সন্তানদের কান্নাজড়িত আকুতি শুনে কাঁদলেন তারেক রহমান
কালের আলো রিপোর্ট:
২০১৩ সালের ২ ডিসেম্বর রাজধানীর শাহবাগ থেকে গুম হন বংশাল ছাত্রদলের নেতা পারভেজ হোসেন। তুলে নেওয়া হয়েছিল ডিবি (গোয়েন্দা) পরিচয়ে। অন্যরা বাবার হাত ধরে স্কুলে গেলেও কন্যা আদিবা ইসলাম হৃদির ভাগ্যে জুটেনি। এক যুগ পেরিয়ে গেলেও বাবার সন্ধান নেই। বাবার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা সন্তানের। গুমের ঘটনায় বিচারের দাবি জানিয়ে-‘আমি কি বাবাকে ফিরে পাবো না? আর কত বছর অপেক্ষা করতে হবে আপনারাই বলুন?’ -এই কথা বলেই অঝোরে কাঁদতে লাগলো হৃদি। এই সময়ে মঞ্চে বসা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। কান্নাজড়িত আকুতি শুনে ফুঁপিয়ে কাঁদলেন। টেবিলের সামনে টিস্যু বক্স থেকে টিস্যু নিয়ে নিজের চশমাটা খুলে নিজেই চোখ মুছলেন। এ এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য।
হৃদির মতো অনেকের প্রিয়জন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের শিকার হয়েছেন। কেউ হারিয়েছেন বাবা, কেউ সন্তান, কেউ ভাই, আবার কেউ স্বামীকে। এসব ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের তীব্র আকাক্সক্ষা ছিল একবার তারেক রহমানকে কাছ থেকে দেখে নিজেদের কষ্টের কথাগুলো ব্যক্তিগতভাবে তাঁর কাছে তুলে ধরা। তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত জীবনে থেকেও নিয়মিত এসব পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে খোঁজ নিয়েছেন, কথা বলেছেন। এবার সশরীরে তাঁরা তারেক রহমানের উপস্থিতিতে হৃদয়ের দগদগে ক্ষত নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন। ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এবং ‘মায়ের ডাক’ তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ করেছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গুম-খুনের শিকার নেতাকর্মীদের পরিবারের এক সম্মিলনে কষ্টের কথাগুলো সরাসরি শুনলেন তারেক রহমান। কাউকে কাউকে মঞ্চে বসা বিএনপি’র চেয়ারম্যানের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কিছু সময় কথা বলেন। ভুক্তভোগী প্রতিটি পরিবারের সদস্যরা গুমের শিকার তাদের পরিবারের সদস্যদের ফিরে পাওয়ার আকুতি জানান। একই সঙ্গে সরকারের কাছে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান। হারানো সন্তানদের ফিরে পাওয়ার আকুতিতে কান্নায় ভেঙে পড়েন মায়েরা। আর এ সময় তাদের সান্ত্বনা দেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।
বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের আবেগে অনুষ্ঠান স্থল ছিলো এক কষ্ট-বেদনার অন্যরকম মতবিনিময়ের অনুষ্ঠান। আয়োজকরাও কেঁদেছেন অনেকে, নিরাপত্তা কর্মীদের মনেও নাড়া দিয়েছে দীর্ঘ নিঃশ্বাসে।
কান্না বিজড়িত কন্ঠে হৃদি বলছিল, ‘বছর যায়, নতুন বছর আসে। কিন্তু আমাদের বাবা আর আসে না। ৫ আগস্টের পর এক বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেল, কিন্তু আমি বাবাকে ফিরে পাইনি। আমার ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল বাবার হাত ধরে স্কুলে যাওয়ার, কিন্তু সেই স্বপ্ন এখনো পূরণ হয়নি। আমি কি বাবাকে ফিরে পাবো না? আর কত বছর অপেক্ষা করতে হবে আপনারাই বলুন?’ -এই কথা বলেই অঝোরে কাঁদতে শুরু করে হৃদি। ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও।

গুমের শিকার পারভেজ হোসেনের কন্যা হৃদি গুম কমিশনের উদ্দেশে বলেন, ‘গুম কমিশন বলে— ধরে নিন ওরা গুম, ওরা মৃত। কেন এটা কি হাতের অঙ্ক যে আমরা ধরে নেব আমাদের বাবারা আর নেই? একটা দল করা কোনো অপরাধ না। দল সবাই করে। এর জন্য এটা কেমন বিচার এই বাংলাদেশে? আমি তারেক রহমান চাচ্চুর কাছে আশা করি যে, আমাদের বাবাদের খুঁজে দেবেন। এই বাংলাদেশের মাটিতে বিচার করবেন এই গুমের।’
বিগত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে গুম হওয়া এক বাবার কন্যা শাফা বলে, ‘আমার বাবাকে যখন গুম করা হয়, তখন আবার বয়স ছিল দুই মাস, এখন আমার বয়স ১৩ বছর। বাবার মুখটা আমি দেখতে পাইনি। বাবার ছবিটা ধরে অনেক জায়গায় গিয়েছি, খোঁজ পাইনি। বাবার সঙ্গে আমার কোনো স্মৃতি নেই। আমরা আমার বাবাকে ফেরত চাই— এই কথাটা অনেকবার বলেছি কিন্তু ফেরত পাইনি।’
গুমের শিকার আরেকজনের কন্যা লামিয়া বলেন, ‘২০১৩ সালে ৪ ডিসেম্বর আমার বাবাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৩ বছর হয়ে গেছে আমি আমার বাবাকে দেখি না, বাবা কী জিনিস বুঝি না। আমার বাবাকে যখন নিয়ে যায়, তখন আমার ৩ বছর বয়স ছিল, আমি তখন বাবা মানেটাও বুঝতাম না। আমি যদি বুঝতাম আমার বাবাকে হারিয়ে ফেলব, তাহলে আমি আমার বাবাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতাম। আমি আমার বাবাকে আর কখনো পাব কি না, জানি না। আমি আমার বাবাকে পেতে চাই।’ নিহত ওলীর স্ত্রী এসে জানান, তার স্বামীকে মেরে ফেলার আগে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। স্বামী ছাড়া কীভাবে তিনি সন্তানদের নিয়ে জীবন কাটাচ্ছেন সেসব বর্ণনা দিতে অঝোরে কাঁদতে থাকেন এই ভুক্তভোগী।
ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’ যৌথভাবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদীর লুনা, সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন এবং ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
গুম হওয়া বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, গুম ও খুনের শিকার পরিবারগুলো অভিভাবকহীন পরিবারে পরিণত হয়েছে। এসব পরিবার সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় হয়রানির শিকার হচ্ছে। তিনি পরিবারগুলোর জন্য আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নিতে তারেক রহমানের প্রতি অনুরোধ জানান। গুমের শিকার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারি হিসাব অনুযায়ী এক হাজার ৪৮ জন কারাগারে মারা গেছেন। মানবাধিকার কমিশনের তালিকায় ৯০৭ জন গুমের শিকার হলেও গুম কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ২০২৪ সাল পর্যন্ত এক হাজার ৮৫০ জন গুম হয়েছেন।

গুম-খুন-নির্যাতনের পরও বিএনপি কখনো গুপ্ত বা সুপ্ত বেশ ধারণ করেনি
এত গুম, খুন ও নির্যাতনের পরও বিএনপির কর্মীরা কৌশলের নামে কখনো গুপ্ত কিংবা সুপ্ত বেশ ধারণ করেনি বলে মন্তব্য করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমাকে বাধ্য হয়ে বহু বছর দেশ, স্বজন ও নেতাকর্মীদের কাছ থেকে দূরে থাকতে হয়েছে। দূর থেকে যতটুকু সম্ভব নেতাকর্মী এবং সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা স্বজনহারা মানুষ নিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে থেকে প্রতিবাদ ও আন্দোলন গড়ে তুলেছি। সাধ্য অনুযায়ী স্বজনহারা মানুষগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছি। সীমাবদ্ধতা থাকার পরও আমরা প্রতিটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।’
ফ্যাসিবাদী শাসনামলে হাজার হাজার নেতাকর্মী অত্যাচার, গুম, নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপির দেড় লক্ষাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়। যার বোঝা প্রায় ৬০ লাখ নেতাকর্মীকে বয়ে বেড়াতে হয়েছিল। দিনের পর দিন ঘরবাড়ি ছাড়া থাকতে হয়েছে। স্বজন থেকে দূরে থাকতে হয়েছে। এসব মামলা ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
গুম-খুনের সেই বিভীষিকাময় দিন ও রাতের অবসান ঘটেছে উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের মানুষ গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। এক দুঃসময় আমরা অতিক্রম করেছি। অনেক সন্তান এখনো অপেক্ষায় রয়েছে তাদের বাবা হঠাৎ করে দরজায় এসে কড়া নাড়বে। অনেক মা হয়তো এখনো অপেক্ষায় রয়েছেন, তার সন্তান হঠাৎ করে বাড়ি ফিরে দেখা দেবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারবিরোধী আন্দোলন কখনো উত্তাল হয়েছে, কখনো স্থিমিত হয়েছে। কিন্তু কৌশলের নামে গুপ্ত বা সুপ্ত বেশ ধারণ করেনি বিএনপি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন থেকেছে সবসময়। গুম-খুনের শিকার পরিবারের প্রতি আগামীর গণতান্ত্রিক সরকারের দায়িত্ব রয়েছে। রাষ্ট্র কখনো আপনাদের ত্যাগ ভুলে যেতে পারে না।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বেশ কিছু বিতর্কিত ভূমিকার পরও বিএনপি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, গুম-খুন-নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলো নিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা রয়েছে। সব শহীদের নামে সরকারি স্থাপনার নামকরণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের নাম স্মরণে রাখতে পারে। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন রকম কথা বলে কেউ কেউ গণতন্ত্রে ফেরার পথ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। তবে গণতন্ত্রকে বিনষ্ট করার চেষ্টা সফল হবে না।

গুমের শিকারদের জন্য স্বজনের অপেক্ষা রাষ্ট্রের জন্য বড় দায়
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘বহু সন্তান আজও অপেক্ষায় আছে, তাদের গুম হয়ে যাওয়া বাবা একদিন ফিরে এসে দরজায় কড়া নাড়বেন। বহু মা এখনো আশায় আছেন, হারিয়ে যাওয়া সন্তানটি আবার ‘মা’ বলে ডাকবেন। এই অপেক্ষা রাষ্ট্রের জন্য একটি বড় দায়।’ সভায় তিনি বলেন, ‘গুম ও রাষ্ট্রীয় সহিংসতার শিকার পরিবারগুলোর কষ্ট এমন গভীর যে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন।’ তারেক রহমান গণতন্ত্রে বিশ্বাসী প্রত্যেক মানুষকে সজাগ থাকতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিতর্ক তৈরি করে গণতন্ত্রের পথকে যাঁরা আবার নষ্ট বা ব্যাহত করার চেষ্টা করছেন, তাঁরা যেন সফল না হন।
বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আমাদের হাজার হাজার নেতা–কর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, অনেককে হত্যা করা হয়েছে, হাজারেরও বেশি মানুষকে গুমের শিকার হতে হয়েছে। আজ এখানে গুম হওয়া সেই মানুষগুলোর কিছু পরিবারের সদস্য উপস্থিত আছেন। আবার অনেক পরিবার এখনো অপেক্ষায় আছেন।’
সীমাবদ্ধতা থাকলেও গুম হওয়া মানুষকে উদ্ধারে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন বলে জানান বিএনপির চেয়ারম্যান। দলীয় অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কৌশলের নামে গুপ্ত কিংবা সুপ্ত বেশ ধারণ করেননি বিএনপির কর্মীরা। আমি বিশ্বাস করি, দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যে দলের নেতা–কর্মীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে এ ধরনের আপসহীন ভূমিকা রাখতে পারেন-সেই দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কিংবা অপপ্রচার চালিয়ে কেউ এই দলকে দমন করে রাখতে পারবে না।’
গুম ও হত্যার বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘৭১ সালের যাঁরা শহীদ হয়েছেন এ দেশকে স্বাধীন করার জন্য, ’৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যাঁরা শহীদ হয়েছেন, বিগত ১৬ বছরে যাঁরা গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন, ’২৪-এর আন্দোলন ও ৫ আগস্টের আন্দোলনে যাঁরা শহীদ হয়েছেনÑপ্রতিটি অন্যায়ের বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হলে আগামী দিনে অবশ্যই বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার দরকার।’ তারেক রহমান আরও বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হলে গুম ও রাষ্ট্রীয় সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে শহীদ ও গুমের শিকারদের আত্মত্যাগ যেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে স্মরণীয় থাকে, সে লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কালের আলো/এমএএইচ/এএইচ


আপনার মতামত লিখুন
Array