খুঁজুন
                               
, ,
           

বিশ্বস্ত অভিভাবক দেশনেত্রীর চিরবিদায়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:২০ অপরাহ্ণ
বিশ্বস্ত অভিভাবক দেশনেত্রীর চিরবিদায়

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

বেগম খালেদা জিয়া। আপসহীনতার প্রতীক। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান। দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন। স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর দলের প্রয়োজনে হাল ধরেছিলেন। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছেন। লাজুক গৃহবধূ থেকে সময়ের প্রয়োজনে আশির দশকেই হয়ে উঠেছিলেন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রধান মুখ। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রেখে পেয়েছিলেন ‘আপসহীন নেত্রী’র খ্যাতি-উপাধি। নীতির প্রশ্নে কখনও আপস করেননি। দীর্ঘ বর্ণাঢ্য জীবনে হয়েছেন কখনও কারাবন্দি কখনও গৃহবন্দি। তার ‘আপসহীন’ তকমাটি কাগুজে নয় বরং সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। তিনি প্রমাণ করেছেন নেতৃত্ব জন্মসূত্রে নয় বরং সঙ্কটেই তাঁর জন্ম।

স্বামী-সন্তান হারানোর বেদনা ছিল তাঁর জীবনে। কঠিন লড়াই-সংগ্রামের গল্প যেমন ছিল তেমনি সাফল্যমণ্ডিতও করেছেন নিজেকে। তার ওপর চাপানো হয়েছিল মামলার পাহাড়। তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় রাজনীতি, প্রতিরোধ ও প্রত্যয়ের যেন এক মহাকাব্যিক দলিল। ভোট রাজনীতিতে জীবনভর অপরাজিত থেকেছেন, হারেননি কখনও। কিন্তু মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় জীবনের কাছে হেরে গেলেন। টানা ৩৭ দিন রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে দেশবাসীকে কাঁদিয়ে দেশের মাটিতেই ত্যাগ করলেন শেষ নি:শ্বাস। যে দেশই ছিল তাঁর কাছে একমাত্র ঠিকানা। সব চেষ্টা ব্যর্থ করে চিরবিদায় জানালেন দেশনেত্রী জাতির বিশ্বস্ত অভিভাবক বেগম খালেদা জিয়া (৮০)। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন।

‘মাইনাস টু ফর্মুলার’ এক-এগারোর জরুরি সরকারের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা এবং বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে অবর্ণনীয় নির্যাতন সহ্য করা বেগম খালেদা জিয়ার জীবন প্রকৃত অর্থেই এক ত্যাগের মহাকাব্য। বিজয় মাসের শেষ মুহুর্তে তাঁর মৃত্যুতে দলমত নির্বিশেষে কাঁদছে সবাই। শোকস্তব্ধ দেশে দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সমর্থক ও সাধারণ মানুষও বাকরুদ্ধ। বিএনপি চেয়ারপারসনের মৃত্যুতে সাত দিনের শোক ঘোষণা করেছে দলটি। এছাড়া তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও আগামীকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। তাঁর জানাজা আগামীকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বাদ জোহর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা ও এর সংলগ্ন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত হবে। তাঁকে তাঁর স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পাশে দাফন করা হবে। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় আসছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশের মন্ত্রী ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা এই জানাজায় উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। শোকের সঙ্গে চলছে তার রাজনৈতিক জীবনের অবিচলতা নিয়ে নানামুখী স্মরণ।

শোকার্ত কণ্ঠ প্রধান উপদেষ্টার, একটি যুগের বিদায়, শোকাহত বিশ্বনেতারাও
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর এভারকেয়ার হাসপাতালে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মির্জা ফখরুল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা আবারও আশা করছিলাম আগের মতোই তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। কিন্তু আজ ভোর ৬টায় আমাদের গণতন্ত্রের মা, আমাদের অভিভাবক, আমাদের জাতির অভিভাবক আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।’ এদিন জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস শোকার্ত হৃদয় নিয়ে বলেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাতি এক মহান অভিভাবককে হারিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আজ আমাদের পুরো জাতি গভীর শোক ও বেদনায় নিস্তব্ধ। দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির শীর্ষ নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আর আমাদের মাঝে নেই। তার ইন্তেকালে আমরা গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত।’

