খুঁজুন
                               
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

বিশ্বস্ত অভিভাবক দেশনেত্রীর চিরবিদায়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:২০ অপরাহ্ণ
বিশ্বস্ত অভিভাবক দেশনেত্রীর চিরবিদায়

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

বেগম খালেদা জিয়া। আপসহীনতার প্রতীক। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান। দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন। স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর দলের প্রয়োজনে হাল ধরেছিলেন। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছেন। লাজুক গৃহবধূ থেকে সময়ের প্রয়োজনে আশির দশকেই হয়ে উঠেছিলেন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রধান মুখ। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রেখে পেয়েছিলেন ‘আপসহীন নেত্রী’র খ্যাতি-উপাধি। নীতির প্রশ্নে কখনও আপস করেননি। দীর্ঘ বর্ণাঢ্য জীবনে হয়েছেন কখনও কারাবন্দি কখনও গৃহবন্দি। তার ‘আপসহীন’ তকমাটি কাগুজে নয় বরং সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। তিনি প্রমাণ করেছেন নেতৃত্ব জন্মসূত্রে নয় বরং সঙ্কটেই তাঁর জন্ম।

স্বামী-সন্তান হারানোর বেদনা ছিল তাঁর জীবনে। কঠিন লড়াই-সংগ্রামের গল্প যেমন ছিল তেমনি সাফল্যমণ্ডিতও করেছেন নিজেকে। তার ওপর চাপানো হয়েছিল মামলার পাহাড়। তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় রাজনীতি, প্রতিরোধ ও প্রত্যয়ের যেন এক মহাকাব্যিক দলিল। ভোট রাজনীতিতে জীবনভর অপরাজিত থেকেছেন, হারেননি কখনও। কিন্তু মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় জীবনের কাছে হেরে গেলেন। টানা ৩৭ দিন রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে দেশবাসীকে কাঁদিয়ে দেশের মাটিতেই ত্যাগ করলেন শেষ নি:শ্বাস। যে দেশই ছিল তাঁর কাছে একমাত্র ঠিকানা। সব চেষ্টা ব্যর্থ করে চিরবিদায় জানালেন দেশনেত্রী জাতির বিশ্বস্ত অভিভাবক বেগম খালেদা জিয়া (৮০)। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন।

‘মাইনাস টু ফর্মুলার’ এক-এগারোর জরুরি সরকারের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা এবং বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে অবর্ণনীয় নির্যাতন সহ্য করা বেগম খালেদা জিয়ার জীবন প্রকৃত অর্থেই এক ত্যাগের মহাকাব্য। বিজয় মাসের শেষ মুহুর্তে তাঁর মৃত্যুতে দলমত নির্বিশেষে কাঁদছে সবাই। শোকস্তব্ধ দেশে দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সমর্থক ও সাধারণ মানুষও বাকরুদ্ধ। বিএনপি চেয়ারপারসনের মৃত্যুতে সাত দিনের শোক ঘোষণা করেছে দলটি। এছাড়া তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও আগামীকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। তাঁর জানাজা আগামীকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বাদ জোহর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা ও এর সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত হবে। তাঁকে তাঁর স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হবে। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় আসছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশের মন্ত্রী ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা এই জানাজায় উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। শোকের সঙ্গে চলছে তার রাজনৈতিক জীবনের অবিচলতা নিয়ে নানামুখী স্মরণ।

শোকার্ত কণ্ঠ প্রধান উপদেষ্টার, একটি যুগের বিদায়, শোকাহত বিশ্বনেতারাও
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর এভারকেয়ার হাসপাতালে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মির্জা ফখরুল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা আবারও আশা করছিলাম আগের মতোই তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। কিন্তু আজ ভোর ৬টায় আমাদের গণতন্ত্রের মা, আমাদের অভিভাবক, আমাদের জাতির অভিভাবক আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।’ এদিন জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস শোকার্ত হৃদয় নিয়ে বলেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতি এক মহান অভিভাবককে হারিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আজ আমাদের পুরো জাতি গভীর শোক ও বেদনায় নিস্তব্ধ। দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির শীর্ষ নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আর আমাদের মাঝে নেই। তার ইন্তেকালে আমরা গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত।’

রাজনীতির ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ পথ পাড়ি দেওয়া নেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীরভাবে শোকে মুহ্যমান দেশবাসী মনে করে-তাঁর সক্রিয় রাজনৈতিক জীবন অবসান কার্যত কোনো মৃত্যুশোক নয়। এটি একটি যুগের বিদায়। মহাকাব্যিক সংগ্রামের নীরব সমাপ্তির বেদনাময় দলিল। তিনি আর থাকবেন না রাজপথে কিংবা সভামঞ্চে মাইক্রোফোনের সামনে। কিন্তু তিনি চিরঞ্জীব হয়ে থাকবেন দেশের রাজনৈতিক স্মৃতির প্রতিটি স্তরে, দেশের মানুষের হৃদমাঝে। প্রতিটি গণতান্ত্রিক সংকটে অনুভূত হবে তাঁর গভীর শূন্যতার।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানসহ বিশ্ব নেতাদের অনেকে শোক জানিয়েছেন। শোক জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতীয় ন্যাশনাল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে শোক জানানো হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন। শোক প্রকাশ করেছেন দলটির সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গওে। খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীও।

জাতীয় নির্বাচনে ভোটে কখনও পরাজিত হননি
জাতীয় নির্বাচনে ভোটে কখনও পরাজিত হননি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি পাঁচটি পৃথক আসন থেকে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তিনটি আসনেই জয়ী হয়েছেন। ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া বগুড়া-৭, ঢাকা-৫, ঢাকা-৯, ফেনী-১ ও চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে জয়লাভ করেন। ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হন ফেনী-১ আসন থেকে। ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বগুড়া-৬, বগুড়া-৭, ফেনী-১, লক্ষ্মীপুর-২ ও চট্টগ্রাম-১ আসন থেকে জয়ী হন। একইভাবে বগুড়া-৬, বগুড়া-৭, খুলনা-২, ফেনী-১ ও লক্ষ্মীপুর-২ আসন থেকে ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিজয়ী হন। বগুড়া-৬, বগুড়া-৭ ও ফেনী-১ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হন ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে।

গৃহবধূ থেকে ৪৩ বছরের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন
অবিভক্ত ভারতের দিনাজপুর জেলার জলপাইগুড়িতে জন্ম খালেদা জিয়ার। সময়টা ১৯৪৫ সাল। বাবা ইসকান্দার আলি মজুমদারের চায়ের ব্যবসা ছিল সেখানে। ব্যবসার কথা চিন্তা করেই দেশভাগের সময় সপরিবার বাংলাদেশের দিনাজপুর শহরে চলে আসেন। যদিও খালেদা জিয়ার আদি বাড়ি বাংলাদেশের ফেনী জেলার ফুলগাজীতে। আর নানার বাড়ি ছিল তৎকালীন উত্তর দিনাজপুরে চাঁদবাড়ি এলাকায়। ১৯৬০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে খালেদার বিয়ে হয়। জন্মের সময় তার নাম রাখা হয়েছিল খালেদা খানম পুতুল। বিয়ের পরে অবশ্য স্বামীর নামের প্রথম দুই অক্ষরকেই পদবী হিসাবে ব্যবহার করেন। পরিচিত ছিলেন খালেদা জিয়া নামেই। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় স্বামী সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের পাশে থাকতে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানেও গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। বাংলাদেশে ফিরে থাকতে শুরু করেন চট্টগ্রামে। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ছয় বছর পরে, ১৯৭৭ সালে দেশের প্রেসিডেন্ট হন খালেদার স্বামী জিয়াউর রহমান। তার পরের বছর দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করতে তৈরি করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর পদাধিকার বলে ‘ফার্স্ট লেডি’ হন তার পত্নী খালেদা। সেই প্রথম আপাত অন্তর্মুখী স্বভাবের পুতুল জনসমক্ষে আসেন। তখনও অবশ্য রাজনীতিতে আগ্রহ ছিল না তার। তবে ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তাদের গুলিতে খুন হওয়ার পর মত বদলান খালেদা জিয়া। সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৮২ সালে স্বামীর প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপির সাধারণ সদস্যপদ গ্রহণ করেন। দলের সহ-সভাপতি হন ১৯৮৩ সালে। গৃহবধূ থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এসে ৪৩ বছর পার করেছেন খালেদা জিয়া। জলপাইগুড়ির সেই সহজ-সরল এবং লাজুক স্বভাবের মেয়েটি হয়ে উঠেন বিশ্বের এক আপহীন নেত্রী। ১৯৮৪ সালের দলের শীর্ষপদে আসীন হন খালেদা জিয়া।

কালের আলো/এমএএএমকে

শাড়ি-রঙিন চুড়িতে বৈশাখী সাজে মিম

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২৯ অপরাহ্ণ
শাড়ি-রঙিন চুড়িতে বৈশাখী সাজে মিম

ঢাকায় সিনেমার চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম। ২০০৭ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়ে বিনোদন জগতে পা রাখেন তিনি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক সিনেমা, ওয়েব সিরিজ, টেলিফিল্ম, বিজ্ঞাপনে কাজ করে গেছেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ সরব। এবার বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে একগুচ্ছ ছবি ভক্ত-অনুরাগীদের মাঝে শেয়ার করেছেন। শাড়িতে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী সাজে করা ফটোশুট ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নজর কেড়েছে।

শেয়ার করা ছবিতে দেখা যায়, হালকা গোলাপি আভাযুক্ত শাড়ির সঙ্গে গাঢ় রঙের ব্লাউজে ধরা দিয়েছেন মিম। ছবি শেয়ার করে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘শুভ নববর্ষ নতুন বছর, নতুন স্বপ্ন, নতুন শুরু।’ সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন ভালোবাসার ইমোজি।

পাড়ের লাল আভা এবং হাতে রঙিন চুড়ির সমন্বয় তার লুকে এনেছে উৎসবের আবহ। খোলা চুল, কপালে ছোট লাল টিপ আর সোনালি গয়নায় ফুটে উঠেছে বাংলাদেশি নারীর চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্য।

এদিকে কমেন্ট বক্সে নেটিজেনরা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে মিমের রূপের বেশ প্রশংসা করেছেন। একজন নেটিজেন লিখেছেন, ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো! সবাইকে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের অনেক অনেক শুভেচ্ছা।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘শুভ নববর্ষ, নতুন বছরের অনেক অনেক শুভেচ্ছা।’

কালের আলো/এসএকে

দেশের সংস্কৃতিতে নব দিগন্তের সূচনা হবে : প্রতিমন্ত্রী খৈয়ম

রাজবাড়ী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২৩ অপরাহ্ণ
দেশের সংস্কৃতিতে নব দিগন্তের সূচনা হবে : প্রতিমন্ত্রী খৈয়ম

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেছেন, বাংলাদেশের সাহিত্য, সভ্যতা ও সংস্কৃতিতে একটা নব দিগন্তের সূচনা হবে। আমাদের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় থেকে আমরা গোটা বাংলাদেশের সংস্কৃতি অঙ্গনকে অনেক বেশি বেগবান করে তোলার জন্য কাজ করছি।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের আজাদী ময়দানের মুক্তমঞ্চে বৈশাখ উদযাপন পর্ষদ আয়োজিত বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, আমাদের অনেক বেশি উন্নত ও সুস্থ সংস্কৃতিক ধারা গড়ে তুলতে হবে। একটা অসুস্থ সংস্কৃতির ধারা চলছে গোটা বাংলাদেশ ধরে। এখান থেকে আমাদের অবশ্যই বের করে নিয়ে আসতে হবে বাঙালির ঐতিহ্য, সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে। বাঙালির এই ঐতিহ্য, সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে সুস্থ ও সাবলীল ধারায় ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের মন্ত্রণালয় কাজ করছে। আমরা আগামী বছর ইনশাআল্লাহ অন্যরকম একটা পহেলা বৈশাখ পালন করবো। প্রতি বছরই রাজবাড়ীতে সংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যহত থাকবে, আমরা সেই চেষ্টা করবো।

এর আগে বেলুন উড়িয়ে বর্ষবরণ উদযাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।

জানা গেছে, দ্বিতীয়বারের মতো রাজবাড়ীর ৪২টি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন একত্র হয়ে বৈশাখ উদযাপনের আয়োজন করেছে। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করে তারা। পরে নববর্ষের গান হয়। গান, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য নাটিকা, আদিবাসী সংস্কৃতিবিষয়ক অনুষ্ঠানসহ দিনব্যাপী নানা আয়োজন রয়েছে।

কালের আলো/এসএকে

টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ডের উদ্বোধনী মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ
টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ডের উদ্বোধনী মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী

কৃষক কার্ডের উদ্বোধনের জন্য টাঙ্গাইল পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সড়কপথে তিনি শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে পৌঁছান। পরে সকাল ১১টা ২২ মিনিটে তিনি কৃষক কার্ড বিতরণের মঞ্চে ওঠেন।

কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী কৃষক কার্ডের উদ্বোধন করবেন। এসময় ১৫ জনকে কৃষককে নিজ হাতে প্রধানমন্ত্রী কৃষি কার্ড বিতরণ করবেন ও গাছের চারা তুলে দিবেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আরো ৯টি উপজেলায় কৃষক কার্ডের উদ্বোধন করবেন৷

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন- মৎস ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতানা সালাউদ্দিন টুকু।

প্রথম পর্যায়ে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ১ হাজার ৪৫৩ জন কৃষক এই কার্ডের সুবিধা পাবেন।

এই কার্ডের মাধ্যমে বছরে আড়াই হাজার টাকা, কৃষকদের পরিচিতি, ভর্তুকি, ঋণ, বীজ ও সারসহ ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন কৃষকরা। এর ফলে কৃষি সহায়তা বিতরণে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং প্রকৃত কৃষকদের কাছে সরাসরি সরকারি সুবিধা পৌঁছানো নিশ্চিত হবে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে বইছে উৎসবের আমেজ বইছে। এছাড়াও কৃষকরাও আনন্দিত। অপরদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে মঞ্চ প্রস্তুত ও স্টেডিয়ামে সৌন্দর্যসহ বিভিন্ন সংস্কার করা হয়েছে।

কালের আলো/এসআর/এএএন