প্রতিমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী, সরকারের পরিকল্পনা সঠিকভাবে উপস্থাপনের নির্দেশ কর্মকর্তাদের
বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সচিবালয় নিজের মন্ত্রালয়ের যাওয়ার আগেই জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টায় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবে পৌঁছলে প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ তাদের স্বাগত জানান। নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের লড়াকু ছাত্র নেতা জহির উদ্দিন বরিশাল-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময়কালে সাংবাদিকদের সঙ্গে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তথ্যমন্ত্রী। এই প্রেসক্লাবকে ছাত্রজীবন থেকেই নিজের ‘সেকেন্ড হোম’ হিসেবে অভিহিত করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আমি সব সময় সাংবাদিকদের সাথে আছি, থাকব। আমি খুবই সৌভাগ্যবান, আপনারা সবাই পরিচিত। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে এই প্রেসক্লাব আমার ছাত্রজীবন থেকে সেকেন্ড হোম। ডালপুরি খেয়ে হরতালের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতাম।’
মন্ত্রী টিভি রুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সময় বিএফইউজের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, সহসভাপতি কেএম মহসিন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সহসভাপতি বাছির জামাল, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্য কাজী রওনাক হোসেন, বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘আমি খুব ভালো করেই জানি যে, সাংবাদিক সমাজের সমস্যার সমাধান না হলে গণমাধ্যমের সমস্যার সমাধান করা যাবে না। সেই সমস্যার সমাধানটি এই মন্ত্রণালয়ের এবং আমাদের নেতা তারেক রহমানের যে পরিকল্পনা, তার মধ্যে যে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা আছে, সেই আলোকে আমাদের কর্মকৌশল-কর্ম পরিকল্পনা আপনাদের সামনে হাজির করব। তার আগে আমরা সাংবাদিকমহলসহ সকল অংশীদারদের সঙ্গে আমরা ধৈর্যের সাথে মতবিনিময় করব।’
পরে তথ্যমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী সচিবালয়ে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়ে যান। মন্ত্রণালয়ে পৌঁছালে তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা তাদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। পরে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি হন। সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতি ও পেশাদারিত্বের মধ্য দিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হবে, যাতে সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা যায়।’ এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা।
তথ্য মন্ত্রণালয়কে একটি পেশাদার কাঠামোর মধ্যে থেকে কাজ করতে হবে
সংসদ রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সেই প্রেক্ষাপটে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাদার কাঠামোর মধ্যে থেকে কাজ করতে হবে। সরকারের বার্তা স্পষ্টভাবে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়াই হবে মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা প্রস্তাবে একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে। ওই কমিশনের মাধ্যমে স্বাধীন প্রস্তাবনা প্রণয়ন করে রাষ্ট্র পরিচালনায় সহায়ক কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে তথ্য মন্ত্রণালয়কে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।’ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের তুলনায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা কিছুটা ভিন্ন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কারণ এটি সরাসরি জনমত, মতপ্রকাশ ও গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত।’

সরকারের পরিকল্পনা ও কর্মপন্থা সঠিকভাবে উপস্থাপন করা দায়িত্ব
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আমাদের সবার পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে যে আমরা একটি নতুন পর্বে প্রবেশ করেছি। ৫ আগস্টের পর এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী একটি ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রূপরেখা দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করেছিলেন। তিনি রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে সংস্কার ও পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন। দেশে ফেরার পরও তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেছেন- ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা ও কর্মপন্থা সঠিকভাবে উপস্থাপন করা এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনকে সম্পৃক্ত করা তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।’
মতবিরোধ ও বিতর্ক গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অনুষঙ্গ
মতবিরোধ ও বিতর্ক গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অনুষঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার সংরক্ষণ করে সমাজে মতপ্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সমাজের বহুমাত্রিক মতামতের প্রতিফলন ঘটবে এবং তা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, ‘জনগণের তথ্য জানার অধিকার আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে দেশ-বিদেশে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক ও অংশীজনদের কাছেও সরকারের বার্তা সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে হবে। এজন্য সবাইকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’ তিনি বলেন, একটি দেশের উন্নয়নের পরিপূরক কাঠামো হিসেবে তথ্য মন্ত্রণালয় কাজ করে। উন্নয়ন কতটা অগ্রসর হচ্ছে বা কোথায় ঘাটতি রয়েছে, সে বার্তাও তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেই জনগণের কাছে পৌঁছায়।’

কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী
নবীন-প্রবীণের অপূর্ব সমন্বয়ের চমকের মন্ত্রিসভায় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনের সংসদ সদস্য ও বিবিসির সাবেক তথ্য ও প্রযুক্তি বিজ্ঞানী মো. ইয়াসের খান চৌধুরী। তাঁর প্রয়াত বাবা মো. আনোয়ারুল হোসেন খান চৌধুরীও ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। রাজনৈতিক পরিবারের এই সন্তানকে এবার প্রথমবারের মতো তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে বিবিসি টেলিভিশন নেটওয়ার্কেও তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব সামলানো এমন ব্যক্তিত্বকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে পেয়ে খুশি সাংবাদিক নেতারাও। মন্ত্রীর নেতৃত্বে নিজ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে মতিবিনিময় সভায় আলো কেড়েছেন নতুন প্রতিমন্ত্রী। মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে টিম স্পিরিটের ওপর জোর দিয়েছেন। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, ‘মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’ তিনি আগামীর কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
কালের আলো/এম/এএইচ


আপনার মতামত লিখুন
Array