খুঁজুন
                               
শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ২৮ চৈত্র, ১৪৩২
           

গোপালগঞ্জে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার হয়নি, আ.লীগ কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে মেজর সাদিক সেনা হেফাজতে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই, ২০২৫, ৫:৫৯ অপরাহ্ণ
গোপালগঞ্জে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার হয়নি, আ.লীগ কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে মেজর সাদিক সেনা হেফাজতে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

গোপালগঞ্জে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি বলে জানিয়েছেন সেনাসদরের মিলিটারি অপারেশনস ডাইরেক্টরেটের (কর্নেল স্টাফ) কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘গোপালগঞ্জে শুধু ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়নি; ককটেলও নিক্ষেপ করা হয়েছে। যখন সেখানে জীবননাশের হুমকি ছিল তখন আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বল প্রয়োগ করে।’ বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকেলে ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেসে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশ কেন্দ্র করে কয়েক দফা হামলা হয়েছে। সরকার থেকে বলা হচ্ছে এ ধরনের তথ্য ছিল, হামলা হতে পারে। তাহলে এ তথ্য সেনাবাহিনীর কাছে ছিল কি না, আর থাকলে কয়েক দফা হামলা হলো কেন? প্রাণঘাতি অস্ত্র ব্যবহারের পরিস্থিতি নিয়ে কথা হচ্ছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দল কোথায় সমাবেশ করবে এটা ক্লিয়ারেন্স দেয় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন থেকে। আমাদের কাছে এসব বিষয়ে কোনো তথ্য ছিল না। গোপালগঞ্জে একটি অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি ছিল। শুধুমাত্র ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়নি ককটেলও নিক্ষেপ করা হয়েছে। যখন সেখানে জীবননাশের হুমকি ছিল তখন আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বল প্রয়োগ করে। এখানে প্রাণঘাতী কোনো অস্ত্রের ব্যবহার করা হয়নি।’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা স্পষ্টভাবে বলেছেন ‘গোপালগঞ্জে সেনাবাহিনী গুলি করেছে’, এই বিষয়ে সেনাবাহিনীর অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গোপালগঞ্জে কি হয়েছিল সেটার সত্যতা উদঘাটনের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। আমরা আশা করি এই তদন্ত কমিটি সত্য ও সঠিক ঘটনা উন্মোচন করতে পারবে।’

এনসিপির নেতাদের জীবননাশের হুমকি ছিল বলে সেনাবাহিনী নিরাপত্তা দিয়েছে বলা হচ্ছে, তাহলে অনেকেইতো এমন পরিস্থিতি হয় তখন কি সেনাবাহিনী সক্রিয় থাকে, নাকি বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি সেনাবাহিনীর দুর্বলতা আছে? এমন প্রশ্নের জবাবে কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের বিশেষ কোনো দলের প্রতি আলাদা কোনো নজর নেই। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর কাছে সবাই সমান। যেখানে জনদুর্ভোগ ও জীবননাশের হুমকি থাকে সেখানে আমরা কঠোর হই বা জনসাধারণকে সহযোগিতা করি। গোপালগঞ্জে যদি সেনাবাহিনী সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করতো তাহলে সেখানে অনেক হতাহত বা জীবননাশের ঘটনা ঘটতে পারতো।

গোপালগঞ্জে এনসিপি যখন ঝামেলায় পড়েছে তখন সেনাবাহিনী প্রটেকশন দিয়েছে। আবার এখন শোনা যাচ্ছে সেনাবাহিনী তাদের আর প্রটেকশন দেবে না, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী কোনো রাজনৈতিক দলকে বিশেষভাবে কখনো সহায়তা করেনি। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর কাছে সবাই সমান। গোপালগঞ্জে যেটা হয়েছে ওই রাজনৈতিক দলের (এনসিপি) জীবননাশের হুমকি ছিল। তাদের জীবন বাঁচানোর জন্যই সেনাবাহিনী সহযোগিতা করেছে। এখানে জীবন বাঁচানোই মূল লক্ষ্য ছিল, অন্য কিছু না।’

পার্বত্য অঞ্চলে সন্ত্রাসীদের সংঘাতেকে সেনাবাহিনী কীভাবে দেখছে? প্রশ্ন করা হলে সেনা সদরের এই কর্মকর্তা বলন, চাঁদাবাজি ও মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য বিভিন্ন দুষ্কৃতকারী এটা করে থাকে। আমাদের কার্যক্রম ও অভিযান জারি রেখেছি। ভবিষ্যতেও আমাদের কার্যক্রম চলমান থাকবে।

বান্দরবানের আর্মি ক্যাম্প গুঁটিয়ে নেওয়া, কুকি-চিন, আরকানা আর্মি ও বান্দরবানে অস্ত্র কেনা-বেচা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রটেকশন দিয়ে যাচ্ছে এবং ভালোভাবে দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের বর্তমান ক্যাম্পগুলোতে আমাদের আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে যদি আমাদের ক্যাম্পের প্রয়োজন হয় তাহলে আমরা টেম্পরারি অপারেটিং বেইস করে আমরা আমাদের আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনা করছি।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মাদক ও চাঁদাবাজির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৫ হাজার ৫৭৬ জনকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে। চাঁদাবাজ বা অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে যেসব আইনশৃঙ্খলা এজেন্সিগুলোর সর্বাজ্ঞে দায়িত্ব পালন করার কথা তারা যদি কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করে তাহলে আরও কমে আসবে বলে আশা করি। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের যে আভিযানিক দায়িত্ব আছে আমরা সেটা সর্বদা পালন করছি। আমরা সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি একসঙ্গে কাজ করি তাহলে চাঁদাবাজির মতো অপরাধ কমে আসবে বলে বিশ্বাস করি। অপরাধীদের গ্রেফতার করার পর বিচারিক প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করার পর আমাদের আর কিছু করার থাকে না।’

আওয়ামী লীগ কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে মেজর সাদিক সেনা হেফাজতে
আওয়ামী লীগের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন মেজর সাদিক নামে একজন সেনা কর্মকর্তা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আসা বিষয়টি নজরে আনা হলে সেনা সদরের মিলিটারি অপারেশনস পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজিম-উদ-দৌলা সাংবাদিকদের বলেন, মেজর সাদিককে হেফাজতে নিয়েছে সেনাবাহিনী এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) বিকালে ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেস ‘এ’-তে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজিম-উদ-দৌলা বলেন, মেজর সাদিকের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। যদিও বিষয়টি তদন্তাধীন আছে, তারপরও আমি বলবো, এরকম একটা ঘটনার কথা জানার পরে সেনাবাহিনী তাকে হেফাজতে নিয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তে তিনি দোষী প্রমাণিত হলে নিঃসন্দেহে সেনাবাহিনীর প্রচলিত নিয়মে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যেহেতু বিষয়টি তদন্তাধীন আছেÑ তাই এর বেশি এই মুহূর্তে বলা আমার মনে হয় সমীচীন হবে না।

পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজিম-উদ-দৌলা সাংবাদিকদের বলেন, ইউপিডিএফ, জেএসএসের মতো পার্বত্য চট্টগ্রামে যে পার্টিগুলো আছে, আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে তারা সবসময়ই সংঘাতে লিপ্ত থাকে। সেনাবাহিনী এসব নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। কেএনএফ নামের সশস্ত্র সংগঠনটি আরাকান আর্মির কাছ থেকে অস্ত্র নিচ্ছে এবং আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, আরাকান আর্মি এখন এমন একটা অবস্থায় আছে, তাদের সঙ্গে কেএনএফের যোগসূত্র সৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তারা মোটামুটি একই গোত্রীয় মানুষ এবং একই ধরনের মানসিকতা নিয়ে তারা কাজ করছে। সেক্ষেত্রে কেএনএফ আরাকান আর্মির কাছ থেকে যদি কোনও অস্ত্র পেয়েও যায়, এতে অবাক হওয়ার কিছু নাই। কিন্তু কেএনএফ কোনও অবস্থাতেই পার্বত্যাঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করতে পারছে না।

কালের আলো/এমএএইচএন

বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরবরাহ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নে যে উদ্যোগ সরকারের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১:২৪ অপরাহ্ণ
বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরবরাহ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নে যে উদ্যোগ সরকারের

বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার সরবরাহ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। আমদানি থেকে খুচরা বিক্রয় পর্যন্ত পুরো সাপ্লাই চেইনকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল মডেলের আওতায় আনা হবে, যাতে বাজার তদারকি সহজ হয় এবং কোনো ধরনের কারসাজি দ্রুত শনাক্ত করা যায়।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে সিলেট নগরীর টিলাগড় পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় প্রথমবারের মতো সরকারি ব্যবস্থাপনায় ‘কৃষকের হাট’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। টিসিবির মাধ্যমে অধিক পরিমাণে পণ্য আমদানি করে বাজারে একটি কার্যকর ‘কাউন্টার ব্যালেন্স’ তৈরি করা হবে।

কৃষিখাতের উন্নয়নে সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং খাল পুনঃখননের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, সরকারের নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং ভবিষ্যতে দেশের বাজার আরও স্থিতিশীল হবে।

মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত এবং ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী দামে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহের লক্ষ্যে সিলেটে প্রথমবারের মতো সরকারি ব্যবস্থাপনায় চালু হয়েছে ‘কৃষকের হাট’। সিলেট জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ‘সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে নিরাপদ ও তাজা পণ্য’ স্লোগানে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকরা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ভোক্তাদের কাছে বিক্রির সুযোগ পাবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য আনতে সরকার নানা ধরনের নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

অনেক সময় উৎপাদক থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে কৃষিপণ্য চার থেকে পাঁচবার হাতবদল হয়, ফলে অযৌক্তিকভাবে দাম বেড়ে যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কৃষকের হাট’ এই মধ্যবর্তী স্তর কমিয়ে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের জন্যই একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করবে। কৃষক-ভোক্তার সরাসরি সংযোগে বাজারে স্বস্তি আসবে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

তিনি আরও জানান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত স্থানে সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে এই হাট বসবে, যেখানে কৃষকরা সরাসরি পণ্য বিক্রি করবেন। প্রশাসনের নজরদারির কারণে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অপ্রত্যাশিত খরচের সুযোগ থাকবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াত এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামসুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএকে

টাঙ্গাইলে রাস্তার পাশে ঝোপে মিলল জীবিত নবজাতক

টাঙ্গাইল প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১:২৪ অপরাহ্ণ
টাঙ্গাইলে রাস্তার পাশে ঝোপে মিলল জীবিত নবজাতক

টাঙ্গাইলের সখীপুরে রাস্তার পাশের ঝোপ  থেকে জীবিত অবস্থায় এক নবজাতক কন্যা শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের বারোমন্ডলের চালা এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুর ছালাম বলেন, ভোরে ফজরের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে তিনি হঠাৎ শিশুর কান্নার শব্দ শুনতে পান। পরে রাস্তার পাশের ঝোপঝাড়ের ভেতরে গিয়ে নবজাতকটিকে দেখতে পান। খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে কোনো কাপড় ছিল না, শুধু একটি পাতলা কাঁথায় মোড়ানো ছিল। এরপর দ্রুত শিশুটিকে সখীপুর মা ও শিশু ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসক ডা. শামসুল আলমের তত্ত্বাবধানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মির্জাপুর উপজেলার কুমুদিনী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রাতে বাইরে থাকার কারণে শিশুটির শ্বাসকষ্ট ও ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রুহুল আমিন বলেন, শিশুটি এক নিঃসন্তান দম্পতি ইব্রাহিম ও নার্গিসের হেফাজতে রয়েছে। তারা শিশুটিকে লালন-পালনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনসুর আহমেদ বলেন, রাস্তার পাশ থেকে জীবিত নবজাতক উদ্ধারের বিষয়টি জেনেছি। শিশুটির চিকিৎসা চলমান রয়েছে। সম্পূর্ণ সুস্থ হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

সংরক্ষিত নারী আসনে কারা প্রাধান্য পাবেন, জানালেন রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১:১৭ অপরাহ্ণ
সংরক্ষিত নারী আসনে কারা প্রাধান্য পাবেন, জানালেন রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, আন্দোলন সংগ্রামে যাদের ভূমিকা রয়েছে, যাদের সংসদে কথা বলার দক্ষতা রয়েছে, সমাজে যাদের সুনাম আছে সংরক্ষিত নারী আসনে দল তাদেরই বাছাই করবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

আজ (শনিবার) বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী আহমেদ বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য গতকাল শুক্রবার (১০ এপ্রিল) প্রায় পাঁচ শতাধিক ফরম বিক্রি হয়েছে। আজ শনিবার (১১এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে আমাদের অফিসের কর্মকর্তারা ফরম বিতরণ করছেন। আপনারা জানেন গতকাল শুক্রবার, আজকে শনিবার ও আগামীকাল রোববার এই তিনদিন ফরম বিতরণ ও জমা নেওয়া হবে। এটা অব্যাহতভাবে চলবে। গতকালও অনেকে জমা দিয়ে গেছেন। দলের সিনিয়র নেতাদের সমন্বয়ে যে বোর্ড আছে সেখানে আবেদনগুলো যাবে। কী পদ্ধতিতে ও কোন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে সেটি আজ-কালের মধ্যে জানা যাবে।

তিনি বলেন, আমরা প্রত্যাশা করছি গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুযায়ী বিএনপি যে প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যদের বাছাই করে। একইভাবে এবারও সেই পদ্ধতিটি অবলম্বন করা হবে। অর্থাৎ যারা প্রার্থী হতে ইচ্ছুক তাদের মনোনয়ন ফরম বিতরণ করছি। সেটি তারা পূরণ করে যেসব ডকুমেন্ট চাওয়া হচ্ছে, সেই ডকুমেন্টসহ আমাদের কাছে জমা দেবেন।

তিনি বলেন, এবারের প্রত্যাশা অত্যন্ত বেশি এই কারণে যে দীর্ঘ ১৬/১৭ বছর এক ভয়ানক দুর্বিসহ পরিস্থিতি অতিক্রম করে আজ এই জায়গায় উপনীত হয়েছে। একটা অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দীর্ঘ লড়াই করতে হয়েছে। ১৬ বছরের লড়াইয়ের পর গণতান্ত্রিক চর্চার যে পরিবেশটি পাওয়া গেছে সেটির সর্বোচ্চ ব্যবহার আমাদের করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সংসদ এবং অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের যেগুলো রয়েছে, যেমন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রত্যেকটা জায়গায় জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন।

সংরক্ষিত মহিলা আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ভিড়ে গতকাল থেকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ব্যাপক সগরম হয়ে উঠেছে। আজও সকাল থেকে নেতাকর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মহিলা আসনের মনোনয়ন বিক্রিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন নয়াপল্টন কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের আনাগোনা বেড়েছে।

বিএনপির নারী আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের বাসা-অফিসে গিয়ে বিগত আন্দোলন সংগ্রামে নিজেদের অবদান তুলে ধরার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অবদানের কথা তুলে ধরতেও দেখা গেছে।

কালের আলো/এসএকে