খুঁজুন
                               
, ,
           

আজ ঐতিহাসিক বদর দিবস

ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৩:৪২ অপরাহ্ণ
আজ ঐতিহাসিক বদর দিবস

১৭ রমজান। ঐতিহাসিক বদর দিবস। ৬২৪ খ্রিস্টাব্দে তথা দ্বিতীয় হিজরিতে আজকের দিনে বদর প্রান্তরে সংঘটিত হয়েছিল এই যুদ্ধ। মুসলমানদের সমৃদ্ধি ও শক্তিবৃদ্ধিতে ঈর্ষা ও শত্রুতা থেকেই পৌত্তলিক মক্কাবাসী রাসুলুল্লাহ (স.) ও তাঁর অনুসারীদের সাথে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটায়, ইসলামের ইতিহাসে তা ’গাজওয়ায়ে বদর’ বা বদর যুদ্ধ নামে পরিচিত। এই যুদ্ধে আবু জেহেলের এক হাজার সুসজ্জিত বাহিনীর বিপরীতে মুসলমানদের সেনা সংখ্যা ছিল মাত্র ৩১৩।

যেসব পরোক্ষ কারণে বদরযুদ্ধের সূচনা হয়, তা হলো- হিজরতের পর মদিনায় ইসলামের দৃঢ় প্রতিষ্ঠা ও প্রসারে কুরাইশদের হিংসা, আবদুল্লাহ বিন ওবাই ও ইহুদিদের যড়যন্ত্র, ইসলামের ক্রমবর্ধমান শক্তির ধ্বংস এবং নবীজি (স.)-কে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করার হীন চক্রান্ত, কাফেরদের সন্ধি-শর্ত ভঙ্গ, বাণিজ্য বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা, কাফেরদের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা। প্রত্যক্ষ কারণ ছিল- নাখালার ঘটনা, কাফেরদের রণপ্রস্তুতি, আবু সুফিয়ানদের অপপ্রচার, যুদ্ধ প্রস্তুতির জন্য ওহি লাভ ও মক্কাবাসীদের ক্ষোভ।

ঐতিহাসিক বদর যুদ্ধে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর নগণ্যসংখ্যক সাহাবায়ে কেরাম আল্লাহ তাআলার গায়েবি সাহায্যে আবু জেহেলের বিশাল বাহিনীকে পর্যুদস্ত করেছিলেন। এই যুদ্ধকে কোরআন কারিমে ‘সত্য-মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যকারী যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।

মদিনার দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে ৮০ মাইল দূরে এই সশস্ত্র যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ‘আশহুরে হুরুম’ বা নিষিদ্ধ চার মাসের অন্যতম হচ্ছে পবিত্র রমজান। এই রমজানেই মদিনা আক্রমণ করে বসে কাফেররা। তার বিপরীতে আত্মরক্ষামূলক যুদ্ধের কৌশল গ্রহণ করেছিলেন মুসলিমরা।

আল্লাহর ওপর পূর্ণ বিশ্বাসী মুসলমানদের অস্ত্র ছিল মাত্র তিনটি ঘোড়া, ৭০টি উট, ছয়টি বর্ম ও আটটি তলোয়ার। রসদ কম মনে হলেও বিজয় লাভে তাদের প্রধান উপকরণ ছিল ঈমানি শক্তি। মুসলমানদের বিশ্ব জয়ের সূচনা এবং সর্বোত্তম ইতিহাস রচনার ভিত্তি এই বদর যুদ্ধ। এই যুদ্ধে ৭০ জন মুশরিক নিহত ও ৭০ জন বন্দি হয়। অন্যদিকে মাত্র ১৪ জন মুসলিম বীর সেনানী শাহাদতের অমীয় সুধা পান করেন।

বদরের এ ঘটনা থেকে মুসলিম জাতীর সবচেয়ে বড় শিক্ষণীয় বিষয় হলো—মুসলিম উম্মাহ এমন একটি জাতি, যে নীরবে নিভৃতে অত্যাচার-অনাচার-জুলুম সহ্য করবে না। প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখাকে কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করবে।

ইসলামকে সমুন্নত রাখার জন্য কাফের-মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে। ঈমান ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য সূচিত করবে। বদর যুদ্ধ মুসলমানকে সর্বাবস্থায় আল্লাহর সাহায্য কামনা করতে শেখায়। আল্লাহর ওপর দৃঢ় ঈমান ও নির্ভর হওয়া শেখায়। যুদ্ধে অবিচল থাকা ও সবর করা শেখায়।

বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে মুসলিমরা ইসলামবিদ্বেষীদের জুলুমের শিকার হচ্ছেন এবং ইসলামের শত্রুরা ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আর মুসলমানরা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে নীরবে বসে আছেন। তা মোটেও ইসলামের শিক্ষা নয়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে বদরের যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নেওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

ব্যাংক খাতে বাড়ছে ‘নীরব’ ঝুঁকি

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৫ অপরাহ্ণ
ব্যাংক খাতে বাড়ছে ‘নীরব’ ঝুঁকি

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ও শ্রেণিকৃত ঋণের চাপ এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা নয়; এটি ক্রমেই পুরো আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠছে। একদিকে বাড়ছে সমস্যাগ্রস্ত ঋণ, অন্যদিকে এসব ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ করতে পারছে না অনেক ব্যাংক। ফলে কাগজে-কলমে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তার আড়ালে প্রকৃত ঝুঁকি আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুন ২০২৬ শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন ও বাস্তবে সংরক্ষিত প্রভিশনের মধ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৩৫৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা। একই সময়ে ব্যাংকগুলোর মোট শ্রেণিকৃত ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা।

শ্রেণিকৃত ঋণ বেড়েছে প্রায় ১৮ হাজার কোটি
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, মার্চ ২০২৬ শেষে ব্যাংকগুলোর শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। জুনে তা বেড়েছে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা। মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ এখন শ্রেণিকৃত। ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই কোনো না কোনোভাবে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এত বড় অংশের ঋণ সমস্যাগ্রস্ত হয়ে পড়া শুধু ব্যাংকের মুনাফাকে চাপের মুখে ফেলছে না, বরং নতুন ঋণ বিতরণ, বিনিয়োগ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।

প্রভিশনের অর্ধেকও সংরক্ষণ হয়নি
খেলাপি বা শ্রেণিকৃত ঋণ থেকে সম্ভাব্য ক্ষতি সামাল দিতে ব্যাংককে আগেই অর্থ সংরক্ষণ করতে হয়। এর উদ্দেশ্য হলো—ঋণ শেষ পর্যন্ত আদায় না হলে যেন একবারে বড় ধাক্কা না আসে। কিন্তু এখানেই বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, শ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর প্রয়োজনীয় প্রভিশনের পরিমাণ প্রায় ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা। বিপরীতে বাস্তবে সংরক্ষণ করা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। ফলে প্রয়োজনীয় ও প্রকৃত প্রভিশনের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৩৫৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা। সম্ভাব্য ঋণক্ষতির যে পরিমাণ অর্থ ব্যাংকগুলোর আলাদা করে রাখার কথা, তার অর্ধেকের কিছু বেশি সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণ করতে হলে ব্যাংকগুলোর মুনাফার বড় অংশ ভবিষ্যৎ লোকসানের বিপরীতে আটকে রাখতে হবে। দুর্বল আয়, কম মূলধন ও বেশি খেলাপি ঋণের ব্যাংকগুলোর জন্য তা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

বড় ঘাটতিতে বেসরকারি ব্যাংক
প্রভিশন ঘাটতির সবচেয়ে বড় অংশ কেন্দ্রীভূত রয়েছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে। এ খাতের ব্যাংকগুলোর প্রয়োজনীয় প্রভিশনের পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার ২০৪ কোটি টাকা। বিপরীতে প্রকৃত প্রভিশন সংরক্ষণ হয়েছে প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা। ফলে বেসরকারি ব্যাংক খাতে প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা। মার্চে এই ঘাটতি ছিল ১ লাখ ৩১ হাজার ৩১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসে ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। এটি মোট প্রভিশন ঘাটতির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। ফলে বেসরকারি ব্যাংক খাতেই বর্তমানে সবচেয়ে বড় আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেশি এবং আয় কম, তাদের জন্য এই ঘাটতি পূরণ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকেও বড় চাপ
রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অবস্থাও স্বস্তিদায়ক নয়। ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মোট শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা। এর বিপরীতে প্রভিশন ঘাটতি প্রায় ৭৪ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা। মার্চ ২০২৬ শেষে এ ঘাটতি ছিল ৭৪ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে খুব বেশি না বাড়লেও ঘাটতির পরিমাণ ইতোমধ্যে বিপুল।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ক্ষেত্রে সমস্যাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণে শেষ পর্যন্ত সরকারি সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ব্যাংক খাতের দুর্বলতার বোঝা সরাসরি রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থা ও জনগণের অর্থের ওপর পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

