খুঁজুন
                               
, ,
           

জনগণের স্বপ্ন পূরণে নতুন দিগন্তের পথে তারেক রহমানের সরকার

আহসান হাবিব বরুন
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ১০:২১ পূর্বাহ্ণ
জনগণের স্বপ্ন পূরণে নতুন দিগন্তের পথে তারেক রহমানের সরকার

নতুন সরকার কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনেরও বার্তা দিচ্ছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত বিএনপি সরকারের সূচনা অনেকের কাছেই এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত বহন করছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন, অবিশ্বাস ও বিভাজনের পর যে প্রত্যাশা নিয়ে জনগণ ভোট দিয়েছে—তার প্রতিফলন যেন সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।

এই সরকারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো—নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোকে কেবল রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে না রেখে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া। রাজনৈতিক ইতিহাসে আমরা প্রায়ই দেখেছি, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ক্ষমতায় যাওয়ার পর ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে। কিন্তু বর্তমান সরকারের প্রথম দিককার পদক্ষেপগুলো সেই প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে জনগণের ভোটের প্রতি শ্রদ্ধা এবং প্রতিশ্রুতির প্রতি দায়বদ্ধতার একটি নতুন বার্তা প্রদান করছে।

রাজনৈতিক শিষ্টাচারের নতুন দৃষ্টান্ত
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধিতাকে প্রায় শত্রুতার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি বিরাজ করেছে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর পরাজিত রাজনৈতিক নেতাদের বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করা, ইফতারে অংশ নেওয়া এবং জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান—এসব উদ্যোগ নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত বহন করে। রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই মতপার্থক্যকে গণতান্ত্রিক সৌজন্যের মধ্যে রাখার যে চেষ্টা এই সরকার শুরু করেছে, তা দীর্ঘদিনের বিভাজিত রাজনৈতিক পরিবেশে এক ইতিবাচক বার্তা বলেই মনে হচ্ছে।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার
রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। জুলাই যোদ্ধা ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদের ভারতে গ্রেপ্তার নিশ্চিত করার কূটনৈতিক ও আইনি প্রচেষ্টা সেই দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি প্রমাণ করে যে, অপরাধ যত বড়ই হোক, কিংবা অপরাধী দেশের সীমানার বাইরে থাকুক—ন্যায়বিচারের প্রশ্নে সরকার কিছুতেই আপস করবে না।

একই সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার ঘোষণাও আইনের শাসনের প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতিকে স্পষ্ট করেছে। এটি কেবল অতীতের জবাবদিহির প্রশ্ন নয়; বরং ভবিষ্যতের জন্যও একটি বার্তা বহন করে যে,রাষ্ট্রের ক্ষমতা কখনোই মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঢাল হতে পারে না।

রাজনৈতিক ঐকমত্যের নতুন চর্চা
বিএনপি সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত ছিল জুলাই সনদের বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকারের পদ বিরোধীদলের জন্য ছেড়ে দেওয়া। বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে এটি একটি বিরল ঘটনা। সাধারণত ক্ষমতাসীন দল সংসদের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ পদ নিজেদের দখলে রাখতে চায়। এক্ষেত্রে সরকারের এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত একটি রাজনৈতিক বার্তা বহন করে যে,গণতন্ত্র কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠতার নাম নয়; বরং অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক কাঠামোর নাম। বিরোধীদলের জন্য সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদ ছেড়ে দেওয়া সেই অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির দরজা উন্মোচন করার ইঙ্গিত বলেই আমি মনে করি।

এখানে স্মরণ করা যেতে পারে যে , নির্বাচনী মাঠে বিরোধীদের নেতিবাচক প্রচারণা সত্ত্বেও তারেক রহমানের দলীয় নেতাকর্মীদের জুলাই সনদের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান ছিল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি ইঙ্গিত। সরকার প্রধানের এই উদার দৃষ্টিভঙ্গি প্রমাণ করে যে, এই সরকার অন্তত একটি নীতিগত কাঠামো তৈরি করতে চায়, যার ভিত্তিতে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সংস্কারগুলো এগিয়ে যাবে।

সামাজিক সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার। সেই লক্ষ্যেই শুরু হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি—যার মাধ্যমে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে সরাসরি রাষ্ট্রের সহায়তার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থাকলেও সেগুলোর অনেক ক্ষেত্রে সমন্বয়ের অভাব ছিল। ফ্যামিলি কার্ড সেই ব্যবস্থাকে একটি কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর পাশাপাশি কৃষি খাতকে শক্তিশালী করার জন্য চালু করা হচ্ছে কৃষি কার্ড, যা কৃষকদের সরকারি সহায়তা, ভর্তুকি ও ঋণ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। কৃষকদের জন্য দশ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের ঘোষণাও গ্রামীণ অর্থনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি এখনো কৃষি ও গ্রামীণ উৎপাদন। তাই কৃষকের আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করা মানেই সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করা।

