খুঁজুন
                               
, ,
           

জনগণের স্বপ্ন পূরণে নতুন দিগন্তের পথে তারেক রহমানের সরকার

আহসান হাবিব বরুন
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ১০:২১ পূর্বাহ্ণ
জনগণের স্বপ্ন পূরণে নতুন দিগন্তের পথে তারেক রহমানের সরকার

নতুন সরকার কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনেরও বার্তা দিচ্ছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত বিএনপি সরকারের সূচনা অনেকের কাছেই এক নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত বহন করছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন, অবিশ্বাস ও বিভাজনের পর যে প্রত্যাশা নিয়ে জনগণ ভোট দিয়েছে—তার প্রতিফলন যেন সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।

এই সরকারের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো—নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোকে কেবল রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে না রেখে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া। রাজনৈতিক ইতিহাসে আমরা প্রায়ই দেখেছি, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ক্ষমতায় যাওয়ার পর ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে। কিন্তু বর্তমান সরকারের প্রথম দিককার পদক্ষেপগুলো সেই প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে জনগণের ভোটের প্রতি শ্রদ্ধা এবং প্রতিশ্রুতির প্রতি দায়বদ্ধতার একটি নতুন বার্তা প্রদান করছে।

রাজনৈতিক শিষ্টাচারের নতুন দৃষ্টান্ত
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধিতাকে প্রায় শত্রুতার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি বিরাজ করেছে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর পরাজিত রাজনৈতিক নেতাদের বাসায় গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করা, ইফতারে অংশ নেওয়া এবং জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান—এসব উদ্যোগ নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত বহন করে। রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকবে, সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই মতপার্থক্যকে গণতান্ত্রিক সৌজন্যের মধ্যে রাখার যে চেষ্টা এই সরকার শুরু করেছে, তা দীর্ঘদিনের বিভাজিত রাজনৈতিক পরিবেশে এক ইতিবাচক বার্তা বলেই মনে হচ্ছে।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার
রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। জুলাই যোদ্ধা ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদের ভারতে গ্রেপ্তার নিশ্চিত করার কূটনৈতিক ও আইনি প্রচেষ্টা সেই দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি প্রমাণ করে যে, অপরাধ যত বড়ই হোক, কিংবা অপরাধী দেশের সীমানার বাইরে থাকুক—ন্যায়বিচারের প্রশ্নে সরকার কিছুতেই আপস করবে না।

একই সঙ্গে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার ঘোষণাও আইনের শাসনের প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতিকে স্পষ্ট করেছে। এটি কেবল অতীতের জবাবদিহির প্রশ্ন নয়; বরং ভবিষ্যতের জন্যও একটি বার্তা বহন করে যে,রাষ্ট্রের ক্ষমতা কখনোই মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঢাল হতে পারে না।

রাজনৈতিক ঐকমত্যের নতুন চর্চা
বিএনপি সরকারের একটি উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত ছিল জুলাই সনদের বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকারের পদ বিরোধীদলের জন্য ছেড়ে দেওয়া। বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে এটি একটি বিরল ঘটনা। সাধারণত ক্ষমতাসীন দল সংসদের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ পদ নিজেদের দখলে রাখতে চায়। এক্ষেত্রে সরকারের এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত একটি রাজনৈতিক বার্তা বহন করে যে,গণতন্ত্র কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠতার নাম নয়; বরং অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক কাঠামোর নাম। বিরোধীদলের জন্য সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদ ছেড়ে দেওয়া সেই অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির দরজা উন্মোচন করার ইঙ্গিত বলেই আমি মনে করি।

এখানে স্মরণ করা যেতে পারে যে , নির্বাচনী মাঠে বিরোধীদের নেতিবাচক প্রচারণা সত্ত্বেও তারেক রহমানের দলীয় নেতাকর্মীদের জুলাই সনদের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান ছিল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি ইঙ্গিত। সরকার প্রধানের এই উদার দৃষ্টিভঙ্গি প্রমাণ করে যে, এই সরকার অন্তত একটি নীতিগত কাঠামো তৈরি করতে চায়, যার ভিত্তিতে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সংস্কারগুলো এগিয়ে যাবে।

