ইতিহাসের অনন্য এক দলিল! বাবা ও শ্বশুরের ৪৬ বছর আগের ‘বিরল’ সেই ছবিতে বিমুগ্ধ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
বাবা ও শ্বশুর। একটি ছবি। দুর্লভ সেই ছবি। একজন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম। অন্যজন সাবেক নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল মাহবুব আলী খান। হারানো দিনের ফ্রেমে বন্দি দুষ্প্রাপ্য এই ছবিতে প্রকারান্তরে কথা বলে ইতিহাস। দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঐতিহাসিক রেকর্ড বা উপকরণের সঞ্চয়ন নিজস্ব আর্কাইভ থেকেই নেয়া এই ছবিটি। বিশেষভাবে সংরক্ষিত রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের ছবিটি আবার ইতিহাসের দলিলও। এই ছবিটি পুরনো, হারানোর দিনের। কিন্তু এর আবেদন চিরকালের। এই ছবির দু’জনের কেউ আজ বেঁচে নেই। কিন্তু কী উজ্জ্বল জীবন্ত আজও তাঁরা!
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যারিগষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণের পর তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সাক্ষাতকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এই দুষ্প্রাপ্য ছবিটি উপহার দেন এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। সাক্ষাৎকালে দেশের জলসীমার সার্বিক নিরাপত্তা, সুনীল অর্থনীতি, সমুদ্রসম্পদ রক্ষা এবং নৌবাহিনীর সক্ষমতা ও আধুনিকায়নের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় নৌবাহিনীর পেশাদারিত্ব, দেশপ্রেম এবং সমুদ্রসীমা সুরক্ষায় তাদের নিরলস প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

একটি ছবি কখনও কথা বলে। কখনও ভাবায় আপনমনে। অনুভূতিকে নাড়িয়ে দেয় ভীষণভাবে। স্বভাবতই সব ছাপিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের হৃদয় কেড়েছে দুর্লভ এই ছবিটি। ৪৬ বছর আগের বাবা ও শ্বশুরের এই ছবিটির মাঝে যেন স্মৃতিতে হারিয়ে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চোখের পলকেই ছবিটি তাঁর অতীতকে যেন হাজির করে সামনে। দৃশ্যত প্রধানমন্ত্রী এ সময় ছিলেন বিমুগ্ধ।
ছবিটির ইতিহাস পর্যালোচনা করে জানা যায়, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর আনুগত্য, শৃঙ্খলা, উচ্চ মনোবল এবং সকল ক্ষেত্রে সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সময়টি ১৯৭৯ সালের ১০ ডিসেম্বর। চট্টগ্রামের বানৌজা ঈসা খান এ এই অনুুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। এ সময় সাবেক নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল মাহাবুব আলী খান উপস্থিত ছিলেন।

সেদিনের চিত্রগাথা হাতে পেয়ে হয়তো প্রধানমন্ত্রী খুঁজে ফিরছিলেন বাবা ও শ্বশুরের সেই মুখ যেটি ক্ষণিকের জন্য তাকে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল অতীতের ধুলো জমা পাতায়। এটি যেন দেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ও সাবেক নৌবাহিনী প্রধানের প্রতি বর্তমান নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এর গভীর সম্মান-শ্রদ্ধা ও অকৃত্রিম ভালোবাসারই উদাহরণ।
বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার মধ্য দিয়ে পরিচিত হয়েছিলেন আপসহীন একজন দেশপ্রেমিক হিসেবে। মহান স্বাধীনতার ঘোষক তিনি। রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে তিনি সেই দেশপ্রেমকে রূপ দেন কার্যকর রাষ্ট্রনায়কত্বে। ভগ্ন অর্থনীতি পুনর্গঠন, কৃষি ও উৎপাদনমুখী উন্নয়ন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন এবং জাতীয় ঐক্য গঠনে প্রয়াত এই রাষ্ট্রনায়কের ভূমিকা আজও ইতিহাসে অনন্য। অন্যদিকে, রিয়ার এডমিরাল মাহবুব আলী খান নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেই দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বাংলাদেশের নৌবাহিনীকে বিশ্বমানের আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

স্বাধীন বাংলাদেশের নৌবাহিনী আইন তার হাত ধরেই সংশোধিত রূপে অধ্যাদেশ আকারে জারি হয়েছিল। নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে ১৯৮০ সালে মিসাইল বোট ক্রয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা অর্জন করে। প্রয়াত মাহবুব আলী খান এক সময় যে নৌবাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সেই নৌবাহিনী আজ একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে দেশের সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সমুদ্র সম্পদের সুরক্ষা, সমুদ্রে অপরাধ দমন ও সুশাসন বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
কালের আলো/এমএএএমকে



আপনার মতামত লিখুন
Array