খুঁজুন
                               
, ,
           

মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার আরও একটি ‘চোখ’ নষ্ট করল ইরান!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ
মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার আরও একটি ‘চোখ’ নষ্ট করল ইরান!

উপসাগরীয় অঞ্চলে আগেই আমেরিকার একটি ‘চোখ’ নষ্ট করেছিল ইরান। এবার তাদের হামলার ওই অঞ্চলেই আমেরিকার আরও একটি শক্তিশালী ‘চোখ’ ধ্বংস করা হয়েছে বলে ফের দাবি করল ইরান।

কাতারে আমেরিকার শক্তিশালী রেডার ব্যবস্থা এফপিএস ১৩২-কে ধ্বংস করার পর এবার জর্ডানে আরও শক্তিশালী ‘থাড’ (টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স) রেডার ব্যবস্থাকেও গুঁড়িয়ে দিল ইরান।

৩০ কোটি ডলার ব্যয় করে নির্মিত এই রেডার ব্যবস্থা জর্ডানের মুয়াফ্‌ফক সাল্টি সেনাঘাঁটিতে মোতায়েন করেছিল আমেরিকা। অত্যাধুনিক এই রেডার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে আমেরিকাকে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দেশ।

জর্ডানে আমেরিকার এই সেনাঘাঁটিতে জোরালো হামলা চালিয়েছে ইরান। রেডার ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয় বলে ইরানের সংবাদমাধ্যমের দাবি। শুধু তা-ই নয়, জর্ডান ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে রেডার ব্যবস্থাকে নিশানা করা হয়েছে।

জর্ডানের মার্কিন সেনাঘাঁটি ইরান থেকে ৮০০ কিলোমিটার দূরে। আর এই সেনাঘাঁটি পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার অন্যতম বড় সেনাঘাঁটিগুলির মধ্যে একটি।

উপগ্রহচিত্রে এই সেনাঘাঁটির ‘থাড’ রেডার ব্যবস্থার কাছে বিশাল বড় আকৃতির দু’টি গর্ত ধরা পড়েছে। উপগ্রহচিত্রকে উল্লেখ করে সংবাদমাধ্যম সিএনএন আগেই দাবি করেছিল, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরটিএক্স কোর এএন/টিরিওয়াই-২ রেডার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে।

যদিও আমেরিকার তরফে এ কথা প্রথমে স্বীকার করা হয়নি। তবে পরে মার্কিন প্রশাসনের একটি সূত্রে রেডার ব্যবস্থা নষ্ট হওয়ার কথা স্বীকার করা হয়।

‘থাড’-এর পুরো নাম ‘টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স’। এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে মোতায়েন করা হয়েছিল বায়ুমণ্ডলের ওপর থেকে মহাকাশ ছুঁয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রকে রুখে দেওয়ার জন্য। অর্থাৎ ‘স্পেস মিসাইল’-এর নজরদারির জন্যই এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ৩০ কোটি ডলার খরচ করে তৈরি করেছিল আমেরিকা।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের তথ্য বলছে, আমেরিকার কাছে এ রকম মোট আটটি ‘থাড’ রেডার ব্যবস্থা রয়েছে। তার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া এবং গুয়ামেও এই প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে।

কোনও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করার আগেই এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটিকে ধ্বংস করে। তবে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কোনও বিস্ফোরক থাকে না।

গতিশক্তিকে কাজে লাগিয়ে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র নিষ্ক্রিয় করে দেয়। এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অত্যন্ত উন্নতমানের রেডার আছে যেটি ১০০০ কিলোমিটার দূর থেকেই ক্ষেপণাস্ত্র বা হামলাকারী ড্রোনের হদিস পেয়ে যায়।

লকহিড মার্টিন এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নির্মাতা। দক্ষিণ কোরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইসরায়েল, জর্ডান এবং সৌদি আরবে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে।

তার মধ্যে জর্ডানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারিতেই জর্ডানে এই রেডার ব্যবস্থা মোতায়েন করেছিল আমেরিকা।

দিন কয়েক আগেই কাতারে আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী রেডার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ইরান। ইরান সেনাবাহিনীকে উদ্ধৃত করে তেহরান টাইমস-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এএন/এফপিএস-১৩২ রেডার ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। যার পাল্লা ৫০০০ কিলোমিটার। এই রেডার ব্যবস্থাকে পুরোপুরি নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় এফপিএস ১৩২ রেডার অপরিহার্য। কারণ, অত্যন্ত নিখুঁতভাবে, সময়ের সঙ্গে ‘শত্রু’ পক্ষের কোনো ড্রোন, রকেট বা ক্ষেপণাস্ত্রকে সহজেই চিহ্নিত করে তৎপরতার সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে পারে। ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া-র প্রতিবেদন বলছে, এফপিএএস-১৩২ রেডারটি কাতারের আল উদেইদে মার্কিন বায়ুসেনাঘাঁটিতে ছিল। ২০১৩ সালে এই সেনাঘাঁটিতে রেডার ব্যবস্থাটিকে বসানো হয়েছিল।

কালের আলো/এএএন

‘ইসলামবিরোধী’ দাবি করে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন বন্ধ, দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে শত শত আফগান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪১ অপরাহ্ণ
‘ইসলামবিরোধী’ দাবি করে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন বন্ধ, দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে শত শত আফগান

‘ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়’—এমন যুক্তি দেখিয়ে চোখের কর্নিয়া প্রতিস্থাপন নিষিদ্ধ করেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। এতে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা হারাতে পারেন দেশটির শত শত মানুষ। চিকিৎসকেরা বলছেন, দুর্ঘটনা, বিস্ফোরণ ও বিভিন্ন আঘাতে কর্নিয়ার ক্ষতি হওয়া রোগীদের চিকিৎসার জন্য এই অস্ত্রোপচার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তালেবান কর্তৃপক্ষ মৌখিকভাবে কর্নিয়া প্রতিস্থাপন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর শাস্তির আশঙ্কা থাকায় চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার চালিয়ে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। ফলে দেশটিতে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের যে কার্যক্রম সম্প্রতি গড়ে উঠেছিল, তা বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে।

কয়েক মাসের উদ্যোগেই বাধা
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল ও পূর্বাঞ্চলীয় শহর জালালাবাদে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের কার্যক্রম চালু করতে স্থানীয় চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছিল একটি চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা। চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তানের বাইরে আফগানিস্তানেও এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হয়। কিন্তু কার্যক্রম শুরুর কয়েক মাসের মধ্যেই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো।

কাবুলের নূর চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক নূর জামান হাশিম জানান, কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার আগে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাঁদের কর্মীরা ৯০টি কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার করেছিলেন। হাসপাতালে এ চিকিৎসার জন্য অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তাঁদের অধিকাংশই তরুণ-তরুণী।

আঘাত, জখম, বিস্ফোরণ এবং ঝালাইয়ের কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনার কারণে এসব রোগীর অনেকে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। কর্নিয়া প্রতিস্থাপন তাঁদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ ছিল।

পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও কর্নিয়ার সংকট
আফগানিস্তানের স্বাস্থ্যব্যবস্থা দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের মতো বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতাও সীমিত।

নূর জামান হাশিম বলেন, ‘কয়েক দশকের সহিংসতায় আফগানিস্তানের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত চক্ষুবিশেষজ্ঞ আমাদের নেই। স্থানীয়ভাবেও প্রয়োজনীয় কর্নিয়া পাওয়া যায় না।’

তালেবান কর্তৃপক্ষের নির্দেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘তালেবান কর্তৃপক্ষ মৌখিকভাবে আমাদের কর্নিয়া প্রতিস্থাপন বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। কঠোর শাস্তির ভয়ে কেউ তাদের নির্দেশ অমান্য করার সাহস পাচ্ছেন না।’

চিকিৎসকদের আশঙ্কা, নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘস্থায়ী হলে চিকিৎসার অপেক্ষায় থাকা রোগীদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। বিশেষ করে যাঁদের কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে দৃষ্টিশক্তি কমে গেছে বা হারিয়ে গেছে, তাঁদের জন্য বিকল্প চিকিৎসার সুযোগ সীমিত।

পাকিস্তান থেকে কর্নিয়া সরবরাহের উদ্যোগ
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যভিত্তিক দাতব্য সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন অব ফিজিশিয়ানস অব পাকিস্তানি ডিসেন্ট অব নর্থ আমেরিকা (এপিপিএনএ) ২০১৭ সাল থেকে পাকিস্তানে বিনা মূল্যে কর্নিয়া সরবরাহ করে আসছে। অঙ্গদানের মাধ্যমে সংগ্রহ করা এসব কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে রোগীদের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়।

চলতি বছরের শুরুতে সংস্থাটি আফগানিস্তানেও এ কর্মসূচি চালু করে। এর ফলে দেশটিতে ১৫০টিরও বেশি কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার করার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এসব অস্ত্রোপচার পরিচালনার জন্য তিনজন আফগান চক্ষু বিশেষজ্ঞকে পাকিস্তানের পেশোয়ারে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

এপিপিএনএর কর্নিয়া কর্মসূচির প্রধান এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জাফর মীর ফাউন্ডেশনের প্রধান চিকিৎসক ফাওয়াদ জাফর বলেন, ‘২০১৭ সাল থেকে আমরা পাকিস্তানে বিনা মূল্যে কর্নিয়া সরবরাহ করে আসছি। এ পর্যন্ত ১০ হাজার মানুষ এই কর্মসূচি থেকে উপকৃত হয়েছেন।’

আফগানিস্তানে কর্মসূচি সম্প্রসারণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রায় চার মাস আগে আমরা আফগানিস্তানেও এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করি। দেশটিতে শত শত মানুষের কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তালেবান সরকারের নির্দেশে কর্মসূচিটি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।’

চিকিৎসাসেবা নিয়ে নতুন উদ্বেগ
২০২১ সালে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর তালেবান সরকারের বিভিন্ন নীতির কারণে আফগানিস্তানে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কর্নিয়া প্রতিস্থাপনে নিষেধাজ্ঞা সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে চোখের ক্ষতিগ্রস্ত স্বচ্ছ অংশ বদলে দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে আঘাত বা দুর্ঘটনায় কর্নিয়া নষ্ট হওয়া রোগীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা। এ কার্যক্রম বন্ধ থাকলে অনেক রোগীর চিকিৎসা অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

নিষেধাজ্ঞার ফলে শুধু চলমান কর্মসূচিই থেমে যায়নি, ভবিষ্যতে নতুন রোগীদের চিকিৎসার সুযোগও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দেশটিতে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন থাকা মানুষের জন্য এখন বড় প্রশ্ন—কবে আবার এই চিকিৎসা চালু হবে।

কালের আলো/এমএসআইপি/জেএন

শাদমান-হৃদয়ের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪০ অপরাহ্ণ
শাদমান-হৃদয়ের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়লেও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের দ্রুত বিদায় এবং মুমিনুল হক ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেছেন শাদমান ইসলাম ও তাওহীদ হৃদয়।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম দিনের চা বিরতিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ১৭৭ রান। চতুর্থ উইকেটে শাদমান ও হৃদয়ের অবিচ্ছিন্ন জুটি স্বাগতিকদের ইনিংসে স্থিতি এনে দিয়েছে।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ
মিরপুরে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে শুরুতেই ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। দলীয় ৯ রানে মাত্র ৭ রান করে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। প্রথম উইকেট হারানোর পর শাদমান ইসলামের সঙ্গে জুটি গড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন মুমিনুল হক। দুজনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে বাংলাদেশ।

মুমিনুলের সঙ্গে শাদমানের ৫৯ রানের জুটি
দ্বিতীয় উইকেটে শাদমান ও মুমিনুল হক মিলে ৫৯ রান যোগ করেন। তাঁদের এই জুটি প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে দলকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেয়। তবে দলীয় ৬৮ রানে ভাঙে এই জুটি। ব্যক্তিগত ২৮ রান করে জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে আউট হন মুমিনুল হক। এরপর শাদমানের সঙ্গে জুটি বাঁধেন অধিনায়ক শান্ত। কিন্তু শান্তও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ১৯ রান করে তিনি ফিরে গেলে ১১০ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ফলে আবারও চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।

শাদমান-হৃদয়ের ব্যাটে স্বস্তি
তৃতীয় উইকেট পতনের পর দলের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন শাদমান ইসলাম ও তাওহীদ হৃদয়। দুজনই পরিস্থিতি বুঝে সতর্কতার সঙ্গে ব্যাটিং করেন এবং উইকেট ধরে রেখে রান বাড়াতে থাকেন। চতুর্থ উইকেটে তাঁদের অবিচ্ছিন্ন জুটি বাংলাদেশের ইনিংসকে এগিয়ে নেয়। দ্বিতীয় সেশনে শান্তর উইকেট হারানোর পর আর কোনো উইকেট পড়তে দেননি তাঁরা। এতে চা বিরতির আগে ম্যাচে স্বস্তির অবস্থানে ফেরে স্বাগতিকরা। চা বিরতিতে শাদমান ১৬৭ বলে ৭৯ রান করে অপরাজিত ছিলেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার ছাপ। অন্যদিকে হৃদয় ৭৪ বলে ৩৬ রান নিয়ে অপরাজিত থেকে তাঁকে সঙ্গ দিচ্ছিলেন।

ওয়ারিক্যানের দুই উইকেট
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল জোমেল ওয়ারিক্যান। তিনি বাংলাদেশের দুটি উইকেট নিয়েছেন। আরেকটি উইকেট পেয়েছেন জেইডেন সিলস। প্রথম সেশনে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও দ্বিতীয় সেশনে শাদমান ও হৃদয়ের ব্যাটিংয়ে ম্যাচে ফেরার সুযোগ তৈরি করেছে বাংলাদেশ। দিনের বাকি সময়ে এই জুটি কতটা বড় সংগ্রহের ভিত্তি গড়ে দিতে পারে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে তালেবানের গুলি, নিহত ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৩ অপরাহ্ণ
পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে তালেবানের গুলি, নিহত ১

পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তান অঞ্চলে বেসামরিক মানুষের বাড়িঘর ও একটি বাজার লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে আফগান তালেবানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) পাকিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই এ হামলা চালানো হয়।

পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে পাকিস্তানি বাহিনী
দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তান লোয়ারের ডেপুটি কমিশনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হামলার তথ্য জানান। তিনি বলেন, ঘটনার জবাবে পাকিস্তানি বাহিনী জোরালো পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে।

এ বিষয়ে আফগান তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বাড়ছে দুই দেশের উত্তেজনা
একসময় মিত্র হিসেবে পরিচিত পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে বিরোধ ক্রমেই বাড়ছে। দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের অন্যতম কারণ সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা।

পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তানের তালেবান সরকার সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে হামলা চালানো জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। তবে তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, জঙ্গি তৎপরতা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা।

কূটনৈতিক সমাধানের আশ্বাসের পরই হামলা
সম্প্রতি আফগান তালেবানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, পাকিস্তানের সঙ্গে বিরোধ কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। এর কয়েক দিনের মধ্যেই সীমান্তে নতুন করে গুলির ঘটনা ঘটল।

দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতে চলতি বছর শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন এই হামলার পর সীমান্ত পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি/জেএন