রাজনীতির ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ পথ পাড়ি দেওয়া নেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীরভাবে শোকে মুহ্যমান দেশবাসী মনে করে-তাঁর সক্রিয় রাজনৈতিক জীবন অবসান কার্যত কোনো মৃত্যুশোক নয়। এটি একটি যুগের বিদায়। মহাকাব্যিক সংগ্রামের নীরব সমাপ্তির বেদনাময় দলিল। তিনি আর থাকবেন না রাজপথে কিংবা সভামঞ্চে মাইক্রোফোনের সামনে। কিন্তু তিনি চিরঞ্জীব হয়ে থাকবেন দেশের রাজনৈতিক স্মৃতির প্রতিটি স্তরে, দেশের মানুষের হৃদমাঝে। প্রতিটি গণতান্ত্রিক সংকটে অনুভূত হবে তাঁর গভীর শূন্যতার।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানসহ বিশ্ব নেতাদের অনেকে শোক জানিয়েছেন। শোক জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা। খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতীয় ন্যাশনাল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে শোক জানানো হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন। শোক প্রকাশ করেছেন দলটির সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গওে। খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীও।

জাতীয় নির্বাচনে ভোটে কখনও পরাজিত হননি
জাতীয় নির্বাচনে ভোটে কখনও পরাজিত হননি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি পাঁচটি পৃথক আসন থেকে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তিনটি আসনেই জয়ী হয়েছেন। ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া বগুড়া-৭, ঢাকা-৫, ঢাকা-৯, ফেনী-১ ও চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে জয়লাভ করেন। ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হন ফেনী-১ আসন থেকে। ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বগুড়া-৬, বগুড়া-৭, ফেনী-১, লক্ষ্মীপুর-২ ও চট্টগ্রাম-১ আসন থেকে জয়ী হন। একইভাবে বগুড়া-৬, বগুড়া-৭, খুলনা-২, ফেনী-১ ও লক্ষ্মীপুর-২ আসন থেকে ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিজয়ী হন। বগুড়া-৬, বগুড়া-৭ ও ফেনী-১ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হন ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে।

গৃহবধূ থেকে ৪৩ বছরের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন
অবিভক্ত ভারতের দিনাজপুর জেলার জলপাইগুড়িতে জন্ম খালেদা জিয়ার। সময়টা ১৯৪৫ সাল। বাবা ইসকান্দার আলি মজুমদারের চায়ের ব্যবসা ছিল সেখানে। ব্যবসার কথা চিন্তা করেই দেশভাগের সময় সপরিবার বাংলাদেশের দিনাজপুর শহরে চলে আসেন। যদিও খালেদা জিয়ার আদি বাড়ি বাংলাদেশের ফেনী জেলার ফুলগাজীতে। আর নানার বাড়ি ছিল তৎকালীন উত্তর দিনাজপুরে চাঁদবাড়ি এলাকায়। ১৯৬০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে খালেদার বিয়ে হয়। জন্মের সময় তার নাম রাখা হয়েছিল খালেদা খানম পুতুল। বিয়ের পরে অবশ্য স্বামীর নামের প্রথম দুই অক্ষরকেই পদবী হিসাবে ব্যবহার করেন। পরিচিত ছিলেন খালেদা জিয়া নামেই। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় স্বামী সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের পাশে থাকতে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানেও গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। বাংলাদেশে ফিরে থাকতে শুরু করেন চট্টগ্রামে। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ছয় বছর পরে, ১৯৭৭ সালে দেশের প্রেসিডেন্ট হন খালেদার স্বামী জিয়াউর রহমান। তার পরের বছর দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করতে তৈরি করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর পদাধিকার বলে ‘ফার্স্ট লেডি’ হন তার পত্নী খালেদা। সেই প্রথম আপাত অন্তর্মুখী স্বভাবের পুতুল জনসমক্ষে আসেন। তখনও অবশ্য রাজনীতিতে আগ্রহ ছিল না তার। তবে ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তাদের গুলিতে খুন হওয়ার পর মত বদলান খালেদা জিয়া। সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৮২ সালে স্বামীর প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপির সাধারণ সদস্যপদ গ্রহণ করেন। দলের সহ-সভাপতি হন ১৯৮৩ সালে। গৃহবধূ থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এসে ৪৩ বছর পার করেছেন খালেদা জিয়া। জলপাইগুড়ির সেই সহজ-সরল এবং লাজুক স্বভাবের মেয়েটি হয়ে উঠেন বিশ্বের এক আপহীন নেত্রী। ১৯৮৪ সালের দলের শীর্ষপদে আসীন হন খালেদা জিয়া।

কালের আলো/এমএএএমকে

সবজির দামে আগুন, স্বস্তি মাছ-মুরগির বাজারে

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
সবজির দামে আগুন, স্বস্তি মাছ-মুরগির বাজারে

রাজধানীর কাঁচাবাজারে আবারও চড়েছে সবজির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে গ্রীষ্মকালীন প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে সবজির সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও দামে তার প্রভাব পড়েনি। ফলে বাড়তি দামে সবজি কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠছে। তবে তুলনামূলক স্বস্তি রয়েছে মাছ ও মুরগির বাজারে। অধিকাংশ মাছ ও মুরগি আগের সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে কেজিতে ১০ টাকা কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তালতলা ও আগারগাঁও এলাকার কাঁচাবাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বাজারে বর্তমানে বেগুনের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায়, যা সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ২০ টাকা বেশি। টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল, ঢ্যাঁড়স, কাঁকরোল ও ঝিঙা মানভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি।

এ ছাড়া পেঁপে ও আলু ৩০ টাকা, পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কচুর লতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কচুরমুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং শসা ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি। বটবটি ৮০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে এক হালি লেবু কিনতে গুনতে হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। দেশি ধনেপাতা কেজি ৩০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ২৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলা হালি ৪০ টাকা, চাল কুমড়া প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং ক্যাপসিকাম কেজি ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

শাকের বাজারেও খুব একটা স্বস্তি নেই। লাল শাকের আঁটি ১৫ টাকা, লাউ শাক ৫০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে মুরগির বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। সোনালি কক মুরগি কেজি ৩২০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ২৯০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা কমে ১৮০ টাকায় নেমেছে।

মাছের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ১৮৯০ থেকে ২০০০ টাকা এবং ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২৭০০ থেকে ২৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্য মাছের মধ্যে চাষের শিং আকারভেদে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, দেশি শিং ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা, রুই ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা এবং মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি।

এ ছাড়া পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৪০ টাকা, কৈ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা এবং বাতাসি টেংরা ১৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। টেংরা ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকা এবং পাঁচমিশালি মাছ ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাংসের বাজারেও তেমন পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের বাজারে এক ডজন লাল ডিম ১৫০ টাকা, হাঁসের ডিম ২০০ টাকা এবং দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকা।

সব মিলিয়ে রাজধানীর বাজারে মাছ, মাংস ও মুরগির দামে বড় ধরনের অস্থিরতা না থাকলেও সবজির বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে মৌসুমি সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও দাম বাড়ায় বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, এক সপ্তাহের ব্যবধানে কয়েকটি সবজির দাম ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় পরিবারের দৈনন্দিন বাজার খরচও বেড়ে গেছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় সারাদেশে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হচ্ছে। আগামীকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় জনস্বার্থে বিশেষ এই অভিযান নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন মাস দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

অভিযানের আওতায় ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং দেশের সব বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানিয়েছে তথ্য অধিদপ্তর।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

পাবনা-টেকনাফ-কলমাকান্দায় পানিতে ডুবে ৬ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
পাবনা-টেকনাফ-কলমাকান্দায় পানিতে ডুবে ৬ শিশুর মৃত্যু

দেশের তিন জেলায় পানিতে ডুবে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) পাবনা, কক্সবাজার ও নেত্রকোনায় পৃথক এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পাবনায় তিন শিশু, কক্সবাজারের টেকনাফে দুই শিশু এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

পাবনায় তিন শিশু

পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের নবীন বাজার এলাকার দাশপাড়া গ্রামে বাড়ির পাশের মাঠে জমে থাকা বর্ষার পানিতে গোসল করতে গিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো—দাশপাড়া গ্রামের শিমুল মল্লিকের মেয়ে সুমি খাতুন (৭) এবং একই গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে খালিদ হোসেন (৮) ও মেয়ে আফিয়া খাতুন (৬)। তারা স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে শিশুরা মাঠের জমে থাকা পানিতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে একজন পানিতে তলিয়ে গেলে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে বাকি দুজনও পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা তিন শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে পথেই তাদের মৃত্যু হয়।

টেকনাফে নাফ নদীতে দুই শিশু

কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপে নাফ নদীতে গোসল করতে নেমে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেটিঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো—শাহপরীরদ্বীপ উত্তরপাড়া এলাকার মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ নিশান (১২) ও কেফায়েত উল্লাহর ছেলে আরজিন (১০)।

তারা গোসল করতে নেমে পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়। স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে ও পরে কোস্টগার্ড সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় চার ঘণ্টা পর দুপুর ২টার দিকে তাদের উদ্ধার করা হয়। আরজিনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নিশানকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কলমাকান্দায় শিশুর মৃত্যু

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় পুকুরের পানিতে ডুবে আব্দুল্লাহ নামে সাড়ে চার বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার উপজেলার চিনাহালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল্লাহ ওই এলাকার কাজল মিয়ার ছেলে। পরিবারের লোকজনের অজান্তে খেলতে গিয়ে সে পুকুরে পড়ে যায়। পরে স্বজনরা উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পৃথক এসব দুর্ঘটনায় তিন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি