গণভোটে ‘হ্যাঁ’ চান প্রধান উপদেষ্টা, প্রচারণায় সক্রিয় উপদেষ্টারাও
কালের আলো রিপোর্ট:
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট। গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টায় অভ্যুত্থানে পরাজিত শক্তি। কলকাঠি নাড়ছে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে। কিন্তু সরকার বলছে, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নেই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার। সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের ফলে তুঙ্গে উঠেছে গণভোটের প্রচারণা। এই ভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে জনগণের রায়ের জন্য জনমত গঠন করছেন স্বয়ং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস। বসে নেই সরকারের উপদেষ্টারাও। প্রত্যেকেই গণভোটের ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচারণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আইনগত কোন প্রতিবন্ধকতা না থাকায় সুনির্দিষ্ট অবস্থান নিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন তাঁরা।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকার আইনসম্মতভাবেই প্রচারণা করছে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়া কেন প্রয়োজন, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে কী হবে আমরা তা জনগণকে বোঝানোর চেষ্টা করছি। এ ব্যাপারে সব রাজনৈতিক দলকেও আহ্বান জানিয়েছি। এবারের নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে হয় এ দায়িত্ব সবার- সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল- আমাদের সবার। এ ব্যাপারে সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করছি। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চার সদস্যদের প্রতিনিধিদল। বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় ভিডিও বার্তায় ড.ইউনূস বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সংস্কারের লক্ষ্যে গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেই গণভোটে দেশবাসীকে ‘হ্যাঁ’ জয়ী করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘হ্যাঁ’কে জয়যুক্ত করলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ তৈরি হবে।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, গণভোটে ‘না’ জয়ী হয়ে হলে অন্তর্বর্তী সরকারের এত দিনের পরিশ্রম ও আন্তরিকতায় সংস্কারসংশ্লিষ্ট উদ্যোগ, আয়োজন ও প্রচেষ্টা নিছক ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। সরকার বলছে, জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা প্রতিটি রাজনৈতিক দল জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলাপ-আলোচনায় অংশ নিয়ে মতামত দিয়েছে এবং সেই অনুসারে জুলাই জাতীয় সনদ গৃহীত ও স্বাক্ষরিত হয়েছে। গণভোটে দেশের মানুষের মতামতকে জয়ী করে সাফল্যের সঙ্গেই নিজেদের অধ্যায়ের ইতি টানতে চায় বর্তমান সরকার।
- ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে জনগণের রায়ের জন্য জনমত গঠন করছেন স্বয়ং প্রধান উপদেষ্টা
- ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচারণায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপদেষ্টারাও
- ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে রাজনীতিতে ভারসাম্য আসবে : তথ্য উপদেষ্টা
- ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জনগণের সমর্থন প্রতিফলিত হবে : স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা
দু’দিনের সরকারি সফরে রংপুরে গিয়েছেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ তিন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তথ্য ও সম্প্রচার; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ এই উপদেষ্টা বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে রাজনীতিতে ভারসাম্য আসবে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রংপুর শিল্পকলা একাডেমির সামনে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে আয়োজিত র্যালী শেষে উপদেষ্টা কেন গণভোটে ‘হ্যাঁ জয়ী করা অপরিহার্য সেই প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন। যুক্তিসঙ্গত ভাষায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, ‘আমরা যেন কোনদিনও ভুলে না যাই যে, জুলাইয়ে আমাদের সন্তানেরা, ভাই-বোনেরা, দেশের আপামর জনসাধারণ নির্ভীকচিত্তে প্রাণ দিয়েছে; কারণ তারা পরিবর্তন চেয়েছে। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পরিবর্তন আনার একটা সুযোগ পেয়েছি। দল মত নির্বিশেষে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দিয়ে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।’

তিনি রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে শিল্পকলা একাডেমির সামনে শেষ হওয়া বর্ণাঢ্য র্যালীর নেতৃত্ব দেন। নির্বাচন ও গণভোটের প্রচারণায় নিয়োজিত ভোটের গাড়ির কার্যক্রম এসময়টিতেও চলমান ছিল। উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘হ্যাঁ’-তে ভোট দিলে আমরা বারোটা জিনিসে পেয়ে যাব। ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারকে আপনারা এক অর্থে বাধ্য করবেন, সংবিধানে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে বিচার বিভাগকে স্বাধীন করতে; প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করতে; তত্ত্বাবধায়ক সরকার আনতে, নিজেদের অধিকার বাড়াতে। তিনি বলেন, এগুলোতে না বলার কোন কারণ দেখতে পাচ্ছি না।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে কিশোরগঞ্জ শহরের গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠে স্থাপিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিল্প এবং স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, ‘বর্তমান সরকার গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের সরকার। সংগ্রামী ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। আগামী ১২ তারিখের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জনগণের সমর্থন প্রতিফলিত হবে।’

একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসে এক অসাধারণ অর্জন; যা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে।’ তিনি জানান, এই অর্জনকে স্থায়ী করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রণয়ন করা হয়েছে জুলাই সনদ। সনদ কার্যকর করার জন্য জনগণের সম্মতি অপরিহার্য, তাই আয়োজন করা হয়েছে গণভোট। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘গণভোটে ‘‘হ্যাঁ’ ভোট অর্থ বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন থেকে মুক্ত বাংলাদেশ গঠনের পথে এগিয়ে যাওয়া। এতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধীদলের যৌথ অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় ক্ষমতার ভারসাম্য আসবে।’ ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে সংবিধান পরিবর্তনের জন্য জনগণের সম্মতি বাধ্যতামূলক হবে, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করবে, সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়বে এবং একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দশ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থাকবেন না। এজন্য তিনি সবাইকে নিজে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে এবং অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করতে আহ্বান জানান।
কালের আলো/এমএএইচ/এএইচ


আপনার মতামত লিখুন
Array