খুঁজুন
                               
, ,
           

নুরুন্নাহার মুন্নির গল্প

জোড়া শালিক আর স্মৃতির ভায়োলিন

সাহিত্য ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ
জোড়া শালিক আর স্মৃতির ভায়োলিন

অথচ লিকলিকে আপাদমস্তক, পাতলা ফ্যাশন, একটু বড় এলোমেলো চুলের হাওয়াই মিঠাইকেই তো আমার বেশ পছন্দ ছিল! প্রতিদিনের অভ্যাসে মফস্বলের সেই পল্লিগ্রাম, দিনে বিশ-পঁচিশবার বিদ্যুতের আসা-যাওয়া, বদরপুর মেলা থেকে কিনে আনা গ্রাম্য রমণীর হাতের কারুকার্যে ফুটিয়ে তোলা হাতপাখা কিংবা বেতের তৈরি পাখার কদর ছিল অভাবনীয়। চার্জ লাইটের নামটা তখন বেশ নতুন, সন্ধ্যার লগ্ন শুরু আর বিদ্যুতের চোর-পুলিশ খেলার মতোই অবশেষে দূরের দোকানঘরগুলো হ্যাজাকের স্নিগ্ধ আলোয় ঝলমল করতো পল্লিগ্রামের সেই স্মৃতির বাগান। সবার ঘরে ঘরে টেলিভিশনও ছিল না। প্রতি শুক্রবার বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত শহীদুল্লাহ কায়সারের উপন্যাস অবলম্বনে সংশপ্তক নাটক দেখে কান্নায় চোখ ভাসিয়ে কষ্ট নেওয়া। দুপুর আড়াইটায় শাবানা অভিনীত রজনীগন্ধা কিংবা ববিতা অভিনীত স্বরলিপি সিনেমা দেখার জন্য আগেভাগেই ব্যাটারির ব্যবস্থা করে রাখা। যাতে বিদ্যুৎবিভ্রাটেও সমস্যা না হয়। এমন এমন স্মৃতির খনির আদ্যোপন্ত ছিল টলমলে কৈশোর। সেই যে, অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালীন প্রথম বয়ঃস্বন্ধিকালের গুমোট গন্ধ মেখে, প্রথম ঠোঁটে লিপস্টিক মেখে স্কুলে পরিতোষ স্যারের কড়া বকুনি, শাস্তি, মাথার মাঝখানে সিঁথি এঁকে লম্বা দুই বেনী! স্কুল ড্রেসের ক্রস ওড়নার মাঝখানে ফেলে রাখা বাড়ন্ত দুগ্ধবৃন্ত ছুঁয়ে পড়া অনুভূতি; সেও এখন স্মৃতিতে পলি জমায়।

কুয়াশা জড়ানো বাড়ন্ত সকাল। বেলা বাড়ার সাথে সাথে গরম হতে থাকে সূর্যের আলিঙ্গনে ধোঁয়া ওড়া স্কুলের মাঠ, বাবার চাকরির সুবাদে জেলা শহর থেকে উপজেলা শহরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গ্রামীণ পরিবেশের খোলা হাওয়ায় বেড়ে ওঠা আমার কৈশোরকাল। সবুজের হাতছানি আর মেঠো জীবন যাপনে একদম সরল সাধারণের সাথে সখ্য গড়ে ওঠে। বংশগত কারণেই মস্তিষ্ক মেধা ধারণে একটু বেশিই সক্ষম ছিল। তখন আমি শ্যামল ছিপছিপে একদম লাজুক একটি মেয়ে। যার বেড়ে ওঠার বয়স আর মেধাবী পরিচয়ের সাথে যুক্ত হতে থাকে এক এক করে অনেক নাম। বন্ধুমহল বড় হতে থাকে। উপস্থিত বক্তৃতায় একবার তাক লাগিয়ে দেওয়া মেয়ে হিসেবে ‘কুড়িতে বুড়ি নয় বিশের আগে বিয়ে নয়’ শিরোনামের পক্ষে বক্তব্য পেশ করে পুরো স্কুলে তথাকথিত বিস্ময় বালিকা হয়ে উঠি। সেই সাথে মুগ্ধ হতে থাকে আমার আশেপাশের বন্ধু-বান্ধব।