সামাজিক সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার। সেই লক্ষ্যেই শুরু হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি—যার মাধ্যমে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে সরাসরি রাষ্ট্রের সহায়তার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থাকলেও সেগুলোর অনেক ক্ষেত্রে সমন্বয়ের অভাব ছিল। ফ্যামিলি কার্ড সেই ব্যবস্থাকে একটি কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর পাশাপাশি কৃষি খাতকে শক্তিশালী করার জন্য চালু করা হচ্ছে কৃষি কার্ড, যা কৃষকদের সরকারি সহায়তা, ভর্তুকি ও ঋণ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। কৃষকদের জন্য দশ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের ঘোষণাও গ্রামীণ অর্থনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি এখনো কৃষি ও গ্রামীণ উৎপাদন। তাই কৃষকের আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করা মানেই সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করা।

স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত
স্বাস্থ্যসেবা খাতে ই-হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগও সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে একটি মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোর মধ্যে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যয় বহু পরিবারকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেয়। এমনটি বহু গবেষণায় উঠে এসেছে। সেই প্রেক্ষাপটে হেলথ কার্ডের মতো উদ্যোগ যদি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে তা দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।

পরিবেশ ও অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ
পরিবেশ ও কৃষি ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ হলো খাল খনন কর্মসূচি। বাংলাদেশের বহু খাল ও জলপথ দীর্ঘদিন অবহেলায় ভরাট হয়ে গেছে, যার ফলে পানি নিষ্কাশন ও সেচ ব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

সুতরাং খাল পুনঃখনন শুধু জলাবদ্ধতা দূর করবে না; বরং এটি কৃষি উৎপাদন বাড়াতেও সহায়ক হবে। একই সঙ্গে সরকার দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

রাষ্ট্র পরিচালনায় মিতব্যয়িতা
সরকারি ব্যয় কমানোর ক্ষেত্রে সরকার একটি প্রতীকী কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে যে, ব্যয়বহুল ইফতার পার্টি এড়িয়ে যাওয়া। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে অনেক সময় সরকারি অনুষ্ঠানে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় দেখা যায়। সেই প্রেক্ষাপটে কৃচ্ছতা সাধনের এই উদ্যোগ রাজনৈতিকভাবে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ একটি ঘটনা আমি মনে করি।
এছাড়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য সরকারি অফিসগুলোতে অতিরিক্ত লাইট ও এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপের সিদ্ধান্তও একটি বাস্তবসম্মত উদ্যোগ।

প্রশাসনিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন
রাষ্ট্র পরিচালনায় আচরণগত পরিবর্তনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। প্রধানমন্ত্রীর সময়ানুবর্তিতার সঙ্গে নিয়মিত অফিসে উপস্থিতি প্রশাসনের জন্য ইতোমধ্যেই একটি ইতিবাচক আবহ তৈরি করেছে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী সিদ্ধান্ত হলো—ভিভিআইপি প্রোটোকল কমিয়ে ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলা। লালবাতি ও সাইরেন ব্যবহার না করে সাধারণ যানবাহনের মতো সড়ক নিয়ম মেনে চলা জনগণের কাছে একটি শক্তিশালী বার্তা দেয় যে রাষ্ট্রের শাসকও আইনের ঊর্ধ্বে নয়। একইভাবে পরিবারের সদস্যদের জন্য এসএসএফ নিরাপত্তা না নেওয়ার সিদ্ধান্তটিও ক্ষমতার ব্যবহার সম্পর্কে একটি সংযমী অবস্থানের প্রতিফলন।

মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক তৎপরতা
সরকারের নীতিগত ঘোষণার পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রমেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রীরা ইতোমধ্যেই সরেজমিন পরিদর্শনে মাঠে নেমেছেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তারা জনসেবা বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করছেন। দুর্নীতি প্রতিরোধ, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সময়মতো অফিসে উপস্থিত হয়ে নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মন্ত্রীরা আকস্মিক অফিস পরিদর্শন শুরু করছেন। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অবহেলিত সেবা খাতগুলোকে সক্রিয় করতে এই ধরনের নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এই উদ্যোগ প্রশাসনের ভেতরেও একটি বার্তা দিচ্ছে যে,সরকার কেবল নীতিনির্ধারণে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না, বরং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায়। ফলে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে দায়িত্ববোধ বাড়ার পাশাপাশি জনসেবার মান উন্নত হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। জনগণের মধ্যেও এই উদ্যোগ আশাবাদ সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন মহলে তা প্রশংসিত হচ্ছে।

সংগ্রামীদের প্রতি দায়িত্ব
জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণাও সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের অংশ। ইতিহাসে যেসব আন্দোলন রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে, তাদের অংশগ্রহণকারীদের সম্মান ও স্বীকৃতি দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবেই দেখা হয়।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ
বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে অন্যতম বড় বাধা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির কথা বলা হয়। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মাধ্যমে একটি শক্ত বার্তা দিয়েছে। অবশ্য ঘোষণার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হবে এর বাস্তবায়ন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই তখনই কার্যকর হয়, যখন তা রাজনৈতিক পরিচয় ছাপিয়ে পরিচালিত হয় এবং প্রশাসনিক কাঠামোতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।

শেষ কথা
সরকারের প্রথম দিককার উদ্যোগগুলো জনমনে নিঃসন্দেহে একটি আশাব্যঞ্জক বার্তা দিয়েছে। এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো বাস্তবায়ন এবং বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে অর্থনৈতিক চাপ, বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা—সবকিছু মিলিয়ে সরকার পরিচালনা একটি জটিল কাজ।

তবুও যদি রাজনৈতিক সৌজন্য, আইনের শাসন, সামাজিক সুরক্ষা, প্রশাসনিক সংস্কার এবং জবাবদিহিমূলক শাসনের এই উদ্যোগগুলো ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যায়, তাহলেই কেবল জোর দিয়ে বলা যাবে যে, জনগণের স্বপ্ন পূরণের পথে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ এখন সেই পথচলার দিকেই তাকিয়ে আছে।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক, ঢাকা।

পাবনা-টেকনাফ-কলমাকান্দায় পানিতে ডুবে ৬ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৪৪ অপরাহ্ণ
পাবনা-টেকনাফ-কলমাকান্দায় পানিতে ডুবে ৬ শিশুর মৃত্যু

দেশের তিন জেলায় পানিতে ডুবে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) পাবনা, কক্সবাজার ও নেত্রকোনায় পৃথক এসব দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে পাবনায় তিন শিশু, কক্সবাজারের টেকনাফে দুই শিশু এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

পাবনায় তিন শিশু

পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের নবীন বাজার এলাকার দাশপাড়া গ্রামে বাড়ির পাশের মাঠে জমে থাকা বর্ষার পানিতে গোসল করতে গিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো—দাশপাড়া গ্রামের শিমুল মল্লিকের মেয়ে সুমি খাতুন (৭) এবং একই গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে খালিদ হোসেন (৮) ও মেয়ে আফিয়া খাতুন (৬)। তারা স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থী ছিল।

স্থানীয়রা জানান, দুপুরে শিশুরা মাঠের জমে থাকা পানিতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে একজন পানিতে তলিয়ে গেলে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে বাকি দুজনও পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা তিন শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলে পথেই তাদের মৃত্যু হয়।

টেকনাফে নাফ নদীতে দুই শিশু

কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপে নাফ নদীতে গোসল করতে নেমে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেটিঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো—শাহপরীরদ্বীপ উত্তরপাড়া এলাকার মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ নিশান (১২) ও কেফায়েত উল্লাহর ছেলে আরজিন (১০)।

তারা গোসল করতে নেমে পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়। স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে ও পরে কোস্টগার্ড সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় চার ঘণ্টা পর দুপুর ২টার দিকে তাদের উদ্ধার করা হয়। আরজিনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নিশানকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কলমাকান্দায় শিশুর মৃত্যু

