খুঁজুন
                               
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

দক্ষ নেতৃত্বগুণাবলীতে নির্ভরযোগ্য মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী ডিজিএফআই’র নেতৃত্বে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:৩৪ অপরাহ্ণ
দক্ষ নেতৃত্বগুণাবলীতে নির্ভরযোগ্য মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী ডিজিএফআই’র নেতৃত্বে

এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

দীর্ঘ বর্ণাঢ্য সাফল্যমণ্ডিত ক্যারিয়ারের দিগন্তরেখায় ঊষার উন্মেষে আলোকিত করেছেন নিজেকে। দক্ষতা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব আর সততার সঙ্গে আধুনিক-অগ্রসর চিন্তার মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন। তার ইস্পাতকঠিন মনোবলের সঙ্গে পরিণত ভাবনার মননশীলতার মূল্যবোধকে করেছেন উচ্চকিত।

প্রতিনিয়ত নিজেকে অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে চলার প্রতীতিতে আশাবাদের স্বর্ণালোকে আরও চ্যালেঞ্জিং অধ্যায়ের সূত্রপাত করতে চলেছেন মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী। মহান স্বাধীনতার অনির্বাণ চেতনা, অবিরাম প্রেরণা ও গভীর দেশপ্রেমের বিশ্বস্ততায় দক্ষ নেতৃত্বগুণাবলীতে নির্ভরযোগ্য হিসেবেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন সেনা সদর দপ্তরে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তা। সরকারে এসেই এই দুই তারকা জেনারেলের হাতেই এবার প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) নেতৃত্ব তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে তাকে ডিজিএফআই’র নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরীকে ‘র‌্যাংক ব্যাজ’ পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী তারেক রহমান।

মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী ঢাকা সেনানিবাসের কচুক্ষেতে ডিজিএফআই’র ১৪ তলা ভবনে বসে ডিজিএফআইকে নেতৃত্ব দিবেন। তিনি ডিজিএফআই’র ২৮তম ডিজি। সামরিক বাহিনীর অত্যন্ত প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ এই পদটিতে সাধারণত সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়। সরকারপ্রধান তারেক রহমান এই পদটিতে ‘বেস্ট অব দ্য বেস্ট’ সেনা কর্মকর্তাকেই মনোনীত করেন।

  • চ্যালেঞ্জিং নতুন অধ্যায়ের সূত্রপাত
  • দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও সততার সঙ্গে আধুনিক-অগ্রসর চিন্তার মেলবন্ধন
  • অযুত সম্ভাবনাময় নতুন অধ্যায়ের প্রারম্ভে প্রীতি ও শুভেচ্ছায় সিক্ত
  • আরও অনন্য-অনুপম উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন ডিজিএফআইকে

বিশ্লেষকরা মনে করেন, মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরীর আলোকোজ্জ্বল ক্যারিয়ার প্রমাণ করে শুধুমাত্র মেধা ও পেশাদারিত্বের ওপর ভিত্তি করেই ডিজিএফআই এর মতো একটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার মহাপরিচালক হিসেবে তাঁকে এই গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছে সরকার। এ সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী ও দেশের জন্য ফলপ্রসূ হবে। তিনি কর্মের দ্যুতি ছড়িয়ে ডিজিএফআইকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে সক্ষম হবেন।

যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ ও পেশাদারিত্বের প্রমাণ দিয়েই সর্বোচ্চ পদে আসীন
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেধাবী, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন ও চৌকস একজন সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে সর্বমহলে সুপরিচিত মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী। সামরিক সূত্র ও তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তিনি দেশে এবং বিদেশে নিজ যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ ও পেশাদারিত্বের প্রমাণ দিয়েই প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সর্বোচ্চ পদে আসীন হয়েছেন। ডিজিএফআই’র ডিজি হিসেবে তাঁর অভিষিক্ত হওয়ার বার্তা স্বভাবতই আনন্দ মহিমান্বিত সুসংবাদ তাঁর এলাকার বাসিন্দা, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহকর্মীদের মাঝে।