প্রকৃত ঝুঁকি আড়াল
একটি ব্যাংক যখন ঋণ দেয়, তখন সেটি ধরে নেয় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওই অর্থ ফেরত আসবে। কিন্তু কোনো ঋণ আদায় হওয়ার সম্ভাবনা কমে গেলে ব্যাংককে সম্ভাব্য ক্ষতির বিপরীতে প্রভিশন রাখতে হয়। ধরা যাক, কোনো ব্যাংকের ১০০ কোটি টাকার ঋণের বড় অংশ আদায় হওয়ার সম্ভাবনা কমে গেছে। ভবিষ্যতে ওই অর্থ ফেরত না এলে ব্যাংক যেন হঠাৎ বড় লোকসানে না পড়ে, সে জন্য আগেই অর্থ সংরক্ষণ করতে হয়।

প্রয়োজনীয় প্রভিশন না থাকলে ব্যাংকের হিসাবের খাতায় মুনাফা তুলনামূলক বেশি দেখা যেতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য লোকসানও জমতে থাকে। ফলে প্রভিশন ঘাটতি মূলত ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার ওপর একটি ‘স্থগিত চাপ’ তৈরি করে।

ছাড়ের নীতি সমস্যা আরও বাড়াচ্ছে
বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, মূলধন ঘাটতির বড় কারণ খেলাপি ঋণ। তবে প্রকাশিত ঘাটতিও প্রকৃত চিত্রের পুরোটা তুলে ধরে না বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, অনেক ব্যাংক দেন-দরবারের মাধ্যমে মূলধন ঘাটতি শিথিল করে। একইভাবে খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের নানা নীতিগত ছাড় দেওয়া হচ্ছে।ব্যাংকগুলোও ঋণগ্রহীতার তথ্য যথাযথভাবে যাচাই, তদারকি ও ঝুঁকি মূল্যায়নে প্রয়োজনীয় কঠোরতা দেখাচ্ছে না।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, এক দশকের বেশি সময় ধরে এ ধরনের শিথিলতার পথ অনুসরণ করা হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। বরং একসময় যে খেলাপি ঋণকে এক অঙ্কে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ছিল, তা এখন স্বীকৃত হিসাবেই মোট ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশে পৌঁছেছে। স্বীকৃত নয় এমন সমস্যাগ্রস্ত ঋণ বিবেচনায় নিলে প্রকৃত পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

আমদানি-রপ্তানিতেও প্রভাব
ব্যাংক খাতের দুর্বলতা শেষ পর্যন্ত দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা কমে গেলে আমদানি-রপ্তানি লেনদেনে ঝুঁকি ও ব্যয় দুটিই বাড়তে পারে। ড. জাহিদ হোসেনের মতে, এমন পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্যে অনাস্থা তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের রিস্ক প্রিমিয়াম এমনিতেই বিশ্বের মধ্যে উচ্চ—ব্যাংক খাতের দুর্বলতা আরও প্রকট হলে সেই ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংস্কার না হলে ছড়িয়ে পড়বে ঝুঁকি
ব্যাংক খাতের বর্তমান চিত্রের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো—সমস্যাটি শুধু খেলাপি ঋণের পরিমাণে সীমাবদ্ধ নেই। ৬ লাখ কোটি টাকার বেশি শ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে ২ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রভিশন ঘাটতি বলছে, সম্ভাব্য ক্ষতির একটি বড় অংশ এখনো ব্যাংকের হিসাবের বাইরে চাপ হিসেবে জমে আছে। এই ঘাটতি পূরণে ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমে যেতে পারে, মূলধন আরও দুর্বল হতে পারে এবং নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা সংকুচিত হতে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে বেসরকারি বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে।

কালের আলো/এম/এএইচ

দেশের ভবিষ্যতের জন্য যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
দেশের ভবিষ্যতের জন্য যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে টেকসই করতে ভালো ও সৎ মানুষের রাজনীতিতে আসা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান।