গোলাপের পাঁপড়ি মাখানো খামহীন খোলা চিঠি টিফিন পিরিয়ডে একটার পর একটা আসতে থাকে। কখনো বেঞ্চের ওপর ছেড়ে যাওয়া বই-খাতার ভেতর, কখনো বান্ধবীদের হাতের মুঠোয়। এতো এতো ডিজাইনের স্কুল ব্যাগ, ওয়াটার বোতল, রং পেন্সিল, আর্ট পেপারের বাহারি ব্যবহার খুব একটা চোখে পড়েনি। ছিল না বললেই চলে। ছয়টি পাঠ্যবই আর কিছু রাফখাতা বুকের ওপর এক হাতে চেপে স্কুলে যাওয়ার চিত্র এখন স্মৃতির ল্যানটিনে চুম্বনের জীবাশ্মের মতো। কী মোহনীয়তা? কখনো কখনো বন্ধুরা জোড়া শালিক দেখে চেঁচিয়ে উঠতো, কেন উঠতো কখনো জানতে চাইনি। তবে এখনো জোড়া শালিক দেখলে মনের ভেতর সুখ অনুভব হয়। কেন হয় জানি না। হয়তো জানি, হয়তো এ জানার মানেটা ছিল অন্যরকম। রোজকার চিঠির বক্স হয়ে ওঠে আমার বইঘর।

একদিন একটি চিঠি হৃদয়ের সমস্ত মুগ্ধতা চুরি করে নেয়। চমৎকার দৃষ্টিনন্দন হাতের লেখা আর সাবলীল ভাষায় লেখা চিঠির প্রেমে পড়ে মন উন্মাদ হয়ে গেল। সুন্দর হাতের লেখাই কি তবে সে ভালো লাগার প্রথম কারণ? স্কুল ছুটির পর এক দারুণ চঞ্চল মন নিয়ে ছুটছিলাম বাসার পথে। মাঝপথে দুই যুবক দাঁড়ানো দেখে বেশ অস্বস্তিতে পড়ে গেলাম। দুজনই বেশ উৎসুক দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে অথচ মুখে কোনো শব্দ নেই। আমার হাত-পা সব হিম হয়ে আসছিল। জানি না কেন ওইটুকু বয়সে এত অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছিল। একজন লাল শার্ট পরা, সুন্দর বেশ স্নিগ্ধ দেখতে। ডলি সায়ন্তনীর ‘লাল শার্ট পড়া যুবক’ গানটি তখন সুপারহিট। আর একজনের গায়ে ছিল আকাশি রঙের শার্ট, একটু বড় চুল, শ্যামবর্ণের মায়াবী চেহারা, চাহনিতে ছিল নিবিড় মাদকতা।

দাঁড়ানোর স্টাইলটা ছিল অতি আধুনিক। সেই সময়ের আধুনিকতার সবটুকু ছোঁয়া তার আপাদমস্তকে দৃশ্যমান ছিল। এক পলকের মুগ্ধতা কেড়ে নিল মন-প্রাণ। সেদিনের ফর্সা ছেলেটি আমার ভালো লাগার ছায়াও মাড়াতে পারেনি অথচ শ্যামবর্ণের স্বাস্থ্যহীন ছেলেটি আমার মন কেড়ে নিয়েছিল। তখনো জানতে পারিনি স্কুল থেকে বাড়ির যাত্রা পথে ওই দুই যুবকের এমন উৎসুক আচরণের কী কারণ। রাতে পড়ার টেবিলে বই খুলতেই চোখের সামনে ভেসে এলো গোলাপের পাঁপড়ি মাখা চিঠিটা। একদিকে মা-বাবার শাসনের দৃষ্টি; অন্যদিকে চিঠিপ্রেম। অসম্ভব ভয় আর অন্যরকম দোলাচলে নিমগ্ন ছিল সেই রাত। ওই রাতের প্রেমময় অনুভূতি আজন্মকালের স্মৃতিচিহ্ন আর মোহনীয় কাল হয়ে আছে। ভোর হতেই যেন অপেক্ষা। শুধু ভাবনার এপিঠ-ওপিঠ তেলেভাজা করে রাত কেটে যায়। চিঠির মতোই হবে হয়তো সে, যে এই চিঠিটা লিখেছে! যেমন তার শব্দ চয়ন; তেমনই অপূর্ব হাতের লেখা।