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় পুকুরের পানিতে ডুবে আব্দুল্লাহ নামে সাড়ে চার বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার উপজেলার চিনাহালা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল্লাহ ওই এলাকার কাজল মিয়ার ছেলে। পরিবারের লোকজনের অজান্তে খেলতে গিয়ে সে পুকুরে পড়ে যায়। পরে স্বজনরা উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পৃথক এসব দুর্ঘটনায় তিন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি 

ব্যাংক খাতে বাড়ছে ‘নীরব’ ঝুঁকি

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৫ অপরাহ্ণ
ব্যাংক খাতে বাড়ছে ‘নীরব’ ঝুঁকি

দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ও শ্রেণিকৃত ঋণের চাপ এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা নয়; এটি ক্রমেই পুরো আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠছে। একদিকে বাড়ছে সমস্যাগ্রস্ত ঋণ, অন্যদিকে এসব ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ করতে পারছে না অনেক ব্যাংক। ফলে কাগজে-কলমে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তার আড়ালে প্রকৃত ঝুঁকি আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুন ২০২৬ শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন ও বাস্তবে সংরক্ষিত প্রভিশনের মধ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৩৫৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা। একই সময়ে ব্যাংকগুলোর মোট শ্রেণিকৃত ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা।

শ্রেণিকৃত ঋণ বেড়েছে প্রায় ১৮ হাজার কোটি
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, মার্চ ২০২৬ শেষে ব্যাংকগুলোর শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। জুনে তা বেড়েছে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা। মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ এখন শ্রেণিকৃত। ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই কোনো না কোনোভাবে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় এত বড় অংশের ঋণ সমস্যাগ্রস্ত হয়ে পড়া শুধু ব্যাংকের মুনাফাকে চাপের মুখে ফেলছে না, বরং নতুন ঋণ বিতরণ, বিনিয়োগ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।

প্রভিশনের অর্ধেকও সংরক্ষণ হয়নি
খেলাপি বা শ্রেণিকৃত ঋণ থেকে সম্ভাব্য ক্ষতি সামাল দিতে ব্যাংককে আগেই অর্থ সংরক্ষণ করতে হয়। এর উদ্দেশ্য হলো—ঋণ শেষ পর্যন্ত আদায় না হলে যেন একবারে বড় ধাক্কা না আসে। কিন্তু এখানেই বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, শ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর প্রয়োজনীয় প্রভিশনের পরিমাণ প্রায় ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা। বিপরীতে বাস্তবে সংরক্ষণ করা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। ফলে প্রয়োজনীয় ও প্রকৃত প্রভিশনের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৩৫৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা। সম্ভাব্য ঋণক্ষতির যে পরিমাণ অর্থ ব্যাংকগুলোর আলাদা করে রাখার কথা, তার অর্ধেকের কিছু বেশি সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণ করতে হলে ব্যাংকগুলোর মুনাফার বড় অংশ ভবিষ্যৎ লোকসানের বিপরীতে আটকে রাখতে হবে। দুর্বল আয়, কম মূলধন ও বেশি খেলাপি ঋণের ব্যাংকগুলোর জন্য তা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

বড় ঘাটতিতে বেসরকারি ব্যাংক
প্রভিশন ঘাটতির সবচেয়ে বড় অংশ কেন্দ্রীভূত রয়েছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে। এ খাতের ব্যাংকগুলোর প্রয়োজনীয় প্রভিশনের পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার ২০৪ কোটি টাকা। বিপরীতে প্রকৃত প্রভিশন সংরক্ষণ হয়েছে প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার ৮৫৫ কোটি টাকা। ফলে বেসরকারি ব্যাংক খাতে প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৪৯ কোটি টাকা। মার্চে এই ঘাটতি ছিল ১ লাখ ৩১ হাজার ৩১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসে ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। এটি মোট প্রভিশন ঘাটতির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। ফলে বেসরকারি ব্যাংক খাতেই বর্তমানে সবচেয়ে বড় আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেশি এবং আয় কম, তাদের জন্য এই ঘাটতি পূরণ করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকেও বড় চাপ
রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অবস্থাও স্বস্তিদায়ক নয়। ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মোট শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা। এর বিপরীতে প্রভিশন ঘাটতি প্রায় ৭৪ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা। মার্চ ২০২৬ শেষে এ ঘাটতি ছিল ৭৪ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে খুব বেশি না বাড়লেও ঘাটতির পরিমাণ ইতোমধ্যে বিপুল।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ক্ষেত্রে সমস্যাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণে শেষ পর্যন্ত সরকারি সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ব্যাংক খাতের দুর্বলতার বোঝা সরাসরি রাষ্ট্রীয় অর্থব্যবস্থা ও জনগণের অর্থের ওপর পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

প্রকৃত ঝুঁকি আড়াল
একটি ব্যাংক যখন ঋণ দেয়, তখন সেটি ধরে নেয় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওই অর্থ ফেরত আসবে। কিন্তু কোনো ঋণ আদায় হওয়ার সম্ভাবনা কমে গেলে ব্যাংককে সম্ভাব্য ক্ষতির বিপরীতে প্রভিশন রাখতে হয়। ধরা যাক, কোনো ব্যাংকের ১০০ কোটি টাকার ঋণের বড় অংশ আদায় হওয়ার সম্ভাবনা কমে গেছে। ভবিষ্যতে ওই অর্থ ফেরত না এলে ব্যাংক যেন হঠাৎ বড় লোকসানে না পড়ে, সে জন্য আগেই অর্থ সংরক্ষণ করতে হয়।

প্রয়োজনীয় প্রভিশন না থাকলে ব্যাংকের হিসাবের খাতায় মুনাফা তুলনামূলক বেশি দেখা যেতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য লোকসানও জমতে থাকে। ফলে প্রভিশন ঘাটতি মূলত ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার ওপর একটি ‘স্থগিত চাপ’ তৈরি করে।

ছাড়ের নীতি সমস্যা আরও বাড়াচ্ছে
বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, মূলধন ঘাটতির বড় কারণ খেলাপি ঋণ। তবে প্রকাশিত ঘাটতিও প্রকৃত চিত্রের পুরোটা তুলে ধরে না বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, অনেক ব্যাংক দেন-দরবারের মাধ্যমে মূলধন ঘাটতি শিথিল করে। একইভাবে খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের নানা নীতিগত ছাড় দেওয়া হচ্ছে।ব্যাংকগুলোও ঋণগ্রহীতার তথ্য যথাযথভাবে যাচাই, তদারকি ও ঝুঁকি মূল্যায়নে প্রয়োজনীয় কঠোরতা দেখাচ্ছে না।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, এক দশকের বেশি সময় ধরে এ ধরনের শিথিলতার পথ অনুসরণ করা হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি। বরং একসময় যে খেলাপি ঋণকে এক অঙ্কে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ছিল, তা এখন স্বীকৃত হিসাবেই মোট ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশে পৌঁছেছে। স্বীকৃত নয় এমন সমস্যাগ্রস্ত ঋণ বিবেচনায় নিলে প্রকৃত পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

আমদানি-রপ্তানিতেও প্রভাব
ব্যাংক খাতের দুর্বলতা শেষ পর্যন্ত দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা কমে গেলে আমদানি-রপ্তানি লেনদেনে ঝুঁকি ও ব্যয় দুটিই বাড়তে পারে। ড. জাহিদ হোসেনের মতে, এমন পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্যে অনাস্থা তৈরি করতে পারে। বাংলাদেশের রিস্ক প্রিমিয়াম এমনিতেই বিশ্বের মধ্যে উচ্চ—ব্যাংক খাতের দুর্বলতা আরও প্রকট হলে সেই ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংস্কার না হলে ছড়িয়ে পড়বে ঝুঁকি
ব্যাংক খাতের বর্তমান চিত্রের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো—সমস্যাটি শুধু খেলাপি ঋণের পরিমাণে সীমাবদ্ধ নেই। ৬ লাখ কোটি টাকার বেশি শ্রেণিকৃত ঋণের বিপরীতে ২ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রভিশন ঘাটতি বলছে, সম্ভাব্য ক্ষতির একটি বড় অংশ এখনো ব্যাংকের হিসাবের বাইরে চাপ হিসেবে জমে আছে। এই ঘাটতি পূরণে ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমে যেতে পারে, মূলধন আরও দুর্বল হতে পারে এবং নতুন ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা সংকুচিত হতে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে বেসরকারি বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে।

কালের আলো/এম/এএইচ

দেশের ভবিষ্যতের জন্য যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
দেশের ভবিষ্যতের জন্য যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে টেকসই করতে ভালো ও সৎ মানুষের রাজনীতিতে আসা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান।

তিনি বলেন, ভালো রাজনীতিবিদ তৈরি করতে না পারলে দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে যত স্বপ্নই দেখা হোক, তা টেকসই হবে না। মানসম্মত উন্নয়নের জন্য যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব প্রয়োজন।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনের এলডি হলে বরিশাল ডিভিশনাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিডিজেএ) আয়োজিত ‘আগামীর বরিশাল বিভাগ: সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘কোয়ালিটি ডেভেলপমেন্ট’ নিশ্চিত করতে হলে ভালো মানুষকে নেতৃত্বে আনতে হবে। গত ১৭ বছরে দেশে নেতৃত্বের বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। ভালো ও মেধাবী তরুণরা রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেছে এবং রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের মধ্যে অনাস্থা তৈরি হয়েছে। এমনকি অনেক রাজনীতিবিদের সন্তানও রাজনীতিতে আসতে আগ্রহী নয়।

তিনি বলেন, ভালো উপাদান থাকলেও দক্ষ বাবুর্চি ছাড়া যেমন ভালো খাবার তৈরি করা যায় না, তেমনি ভালো মানুষ নেতৃত্বে না এলে উন্নয়ন ও অগ্রগতির সুফল টেকসই করা সম্ভব নয়।

বরিশালের ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ফুটবল, রাজনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বরিশাল ও এ অঞ্চলের মানুষ দেশের নেতৃত্ব দিয়েছে। পাকিস্তান আমল থেকে স্বাধীনতার পর পর্যন্ত এ অঞ্চল থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা উঠে এসেছেন।

তিনি বলেন, বরিশালকে সত্যিকার অর্থে স্বপ্নের নগরী ও স্বপ্নের শহরে পরিণত করতে হলে আগামী দিনে ভালো রাজনীতিবিদ তৈরি করতে হবে। এজন্য বরিশালসহ আশপাশের নির্বাচনি এলাকা ও জেলাগুলো থেকে মেধাবী তরুণ-তরুণীদের রাজনীতিতে আসতে উৎসাহিত করতে হবে এবং অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্যাস সরবরাহ ও শিল্পায়ন উন্নয়নের অংশ হলেও দেশের এখন প্রয়োজন মানসম্মত ও টেকসই উন্নয়ন। আর এ জন্য যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব অপরিহার্য।

তিনি বলেন, যারা বর্তমানে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছেন, তাদের দায়িত্ব হলো পরবর্তী প্রজন্মের যোগ্য ও মেধাবীদের রাজনীতিতে আসার পথ তৈরি করা। তরুণদের রাজনীতিতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের জন্য পরিবেশ সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করতে হবে।

আন্দালিভ রহমান বলেন, আমরা হয়তো অনেক কিছু তৈরি করে যেতে পারব, কিন্তু ভালো নেতৃত্ব তৈরি করতে না পারলে সেগুলো ধরে রাখা সম্ভব হবে না। তাই ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

বরিশাল থেকে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকসহ অনেক বড় নেতা উঠে এসেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও এ অঞ্চল থেকে যোগ্য ও ভালো নেতৃত্ব সামনে আসতে হবে। দেশের মেধাবী ও শিক্ষিত তরুণদের কেউ চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী বা সফটওয়্যার প্রকৌশলী হওয়ার পাশাপাশি রাজনীতিতে এসে দেশ পরিবর্তনের প্রত্যয় ব্যক্ত করলে সেটিই হবে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি