খুঁজুন
                               
, ,
           

দায়িত্ববোধে অটুট বিশ্বাসে নতুন উচ্চতায় আমীরে জামায়াত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ জুলাই, ২০২৫, ১:১০ পূর্বাহ্ণ
দায়িত্ববোধে অটুট বিশ্বাসে নতুন উচ্চতায় আমীরে জামায়াত

রাইসুল ইসলাম খান, কালের আলো:

জীবনের ৭০টি বসন্ত পার করেছেন। কিন্তু চোখে-মুখে অবিচল তারুণ্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি এখন ভাসছেন প্রশংসায়। জামায়াতের জাতীয় সমাবেশে বারবার অসুস্থ হয়েও বক্তব্য চালিয়ে গিয়ে নজর কেড়েছেন। চূড়ান্ত দায়বদ্ধতায় উত্তীর্ণ হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। দেশের মানুষের চোখে-মুখে তিনি এখন এক বিমুগ্ধ বিস্ময়।

শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর আবেগ মিলিয়ে সেদিনের সমাবেশ মঞ্চে কী অকল্পনীয় এক মুহূর্ত। একাধিকবার মঞ্চে পড়লেও তিনি থেমে না থেকে বক্তব্য এগিয়ে নিয়েছেন। মঞ্চের ডায়াসের পাশে বসেই বক্তৃতায় বলেছেন, ‘আল্লাহ যত সময় হায়াত দিয়েছেন, তত সময় মানুষের জন্য লড়াই করবো ইনশাআল্লাহ। এ লড়াই বন্ধ হবে না। বাংলার মানুষের মুক্তি অর্জন হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। বলছিলাম, জামায়াতে ইসলামী যদি আল্লাহর ইচ্ছা এবং জনগণের ভালোবাসায়, বাংলাদেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ পায়, তাহলে মালিক হবে না, সেবক হবে ইনশাআল্লাহ।’

ফ্যাসিবাদের পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীদের কাছে আমীরে জামায়াত অনুপ্রেরণার বাতিঘর; যিনি ঈমানের দীপ্ত চেতনায় গর্জে ওঠেন। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ভাষ্যে তিনি রাজনীতির স্বপ্নপুরুষ। জাতির প্রতি নিজের অগাধ মমতা ও দায়িত্ববোধের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন এই রাজনীতিক। বক্তব্য শেষ করে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। সুস্থ হয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাঠিয়েছিলেন হাসপাতালে তাকে দেখতে। এ যেন গণতান্ত্রিক রাজনীতির এক সৌন্দর্য। জামায়াত আমিরের খোঁজ নিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূসও। জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমানকে দেখতে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ইবনে সিনা হাসপাতালে সেদিনই গিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। শনিবার রাতে জামায়াত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাতের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা জামায়াত আমিরের খোঁজ খবর নিচ্ছেন। সামনে নির্বাচন, আমরা চাই বাংলাদেশের সব দলের রাজনৈতিক নেতারা সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন। দেশ গড়ার কাজে সবাই অবদান রাখুন।’ বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানও। রোববার (২০ জুলাই) বিকেলে ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।

নীতি, আদর্শ, দূরদর্শিতা, দায়িত্ববোধ ও মানবতাবোধের জাগরণ ঘটিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে ব্যক্তিত্ব, নেতৃত্ব আর সঞ্জীবনী শক্তির পথনির্দেশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রাজনীতি, মতাদর্শ সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে এমন আত্মত্যাগের নজির কমই দেখা যায়। অনেকেই বলছেন, জামায়াতের আমির দল ছাপিয়ে এই প্রজন্মের কাছে আত্মত্যাগ, দায়িত্ব ও অটুট বিশ্বাসের এক মূর্ত প্রতীক হয়ে ওঠেছেন। এই সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমানের এমন ভূমিকা দলটির নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করে তুলেছে। ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটেছে বলেও মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।