দ্বিতীয় সেরা ক্যাডেট, কখনও দ্বিতীয় হননি সামরিক প্রশিক্ষণে
অবারিত আনন্দের ফল্গুধারার আবাহনে অযুত সম্ভাবনাময় নতুন অধ্যায়ের প্রারম্ভে সোশ্যাল মিডিয়ার বিশাল ক্যানভাসে প্রীতি ও শুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছেন ২৯তম বিএমএ লং কোর্সের দ্বিতীয় সেরা ক্যাডেট হিসেবে কমিশন লাভ করা মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী। বর্তমানে তিনি তার কোর্সের প্রথম কর্মকর্তা। সামরিক প্রশিক্ষণে তিনি কখনও দ্বিতীয় হননি বলে তাঁর সহকর্মীরা জানান। তাঁর রয়েছে দেশ-বিদেশের নানা সম্মানজনক সামরিক কোর্স সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা। তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য থেকে মোট দু’বার অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেছেন। এছাড়া তিনি তুরস্ক থেকে আর্টিলারি বেসিক কোর্স এবং পাকিস্তান থেকে গানারি স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেন। নিজের উজ্জ্বল নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় ডিজিএফআই’র ডিজির এই চ্যালেঞ্জিং দায়িত্বেও তিনি দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সর্বোচ্চ প্রমাণ রাখতে সক্ষম হবেন বলেই মনে করছেন অনেকেই।

অনন্য-অনুপম উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন ডিজিএফআইকে
দেশের অন্যতম বৃহৎ গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই সাধারণত প্রতিরক্ষা বিষয়ে ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গোয়েন্দা কার্যক্রম চালিয়ে থাকে। দেশপ্রেমিক এই গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হিসেবেও অভিজ্ঞতা ও অর্জনের স্বর্ণালী সংযোগসূত্রে দেশের মানুষের ভালোবাসা আর আত্মপ্রত্যয়ের মিলিত শক্তিতে সংস্থাটিকে তিনি আরও অনন্য-অনুপম উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন, এমন অভিমত বিশ্লেষকদের।

বর্ণাঢ্য সামরিক জীবনে নানা গুরুত্বপূর্ণ পদে বেশ দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা কায়ছার রশীদ চৌধুরী পার্বত্য চট্টগ্রামে আর্টিলারি ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর (বিএম) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজে (ডিএসসিএসসি) তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রশিক্ষক (ডিরেক্টিং স্টাফ) এবং প্রধান প্রশিক্ষক (চিফ ইনস্ট্রাক্টর) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্কুল অব আর্টিলারিতেও তিনি তিন মেয়াদে প্রশিক্ষক হিসেবে নিজ যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরীর রয়েছে অনবদ্য ভূমিকা। ২০১৯ সালে তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে (ইউএনএইচকিউ) যোগ দেন। সেখানে কর্মরত থাকা অবস্থায় তাঁর নিরলস প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ (টপ টিসিসি) হিসেবে সম্মান অর্জন করে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করে। তাঁর পুরো সময়কালেই বাংলাদেশ এই শীর্ষস্থান ধরে রাখে। শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য ডেপ্লয়মেন্ট বা নতুন সুযোগ সৃষ্টিতে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। অক্লান্ত পরিশ্রম এবং মেধার জন্য তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের সামরিক উপদেষ্টার (এমআইএলএডি) আস্থাভাজন ছিলেন।

নিজ বাহিনীর সদস্যের সঙ্গে নিজেকে মিশিয়েছেন কর্মের চাঞ্চল্যে
মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী দীর্ঘ ক্যারয়ারে নিবিড় প্রসন্নতায় হৃদয়ের বিভায় নিজেকে নিজ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের সঙ্গে তিনি মিশিয়েছেন কর্মের চাঞ্চল্যে; সাহসিক প্রেরণাশক্তিতে। তাঁর এক সহকর্মী (সাবেক সেনা কর্মকর্তা) স্মৃতিচারণ করে বলেন, বিএমএ-তে তাঁর ফার্স্ট টার্ম কর্পোরাল ছিলেন কায়ছার রশীদ, যাঁর হাত ধরে সেনাবাহিনীতে তাঁর পথচলা শুরু হয়েছিল। বুট পরা থেকে শুরু করে জীবনের প্রথম স্যালুট করা—সবকিছুই তিনি এই কর্মকর্তার কাছ থেকে শিখেছিলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রশিক্ষণ, অপারেশন ও প্রশাসন—সর্বক্ষেত্রেই মেজর জেনারেল কায়ছার তাঁর যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছেন। ডিজিএফআই এর হাল ধরার জন্য এমন মেধাবী ও যোগ্য কর্মকর্তাকে বাছাই করায় তিনি সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান।