ভাবলাম আর একবার পড়ি চিঠিটা…
ডিয়ার লাবন্য,
হৃদয় এমনই এক অবুঝ, যারে চায় শুধু তাকেই চায়। নাহি মানে কোনো লাজ ভয়। আসলে পৃথিবীর আঙিনায় হাজারো মানুষ বিচিত্র ধরনের মন নিয়ে বাস করে। বিন্দু বিন্দু জলকণার সমন্বয়ে যেমন বিশাল সমুদ্রের সৃৃৃৃৃৃৃষ্টি; তেমনই আবেগ, অনুভূতি, প্রেম, ভালোবাসা আর বন্ধুত্বের মায়ায় মানুষের জীবনকে সবচেয়ে ব্যাকুল করে তোলে। সৃষ্টির লগ্ন থেকে দেখা যায় মায়ার বন্ধনে পৃথিবীটা আবদ্ধ। আর স্নেহ, প্রেম, ভালোবাসা ও মমতা আছে বলেই মানুষের জীবনে এক উষ্ণ ছোঁয়ার আবেগ ও অনুভূতি কাজ করে।

শুধু একটি কথাই মনে রেখ লাবন্য, মরুভূমিতে তৃষ্ণার্ত পথিক যেমন মরীচিকার পেছনে পেছনে ছুটে হয়রান হয়; তেমনই আমিও বন্ধুত্বের মায়াজালে আবদ্ধ হয়ে নিজের মনটাকে হারিয়ে ফেলেছি শুধু একজনের কাছে। সেটা হলে একমাত্র তুমি। জানি না এর গন্তব্য কোথায় গিয়ে শেষ হয়। তবে এতটুকু বলতে পারি তোমার স্বরলিপির মাধুর্য্য থেকে যেন কোনো দিন বঞ্চিত না হই। তুমি তো একটা কথা জানো যে, লাভ ইজ ভ্যালুয়েবল এসেটস্ হয়েন টু মাইন্ড রিলেশান উইথ ওয়ান কাইন্ড। পুরুষের জীবন যখন জটিলতায় পরিপূর্ণ, প্রাণ যখন ক্লান্তিতে জর্জরিত; ঠিক সেই নিঃস্ব অবস্থায় পুরুষ শান্তি খুঁজে পায় নারীর ভালোবাসায়। প্রেয়সী নারী তার প্রেম ও বন্ধুত্বের মায়ার শেকলে তার মনকে সিক্ত করে তোলে। আমার মতো নগণ্য মানুষের জন্য কি তুমি এত বড় ত্যাগ স্বীকার করতে পারবে, বলো তো লাবন্য?

আমি একটা নগণ্য গরিব, দুঃখী, আমার জীবনটা দুঃখে জর্জরিত। যাক আমার আশা এবং প্রত্যাশা তুমি আমার দুঃখের ভাগ নেবে।পরিশেষে সৃষ্টিকর্তার দরবারে প্রার্থনা করি, তোমার জীবন হোক ধূপের মতো দহনে দহনে দিতে তৃপ্তি, মঙ্গল হোক তোমার ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা। এই আশা ও প্রত্যাশায়…
ইতি, তোমার কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি ‘ফাহিম’।

চিঠি আদান-প্রদানের কাল দীর্ঘ হতে হতে আমাদের প্রেম গড়াতে থাকে, চোখে নেশা ধরার মতোই এক বেলার মাতাল দৃষ্টির অপেক্ষায় কেটে গেছে আমাদের দুজনের নীলাদ্রি প্রহর। সবচেয়ে বিভীষিকাময় ছিল শুক্রবারটি। স্কুল বন্ধ থাকার কারণে ফাহিমকে দেখতে পেতাম না। বাসায় শুক্রবার নিয়ে হৈ হৈ আমেজ থাকলেও আমার বর্ণিল আকাশে মেঘ জমে থাকতো। দেখা হতো না কারও সাথে কারোর, ফাহিমের পাঠানো শেষ চিঠিটা আমার মনের গভীরে সুঁইফোঁড়ের সেলাইয়ের মতো রক্তাক্ত গিঁট বেঁধে আছে। চিঠিটা মন ও মগজে আজও ভেসে আসে অকারণেই।

আমার মুক্সোল কলি,
হে স্বপ্নের মাধুরী, পৃথিবীর আঙিনায় কোটি কোটি মানুষের প্রেম, প্রীতি, ইতিহাস শুনে সত্যি উল্লসিত মনে তাদের স্বাগত জানাতে ইচ্ছে করে কিন্তু আবার কাঁচের পাত্রের ন্যায় বিলীন হয়ে যায় স্মৃতির পটে আটকে থাকা কথাগুলো। যে আবেগ অতি তাড়াতাড়ি আসে, সে আবেগ বিলীন হতেও অনেক সময় বিলম্ব হয় না। তবে প্রকৃত প্রেম সত্যি যেমন মানব জীবনকে দেয় উৎসর্গ; তেমনই মৃত্যুকেও দেয় মহিমা। আমরা কি পারব সেই সত্যের আদর্শকে রক্ষা করতে? তাছাড়া আমার ভয় হয়, প্রেম ও ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে অনেকে নিজের ব্যক্তিত্বকে পরিচয় দিতে ভুলে যায়। তখন টেনশন আর ভাবনা ছাড়া আর কোনো সম্বল থাকে না। পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষ সমান হয়ে জন্ম নেয় না। যেমন তোমার সমান হয়ে আর কেউ…

লাবন্য, তোমার ভাব, ব্যবহার ও চারিত্রিক মাধুর্য সত্যিই আমাকে নিয়ে যায় নিকট থেকে আরও নিকটে। রজনীগন্ধার অনাবিল সৌরভের ছোঁয়া হৃদয় স্পন্দনে জাগরিত হয় বারবার শুধু ওই একটি কারণে সেটা হলো তোমার মধুময় কথা আর ছন্দমাধুর্য চরণগুলো দেখে। একটি নাম, একটি স্মৃতি, একটি মানুষকে কেন্দ্র করেই গঠিত হলো আমার জীবন। আর কী হবে আমার জীবন ইতিহাস শুনে? আমার জীবন ইতিহাস শোনালে হয়তো তোমাকে দুঃখ ছাড়া আর কিছুই উপহার দিতে পারবো না। শুনতে পারবে যখন দুজন থাকবো আরও কাছাকাছি আরও পাশাপাশি। যেখানে থাকবে না কোনো দ্বিধা, থাকবে না কোনো বাধা ও ভয়। লক্ষ্মীটি আমার, প্রতিটি রোজা রাখবে। নামাজ পড়বে। লেখাপড়া চলমানের মতো ধরে রাখবে। মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করবে, যেন শেষপ্রান্তে গিয়ে পৌঁছতে পারি। পরিশেষে উপরওয়ালার নিকট প্রার্থনা করি, তোমার ভবিষ্যৎ হোক চন্দনের মতো ক্ষয়ে ক্ষয়ে দিতে শান্তি। উত্তর পেতে বিলম্ব হলে নিজেকে অপরাধী মনে করবো।
ইতি, তোমারই ‘ফাহিম’।

এরপর চিঠির জবাব হাতে ফাহিমের সাথে শেষ দেখা, ফাহিম বলেছিল যেখানেই থাকো ভালো থেকো। বেঁচে থাকলে নিশ্চয়ই দেখা হবে। এরপর আর দেখা হয়নি আমাদের। ইউরোপের সেই নিশ্চিন্তে ঘুমানো আইসল্যান্ডবাসী যেমন হঠাৎ উল্কাপিণ্ড ভলকানোর বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল, ভুলতে পারেনি সেই চিরস্থায়ী আঘাতের দাগ। তেমনই ভুলতে পারিনি আমার ভেতরের ছোট দ্বীপ হয়ে বেড়ে ওঠা ফাহিম নামক একটা সম্পর্কের নাম। যে দ্বীপে আলো জ্বলে আজও, নেভে না।

পিরোজপুরে বাবার বদলি আমাদের জীবনের বাঁকবদল করে দিয়েছিল। ওখানে গিয়ে নতুন পরিবেশ, কলেজ জীবনের নিয়ম শৃঙ্খলা, কলেজের বখাটে ছেলেদের উৎপাত, রাজনীতির গরম হাওয়া, আধুনিকতার ছোঁয়া লেগে মেয়েদের অশালীন চলাফেরা, গায়েগায়ে ঘেঁষে উন্মুক্ত মাঠে ঠোঁটের উষ্ণতার মঞ্চে মদ গেলা; সবকিছুই যেন আমার ভাবনার ঋণাত্মক। নৈবেদ্য প্রেম শিখিয়েছিল আমায় ফাহিম। কখনো হাত ছুঁয়ে না দেখলেও হৃদয় ছুঁয়ে যেত প্রতি মুহূর্তে। বৈরী পরিবেশেও মনের ভেতরের জোড়া শালিক খেলে গেছে আমাকে নিয়ে, আনন্দ দিয়ে গেছে, কাঁদিয়েছে। ভেতরের সুতো আলগা করে কেউ কোনদিন হৃদয়টা ছুঁতে পারেনি যার জন্য; সেই নামটা ফাহিম।

পিরোজপুরের কলেজ জীবন শেষ করে ঢাকা মহানগরীতে পড়াশোনার যাত্রা। যৌবনের সিঁড়িতে পা দিয়েছি কিন্তু যৌবনের একেক বসন্ত কেটে গেছে আমার শুধু অপেক্ষায়। ঠিকানাবিহীন দুটো অনন্ত অপেক্ষার যাত্রী হয়ে কাটিয়ে দিয়েছি লক্ষ্য-লক্ষ্য প্রহর। ভালোবাসা আজ মুঠোফোনের চোরাবালিতে আড়ষ্ট সময় পার করে। এখন আর অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয় না। মন চাইলেই ভিডিও কলে দেখতে পায় দুজন দুজনকে। আজ এতটা বছর পর আমার হাতেও স্মার্টফোন। ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ফ্যামিলি নাম্বারে অনেকেই আছে। ফাহিম নেই। ফেসবুক ফ্রেন্ড লিস্টে হাজার হাজার বন্ধু কিন্তু সেই লিস্টে নেই ফাহিম। আজও সব আধুনিকতার বাইরে গিয়ে যার স্মৃতি চিহ্নগুলো বয়ে নিয়ে চলি।

যে জোড়া শালিক বহু বছর পূর্বে আলাদা হয়ে গিয়েছিল। সেই ফাহিম আজ আমার মুখোমুখি। সকালের জার্নিটা শুরু হয়েছিল আমার আজিমপুর থেকে। গন্তব্য গাজীপুর। কিছু পথ পেরোতেই বেশ ক’জন যাত্রী উঠলো বাসে। প্রতিটি সিট ফিলাপ হয়ে বাকি তিনজনের ভাগ্যে পড়লো বাসের বাঁদুড়ঝোলা হ্যান্ড বেল্ট। স্বাভাবিক ভাবেই লেডিস সিট থেকে চোখ আটকে যায় ওই তিনজনের দিকে। কখনো ভাবতেই পারিনি এমন চলন্ত সময়ে এতটা বছর পর জোড়া শালিক মুখোমুখি হবে। সময়ের হাতছানিতে ফাহিমের চোখে চশমা উঠেছে, কাঁচা-পাকা চুলের মিশ্রণে সেই ফাহিম আজ আর অতটা লিকলিকে নেই। সুঠাম দেহ আর ক্যাজুয়াল লুকে বেশ আধুনিক অন্যরকম লাগলেও আমার চিনতে খুব একটা অসুবিধা হয়নি। অসুবিধা হয়নি ওরও আমাকে চিনতে। দুজনের দৃষ্টি একটুও নড়েনি। বেশ নাটকীয় রিলের মতোই স্মৃতি আওড়াতে আওড়াতে হঠাৎ কানে ভেসে এলো আব্দুল্লাহপুর কে কে নামবেন। নেমে যান।

আচমকা দুজনেরই সম্ভিত ফিরে এলো। ফাহিমকে বেশ চিন্তিত মনে হলো। হঠাৎ কাঁধের ব্যাগটা ঠিক করে বাস থেকে নামার জন্য সামনে এগিয়ে এলো। ঠিক এক হাত দূরত্বে দাঁড়িয়ে ফাহিম। দুজনই বেশ ইতস্তত আর বেশ তাড়াহুড়োতে দুজনের মুখ থেকে এক সাথেই বেরিয়ে এলো কেমন আছ? কে আর কার জবাব দেয়! বাস থামলো, সময় কয়েক সেকেন্ড। ‘আজ আমার একটা বিপদের দিন লাবন্য। দেখা হবে নিশ্চয়ই।’ ফাহিম নেমে গেল। এত বছর পর দেখা তা-ও কথা হলো না, ঠিকানা জানা হলো না। ফোন নাম্বার, ফেসবুক আইডি কিছুই জানতে পারলাম না। তবে কি ফাহিম আমাদের সব স্মৃতি মাড়িয়ে গেছে? ভুলে গিয়েছিল আমায়? জাস্ট সৌজন্যতা করল? নাও তো নামতে পারতো ইত্যাদি ভাবতে ভাবতে আমি ভুলেই গিয়েছিলাম এত ভিড়ের মাঝেও ছোট্ট করে বলেছিল, ‘আজ আমার বিপদের দিন লাবন্য’। কী বিপদ! কী হয়েছে? আমি কী করে জানবো? ইস! কেন যে এভাবে দেখা হলো আমাদের।

এরপর প্রায়ই আজিমপুর বাসস্টপ থেকে কারণে-অকারণে ছুটে গেছি আব্দুল্লাহপুর। কখনো কখনো ছুটির দিনেও। আমাদের আর দেখা হয়নি। উন্মুক্ত আকাশে বিচ্ছিন্ন হওয়া জোড়া শালিক আর এক হয়ে হাঁটেনি, ঠোঁটে ঠোঁটে খাবার নিয়ে এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে একসাথে ছোটা হয়নি। ফাহিমও কি খুঁজেছিল আমায়, নাকি খোঁজেনি? নাকি আমার মতোই দ্বিগভ্রান্ত হয়ে নস্টালজিয়াকে সাথে নিয়ে এভাবে ছুটে চলেছে আজিমপুর টু আবদুল্লাহপুর!

কালের আলো/এম/এএইচ

খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫২ পূর্বাহ্ণ
খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশন শুরু

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অধিবেশনের প্রথম প্লেনারি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনের সমাপনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন। আগামী এক বছর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

শপথ গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে সংস্থাটির প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে। ভবিষ্যতের জন্য জাতিসংঘকে আরও কার্যকর ও উপযোগী করে তুলতে গভীর সংস্কার প্রয়োজন।

মঙ্গলবার প্রথম প্লেনারি সভা শুরু হলেও আগামী ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে। এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৭ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি বিলেই নাজেহাল মার্কিনিরা, ইরান যুদ্ধে বাড়তি খরচ ১০০ বিলিয়ন ডলার

ইরান যুদ্ধের ছয় মাসেই জ্বালানি কিনতে গিয়ে মার্কিন ভোক্তাদের পকেট থেকে বেরিয়ে গেছে অতিরিক্ত প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়ে সাধারণ পরিবারের বাজেটে তৈরি হয়েছে বড় চাপ। দেশটির প্রায় ১৩ কোটি ১০ লাখ পরিবারের হিসাবে গড়ে প্রতিটি পরিবারের বাড়তি জ্বালানি ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৬৩ ডলার।

ব্রাউন ইউনিভার্সিটির ওয়াটসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের তথ্যের বরাতে এই হিসাব সামনে এসেছে। এতে স্পষ্ট, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক অভিঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য বা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে সীমাবদ্ধ নেই; সরাসরি মার্কিন পরিবারের দৈনন্দিন খরচেও এর প্রভাব পড়ছে।

সবচেয়ে বড় ধাক্কা পেট্রোলের দামে
মার্কিনিদের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে পেট্রোলের দামে। ছয় মাসের ব্যবধানে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম ২ দশমিক ৯৮ ডলার থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ১৫ ডলারে উঠেছে। অর্থাৎ দাম বেড়েছে প্রায় ৩৯ শতাংশ। ডিজেলের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন। প্রতি গ্যালনের দাম ৩ দশমিক ৬৭ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৯০ ডলার—বৃদ্ধি ৬০ শতাংশেরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের প্রবণতা বেশি হওয়ায় পেট্রোলের এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি পরিবারের ব্যয়ে প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে ডিজেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের খরচে। ফলে একদিকে গাড়ি চালানোর খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে দোকানে পৌঁছানোর আগেই পণ্যের দাম বাড়ছে।

যুদ্ধ চলছে ছয় মাস
ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাত শুরুর সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধটি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে শেষ হওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছিলেন। বাস্তবে সেই সময়সীমা অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। সংঘাত এখন ষষ্ঠ মাসে প্রবেশ করেছে এবং দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও স্পষ্ট নয়। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে মার্কিনিদের দ্বিমত
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কেরও অংশ। যুদ্ধের প্রতি জনসমর্থন না থাকায় অনেক মার্কিনি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করছেন।তবে ট্রাম্প এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি তেলের দাম বাড়ার বিষয়টিকে খুব বেশি গুরুত্ব না দিয়ে বরং তেল কোম্পানিগুলোর ওপর দায় চাপিয়েছেন। ফলে যুদ্ধের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের খরচ শেষ পর্যন্ত কে বহন করছে—সরকার, তেল কোম্পানি নাকি সাধারণ মানুষ—এই প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।

খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এর প্রভাব শুধু গাড়ির জ্বালানিতে আটকে থাকে না। কৃষিতে ট্রাক্টর চালানো, খাদ্য পরিবহন, পণ্য সংরক্ষণ, শীতলীকরণ থেকে শুরু করে প্লাস্টিকের প্যাকেজিং—প্রায় প্রতিটি ধাপেই তেল ও গ্যাসের ব্যবহার রয়েছে।ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়ে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ে ভোক্তার বাজারে। মার্কিন পরিবার একদিকে গাড়ির ট্যাংক ভরতে বেশি টাকা দিচ্ছে, অন্যদিকে একই জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির কারণে খাবার ও অন্যান্য পণ্য কিনতেও বাড়তি অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। বিশ্বের নিম্ন আয়ের দেশগুলোর জন্য ঝুঁকি আরও বড়। তেল ও সার আমদানির ব্যয় বেড়ে গেলে কৃষি উৎপাদনের খরচ বাড়তে পারে। দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্য সরবরাহ ও খাদ্যনিরাপত্তাতেও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সামনে আরও চাপের শঙ্কা
জ্বালানি বাজারের এই চাপের মধ্যেই ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন ‘নিয়ন্ত্রিত জোন’ তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, এ এলাকার জন্য নতুন মানচিত্র দেওয়া হবে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে সেটি অনুসরণ করতে হবে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি বলেছেন, মার্কিন অবরোধ ও হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার নিশ্চয়তা দেবে না ইরান। নতুন নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ প্রবেশ করলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে দেশটি। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মার্কিনিদের জন্য জ্বালানি বিলের চাপ আরও বাড়তে পারে। আর হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়লে তার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববাজারেও পড়বে। ফলে ইরান যুদ্ধ এখন শুধু ভূরাজনৈতিক সংঘাত নয়—সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া এক বড় অর্থনৈতিক সংকটেও রূপ নিচ্ছে।

কালের আলো/এম/এএইচ

জাতিসংঘ সংস্কারে গভীর পরিবর্তনের প্রয়োজন: খলিলুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৬ পূর্বাহ্ণ
জাতিসংঘ সংস্কারে গভীর পরিবর্তনের প্রয়োজন: খলিলুর রহমান

জাতিসংঘের সংস্কারকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় জাতিসংঘকে কার্যকর ও আস্থাশীল রাখতে গভীর ও অর্থবহ সংস্কার প্রয়োজন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

খলিলুর রহমান বলেন, বর্তমানে জাতিসংঘের প্রতি আস্থার ঘাটতি রয়েছে। শুধু বর্তমান সময়ের জন্য নয়, ভবিষ্যতের উপযোগী করে তুলতে হলে সংস্থাটিতে গভীর সংস্কার করতে হবে। সংস্কার যেন কেবল নামমাত্র না হয়, বরং সাধারণ মানুষের কাছে জাতিসংঘের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখে—সেদিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘এটি ১৯৪৫ সাল নয়। আমরা এখন একবিংশ শতাব্দীতে আছি। বিশ্ব এগিয়ে গেছে, তাই জাতিসংঘকেও এগিয়ে যেতে হবে।’

জাতিসংঘ মহাসচিবের সংস্কার প্রক্রিয়াকে সমর্থন করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, একজন প্রতিনিধি ও কর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি এই সংস্থাকে কাছ থেকে দেখেছেন। তাই সংস্কারগুলো অবশ্যই অর্থবহ হওয়া প্রয়োজন।

রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে খলিলুর রহমান বলেন, নিজ বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত বিশাল জনগোষ্ঠীর আকুতি তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। ভবিষ্যতেও জাতিসংঘের সামনে রোহিঙ্গাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার কাজ অব্যাহত রাখবেন তিনি।

সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে কোনো দেশ তাকে ভোট দিয়েছে কি না, সেটি তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি সব দেশের জন্য একজন সভাপতি হিসেবে কাজ করতে চান।

এ সময় বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতি ও প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে খলিলুর রহমান জানান, তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই তাকে এই পদমর্যাদা ও দায়িত্বের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রশ্ন করার আহ্বান জানান তিনি।

শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তার দরজা সবসময় খোলা থাকবে এবং সবার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে চান।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি