বুয়েটের নকশায় বাস্তবায়নের পরেও ঢাকা স্টেডিয়ামে ফ্লাডলাইট নিয়ে বিভ্রান্তির নেপথ্যে
বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন নিয়ে নতুন নতুন দৃশ্যপটের সূচনা হচ্ছে। সূত্রপাত হচ্ছে নতুন নতুন ঘটনা। মাঠে ও মাঠের বাইরে ক্রিকেটীয় সব সমীকরণ বা ব্যাকরণ পাল্টে যাচ্ছে। নির্বাচন না করার ঘোষণা দিলেও অবধারিতভাবে ঘুরেফিরে তার নামটাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তিনি বর্তমান পরিচালক মাহবুব আনাম। প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময় দেশের ক্রিকেটকে বুকের উত্তাপে আগলে রেখেছেন। ৭৬টি ক্লাবের সংগঠকরাও চান তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করুন।
তবে সামনা সামনি বর্ষীয়ান এই ক্রিকেট সংগঠকের সঙ্গে যারা কুলিয়ে উঠতে পারেন না তারা নানা বাহানায় নন ইস্যুকে ইস্যু করে জল ঘোলা করতে হন্তদন্ত। এখন ঢাকা স্টেডিয়ামের ফ্ল্যাডলাইট নিয়ে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে গল্প-কেচ্ছা বানিয়ে পর্বতে মুষিক প্রসব স্টাইলে মাহবুব আনামকে ব্যক্তিগত ও সামাজিকভাবে দুর্বল করার অপচেষ্টায় লিপ্ত নব্য ফ্যাসিস্টরা!
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের ডিজাইনে স্টেডিয়াম সংস্কারের নথি মোতাবেক ৩৮০টি ফ্ল্যাডলাইট লাগানো হয়েছে। কোথাও কোন ব্যত্যয় ঘটেনি। অথচ ৪৩০টি লাইট দেওয়ার ভুয়া খবর ছড়ানো হচ্ছে। মাহবুব আনামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এরোনেস ইন্টারন্যাশনাল পুরো কাজটি বাস্তবায়ন করেছে। স্টেডিয়ামের ফ্লাডলাইটের জন্য স্পেন থেকে আমদানি করা হয় ফিলিপস ব্র্যান্ডের এলইডি লাইট। ফ্লাডলাইট বাবদ ব্যয় হয় ৩৯ কোটি টাকা।

জানা যায়, বুয়েটের বিশেষজ্ঞরা সরেজমিনে স্টেডিয়াম পরিদর্শন করে ফ্লাডলাইট কীভাবে, কোথায় স্থাপন করা হবে, সে ব্যাপারে মতামত দেন। পুরনো টাওয়ার প্রতি এলিইডি বসানো হয়েছে ৫৫টি। চারটি টাওয়ারে ২২০টি এলিইডি লাইট বসানো হয়েছে। ১৬০টি লাইট বসানো হয়েছে স্টেডিয়ামের ছাউনির ক্যানোপিতে। বুয়েটের নকশায় শুধু ক্যানোপিতেই নয় পুরো ডিজাইনের বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আগের মেটাল হ্যালাইডের জায়গায় এবার বসানো হয় এলইডি লাইট।
সূত্র জানায়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সঙ্গে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের শর্ত ছিল ফ্লাডলাইট শিপমেন্টের আগে পরিদর্শনের। সেই শর্ত অনুযায়ী, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন ) মাহবুব মোরশেদ সোহেল, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের একজন প্রকৌশলী, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব স্পেনের মাদ্রিদে গিয়েছিলেন। সকল কিছু পর্যবেক্ষণ করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ইতিবাচক সম্মতি দেওয়ায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দ্রুততার সঙ্গে স্পেন থেকে ফ্লাডলাইট বিমানযোগে ঢাকায় আনার ব্যবস্থা করে। পরে গত মাসে ফ্লাডলাইট বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়।
সূত্র মতে, প্রতিটি ফ্লাডলাইটের দাম নিয়েও মনগড়া অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। প্রতিটি লাইটের দাম পড়েছে ৪ লাখ টাকা। এর সঙ্গে ১০০% ট্যাক্স। এই স্টেডিয়ামে ব্যবহৃত ফিলিপস ব্র্যান্ডের এলইডি বাল্ব দুবাই ও কাতারে বিশ্বকাপেও ব্যবহৃত হয়েছে। ক্যানোপিসহ কোথায় কী লাগানো হবে এটি নির্ধারণ করে দিয়েছে বুয়েট। লাইটের সঙ্গে তার, সাব স্টেশন, সুইচ গিয়ারসহ ইত্যাকার বিষয় সম্পৃক্ত থাকলেও তথ্য বিকৃতির মাধ্যমে চটকদার হেডলাইনে দেশের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী মাহবুব আনামের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অপচেষ্টা দিবালোকের মতোই পরিস্কার।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাহবুব আনামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে আছে দুদকের তদন্ত প্রতিবেদন ও ক্যারিবিয়ান দ্বীপের একটি দেশের নাগরিকত্বের আবেদন। তবে মাহবুবের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, এ ধরনের তথ্যগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই ছড়ানো হচ্ছে। তারা বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলেই তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। দুদকের সে মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছিল, সে সময়কার বিরোধী দলকে (বিএনপি-জামায়াত) আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা করেন। সেই সূত্র ধরে তাকে ব্যাপক নাজেহালও হতে হয়। এবার হচ্ছে তার উল্টো। আন্দোলনে সরকার পরিবর্তনের পর বলা হচ্ছে, ফ্যাসিস্টদের সহযোগী নাকি তিনি!’ মাহাবুব সংশ্লিষ্টদের দাবি, চাপে ফেলে তাকে বিসিবির নির্বাচন থেকে দূরে রাখার উদ্দেশ্যেই এসব করা হচ্ছে।
কালের আলো/এএএমকে/এমএইচ


আপনার মতামত লিখুন
Array