কালের আলো/এমএএএমকে

১৭ বছর পর ভাত খেলেন সেই ইনু মিয়া!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ
১৭ বছর পর ভাত খেলেন সেই ইনু মিয়া!

ভোটকেন্দ্রে লাঞ্ছিত হওয়ার প্রতিবাদে এবং নিজের প্রিয় দল ও নেতার বিজয়ের প্রতীক্ষায় দীর্ঘ ১৭ বছর ভাত না খাওয়ার কঠিন প্রতিজ্ঞা অবশেষে ভাঙলেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের বৃদ্ধ মো. ইনু মিয়া (৮০)।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের উপস্থিতিতে শত নেতাকর্মীর মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে ভাত খেয়ে তিনি তার দীর্ঘ শপথের অবসান ঘটান।

ইনু মিয়া কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার রামদি ইউনিয়নের পশ্চিম জগৎচর গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় দিনমজুর এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার একনিষ্ঠ ভক্ত এই বৃদ্ধ পড়ালেখা না জানলেও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সচেতন।

ঘটনার সূত্রপাত ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে। স্থানীয় জগৎচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে ইনু মিয়াকে বাধা দেন স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা। ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় তাকে লাইন থেকে টেনে বের করে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে অপদস্থ করা হয়। সেই অপমান সইতে না পেরে ইনু মিয়া প্রতিজ্ঞা করেন- যতদিন না বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরবে এবং শরীফুল আলম এমপি নির্বাচিত হবেন, ততদিন তিনি আর অন্ন স্পর্শ করবেন না।

সেই থেকে টানা ১৭ বছর তিনি ভাত ছাড়াই দিনাতিপাত করেছেন। পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী এমনকি জুলাই বিপ্লবের পর শরীফুল আলম নিজে তার বাড়িতে গিয়ে অনুরোধ করলেও তিনি নিজের অবস্থানে অটল ছিলেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি কেবল রুটি, কলা, মুড়ি ও চিড়া খেয়ে বেঁচে ছিলেন।

ইনু মিয়ার স্ত্রী জোস্না বেগম জানান, তাকে ছাড়া ভাত খেতে পরিবারের সবার কষ্ট হলেও ইনু মিয়াকে কোনোভাবেই রাজি করানো যায়নি। অবশেষে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বিএনপি ক্ষমতায় আসায় এবং প্রিয় নেতা শরীফুল আলম এমপি নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ায় ইনু মিয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। মঙ্গলবার প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমের হাতে ভাত খাওয়ার মাধ্যমে তার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে।

এ সময় আবেগাপ্লুত প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, ইনু মিয়ার মতো নিবেদিতপ্রাণ ও ত্যাগী কর্মীরাই বিএনপির আসল প্রাণশক্তি। তাদের কারণেই নানা ষড়যন্ত্র ও নির্যাতনের পরও দল বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তিনি ইনু মিয়াকে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানেরও ঘোষণা দেন।

কালের আলো/ এসাআর/ এএএন 

ইরানের তেলে আর কোনো ছাড় হবে না: ট্রাম্প 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ
ইরানের তেলে আর কোনো ছাড় হবে না: ট্রাম্প 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

সমুদ্রে আটকা পড়ে থাকা ইরানি তেল বিক্রির যে স্বল্পমেয়াদী অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তার মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠকের আগে ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

