওই দম্পতির মধ্যে গভীর ভালোবাসা ছিল। স্বামীর মৃত্যুর শোক নিত্যবালা সহ্য করতে পারেননি বলে ধারণা করছেন তারা।

আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান জানান, পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানানোর আগেই মরদেহের সৎকার সম্পন্ন করেছেন। রেললাইনে মৃত্যুর ঘটনা হওয়ায় রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি