খুঁজুন
                               
, ,
           

তারেক রহমানের নেতৃত্বে তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
তারেক রহমানের নেতৃত্বে তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা

জারিফ নিহাল/শফিকুল ইসলাম পলাশ/শুভ বসাক, কালের আলো:

২০ বছর পর চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করলো দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপি। দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার দল বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। পরে মন্ত্রী হিসেবে ২৫ জন ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ২৪ জন শপথ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে টেকনোক্র্যাট রয়েছেন তিনজন। প্রধানমন্ত্রীর শপথের পর যথাক্রমে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই মন্ত্রিসভাকে তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে ভারসাম্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা। এর আগে সকালে জাতীয় সংসদে শপথ নেওয়ার পর সংসদীয় সভায় তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করেন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যরা। বিএনপির মিডিয়া সেল থেকে দেওয়া বার্তায় জানানো হয়েছে, সদ্য গঠিত মন্ত্রিপরিষদের প্রথম বৈঠক আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সাক্ষাতে তারা ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এবারের মন্ত্রিসভায় এক ঝাঁক নতুন মুখ রয়েছেন। তাঁরা আগে কখনও মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হননি। এমনকি অনেকে এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং প্রথমবার নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন। মন্ত্রীদের তালিকায় ২৫ জনের ১৭ জনই নতুন মুখ। শতাংশের হিসাবে ৬৮ শতাংশই নতুন মন্ত্রী হয়েছেন। পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রীর তালিকায় থাকা ২৪ জনই নতুন। এমনকি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এবারই প্রথম মন্ত্রিসভার সদস্য হচ্ছেন। নতুন এ মন্ত্রিসভায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারে ছিল। ২০ বছর পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলো দলটি। শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের আগে থেকে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশ থেকে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও নানান শ্রেণিপেশার মানুষ জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন মানিক মিয়া এভিনিউতে জড়ো হন। একপর্যায়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের স্লোগানে স্লোগানে পুরো সংসদ এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

জানা যায়, ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন এবং সালাউদ্দিন আহমদ পেয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, দলটির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, ড. খলিলুর রহমান: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (টেকনোক্র্যাট), দলীয় ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মিজানুর রহমান মিনু ভূমি মন্ত্রণালয়, নিতাই রায় চৌধুরী সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হয়েছেন সিলেটের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও দলটির মিডিয়া সেলের প্রধান জহির উদ্দিন স্বপন, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয় (টেকনোক্র্যাট), আফরোজা খানম বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, আসাদুল হাবিব দুলু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, মো. আসাদুজ্জামান আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাকারিয়া তাহের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, দীপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, আ ন ম এহসানুল হক মিলন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, ফকির মাহবুব আনাম ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও শেখ রবিউল আলম সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়।

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ২৪ জন নতুন মুখকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তারা প্রথমবারের মতো প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন ডাকসাইটে নেতা এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভূমি মন্ত্রণালয়, ফরহাদ হোসেন আজাদ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, মো. আমিনুল হক যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় (টেকনোক্র্যাট), নুরুল হক নুর শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, ইয়াসের খান চৌধুরী তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, এম ইকবাল হোসেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, এম এ মুহিত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, ববি হাজ্জাজ শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, হাবিবুর রশিদ ও মো. রাজিব আহসান সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, মো. আব্দুল বারী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মীর শাহে আলম স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইশরাক হোসেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ফারজানা শারমীন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং শেখ ফরিদুল ইসলাম পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

এর আগে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টার পর জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে প্রথম দফায় শপথ নেন বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। তাদের শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। সংসদ সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো শপথ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দিনটিকে স্মরণীয় রাখতে বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে জাতীয় সংসদ ভবনে আসেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। বিএনপি থেকে নির্বাচিতদের শপথ পড়ানো হয় সকাল ১০টা ৪২ মিনিটে। শপথ অনুষ্ঠানে শাড়ি পরে আসেন ডা. জুবাইদা ও জাইমা। এ সময় তাদেরকে বেশ উৎফুল্ল দেখা যায়।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো নির্বাচিত সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান রাষ্ট্রপতি ভবন ‘বঙ্গভবনের’ পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হলো। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন খোলা আকাশের নিচে আয়োজিত এই বিশাল মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভাকে শপথবাক্য পাঠ করান। বিকেল ৩টা ৫৮ মিনিটে সাদা শার্ট ও কোট-প্যান্ট পরিহিত তারেক রহমান স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন। এ সময় উপস্থিত অতিথিরা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। ৪টা ৪ মিনিটে রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

শপথ অনুষ্ঠানটি ছিল আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ১৩টি বন্ধুরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এর মধ্যে ভারত, চীন, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, কাতার ও মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিরা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা নয়াদিল্লির প্রতিনিধিত্ব করেন। সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর উপদেষ্টা পরিষদ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা। তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনৈতিক কোরের সদস্য এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসা এই সরকারের সামনে এখন রাষ্ট্র সংস্কার ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বড় চ্যালেঞ্জ। সমর্থকদের স্লোগান আর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার চাপে তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই মন্ত্রিসভা কতটা সফল হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

নবীন-প্রবীণের সম্মিলিত জ্ঞান, উদ্যম ও বাস্তব অভিজ্ঞতা সুশাসনকে আরও শক্তিশালী করবে
বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নবগঠিত ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভায় তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার অপূর্ব সমন্বয় দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাঁরা বলছেন, নবীন-প্রবীণের সম্মিলিত জ্ঞান, উদ্যম ও বাস্তব অভিজ্ঞতা সুশাসনকে আরও শক্তিশালী করবে। দেশকে টেকসই অগ্রগতি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও মাসরুর রিয়াজ বলেন, নতুন গঠিত মন্ত্রিসভাকে যথেষ্ট সম্ভাবনাময় ও ভারসাম্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। এই মন্ত্রিসভায় একদিকে রাষ্ট্র পরিচালনা ও প্রশাসনিক কাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে, অন্যদিকে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছেন যারা জনপ্রতিনিধি হিসেবে বহুবার জনগণের সঙ্গে সরাসরি কাজ করেছেন। ফলে নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে জনগণের প্রত্যাশা ও আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন সহজ হবে বলে আশা করা যায়।’ তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিসভায় তারুণ্য ও আধুনিক বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নীতি গ্রহণে সহায়ক হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে অর্থনীতি, রাজনীতি ও বৈশ্বিক কূটনীতি একে অপরের পরিপূরক এবং আন্তঃনির্ভরশীল। এই বাস্তবতা বিবেচনায় অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে গঠিত মন্ত্রিসভা দেশের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. আল মাসুদ হাসানুজ্জামান নতুন মন্ত্রিসভা সম্পর্কে বলেন, ‘সরকার বহুপ্রতীক্ষিত নির্বাচনের পর শপথগ্রহণ করেছে। দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীসহ মোট পঞ্চাশ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে। কিছু অভিজ্ঞ ও দক্ষ নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা সরকারের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক হবে।’ তিনি বলেন, ‘এটি একটি কার্যকরী সিদ্ধান্ত, কারণ সরকার কীভাবে নীতিপ্রয়োগ করবে এবং দেশের সমস্যা সমাধান করবে, তা এই মন্ত্রিসভার কর্মক্ষমতা দিয়ে বোঝা যাবে। প্রথম একশ দিনের পরিকল্পনা এই কর্মসম্পাদনের সঠিক দিকনির্দেশনা দেবে এবং সরকারের সফলতার ইঙ্গিত দেবে।’

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে যারা আসছেন, তাদের প্রত্যেককে আমি অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ মনে করি। অতীতে তারা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে কাজের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এবং আমরা আশা করি তারা এই পদে সফল হবেন।’ তিনি বলেন, ‘তবে আমরা তাদের কাছ থেকে আমাদের বিভিন্ন প্রত্যাশা রাখি। প্রথমত, আমরা আশা করবো যে তারা আইনশৃঙ্খলা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন এবং জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করবেন। দ্বিতীয়ত, ব্যাংকিং খাতের সমস্যাগুলো সমাধান করতে তারা কার্যকর উদ্যোগ নেবেন। অর্থাৎ অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং সংস্কারের মাধ্যমে এই বাধাগুলো দূর হবে। তৃতীয়ত, আমদানি-রপ্তানি ক্ষেত্রে কাস্টমস ও এনবিআরের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যাগুলো সমাধান করা হবে।’

