খুঁজুন
                               
, ,
           

নবযাত্রায় অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ পরিণত এক তারেক রহমানকে দেখলেন সম্পাদকরা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৮ অপরাহ্ণ
নবযাত্রায় অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ পরিণত এক তারেক রহমানকে দেখলেন সম্পাদকরা

জারিফ নিহাল/শফিকুল ইসলাম পলাশ, কালের আলো:

আগের দিন আনুষ্ঠানিক হাল ধরেন বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি)। এরপরই শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে তাঁর প্রথম কর্মসূচি বা অনুষ্ঠান। দেশের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময়। গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় স্বপ্নবিলাসী কোন কথা বলেননি বিএনপির নতুন চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বাস্তব পরিকল্পনার রাজনীতির এক বলিষ্ঠ ঘোষণা দিয়েছেন। অঙ্গীকার করেছেন জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার। সাংবাদিকদের আহ্বান জানিয়েছেন গঠনমূলক সমালোচনার। অনুষ্ঠানের পুরো সময় একজন তারেক রহমানের রাজনৈতিক নম্রতা, বিনয় ও পরিপক্কতার প্রতিফলিত হয়।

বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর নবযাত্রা অভিজ্ঞতার আগুনে পুড়ে পরিণত এক প্রাজ্ঞ ও ঋদ্ধ রাজনীতিবিদের। ঝানু নেতৃত্বের আলোকপ্রভায় উদ্ভাসিত এক রাজনৈতিক নেতার নতুন যুগের সূচনা। মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী এ প্রসঙ্গটি সামনে আনলেন। তিনি বললেন, ‘আমি এক তারেক রহমানকে চিনতাম ২৩ বছর আগে। আমি প্রথম ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে প্রথম সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম। আমি এখন দেখি ২৩ বছরে তারেক রহমান বদলে গেছেন, আমূল পরিবর্তন হয়ে গেছে তার মধ্যে।’ সংযত, ধৈর্য্যশীল ও শান্ত কণ্ঠে আধুনিক, সংস্কারমুখী ও তৃণমূলভিত্তিক জনগণের নেতা তারেক রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়ে দিলেন ৫ আগস্টের আগের পরিস্থিতিতে ফিরতে চাই না। বিএনপি হিংসা, প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে দেশকে সঠিক পথে নিয়ে যেতে চায়। নতুন প্রজন্ম আশার খোঁজে আছে, সব প্রজন্মই একটি দিকনির্দেশনা খুঁজছে বলেও মন্তব্য করেন।

যুক্তরাজ্যে দেড় যুগের নির্বাসিত জীবনের ইতি টেনে গত ২৫ ডিসেম্বর সপরিবারে দেশে ফেরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরপর ৩০ ডিসেম্বর তার মা, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মারা যান। এর ১০ দিনের মাথায় গত শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। এর পরদিন প্রথম কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। দেশে ফেরার দুই সপ্তাহ বাদে দেশের জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার প্রধান নির্বাহী, বার্তা সংস্থাগুলোর শীর্ষ প্রধানসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে অনুষ্ঠানস্থলে এসেই তারেক রহমান সবার কাছে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সঙ্গে ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় বক্তৃতা চলাকালে কয়েকটি ঘটনায় তারেক রহমানের বিনয়, নম্রতা ও ভদ্রতা মোটা দাগে ফুটে উঠে। প্রবীণ নারী সাংবাদিক মমতাজ বিলকিস নিজের বক্তব্যের শেষপ্রান্তে তাঁর লেখা একটি বই তারেক রহমানকে উপহার দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাঁর অনুরোধে সাড়া দিয়ে তারেক রহমান মঞ্চের আসন থেকে উঠে এসে তাঁর বইটি গ্রহণ করেন। একজন বয়োজ্যেষ্ঠ নারী সাংবাদিকের প্রতি তাঁর এমন সৌজন্যতা ও শ্রদ্ধাবোধ প্রমাণ করে দেশ গড়ার জন্য তিনি হাঁটছেন বাবা-মায়ের দেখানো পথেই।

তারেক রহমান অনুষ্ঠান মঞ্চে উঠার সময়ে দেখেন লাল ফিতে দিয়ে একটা বেষ্টনী বসানো হয়েছে। তারেক রহমানের কথায় সেই বেষ্টনী সরিয়ে নেওয়া হয়। বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল অনুষ্ঠান উপস্থাপনার ফাঁকে এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘নিরাপত্তা বেষ্টনী যেকোন নন্দিত মানুষের জন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় বিষয়। বিএনপি চেয়ারম্যানের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করেছিলাম। তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে সেই বেষ্টনী উঠিয়ে দিয়েছেন। কারণ তিনি এই দূরত্ব রাখতে চান না।’ করতালির মধ্যে দিয়েই সবাই তাঁর কথাকে স্বাগত জানান। মূলত বিএনপির মিডিয়া সেলের প্রধানের এই উচ্চারণ গণমাধ্যমের প্রতি দলীয় চেয়ারম্যানের প্রগাঢ় ভালোবাসারই ইঙ্গিত দিয়েছে।

সভায় ঢাকার একজন সাংবাদিক নেতা তারেক রহমানকে ‘মাননীয়’ বলে সম্বোধন করলে প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘দয়া করে আমার নামের আগে মাননীয় সম্বোধন করবেন না।’ সাংবাদিক নেতা স্বভাবতই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রধান রাজনৈতিক নেতাকে সম্মানের জন্যই এই শব্দটি প্রয়োগ করেছিলেন। কিন্তু রাজনীতিতে বহুলচর্চিত ‘মাননীয়’ শব্দটির বিষয়ে আপত্তি তুলে তিনি জানিয়ে দিলেন এই সংস্কৃতি জবাবদিহিমূলক গণতন্ত্রের জন্য ভয়ানক। গণতন্ত্রকে টেকসই করতে হলে এসব নীতি পরিহার করতে হবে। গত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সেই নজির ছিল ভুরি ভুরি।

অনুষ্ঠানে আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সাথে জড়িত ছিলেন না। তিনি জানতেন না মুক্তিযুদ্ধ কিভাবে হয়েছে এবং তিনি ফিরে এসেও জানার চেষ্টা করেননি। তাকে আওয়ামী লীগের লোকজন যা বলেছে এবং ভারতীয় পক্ষ যা বলেছে সেটাকেই তিনি ধরে নিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন এটাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। এই জন্যই তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন।’ তারেক রহমানকে এক্ষেত্রে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান, আপনি ১৭ বছর দেশে ছিলেন না। আপনি জানেন না এখানে কী হয়েছে। আপনার লোকজন আপনাকে যা বলেছে সেটাই আপনি শুনেছেন। এখন মিডিয়ার নতুন বন্ধুরা আপনাকে যেটা বলছে সেটাই আপনি শুনছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনি মনে করছেন এটাই বাংলাদেশের ১৭ বছরের ইতিহাস। বাংলাদেশের ১৭ বছরের ইতিহাস এটা না। সেই ইতিহাস আমি বর্ণনা করব। ভবিষ্যতে যদি আপনি এরকম কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন সেখানে।’

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজের বক্তব্যে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তাঁর প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই তিনি জানান, বিদেশে অবস্থান করলেও তিনি দেশের প্রতিটি পরিস্থিতির ওপর সজাগ দৃষ্টি রেখেছেন। দেশের খোঁজখবর রেখেছেন। তারেক রহমান এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি দেশে অনেকদিন থাকতে পারিনি। কী কারণে থাকতে পারিনি সে প্রসঙ্গে গেলাম না। কমবেশি সবার ধারণা আছে। তবে সারাক্ষণই দেশের সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিল। দেশের মানুষের সঙ্গে কী হয়েছে? এখানে মাহমুদুর রহমান সাহেব বলেছেন একটি উদাহরণ দিয়ে। ওনার প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে আমি বলতে চাচ্ছি-‘ওনার সঙ্গে ওনার রক্তমাখা ছবি এখনও আমার চোখের সামনে ভাসে। ওনার সঙ্গে কী হয়েছে, আমি জানি। রুহুল আমিন গাজী সাহেবের সঙ্গে কী হয়েছে, জেলের মধ্যে উনি মৃত্যুবরণ করেছেন সেটি আমি জানি। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে আমার ৬০ লক্ষ নেতাকর্মী এবং তাঁর থেকে আরেকটি হৃদয়বিদারক আমার জন্য হচ্ছে-আমার মায়ের সাথে কী হয়েছে? কাজেই এই ঘটনাগুলোকে যদি এক করি, যারা দেশে ছিলেন তারা অবশ্যই আমার থেকে একটু বেটার (ভালো) জানবেন। তবে আমি একদম যে জানি না বোধহয় বিষয়টি তা নয়। আমার একটি ধারণা আছে।’

এই অনুষ্ঠানে সম্পাদকদের মধ্যে ছিলেন দৈনিক যায়যায়দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান, ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এএমএম বাহাদ্দীন, মানব জমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউএজের নুরুল কবির, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী, আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। এছাড়া যুগান্তরের আবদুল হাই শিকদার, সংবাদের আলতামাশ কবির, ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের শামসুল হক জাহিদ, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এর ইনাম আহমেদ, কালের কন্ঠের হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের আবু তাহের, বণিক বার্তার হানিফ মাহমুদ, দৈনিক সমকালের শাহেদ মোহাম্মদ আলী, প্রতিদিনের বাংলাদেশ এর মারুফ কামাল খান সোহেল, দেশ রূপান্তরের কামাল উদ্দিন সবুজ, নয়া দিগন্তের সালাহ উদ্দিন বাবর, ডেইলি সানের মো. রেজাউল করিম, খবরের কাগজের মোস্তফা কামাল, কালবেলার সন্তোষ শর্মা, আজকের পত্রিকার কামরুল হাসান, মানবকন্ঠের শহীদুল ইসলাম, সুরমার (লন্ডন) শামসুল আলম লিটন, দেশ বার্তার সালেহ বিপ্লব, নিউ নেশনের মোকাররম হোসেন। নয়া দিগন্তের মাসুমুর রহমান খলিলী, প্রথম আলোর সাজ্জাদ শরীফ, সময়ের আলোর সৈয়দ শাহনাজ করিম, জনকন্ঠের খুরশীদ আলম, বাংলা বাজার পত্রিকার রাশেদুল হক, যুগান্তরের এনাম আবেদীন, আমাদের সময়ের নজরুল ইসলাম, দৈনিক নাগরিক সংবাদের সুমন প্রামাণিক, দিকপালের সম্পাদক শাহীন রাজা, নাগরিক প্রতিদিনের হাসনাইন খরশীদ। ছিলেন বাসসের চেয়ারম্যান আনোয়ার আল দীন, প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ, ইউএনবির প্রধান সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ খান, সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সুবহান, বাংলা নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু, ঢাকা স্ট্রিমের সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ, ঢাকা মেইলের সম্পাদক হারুন জামিল, ঢাকা পোস্টের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কামরুল ইসলাম। বিবিসির সম্পাদক সাব্বির মোস্তফা, বিশেষ প্রতিনিধি কাদির কল্লোল, আল জাজিরার তানভীর চৌধুরী, রয়টার্সের রুমা পাল, এএফপির শেখ সাবিহা আলম। বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মাহবুব আলম, জেনারেল ম্যানেজার নুরুল আজম পবন, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক জেডএম জাহেদুর রহমান। বেসরকারি টেলিভিশনের শীর্ষ প্রধানদের মধ্যে ছিলেন সময় টিভির জুবায়ের আহমেদ, চ্যানেল আইয়ের শাইখ সিরাজ, বাংলা ভিশনের আবদুল হাই সিদ্দিকী, এনটিভির ফখরুল আলম কাঞ্চন, মোস্তফা খন্দকার, ইটিভির আবদুস সালাম, যমুনা টিভির ফাহিম আহমেদ, ডিভিসির লোটন একরাম, একাত্তর টিভির শফিক আহমেদ, এটিএনের হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ, বৈশাখী টিভির জিয়াউল কবীর সুমন, নিউজ টোয়েন্টিফোরের শরীফুল ইসলাম খান, গ্রীন টিভির মাহমুদ হাসান, গাজী টিভির গাউসুল আজম দীপু, এটিএন নিউজের শহীদুল আজম, মাছরাঙার রেজানুল হক রাজা, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের জহিরুল আলম, আরটিভির ইলিয়াস হোসেন, মোহনা টিভির এমএ মালেক, স্টার টিভির ওয়ালিউর রহমান মিরাজ, এখন এর তুষার আবদুল্লাহ, ইন্ডিপেনডেন্টের মোস্তফা আকমল, মাইটিভির ইউসুফ আলী।

ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদার, আবদুল আউয়াল ঠাকুর, এম এ আজিজ, নুরু উদ্দিন নুরু, একেএম মহসিন, শাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, খাজা মাইন উদ্দিন, জাহেদুল ইসলাম রনি, হাফিজুর রহমান, গিয়াস উদ্দিন রিপন, হাফিজুর রহমান সরকার।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমীন, মিড়িয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমার রুমন, শাম্মী আখতার, শায়রুল কবির খান, আবু সায়েম, বিএনপির সাইমুম পারভেজ, শামসুদ্দিন দিদার, চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার এবং চেয়ারম্যানের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম শামসুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল ও চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।

কালের আলো/জেএন/এসআইপি/এমকে

কিশোরগঞ্জে দুপুর, হালুয়াঘাটে বিকেল—রাজপথে সরব তথ্য প্রতিমন্ত্রী

বিশেষ সংবাদদাতা/ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জ প্রতিবেদক:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে দুপুর, হালুয়াঘাটে  বিকেল—রাজপথে সরব তথ্য প্রতিমন্ত্রী

এক জেলা থেকে আরেক জেলা—একই দিনে একের পর এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সরব তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার পর বিকেলে তিনি যোগ দেন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে আয়োজিত আরেকটি সমাবেশে। দুটি কর্মসূচিতেই তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টার প্রতিবাদ, নৈরাজ্য ও সন্ত্রাস প্রতিরোধ এবং বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও সুসংহত রাখার বার্তা।

  • কিশোরগঞ্জে ‘বুকের পাটা থাকলে এখন আসেন’ চ্যালেঞ্জ
  • কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে হালুয়াঘাটে অনলাইন হুমকির জবাব
  • নৈরাজ্য প্রতিরোধে মাঠে থাকার ঘোষণা

‘বুকের পাটা থাকলে এখন আসেন’
দুপুরে কিশোরগঞ্জ শহরের কালিবাড়ী মোড়সংলগ্ন চত্বরে জেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে নৈরাজ্য ও সন্ত্রাস সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বর নয়, বুকের পাটা থাকলে এখন আসেন। টেক্কা দিতে চান। আমাদের মা-বোনদের বুক খালি করেছেন। আসেন, ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলার জন্য আসেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছি। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছি। আমরা মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে এনেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা মানুষকে ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছি।’

‘ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না’
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগও। তাঁর ভাষ্য, গণতন্ত্র নস্যাৎ করতে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের পক্ষগুলো পালিয়ে গিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। এসব প্রচেষ্টা মোকাবিলা করে তাদের ‘ফ্যাসিবাদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে’ এবং ভবিষ্যতেও কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে বিএনপির সাংগঠনিক ঐক্যের বিষয়টি সামনে এনে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পরিবার সারা দেশে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

বাসে আগুনের প্রসঙ্গে কঠোর সতর্কবার্তা
সম্প্রতি দুটি বাসে আগুন দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাস পুড়িয়ে বা কোনো চক্রের মাধ্যমে জনগণের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করা যাবে না। তিনি বলেন, যারা মনে করছেন দুটি বাস পুড়িয়ে এবং একটি চক্রের মাধ্যমে জনগণকে ভয় দেখাতে পারবেন, তাদের সাবধান করে দিতে চাই। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সৈনিকেরা জনগণকে নিয়ে যেভাবে আপনাদের দেশ থেকে তাড়িয়েছে, প্রয়োজনে তাদেরও দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেওয়া হবে না।

প্রতিমন্ত্রীর স্লোগানের সঙ্গে গলা মেলান নেতাকর্মীরাও
এর আগে দুপুরে শহরের রথখলা এলাকায় জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কালিবাড়ী মোড় এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এ সময় প্রতিমন্ত্রী নিজেই স্লোগান ধরেন, ‘আপা আপা করিস নারে, আপা আর আসবে নারে।’ প্রতিমন্ত্রীর স্লোগানের সঙ্গে উপস্থিত নেতাকর্মীরাও গলা মেলান।

সমাবেশে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দিন বক্তব্য রাখেন। বিক্ষোভ মিছিলে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

কিশোরগঞ্জের পর গন্তব্য হালুয়াঘাট
কিশোরগঞ্জের কর্মসূচি শেষ করেই বিকেলে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট পৌর এলাকার ধান মহলে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেন প্রতিমন্ত্রী। ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আয়োজনে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে তিনি ছিলেন প্রধান বক্তা। এখানেও বক্তব্যের সার কথা—অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে মাঠে থাকার ঘোষণা। তবে হালুয়াঘাটের বক্তব্যে অনলাইনভিত্তিক হুমকি এবং ভবিষ্যতে অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

অনলাইন হুমকির বিপরীতে মাঠের বার্তা
হালুয়াঘাটে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনলাইনে হুমকি দিয়ে বাংলাদেশের জনগণকে ভয় দেখানো যাবে না। তিনি বলেন, দেশের মানুষ অতীতে অন্যায় ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে যেভাবে রুখে দাঁড়িয়েছে, ভবিষ্যতেও তেমনি গুম, খুনসহ সকল অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। প্রতিমন্ত্রী এ সময় বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর জেল-জুলুম ও নির্যাতন সহ্য করে দেশের জনগণ তারেক রহমান—এর নেতৃত্বে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে এবং ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার করেছে। তিনি বলেন, ‘যারা এই গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই মাঠে থাকা হবে।’

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে লুটপাট ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করেছে, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রিন্সের
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ‘দেশ পুনর্গঠন, জনসমস্যা সমাধান এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যেতে গিয়ে দেশ-বিদেশে নানা ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।’

তিনি বলেন, দেশের মানুষ কোনো ধরনের সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতা চায় না। বিএনপি সংঘাতের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না; তবে দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। যারা সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক একেএম এনায়েত উল্লাহ কালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা বিএনপির একমাত্র যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার। এতে জেলা ও উপজেলার বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

দুই কর্মসূচিতে অভিন্ন রাজনৈতিক বার্তা
কিশোরগঞ্জ ও হালুয়াঘাট—দুই কর্মসূচিতেই তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর বক্তব্যের মূল নির্যাস ছিল ছিল রাজনৈতিকভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে প্রতিরোধ, জননিরাপত্তা এবং অপরাধের বিচার। কিশোরগঞ্জে ছিল সরাসরি চ্যালেঞ্জ ও পাল্টা রাজনৈতিক বার্তা এবং হালুয়াঘাটে গুরুত্ব পেয়েছে অনলাইন হুমকি, বিচার ও স্থিতিশীলতা রক্ষার প্রশ্ন। একই দিনে দুই জেলার ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া তাঁর রাজনৈতিক ব্যস্ততার একটি স্পষ্ট চিত্রও তুলে ধরে। দুপুরে কিশোরগঞ্জের রাজপথের কর্মসূচি থেকে বিকেলে হালুয়াঘাটের সমাবেশ—দিনভর এই ছুটে চলার মধ্য দিয়ে প্রতিমন্ত্রী দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং মাঠের রাজনৈতিক তৎপরতায় সক্রিয় থাকার বার্তাই দিয়েছেন। এতে দলীয় নেতাকর্মীরাও আশান্বিত হয়ে উঠেছেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

মেটাকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও অফিস স্থাপনের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ণ
মেটাকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও অফিস স্থাপনের আহ্বান

মেটা প্ল্যাটফর্মস ইনকর্পোরেটেডকে বাংলাদেশে অফিস খোলার আমন্ত্রণ জানিয়েছে ঢাকা। একই সঙ্গে অনলাইন অপব্যবহার ও ডিজিটাল হয়রানি প্রতিরোধ এবং প্রস্তাবিত সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে মেটার চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলানের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে বুধবার এ তথ্য জানা গেছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। এতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং স্থায়ী প্রতিনিধির উপ-প্রতিনিধি এ.কে.এম. ওয়াহিদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। সময়সীমার কারণে প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি। বৈঠকে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

ডিজিটাল অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা

বৈঠকে বাংলাদেশে মেটার বড় ব্যবহারকারীভিত্তির কথা তুলে ধরে দুই পক্ষের সম্পর্ক এবং দেশের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি ও ই-কমার্স ইকোসিস্টেম আরও শক্তিশালী করার সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।

এ ছাড়া মেটার প্ল্যাটফর্ম ও প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং ডিজিটাল কমার্স খাতকে সহায়তা করতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল হয়রানি

বৈঠকে অনলাইন অপব্যবহার ও ডিজিটাল হয়রানি প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাংলাদেশে প্রস্তাবিত সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট নিয়েও মেটার সঙ্গে আলোচনা করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকটি গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী ছিল। বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মেটার মধ্যে ডিজিটাল খাতে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

এইচএসসি ফল কবে, জানা গেল সম্ভাব্য তারিখ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫২ অপরাহ্ণ
এইচএসসি ফল কবে, জানা গেল সম্ভাব্য তারিখ

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল কবে প্রকাশ হতে পারে তার একটি সম্ভাব্য সময় জানিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি বলছে, ইতোমধ্যে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের জন্য প্রস্তুতি এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী ৭ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে যেকোন দিন এই ফলাফল প্রকাশ হতে পারে।

তবে কমিটি বলছে, ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তারিখ চূড়ান্ত হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হবে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এসব তথ্য জানান।

অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘আগামী ৭ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হতে পারে। এ লক্ষ্যে ফলাফল প্রস্তুতের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।’

এ বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী। সারাদেশে মোট ২ হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষাকেন্দ্র এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কিছুটা দেরিতে শেষ হয়েছে।

তবে দ্রুত ফলাফল প্রস্তুতের জন্য অতিরিক্ত পরীক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে সম্ভাব্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ২ জুলাই শুরু হয়ে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ৮ আগস্ট শেষ হয়। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার পরিকল্পনা ছিল।

তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হয়নি।

পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো আয়োজন করা হলে চট্টগ্রাম বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর। এরপর দ্রুততার সঙ্গে ফলাফল প্রস্তুতের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন। এসব পরীক্ষার্থী ১ হাজার ৬২৬টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দেন।

আর মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪৬১টি কেন্দ্রে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬১০টি কেন্দ্রে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন।

এবার সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে। এই বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ লাখ ৩৯৩ জন। তারা ৩১০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছেন।

এ ছাড়া রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০ জন, যশোরে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০ জন, দিনাজপুরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ জন, চট্টগ্রামে ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন এবং কুমিল্লায় ৯৪ হাজার ৮০২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন।

অন্যদিকে, ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে ৭৩ হাজার ৩৭ জন, সিলেট শিক্ষা বোর্ডে ৭১ হাজার ৭১১ জন এবং বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