খুঁজুন
                               
, ,
           

বুয়েটের নকশায় বাস্তবায়নের পরেও ঢাকা স্টেডিয়ামে ফ্লাডলাইট নিয়ে বিভ্রান্তির নেপথ্যে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ
বুয়েটের নকশায় বাস্তবায়নের পরেও ঢাকা স্টেডিয়ামে ফ্লাডলাইট নিয়ে বিভ্রান্তির নেপথ্যে

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন নিয়ে নতুন নতুন দৃশ্যপটের সূচনা হচ্ছে। সূত্রপাত হচ্ছে নতুন নতুন ঘটনা। মাঠে ও মাঠের বাইরে ক্রিকেটীয় সব সমীকরণ বা ব্যাকরণ পাল্টে যাচ্ছে। নির্বাচন না করার ঘোষণা দিলেও অবধারিতভাবে ঘুরেফিরে তার নামটাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তিনি বর্তমান পরিচালক মাহবুব আনাম। প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময় দেশের ক্রিকেটকে বুকের উত্তাপে আগলে রেখেছেন। ৭৬টি ক্লাবের সংগঠকরাও চান তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করুন।

তবে সামনা সামনি বর্ষীয়ান এই ক্রিকেট সংগঠকের সঙ্গে যারা কুলিয়ে উঠতে পারেন না তারা নানা বাহানায় নন ইস্যুকে ইস্যু করে জল ঘোলা করতে হন্তদন্ত। এখন ঢাকা স্টেডিয়ামের ফ্ল্যাডলাইট নিয়ে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে গল্প-কেচ্ছা বানিয়ে পর্বতে মুষিক প্রসব স্টাইলে মাহবুব আনামকে ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে দুর্বল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত নব্য ফ্যাসিস্টরা!

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের ডিজাইনে স্টেডিয়াম সংস্কারের নথি মোতাবেক ৩৮০টি ফ্ল্যাডলাইট লাগানো হয়েছে। কোথাও কোন ব্যত্যয় ঘটেনি। অথচ ৪৩০টি লাইট দেওয়ার ভুয়া খবর ছড়ানো হচ্ছে। মাহবুব আনামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এরোনেস ইন্টারন্যাশনাল পুরো কাজটি বাস্তবায়ন করেছে। স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইটের জন্য স্পেন থেকে আমদানি করা হয় ফিলিপস ব্র্যান্ডের এলইডি লাইট। ফ্লাডলাইট বাবদ ব্যয় হয় ৩৯ কোটি টাকা।

জানা যায়, বুয়েটের বিশেষজ্ঞরা সরেজমিনে স্টেডিয়াম পরিদর্শন করে ফ্লাডলাইট কীভাবে, কোথায় স্থাপন করা হবে, সে ব্যাপারে মতামত দেন। পুরনো টাওয়ার প্রতি এলিইডি বসানো হয়েছে ৫৫টি। চারটি টাওয়ারে ২২০টি এলিইডি লাইট বসানো হয়েছে। ১৬০টি লাইট বসানো হয়েছে স্টেডিয়ামের ছাউনির ক্যানোপিতে। বুয়েটের নকশায় শুধু ক্যানোপিতেই নয় পুরো ডিজাইনের বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আগের মেটাল হ্যালাইডের জায়গায় এবার বসানো হয় এলইডি লাইট।

সূত্র জানায়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সঙ্গে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের শর্ত ছিল ফ্লাডলাইট শিপমেন্টের আগে পরিদর্শনের। সেই শর্ত অনুযায়ী, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন ) মাহবুব মোরশেদ সোহেল, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের একজন প্রকৌশলী, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব স্পেনের মাদ্রিদে গিয়েছিলেন। সকল কিছু পর্যবেক্ষণ করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ইতিবাচক সম্মতি দেওয়ায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দ্রুততার সঙ্গে স্পেন থেকে ফ্লাডলাইট বিমানযোগে ঢাকায় আনার ব্যবস্থা করে। পরে গত মাসে ফ্লাডলাইট বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়।

সূত্র মতে, প্রতিটি ফ্লাডলাইটের দাম নিয়েও মনগড়া অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। প্রতিটি লাইটের দাম পড়েছে ৪ লাখ টাকা। এর সঙ্গে ১০০% ট্যাক্স। এই স্টেডিয়ামে ব্যবহৃত ফিলিপস ব্র্যান্ডের এলইডি বাল্ব দুবাই ও কাতারে বিশ্বকাপেও ব্যবহৃত হয়েছে। ক্যানোপিসহ কোথায় কী লাগানো হবে এটি নির্ধারণ করে দিয়েছে বুয়েট। লাইটের সঙ্গে তার, সাব স্টেশন, সুইচ গিয়ারসহ ইত্যাকার বিষয় সম্পৃক্ত থাকলেও তথ্য বিকৃতির মাধ্যমে চটকদার হেডলাইনে দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী মাহবুব আনামের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অপচেষ্টা দিবালোকের মতোই পরিস্কার।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাহবুব আনামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে আছে দুদকের তদন্ত প্রতিবেদন ও ক্যারিবিয়ান দ্বীপের একটি দেশের নাগরিকত্বের আবেদন। তবে মাহবুবের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, এ ধরনের তথ্যগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই ছড়ানো হচ্ছে। তারা বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলেই তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। দুদকের সে মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছিল, সে সময়কার বিরোধী দলকে (বিএনপি-জামায়াত) আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা করেন। সেই সূত্র ধরে তাকে ব্যাপক নাজেহালও হতে হয়। এবার হচ্ছে তার উল্টো। আন্দোলনে সরকার পরিবর্তনের পর বলা হচ্ছে, ফ্যাসিস্টদের সহযোগী নাকি তিনি!’ মাহাবুব সংশ্লিষ্টদের দাবি, চাপে ফেলে তাকে বিসিবির নির্বাচন থেকে দূরে রাখার উদ্দেশ্যেই এসব করা হচ্ছে।

কালের আলো/এএএমকে/এমএইচ

ক্যারিবীয় সফরে দাস বাণিজ্যের জন্য ক্ষমা চাইবেন চার্লস?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
ক্যারিবীয় সফরে দাস বাণিজ্যের জন্য ক্ষমা চাইবেন চার্লস?

যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লস শিগগিরই ক্যারিবীয় অঞ্চলে সফরে যাচ্ছেন। এ সফরকে ঘিরে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের আটলান্টিক দাস বাণিজ্যে ভূমিকার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। সফরের সময় রাজা চার্লসের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি দাস বাণিজ্যে জড়িত দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ বা পুনরুদ্ধারমূলক অর্থ দেওয়ার দাবিও উঠতে পারে।

২৭ অক্টোবর রাজা তৃতীয় চার্লস ও রানি ক্যামিলা আট দিনের সফরে ক্যারিবীয় অঞ্চলে যাবেন। সফরে তারা অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, বাহামাস এবং গায়ানা সফর করবেন। অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় অনুষ্ঠিতব্য কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের বৈঠক বা CHOGM-এও তাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

বাকিংহাম প্যালেসের বরাত দিয়ে ‘দ্য টাইমস’ জানিয়েছে, সফরের সময় যুক্তরাজ্যের ইতিহাসের ‘সবচেয়ে অন্ধকার দিনগুলো’ এড়িয়ে যাওয়া হবে না। তবে যুক্তরাজ্য সরকার রাজা চার্লসকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে বা ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব দিতে কোনো পরামর্শ দেয়নি বলে জানা গেছে।

আটলান্টিকের দাস বাণিজ্যে ব্রিটিশ ভূমিকা

প্রায় দুই শতাব্দী ধরে চলা আটলান্টিকের দাস বাণিজ্যে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ১৬৬০-এর দশকে রয়্যাল আফ্রিকান কোম্পানি প্রতিষ্ঠার পর ইংল্যান্ড এ বাণিজ্যে বড় পরিসরে যুক্ত হয়। ব্রিটিশ জাহাজে পশ্চিম আফ্রিকা থেকে জোরপূর্বক মানুষকে ক্যারিবীয় অঞ্চল ও আমেরিকায় নিয়ে যাওয়া হতো। সেখানে তাদের দিয়ে চিনি, তামাক, কফি ও তুলাসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করানো হতো।

আফ্রিকা থেকে আমেরিকায় দাস পরিবহনের ভয়াবহ সমুদ্রযাত্রা ইতিহাসে ‘মিডল প্যাসেজ’ নামে পরিচিত। দীর্ঘ এই যাত্রায় রোগ, অপুষ্টি, নির্যাতন ও অমানবিক পরিবেশের কারণে বহু মানুষ প্রাণ হারান।

১৮০৭ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ‘স্লেভ ট্রেড অ্যাক্ট’ পাস করে দাস বাণিজ্য নিষিদ্ধ করে। তবে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে দাসপ্রথা পুরোপুরি বিলুপ্ত হয় ১৮৩৩ সালের ‘স্লেভারি অ্যাবোলিশন অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে।

চার্লসের আগের বক্তব্য

রাজা তৃতীয় চার্লস এর আগেও দাসপ্রথায় যুক্তরাজ্যের ভূমিকার বিষয়ে নিজের ‘ব্যক্তিগত দুঃখবোধের’ কথা জানিয়েছেন। বাকিংহাম প্যালেসের এক মুখপাত্র বলেন, ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার এবং আটলান্টিকের দাস বাণিজ্যের প্রজন্মান্তরের প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন ফোরামে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে।

তবে প্রাসাদটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ বিষয়টি মূলত সরকারের দেখার বিষয়। রাজা চার্লস তার আগের বক্তব্যগুলোতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি দাস বাণিজ্যকে ‘একটি নৃশংসতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা ইতিহাসে স্থায়ীভাবে কলঙ্কের দাগ রেখে গেছে।

বাকিংহাম প্যালেস আরও জানিয়েছে, আসন্ন সফরের মূল লক্ষ্য হবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ‘প্রাণবন্ত বর্তমান ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ’কে সামনে তুলে ধরা।

ক্ষতিপূরণের দাবি

আটলান্টিকের দাস বাণিজ্য থেকে লাভবান দেশগুলোর কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা এবং ক্ষতিপূরণের দাবি এরই মধ্যে আফ্রিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশ জানিয়েছে।

সেপ্টেম্বরে জ্যামাইকার সরকার জানায়, দাসপ্রথার জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে তারা রাজা চার্লসের কাছে একটি আবেদনপত্র দেবে। দেশটির সংস্কৃতিমন্ত্রী অলিভিয়া গ্রেঞ্জ জানান, ওই আবেদনে তিনটি প্রশ্ন প্রিভি কাউন্সিলের জুডিশিয়াল কমিটির কাছে পাঠানোর জন্য রাজাকে অনুরোধ করা হবে। এসব প্রশ্নের মধ্যে জ্যামাইকায় আফ্রিকানদের দাসত্বে পরিণত করার বৈধতার বিষয়টিও থাকবে।

তবে যুক্তরাজ্য সরকারের অবস্থান এখনো ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পক্ষে নয়। সেপ্টেম্বর মাসে ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র আটলান্টিকের দাস বাণিজ্যকে ‘ঘৃণ্য’ হিসেবে উল্লেখ করলেও বলেন, যুক্তরাজ্য দাস বাণিজ্যের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান করে না।

ফলে ক্যারিবীয় সফরে রাজা চার্লস দাস বাণিজ্যের ইতিহাস নিয়ে কী ধরনের বক্তব্য দেন এবং ক্ষমা বা ক্ষতিপূরণের দাবির বিষয়ে কোনো নতুন অবস্থান সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।

কালের আলো/এসএ

প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে ‘গৎবাঁধা ধারণা’ বদলেছে: রূপা হক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিয়ে ‘গৎবাঁধা ধারণা’ বদলেছে: রূপা হক

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশে আরও বেশি আসতে চান বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ বাংলাদেশি সংসদ সদস্য রূপা হক। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবন, পরিচয় ও দেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের নানা দিকও তুলে ধরেছেন তিনি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের ‘বাংলাদেশ সীমানা ছাড়িয়ে প্রবাসী’ শীর্ষক অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

রূপা হক বলেন, আগে বাংলাদেশে এলে রিকশাচালক থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ তাকে ‘আপা’ বা ‘আপু’ বলে ডাকতেন। এবার কেউ কেউ তাকে ‘খালামণি’ বা ‘আন্টি’ বলে সম্বোধন করছেন। তার ভাষায়, এতে নিজের বয়স বাড়ার বিষয়টি যেমন বোঝা যায়, তেমনি বাংলাদেশের মানুষের সম্মান জানানোর সংস্কৃতিটিও ফুটে ওঠে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংখ্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারি হিসাবে প্রায় ৮৭ লাখ বাংলাদেশি দেশের বাইরে বসবাস করেন। বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা ১ কোটি ৩০ লাখ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে বাংলাদেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে মানুষের নিয়মিত যাতায়াত ও যোগাযোগ রয়েছে।

তিনি জানান, সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি প্রবাসী সৌদি আরবে বসবাস করেন, যার সংখ্যা প্রায় ৩৫ লাখ। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া ফ্রান্সের প্যারিস ও স্পেনের মাদ্রিদেও বড় বাংলাদেশি কমিউনিটি রয়েছে।

রূপা হক বলেন, বাংলাদেশি প্রবাসী সমাজকে একক কোনো পরিচয়ে দেখা যায় না। কারও পরিবার বাংলাদেশের স্বাধীনতার আগেই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে, আবার তার মতো অনেকে বিদেশে জন্মেছেন। এমন বাংলাদেশিও রয়েছেন, যারা জীবনে কখনো বাংলাদেশে আসেননি। প্রজন্ম, ভৌগোলিক অবস্থান ও সামাজিক শ্রেণির পার্থক্যের কারণে প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজ অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়।

মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। তার বক্তব্য, কঠিন পরিবেশে কাজ করেও এসব শ্রমজীবী মানুষ দেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

তিনি বলেন, বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের প্রভাব দৃশ্যমান।

রূপা হক আরও বলেন, একসময় দ্বিতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশিদের নিয়ে তাদের পরিচয় সংকট বা দুই সংস্কৃতির মাঝে আটকে থাকার মতো ধারণা প্রচলিত ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে সেই ধারণা বদলেছে।

তার ভাষ্য, এখন একজন গর্বিত ব্রিটিশ-বাংলাদেশি যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের সদস্য হতে পারেন। তিনি নিজেও এমন একটি নির্বাচনী এলাকা থেকে চারবার নির্বাচিত হয়েছেন, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার বাংলাদেশি নন।

ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের পেশাগত বৈচিত্র্যের কথা উল্লেখ করে রূপা হক বলেন, সবাই রেস্তোরাঁয় কাজ করেন—এমন ধারণা সঠিক নয়। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের মধ্যে চিকিৎসক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের পাশাপাশি চতুর্থ প্রজন্মও এগিয়ে আসছে।

‘নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’ স্লোগানে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ বক্তা, ৩০০ প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী অংশ নিয়েছেন। এতে সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, কূটনীতিক, গবেষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, উদ্ভাবক ও তরুণ নেতৃত্ব অংশ নিয়েছেন। সম্মেলনটি ৫ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সালমান প্রসঙ্গ উঠতেই প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন আরবাজ

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০০ অপরাহ্ণ
সালমান প্রসঙ্গ উঠতেই প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন আরবাজ

মুম্বাইয়ের একটি অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন বলিউড অভিনেতা আরবাজ খান। অনুষ্ঠানে প্রবেশের সময় ফটোসাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন তিনি। তবে ভাই সালমান খানকে নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই হঠাৎ সেখান থেকে সরে যান আরবাজ। তার এই আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে প্রবেশের সময় ফটোসাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন আরবাজ। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘এক্সকিউজ মি। থ্যাংক ইউ, থ্যাংক ইউ।’ এরপর ছবি তোলার জন্য নির্ধারিত জায়গায় চলে যান অভিনেতা।

কিছুক্ষণ পর আবার সেখানে ফিরে আসেন আরবাজ। তখন ফটোসাংবাদিকদের উদ্দেশে পালটা প্রশ্ন করে তিনি জানতে চান, তাদের করা প্রশ্নটি অনুষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না। তাকে বলতে শোনা যায়, ‘এই প্রশ্নটা গয়না প্রসঙ্গে? আজকের অনুষ্ঠানের সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত?’

এরপর আর কোনো বিষয়ে কথা না বলে অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। তবে ভাইরাল ভিডিওতে ফটোসাংবাদিকরা ঠিক কী প্রশ্ন করেছিলেন, তা স্পষ্টভাবে শোনা যায়নি। ফলে সালমানকে নিয়ে কোন প্রসঙ্গে আরবাজের কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল, সেটিও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

সালমানকে ঘিরে সাম্প্রতিক আলোচনা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধারণা করা হচ্ছে সম্প্রতি সালমান খানকে ঘিরে আলোচনায় থাকা একটি বিষয় নিয়েই আরবাজের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিলেন ফটোসাংবাদিকরা। বর্তমানে ‘বিগ বস ২০’-এর সঞ্চালকের দায়িত্বে রয়েছেন সালমান।

সম্প্রতি ‘উইকেন্ড কা ভার’ পর্বে ভাই সোহেল খান নাম না করে অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফের শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে মন্তব্য করার প্রবণতার সমালোচনা করেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সেই প্রসঙ্গেই আরবাজের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে অনুষ্ঠানে এসে অন্য কোনো প্রসঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী ছিলেন না আরবাজ। সালমানকে নিয়ে প্রশ্নের সময় তার সরে যাওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ এমনকি দুই ভাইয়ের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

তবে ভাইরাল ভিডিওতে সালমান ও আরবাজের সম্পর্কে কোনো সমস্যা রয়েছে—এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আরবাজের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়ার পেছনে ব্যক্তিগত কারণ ছিল, নাকি অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তুর বাইরে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে চাননি—তা স্পষ্ট নয়।

অনেকের মতে, নির্দিষ্ট একটি অনুষ্ঠানে এসে ব্যক্তিগত বা অনুষ্ঠানের বাইরের কোনো বিষয়ে মন্তব্য করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেননি আরবাজ। সে কারণেই হয়তো তিনি প্রশ্নটি এড়িয়ে অনুষ্ঠানে চলে যান।

কালের আলো/এসএ