খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ২৪ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

জনগণের স্বপ্ন পূরণে নতুন দিগন্তের পথে তারেক রহমানের সরকার

আহসান হাবিব বরুন
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ১০:২১ পূর্বাহ্ণ
জনগণের স্বপ্ন পূরণে নতুন দিগন্তের পথে তারেক রহমানের সরকার

নতুন সরকার কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনেরও বার্তা দিচ্ছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত বিএনপি সরকারের সূচনা অনেকের কাছেই এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত বহন করছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন, অবিশ্বাস ও বিভাজনের পর যে প্রত্যাশা নিয়ে জনগণ ভোট দিয়েছে—তার প্রতিফলন যেন সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।

এই সরকারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো—নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোকে কেবল রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে না রেখে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া। রাজনৈতিক ইতিহাসে আমরা প্রায়ই দেখেছি, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ক্ষমতায় যাওয়ার পর ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে। কিন্তু বর্তমান সরকারের প্রথম দিককার পদক্ষেপগুলো সেই প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে জনগণের ভোটের প্রতি শ্রদ্ধা এবং প্রতিশ্রুতির প্রতি দায়বদ্ধতার একটি নতুন বার্তা প্রদান করছে।

রাজনৈতিক শিষ্টাচারের নতুন দৃষ্টান্ত
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধিতাকে প্রায় শত্রুতার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি বিরাজ করেছে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর পরাজিত রাজনৈতিক নেতাদের বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করা, ইফতারে অংশ নেওয়া এবং জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান—এসব উদ্যোগ নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত বহন করে। রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই মতপার্থক্যকে গণতান্ত্রিক সৌজন্যের মধ্যে রাখার যে চেষ্টা এই সরকার শুরু করেছে, তা দীর্ঘদিনের বিভাজিত রাজনৈতিক পরিবেশে এক ইতিবাচক বার্তা বলেই মনে হচ্ছে।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার
রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। জুলাই যোদ্ধা ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদের ভারতে গ্রেপ্তার নিশ্চিত করার কূটনৈতিক ও আইনি প্রচেষ্টা সেই দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি প্রমাণ করে যে, অপরাধ যত বড়ই হোক, কিংবা অপরাধী দেশের সীমানার বাইরে থাকুক—ন্যায়বিচারের প্রশ্নে সরকার কিছুতেই আপস করবে না।

একই সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার ঘোষণাও আইনের শাসনের প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতিকে স্পষ্ট করেছে। এটি কেবল অতীতের জবাবদিহির প্রশ্ন নয়; বরং ভবিষ্যতের জন্যও একটি বার্তা বহন করে যে,রাষ্ট্রের ক্ষমতা কখনোই মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঢাল হতে পারে না।

রাজনৈতিক ঐকমত্যের নতুন চর্চা
বিএনপি সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত ছিল জুলাই সনদের বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকারের পদ বিরোধীদলের জন্য ছেড়ে দেওয়া। বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে এটি একটি বিরল ঘটনা। সাধারণত ক্ষমতাসীন দল সংসদের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ পদ নিজেদের দখলে রাখতে চায়। এক্ষেত্রে সরকারের এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত একটি রাজনৈতিক বার্তা বহন করে যে,গণতন্ত্র কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠতার নাম নয়; বরং অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক কাঠামোর নাম। বিরোধীদলের জন্য সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদ ছেড়ে দেওয়া সেই অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির দরজা উন্মোচন করার ইঙ্গিত বলেই আমি মনে করি।

এখানে স্মরণ করা যেতে পারে যে , নির্বাচনী মাঠে বিরোধীদের নেতিবাচক প্রচারণা সত্ত্বেও তারেক রহমানের দলীয় নেতাকর্মীদের জুলাই সনদের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান ছিল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি ইঙ্গিত। সরকার প্রধানের এই উদার দৃষ্টিভঙ্গি প্রমাণ করে যে, এই সরকার অন্তত একটি নীতিগত কাঠামো তৈরি করতে চায়, যার ভিত্তিতে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সংস্কারগুলো এগিয়ে যাবে।

সামাজিক সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার। সেই লক্ষ্যেই শুরু হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি—যার মাধ্যমে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে সরাসরি রাষ্ট্রের সহায়তার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থাকলেও সেগুলোর অনেক ক্ষেত্রে সমন্বয়ের অভাব ছিল। ফ্যামিলি কার্ড সেই ব্যবস্থাকে একটি কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর পাশাপাশি কৃষি খাতকে শক্তিশালী করার জন্য চালু করা হচ্ছে কৃষি কার্ড, যা কৃষকদের সরকারি সহায়তা, ভর্তুকি ও ঋণ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। কৃষকদের জন্য দশ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের ঘোষণাও গ্রামীণ অর্থনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি এখনো কৃষি ও গ্রামীণ উৎপাদন। তাই কৃষকের আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করা মানেই সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করা।

স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত
স্বাস্থ্যসেবা খাতে ই-হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগও সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে একটি মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোর মধ্যে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যয় বহু পরিবারকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেয়। এমনটি বহু গবেষণায় উঠে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে হেলথ কার্ডের মতো উদ্যোগ যদি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।

পরিবেশ ও অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ
পরিবেশ ও কৃষি ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ হলো খাল খনন কর্মসূচি। বাংলাদেশের বহু খাল ও জলপথ দীর্ঘদিন অবহেলায় ভরাট হয়ে গেছে, যার ফলে পানি নিষ্কাশন ও সেচ ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

সুতরাং খাল পুনঃখনন শুধু জলাবদ্ধতা দূর করবে না; বরং এটি কৃষি উৎপাদন বাড়াতেও সহায়ক হবে। একই সঙ্গে সরকার দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

রাষ্ট্র পরিচালনায় মিতব্যয়িতা
সরকারি ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রে সরকার একটি প্রতীকী কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে যে, ব্যয়বহুল ইফতার পার্টি এড়িয়ে যাওয়া। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে অনেক সময় সরকারি অনুষ্ঠানে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় দেখা যায়। সেই প্রেক্ষাপটে কৃচ্ছতা সাধনের এই উদ্যোগ রাজনৈতিকভাবে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ একটি ঘটনা আমি মনে করি।
এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য সরকারি অফিসগুলোতে অতিরিক্ত লাইট ও এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপের সিদ্ধান্তও একটি বাস্তবসম্মত উদ্যোগ।

প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন
রাষ্ট্র পরিচালনায় আচরণগত পরিবর্তনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। প্রধানমন্ত্রীর সময়ানুবর্তিতার সঙ্গে নিয়মিত অফিসে উপস্থিতি প্রশাসনের জন্য ইতোমধ্যেই একটি ইতিবাচক আবহ তৈরি করেছে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী সিদ্ধান্ত হলো—ভিভিআইপি প্রোটোকল কমিয়ে ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলা। লালবাতি ও সাইরেন ব্যবহার না করে সাধারণ যানবাহনের মতো সড়ক নিয়ম মেনে চলা জনগণের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা দেয় যে রাষ্ট্রের শাসকও আইনের ঊর্ধ্বে নয়। একইভাবে পরিবারের সদস্যদের জন্য এসএসএফ নিরাপত্তা না নেওয়ার সিদ্ধান্তটিও ক্ষমতার ব্যবহার সম্পর্কে একটি সংযমী অবস্থানের প্রতিফলন।

মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক তৎপরতা
সরকারের নীতিগত ঘোষণার পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রীরা ইতোমধ্যেই সরেজমিন পরিদর্শনে মাঠে নেমেছেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তারা জনসেবা বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন। দুর্নীতি প্রতিরোধ, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সময়মতো অফিসে উপস্থিত হয়ে নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মন্ত্রীরা আকস্মিক অফিস পরিদর্শন শুরু করছেন। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অবহেলিত সেবা খাতগুলোকে সক্রিয় করতে এই ধরনের নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এই উদ্যোগ প্রশাসনের ভেতরেও একটি বার্তা দিচ্ছে যে,সরকার কেবল নীতিনির্ধারণে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না, বরং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায়। ফলে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ বাড়ার পাশাপাশি জনসেবার মান উন্নত হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। জনগণের মধ্যেও এই উদ্যোগ আশাবাদ সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন মহলে তা প্রশংসিত হচ্ছে।

সংগ্রামীদের প্রতি দায়িত্ব
জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণাও সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অংশ। ইতিহাসে যেসব আন্দোলন রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে, তাদের অংশগ্রহণকারীদের সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবেই দেখা হয়।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ
বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে অন্যতম বড় বাধা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির কথা বলা হয়। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মাধ্যমে একটি শক্ত বার্তা দিয়েছে। অবশ্য ঘোষণার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হবে এর বাস্তবায়ন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই তখনই কার্যকর হয়, যখন তা রাজনৈতিক পরিচয় ছাপিয়ে পরিচালিত হয় এবং প্রশাসনিক কাঠামোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।

শেষ কথা
সরকারের প্রথম দিককার উদ্যোগগুলো জনমনে নিঃসন্দেহে একটি আশাব্যঞ্জক বার্তা দিয়েছে। এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো বাস্তবায়ন এবং বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে অর্থনৈতিক চাপ, বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা—সবকিছু মিলিয়ে সরকার পরিচালনা একটি জটিল কাজ।

তবুও যদি রাজনৈতিক সৌজন্য, আইনের শাসন, সামাজিক সুরক্ষা, প্রশাসনিক সংস্কার এবং জবাবদিহিমূলক শাসনের এই উদ্যোগগুলো ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যায়, তাহলেই কেবল জোর দিয়ে বলা যাবে যে, জনগণের স্বপ্ন পূরণের পথে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ এখন সেই পথচলার দিকেই তাকিয়ে আছে।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক, ঢাকা।

প্রশাসন শুধু আইন প্রয়োগের যন্ত্র নয়; এটি মানুষের সেবার একটি মাধ্য : তারেক রহমান

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
প্রশাসন শুধু আইন প্রয়োগের যন্ত্র নয়; এটি মানুষের সেবার একটি মাধ্য : তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘ রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনগণের বিশ্বাস। সরকার এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনমনে এই বিশ্বাস গড়ে ওঠে। এই ব্যাপারেও আপনারা যত্নবান থাকবেন বলে আমি আশা করি। আমাদের মনে রাখা দরকার, প্রশাসন শুধু আইন প্রয়োগের যন্ত্র নয়; এটি মানুষের সেবার একটি মাধ্যম।’

বুধবার (৬ মে) রাতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘ত্রৈমৈত্রী’ সম্মেলনে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মিলন অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছলে তাকে স্বাগত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা.জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন বৃদ্ধ কিংবা অসুস্থ মানুষ যখন আপনাদের অফিসে আসেন কিংবা সেবার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন, তখন তাঁদের বিষয়গুলো আইনগত উপায়ে সমাধানের পাশাপাশি তাঁদের প্রতি মানবিক আচরণও জরুরি। সেবাগ্রহীতার প্রতি আপনাদের আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল ব্যবহার তাঁদের মনে রাষ্ট্র এবং সরকার ব্যবস্থা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণার জন্ম দেয়। হয়তো এই বিষয়গুলো ছোট, কিন্তু জনমনে এর প্রভাব অনেক বেশি বলেই আমি মনে করি। ভবিষ্যতে এসব বিষয়ের প্রতি আরও মনোযোগী এবং যত্নবান থাকার জন্য আমি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

তিনি বলেন, দেশ এবং জনগণের কল্যাণে আমরা দলীয়ভাবে যেসকল ইশতেহার প্রণয়ন করেছিলাম, সেই ইশতেহারের পক্ষে দেশের জনগণ সমর্থন জানিয়েছে। সুতরাং, এটি এখন আর বিএনপির দলীয় ইশতেহার নয়; এটি এখন দেশের জনগণের ইশতেহার। এটি এখন জনগণের জন্য সরকারের ইশতেহার। সুতরাং, এখন ইশতেহার বাস্তবায়নের পালা। সরকারপ্রধান আরও বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া আমাদের অঙ্গীকারগুলো এই মুহূর্তে আপনাদের সামনে আমি পুনরায় বিস্তারিত তুলে ধরতে চাই না। শুধু এটুকু বলবো, জনস্বার্থে নেওয়া সরকারের কাজগুলো বাস্তবায়নের প্রধান দায়িত্ব জনপ্রশাসনের ওপর বর্তায়। সুতরাং, সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনপ্রশাসনের সাফল্যই শেষ পর্যন্ত সরকারের সাফল্য হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণেই আমি বলি, জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাগণ, বিশেষ করে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকগণ হচ্ছেন মাঠ পর্যায়ে সরকারের প্রশাসনিক ‘অ্যাম্বাসেডর’।

বর্তমান সরকারের ওপর জনগণের প্রত্যাশা অনেক মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের সকল যৌক্তিক প্রত্যাশা সাধ্যমতো পূরণ করতে বদ্ধপরিকর। এটি জনগণের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার। আমরা কথায় কথায় বলি, জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। তিনি বলেন, জনগণ যদি মালিক হয়, তাহলে এই মালিক অর্থাৎ সেবাগ্রহীতারা যখন অফিস-আদালতে তাঁদের সমস্যা নিয়ে যান, তাঁরা যেন আপনাদের সেবায় কিছুটা হলেও রাষ্ট্রের মালিকানা অনুভব করতে পারেন; সেটি নিশ্চিত করা আপনাদের দায়িত্ব বলেই আমি মনে করি।

একজন সাধারণ মানুষ যখন কোনো সরকারি অফিসে যান, তখন তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কিংবা সংশ্লিষ্ট অফিস ব্যবস্থাপনার মধ্যেই পুরো সরকার ব্যবস্থাকে মূল্যায়ন করেন। ধরা যাক, একজন সাধারণ নাগরিক কিংবা একজন দিনমজুর যখন জন্মনিবন্ধন সনদ সংশোধন করার জন্য আপনাদের অফিসে যান, তিনি হয়তো জানেন না কোন টেবিলে যেতে হবে কিংবা কোন কর্মকর্তাকে কী বলতে হবে। এমন পরিস্থিতিতে সেবাগ্রহীতা যদি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আন্তরিক ব্যবহার পান, তবে এটি রাষ্ট্র এবং সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি করে। আর যদি হয়রানির শিকার হন, তবে তিনি শুধু একটি সেবা থেকেই বঞ্চিত হলেন না, বরং রাষ্ট্র এবং সরকারের প্রতি তার শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস নষ্ট হয়। সুতরাং, রাষ্ট্র এবং সরকারের সঙ্গে জনগণের আস্থা তৈরির ক্ষেত্রে আপনাদের কার্যক্রম মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। তাৎক্ষণিকভাবে হয়তো সবার সবকিছু সমাধান করে দেওয়া সম্ভব নয়; কিন্তু ভুক্তভোগীর মনে অন্তত এই ধারণা জন্মানো জরুরি যে, আপনি কিংবা আপনার অফিস তাঁর সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে আন্তরিক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি একটি বিষয় গভীরভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের সমস্যা অসংখ্য হলেও সম্ভাবনাও কিন্তু কম নয়। আমাদের দেশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’-এর সুযোগ নিয়ে আমরা যদি তরুণ এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারি, তবে এই জনসংখ্যাই হবে আমাদের ‘জনসম্পদ’। এরাই বদলে দিতে পারবে আমাদের বাংলাদেশ। যথাসম্ভব মানুষের উপকার করার মানসিকতা থাকতে হবে। রাষ্ট্র এবং সমাজের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধগুলোকে জাগিয়ে রাখতে আমাদের সম্ভাব্য সকল উপায় বের করতে হবে। আমাদের পারিবারিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হতে হবে। আমাদের মনে করা দরকার, একটি রাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ইউনিট হলো একটি পরিবার। একইভাবে অনেকগুলো পরিবারের সম্মিলনই হলো আমাদের রাষ্ট্র। সুতরাং, পরিবারগুলো ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত থাকলে রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধও সুসংহত হয়। #

কালের আলো/আরআই/এমকে

চারদিনের ডিসি সম্মেলনে একগুচ্ছ নির্দেশনা

মাঠ প্রশাসনকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জনমুখী করতে বিশেষ গুরুত্ব

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
মাঠ প্রশাসনকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জনমুখী করতে বিশেষ গুরুত্ব

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রথম ডিসি সম্মেলনে মাঠ প্রশাসনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, উন্নয়ন প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাঠ প্রশাসনকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ, জনমুখী ও জবাবদিহিমূলক করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা। শুধু তাই নয়, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বাজার মনিটরিং এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অবৈধ মজুতদারি রোধে ডিসিদের বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়। গত রোববার (০৩ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণকে দেওয়া সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকদের তৎপর হওয়ার তাগিদ দিয়েছিলেন।

আশা প্রকাশ করে বলেছিলেন ‘আপনারা আপনাদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে জনগণের কাছে দেওয়া সরকারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়নে ইনশাআল্লাহ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।’ মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন আমরা কম্প্রোমাইজ করতে চাই না দুর্নীতির সঙ্গে। সুশাসনের জন্য প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা, যোগ্য নেতৃত্ব এবং অবশ্যই জবাবদিহিতা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার-যোগ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। বুধবার (০৬ মে) বিকেলে সমাপনী অধিবেশনের মাধ্যমে শেষ হয় ডিসি সম্মেলন। এই সম্মেলনের আয়োজন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সমাপনী অধিবেশন শেষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সভা করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার। এরপর সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিসি এবং বিভাগীয় কমিশনাররা নৈশভোজে অংশ নেন। শেষ দিনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের সঙ্গে ডিসিদের নয়টি কার্য অধিবেশন ছিল।

বুধবার (৬ মে) রাতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘ত্রৈমৈত্রী’ সম্মেলনে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মিলন অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘প্রশাসনকে জনমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। সেই কাজটি আপনাদের ভূমিকার ওপরই অনেকখানি নির্ভর করে।’ তিনি বলেন, সরকার এমন একটি জনমুখী প্রশাসন চায়, যেখানে সরকারি দপ্তরে সাধারণ মানুষ সম্মানের সাথে দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্তভাবে সেবা পাবে। এ বিষয়টি আপনাদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে। আইন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মানবিকতা আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।

  • মোট ৩৪টি অধিবেশনে ৪৯৮টি প্রস্তাব উপস্থাপন ও বিস্তারিত আলোচনা
  • উন্নয়ন প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে জোর
  • মাঠ প্রশাসনকে সরকারের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করতে হবে
  • জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে
  • দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কোনও ধরনের আপস না করার কঠোর বার্তা
  • ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন, ক্যাশলেস লেনদেন চালু এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের নির্দেশ

জানা যায়, এবারের ডিসি সম্মেলনে দেশের ৬৪ জেলার ডিসি এবং ৮ বিভাগীয় কমিশনার মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে মোট ৩৪টি অধিবেশনে ৪৯৮টি প্রস্তাব উপস্থাপন ও বিস্তারিত আলোচনা করেন। সরকারের নীতিনির্ধারকরা নানা বিষয়ে তাদেরকে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি ত্বরান্বিত করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, গায়েবি মামলা প্রত্যাহার এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনকে আরও কার্যকর, জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক করার একগুচ্ছ বার্তা নিয়ে নিজ নিজ জেলায় ফিরছেন জেলা প্রশাসকরা।

গত ৩ মে থেকে শুরু হয়ে ৬ মে শেষ হওয়া এই সম্মেলনে দু’দফায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ পেয়েছেন জেলা প্রশাসকরা। প্রথম দিন উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনা পেয়েছেন ডিসিরা। শেষ দিন সন্ধ্যায় মুক্ত আলোচনায় এবং বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভায়ও প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা পেয়েছেন তারা। সরকারের পক্ষ থেকে ডিসিদের বলা হয়, মাঠ প্রশাসনকে সরকারের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করতে হবে এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কোনও ধরনের আপস না করার কঠোর বার্তাও দেওয়া হয়।

চলতি বছরের ডিসি সম্মেলনে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন, ক্যাশলেস লেনদেন চালু এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যকারিতা মূল্যায়ন ও রাজস্ব আদায় বাড়াতে মাঠ প্রশাসনের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করা হয়। কৃষি ও মৎস্য খাতে চিংড়ি উৎপাদন বৃদ্ধি, মা ইলিশ সংরক্ষণ এবং আলুর বহুমুখী ব্যবহার ও রপ্তানি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। এছাড়া শিল্প ও বাণিজ্য প্রসারে বন্ধ কারখানা চালু করা, নতুন শিল্পনীতি প্রণয়ন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। সম্মেলনের তৃতীয় দিনে যোগাযোগ, প্রযুক্তি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। যোগাযোগ খাতের উন্নয়নে মহাসড়কে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, যানবাহনের লোড নিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নতুন সেতু নির্মাণ ও রেলপথ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এছাড়া নৌপথে নিরাপত্তা জোরদার এবং আসন্ন ঈদে যানজট নিরসনে মাঠ প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পানি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নদী-খাল পুনঃখনন, নদীভাঙন রোধ এবং বজ্রপাত থেকে কৃষকদের রক্ষায় বিশেষ শেল্টার নির্মাণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের একটি অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ছন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানান, মিস-ইনফরমেশন ও ডিস-ইনফরমেশন মোকাবিলায় জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যে সমস্ত কাজ খুব জরুরি, যেগুলোতে হাত দেওয়া যেতে পারে, যেমন মিস-ইনফরমেশন এবং ডিস-ইনফরমেশনকে কমব্যাট (মোকাবিলা) করা, ফেস করা যতটা সম্ভব গণমাধ্যমের সঙ্গে সংযোগ রেখে এটা নিয়মশৃঙ্খলার মধ্যে আনা, সেগুলোর দিকে আমরা মনোযোগ দেব।’

সম্মেলন সম্পর্কে রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ‘ডিসিরা মাঠ পর্যায়ে সরকারের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন। সরকারের যেকোনও কর্মসূচি বাস্তবায়নে আমরা সব নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের চেষ্টা করবো।’ সংশ্লিষ্টরা জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে লাইসেন্সধারী প্রায় ১০ হাজার আগ্নেয়াস্ত্র এখনও জমা না দেওয়ায় সেগুলো দ্রুত উদ্ধার ও লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়। ভূমি ব্যবস্থাপনায় সেবার মান উন্নয়ন এবং হয়রানি বন্ধে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপরও জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিলাসী প্রকল্প ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে জনকল্যাণমূলক উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে ডিসিদের সামনে ৪৪টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে অ্যাম্বুলেন্স ও অ্যান্টিভেনম নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যসেবা নির্বিঘ্ন করতে কঠোর মনিটরিংয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু, অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের বিষয়েও নির্দেশনা আসে। সম্মেলন সম্পর্কে জানতে চাইলে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, সম্মেলন শেষে সরকারের দেওয়া নির্দেশনা নিয়ে আমরা জেলায় ফিরছি। এগুলো জনগণের জন্য কল্যাণকর উদ্যোগ হবে বলে আশা করি।

কালের আলো/আরআই/এমকে

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিমানবাহিনীর সদস্যদের প্রস্তুত থাকার জন্য আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৮:৫৩ অপরাহ্ণ
চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিমানবাহিনীর সদস্যদের প্রস্তুত থাকার জন্য আহ্বান

একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য বিমানবাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাহিনীটির প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। বুধবার (৬ মে) ঢাকা সেনানিবাসস্থ বিমানবাহিনী সদর দপ্তরে বিমানবাহিনীর এয়ার অফিসার্স সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিমানবাহিনী প্রধান সম্মেলনে উপস্থিত বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দিকনির্দেশনামমূলক বক্তব্য দেন। দেশের আকাশসীমা রক্ষার পাশাপাশি তিনি দেশমাতৃকার সেবায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর অবদানের কথা উল্লেখ করেন।

এসময় বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সক্ষমতা অর্জন করে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার জন্য বিমানবাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান এবং বাহিনীর প্রত্যেক সদস্য আগামী দিনে দেশ সেবার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশা করেন।

জানা গেছে, বিমান সদরের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, সংশ্লিষ্ট এয়ার অফিসার ও বিমান সদরের পরিচালক সরাসরি এবং ঢাকার বাইরে অবস্থিত বিমানবাহিনী ঘাঁটির এয়ার অধিনায়কসহ সংশ্লিষ্ট এয়ার অফিসাররা ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

কালের আলো/এম/এএইচ