নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিতে তিন বাহিনী প্রধানের তৎপরতায় নবতর আশা, পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বার্তা
বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আর মাত্র ৬ দিন বাকী। শুরু থেকেই নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূস। দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ এই সন্ধিক্ষণে মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিজেদের কাঁধেই পুরো দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। স্বাধীন ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিতের মাধ্যমে জনগণের আস্থা-বিশ্বাস পুনরুজ্জীবিত করতে দিন-রাত একাকার করে কাজ শুরু করেছেন তাঁরা। নিজেদের কর্মপদ্ধতি ও কৌশল নির্ধারণের পাশাপাশি আন্ত-প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ে সর্বোচ্চ জোর দিয়েছেন। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দিনমান ব্যস্ত একদিন অতিবাহিত করেছেন সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধান। নিজ চোখে মাঠ পর্যায়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। ঐক্যবদ্ধ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও ভ্রাতৃত্ববোধে দৃঢ় সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ নেতৃত্ব প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নিজেদের সমন্বয়কে করেছেন আরও গভীর ও নিবিড়। সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এদিন রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় স্টেডিয়াম এলাকায় স্থাপিত সেনা ক্যাম্প পরিদর্শন করে দায়িত্বরত সেনাসদস্যদের দিকনির্দেশনা প্রদানের পাশাপাশি অসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। আগের দিন কুতুবদিয়া ও সন্দ্বীপ কন্টিনজেন্ট পরিদর্শনের পর বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বরগুনা সার্কিট হাউসে নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্ট ক্যাম্প পরিদর্শন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। একই দিনে ঢাকা সেনানিবাসস্থ বিএএফ ঘাঁটি বাশারে অবস্থিত সি-১৩০ হ্যাঙ্গারে অনুষ্ঠানে আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যে বাহিনীর সদস্যদেরকে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব বজায় রাখার বার্তা দিয়েছেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নির্দেশনা ও নির্বাচনী আচরণবিধি অনুসরণ এবং প্রয়োগের উপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
তিন বাহিনী প্রধানের অভিন্ন বার্তা থেকে স্পষ্ট নির্বাচনী নিরাপত্তার প্রশ্নে আর কোন ভয়-শঙ্কা নেই। সাধারণ মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে গণতন্ত্রের মৌলিক সত্যটিকে পুন:প্রতিষ্ঠিত করবেন। মুছে যাবে সন্দেহ-অবিশ্বাসের সব অধ্যায়। নিরপেক্ষতা, সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন জেনারেল ওয়াকার উজ-জামান, এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এর সুদৃঢ় অঙ্গীকার। সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধানের সক্রিয় তৎপরতা ও আন্তরিকতাই প্রমাণ করে এবার আর যেনতেন কোন নির্বাচন হওয়ার কোন সুযোগ নেই। স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠানে তাদের সুদৃঢ় অবস্থান জনমনে নবতর আশার সঞ্চার করেছে।
সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে উত্তপ্ত ভোটের মাঠ। নির্বাচনী রাজনীতি পুরোদমে চাঙ্গা। নেতায় নেতায় চলছে কথার লড়াই। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বড় ফ্যাক্টর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। তাই এবারের নির্বাচনে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে কাজ করবেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ১ লাখ, নৌবাহিনীর ৫ হাজার ও বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০ (স্থলভাগে ১ হাজার ২৫০) সদস্য থাকছেন। অপরাধীদের ধরতে সারা দেশে বিশেষ অভিযান, টহল, তল্লাশি চৌকি, মোবাইল পেট্রোল ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সশস্ত্র বাহিনী ভোটের পরিবেশ তৈরিতে ফ্রন্টলাইনে থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ ও ঝুঁকিমুক্ত একটি নির্বাচনের প্রতীক্ষায় রয়েছে দেশবাসী।

পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের বিশেষ গুরুত্বারোপ সেনাপ্রধানের
রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় স্টেডিয়াম এলাকায় স্থাপিত সেনা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) মতবিনিময়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আন্তপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়। সেনাপ্রধান পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী সব সংস্থার মধ্যে আন্তপ্রাতিষ্ঠানিক ও আন্তঃবাহিনী সমন্বয় জোরদার করার লক্ষ্যে সেনাপ্রধান গত ২২ জানুয়ারি থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, বগুড়া, বরিশাল, যশোর, কক্সবাজার, সিলেট, ঘাটাইল ও সাভার এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, সব বিভাগ ও জেলার বেসামরিক প্রশাসন এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সেনাবাহিনী প্রধান জাতীয় স্টেডিয়ামের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সভায় ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তা, ঢাকা মহানগর, বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ ছাড়া সেনাপ্রধান ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ুএর আওতায় মোতায়েনকৃত সেনাসদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে এবং জনগণের মনে আস্থা ফেরাতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

সেনা সদর থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগে ও পরে যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা নাশকতা প্রতিরোধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে সেনাবাহিনী বদ্ধপরিকর। এই নির্বাচনে সেনাবাহিনী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করবে।
বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলিস্তানের রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সেনা সদরের সামরিক অপারেশনস পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রস্তুতি ও চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে সংবাদ সম্মেলন করেন। এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১০ জানুয়ারি থেকে মাঠপর্যায়ে সেনাবাহিনীর সদস্যসংখ্যা ৩৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০ জানুয়ারি তা এক লাখে উন্নীত করা হয়। পাশাপাশি নৌবাহিনীর ৫ হাজার এবং বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬২ জেলায়, ৪১১টি উপজেলায় এবং মেট্রোপলিটন শহরগুলোয় মোট ৫৪৪টি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করেছে। নিয়মিত টহল, যৌথ অভিযান ও চেকপোস্টের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। সেখানে তিনি দুটি বিষয় স্পষ্ট করেছেন। প্রথমত, নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট অসামরিক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আশ্বস্ত করা যে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেবে; দ্বিতীয়ত, সাধারণ মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আস্থা তৈরি করা, যাতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মিলিতভাবে কাজ করলে নির্বাচন সম্ভব বলে মনে করেন নৌবাহিনী প্রধান
নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। নির্বাচনকে ঘিরে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয় আরও গভীর ও নিবিড় হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় বরগুনায় নৌবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। নৌবাহিনী প্রধান বলেন, নির্বাচন পরিচালনার মূল দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন, স্থানীয় প্রশাসন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের। সশস্ত্র বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁদের সার্বিক সহযোগিতায় প্রস্তুত আছে।
নৌবাহিনীর প্রধান বলেন, ‘অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর সম্পর্ক অনেক বেশি গভীর ও সমন্বিত। আমাদের মধ্যে চমৎকার বোঝাপড়া ও সমন্বয় আছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাচ্ছে। সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব।’
দেশ ও জাতির জন্য এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে নৌবাহিনী প্রধান আরও বলেন, ‘এর মাধ্যমে আমরা পুনরায় গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে যাব এবং একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করতে সক্ষম হব।’ নিজ বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে নৌবাহিনী প্রধান বলেন, ‘একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আমাদের আগামী কয়েক দিন পরিশ্রম করে যেতে হবে নিষ্ঠার সাথে, আন্তরিকতার সাথে ও দেশপ্রেমের সঙ্গে। আমার দৃঢ়বিশ্বাস, আপনাদের প্রস্তুতি সম্পর্কে যে ব্রিফিং শুনেছি এবং আপনাদের মধ্যে যে কর্মস্পৃহা, উদ্যোগ আর আন্তরিকতা দেখেছি; আমি নিশ্চিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রত্যেক সদস্য তাঁদের দায়িত্ব সুচারুরূপে পালন করতে সক্ষম হবেন।’

নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে জানিয়ে এম নাজমুল হাসান বলেন, শুধু নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যা আগের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় নৌবাহিনীর প্রধান হেলিকপ্টারে বরগুনা সার্কিট হাউস মাঠে পৌঁছান। পরে তিনি নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্ট ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনা দেন। এরপর বেলা একটার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় নৌবাহিনীর প্রধান বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নৌবাহিনীর জাহাজ মোতায়েনের পাশাপাশি পর্যাপ্তসংখ্যক বোট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্বার্থান্বেষী মহলের যেকোনো অপতৎপরতা, সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এম নাজমুল হাসান বলেন, জনগণ যেন কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে জন্য নৌবাহিনীসহ সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ভোটকেন্দ্রের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কঠোরভাবে নিরপেক্ষ থাকার নির্দেশনা বিমান বাহিনী প্রধানের
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বিমানবাহিনীর সদস্যদের কঠোরভাবে নিরপেক্ষ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা সেনানিবাসের বিএএফ ঘাঁটি বাশারে আয়োজিত এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইউনিফর্মে থাকা অবস্থায় কোনো বাহিনীর সদস্য কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব করতে পারবেন না।

কারো ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতামত থাকতে পারে, তবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সেটি যেন কোনোভাবেই প্রকাশ না পায়, সে বিষয়ে তিনি সদস্যদের সতর্ক করে দেন। একটি নিরবিচ্ছিন্ন, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দিতে বিমানবাহিনী অন্য বাহিনীর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের রূপরেখা তুলে ধরে হাসান মাহমুদ খাঁন জানান যে, এবারই প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনীর সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে সরাসরি দায়িত্ব পালন করবে বিমানবাহিনী। এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিমানবাহিনীর মোট ৩ হাজার ৭৩০ জন সদস্য সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেন।
নির্বাচনের দিন যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সদস্যদের সর্বদা দৃশ্যমান থাকতে হবে এবং ঘাঁটিতে অবস্থানরতদের নিজ নিজ অবস্থানেই উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিমানবাহিনী প্রধানের এই নির্দেশনা মূলত নির্বাচনের সময় বাহিনীর শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনমনে আস্থা তৈরির একটি বড় প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে। এয়ার চিফ মার্শাল তার বক্তব্যে বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনী ময়দানে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিমানবাহিনীর উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

কোনো বিশেষ দল বা প্রার্থীর প্রতি অনুরাগ যেন কর্তব্য পালনে বিঘ্ন না ঘটায়, সেদিকে নজরদারি বাড়ানো হবে। বিমানবাহিনীর ইতিহাসে মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনের সরাসরি দায়িত্ব পালন এটিই প্রথম হওয়ায় সদস্যদের যথাযথ প্রস্তুতির ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এই বিশেষ ব্রিফিং অনুষ্ঠানে বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কালের আলো/এমএএএমকে


আপনার মতামত লিখুন
Array