স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত
স্বাস্থ্যসেবা খাতে ই-হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগও সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে একটি মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোর মধ্যে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যয় বহু পরিবারকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেয়। এমনটি বহু গবেষণায় উঠে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে হেলথ কার্ডের মতো উদ্যোগ যদি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।

পরিবেশ ও অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ
পরিবেশ ও কৃষি ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ হলো খাল খনন কর্মসূচি। বাংলাদেশের বহু খাল ও জলপথ দীর্ঘদিন অবহেলায় ভরাট হয়ে গেছে, যার ফলে পানি নিষ্কাশন ও সেচ ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

সুতরাং খাল পুনঃখনন শুধু জলাবদ্ধতা দূর করবে না; বরং এটি কৃষি উৎপাদন বাড়াতেও সহায়ক হবে। একই সঙ্গে সরকার দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

রাষ্ট্র পরিচালনায় মিতব্যয়িতা
সরকারি ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রে সরকার একটি প্রতীকী কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে যে, ব্যয়বহুল ইফতার পার্টি এড়িয়ে যাওয়া। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে অনেক সময় সরকারি অনুষ্ঠানে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় দেখা যায়। সেই প্রেক্ষাপটে কৃচ্ছতা সাধনের এই উদ্যোগ রাজনৈতিকভাবে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ একটি ঘটনা আমি মনে করি।
এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য সরকারি অফিসগুলোতে অতিরিক্ত লাইট ও এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপের সিদ্ধান্তও একটি বাস্তবসম্মত উদ্যোগ।

প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন
রাষ্ট্র পরিচালনায় আচরণগত পরিবর্তনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। প্রধানমন্ত্রীর সময়ানুবর্তিতার সঙ্গে নিয়মিত অফিসে উপস্থিতি প্রশাসনের জন্য ইতোমধ্যেই একটি ইতিবাচক আবহ তৈরি করেছে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী সিদ্ধান্ত হলো—ভিভিআইপি প্রোটোকল কমিয়ে ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলা। লালবাতি ও সাইরেন ব্যবহার না করে সাধারণ যানবাহনের মতো সড়ক নিয়ম মেনে চলা জনগণের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা দেয় যে রাষ্ট্রের শাসকও আইনের ঊর্ধ্বে নয়। একইভাবে পরিবারের সদস্যদের জন্য এসএসএফ নিরাপত্তা না নেওয়ার সিদ্ধান্তটিও ক্ষমতার ব্যবহার সম্পর্কে একটি সংযমী অবস্থানের প্রতিফলন।

মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক তৎপরতা
সরকারের নীতিগত ঘোষণার পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রীরা ইতোমধ্যেই সরেজমিন পরিদর্শনে মাঠে নেমেছেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তারা জনসেবা বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন। দুর্নীতি প্রতিরোধ, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সময়মতো অফিসে উপস্থিত হয়ে নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মন্ত্রীরা আকস্মিক অফিস পরিদর্শন শুরু করছেন। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অবহেলিত সেবা খাতগুলোকে সক্রিয় করতে এই ধরনের নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এই উদ্যোগ প্রশাসনের ভেতরেও একটি বার্তা দিচ্ছে যে,সরকার কেবল নীতিনির্ধারণে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না, বরং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায়। ফলে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ বাড়ার পাশাপাশি জনসেবার মান উন্নত হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। জনগণের মধ্যেও এই উদ্যোগ আশাবাদ সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন মহলে তা প্রশংসিত হচ্ছে।

সংগ্রামীদের প্রতি দায়িত্ব
জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণাও সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অংশ। ইতিহাসে যেসব আন্দোলন রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে, তাদের অংশগ্রহণকারীদের সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবেই দেখা হয়।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ
বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে অন্যতম বড় বাধা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির কথা বলা হয়। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মাধ্যমে একটি শক্ত বার্তা দিয়েছে। অবশ্য ঘোষণার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হবে এর বাস্তবায়ন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই তখনই কার্যকর হয়, যখন তা রাজনৈতিক পরিচয় ছাপিয়ে পরিচালিত হয় এবং প্রশাসনিক কাঠামোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।