চট্টগ্রাম বিভাগ ও ঢাকা বিভাগ থেকে সবচেয়ে বেশি মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী
বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে চট্টগ্রাম বিভাগ ও ঢাকা বিভাগ থেকে সবচেয়ে বেশি মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পাঠ করান। এতে দেখা যায়, চট্টগ্রাম থেকে সর্বোচ্চ ১২ জনকে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে ১০ জন এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দুজন আছেন। আর ঢাকা বিভাগ থেকে ১০ জনকে মন্ত্রিপরিষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অপরদিকে, মন্ত্রিসভায় সবচেয়ে কম দুজনকে নেওয়া হয়েছে সিলেট বিভাগ থেকে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের করা তালিকায় দেখা যায়- চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে মন্ত্রী হলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, আব্দুল আওয়াল মিন্টু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, আ ন ম এহসানুল হক মিলন, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ ও ড. খলিলুর রহমান। এছাড়া একই বিভাগ থেকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি ও মীর মুহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। ঢাকা বিভাগ থেকে মন্ত্রী হয়েছেন আফরোজা খানম রিতা, ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল ও শেখ রবিউল আলম। এ বিভাগ থেকে প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন ইশরাক হোসেন, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ববি হাজ্জাজ, হাবিবুর রশিদ, আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।

রাজশাহী বিভাগ থেকে মন্ত্রী হয়েছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ, মিজানুর রহমান মিনু। প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন এম এ মুহিত, মীর শাহে আলম, ফারজানা শারমিন, মুহাম্মদ আব্দুল বারী। বরিশাল বিভাগ থেকে মন্ত্রী হয়েছেন হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, জহির উদ্দিন স্বপন। প্রতিমন্ত্রীরা হলেন আহমদ সোহেল মঞ্জুর, রাজিব আহসান, মো. নুরুল হক নুর। খুলনা বিভাগ থেকে মন্ত্রী হয়েছেন নিতাই রায় চৌধুরী। প্রতিমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শেখ ফরিদুল ইসলাম। ময়মনসিংহ বিভাগে প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম, কায়সার কামাল, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ইয়াসের খান চৌধুরী ও এম ইকবাল হোসেইন। রংপুর বিভাগ থেকে মন্ত্রী হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আবু জাফর মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন, আসাদুল হাবিব এবং প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। সিলেট বিভাগ থেকে মন্ত্রী হয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী ও খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির।

কালের আলো/এমএএইচ/কেএস

প্রীতিলতার আত্মাহুতি দিবসে ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’-এর বিশেষ প্রদর্শনী

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
প্রীতিলতার আত্মাহুতি দিবসে ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’-এর বিশেষ প্রদর্শনী

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বীরকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের আত্মাহুতি দিবস উপলক্ষে মঞ্চনাটক ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’-এর বিশেষ প্রদর্শনী, সংগীতানুষ্ঠান ও শিশুদের আঁকা ছবি নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে নাট্যদল ঢাকা পদাতিক।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর বেইলি রোডে বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহীম মিলনায়তনে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে। ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিষদ এবং সাংস্কৃতিক বিদ্যালয় তপোবনের সহযোগিতায় আয়োজন করা হচ্ছে এই বিশেষ অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে তপোবনের শিল্পীরা জাগরণমূলক দলীয় সংগীত পরিবেশন করবেন। মিলনায়তনের প্রবেশপথে প্রদর্শিত হবে ঢাকার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আঁকা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, চট্টগ্রাম যুববিদ্রোহ, জালালাবাদ পাহাড় ও ধলঘাট খণ্ডযুদ্ধের ছবি। পাশাপাশি এসব যুদ্ধে শহীদ বিপ্লবীদের প্রতিকৃতি এবং ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’-এর বিভিন্ন প্রদর্শনীর প্রামাণ্যচিত্রও দেখানো হবে।

অতিথিদের বক্তব্যের পর শুরু হবে নাটকটির বিশেষ মঞ্চায়ন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

ঢাকা পদাতিকের ৩৮তম প্রযোজনা ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’। মঙ্গলবার নাটকটির ৪৭তম মঞ্চায়ন হবে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম বীর সেনানী মাস্টারদা সূর্যসেনের প্রহসনমূলক বিচার ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাটকটি নির্মিত।

নাটকটির রচনা ও মূল নির্দেশনা দিয়েছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্যজন মাসুম আজিজ। তাঁর মৃত্যুর পর নবনির্দেশনার দায়িত্ব পালন করছেন অভিনেতা ও নির্দেশক নাদের চৌধুরী। তিনি নাটকটিতে মাস্টারদা সূর্যসেনের চরিত্রেও অভিনয় করছেন।

নাদের চৌধুরী বলেন, ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসভিত্তিক একটি গুরুত্বপূর্ণ নাটক। ইতিহাসভিত্তিক এই নাটক বর্তমান প্রজন্মের অবশ্যই দেখা উচিত।’

প্রায় ৪০টি চরিত্র নিয়ে নির্মিত নাটকটির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছেন সূর্যসেন, কল্পনা দত্ত, তারকেশ্বর দস্তিদার, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, অম্বিকা চক্রবর্তী ও নির্মল সেন। বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন নাদের চৌধুরী, মাহবুবা হক কুমকুম, মনজুরুল ইসলাম নান্টু, সাবিহা জামান, মামুন উর রশিদ, শ্যামল হাসানসহ আরও অনেকে।

নাটকটির আলোক পরিকল্পনায় রয়েছেন জাকারিয়া কিরণ এবং সংগীত পরিচালনা করেছেন আবুল বাশার সোহেল। মঞ্চ ব্যবস্থাপনায় আছেন শ্যামল হাসান।

২০১৮ সালের ১৮ জানুয়ারি ‘ট্রায়াল অব সূর্যসেন’-এর উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয়। এরপর দেশ-বিদেশে একাধিক মঞ্চায়ন হয়েছে নাটকটির। ভারতের দিল্লিতেও নাটকটির দুটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কালের আলো/এসএ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম হবে পেপারলেস

শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৩ অপরাহ্ণ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম হবে পেপারলেস

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম আগামী তিন মাসের মধ্যে পেপারলেস করা হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে কর্মকর্তাদের কারিগরি ও প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াতে আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মশালার সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম পেপারলেস করা হবে। এ জন্য ডি-নথির ব্যবহার আরও বাড়ানোর পাশাপাশি পুরনো নথিগুলো আর্কাইভে নেওয়া হবে। ডি-নথির মাস্টার ট্রেনারদের আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

মানবসম্পদ উন্নয়ন ও শুদ্ধাচার দপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮৩ জন কর্মকর্তা অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্ ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসেন।

কলেজ পরিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) নাজিম উদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও শুদ্ধাচার দপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ কামাল হাছানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসএ

জবিতে প্রথমবার ‘স্পেশাল রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড’, সম্মাননা পেলেন ৩৪ শিক্ষক

কাম্পাস ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
জবিতে প্রথমবার ‘স্পেশাল রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড’, সম্মাননা পেলেন ৩৪ শিক্ষক

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) প্রথমবারের মতো ‘স্পেশাল রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড’ অর্জনকারী ৩৪ শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত বিভিন্ন বিভাগের এসব শিক্ষক গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার অর্জন করেন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হান্নান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আব্দুল হান্নান চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব শুধু শিক্ষাদান ও ডিগ্রি প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করাও এর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। গবেষণার মাধ্যমে শিক্ষকদের চিন্তার পরিসর বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে গবেষণাভিত্তিক সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

গবেষণায় প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা আরও বাড়ানোরও আহ্বান জানান নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।

সভাপতির বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবার ‘স্পেশাল রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড’ দিতে পেরে তারা আনন্দিত ও গর্বিত। বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে গবেষণার পরিধি আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

একই সঙ্গে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মতো অন্যান্য শিক্ষক-কর্মকর্তাদেরও গবেষণায় আরও উৎসাহিত হওয়ার আহ্বান জানান উপাচার্য।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘স্পেশাল রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড’ শুধু স্বীকৃতি নয়, বরং গবেষণায় আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা। তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনে আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পুরস্কারপ্রাপ্ত ৩৪ শিক্ষকের মধ্যে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ১১ জন, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ১১ জন, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ৫ জন, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ৫ জন, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে একজন এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে একজন রয়েছেন।

গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, রেজিস্ট্রার, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, অধ্যাপক, গ্রন্থাগারিক, প্রভোস্ট, প্রক্টর, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, পরিবহন প্রশাসক ও ছাত্র উপদেষ্টাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষকরা নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। পরে তাঁদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

কালের আলো/এসএ