একাধিক জাহাজে প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুত করে রেখেছিল ইরান। ছিল পেট্রোকেমিক্যালস পণ্যও। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ় প্রণালী কার্যত বন্ধ। তেলের বাজারে শুরু হয় হাহাকার। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে দাম। এই পরিস্থিতিতে সাপ্লাই চেন বজায় রাখতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ফলে মজুত তেলের পুরোটাই বিক্রি করতে পারে ইরান।

এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি দফতর জানায়, ‘সমুদ্রে থাকা জাহাজে মজুত তেলের উপরে যে ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তা নির্ধারিত সময়েই শেষ হবে। তার পরে আর ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানো হবে না।’ ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইকোনমিক ফিউরি’ নামে নতুন নীতি গ্রহণ করেছে দেশটি।

এই নিষেধাজ্ঞা তারই অংশ। শুধু তেল নয় ইরানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করলে সেই দেশ বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত শনিবার ইসলামাবাদে শান্তি বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পরেই হরমুজ় প্রণালীতে অবরোধ শুরু করে মার্কিন সেনারা।  কোনো দেশের জাহাজই ঢুকতে বা বেরতে পারছে না। এই আবহেই আগামী দুদিনের মধ্যে ফের আলোচনায় বসতে চলেছে দুই দেশ। তার আগে ছাড় তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ইরানের উপরে চাপ বাড়ানোর কৌশল হিসেবেই দেখছেন অনেকে।

‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান ২০ বছরের জন্য তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ রাখুক। কিন্তু ইরান ৫ বছরের বেশি রাজি না হওয়ায় প্রথম দফার বৈঠক সফলতার মুখ দেখেনি। তবে গত কয়েক দিনের আলোচনা ও বার্তা আদান-প্রদানের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দফা শান্তি বৈঠকের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এতে করে তুলে নেওয়া হতে পারে অবরোধ। খুলে যেতে পারে হরমুজ প্রণালিও।

কালের আলো/ এসাআর/এএএন 

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু আজ, মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:২১ পূর্বাহ্ণ
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা শুরু আজ, মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

প্রায় দেড় যুগ বিরতির পর শুরু হচ্ছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে শুরু হচ্ছে এই পরীক্ষা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে পরীক্ষার রুটিন ও পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা প্রকাশ করেছে। এতে পরীক্ষার্থীদের জন্য ১০টি বিশেষ নির্দেশনা এবং পরীক্ষা চলাকালীন আচরণবিধি কী হবে তা জানানো হয়েছে।

সবশেষ ২০০৮ সালে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরে ২০০৯ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা চালু করা হলে তার ফলাফলের ভিত্তিতেই বৃত্তি প্রদান করা হতো।

এবারের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী ১৫ এপ্রিল বাংলা, ১৬ এপ্রিল ইংরেজি, ১৭ এপ্রিল প্রাথমিক গণিত এবং ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হবে।

তবে তিন পার্বত্য জেলা- রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে পরীক্ষার সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন রাখা হয়েছে। এসব জেলায় ১৭ এপ্রিল প্রাথমিক গণিত, ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ও প্রাথমিক বিজ্ঞান, ১৯ এপ্রিল বাংলা এবং ২০ এপ্রিল ইংরেজি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার সময় অপরিবর্তিত থাকবে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নীতিমালা অনুযায়ী ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ-এই দুই ক্যাটাগরিতে বৃত্তি দেওয়া হবে। মেধা তালিকায় ছাত্র ও ছাত্রীদের সমানুপাতিক হারে, অর্থাৎ ৫০ শতাংশ করে নির্বাচন করা হবে। এছাড়া মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং বাকি ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রবেশপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং মোবাইল ফোন বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে আনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। উত্তরপত্র যথাযথভাবে পূরণ, ইনভিজিলেটরের স্বাক্ষর নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত সময়ের আগে হল ত্যাগ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া পরীক্ষা কক্ষে কোনো ধরনের কথাবার্তা, প্রশ্নপত্র বিনিময় বা অননুমোদিত উপায়ে সহায়তা নেওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরীক্ষা শেষে ইনভিজিলেটরের কাছে উত্তরপত্র জমা দিয়েই পরীক্ষার্থীদের হল ত্যাগ করতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

কালের আলো/এসাআর/ এএএন