শেষ কথা
সরকারের প্রথম দিককার উদ্যোগগুলো জনমনে নিঃসন্দেহে একটি আশাব্যঞ্জক বার্তা দিয়েছে। এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো বাস্তবায়ন এবং বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে অর্থনৈতিক চাপ, বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা—সবকিছু মিলিয়ে সরকার পরিচালনা একটি জটিল কাজ।

তবুও যদি রাজনৈতিক সৌজন্য, আইনের শাসন, সামাজিক সুরক্ষা, প্রশাসনিক সংস্কার এবং জবাবদিহিমূলক শাসনের এই উদ্যোগগুলো ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যায়, তাহলেই কেবল জোর দিয়ে বলা যাবে যে, জনগণের স্বপ্ন পূরণের পথে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ এখন সেই পথচলার দিকেই তাকিয়ে আছে।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক, ঢাকা।

ক্রিকেটকে বিদায় বললেন অজিঙ্কা রাহানে

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ণ
ক্রিকেটকে বিদায় বললেন অজিঙ্কা রাহানে

দীর্ঘ ১৫ বছরের বর্ণাঢ্য ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন ভারতের অভিজ্ঞ ব্যাটার অজিঙ্কা রাহানে। আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি সব ধরনের প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন তিনি।

অবসরের ঘোষণায় ৩৮ বছর বয়সী রাহানে বলেন, “জীবনের সত্য এটাই যে, সবকিছুর শুরু এবং শেষ আছে। সময়কে মেনে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হয়। ব্যাটিংয়ের সময় সবসময় ‘টাইমিং’-এর ওপর ভরসা রেখেছি। আজ আমার মনে হচ্ছে, সামনে এগিয়ে যাওয়ার এটাই সঠিক সময়। তাই আন্তর্জাতিকসহ সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছি।”

ভারতের হয়ে রাহানের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত টেস্ট। সেটিই শেষ পর্যন্ত তার জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ হয়ে রইল।

২০১১ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় রাহানের। পরে তিনি তিন সংস্করণেই ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন। ৮৫টি টেস্টে ১২টি সেঞ্চুরি ও ২৬টি হাফসেঞ্চুরিসহ ৫,০৭৭ রান করেন তিনি। এছাড়া ৯০টি ওয়ানডেতে ২,৯৬২ রান এবং ২০টি টি-টোয়েন্টিতে ৩৭৫ রান করেছেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ায় তাকে আর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)-এও দেখা যাবে না। ফলে তার দল কলকাতা নাইট রাইডার্সকে এখন নতুন অধিনায়কের সন্ধানে নামতে হবে।

ভারতীয় ক্রিকেটে নির্ভরযোগ্য ব্যাটার হিসেবে পরিচিত রাহানে বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে অসংখ্য স্মরণীয় ইনিংস উপহার দিয়েছেন। তার বিদায়ে ভারতীয় ক্রিকেটের একটি সফল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।

কালের আলো/এসএ

ফরাসি ডিজে কাভিনস্কি আর নেই, মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
ফরাসি ডিজে কাভিনস্কি আর নেই, মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত

ফ্রান্সের জনপ্রিয় ইলেকট্রনিক সংগীতশিল্পী ও ডিজে ভিনসেন্ট বেলোরজে, যিনি ‘ডিজে কাভিনস্কি’ নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্যারিসে নিজ বাসভবনে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছেন। বুধবার দেশটির প্রসিকিউটররা তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রসিকিউটরদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলে প্রাথমিকভাবে কোনো সন্দেহজনক আলামত পাওয়া যায়নি। এর আগে প্যারিসভিত্তিক দৈনিক Le Parisien প্রথম তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করে।

আগামী ৩১ জুলাই তার ৫১তম জন্মদিন ছিল। তার আকস্মিক মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ফ্রান্সের সংস্কৃতিমন্ত্রী ক্যাথরিন পেগার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেন, “কাভিনস্কির মৃত্যুতে ফ্রান্স একজন ব্যতিক্রমী শিল্পীকে হারাল। তার সংগীত নাচের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি স্মৃতি ও আবেগকে জীবন্ত করে তুলত। তাই তার সৃষ্টি প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।”

প্যারিসের উপকণ্ঠ সাঁ-দেনিতে বেড়ে ওঠা ভিনসেন্ট বেলোরজে ছোটবেলায় নিজ উদ্যোগে পিয়ানো শেখেন। ২০০০-এর দশকের শুরুতে সংগীতজগতে তার যাত্রা শুরু হয়। ক্যারিয়ারের শুরুতে তিনি ফরাসি ইলেকট্রনিক সংগীত জুটি ডাফট পাঙ্কসহ বিভিন্ন শিল্পীর সঙ্গে মঞ্চে পারফর্ম করেন এবং পরবর্তীতে সেবাস্তিয়াঁসহ আরও অনেক সংগীতশিল্পীর সঙ্গে কাজ করেন।

২০১০ সালে প্রকাশিত তার জনপ্রিয় গান ‘Nightcall’ তাকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয়। ২০১১ সালে হলিউডের আলোচিত চলচ্চিত্র Drive-এ গানটি ব্যবহারের পর বিশ্বজুড়ে নতুন শ্রোতাদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি। ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকের সমাপনী অনুষ্ঠানেও তিনি এই বিখ্যাত গান পরিবেশন করেন।

কাভিনস্কির সংগীতে ১৯৮০-এর দশকের সিনেমা, ভিডিও গেম এবং সিন্থ-ওয়েভ ঘরানার প্রভাব ছিল স্পষ্ট। ‘কাভিনস্কি’ ছিল তারই সৃষ্ট একটি কাল্পনিক চরিত্র, যার মাধ্যমে তিনি নিজের শিল্পীসত্তাকে উপস্থাপন করতেন। ২০০৭ সালের এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, নিজের বাস্তব পরিচয়ের পরিবর্তে এই রহস্যময় চরিত্রের মাধ্যমে সংগীত ও গল্প তুলে ধরতেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন।

স্বতন্ত্র সংগীতধারা, সৃজনশীল চরিত্র নির্মাণ এবং অনন্য শিল্পীসত্তার জন্য কাভিনস্কি বিশ্ব ইলেকট্রনিক সংগীত অঙ্গনে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

কালের আলো/এসএ

আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ফিফার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ
আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ফিফার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু

বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে পরাজয়ের পর খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষ ও টুর্নামেন্টজুড়ে বিভিন্ন শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল এবং ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

নিউইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর ম্যাচ শেষে স্প্যানিশ খেলোয়াড় ও আর্জেন্টিনা দলের ফুটবলার-কোচিং স্টাফদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনা খতিয়ে দেখতে একজন বিশেষ প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়েছিল ফিফা। সপ্তাহব্যাপী তদন্ত শেষে তার সুপারিশের ভিত্তিতে ফিফা শৃঙ্খলা কমিটির কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী অভিযুক্তদের নিজস্ব বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং প্রক্রিয়া শেষে যথাসময়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

তদন্ত ও অভিযোগের মুখে যাঁরা:

প্রসিকিউটরের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ফিফার শৃঙ্খলাবিধির ১৪ নম্বর ধারার আওতায় তদন্ত চলছে:

লিওনার্দো পারেদেস: তাঁর বিরুদ্ধে মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। ফাইনাল শেষে স্পেনের বদলি খেলোয়াড়েরা মাঠে নামলে গাভিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে মুখে আঘাত করার পাশাপাশি স্প্যানিশ ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়াকেও আঘাতের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

নাহুয়েল মলিনা: তাঁর বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে, যার একটি খেলোয়াড়সুলভ আচরণবিরোধী অপরাধ।

রবার্তো আয়ালা (সহকারী কোচ): দানি ওলমোকে আঘাত করার দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

এছাড়া আর্জেন্টিনার থিয়াগো আলমাদা এবং স্পেনের মিডফিল্ডার গাভির বিরুদ্ধেও খেলোয়াড়সুলভ আচরণবিরোধী অপরাধের অভিযোগ তদন্তাধীন।

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, শৃঙ্খলাভঙ্গ ও সংঘর্ষের অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের অন্তত ১ থেকে ৩ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হতে হতে পারে।

আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (AFA) ওপর অভিযোগ:

শুধু ব্যক্তিগতভাবে খেলোয়াড়দের ওপরই নয়, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধেও বেশ কয়েকটি ধারায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: খেলাধুলার চেতনাবিরোধী কার্যক্রম (ধারা ১৩),দলের অসদাচরণ (ধারা ১৪),বৈষম্য ও বর্ণবাদী আচরণ (ধারা ১৫),ম্যাচে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার নিয়ম ভঙ্গ (ধারা ১৭)

এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের পরে ম্যাচ শুরু করা, সমর্থকদের অনুপযুক্ত বার্তার ব্যানার প্রদর্শন এবং দর্শকদের মাঠে বস্তু নিক্ষেপের মতো অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে, সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয়ের পর স্প্যানিশ ভাষায় “ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার” লেখা ব্যানার প্রদর্শনের বিষয়টিকে খেলাধুলার রাজনৈতিক ব্যবহারের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে ফিফা। এর আগে ২০১৪ সালেও একই ধরনের ব্যানার প্রদর্শনের কারণে আর্জেন্টিনাকে ২০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছিল।

কালের আলো/এসএ