‘লক্ষ জনতাকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যদি নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করে, তাহলে কোনো এমপি, কোনো মন্ত্রী আগামীতে সরকারি প্লট গ্রহণ করবে না। কোনো এমপি ও কোনো মন্ত্রী ট্যাক্সবিহীন কোনো গাড়ি চড়বে না। কোনো এমপি ও কোনো মন্ত্রী তার নিজের হাতে কোনো টাকা চালাচালি করবে না’- জাতীয় সমাবেশের বক্তব্যে বলেছেন ডা.শফিকুর রহমান। চাঁদার রাজনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থানের কথাও জানান দিয়েছেন। আমীরে জামায়াত বলেছেন, ‘চাঁদা আমরা নেব না, দুর্নীতি আমরা করবো না। চাঁদা আমরা নিতে দেব না, দুর্নীতি আমরা সহ্য করবো না। আজীবন সবার রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেছি, জেল-জুলুমের পরোয়া করি নাই।’ তাঁর এসব বক্তব্য দেশের সাধারণ মানুষকেও করেছে আশান্বিত।

কালের আলো/এমএএইচএন

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৫২ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী সেশনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এ অধিবেশনের উদ্বোধন হয়। ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী কার্যক্রম শুরু হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামসহ বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের ঊর্ধ্বতন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অধিবেশনের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

এর আগে সকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বিশ্বনেতাদের সম্মানে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

কালের আলো/এমএসআইপি 

পুলিশকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার চেষ্টা রুখতে জনসম্পৃক্ততার ডাক তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

বিশেষ সংবাদদাতা ও ময়মনসিংহ প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ
পুলিশকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার চেষ্টা  রুখতে জনসম্পৃক্ততার ডাক তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করতে একটি চক্র নানা ধরনের বিতর্ক ও বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে এককভাবে নির্ভর না করে জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের বিষয়ে গোপনে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

  • জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বয় কমিটি গঠনের তাগিদ
  • অপরাধীদের গোপন তথ্য দিতে আহ্বান
  • মাদকবিরোধী অভিযানে বাড়ি বাড়ি যাওয়ার নির্দেশ

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সীমিত পুলিশ, বাড়াতে হবে জনসম্পৃক্ততা
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, একটি থানায় কর্মরত সীমিতসংখ্যক পুলিশ সদস্য দিয়ে এককভাবে পুরো এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অপরাধের ধরন ও পরিধি বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন। এ জন্য স্থানীয় পর্যায়ে পুলিশ-জনগণের সমন্বয় কমিটি গঠনের ওপর জোর দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব শুধু পুলিশের ওপর রেখে দিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে অপরাধসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ এবং দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তা জানানোর ব্যবস্থা কার্যকর হলে অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের সক্ষমতাও বাড়তে পারে—এমন একটি সমন্বিত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার কথাই তুলে ধরেন তিনি।

‘বিতর্ক সৃষ্টি করে পুলিশকে দুর্বল করার চেষ্টা’
পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করতে একটি চক্র নানা ধরনের বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে উল্লেখ করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তথ্য প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, অপরাধীদের শনাক্ত করতে জনগণকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য গোপনে পুলিশকে দিতে হবে।

একই সঙ্গে একটি নিষিদ্ধ দলের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও তৎপর থাকার আহ্বান জানান তিনি। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে যেন নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও পুলিশকে কঠোরভাবে সতর্ক করেন প্রতিমন্ত্রী।

মিথ্যা মামলা নয়, আইনের প্রয়োগে সতর্কতা
পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, কোনো অবস্থাতেই মিথ্যা মামলা নেওয়া যাবে না। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিরীহ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, সংবাদকর্মীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, মিথ্যা অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের মাধ্যমে এলাকায় যাতে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সেদিকে সাংবাদিকদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। অর্থাৎ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে একদিকে পুলিশের সক্রিয়তা, অন্যদিকে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল তথ্য পরিবেশন—দুই দিকের ভারসাম্যকেই গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

মাদকবিরোধী অভিযানে তালিকা ধরে অভিযান
মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে মাদক কারবারিদের তালিকা অনুযায়ী বাড়ি বাড়ি অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। ইয়াবাসহ মাদক উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণকেও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তাঁর বক্তব্যে মাদক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শুধু অভিযান পরিচালনার পরিবর্তে স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য, জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা এবং নাগরিক সহযোগিতাকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। মাদক কারবারিদের শনাক্তকরণ ও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন তিনি।

নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবাশীষ কর্মকার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালাহ উদ্দিন মাহমুদ এবং নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ করেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। এ সময় নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে নান্দাইল উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এর আগে পাঁচ দিনের সফরে মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহের নান্দাইলে পৌঁছান ইয়াসের খান চৌধুরী। সফরের অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জ ও জামালপুরের একাধিক কর্মসূচিতে তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএএএমকে

সংবাদমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার পর ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু হোয়াইট হাউসের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
সংবাদমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার পর ‘ট্রাম্প টিভি’ চালু হোয়াইট হাউসের

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস থেকে চালু হয়েছে ‘ট্রাম্প টিভি: দ্য এসেনশিয়ালস স্টেশন’ । ২১ সেপ্টেম্বর থেকে চ্যানেলটির সম্প্রচার শুরু হয়। হোয়াইট হাউসের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে এটি পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রশাসনের ঘোষণা, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য ও বিভিন্ন পুরোনো ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে।

চ্যানেলটি চালুর সময়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে, কারণ এর কয়েক দিন আগে CNN, পলিটিকো ও MS NOW-এর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্প ওই সংবাদমাধ্যমগুলোর কাভারেজ নিয়ে আপত্তি প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ প্রচারের অভিযোগ করেন।

সরাসরি প্রশাসনের ভিডিও

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প টিভিতে প্রশাসনের ভিডিও, প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ও বিভিন্ন ঘোষণা সম্প্রচার করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্টের অতীতের নির্বাচিত ভিডিও এবং প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফুটেজও এতে দেখানো হচ্ছে।

সরকার ও প্রেসিডেন্টের নিজস্ব ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে সরাসরি বক্তব্য প্রচারের নজির অবশ্য নতুন নয়। তবে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের চলমান বিরোধের মধ্যে নতুন চ্যানেলটি চালু হওয়ায় বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।

তিন সংবাদমাধ্যমের মামলা

হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরে পেতে CNN, পলিটিকো ও MS NOW ২১ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনের ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে। প্রতিষ্ঠান তিনটি অভিযোগ করেছে, তাদের সংবাদ কাভারেজের কারণে প্রবেশাধিকার বাতিল করা মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সুরক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

মামলায় তারা দ্রুত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন করেছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার একটি বিশেষ সুবিধা এবং প্রেসিডেন্টের কাভারেজ নিয়ে প্রশাসনের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে।

টেলিভিশন পুলে সংকট

হোয়াইট হাউসে সব টেলিভিশন চ্যানেলের ক্যামেরা একসঙ্গে প্রবেশ করতে না পারায় দীর্ঘদিন ধরে প্রধান সম্প্রচারমাধ্যমগুলো একটি টিভি পুলের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠান কাভার করে আসছে। CNN, ABC, CBS, NBC ও Fox News এই ব্যবস্থার অংশ।

CNN-কে পুল থেকে বাদ দেওয়ার পর অন্য বড় সম্প্রচারমাধ্যমগুলোও প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত পুল কাভারেজ স্থগিত করে। ফলে ট্রাম্পের কয়েকটি অনুষ্ঠানের ভিডিও কাভারেজে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি তৈরি হয়।

স্বাধীন সাংবাদিকতার বিকল্প কি?

ট্রাম্প টিভিতে প্রচারিত ভিডিও ও তথ্য প্রশাসন নিজেই তৈরি, বাছাই ও প্রচার করবে। ফলে এটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের মতো বাইরের সাংবাদিকদের অনুসন্ধান, প্রশ্ন, যাচাই বা সম্পাদনার মাধ্যমে তৈরি সংবাদপ্ল্যাটফর্ম নয়।

সমর্থকেরা বলছেন, এর মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমের মধ্যস্থতা ছাড়াই প্রেসিডেন্টের বক্তব্য সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। অন্যদিকে সংবাদমাধ্যম ও প্রেস-স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, সরকারি যোগাযোগমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ভূমিকা আলাদা।

এদিকে CNN, পলিটিকো ও MS NOW-এর করা মামলার মাধ্যমে বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন।

কালের আলো/এসএ