তিনি বলেন, ভালো রাজনীতিবিদ তৈরি করতে না পারলে দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে যত স্বপ্নই দেখা হোক, তা টেকসই হবে না। মানসম্মত উন্নয়নের জন্য যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব প্রয়োজন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনের এলডি হলে বরিশাল ডিভিশনাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিডিজেএ) আয়োজিত ‘আগামীর বরিশাল বিভাগ: সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘কোয়ালিটি ডেভেলপমেন্ট’ নিশ্চিত করতে হলে ভালো মানুষকে নেতৃত্বে আনতে হবে। গত ১৭ বছরে দেশে নেতৃত্বের বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। ভালো ও মেধাবী তরুণরা রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেছে এবং রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের মধ্যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে। এমনকি অনেক রাজনীতিবিদের সন্তানও রাজনীতিতে আসতে আগ্রহী নয়।

তিনি বলেন, ভালো উপাদান থাকলেও দক্ষ বাবুর্চি ছাড়া যেমন ভালো খাবার তৈরি করা যায় না, তেমনি ভালো মানুষ নেতৃত্বে না এলে উন্নয়ন ও অগ্রগতির সুফল টেকসই করা সম্ভব নয়।

বরিশালের ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ফুটবল, রাজনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বরিশাল ও এ অঞ্চলের মানুষ দেশের নেতৃত্ব দিয়েছে। পাকিস্তান আমল থেকে স্বাধীনতার পর পর্যন্ত এ অঞ্চল থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা উঠে এসেছেন।

তিনি বলেন, বরিশালকে সত্যিকার অর্থে স্বপ্নের নগরী ও স্বপ্নের শহরে পরিণত করতে হলে আগামী দিনে ভালো রাজনীতিবিদ তৈরি করতে হবে। এজন্য বরিশালসহ আশপাশের নির্বাচনি এলাকা ও জেলাগুলো থেকে মেধাবী তরুণ-তরুণীদের রাজনীতিতে আসতে উৎসাহিত করতে হবে এবং অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্যাস সরবরাহ ও শিল্পায়ন উন্নয়নের অংশ হলেও দেশের এখন প্রয়োজন মানসম্মত ও টেকসই উন্নয়ন। আর এ জন্য যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব অপরিহার্য।

তিনি বলেন, যারা বর্তমানে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছেন, তাদের দায়িত্ব হলো পরবর্তী প্রজন্মের যোগ্য ও মেধাবীদের রাজনীতিতে আসার পথ তৈরি করা। তরুণদের রাজনীতিতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের জন্য পরিবেশ সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করতে হবে।

আন্দালিভ রহমান বলেন, আমরা হয়তো অনেক কিছু তৈরি করে যেতে পারব, কিন্তু ভালো নেতৃত্ব তৈরি করতে না পারলে সেগুলো ধরে রাখা সম্ভব হবে না। তাই ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

বরিশাল থেকে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকসহ অনেক বড় নেতা উঠে এসেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও এ অঞ্চল থেকে যোগ্য ও ভালো নেতৃত্ব সামনে আসতে হবে। দেশের মেধাবী ও শিক্ষিত তরুণদের কেউ চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী বা সফটওয়্যার প্রকৌশলী হওয়ার পাশাপাশি রাজনীতিতে এসে দেশ পরিবর্তনের প্রত্যয় ব্যক্ত করলে সেটিই হবে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

প্রতিমন্ত্রী টুকু

মৎস্য খাতে উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির ওপর জোর প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০৮ অপরাহ্ণ
মৎস্য খাতে উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির ওপর জোর প্রতিমন্ত্রীর

দেশে মৎস্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মাছের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সরকারি মৎস্য খামারগুলোর উন্নয়ন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার আটপুকুর পাড় এলাকায় অবস্থিত সরকারি মৎস্যবীজ উৎপাদন খামার পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে সরকারি মৎস্য খামারগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে হবে। উন্নত ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে মৎস্যবীজ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। সরকারি খামারগুলোতে সৌরবিদ্যুতের মতো পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হলে উৎপাদন কার্যক্রম আরও টেকসই হবে।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী খামারে ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সৌরবিদ্যুৎ সিস্টেম উদ্বোধন করেন। পরে তিনি খামারের ব্রুড মাছের পুকুরে মাছের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং খামার প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন।

এ সময় মৎস্য অধিদপ্তর ঢাকা বিভাগের পরিচালক মো. আহসান হাসিব খান, সরকারি মৎস্য খামারগুলোর মৎস্য উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. মশিউর রহমান, টাঙ্গাইলের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান কবীর, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন মিয়া, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আজিম উদ্দিন বিপ্লবসহ মৎস্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী খামারের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি