খুঁজুন
                               
, ,
           

জনগণের স্বপ্ন পূরণে নতুন দিগন্তের পথে তারেক রহমানের সরকার

আহসান হাবিব বরুন
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ১০:২১ পূর্বাহ্ণ
জনগণের স্বপ্ন পূরণে নতুন দিগন্তের পথে তারেক রহমানের সরকার

নতুন সরকার কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনেরও বার্তা দিচ্ছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত বিএনপি সরকারের সূচনা অনেকের কাছেই এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত বহন করছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন, অবিশ্বাস ও বিভাজনের পর যে প্রত্যাশা নিয়ে জনগণ ভোট দিয়েছে—তার প্রতিফলন যেন সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।

এই সরকারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো—নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোকে কেবল রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে না রেখে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া। রাজনৈতিক ইতিহাসে আমরা প্রায়ই দেখেছি, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ক্ষমতায় যাওয়ার পর ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে। কিন্তু বর্তমান সরকারের প্রথম দিককার পদক্ষেপগুলো সেই প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে জনগণের ভোটের প্রতি শ্রদ্ধা এবং প্রতিশ্রুতির প্রতি দায়বদ্ধতার একটি নতুন বার্তা প্রদান করছে।

রাজনৈতিক শিষ্টাচারের নতুন দৃষ্টান্ত
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধিতাকে প্রায় শত্রুতার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি বিরাজ করেছে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর পরাজিত রাজনৈতিক নেতাদের বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করা, ইফতারে অংশ নেওয়া এবং জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান—এসব উদ্যোগ নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত বহন করে। রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই মতপার্থক্যকে গণতান্ত্রিক সৌজন্যের মধ্যে রাখার যে চেষ্টা এই সরকার শুরু করেছে, তা দীর্ঘদিনের বিভাজিত রাজনৈতিক পরিবেশে এক ইতিবাচক বার্তা বলেই মনে হচ্ছে।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার
রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। জুলাই যোদ্ধা ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদের ভারতে গ্রেপ্তার নিশ্চিত করার কূটনৈতিক ও আইনি প্রচেষ্টা সেই দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি প্রমাণ করে যে, অপরাধ যত বড়ই হোক, কিংবা অপরাধী দেশের সীমানার বাইরে থাকুক—ন্যায়বিচারের প্রশ্নে সরকার কিছুতেই আপস করবে না।

একই সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার ঘোষণাও আইনের শাসনের প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতিকে স্পষ্ট করেছে। এটি কেবল অতীতের জবাবদিহির প্রশ্ন নয়; বরং ভবিষ্যতের জন্যও একটি বার্তা বহন করে যে,রাষ্ট্রের ক্ষমতা কখনোই মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঢাল হতে পারে না।

রাজনৈতিক ঐকমত্যের নতুন চর্চা
বিএনপি সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত ছিল জুলাই সনদের বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকারের পদ বিরোধীদলের জন্য ছেড়ে দেওয়া। বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে এটি একটি বিরল ঘটনা। সাধারণত ক্ষমতাসীন দল সংসদের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ পদ নিজেদের দখলে রাখতে চায়। এক্ষেত্রে সরকারের এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত একটি রাজনৈতিক বার্তা বহন করে যে,গণতন্ত্র কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠতার নাম নয়; বরং অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক কাঠামোর নাম। বিরোধীদলের জন্য সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদ ছেড়ে দেওয়া সেই অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির দরজা উন্মোচন করার ইঙ্গিত বলেই আমি মনে করি।

এখানে স্মরণ করা যেতে পারে যে , নির্বাচনী মাঠে বিরোধীদের নেতিবাচক প্রচারণা সত্ত্বেও তারেক রহমানের দলীয় নেতাকর্মীদের জুলাই সনদের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান ছিল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি ইঙ্গিত। সরকার প্রধানের এই উদার দৃষ্টিভঙ্গি প্রমাণ করে যে, এই সরকার অন্তত একটি নীতিগত কাঠামো তৈরি করতে চায়, যার ভিত্তিতে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সংস্কারগুলো এগিয়ে যাবে।

সামাজিক সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার। সেই লক্ষ্যেই শুরু হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি—যার মাধ্যমে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে সরাসরি রাষ্ট্রের সহায়তার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থাকলেও সেগুলোর অনেক ক্ষেত্রে সমন্বয়ের অভাব ছিল। ফ্যামিলি কার্ড সেই ব্যবস্থাকে একটি কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর পাশাপাশি কৃষি খাতকে শক্তিশালী করার জন্য চালু করা হচ্ছে কৃষি কার্ড, যা কৃষকদের সরকারি সহায়তা, ভর্তুকি ও ঋণ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। কৃষকদের জন্য দশ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের ঘোষণাও গ্রামীণ অর্থনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি এখনো কৃষি ও গ্রামীণ উৎপাদন। তাই কৃষকের আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করা মানেই সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করা।

স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত
স্বাস্থ্যসেবা খাতে ই-হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগও সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে একটি মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোর মধ্যে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যয় বহু পরিবারকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেয়। এমনটি বহু গবেষণায় উঠে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে হেলথ কার্ডের মতো উদ্যোগ যদি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।

পরিবেশ ও অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ
পরিবেশ ও কৃষি ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ হলো খাল খনন কর্মসূচি। বাংলাদেশের বহু খাল ও জলপথ দীর্ঘদিন অবহেলায় ভরাট হয়ে গেছে, যার ফলে পানি নিষ্কাশন ও সেচ ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

সুতরাং খাল পুনঃখনন শুধু জলাবদ্ধতা দূর করবে না; বরং এটি কৃষি উৎপাদন বাড়াতেও সহায়ক হবে। একই সঙ্গে সরকার দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

রাষ্ট্র পরিচালনায় মিতব্যয়িতা
সরকারি ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রে সরকার একটি প্রতীকী কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে যে, ব্যয়বহুল ইফতার পার্টি এড়িয়ে যাওয়া। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে অনেক সময় সরকারি অনুষ্ঠানে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় দেখা যায়। সেই প্রেক্ষাপটে কৃচ্ছতা সাধনের এই উদ্যোগ রাজনৈতিকভাবে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ একটি ঘটনা আমি মনে করি।
এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য সরকারি অফিসগুলোতে অতিরিক্ত লাইট ও এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপের সিদ্ধান্তও একটি বাস্তবসম্মত উদ্যোগ।

প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন
রাষ্ট্র পরিচালনায় আচরণগত পরিবর্তনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। প্রধানমন্ত্রীর সময়ানুবর্তিতার সঙ্গে নিয়মিত অফিসে উপস্থিতি প্রশাসনের জন্য ইতোমধ্যেই একটি ইতিবাচক আবহ তৈরি করেছে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী সিদ্ধান্ত হলো—ভিভিআইপি প্রোটোকল কমিয়ে ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলা। লালবাতি ও সাইরেন ব্যবহার না করে সাধারণ যানবাহনের মতো সড়ক নিয়ম মেনে চলা জনগণের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা দেয় যে রাষ্ট্রের শাসকও আইনের ঊর্ধ্বে নয়। একইভাবে পরিবারের সদস্যদের জন্য এসএসএফ নিরাপত্তা না নেওয়ার সিদ্ধান্তটিও ক্ষমতার ব্যবহার সম্পর্কে একটি সংযমী অবস্থানের প্রতিফলন।

মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক তৎপরতা
সরকারের নীতিগত ঘোষণার পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রীরা ইতোমধ্যেই সরেজমিন পরিদর্শনে মাঠে নেমেছেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তারা জনসেবা বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন। দুর্নীতি প্রতিরোধ, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সময়মতো অফিসে উপস্থিত হয়ে নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মন্ত্রীরা আকস্মিক অফিস পরিদর্শন শুরু করছেন। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অবহেলিত সেবা খাতগুলোকে সক্রিয় করতে এই ধরনের নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এই উদ্যোগ প্রশাসনের ভেতরেও একটি বার্তা দিচ্ছে যে,সরকার কেবল নীতিনির্ধারণে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না, বরং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায়। ফলে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ বাড়ার পাশাপাশি জনসেবার মান উন্নত হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। জনগণের মধ্যেও এই উদ্যোগ আশাবাদ সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন মহলে তা প্রশংসিত হচ্ছে।

সংগ্রামীদের প্রতি দায়িত্ব
জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণাও সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অংশ। ইতিহাসে যেসব আন্দোলন রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে, তাদের অংশগ্রহণকারীদের সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবেই দেখা হয়।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ
বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে অন্যতম বড় বাধা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির কথা বলা হয়। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মাধ্যমে একটি শক্ত বার্তা দিয়েছে। অবশ্য ঘোষণার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হবে এর বাস্তবায়ন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই তখনই কার্যকর হয়, যখন তা রাজনৈতিক পরিচয় ছাপিয়ে পরিচালিত হয় এবং প্রশাসনিক কাঠামোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।

শেষ কথা
সরকারের প্রথম দিককার উদ্যোগগুলো জনমনে নিঃসন্দেহে একটি আশাব্যঞ্জক বার্তা দিয়েছে। এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো বাস্তবায়ন এবং বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে অর্থনৈতিক চাপ, বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা—সবকিছু মিলিয়ে সরকার পরিচালনা একটি জটিল কাজ।

তবুও যদি রাজনৈতিক সৌজন্য, আইনের শাসন, সামাজিক সুরক্ষা, প্রশাসনিক সংস্কার এবং জবাবদিহিমূলক শাসনের এই উদ্যোগগুলো ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যায়, তাহলেই কেবল জোর দিয়ে বলা যাবে যে, জনগণের স্বপ্ন পূরণের পথে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ এখন সেই পথচলার দিকেই তাকিয়ে আছে।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক, ঢাকা।

মার্কিন হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ
মার্কিন হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

মার্কিন আগ্রাসনের ‘কঠোর জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের ‘কঠোর জবাব’ দেবে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনী। হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনায় ওয়াশিংটনকে হস্তক্ষেপ করতে দেওয়া হবে না। বুধবার (৮ জুলাই) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আমেরিকান সন্ত্রাসবাদের’ কোনো জবাব না দিয়ে ছাড় দেওয়া হবে না। এই নৌপথের বিষয়ে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপের প্রচেষ্টা ‘কোনো অবস্থাতেই’ মেনে নেওয়া হবে না।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ এবং তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর জন্য একমাত্র নিরাপদ পথ হলো ইসলামী প্রজাতন্ত্র কর্তৃক নির্ধারিত পথ।

এতে আরও বলা হয়েছে, ইরানে এ ধরনের হামলা গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের অধীনে থাকা ‘যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারের প্রতি সম্পূর্ণ অবজ্ঞা’ প্রকাশ করে।

এর আগে ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের সিরিক কাউন্টি ও কেশম দ্বীপের কাছে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি) জানিয়েছে, সিরিকের মৎস্য ও বাণিজ্যিক বন্দরে শত্রুপক্ষের হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে সবশেষ দফায় অন্তত ৮০টি হামলা চালানো হয়েছে। এতে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার স্থাপনা এবং জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে নিশানা করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করিডোরে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা হ্রাসের লক্ষ্যে প্রণালির ভেতরে ও আশপাশে অবস্থানরত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ৬০টিরও বেশি ছোট নৌকায়ও হামলা চালানো হয়েছে।

সেন্টকম জানিয়েছে, মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের হামলার জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি 

জিএমপিতে ছয় মাসে ১৮৫৪ মামলা, গ্রেফতার ৩২১৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:০৩ পূর্বাহ্ণ
জিএমপিতে ছয় মাসে ১৮৫৪ মামলা, গ্রেফতার ৩২১৭

গাজীপুর মহানগর এলাকায় অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত গত ছয় মাসে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মোট ১ হাজার ৮৫৪টি মামলা করা হয়েছে। একই সময়ে এসব মামলায় ৩ হাজার ২১৭ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে জিএমপি সদর দফতরের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার।

পুলিশ কমিশনার জানান, গত ছয় মাসে রুজু হওয়া মামলার মধ্যে রয়েছে, হত্যা মামলা ২০টি, ডাকাতি ও ছিনতাই, ডাকাতি ৭টি এবং ছিনতাই ২৮টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ১৭৬টি, মাদক ও অস্ত্র সংক্রান্ত মাদক ৮১২টি এবং অস্ত্র মামলা ৬০টি, অন্যান্য অপরাধ, সিঁধেল চুরি ১৬টি এবং অন্যান্য ধারায় ৭৩৫টি মামলা।

অভিযানে ১০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ২০ রাউন্ড গুলি, একটি গুলির খোসা, ৪টি ম্যাগাজিন এবং বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া জব্দ করা হয়েছে ৫১,৫৬০ পিস ইয়াবা, ৩৫৭ কেজি ৩৬৫ গ্রাম গাঁজা, ১ কেজি ৯৬৫ গ্রাম হেরোইন, ৫৩০ পিস প্যাথেডিন, ৪৬ লিটার দেশীয় মদ, ১৫১ লিটার বিদেশি মদ এবং ২৭৬ বোতল ফেনসিডিল।

মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, সম্প্রতি মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ঝটিকা মিছিলের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় সদর, বাসন, কোনাবাড়ী, গাছা ও টঙ্গী পশ্চিম থানায় মোট ৭টি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় ইতোমধ্যে ৯৫ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মিছিলে অংশগ্রহণ, সহায়তা ও অর্থায়নের অভিযোগে আরও শতাধিক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ কমিশনার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের প্রকাশ্য বা গোপন কার্যক্রম, অর্থায়ন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের পক্ষে প্রচারণা চালানোও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অপরাধ। যারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মহানগরের মাজার বস্তি, কেরানীর টেক, ব্যাংকের মাঠ ও এরশাদ নগরসহ বিভিন্ন মাদকপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শীর্ষ মাদক কারবারিদের সম্পদের অনুসন্ধান করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ছিনতাই প্রতিরোধে বিশেষ চেকপোস্ট, টহল এবং ব্লক রেইড পরিচালনা করা হচ্ছে। গ্রেফতার হওয়া অধিকাংশ ছিনতাইকারীই পুনরায় একই অপরাধে জড়ানোর কারণে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কিশোর গ্যাং দমনে সদস্যদের তালিকা প্রস্তুত করে তথ্যভিত্তিক সমন্বিত অভিযান পরিচালনার কথা জানানো হয়।

টঙ্গী পূর্ব থানার পাগাড় বিসিক মার্কেট এলাকায় ঝুট ব্যবসাকে কেন্দ্র করে মহড়ার ঘটনায় একটি মামলা করে এ পর্যন্ত ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া অন্যদের শনাক্তের কাজ চলছে।

আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও পুলিশি তৎপরতায় অপহরণ ও ‘হানি ট্র্যাপ’-এর মতো অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাশাপাশি বেওয়ারিশ মরদেহ ফেলে যাওয়ার ঘটনাও নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

খুনের মামলার পরিসংখ্যান তুলে ধরে পুলিশ কমিশনার জানান, ২০২৩ সালে ৯৪টি, ২০২৪ সালে ৯৬টি এবং ২০২৫ সালে ৮১টি হত্যা মামলা হলেও চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে তা কমে ২০টিতে দাঁড়িয়েছে। যার মধ্যে মাত্র একটি মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

তিনি বলেন, জিএমপি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণ এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, উপ-পুলিশ কমিশনার মো. জাহিদ হোসেন ভূঁইয়া (পিপিএম), এস এম আশরাফুল আলম (পিপিএম), মোহাম্মদ মহিউল ইসলাম, মো. শফিকুল ইসলাম, সাহেব আলী পাঠান, অশোক কুমার পাল (পিপিএম), অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ইয়াসমীন সাইকা পাশা, স্টাফ অফিসার খন্দকার জালাল উদ্দিন মাহমুদ এবং বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহা. হারুন-অর-রশিদসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

মিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গুলি, হাতেনাতে গ্রেপ্তার সন্ত্রাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ১:৩৬ পূর্বাহ্ণ
মিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গুলি, হাতেনাতে গ্রেপ্তার সন্ত্রাসী

রাজধানীর মিরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে গুলি করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও গুলিসহ অভিযুক্ত একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৭জুলাই) রাত সোয়া ৯ টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বরের ফলপট্টি-সংলগ্ন চৌরঙ্গী মার্কেটের দক্ষিণ পাশের একটি গলিতে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ সাইফুল ইসলাম সিজু (৪০) মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা প্রতিবেশী সাইদুল জানান, রাতে মুন্সি বাড়ি রোডে সাইফুল ইসলাম সিজু তার নিজ অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ জাকির হোসেনের শান্তর (২৭) নেতৃত্বে ৩/৫জন এলোপাতাড়ি গুলি করে। এতে সাইফুলের কোমরে এবং দুই পায়ে গুলি লাগে।

সিজু গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ​গোলাগুলির শব্দে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পথচারীরা দিকবিদিক ছুটোছুটি করতে থাকেন। তবে ঘটনার পরপরই পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় কিছু জনতা ধাওয়া করে এক যুবককে একটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক করে। পরবর্তীতে তাকে মিরপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, পূর্বশত্রুতার জেরে শান্ত ভূঁইয়া নামে এক ব্যক্তি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে সাইফুল ইসলাম সিজুকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে শান্ত ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলভার ও চার রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো হাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলভার ও চার রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি