খুঁজুন
                               
, ,
           

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ চান প্রধান উপদেষ্টা, প্রচারণায় সক্রিয় উপদেষ্টারাও

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ণ
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ চান প্রধান উপদেষ্টা, প্রচারণায় সক্রিয় উপদেষ্টারাও

কালের আলো রিপোর্ট:

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট। গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টায় অভ্যুত্থানে পরাজিত শক্তি। কলকাঠি নাড়ছে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে। কিন্তু সরকার বলছে, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নেই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার। সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের ফলে তুঙ্গে উঠেছে গণভোটের প্রচারণা। এই ভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে জনগণের রায়ের জন্য জনমত গঠন করছেন স্বয়ং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস। বসে নেই সরকারের উপদেষ্টারাও। প্রত্যেকেই গণভোটের ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচারণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আইনগত কোন প্রতিবন্ধকতা না থাকায় সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন তাঁরা।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকার আইনসম্মতভাবেই প্রচারণা করছে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়া কেন প্রয়োজন, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে কী হবে আমরা তা জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছি। এ ব্যাপারে সব রাজনৈতিক দলকেও আহ্বান জানিয়েছি। এবারের নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে হয় এ দায়িত্ব সবার- সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল- আমাদের সবার। এ ব্যাপারে সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করছি। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চার সদস্যদের প্রতিনিধিদল। বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় ভিডিও বার্তায় ড.ইউনূস বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সংস্কারের লক্ষ্যে গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেই গণভোটে দেশবাসীকে ‘হ্যাঁ’ জয়ী করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘হ্যাঁ’কে জয়যুক্ত করলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ তৈরি হবে।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, গণভোটে ‘না’ জয়ী হয়ে হলে অন্তর্বর্তী সরকারের এত দিনের পরিশ্রম ও আন্তরিকতায় সংস্কারসংশ্লিষ্ট উদ্যোগ, আয়োজন ও প্রচেষ্টা নিছক ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। সরকার বলছে, জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা প্রতিটি রাজনৈতিক দল জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলাপ-আলোচনায় অংশ নিয়ে মতামত দিয়েছে এবং সেই অনুসারে জুলাই জাতীয় সনদ গৃহীত ও স্বাক্ষরিত হয়েছে। গণভোটে দেশের মানুষের মতামতকে জয়ী করে সাফল্যের সঙ্গেই নিজেদের অধ্যায়ের ইতি টানতে চায় বর্তমান সরকার।

  • ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে জনগণের রায়ের জন্য জনমত গঠন করছেন স্বয়ং প্রধান উপদেষ্টা
  • ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচারণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপদেষ্টারাও
  • ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে রাজনীতিতে ভারসাম্য আসবে : তথ্য উপদেষ্টা
  • ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জনগণের সমর্থন প্রতিফলিত হবে : স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা

দু’দিনের সরকারি সফরে রংপুরে গিয়েছেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তিন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তথ্য ও সম্প্রচার; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ এই উপদেষ্টা বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে রাজনীতিতে ভারসাম্য আসবে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রংপুর শিল্পকলা একাডেমির সামনে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে আয়োজিত র‍্যালী শেষে উপদেষ্টা কেন গণভোটে ‘হ্যাঁ জয়ী করা অপরিহার্য সেই প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন। যুক্তিসঙ্গত ভাষায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, ‘আমরা যেন কোনদিনও ভুলে না যাই যে, জুলাইয়ে আমাদের সন্তানেরা, ভাই-বোনেরা, দেশের আপামর জনসাধারণ নির্ভীকচিত্তে প্রাণ দিয়েছে; কারণ তারা পরিবর্তন চেয়েছে। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পরিবর্তন আনার একটা সুযোগ পেয়েছি। দল মত নির্বিশেষে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-তে  ভোট দিয়ে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।’

তিনি রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে শিল্পকলা একাডেমির সামনে শেষ হওয়া বর্ণাঢ্য র‌্যালীর নেতৃত্ব দেন। নির্বাচন ও গণভোটের প্রচারণায় নিয়োজিত ভোটের গাড়ির কার্যক্রম এসময়টিতেও চলমান ছিল। উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দিলে আমরা বারোটা জিনিসে পেয়ে যাব। ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারকে আপনারা এক অর্থে বাধ্য করবেন, সংবিধানে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে বিচার বিভাগকে স্বাধীন করতে; প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করতে; তত্ত্বাবধায়ক সরকার আনতে, নিজেদের অধিকার বাড়াতে। তিনি বলেন, এগুলোতে না বলার কোন কারণ দেখতে পাচ্ছি না।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে কিশোরগঞ্জ শহরের গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠে স্থাপিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিল্প এবং স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, ‘বর্তমান সরকার গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের সরকার। সংগ্রামী ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। আগামী ১২ তারিখের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জনগণের সমর্থন প্রতিফলিত হবে।’

একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসে এক অসাধারণ অর্জন; যা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে।’ তিনি জানান, এই অর্জনকে স্থায়ী করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রণয়ন করা হয়েছে জুলাই সনদ। সনদ কার্যকর করার জন্য জনগণের সম্মতি অপরিহার্য, তাই আয়োজন করা হয়েছে গণভোট। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘গণভোটে ‘‘হ্যাঁ’ ভোট অর্থ বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন থেকে মুক্ত বাংলাদেশ গঠনের পথে এগিয়ে যাওয়া। এতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধীদলের যৌথ অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় ক্ষমতার ভারসাম্য আসবে।’ ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে সংবিধান পরিবর্তনের জন্য জনগণের সম্মতি বাধ্যতামূলক হবে, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করবে, সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়বে এবং একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দশ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থাকবেন না। এজন্য তিনি সবাইকে নিজে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে এবং অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করতে আহ্বান জানান।

কালের আলো/এমএএইচ/এএইচ

সবজির দামে আগুন, স্বস্তি মাছ-মুরগির বাজারে

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
সবজির দামে আগুন, স্বস্তি মাছ-মুরগির বাজারে

রাজধানীর কাঁচাবাজারে আবারও চড়েছে সবজির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে গ্রীষ্মকালীন প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে সবজির সরবরাহ মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও দামে তার প্রভাব পড়েনি। ফলে বাড়তি দামে সবজি কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠছে। তবে তুলনামূলক স্বস্তি রয়েছে মাছ ও মুরগির বাজারে। অধিকাংশ মাছ ও মুরগি আগের সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে কেজিতে ১০ টাকা কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তালতলা ও আগারগাঁও এলাকার কাঁচাবাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

বাজারে বর্তমানে বেগুনের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১৪০ টাকায়, যা সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ২০ টাকা বেশি। টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা এবং করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল, ঢ্যাঁড়স, কাঁকরোল ও ঝিঙা মানভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি।

এ ছাড়া পেঁপে ও আলু ৩০ টাকা, পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কচুর লতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কচুরমুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং শসা ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি। বটবটি ৮০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে এক হালি লেবু কিনতে গুনতে হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। দেশি ধনেপাতা কেজি ৩০০ টাকা এবং হাইব্রিড ধনেপাতা ২৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলা হালি ৪০ টাকা, চাল কুমড়া প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং ক্যাপসিকাম কেজি ৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

শাকের বাজারেও খুব একটা স্বস্তি নেই। লাল শাকের আঁটি ১৫ টাকা, লাউ শাক ৫০ টাকা, কলমি শাক দুই আঁটি ২০ টাকা, পুঁই শাক ৪০ টাকা এবং ডাটা শাক দুই আঁটি ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে মুরগির বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। সোনালি কক মুরগি কেজি ৩২০ টাকা, সোনালি হাইব্রিড ২৯০ টাকা, লাল লেয়ার ৩৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা কমে ১৮০ টাকায় নেমেছে।

মাছের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা, ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রামের ইলিশ ১৮৯০ থেকে ২০০০ টাকা এবং ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২৭০০ থেকে ২৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্য মাছের মধ্যে চাষের শিং আকারভেদে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা, দেশি শিং ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা, রুই ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা এবং মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষের পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং বড় কাতল ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি।

এ ছাড়া পোয়া মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৪০ টাকা, কৈ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা এবং বাতাসি টেংরা ১৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। টেংরা ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকা এবং পাঁচমিশালি মাছ ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাংসের বাজারেও তেমন পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের বাজারে এক ডজন লাল ডিম ১৫০ টাকা, হাঁসের ডিম ২০০ টাকা এবং দেশি মুরগির ডিমের হালি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি কক মুরগির ডিমের হালি ৭০ টাকা।

সব মিলিয়ে রাজধানীর বাজারে মাছ, মাংস ও মুরগির দামে বড় ধরনের অস্থিরতা না থাকলেও সবজির বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে মৌসুমি সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও দাম বাড়ায় বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ ক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, এক সপ্তাহের ব্যবধানে কয়েকটি সবজির দাম ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় পরিবারের দৈনন্দিন বাজার খরচও বেড়ে গেছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় সারাদেশে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হচ্ছে। আগামীকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশব্যাপী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় জনস্বার্থে বিশেষ এই অভিযান নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন মাস দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

অভিযানের আওতায় ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং দেশের সব বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানিয়েছে তথ্য অধিদপ্তর।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

পাবনা-টেকনাফ-কলমাকান্দায় পানিতে ডুবে ৬ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
পাবনা-টেকনাফ-কলমাকান্দায় পানিতে ডুবে ৬ শিশুর মৃত্যু

দেশের তিন জেলায় পানিতে ডুবে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) পাবনা, কক্সবাজার ও নেত্রকোনায় পৃথক এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পাবনায় তিন শিশু, কক্সবাজারের টেকনাফে দুই শিশু এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

পাবনায় তিন শিশু

পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের নবীন বাজার এলাকার দাশপাড়া গ্রামে বাড়ির পাশের মাঠে জমে থাকা বর্ষার পানিতে গোসল করতে গিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো—দাশপাড়া গ্রামের শিমুল মল্লিকের মেয়ে সুমি খাতুন (৭) এবং একই গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে খালিদ হোসেন (৮) ও মেয়ে আফিয়া খাতুন (৬)। তারা স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে শিশুরা মাঠের জমে থাকা পানিতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে একজন পানিতে তলিয়ে গেলে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে বাকি দুজনও পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা তিন শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে পথেই তাদের মৃত্যু হয়।

টেকনাফে নাফ নদীতে দুই শিশু

কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপে নাফ নদীতে গোসল করতে নেমে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেটিঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো—শাহপরীরদ্বীপ উত্তরপাড়া এলাকার মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ নিশান (১২) ও কেফায়েত উল্লাহর ছেলে আরজিন (১০)।

তারা গোসল করতে নেমে পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়। স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে ও পরে কোস্টগার্ড সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় চার ঘণ্টা পর দুপুর ২টার দিকে তাদের উদ্ধার করা হয়। আরজিনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নিশানকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কলমাকান্দায় শিশুর মৃত্যু

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় পুকুরের পানিতে ডুবে আব্দুল্লাহ নামে সাড়ে চার বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার উপজেলার চিনাহালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল্লাহ ওই এলাকার কাজল মিয়ার ছেলে। পরিবারের লোকজনের অজান্তে খেলতে গিয়ে সে পুকুরে পড়ে যায়। পরে স্বজনরা উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পৃথক এসব দুর্ঘটনায় তিন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি